অষ্টম শ্রেণি: বাংলা, দ্বিতীয় পাঠ : চিঠি – মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 6: চিঠি
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. প্রথম চিঠিতে মধুসূদন দত্ত তাঁর বন্ধু গৌরদাস বসাককে কী জানিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রথম চিঠিতে মধুসূদন তাঁর বিলেত যাত্রাপথের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, তাঁর জাহাজ ‘সীলোন’ (Ceylon) অত্যন্ত চমৎকার এবং সেটি ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে খুব দ্রুতগতিতে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে।

2. মধুসূদন দত্ত কেন বিলেতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের একজন প্রতিষ্ঠিত কবি হওয়া সত্ত্বেও কেবল সাহিত্যচর্চা করে তাঁর সংসার চলত না। তাই তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন এবং ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরে অত্যন্ত সম্মানজনক জীবন কাটানোর আকাঙ্ক্ষায় আইন পড়ার জন্য বিলেতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

3. ফ্রান্সে থাকাকালীন মধুসূদন দত্তের চরম অর্থকষ্টের মূল কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ফ্রান্সে থাকাকালীন মধুসূদন দত্ত দেশে তাঁর বিষয়-আশয় বা সম্পত্তির তদারকি করার জন্য যাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তারা তাঁর সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা ফ্রান্সে টাকা পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে তিনি স্ত্রী-পুত্র নিয়ে এক চরম অর্থকষ্টে পতিত হন।

4. মধুসূদন দত্ত বিদ্যাসাগর মহাশয়কে ‘করুণাসাগর’ বলে সম্বোধন করেছেন কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ফ্রান্সে মধুসূদন যখন চরম অর্থকষ্টে অনাহারে ও ফরাসি সরকারের কারাগারে যাওয়ার উপক্রম, তখন বিদ্যাসাগর মহাশয় নিজে ধার করে তাঁকে প্রচুর টাকা পাঠিয়ে সাহায্য করেন। বিদ্যাসাগরের এই অপরিসীম দয়া, মহানুভবতা এবং পরোপকারী মানসিকতার জন্যই মধুসূদন তাঁকে ‘করুণাসাগর’ বলেছেন।

5. মধুসূদনের মতে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল কী এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মধুসূদনের মতে, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক লোকদের হাতে নিজের সম্পত্তির ভার দিয়ে বিদেশে আসা। কারণ, ওই অসাধু ব্যক্তিরা তাঁর পাঠানো টাকা আত্মসাৎ করে এবং তাঁকে বিদেশে চরম বিপদে ফেলে দেয়।

6. “আমি যে কী ভয়ংকর বিপদে পড়েছিলাম…” – এই বিপদের স্বরূপ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: মধুসূদন দত্ত ফ্রান্সের ভার্সাইতে সপরিবারে চরম অর্থকষ্টে পড়েছিলেন। তাঁর কাছে খাবার কেনার বা বাসাভাড়া দেওয়ার মতো কোনো টাকা ছিল না। অর্থাভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তাঁকে ফরাসি সরকারের কারাগারে যেতে হতো অথবা অনাহারে মৃত্যু বরণ করতে হতো। এটাই ছিল তাঁর ভয়ংকর বিপদ।

7. স্ত্রী-পুত্র সম্পর্কে মধুসূদন দত্ত তাঁর দ্বিতীয় চিঠিতে কী লিখেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: দ্বিতীয় চিঠিতে মধুসূদন দত্ত অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই পৃথিবীতে তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। বিদ্যাসাগরের সাহায্য না পেলে তাঁর স্ত্রী-পুত্র চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়ে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে পড়ত, এই ভেবে তিনি শিউরে উঠেছেন।

8. “আপনি ব্যতীত আর কেউই আমাকে এই নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারত না।” – এর মাধ্যমে মধুসূদনের কোন্ অসহায়তা ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিদেশে সমস্ত আপনজন যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং কবির বাঁচার সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন তিনি চরম অসহায় ও দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। এই উক্তির মাধ্যমে বোঝা যায় যে, সেই নিদারুণ পরিস্থিতিতে একমাত্র বিদ্যাসাগর মহাশয়কেই তিনি তাঁর শেষ ও অকৃত্রিম ভরসার জায়গা বলে মনে করেছিলেন।

9. মধুসূদনের চিঠি দুটিকে কেন ঐতিহাসিক দলিল বলা যেতে পারে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই চিঠি দুটিতে কোনো কাল্পনিক গল্প নেই, বরং বাংলার দুই শ্রেষ্ঠ সন্তান— মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের এবং শ্রদ্ধার এক বাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে। তৎকালীন সমাজের অবস্থা এবং মধুসূদনের ব্যক্তিগত জীবনের চরম সংকটের প্রামাণ্য ইতিহাস হিসেবে এই চিঠি দুটি সত্যিই এক ঐতিহাসিক দলিল।

10. বিদ্যাসাগর মহাশয় কীভাবে মধুসূদনের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মধুসূদনের দুর্দশার খবর পেয়ে বিদ্যাসাগর মহাশয় বিন্দুমাত্র দেরি করেননি। নিজের কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে ধার করে টাকা জোগাড় করেন এবং সেই অর্থ ফ্রান্সে পাঠিয়ে মধুসূদন ও তাঁর পরিবারকে অনাহার এবং কারাবাসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

11. মধুসূদনের সাহিত্যিক সত্তার আড়ালে তাঁর রক্তমাংসের মানুষ রূপটি কীভাবে চিঠি দুটিতে ধরা পড়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: আমরা মধুসূদনকে একজন বিরাট মাপের অহংকারী কবি হিসেবে চিনলেও, এই চিঠি দুটিতে তাঁর এক অন্য রূপ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে তিনি একজন চরম সংবেদনশীল, স্ত্রী-পুত্রের জন্য ব্যাকুল এক স্নেহময় পিতা এবং উপকারী বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতায় অবনত এক সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ।

12. বিদ্যাসাগরের কাছে মধুসূদন কীভাবে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: চরম বিপদে সাহায্য করার জন্য মধুসূদন বিদ্যাসাগরকে ‘করুণাসাগর’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা যেন বিদ্যাসাগরেরই দান। এই নিঃস্বার্থ উপকারের কথা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন বলে চোখের জলে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

13. প্রথম চিঠিতে উল্লিখিত ‘সীলোন’ কী? এর সম্পর্কে কবি কী জানিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘সীলোন’ হলো একটি জাহাজের নাম, যাতে চড়ে মধুসূদন দত্ত ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেত যাচ্ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই জাহাজটি অত্যন্ত চমৎকার এবং সেটি ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে খুব দ্রুতগতিতে তাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

14. গৌরদাস বসাককে লেখা চিঠিতে মধুসূদনের কোন্ অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: গৌরদাস বসাককে লেখা প্রথম চিঠিতে মধুসূদনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটেছে। তিনি তাঁর ‘প্রিয় ও পুরাতন’ বন্ধুকে জানিয়েছেন যে, তিনি ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন এবং তাঁর আশা, এই পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্বদেশে ফিরে অত্যন্ত সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারবেন।

15. ফ্রান্সে ফরাসি সরকারের কারাগার থেকে মধুসূদন কীভাবে রক্ষা পান?

উত্তর দেখো

উত্তর: অর্থাভাবে মধুসূদনের যখন ফরাসি কারাগারে যাওয়ার উপক্রম, তখন তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে চিঠি লিখে সব জানান। বিদ্যাসাগর মহাশয় অবিলম্বে নিজের উদ্যোগে অর্থ জোগাড় করে ফ্রান্সে পাঠিয়ে মধুসূদনকে এই চরম বিপদ ও কারাগারের হাত থেকে রক্ষা করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার