অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 1: ইতিহাসের ধারণা, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় ১: ইতিহাসের ধারণা
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: ২)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ইতিহাস হলো অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির ধারাবাহিক ও বিজ্ঞানসম্মত বিবরণ। আধুনিক যুগে ইতিহাস বলতে কেবল রাজা-মহারাজাদের যুদ্ধ বা রাজত্বের কাহিনি বোঝায় না; বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজ, অর্থনীতি, এবং সভ্যতার বিবর্তনের ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক দলিলকেই প্রকৃত ইতিহাস বলা হয়।

2. জেমস মিল কীভাবে ভারতের ইতিহাসকে যুগ বিভাজন করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: স্কটিশ ঐতিহাসিক জেমস মিল ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘A History of British India’-তে ভারতের ইতিহাসকে তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করেছেন। এগুলি হলো— হিন্দু যুগ (প্রাচীন কাল), মুসলিম যুগ (মধ্য যুগ) এবং ব্রিটিশ যুগ (আধুনিক কাল)।

3. জেমস মিলের যুগ বিভাজনের প্রধান ত্রুটিগুলি কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: জেমস মিলের যুগ বিভাজনের প্রধান ত্রুটি ছিল, তিনি শুধুমাত্র শাসকদের ধর্মের ভিত্তিতে এই বিভাজন করেছিলেন। প্রাচীন ভারতে হিন্দু ছাড়াও বৌদ্ধ ও জৈন শাসকদের অস্তিত্ব ছিল, আবার মধ্যযুগেও বহু হিন্দু রাজবংশ স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছে। তাই শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে দেশের সমগ্র ইতিহাসকে ভাগ করা অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক।

4. আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদানগুলিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদানগুলিকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি হলো— ক) লিখিত উপাদান (যেমন: সরকারি নথিপত্র, আত্মজীবনী, চিঠিপত্র, সংবাদপত্র, সাহিত্য ইত্যাদি) এবং খ) অলিখিত বা দৃশ্য উপাদান (যেমন: বিভিন্ন ফটোগ্রাফ বা ছবি, মানচিত্র, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ইত্যাদি)।

5. সরকারি নথিপত্র বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সরকারি নথিপত্র বলতে মূলত ব্রিটিশ সরকার ও তাদের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের দৈনন্দিন কাজকর্মের রিপোর্ট, সরকারি নির্দেশনামা, চিঠিপত্র, গোয়েন্দা বিভাগের বিবরণ এবং পুলিশের ডায়েরিকে বোঝায়। এই অমূল্য দলিলগুলি ভারতের বিভিন্ন মহাফেজখানা বা আর্কাইভে (যেমন— দিল্লির ন্যাশনাল আর্কাইভস) সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে।

6. আধুনিক ইতিহাস চর্চায় সরকারি নথিপত্রের গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সরকারি নথিপত্র থেকে ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক নীতি এবং আইনকানুন সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রামাণ্য ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া তৎকালীন ভারতের বিভিন্ন কৃষক বিদ্রোহ, শ্রমিক আন্দোলন এবং বিপ্লবীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের দমননীতির নির্ভরযোগ্য তথ্য এই নথিপত্রগুলি থেকেই জানা যায়।

7. আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর: যখন কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি নিজের জীবনের নানা ঘটনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সমসাময়িক পরিস্থিতির কথা নিজের ভাষায় গ্রন্থাকারে লিখে রাখেন, তখন তাকে আত্মজীবনী বলে (যেমন— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি’)। অন্যদিকে, অতীতের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বা ব্যক্তিসত্তার স্মৃতিচারণ করে যে রচনা লেখা হয়, তাকে স্মৃতিকথা বলা হয়।

8. আধুনিক ইতিহাস রচনায় আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথার গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা থেকে সমসাময়িক কালের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত চিত্র পাওয়া যায়। সরকারি নথিপত্রে অনেক সময় শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি বা পক্ষপাতিত্ব থাকে, কিন্তু আত্মজীবনী থেকে আমরা সেই সময়ের সাধারণ মানুষের চিন্তাধারা এবং অনেক অজানা ঐতিহাসিক তথ্য জানতে পারি।

9. আধুনিক ইতিহাস চর্চায় চিঠিপত্রের গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: চিঠিপত্র হলো ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য লিখিত উপাদান। সমসাময়িক বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, স্বাধীনতা সংগ্রামী বা বুদ্ধিজীবীদের ব্যক্তিগত ও সরকারি চিঠিপত্র থেকে সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং তাঁদের ব্যক্তিগত মতাদর্শ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।

10. জওহরলাল নেহরুর লেখা চিঠিগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু জেলে বসে তাঁর দশ বছরের কন্যা ইন্দিরাকে পৃথিবীর উৎপত্তি, মানবসমাজের বিকাশ, বিভিন্ন দেশের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে যে চিঠিগুলি লিখেছিলেন, তা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই চিঠিগুলি থেকে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, সভ্যতা ও ইতিহাসের বিবর্তনের এক সুন্দর ও সহজবোধ্য ধারণা পাওয়া যায়।

11. আধুনিক ইতিহাস চর্চায় ফটোগ্রাফ বা ছবির গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: আধুনিক যুগের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফ বা ছবি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য উপাদান। ছবির মাধ্যমে সমসাময়িক কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সমাজচিত্রের এক বাস্তব ও চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়া যায়, যা অনেক সময় লিখিত উপাদানের সত্যতা যাচাই করতেও সাহায্য করে।

12. বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বৎসর’ থেকে সমকালীন ইতিহাসের কী কী তথ্য পাওয়া যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বৎসর’ থেকে উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের সূচনালগ্নে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার কথা জানা যায়। বিশেষত, সে যুগের ব্রাহ্মসমাজের সংস্কার আন্দোলন, নবজাগরণের প্রভাব এবং স্বদেশি আন্দোলনের নানা খুঁটিনাটি তথ্য এই গ্রন্থ থেকে পাওয়া যায়, যা আধুনিক ইতিহাসের এক অমূল্য উপাদান।

13. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি’ আধুনিক ইতিহাস চর্চায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর দেখো

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থ থেকে সমকালীন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মানসিকতা এবং ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের সাংস্কৃতিক পরিবেশের নিখুঁত চিত্র পাওয়া যায়। এছাড়া, স্বদেশি যুগে শিক্ষিত বাঙালির স্বাদেশিকতা ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষের একটি নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

14. সরলাদেবী চৌধুরানীর ‘জীবনের ঝরাপাতা’ থেকে তৎকালীন সমাজ সম্পর্কে কী জানা যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সরলাদেবী চৌধুরানীর আত্মজীবনী ‘জীবনের ঝরাপাতা’ আধুনিক ইতিহাস রচনার এক বিশিষ্ট উপাদান। এই গ্রন্থ থেকে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে নারীদের অবস্থান, সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিশেষভাবে স্বদেশি আন্দোলনে বাংলার নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সাহসিকতার কথা বিশদভাবে জানা যায়।

15. আধুনিক ইতিহাস রচনায় শুধুমাত্র সরকারি নথিপত্রের উপর নির্ভর করা কি ঠিক? যুক্তি দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: না, আধুনিক ইতিহাস রচনায় শুধুমাত্র সরকারি নথিপত্রের উপর নির্ভর করা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ, সরকারি নথিপত্রগুলি মূলত শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা হতো, যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, দুঃখ-কষ্ট বা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রকৃত কারণ অনেক সময়ই অবহেলিত বা সরকারের স্বার্থে বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতো।

16. জেমস মিলের যুগ বিভাজনের ফলে ভারতের ইতিহাসে কী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: জেমস মিল ভারতের ইতিহাসকে ‘হিন্দু’ ও ‘মুসলিম’ যুগে ভাগ করে ভারতীয়দের মনে বিভেদের বীজ বপন করেছিলেন। এর ফলে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের ঐক্য ও ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে গভীর সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ও তিক্ততা সৃষ্টিতে ইন্ধন জুগিয়েছিল।

17. ব্রিটিশরা কেন ভারতের ইতিহাস চর্চায় উদ্যোগী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশরা মূলত নিজেদের ঔপনিবেশিক শাসনকে সুদৃঢ় করার প্রশাসনিক স্বার্থেই ভারতের ইতিহাস চর্চায় উদ্যোগী হয়েছিল। তারা উপলব্ধি করেছিল যে, ভারতবর্ষের মতো এক বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশকে শক্ত হাতে শাসন করতে হলে এদেশের অতীত ইতিহাস, আইনকানুন, রীতিনীতি এবং সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।

18. আধুনিক ইতিহাস রচনায় পুলিশ বা গোয়েন্দা দপ্তরের রিপোর্টের উপযোগিতা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ শাসনকালে পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তরের বিভিন্ন গোপন রিপোর্ট থেকে সমকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, বিপ্লবীদের গোপন কার্যকলাপ এবং সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ সম্পর্কে অনেক প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই রিপোর্টগুলিতে সরকারের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকায় ঐতিহাসিকদের এগুলো খুব সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে ইতিহাস রচনায় ব্যবহার করতে হয়।

19. উইলিয়াম কেরি বা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের লেখা গ্রন্থগুলিকে কি সম্পূর্ণ আধুনিক ইতিহাস বলা যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: উইলিয়াম কেরির ‘ইতিহাসমালা’ বা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের ‘রাজাবলি’ গ্রন্থগুলিকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস বলা যায় না। কারণ, এই গ্রন্থগুলিতে বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার পাশাপাশি অনেক অলৌকিক কাহিনি, রূপকথা এবং জনশ্রুতি মিশে ছিল, যা আধুনিক তথ্যভিত্তিক ইতিহাস রচনার পরিপন্থী।

20. ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে ফটোগ্রাফ বা ছবির সীমাবদ্ধতাগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: ফটোগ্রাফ বা ছবি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য উপাদান হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ফটোগ্রাফার ক্যামেরার ফ্রেমে কেবল সেই বিষয়টিই বন্দি করেন যা তিনি দেখাতে চান, ফলে ছবির বাইরের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটটি আড়ালেই থেকে যায়। তাছাড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছবিকে বিকৃত করেও অনেক সময় ভুল ইতিহাস উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতে পারে।

21. ‘লেটারস ফ্রম আ ফাদার টু হিজ ডটার’ চিঠিগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব কোথায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ১৯২৮ সালে জওহরলাল নেহরু জেলে বসে তাঁর দশ বছরের কন্যা ইন্দিরাকে পৃথিবীর উৎপত্তি, মানবজাতির বিবর্তন, আদিম সমাজ এবং বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে যে চিঠিগুলি লিখেছিলেন, তা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সহজবোধ্য চিঠিগুলি থেকে ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির বিবর্তনের এক সুন্দর ও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

22. ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ‘নিরপেক্ষতা’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ‘নিরপেক্ষতা’ বলতে ঐতিহাসিকদের ব্যক্তিগত আবেগ, নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম ও গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে, উপযুক্ত প্রমাণ ও নথিপত্রের ভিত্তিতে সত্য ঘটনাকে তুলে ধরাকে বোঝায়। নিরপেক্ষতা ছাড়া লেখা ইতিহাস বাস্তব বর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ওঠে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার