অষ্টম শ্রেণি – বাংলা, তৃতীয় পাঠ, অধ্যায় -৪, পথচলতি – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 8: পথচলতি
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. লেখক কোথা থেকে, কোন্ ট্রেনে এবং কোন্ শ্রেণির কামরায় উঠেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় গয়া স্টেশন থেকে দেরাদুন এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেছিলেন। হাওড়া ফেরার জন্য তিনি ওই ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণির (থার্ড ক্লাস) একটি ভিড়ে ঠাসা কামরায় উঠেছিলেন।

2. লেখকের কামরায় কোন্ জাতীয় যাত্রীদের আধিক্য ছিল এবং তাদের চেহারা কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখকের কামরায় মূলত পাঠান বা কাবুলিওয়ালা যাত্রীদের আধিক্য ছিল। তাদের চেহারা ছিল অত্যন্ত দীর্ঘকায়, বলিষ্ঠ এবং রুক্ষ, যা দেখে কামরার অন্যান্য সাধারণ যাত্রীরা বেশ ভয়ই পাচ্ছিল।

3. ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণির কামরার পরিবেশ কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণির কামরায় প্রবল ভিড় ছিল। যাত্রীদের মধ্যে একটু বসার স্থান পাওয়ার জন্য ঠেলাঠেলি, বচসা এবং কোলাহলপূর্ণ এক অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে তিল ধারণের জায়গাও ছিল না।

4. লেখক কীভাবে পাঠান যাত্রীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক নিজের পাণ্ডিত্য বা আভিজাত্য জাহির না করে, অত্যন্ত চতুরতা ও আন্তরিকতার সাথে পাঠানদের মাতৃভাষা পশতু এবং ফারসি ভাষায় কথা বলে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন।

5. একজন বাঙালির মুখে পশতু ভাষা শুনে পাঠানদের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: একজন সাধারণ বাঙালি বাবুর মুখে নিজেদের মাতৃভাষা পশতু শুনতে পেয়ে রূক্ষ পাঠানরা অত্যন্ত বিস্মিত এবং মুগ্ধ হয়েছিল। তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত আনন্দ ও শ্রদ্ধার ভাব ফুটে উঠেছিল।

6. পাঠানরা লেখককে পেশায় কী বলে মনে করেছিল এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পাঠানরা লেখককে পেশায় পশতু ভাষার পণ্ডিত বা মাস্টার বলে মনে করেছিল। কারণ, একজন ভিনদেশি বা বাঙালি হয়েও তিনি অত্যন্ত শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে পশতু ভাষায় কথা বলছিলেন এবং পশতু সাহিত্যের খবর রাখতেন।

7. ভিড়ে ঠাসা কামরায় বসার জায়গা পাওয়ার জন্য লেখককে কী করতে হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভিড়ে ঠাসা কামরায় বসার জায়গা পাওয়ার জন্য লেখককে অন্যান্য যাত্রীদের মতো কোনো ঝগড়া বা ঠেলাঠেলি করতে হয়নি। কেবল পশতু ভাষায় সুন্দর করে কথা বলে তিনি পাঠানদের মন জয় করেছিলেন, এবং তারাই খুশি হয়ে লেখককে আরামদায়ক বসার জায়গা করে দিয়েছিল।

8. পশতু ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি কে? তাঁর সম্পর্কে লেখক কী জেনেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পশতু ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি হলেন খুশহাল খান খটক। লেখক জেনেছিলেন যে, এই পাঠানরা সাধারণ ও নিরক্ষর হলেও নিজেদের মাতৃভাষা এবং এই শ্রেষ্ঠ কবির সাহিত্য নিয়ে তারা অত্যন্ত গর্ববোধ করে।

9. পাঠানদের সাথে লেখকের কথোপকথনের মূল বিষয় কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: পাঠানদের সাথে লেখকের কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল পশতু ও ফারসি সাহিত্য। তারা খুশহাল খান খটক এবং হাফিজের মতো বিখ্যাত কবিদের কবিতা ও দর্শন নিয়ে অত্যন্ত আনন্দমুখর আলোচনা করেছিলেন।

10. পাঠানরা লেখককে কী বলে সম্বোধন করেছিল এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পাঠানরা লেখককে সম্মান করে ‘বাবুজি’ বলে সম্বোধন করেছিল। লেখকের আন্তরিক ব্যবহার, ভাষাজ্ঞান এবং তাদের মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে এই সম্মানজনক সম্বোধন করেছিল।

11. লেখকের আন্তরিকতায় পাঠানদের রুক্ষ আচরণের কী পরিবর্তন ঘটেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখকের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তরিকতায় পাঠানদের রুক্ষ ও বদমেজাজি আচরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। তারা লেখকের প্রতি অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছিল এবং তাঁকে বসার আরামদায়ক ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।

12. ‘পথচলতি’ রচনায় কোন্ দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই রচনায় একজন সুশিক্ষিত, মার্জিত বাঙালি পণ্ডিত (লেখক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়) এবং দূর দেশের রুক্ষ, বদমেজাজি ও সাধারণ পাঠান (কাবুলিওয়ালা) যাত্রীদের মধ্যে ভাষার মাধ্যমে এক অপূর্ব সেতুবন্ধন ঘটেছে।

13. ফারসি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি কে? তাঁর কোনো কবিতা কি লেখক আবৃত্তি করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ফারসি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হলেন হাফিজ। হ্যাঁ, লেখক পাঠানদের সাথে কথা বলার সময় হাফিজের লেখা সুন্দর ফারসি কবিতা বা গজল আবৃত্তি করে তাদের শুনিয়েছিলেন।

14. ‘পথচলতি’ গদ্যাংশটি সাহিত্যের কোন্ পর্যায়ভুক্ত এবং এর রচয়িতা কে?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘পথচলতি’ গদ্যাংশটি সাহিত্যের ‘ভ্রমণকাহিনি’ পর্যায়ভুক্ত একটি বাস্তবমুখী ও অত্যন্ত শিক্ষণীয় রচনা। এর রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ ও পণ্ডিত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

15. ‘পথচলতি’ রচনাটি থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই রচনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অহংকার ত্যাগ করে অপরের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলে এবং আন্তরিকভাবে মিশলে যেকোনো রুক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। ভাষার আদান-প্রদানই হলো মানবমৈত্রীর শ্রেষ্ঠ উপায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার