অষ্টম শ্রেণি: বাংলা, অধ্যায় – 4 বনভোজনের ব্যাপার – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 4: বনভোজনের ব্যাপার
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. বনভোজনের জায়গা কোথায় ঠিক হয়েছিল এবং কীভাবে সেখানে যেতে হতো?

উত্তর দেখো

উত্তর: বনভোজনের জায়গা ঠিক হয়েছিল বাগুইআটি ছাড়িয়ে আরও চারটি স্টেশন পরে ক্যাবলার মামার একটি বাগানে। সেখানে যাওয়ার জন্য শ্যামবাজার থেকে মার্টিনের রেলে (ছোটো ট্রেন) চেপে যাতায়াত করতে হতো।

2. বনভোজনের মেনু প্রথমে কী ঠিক হয়েছিল এবং পরে কেন তা বদলে যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: শুরুতে বনভোজনের মেনু হিসেবে পোলাও, রুই মাছের কালিয়া এবং মুরগির মাংসের মতো রাজকীয় খাবারের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদার টাকা খুব কম ওঠায় বাজেটে কুলিয়ে উঠতে না পেরে শেষপর্যন্ত মেনু বদলে খিচুড়ি, আলুভাজা, ডিমের ডালনা এবং রসগোল্লা করা হয়।

3. বনভোজনের চাঁদা তোলার ক্ষেত্রে টেনিদা কী চালাকি করেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: বনভোজনের চাঁদা তোলার সময় টেনিদা এক পয়সাও দেয়নি। সে চালাকি করে দলের দলপতি বা ‘লিডার’ হওয়ার অজুহাত দেখিয়েছিল এবং বিনামূল্যে ভালোমন্দ খাওয়ার লোভে সমস্ত রান্নার তদারকি করার ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল।

4. প্যালার কী অসুখ ছিল এবং বনভোজনে তাকে কী কাজ দেওয়া হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: গল্পের কথক প্যালার বরাবরই পিলের ব্যামো বা ম্যালেরিয়ার অসুখ ছিল। শারীরিক দুর্বলতার কারণে বনভোজনে তাকে তুলনামূলক সহজ কাজ, অর্থাৎ পুকুর ঘাট থেকে রান্নার চাল ধুয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

5. পুকুর ঘাটে চাল ধুতে গিয়ে প্যালার কী পরিণতি হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: পুকুর ঘাটে চাল ধুতে গিয়ে প্যালা অসাবধানতাবশত পা পিছলে একগলা কাদার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। কাদা মেখে একেবারে ভূতের মতো চেহারা নিয়ে সে যখন ফিরে আসে, তখন তার সেই দুর্দশা দেখে টেনিদা তাকে ‘পাঁক-ভূত’ বলে ঠাট্টা করেছিল।

6. খিচুড়ি রান্নার সময় হাবুল সেন কী চরম বোকামি করেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: খিচুড়ি রান্না প্রায় হয়ে আসার মুখে হাবুল সেন চরম বোকামি করে বসে। সে ভুল করে খিচুড়ির হাঁড়িতে আরও এক হাঁড়ি কাঁচা জল ঢেলে দেয়, যার ফলে খিচুড়ি একেবারে পাতলা স্যুপের মতো হয়ে গিয়ে রান্নার বারোটা বেজে গিয়েছিল।

7. ক্যাবলা কী রাঁধছিল এবং তার রান্নার হাত কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: বনভোজনে ক্যাবলা ডিমের ডালনা রান্নার দায়িত্ব পেয়েছিল। চার বন্ধুর মধ্যে একমাত্র ক্যাবলারই রান্নার হাত খুব ভালো ছিল এবং সে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে মশলাপাতি কষিয়ে চমৎকার একটি ডিমের ডালনা তৈরি করেছিল।

8. রান্নার সময় চার বন্ধুর মধ্যে কেন তুমুল ঝগড়া বেধেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: হাবুল সেন খিচুড়িতে জল ঢেলে দেওয়ায় এবং প্যালার আনা চালের মধ্যে প্রচুর কাঁকর থাকায় রান্নার বারোটা বেজে গিয়েছিল। কার দোষে রান্না নষ্ট হলো, তা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করলে চার বন্ধুর মধ্যে তুমুল ঝগড়া ও চেঁচামেচি বেধে যায়।

9. রান্নার এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে বাগানে হঠাৎ কাদের আগমন ঘটেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: চার বন্ধুর মধ্যে যখন রান্না নিয়ে তুমুল ঝগড়া ও চেঁচামেচি চলছিল এবং সবাই রান্নার দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছিল, ঠিক সেই সময়েই বাগানের গাছ থেকে একদল বাঁদর নেমে এসে চরম উৎপাত শুরু করেছিল।

10. বাঁদরের দল কীভাবে বনভোজনের সমস্ত আয়োজন পণ্ড করে দিয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: বন্ধুদের ঝগড়ার সুযোগ নিয়ে বাঁদরের দল নিমেষের মধ্যে বাগানে রাখা চাল, ডাল, আলু সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে দেয়। এমনকি ক্যাবলার যত্নে রাঁধা ডিমের ডালনাও তারা খেয়ে ফেলে এবং পুরো রান্নার আয়োজনটিকে পণ্ড করে দেয়।

11. রসগোল্লার হাঁড়ির শেষ পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: হাবুল সেনের বহু কষ্টে জোগাড় করে আনা রসগোল্লার হাঁড়িটির পরিণতি হয়েছিল সবচেয়ে করুণ। একটি ধেড়ে বাঁদর সুযোগ বুঝে সেই হাঁড়িটি নিয়ে সোজা গাছের মগডালে উঠে যায় এবং মজা করে চার বন্ধুর সামনেই রসগোল্লাগুলো খেতে শুরু করে।

12. খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চার বন্ধু কীভাবে নিজেদের খিদে মিটিয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: বাঁদরের উৎপাতে সমস্ত খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চার বন্ধুর পেটেই খিদের চোঁ-চোঁ শব্দ হচ্ছিল। শেষে আর কোনো উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে তারা বাগানের টক জলপাই পেড়ে নুন মাখিয়ে খেয়েই নিজেদের চরম খিদে মিটিয়েছিল।

13. ‘বনভোজন’ কীভাবে ‘ফলভোজনে’ পরিণত হলো?

উত্তর দেখো

উত্তর: চার বন্ধুর নিজেদের মধ্যে বোকামি এবং তুমুল ঝগড়ার সুযোগে বাঁদরের দল এসে বনভোজনের সমস্ত রান্না ও খাবার সাবাড় করে দেয়। ফলে রান্না করা খাবারের বদলে বাগানের টক জলপাই খেয়েই তাদের দিন কাটাতে হয়, আর এভাবেই সাধের বনভোজন ফলভোজনে পরিণত হয়।

14. ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্পে টেনিদার চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: গল্পে টেনিদার চরিত্রের ফাঁকিবাজ, ভোজনরসিক এবং চরম চালাক দিকটি ফুটে উঠেছে। সে চাঁদা না দিয়ে বিনা পয়সায় অন্যের ঘাড়ে চেপে খাওয়ার ফন্দি আঁটে এবং নিজে কোনো কাজ না করে শুধু দলপতির মতো সবার উপর হুকুম চালায়।

15. গল্পের শেষে চার বন্ধুর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: সারাদিনের এত আয়োজন, পরিশ্রম এবং ঝগড়ার পর শেষমেশ বাঁদরদের কাছে হেরে গিয়ে চার বন্ধুই চরম হতাশ ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিল। নিজেদের বোকামির জন্য আফসোস এবং খিদের জ্বালায় তাদের মানসিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ হয়ে উঠেছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার