অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 9 ‘ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার’‌ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 9: ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

1. ভারতের সংবিধানে ‘প্রস্তাবনা’ (Preamble)-এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো
ভারতের সংবিধানের শুরুতে একটি ‘প্রস্তাবনা’ বা মুখবন্ধ রয়েছে, যার গুরুত্ব অপরিসীম:

  • সংবিধানের দর্পণ: প্রস্তাবনাকে সংবিধানের ‘আয়না’ বা ‘আত্মা’ বলা হয়। একটি বইয়ের ভূমিকার মতো সমগ্র সংবিধানের মূল আদর্শ, দর্শন এবং উদ্দেশ্যগুলি এই প্রস্তাবনার মধ্যেই সংক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে।
  • রাষ্ট্রের প্রকৃতি: প্রস্তাবনাতেই ভারতকে একটি ‘সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সাধারণতন্ত্র’ হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দিশা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
  • জনগণের ক্ষমতা: “আমরা, ভারতের জনগণ” শব্দগুচ্ছ দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রস্তাবনা প্রমাণ করে যে, ভারতের সংবিধানের চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস হলো দেশের সাধারণ মানুষ।

2. ভারতকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ (Secular) রাষ্ট্র বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ:

  • রাষ্ট্রীয় ধর্মহীনতা: ভারতের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ধর্ম নেই। সরকার সব ধর্মকে সমান চোখে দেখে এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না।
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা: দেশের প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দমতো ধর্ম গ্রহণ, পালন এবং প্রচার করতে পারে। এতে রাষ্ট্র কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
  • সমতা: ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকার কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করবে না বা কাউকে চাকরি ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করবে না।

3. ভারতকে ‘গণতান্ত্রিক’ (Democratic) ও ‘সাধারণতন্ত্র’ (Republic) বলার কারণ কী?

উত্তর দেখো
  • গণতান্ত্রিক: ভারতের সরকার জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার। প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতেই দেশ বা রাজ্যের সরকার নির্বাচিত হয় এবং সরকার তার কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়ী থাকে। তাই ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
  • সাধারণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র: সাধারণতন্ত্র বলতে বোঝায় এমন রাষ্ট্র যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমিক হন না। ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান অর্থাৎ ‘রাষ্ট্রপতি’ কোনো রাজা বা রানি নন, তিনিও পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারাই একটি নির্দিষ্ট সময়ের (5 বছর) জন্য নির্বাচিত হন।

4. ‘মৌলিক অধিকার’ (Fundamental Rights) এবং ‘নির্দেশমূলক নীতি’ (Directive Principles)-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
মৌলিক অধিকার এবং নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো:

  • বিচারযোগ্যতা: মৌলিক অধিকারগুলি আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য বা বিচারযোগ্য। অর্থাৎ, এই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। অন্যদিকে, নির্দেশমূলক নীতিগুলি আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য নয়।
  • উদ্দেশ্য: মৌলিক অধিকারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশে রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষা করা। আর নির্দেশমূলক নীতির উদ্দেশ্য হলো দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা।
  • প্রকৃতি: মৌলিক অধিকারগুলি প্রধানত নেতিবাচক, অর্থাৎ রাষ্ট্রকে কিছু কাজ করা থেকে বিরত করে। অন্যদিকে, নির্দেশমূলক নীতিগুলি ইতিবাচক, কারণ এগুলি রাষ্ট্রকে কিছু জনকল্যাণমূলক কাজ করার নির্দেশ দেয়।

5. সংবিধানে বর্ণিত ‘সাম্যের অধিকার’ (Right to Equality) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো
সাম্যের অধিকার হলো ভারতের সংবিধানের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার (ধারা 14-18):

  • আইনের চোখে সমতা: ভারতের সীমানার মধ্যে সমস্ত নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং সকলেই সমান আইনি সুরক্ষা পাবে। আইন ধনী-দরিদ্র বা ক্ষমতাবান-দুর্বলের মধ্যে কোনো বৈষম্য করবে না।
  • বৈষম্য নিষিদ্ধ: ধর্ম, বর্ণ, জাতি, স্ত্রী-পুরুষ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। চাকরি, শিক্ষা বা সরকারি সুবিধা লাভের ক্ষেত্রে সবাই সমান সুযোগ পাবে।
  • অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ: এই অধিকারের মাধ্যমেই সমাজে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ‘অস্পৃশ্যতা’ বা ছোঁয়াছুঁয়ির ভেদাভেদকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

6. ‘শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার’ (Right against Exploitation) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো
সংবিধানের 23 ও 24 নম্বর ধারায় উল্লেখিত এই অধিকারটি সমাজের দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • বেগার খাটা নিষিদ্ধ: এই অধিকারের মাধ্যমে কোনো মানুষকে জোর করে, ভয় দেখিয়ে বা বিনা পারিশ্রমিকে খাটানো (বেগার খাটা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • মানুষ কেনাবেচা নিষিদ্ধ: ক্রীতদাস প্রথার মতো মানুষকে টাকার বিনিময়ে কেনাবেচা করা বা তাদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
  • শিশুশ্রম নিষিদ্ধ: 14 বছরের কম বয়সী শিশুদের খনি, কারখানা, রেলওয়ে বা অন্য কোনো বিপজ্জনক কাজে লাগানোকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে তাদের শৈশব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।

7. ‘মৌলিক কর্তব্য’ (Fundamental Duties) কী? ভারতের নাগরিকদের পালনীয় যেকোনো তিনটি মৌলিক কর্তব্য উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো
মৌলিক কর্তব্য: রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের অধিকার দেয়, তেমনি দেশের অগ্রগতি ও শৃঙ্খলার জন্য নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংবিধানে উল্লেখিত এই দায়িত্বগুলিকেই ‘মৌলিক কর্তব্য’ বলা হয়। বর্তমানে এর সংখ্যা 11টি।

যেকোনো তিনটি মৌলিক কর্তব্য:

  • সংবিধান মান্য করা এবং জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।
  • ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতাকে সমর্থন করা ও রক্ষা করা।
  • জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং হিংসার পথ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করে সম্প্রীতি বজায় রাখা।

8. ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ (Right to Education Act) সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর দেখো
  • প্রেক্ষাপট: 2002 সালে 86-তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে ‘মৌলিক অধিকার’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর 2009 সালে ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ পাস হয়, যা 2010 সালের 1 এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়।
  • মূল বক্তব্য: এই আইন অনুযায়ী, 6 থেকে 14 বছর বয়সী দেশের প্রতিটি শিশুর অবৈতনিক (বিনা বেতনে) এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার আইনি অধিকার রয়েছে।
  • তাৎপর্য: এই আইনের ফলে কোনো সরকারি বা সরকার-পোষিত স্কুল এই বয়সের শিশুদের ভর্তি নিতে অস্বীকার করতে পারবে না। এটি শিশুশ্রম রোধ করতে এবং দেশে সাক্ষরতার হার বাড়াতে সাহায্য করেছে।

9. ভারতীয় সংসদ (Parliament) কীভাবে গঠিত হয়? এর কক্ষ দুটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর দেখো
  • সংসদ গঠন: ভারতের সংসদ বা কেন্দ্রীয় আইনসভা মূলত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত— ভারতের রাষ্ট্রপতি (President) এবং আইনসভার দুটি কক্ষ।
  • উচ্চকক্ষ (রাজ্যসভা): এটি মূলত রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। এর সর্বাধিক সদস্য সংখ্যা 250 হতে পারে। সদস্যরা পরোক্ষভাবে বিধায়কদের দ্বারা নির্বাচিত হন এবং এদের মেয়াদ 6 বছর। এর সভাপতিত্ব করেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি।
  • নিম্নকক্ষ (লোকসভা): এটি সরাসরি দেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। এর সর্বাধিক সদস্য সংখ্যা 552 হতে পারে। এদের কার্যকালের মেয়াদ 5 বছর এবং লোকসভার অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার।

10. ভারতের রাষ্ট্রপতির (President) যেকোনো তিনটি ক্ষমতা বা কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো
ভারতের রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক ও শাসনবিভাগের প্রধান। তাঁর তিনটি প্রধান ক্ষমতা হলো:

  • নিয়োগ ক্ষমতা: তিনি লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। এছাড়া রাজ্যের রাজ্যপাল, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের তিনিই নিয়োগ করেন।
  • আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা: সংসদের দুটি কক্ষে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) পাস হওয়া যেকোনো বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই তা চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়।
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণা: দেশে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র বিদ্রোহ বা চরম অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে তিনি দেশে ‘জরুরি অবস্থা’ (Emergency) ঘোষণা করতে পারেন।

11. ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) যেকোনো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা ক্ষমতা লেখো.

উত্তর দেখো
ভারতের শাসনবিভাগের প্রকৃত প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব অপরিসীম:

  • মন্ত্রিসভা গঠন ও পরিচালনা: প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের পছন্দমতো মন্ত্রীদের বেছে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তর (যেমন- অর্থ, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা) বণ্টন করে দেন।
  • লোকসভার নেতা: তিনি লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে সংসদে সরকারের প্রধান মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন এবং সরকারের নীতিগুলি তুলে ধরেন।
  • রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার যোগসূত্র: তিনি দেশের প্রকৃত শাসক এবং রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার মধ্যে প্রধান যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। মন্ত্রিসভার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

12. রাজ্যের শাসনবিভাগে রাজ্যপালের (Governor) ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো
  • সাংবিধানিক প্রধান: ভারতের রাষ্ট্রপতির মতোই রাজ্যপাল হলেন একটি অঙ্গরাজ্যের (যেমন- পশ্চিমবঙ্গ) সাংবিধানিক বা নামসর্বস্ব প্রধান। তাঁকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।
  • নিয়োগ ক্ষমতা: রাজ্যপাল রাজ্য বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন।
  • আইন প্রণয়ন: রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া যেকোনো বিল রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয় এবং তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া তা আইনে পরিণত হতে পারে না।

13. ভারতের বিচারব্যবস্থায় ‘সুপ্রিম কোর্ট’ (Supreme Court)-এর প্রধান কাজগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
ভারতের সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান কাজগুলি হলো:

  • সংবিধানের রক্ষাকর্তা: সুপ্রিম কোর্ট ভারতের সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকর্তা। সরকারের কোনো আইন যদি সংবিধানের পরিপন্থী হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দিতে পারে।
  • মৌলিক অধিকার রক্ষা: দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি খর্ব হলে সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন নির্দেশ বা লেখ (Writ) জারি করে সেগুলি সুরক্ষিত করে।
  • বিরোধ নিষ্পত্তি: কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে, অথবা দুটি রাজ্যের মধ্যে আইনি বিবাদ দেখা দিলে সুপ্রিম কোর্টই তার চূড়ান্ত সমাধান করে।

14. অঙ্গরাজ্যের বিচারব্যবস্থায় ‘হাইকোর্ট’ (High Court)-এর ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো
  • রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত: হাইকোর্ট হলো ভারতের যেকোনো অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ বিচারালয়। এর নিচে জেলা আদালত ও অন্যান্য নিম্ন আদালতগুলি কাজ করে।
  • আপিল বিচার: রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলির কোনো রায়ে বিচারপ্রার্থী সন্তুষ্ট না হলে, তিনি হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন এবং হাইকোর্ট তার বিচার করে।
  • অধিকার রক্ষা: সুপ্রিম কোর্টের মতোই হাইকোর্টও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বিভিন্ন নির্দেশ বা পরোয়ানা জারি করতে পারে।

15. ভারতের গ্রামীণ এলাকার ‘পঞ্চায়েত ব্যবস্থা’ (Panchayati Raj)-র কাঠামোটি বর্ণনা করো।

উত্তর দেখো
ভারতের গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জন্য ত্রিস্তরীয় (তিনটি স্তর বিশিষ্ট) পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে:

  • গ্রাম পঞ্চায়েত (সর্বনিম্ন স্তর): এটি একটি বা কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয়। গ্রামের রাস্তাঘাট, জল ও পরিচ্ছন্নতার মতো প্রাথমিক কাজগুলি এর দায়িত্বে থাকে।
  • পঞ্চায়েত সমিতি (মধ্যবর্তী স্তর): কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে ব্লক স্তরে এটি গঠিত হয়। এটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজগুলির মধ্যে সমন্বয় ও তদারকি করে।
  • জেলা পরিষদ (সর্বোচ্চ স্তর): জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতির কাজের তদারকি এবং সমগ্র জেলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাই জেলা পরিষদের কাজ।

16. ‘গ্রাম পঞ্চায়েত’-এর গঠন এবং এর যেকোনো দুটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো
  • গঠন: গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত গঠিত হয়। এর প্রধানকে ‘পঞ্চায়েত প্রধান’ বলা হয়। বর্তমানে এর এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
  • কাজ: 1) গ্রামের রাস্তাঘাট, খাল ও কালভার্ট তৈরি এবং মেরামত করা। 2) গ্রামে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

17. ‘জেলা পরিষদ’-এর গঠন ও কার্যাবলি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো
  • গঠন: ত্রিস্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থার একেবারে শীর্ষে রয়েছে জেলা পরিষদ। জেলার ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, এবং ওই জেলার সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে এটি গঠিত হয়। এর প্রধানকে সভাধিপতি বলা হয়।
  • কার্যাবলি: জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা, স্কুল-হাসপাতাল নির্মাণ করা এবং জেলার অন্তর্গত সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে কাজের জন্য আর্থিক অনুদান বন্টন করা হলো জেলা পরিষদের কাজ।

18. শহর বা নগরের শাসনব্যবস্থায় ‘পৌরসভা’ (Municipality)-র গঠন ও ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো
  • গঠন: পৌরসভা হলো শহর বা নগরের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান। একটি শহরকে কয়েকটি ওয়ার্ডে ভাগ করে সেখানকার প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের দ্বারা ‘কাউন্সিলর’-রা নির্বাচিত হন। নির্বাচিত কাউন্সিলররা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে চেয়ারম্যান (Chairman) নির্বাচন করেন।
  • ভূমিকা/কাজ: শহরের রাস্তাঘাট তৈরি ও আলো লাগানো, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, জঞ্জাল পরিষ্কার করা এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হলো পৌরসভার প্রধান কাজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার