অষ্টম শ্রেণি: বাংলা, অধ্যায় – 4 বনভোজনের ব্যাপার – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 4: বনভোজনের ব্যাপার
(ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির উৎস, প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো:

1. “বিনা চাঁদায় ওরকম রাজকীয় ফিস্ট ছাড়তে কে রাজি আছে?” – কে, কোন্ রাজকীয় ফিস্টের কথা বলেছে? চাঁদা না দেওয়ার জন্য সে কী ফন্দি এঁটেছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ: টেনিদার বনভোজনে চাঁদা না দিয়েও খাবার লোভের কথা বোঝাতে প্যালা এ কথা বলেছে।

তাৎপর্য: বনভোজনের মেনুতে প্রথমে পোলাও, মাংস ইত্যাদি রাজকীয় খাবারের কথা ঠিক হয়েছিল। টেনিদা অত্যন্ত চালাক ও ভোজনরসিক। সে নিজে এক পয়সাও চাঁদা দেয়নি, উলটে দলের দলপতি হওয়ার অজুহাতে সমস্ত তদারকির ভার নিজের কাঁধে নিয়ে বিনা পয়সায় ভালোমন্দ খাওয়ার মতলব এঁটেছিল।

2. “ওকে শুধু চাল ধোয়ার ভার দেওয়া হলো।” – কাকে চাল ধোয়ার ভার দেওয়া হয়েছিল? কেন তাকে এই সহজ কাজের ভার দেওয়া হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: উদ্ধৃতিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে সংকলিত।

প্রসঙ্গ: বনভোজনের দিন রান্নার দায়িত্ব ভাগের সময় প্যালার দায়িত্ব সম্পর্কে এই কথা বলা হয়েছে.

তাৎপর্য: কথক প্যালার বরাবরই পিলের ব্যামো অর্থাৎ ম্যালেরিয়ার অসুখ ছিল। তাই শারীরিক দিক থেকে সে বেশ দুর্বল ছিল। বনভোজনের রান্নার সময় অন্যান্য ভারী কাজের বদলে তাকে শুধুমাত্র পুকুর ঘাট থেকে রান্নার চাল ধুয়ে আনার মতো তুলনামূলক সহজ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

3. “পাঁক-ভূত কোথাকার!” – বক্তা কে? কাকে, কেন তিনি ‘পাঁক-ভূত’ বলেছেন?

উত্তর দেখো

উৎস: উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ: চাল ধুতে গিয়ে প্যালার করুণ অবস্থা দেখে দলের দলপতি টেনিদা এ কথা বলেছেন।

তাৎপর্য: পুকুর ঘাটে চাল ধুতে গিয়ে প্যালা অসাবধানতাবশত পা পিছলে একগলা কাদার মধ্যে পড়ে যায়। সারা গায়ে কাদা মেখে একেবারে ভূতের মতো চেহারা নিয়ে সে যখন ফিরে আসে, তখন তার সেই চরম দুর্দশা দেখে টেনিদা তাকে ব্যঙ্গ করে ‘পাঁক-ভূত’ বলেছিল।

4. “খিচুড়ি তো নয়— একেবারে পাঁক!” – খিচুড়ির অবস্থা এমন হওয়ার কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা হাসির গল্প ‘বনভোজনের ব্যাপার’ থেকে গৃহীত।

প্রসঙ্গ: বনভোজনের রান্নার চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে প্যালা এ কথা বলেছে।

তাৎপর্য: রান্নার সময় হাবুল সেন চরম বোকামি করে খিচুড়ির হাঁড়িতে আরও এক হাঁড়ি কাঁচা জল ঢেলে দেয়। তার ওপর প্যালার ধুয়ে আনা চালের মধ্যে প্রচুর কাঁকর মিশে ছিল। ফলে অতিরিক্ত জল আর কাঁকরের মিশ্রণে খিচুড়ি একেবারে পাতলা স্যুপ বা কাদার (পাঁক) মতো হয়ে গিয়ে রান্নার বারোটা বেজে গিয়েছিল।

5. “একটা ধেড়ে বাঁদর… হাঁড়িটা নিয়ে সোজা গাছের মগডালে।” – হাঁড়িতে কী ছিল? বাঁদরটির এই কাজের ফলে কী ঘটেছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: উদ্ধৃতিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ: রান্নার গোলমালের ফাঁকে বাঁদরের উৎপাতের কথা বোঝাতে এই মন্তব্যটি করা হয়েছে।

তাৎপর্য: হাঁড়িতে ছিল হাবুল সেনের বহু কষ্টে জোগাড় করে আনা রসগোল্লা। চার বন্ধু যখন নিজেদের মধ্যে রান্না নিয়ে তুমুল ঝগড়ায় ব্যস্ত, তখন এই সুযোগে একটি বড়ো বাঁদর সেই রসগোল্লার হাঁড়িটি চুরি করে গাছের ডালে উঠে যায় এবং মজা করে খেতে শুরু করে। এর ফলে চার বন্ধুর মিষ্টি খাওয়ার সাধ একেবারে জলে যায়।

6. “ডিমের ডালনাটা কিন্তু ফার্স্ট ক্লাস হয়েছিল।” – ডিমের ডালনা কে রান্না করেছিল? সেই ডালনার শেষ পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা হাসির গল্প ‘বনভোজনের ব্যাপার’ থেকে চয়ন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গ: বনভোজনের একমাত্র সফল রান্নার প্রশংসা করতে গিয়ে প্যালা এ কথা বলেছে।

তাৎপর্য: চার বন্ধুর মধ্যে ক্যাবলার রান্নার হাত বেশ ভালো ছিল, তাই সে খুব যত্ন করে ডিমের ডালনা রান্না করেছিল। কিন্তু রান্নার চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে বাগানে একদল বাঁদর এসে আক্রমণ করে। অন্যান্য জিনিসের সাথে সাথে বাঁদরেরা ক্যাবলার সেই চমৎকার ডিমের ডালনাটিও নিমেষে সাবাড় করে দেয়।

7. “শেষটায় ক্যাবলা কেঁদেই ফেলল।” – ক্যাবলা কে? তার কেঁদে ফেলার কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: উদ্ধৃতিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে সংগৃহীত।

প্রসঙ্গ: বাঁদরের উৎপাতে সমস্ত খাবার নষ্ট হওয়ার পর ক্যাবলার চরম হতাশার দৃশ্য এটি।

তাৎপর্য: ক্যাবলা হলো টেনিদার বনভোজনের দলের অন্যতম সদস্য এবং অত্যন্ত ভালো রাঁধুনি। অনেক পরিশ্রম করে সে চমৎকার ডিমের ডালনা রান্না করেছিল। কিন্তু বাঁদরের দল এসে চোখের সামনে তার সেই সাধের রান্না করা খাবার খেয়ে ফেলায় দুঃখে ও হতাশায় সে কেঁদেই ফেলেছিল।

8. “বনভোজন তো নয়, ফলভোজন!” – উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে গৃহীত।

প্রসঙ্গ: বনভোজনের চূড়ান্ত পরিণতি বোঝাতে লেখক অত্যন্ত মজাদার ভাবে এ কথা বলেছেন।

তাৎপর্য: চার বন্ধু মিলে অনেক উৎসাহে বনভোজনের আয়োজন করলেও নিজেদের বোকামি ও ঝগড়ার কারণে তা ভেস্তে যায়। বাগানের বাঁদরেরা এসে তাদের সমস্ত খাবার সাবাড় করে দেয়। শেষে খিদের জ্বালায় বাধ্য হয়ে তাদের বাগানের টক জলপাই খেয়েই পেট ভরাতে হয়। রান্না করা খাবারের বদলে গাছের ফল খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছিল বলেই এই দিনটিকে ব্যঙ্গ করে ‘ফলভোজন’ বলা হয়েছে।

9. “মাটিতে তখন চাল-ডাল আর আলুর ছড়াছড়ি।” – কোন্ পরিস্থিতির কারণে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: উদ্ধৃতিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ: বাঁদরের দলের আক্রমণের ফলে রান্নার জায়গার চরম দুর্দশার বর্ণনা এটি।

তাৎপর্য: রান্না খারাপ হওয়া নিয়ে চার বন্ধুর মধ্যে যখন তুমুল ঝগড়া ও চেঁচামেচি চলছিল, তখন তারা রান্নার জিনিসপত্রের দিক থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিল। এই সুযোগে একদল বাঁদর গাছ থেকে নেমে এসে সমস্ত খাবার আক্রমণ করে এবং বনভোজনের জন্য আনা চাল, ডাল, আলু মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।

10. “পেট তখন চোঁ-চোঁ করছে।” – কাদের পেটের এই অবস্থা? এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তারা কী করেছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা হাসির গল্প ‘বনভোজনের ব্যাপার’ থেকে সংগৃহীত।

প্রসঙ্গ: সারাদিনের পরিশ্রম এবং বাঁদরদের কাছে খাবার হারানোর পর চার বন্ধুর ক্ষুধার্ত অবস্থার কথা বলা হয়েছে।

তাৎপর্য: সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শেষে বাঁদরের উৎপাতে সমস্ত খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় টেনিদা, প্যালা, হাবুল ও ক্যাবলার পেটে প্রবল খিদে পেয়েছিল। হাতের কাছে আর কোনো খাবার না থাকায়, চরম খিদের জ্বালা মেটাতে তারা বাধ্য হয়ে বাগানের টক জলপাই পেড়ে নুন মাখিয়ে খেয়েছিল।

11. “আমরা তখন বাগানের একধারে দাঁড়িয়ে…” – চার বন্ধু কেন বাগানের একধারে দাঁড়িয়েছিল এবং কী দেখছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: উদ্ধৃতিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ: বাঁদরদের খাবার খেয়ে নেওয়ার দৃশ্যটি চার বন্ধুর অসহায়ভাবে দেখার বর্ণনা।

তাৎপর্য: নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার কারণে চার বন্ধু যখন রান্নার জায়গা ছেড়ে সরে গিয়েছিল, তখন বাঁদরের দল এসে তাদের সমস্ত খাবার দখল করে নেয়। বাঁদরের ভয়ে তারা আর রান্নার জায়গায় যাওয়ার সাহস পায়নি। তাই বাগানের একধারে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে তারা দেখছিল কীভাবে বাঁদরেরা তাদের সাধের খাবারগুলো নিশ্চিন্তে খেয়ে শেষ করছে।

12. “টেনিদার ডিক্টেটরশিপ অমান্য করার সাহস আমাদের কারও নেই।” – ‘ডিক্টেটরশিপ’ শব্দটির অর্থ কী? টেনিদা কীভাবে তা প্রয়োগ করেছিল?

উত্তর দেখো

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্প থেকে চয়ন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গ: বনভোজনে টেনিদার ফাঁকিবাজি এবং দলপতির মতো কর্তৃত্ব ফলানোর বিষয়ে প্যালা এই মন্তব্য করেছে।

তাৎপর্য: ‘ডিক্টেটরশিপ’ বলতে এখানে একনায়কতন্ত্র বা নিজের ইচ্ছেমতো জোর করে হুকুম চালানোকে বোঝানো হয়েছে। টেনিদা নিজে বনভোজনে এক পয়সাও চাঁদা দেয়নি বা কোনো কাজ করেনি। কিন্তু দলের দলপতি হওয়ার সুযোগ নিয়ে সে কেবল অন্যদের ওপর নির্দেশ চাপিয়ে দিচ্ছিল এবং বিনা পরিশ্রমে ভালো খাবার খাওয়ার ফন্দি এঁটেছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার