অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 9 ‘ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 9: ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2) – পর্ব 1

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. ‘সংবিধান’ (Constitution) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: একটি রাষ্ট্র বা দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তার জন্য তৈরি করা কিছু মৌলিক নিয়মকানুন ও আইনের লিখিত বা অলিখিত দলিলকেই সংবিধান বলা হয়। সংবিধানে সরকারের গঠন, ক্ষমতা এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের কথা স্পষ্টভাবে লেখা থাকে।

2. ভারতের ‘গণপরিষদ’ (Constituent Assembly) কেন গঠন করা হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1946 খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ভারতের জন্য একটি নিজস্ব, পূর্ণাঙ্গ এবং গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সভাপতিত্বে এই পরিষদ প্রায় 3 বছর ধরে ভারতের সংবিধান রচনা করেছিল।

3. ভারতের সংবিধান রচনায় ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ড. বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন গণপরিষদের ‘খসড়া কমিটি’ (Drafting Committee)-র চেয়ারম্যান। তাঁর অসাধারণ আইনি জ্ঞান, মেধা এবং দূরদৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই ভারতের সংবিধানের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তাই তাঁকে ভারতীয় ‘সংবিধানের জনক’ বলা হয়।

4. ভারতের সংবিধানের ‘প্রস্তাবনা’ (Preamble) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রস্তাবনা হলো ভারতের সংবিধানের একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা বা মুখবন্ধ। একটি বইয়ের ভূমিকার মতো এতে সংবিধানের মূল আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং দর্শনকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সাধারণতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

5. প্রস্তাবনায় ভারতকে ‘সার্বভৌম’ (Sovereign) রাষ্ট্র বলা হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভারতকে ‘সার্বভৌম’ রাষ্ট্র বলার অর্থ হলো, ভারত অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক—উভয় ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ স্বাধীন। ভারতের ওপর অন্য কোনো বিদেশি শক্তির (যেমন- ব্রিটেন) কোনো নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব নেই এবং ভারত নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে।

6. ভারতকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ (Secular) রাষ্ট্র বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভারতকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাষ্ট্র বলা হয় কারণ, ভারতের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই। রাষ্ট্র বা সরকারের চোখে সব ধর্মই সমান এবং প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দমতো ধর্ম পালন ও প্রচার করতে পারে, সরকার এতে কোনো হস্তক্ষেপ বা বৈষম্য করবে না।

7. প্রস্তাবনায় ভারতকে ‘গণতান্ত্রিক’ (Democratic) এবং ‘সাধারণতন্ত্র’ (Republic) বলার কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘গণতান্ত্রিক’ বলার কারণ হলো, এখানে সরকার প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে বা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়। আর ‘সাধারণতন্ত্র’ বা প্রজাতন্ত্র বলার কারণ হলো, ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি) কোনো বংশানুক্রমিক রাজা বা রানি নন, তিনিও পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হন।

8. ভারতের সংবিধানে ‘মৌলিক অধিকার’ (Fundamental Rights) বলতে কী বোঝায়? বর্তমানে কয়টি অধিকার আছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সংবিধানে নাগরিকদের যে অধিকারগুলি সুনিশ্চিত করা হয়েছে এবং যা আদালত দ্বারা সুরক্ষিত, তাকেই ‘মৌলিক অধিকার’ বলা হয়। বর্তমানে ভারতের সংবিধানে 6টি মৌলিক অধিকার রয়েছে।

9. ‘সাম্যের অধিকার’ (Right to Equality) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সাম্যের অধিকারের অর্থ হলো আইনের চোখে দেশের সব নাগরিক সমান। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র কারো সাথে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না এবং সবাইকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।

10. সংবিধানে উল্লেখিত ‘শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার’ (Right against Exploitation) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই অধিকারের মাধ্যমে মানুষকে জোর করে বিনা পারিশ্রমিকে খাটানো বা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া 14 বছরের কম বয়সী শিশুদের খনি, কারখানা বা কোনো বিপজ্জনক কাজে লাগানোকে আইনত বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ বলা হয়েছে।

11. ‘মৌলিক কর্তব্য’ (Fundamental Duties) কী? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের অধিকার দেয়, তেমনি দেশের উন্নতির জন্য নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়, সংবিধানে এগুলিকেই মৌলিক কর্তব্য বলা হয়েছে। উদাহরণ: 1) সংবিধান, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, 2) দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।

12. সংবিধানে উল্লেখিত ‘নির্দেশমূলক নীতি’ (Directive Principles) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংবিধানে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য সরকারকে কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক আদর্শ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একেই ‘নির্দেশমূলক নীতি’ বলে। এগুলি মৌলিক অধিকারের মতো বাধ্যতামূলক নয়, অর্থাৎ এগুলি পালিত না হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায় না।

13. ভারতের আইনসভা বা সংসদ (Parliament) কী কী নিয়ে গঠিত?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভারতের আইনসভা বা সংসদ মূলত 3টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলি হলো— ভারতের রাষ্ট্রপতি (President), উচ্চকক্ষ বা ‘রাজ্যসভা’ (Rajya Sabha) এবং নিম্নকক্ষ বা ‘লোকসভা’ (Lok Sabha)।

14. রাজ্যসভার সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হন এবং তাঁদের মেয়াদ কত?

উত্তর দেখো

উত্তর: রাজ্যসভার সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না, তাঁরা রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত বিধায়কদের (MLA) দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। এঁদের কার্যকালের মেয়াদ 6 বছর এবং প্রতি 2 বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ (1/3) সদস্য অবসর গ্রহণ করেন।

15. ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রধান দুটি ক্ষমতা বা কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: 1) শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের রাজ্যপাল এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। 2) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা: লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়া যেকোনো বিলে তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া সেটি আইনে পরিণত হতে পারে না।

16. ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: 1) মন্ত্রীসভা গঠন: প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের পছন্দমতো মন্ত্রীসভা গঠন করেন এবং মন্ত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তর বা দায়িত্ব বণ্টন করেন। 2) প্রকৃত শাসন: তিনি রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীসভার মধ্যে প্রধান যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন এবং দেশের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করেন।

17. অঙ্গরাজ্যের শাসনবিভাগে রাজ্যপালের (Governor) ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: রাজ্যপাল হলেন একটি অঙ্গরাজ্যের (যেমন- পশ্চিমবঙ্গ) সাংবিধানিক বা নামসর্বস্ব প্রধান। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন এবং রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া যেকোনো বিলে তাঁর সম্মতি অপরিহার্য।

18. ভারতের বিচারব্যবস্থায় ‘সুপ্রিম কোর্ট’ (Supreme Court)-এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সুপ্রিম কোর্ট হলো ভারতের সর্বোচ্চ বিচারালয় এবং সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকর্তা বা রক্ষাকর্তা। এটি সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে কোনো বিবাদ দেখা দিলে তার সমাধান করে।

19. ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ (Right to Education Act) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: 2009 সালের এই আইন অনুযায়ী, 6 থেকে 14 বছর বয়সী দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য অবৈতনিক (বিনা খরচে) এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র বা সরকারের আইনি দায়িত্ব। 2010 সালের 1 এপ্রিল থেকে এটি সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

20. ‘পঞ্চায়েত ব্যবস্থা’ (Panchayati Raj) বলতে কী বোঝায়? পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার স্তরগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভারতের গ্রামীণ স্তরে সাধারণ মানুষকে সরাসরি প্রশাসনে এবং উন্নয়নে যুক্ত করার জন্য যে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, তাকে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বলে। পশ্চিমবঙ্গে এটি ত্রিস্তরীয় বা 3-স্তর বিশিষ্ট— সর্বনিম্ন স্তরে গ্রাম পঞ্চায়েত, মাঝে পঞ্চায়েত সমিতি এবং শীর্ষে জেলা পরিষদ।

21. জেলা পরিষদের যেকোনো দুটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: 1) জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা ও তা বাস্তবায়ন করা। 2) জেলার অন্তর্গত সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলির কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং আর্থিক অনুদান বন্টন করা।

22. শহর বা নগরের শাসনব্যবস্থায় ‘পৌরসভা’ (Municipality)-র ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: পৌরসভা হলো শহর বা নগরের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান। শহরের রাস্তাঘাট তৈরি ও মেরামত করা, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হলো পৌরসভার প্রধান কাজ।

অধ্যায় 9: ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

1. ভারতের সংবিধানে ‘প্রস্তাবনা’ (Preamble)-এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

ভারতের সংবিধানের শুরুতে একটি ‘প্রস্তাবনা’ বা মুখবন্ধ রয়েছে, যার গুরুত্ব অপরিসীম:

  • সংবিধানের দর্পণ: প্রস্তাবনাকে সংবিধানের ‘আয়না’ বা ‘আত্মা’ বলা হয়। সমগ্র সংবিধানের মূল আদর্শ, দর্শন এবং উদ্দেশ্যগুলি এই প্রস্তাবনার মধ্যেই সংক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে।
  • রাষ্ট্রের প্রকৃতি: প্রস্তাবনাতেই ভারতকে একটি ‘সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সাধারণতন্ত্র’ হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দিশা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

2. ভারতকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘গণতান্ত্রিক’ রাষ্ট্র বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
  • ধর্মনিরপেক্ষ: ভারতের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই। সরকার সব ধর্মকে সমান চোখে দেখে এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না। নাগরিকরা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারে।
  • গণতান্ত্রিক: ভারতের সরকার জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার। প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতেই দেশ বা রাজ্যের সরকার নির্বাচিত হয়, তাই ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

3. ‘মৌলিক অধিকার’ (Fundamental Rights) এবং ‘নির্দেশমূলক নীতি’ (Directive Principles)-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
  • বিচারযোগ্যতা: মৌলিক অধিকারগুলি আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য বা বিচারযোগ্য। অর্থাৎ, এই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। অন্যদিকে, নির্দেশমূলক নীতিগুলি আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য নয়।
  • উদ্দেশ্য: মৌলিক অধিকারের উদ্দেশ্য হলো দেশে রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষা করা। আর নির্দেশমূলক নীতির উদ্দেশ্য হলো দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা।

4. সংবিধানে বর্ণিত ‘সাম্যের অধিকার’ (Right to Equality) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো

সাম্যের অধিকার হলো ভারতের সংবিধানের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার:

  • আইনের চোখে সমতা: ভারতের সীমানার মধ্যে সমস্ত নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং সকলেই সমান আইনি সুরক্ষা পাবে।
  • বৈষম্য নিষিদ্ধ: ধর্ম, বর্ণ, জাতি, স্ত্রী-পুরুষ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। এর মাধ্যমেই ‘অস্পৃশ্যতা’-কে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

5. ভারতের নাগরিকদের পালনীয় যেকোনো তিনটি ‘মৌলিক কর্তব্য’ (Fundamental Duties) উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

ভারতের সংবিধানের 51(ক) ধারায় উল্লেখিত 11টি মৌলিক কর্তব্যের মধ্যে তিনটি হলো:

  • সংবিধান মান্য করা এবং জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।
  • ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতাকে সমর্থন ও রক্ষা করা।
  • সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং হিংসার পথ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা।

6. ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ (Right to Education) সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর দেখো
  • আইনের বাস্তবায়ন: 2002 সালে 86-তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর 2009 সালে ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ পাস হয় যা 2010 সালের 1 এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়।
  • মূল বক্তব্য: এই আইন অনুযায়ী, 6 থেকে 14 বছর বয়সী দেশের প্রতিটি শিশুর অবৈতনিক (বিনা বেতনে) এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা লাভ করার অধিকার রয়েছে। কোনো স্কুল এই শিশুদের ভর্তি নিতে অস্বীকার করতে পারবে না।

7. ভারতীয় সংসদ (Parliament) কীভাবে গঠিত হয়? এর কক্ষ দুটির নাম লেখো।

উত্তর দেখো
  • গঠন: ভারতের সংসদ বা কেন্দ্রীয় আইনসভা মূলত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত— ভারতের রাষ্ট্রপতি (President) এবং আইনসভার দুটি কক্ষ।
  • কক্ষ দুটি: 1) উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভা (Rajya Sabha), যা রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। 2) নিম্নকক্ষ বা লোকসভা (Lok Sabha), যা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত।

8. ভারতের রাষ্ট্রপতির (President) যেকোনো তিনটি ক্ষমতা উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

ভারতের রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান। তাঁর তিনটি প্রধান ক্ষমতা হলো:

  • নিয়োগ ক্ষমতা: তিনি প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, রাজ্যের রাজ্যপাল এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন।
  • আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা: সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া কোনো বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হয়।
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণা: দেশে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা চরম অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে তিনি দেশে ‘জরুরি অবস্থা’ (Emergency) ঘোষণা করতে পারেন।

9. ভারতের বিচারব্যবস্থায় ‘সুপ্রিম কোর্ট’ (Supreme Court)-এর প্রধান কাজগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
  • সংবিধানের রক্ষাকর্তা: সুপ্রিম কোর্ট ভারতের সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকর্তা। সরকারের কোনো আইন যদি সংবিধান বিরোধী হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করতে পারে।
  • মৌলিক অধিকার রক্ষা: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ বা লেখ (Writ) জারি করে তা রক্ষা করে।
  • বিরোধ নিষ্পত্তি: কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে, অথবা দুটি রাজ্যের মধ্যে কোনো আইনি বিবাদ দেখা দিলে সুপ্রিম কোর্ট তার চূড়ান্ত সমাধান করে।

10. ভারতের গ্রামীণ এলাকার ‘পঞ্চায়েত ব্যবস্থা’ (Panchayati Raj)-র কাঠামোটি বর্ণনা করো।

উত্তর দেখো

ভারতের গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জন্য ত্রিস্তরীয় (তিনটি স্তর বিশিষ্ট) পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে:

  • গ্রাম পঞ্চায়েত (সর্বনিম্ন স্তর): একটি বা কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয়। গ্রামের প্রাথমিক উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট সংস্কার এর কাজ।
  • পঞ্চায়েত সমিতি (মধ্যবর্তী স্তর): কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে ব্লক স্তরে এটি গঠিত হয়। এটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজগুলির তদারকি করে।
  • জেলা পরিষদ (সর্বোচ্চ স্তর): জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতির কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সমগ্র জেলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাই জেলা পরিষদের কাজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার