অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 8 মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 8: মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

1. খারিফ ফসল (Kharif crop) এবং রবি ফসলের (Rabi crop) মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. বপনের সময়: খারিফ ফসল বর্ষাকালে (জুন-জুলাই মাসে) বোনা হয়। অন্যদিকে, রবি ফসল শীতকালে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) বোনা হয়।
2. উদাহরণ: ধান, ভুট্টা, তুলো হলো খারিফ ফসল। আর গম, আলু, মটর হলো রবি ফসল।

[Image showing a farmer ploughing the field to loosen the soil before sowing]

2. কৃষিকাজে বীজ বপনের আগে মাটি কর্ষণ বা চাষ দেওয়া (Ploughing) অত্যন্ত জরুরি কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মাটি কর্ষণ করলে শক্ত মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে হয়। এর ফলে—
1. গাছের শিকড় সহজেই মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং শিকড়ের শ্বাসকার্যের জন্য পর্যাপ্ত বাতাস পায়।
2. মাটির নিচে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলি ওপরে উঠে আসে, যা নতুন চারাগাছ সহজেই গ্রহণ করতে পারে।

3. বীজ বপন করার আগে সুস্থ ও ভালো বীজ কীভাবে বাছাই করা হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভালো বীজ বাছাই করার জন্য বীজগুলিকে একটি পাত্রে পরিষ্কার জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। যে বীজগুলি পোকায় কাটা বা ভেতর থেকে ফাঁপা, সেগুলি হালকা হওয়ায় জলের ওপর ভাসতে থাকে। আর যেগুলি সুস্থ, সবল ও ভারী বীজ, সেগুলি পাত্রের তলায় ডুবে থাকে। এভাবেই ভারী বীজগুলিকে বপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

4. রাসায়নিক সারের (Chemical fertilizer) তুলনায় জৈব সার (Organic manure) ব্যবহার করা বেশি ভালো কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: জৈব সার বেশি ভালো কারণ—
1. এটি মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটিকে ঝুরঝুরে করে, ফলে মাটিতে বাতাস চলাচল ভালো হয়।
2. এটি মাটিতে উপকারী অণুজীব ও কেঁচোর সংখ্যা বাড়ায়, যা মাটির উর্বরতা বজায় রাখে এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।

5. ফসল আবর্তন (Crop rotation) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: ফসল আবর্তন: একই জমিতে বছরের পর বছর একই ফসল চাষ না করে, পর্যায়ক্রমে ভিন্ন ভিন্ন ফসল (বিশেষ করে শিম্বগোত্রীয় ফসল) চাষ করার পদ্ধতিকে ফসল আবর্তন বলে।
গুরুত্ব: শিম্বগোত্রীয় ফসল (যেমন মটর, ডাল) চাষ করলে এদের মূলে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসে থাকা নাইট্রোজেনকে মাটিতে আবদ্ধ করে। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে মাটির হারানো উর্বরতা ফিরে আসে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমে।

6. জলসেচ (Irrigation) কাকে বলে? আধুনিক জলসেচের দুটি পদ্ধতির নাম লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: বৃষ্টির জলের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে, ফসলের জমির প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম উপায়ে নির্দিষ্ট সময়ে জল সরবরাহ করার পদ্ধতিকে জলসেচ বলে।
আধুনিক পদ্ধতি: জল সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত দুটি আধুনিক পদ্ধতি হলো— 1. ফোয়ারা সেচ (Sprinkler system) এবং 2. বিন্দু সেচ বা ড্রিপ ইরিগেশন (Drip system)।

7. ফসলের মাঠ থেকে আগাছা (Weeds) দমন করা প্রয়োজন কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আগাছা হলো জমির অবাঞ্ছিত উদ্ভিদ। এদের দমন করা প্রয়োজন কারণ এরা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং জমির মূল ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জল, পুষ্টি, আলো এবং জায়গা কেড়ে নেয়। ফলে মূল ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। এছাড়া কিছু আগাছা ফসল ও মানুষের জন্য বিষাক্তও হতে পারে।

8. শস্যাগারে ফসল সঞ্চয় (Storage) করার আগে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: সদ্য কাটা ফসলে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প থাকে। ভেজা অবস্থায় ফসল মজুত করলে তাতে খুব সহজেই ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে এবং ফসল পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই জীবাণু ও পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে এবং ফসল দীর্ঘদিন ভালো রাখতে মজুত করার আগে কড়া রোদে শুকিয়ে ফসলের আর্দ্রতা কমানো হয়।

9. ধান চাষের জন্য কীরূপ মাটি ও জলবায়ু প্রয়োজন?

উত্তর দেখো

উত্তর:
মাটি: ধান চাষের জন্য জল ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ভারী এঁটেল বা কাদা মাটি এবং পলি মাটি সবচেয়ে উপযোগী।
জলবায়ু: ধান একটি উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফসল। এর জন্য প্রচুর সূর্যালোক, উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত বা জলসেচের প্রয়োজন হয়।

10. বীজতলা (Seedbed) কী? ধান চাষে এর ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: ফসলের মূল জমিতে চারা রোপণ করার আগে যে ছোট ও বিশেষভাবে তৈরি জমিতে বীজ বুনে চারাগাছ তৈরি করা হয়, তাকে বীজতলা বলে।
ভূমিকা: ধান চাষে সরাসরি মাঠে বীজ না বুনে বীজতলায় চারা তৈরি করলে চারাগুলি সুস্থ-সবল হয় এবং পরে মূল জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে সমানভাবে সেই চারাগুলি পুঁতলে ফসলের ফলন অনেক ভালো হয়।

11. জোড়কলম বা গ্রাফটিং (Grafting) কী? এটি কেন করা হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: যে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন পদ্ধতিতে একটি উন্নত জাতের গাছের ডাল (সিয়ন) কেটে নিয়ে অন্য একটি সাধারণ কিন্তু মজবুত গাছের মূলকাণ্ডের (স্টক) সাথে জোড়া লাগানো হয়, তাকে জোড়কলম বা গ্রাফটিং বলে।
কারণ: বীজ থেকে গাছ তৈরি হলে ফলন আসতে অনেক সময় লাগে এবং ফলের মান ভালো নাও হতে পারে। কিন্তু গ্রাফটিং পদ্ধতিতে খুব দ্রুত উন্নত মানের, সুস্বাদু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ফল (যেমন- আম) পাওয়া যায়।

12. গ্রাফটিং (Grafting) পদ্ধতিতে স্টক (Stock) ও সিয়ন (Scion) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. স্টক: জোড়কলম পদ্ধতিতে যে গাছটির মাটি সংলগ্ন মূল ও নিচের দিকের কাণ্ড ব্যবহৃত হয় (যাতে অন্য ডাল জোড়া হবে), তাকে স্টক বলে। এটি সাধারণত রোগ প্রতিরোধী এবং মজবুত হয়।
2. সিয়ন: উন্নত ফলনশীল জাতের যে গাছ থেকে ডাল কেটে নিয়ে স্টকের ওপর জোড়া লাগানো হয়, সেই ডালটিকে সিয়ন বলে।

13. চা চাষের জন্য কীরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ (মাটি ও জলবায়ু) সবচেয়ে উপযুক্ত?

উত্তর দেখো

উত্তর:
মাটি: চা চাষের জন্য লোহা ও ম্যাঙ্গানিজ যুক্ত, ঈষৎ আম্লিক এবং জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমির মাটি সবচেয়ে ভালো। গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছ মারা যায়।
জলবায়ু: উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, মাঝারি তাপমাত্রা এবং বছরে প্রচুর বৃষ্টিপাত চা গাছের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

14. চা বাগানে বড় ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানো হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: চা গাছ প্রখর রোদ বা সরাসরি সূর্যের আলো একদম সহ্য করতে পারে না, এতে পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই চা বাগানে চা গাছগুলিকে প্রখর রোদ থেকে বাঁচাতে এবং বাগানে আর্দ্র ও ছায়াঘেরা পরিবেশ বজায় রাখতে মাঝে মাঝে বড় ছায়া প্রদানকারী গাছ (যেমন- শিরীষ গাছ) লাগানো হয়।

15. চা পানের দুটি সুফল বা স্বাস্থ্যগুণ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. চায়ে থাকা ক্যাফেইন নামক উপাদান আমাদের স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করে, ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরে সতেজতা ফিরিয়ে আনে।
2. চায়ে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যেমন- ফ্ল্যাভোনয়েড) আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

16. মেজর কার্প (Major carp) এবং মাইনর কার্পের (Minor carp) মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. আকার ও বৃদ্ধি: মেজর কার্প আকারে বড় হয় এবং খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, মাইনর কার্প আকারে ছোট হয় এবং এদের বৃদ্ধি বেশ ধীর।
2. উদাহরণ: রুই, কাতলা, মৃগেল হলো মেজর কার্প। আর বাটা, পুঁটি হলো মাইনর কার্প।

[Image illustrating composite fish culture showing different fishes in surface, middle, and bottom layers]

17. মিশ্র চাষ বা কম্পোজিট ফিশ কালচার (Composite fish culture) কাকে বলে? এর একটি সুবিধা লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: একই পুকুরে খাদ্যের জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে না এমন আলাদা আলাদা স্তরের (ওপর, মাঝখান, নিচ) 3 থেকে 6 প্রজাতির দেশি ও বিদেশি মাছের (যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প) একসাথে চাষ করাকে মিশ্র চাষ বলে।
সুবিধা: এতে পুকুরের সমস্ত স্তরের প্রাকৃতিক খাদ্যের সঠিক ব্যবহার হয় এবং মাছের মোট উৎপাদন বা ফলন অনেক বেড়ে যায়।

18. মাছের প্রণোদিত প্রজনন বা ইনডিউসড ব্রিডিং (Induced breeding) কী? এটি কেন করা হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে কৃত্রিমভাবে সুস্থ-সবল পরিণত পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস ইনজেকশন দিয়ে ডিম পাড়তে এবং শুক্রাণু নির্গত করতে বাধ্য করা হয়, তাকে প্রণোদিত প্রজনন বলে।
কারণ: নদী থেকে সংগ্রহ করা প্রাকৃতিক ডিমে অনেক সময় অন্য রাক্ষুসে মাছের ডিম মিশে থাকে। কিন্তু এই কৃত্রিম পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং উন্নত মানের মাছের ডিমপোনা পাওয়া যায়।

19. মাছের কৃত্রিম প্রজননে পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রজননক্ষম সুস্থ মাছের মাথা থেকে পিটুইটারি গ্রন্থি সংগ্রহ করে তার নির্যাস তৈরি করা হয়। এরপর একটি পরিণত স্ত্রী মাছ এবং দুটি পরিণত পুরুষ মাছকে (হাপার মধ্যে রেখে) ওই নির্যাস ইনজেকশন হিসেবে নির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়। এর প্রভাবেই স্ত্রী মাছ ডিম পাড়ে এবং পুরুষ মাছ শুক্রাণু নির্গত করে, যা জলে মিশে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে।

20. ডিমপোনা (Spawn) এবং চারা পোনা (Fingerling) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. ডিমপোনা: নিষিক্ত ডিম ফুটে যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র, সুতোর মতো বাচ্চা মাছ বের হয় এবং যাদের পেটের নিচে ডিম্বথলি যুক্ত থাকে, তাদের ডিমপোনা বলে।
2. চারা পোনা: ডিমপোনা একটু বড় হয়ে যখন আঙুলের মতো আকারের হয় এবং নিজে থেকে খাবার খেতে শুরু করে, তখন তাদের চারা পোনা বা ফিঙ্গারলিং বলে। এদেরই মূল পুকুরে চাষের জন্য ছাড়া হয়।

[Image showing different poultry breeds: a white Leghorn layer and a meaty Broiler]

21. পোলট্রি (Poultry) কাকে বলে? লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ডিম ও মাংস পাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁস, মুরগি, টার্কি প্রভৃতি পাখির পালন ও প্রতিপালন করার ব্যবস্থাকে পোলট্রি বলে।
পার্থক্য: যে সমস্ত মুরগি প্রধানত প্রচুর ডিম পাওয়ার উদ্দেশ্যে পালন করা হয়, তাদের লেয়ার (Layer) বলে। অন্যদিকে, যে সমস্ত মুরগি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং যাদের প্রধানত মাংসের জন্য পালন করা হয়, তাদের ব্রয়লার (Broiler) বলে।

22. ডুয়াল ব্রিড (Dual breed) মুরগি কাকে বলে? এর একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: যে উন্নত জাতের মুরগি পালন করলে প্রচুর পরিমাণে ডিম এবং উন্নত মানের মাংস—উভয়ই পাওয়া যায়, অর্থাৎ যারা দ্বি-উদ্দেশ্য সাধক, তাদের ডুয়াল ব্রিড বলে।
উদাহরণ: রোড আইল্যান্ড রেড (Rhode Island Red)।

23. ডিপ লিটার (Deep litter) পদ্ধতি কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পোলট্রি ফার্মে মুরগি পালনের একটি উন্নত পদ্ধতি হলো ডিপ লিটার। এই পদ্ধতিতে মুরগির ঘরের পাকা মেঝেতে ছোট করে কাটা খড়, কাঠের গুঁড়ো, শুকনো পাতা ইত্যাদি বিছিয়ে মুরগিদের জন্য একটি নরম ও পুরু বিছানা তৈরি করা হয়, যাকে লিটার বলে। এই লিটারের ওপর মুরগিরা স্বচ্ছন্দে থাকে এবং মলত্যাগ করে।

24. পোলট্রি ফার্মে মুরগির খাদ্যে বা পুষ্টিতে কী কী উপাদান থাকা জরুরি?

উত্তর দেখো

উত্তর: মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি এবং বেশি ডিম পাওয়ার জন্য এদের খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা (যেমন- ভুট্টা, গম), প্রোটিন (যেমন- সয়াবিন, শুঁটকি মাছের গুঁড়ো), স্নেহপদার্থ, ভিটামিন (A, B, D) এবং খনিজ লবণ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস) থাকা অত্যন্ত জরুরি। ডিমের খোলা শক্ত করার জন্য ক্যালসিয়াম খুব গুরুত্বপূর্ণ।

25. এপিকালচার (Apiculture) কাকে বলে? অ্যাপিয়ারি (Apiary) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এপিকালচার: বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কাঠের বাক্সে কৃত্রিমভাবে মৌমাছি পালন করে মধু এবং মোম সংগ্রহ করার পদ্ধতিকে এপিকালচার বা মৌমাছি পালন বলে।
অ্যাপিয়ারি: মৌমাছি পালনের জন্য ফুল বাগানের কাছাকাছি যে নির্দিষ্ট স্থানে কাঠের বাক্সগুলি রাখা হয় এবং মৌমাছিদের পরিচর্যা করা হয়, সেই জায়গাকে অ্যাপিয়ারি বলা হয়।

26. একটি স্বাভাবিক মৌচাকে কয় প্রকার মৌমাছি থাকে ও তাদের নাম কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: একটি মৌচাকে 3 প্রকার বা জাতের মৌমাছি একসঙ্গে মিলেমিশে বাস করে। এরা হলো:
1. রানি মৌমাছি (Queen bee)
2. পুরুষ মৌমাছি বা ড্রোন (Drone bee)
3. কর্মী মৌমাছি (Worker bee)

27. রানি মৌমাছি এবং পুরুষ মৌমাছির (Drone) প্রধান কাজ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. রানি মৌমাছির কাজ: রানি মৌমাছি হলো প্রজননে সক্ষম স্ত্রী মৌমাছি, এর একমাত্র কাজ হলো মৌচাকে ডিম পাড়া এবং বংশবৃদ্ধি করা।
2. পুরুষ মৌমাছির কাজ: পুরুষ মৌমাছির একমাত্র কাজ হলো রানি মৌমাছির সাথে প্রজননে বা মিলনে অংশগ্রহণ করা।

28. কর্মী মৌমাছির (Worker bee) দুটি প্রধান কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: কর্মী মৌমাছিরা হলো প্রজননে অক্ষম বা বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি। এদের কাজ হলো:
1. ফুলে ফুলে ঘুরে মকরন্দ বা নেকটার (Nectar) ও পরাগরেণু সংগ্রহ করে আনা এবং তা থেকে মধু তৈরি করা।
2. মোম তৈরি করে মৌচাক নির্মাণ করা এবং রানি ও ছানাদের খাওয়ানো ও যত্ন নেওয়া।

29. মধুর দুটি পুষ্টিগুণ বা উপকারিতা উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. মধুতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ (শর্করা) থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই দ্রুত শক্তি জোগায়।
2. মধুতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ (লৌহ, ক্যালসিয়াম) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা সর্দি-কাশি সারাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

30. মৌমাছি পালন কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপকারী কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কর্মী মৌমাছিরা যখন মকরন্দ সংগ্রহের জন্য এক ফুল থেকে অন্য ফুলে উড়ে বেড়ায়, তখন তাদের পায়ে ও গায়ে লেগে থাকা পরাগরেণু অন্য ফুলে গিয়ে পড়ে। এর ফলে ফসলের জমিতে প্রাকৃতিক উপায়ে খুব ভালোভাবে পরাগযোগ (Pollination) সম্পন্ন হয়। পরাগযোগ ভালো হলে ফসলের বীজ ও ফলের উৎপাদন বা ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার