অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 9 ‘ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার’ রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 5

অধ্যায় 9: ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ভারতের সংবিধানে নাগরিকদের কী কী ‘মৌলিক অধিকার’ (Fundamental Rights) দেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: মানুষের সুস্থ, স্বাধীন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য ভারতের সংবিধানে (তৃতীয় অংশে) নাগরিকদের কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে, যেগুলি আদালত দ্বারা রক্ষিত। এগুলিকেই ‘মৌলিক অধিকার’ বলে। মূল সংবিধানে 7টি অধিকার থাকলেও 1978 সালে 44-তম সংশোধনের মাধ্যমে ‘সম্পত্তির অধিকার’ বাদ দেওয়ায় বর্তমানে 6টি মৌলিক অধিকার রয়েছে।

6টি মৌলিক অধিকার:

  • 1. সাম্যের অধিকার (Right to Equality): আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কারো সাথে বৈষম্য করবে না এবং ‘অস্পৃশ্যতা’ বা ছোঁয়াছুঁয়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
  • 2. স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom): এর মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলা, মতামত প্রকাশ করা, দেশের যেকোনো প্রান্তে স্বাধীনভাবে বসবাস করা ও চলাফেরা করা এবং শান্তিপূর্নভাবে সভা-সমিতি করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। 2002 সালে ‘শিক্ষার অধিকার’-কেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • 3. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (Right against Exploitation): বিনা পারিশ্রমিকে বেগার খাটানো এবং মানুষ কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 14 বছরের কম বয়সী শিশুদের খনি বা কারখানার মতো কোনো বিপজ্জনক কাজে লাগানো বেআইনি।
  • 4. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom of Religion): রাষ্ট্রীয় কোনো ধর্ম থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক নিজের বিবেক ও বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীনভাবে যেকোনো ধর্ম গ্রহণ, পালন ও প্রচার করতে পারবে।
  • 5. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার (Cultural and Educational Rights): ভারতের যেকোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।
  • 6. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার (Right to Constitutional Remedies): ওপরের যেকোনো অধিকার খর্ব বা লঙ্ঘিত হলে একজন নাগরিক সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন এবং আদালত তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ (Writ) জারি করবে।

2. ভারতের রাষ্ট্রপতির (President) ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম নাগরিক এবং শাসনবিভাগের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক (বা নামসর্বস্ব) প্রধান। তিনি পরোক্ষভাবে একটি নির্বাচক সংস্থার মাধ্যমে 5 বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তাঁর ক্ষমতাগুলিকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  • 1. শাসনতান্ত্রিক বা শাসনবিভাগীয় ক্ষমতা: তিনি লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি অন্যান্য মন্ত্রী, অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপাল, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি, এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ করেন।
  • 2. আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা: তিনি সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন ডাকতে বা স্থগিত রাখতে পারেন। সংসদের লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়া কোনো বিল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া আইনে পরিণত হতে পারে না। তিনি রাজ্যসভায় 12 জন সদস্যকে মনোনীত করতে পারেন।
  • 3. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। কোনো অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডসহ যেকোনো শাস্তি তিনি কমাতে বা সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দিতে পারেন।
  • 4. জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ক্ষমতা (Emergency Powers): দেশে যদি যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র বিদ্রোহ অথবা চরম আর্থিক সংকট দেখা দেয়, তবে তিনি সংবিধানে প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা বলে দেশে তিন ধরনের ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করতে পারেন। তখন দেশের সমস্ত ক্ষমতা তাঁর হাতে চলে আসে।

মূল্যায়ন: এত ক্ষমতার অধিকারী হলেও রাষ্ট্রপতি আসলে নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। বাস্তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ মেনেই সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন।

3. ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: ভারতের রাষ্ট্রপতি শাসনবিভাগের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হলেও, ভারতের শাসনবিভাগের প্রকৃত প্রধান (Real Executive Head) হলেন প্রধানমন্ত্রী। লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

  • 1. মন্ত্রিসভা গঠন ও পরিচালনা: প্রধানমন্ত্রী নিজের পছন্দমতো সাংসদদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তর (যেমন- অর্থ, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা) বণ্টন করেন। মন্ত্রিসভার যেকোনো বৈঠকে তিনি সভাপতিত্ব করেন। কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধ হলে তিনি তাঁকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিতে পারেন।
  • 2. লোকসভার নেতা: প্রধানমন্ত্রী লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়ায় তিনি সমগ্র লোকসভার নেতার মর্যাদা পান। সরকারি সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত তিনি সংসদেই প্রথম ঘোষণা করেন এবং বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
  • 3. রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার যোগসূত্র: প্রধানমন্ত্রী হলেন রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিসভার মধ্যে একমাত্র যোগসূত্র। মন্ত্রিসভার সমস্ত সিদ্ধান্ত ও দেশের প্রশাসনিক অবস্থা তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান এবং রাষ্ট্রপতির কোনো পরামর্শ থাকলে তা মন্ত্রিসভাকে জানান।
  • 4. জাতির প্রধান মুখপত্র: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এবং বিদেশের কাছে প্রধানমন্ত্রীই হলেন ভারতের প্রধান প্রতিনিধি বা মুখপত্র। বিদেশের সাথে সন্ধি বা চুক্তি মূলত তাঁর নির্দেশেই হয়।

পদমর্যাদা: প্রধানমন্ত্রী হলেন ভারতীয় শাসনব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাঁকে ঘিরেই ভারতের সমগ্র শাসনব্যবস্থা আবর্তিত হয়, তাই তাঁকে ‘ক্যাবিনেট তোরণের মূল ভিত্তিপ্রস্তর’ বলা হয়।

4. পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন বা ‘পঞ্চায়েত ব্যবস্থা’-র (Panchayati Raj System) গঠন ও স্তরগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষকে সরাসরি স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত করার জন্য ভারতে যে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বলে। পশ্চিমবঙ্গে 1973 সালের পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী ‘ত্রিস্তরীয়’ বা 3-স্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর:

  • 1. গ্রাম পঞ্চায়েত (সর্বনিম্ন স্তর):গঠন: একটি বা কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এটি গঠিত হয়। গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাররা সরাসরি ভোট দিয়ে 5 বছরের জন্য এর সদস্যদের নির্বাচন করেন। এর প্রধানকে ‘পঞ্চায়েত প্রধান’ বলা হয়।

    কাজ: গ্রামের রাস্তাঘাট তৈরি ও মেরামত করা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা এবং শ্মশান বা গোরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ করা এর প্রধান কাজ।

  • 2. পঞ্চায়েত সমিতি (মধ্যবর্তী স্তর):গঠন: কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে ব্লক স্তরে পঞ্চায়েত সমিতি গঠিত হয়। সরাসরি নির্বাচিত সদস্য এবং ব্লকের অন্তর্গত সব গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের নিয়ে এটি গঠিত। এর প্রধানকে ‘সভাপতি’ বলা হয়।

    কাজ: গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কাজের তদারকি করা এবং কৃষি, কুটিরশিল্প, সমবায় ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ব্লকের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

  • 3. জেলা পরিষদ (সর্বোচ্চ স্তর):গঠন: সমগ্র জেলার জন্য জেলা পরিষদ গঠিত হয়। জেলার ভোটারদের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি, জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ওই জেলার সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে এটি গঠিত। এর প্রধানকে ‘সভাধিপতি’ বলা হয়।

    কাজ: জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা, সড়ক, স্কুল-হাসপাতাল নির্মাণ করা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে কাজের জন্য আর্থিক অনুদান বন্টন করা এর কাজ।

অধ্যায় 9: ভারতের সংবিধান – গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার
(অতিরিক্ত বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – 100% প্রস্তুতির জন্য)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

5. একটি অঙ্গরাজ্যের শাসনব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister) ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
ভূমিকা: কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর যে ভূমিকা, একটি অঙ্গরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকাও ঠিক একই রকম। রাজ্যপাল রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক বা নামসর্বস্ব প্রধান হলেও, রাজ্যের শাসনবিভাগের প্রকৃত প্রধান (Real Head) হলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

  • 1. মন্ত্রিসভার গঠন ও পরিচালনা: মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ মেনেই রাজ্যপাল রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন এবং যেকোনো সময় মন্ত্রিসভার রদবদল করতে পারেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনিই সভাপতিত্ব করেন।
  • 2. রাজ্যপালের প্রধান পরামর্শদাতা: মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্যপাল এবং মন্ত্রিসভার মধ্যে প্রধান যোগসূত্র। রাজ্যের শাসনকাজ পরিচালনা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তিনি রাজ্যপালকে জানান এবং প্রশাসনিক কাজে রাজ্যপালকে সাহায্য করেন।
  • 3. বিধানসভার নেতা/নেত্রী: বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়ায় তিনি সমগ্র বিধানসভার নেতৃত্ব দেন। রাজ্য বিধানসভায় সরকারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত তিনি বা তাঁর নির্দেশেই অন্য মন্ত্রীরা ঘোষণা করেন।
  • 4. কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের যোগসূত্র: একটি রাজ্যের প্রধান মুখপত্র হিসেবে তিনি কেন্দ্র সরকার এবং অন্যান্য রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। রাজ্যের দাবিদাওয়াগুলি তিনি কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরেন।

পদমর্যাদা: মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্য প্রশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাজ্যের মানুষের ভালোমন্দের প্রধান দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়, তাই রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর পদমর্যাদা ও প্রভাব সবার ওপরে।

6. ভারতের বিচারব্যবস্থায় ‘সুপ্রিম কোর্ট’ (Supreme Court)-এর গঠন ও কার্যাবলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: ভারতের অখণ্ড ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার একেবারে শীর্ষে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বা সর্বোচ্চ আদালত। এটি দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত। এটি কেবল দেশের সর্বোচ্চ আপিল আদালতই নয়, সংবিধানের রক্ষাকর্তাও বটে।

গঠন:
সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে 1 জন প্রধান বিচারপতি এবং অনধিক 33 জন অন্যান্য বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত। এঁদের প্রত্যেককেই ভারতের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কার্যকালের মেয়াদ বা অবসরের বয়স হলো 65 বছর।

কার্যাবলি বা এলাকা: সুপ্রিম কোর্টের কাজগুলিকে মূলত চারটি ‘এলাকা’-য় ভাগ করা যায়:

  • 1. মূল এলাকা (Original Jurisdiction): এমন কিছু মামলা আছে যেগুলি সরাসরি কেবল সুপ্রিম কোর্টেই বিচার করা যায়। যেমন— ভারত সরকারের সাথে এক বা একাধিক রাজ্য সরকারের বিবাদ, অথবা দুটি রাজ্যের মধ্যে আইনি বিরোধ দেখা দিলে তার বিচার সুপ্রিম কোর্টের মূল এলাকার অন্তর্গত।
  • 2. আপিল এলাকা (Appellate Jurisdiction): সুপ্রিম কোর্ট হলো দেশের চূড়ান্ত আপিল আদালত। দেশের যেকোনো হাইকোর্টের দেওয়া দেওয়ানি বা ফৌজদারি রায়ের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
  • 3. পরামর্শদান এলাকা (Advisory Jurisdiction): আইন সংক্রান্ত কোনো জটিল প্রশ্ন বা জনস্বার্থ জড়িত কোনো বিষয়ে রাষ্ট্রপতি চাইলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আইনি পরামর্শ চাইতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট সেই বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেয়।
  • 4. নির্দেশ বা লেখ জারির এলাকা (Writ Jurisdiction): দেশের কোনো নাগরিকের ‘মৌলিক অধিকার’ ক্ষুণ্ন হলে, সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট 5 ধরনের বিশেষ নির্দেশিকা বা লেখ (যেমন- বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ, পরমাদেশ ইত্যাদি) জারি করতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার