অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 6 দেহের গঠন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২
অধ্যায় 6: দেহের গঠন
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – 2 নম্বর)
1. কোশ (Cell) কাকে বলে? কে, কবে প্রথম কোশ আবিষ্কার করেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: সজীব পর্দাবেষ্টিত, নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটোপ্লাজম সমন্বিত এবং স্বপ্রজননশীল জীবদেহের ক্ষুদ্রতম গঠনগত ও কার্যগত একককে কোশ (Cell) বলে।
আবিষ্কারক: বিজ্ঞানী রবার্ট হুক (Robert Hooke) 1665 সালে নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম কোশ আবিষ্কার করেন।
2. মাইটোকনড্রিয়াকে (Mitochondria) কোশের ‘পাওয়ার হাউস’ বা ‘শক্তিময় কেন্দ্র’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: জীবদেহের বিভিন্ন জৈবনিক কাজ (যেমন- চলন, বৃদ্ধি, জনন) সম্পন্ন করার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। কোশীয় শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যের জারণ ঘটিয়ে এই প্রয়োজনীয় শক্তির বেশিরভাগটাই মাইটোকনড্রিয়া উৎপন্ন করে এবং ATP অণুর মধ্যে সঞ্চয় করে রাখে। তাই মাইটোকনড্রিয়াকে কোশের শক্তিময় কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
3. নিউক্লিয়াসকে (Nucleus) কোশের মস্তিষ্ক বলা হয় কেন? এর প্রধান অংশগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: মস্তিষ্ক যেমন মানুষের সারা শরীরের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে, ঠিক তেমনি নিউক্লিয়াস কোশের ভেতরের যাবতীয় বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই নিউক্লিয়াসকে কোশের মস্তিষ্ক বলা হয়।
প্রধান অংশ: একটি আদর্শ নিউক্লিয়াসের 4 টি অংশ থাকে— 1. নিউক্লিয় পর্দা, 2. নিউক্লিওপ্লাজম, 3. নিউক্লিওলাস এবং 4. নিউক্লিয় জালিকা বা ক্রোমাটিন সূত্র।
4. লাইসোজোমকে (Lysosome) ‘আত্মঘাতী থলি’ (Suicidal bag) বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: লাইসোজোমের ভেতরে শক্তিশালী পাচক রস বা উৎসেচক থাকে। কোশটি যখন পুরোনো, দুর্বল বা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন লাইসোজোম ফেটে গিয়ে সেই উৎসেচকগুলি বেরিয়ে আসে এবং নিজের কোশটিকেই সম্পূর্ণভাবে হজম করে বা ধ্বংস করে দেয়। নিজের কোশকে এভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতার জন্যই একে আত্মঘাতী থলি বা Suicidal bag বলা হয়।
5. প্লাসটিড (Plastid) কয় প্রকার ও কী কী? এদের প্রধান কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতি অনুযায়ী প্লাসটিড প্রধানত 3 প্রকার:
1. ক্লোরোপ্লাস্ট: এরা সবুজ রঙের হয়। পাতায় থেকে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
2. ক্রোমোপ্লাস্ট: এরা সবুজ বাদে অন্যান্য রঙের (লাল, হলুদ) হয়। ফুল ও ফলের রঙিন অংশ তৈরি করে পরাগযোগে সাহায্য করে।
3. লিউকোপ্লাস্ট: এরা বর্ণহীন। সাধারণত উদ্ভিদের মূলে থাকে এবং খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে।
6. উদ্ভিদ কোশ ও প্রাণী কোশের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
| বৈশিষ্ট্য | উদ্ভিদ কোশ | প্রাণী কোশ |
|---|---|---|
| ১. কোশপ্রাচীর | কোশপর্দার বাইরে শক্ত সেলুলোজ নির্মিত কোশপ্রাচীর থাকে। | কোনো কোশপ্রাচীর থাকে না। |
| ২. প্লাসটিড | উদ্ভিদ কোশে প্লাসটিড (যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট) উপস্থিত থাকে। | প্রাণী কোশে প্লাসটিড থাকে না। |
7. কলা বা টিস্যু (Tissue) কাকে বলে? উদ্ভিদ কলা প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উৎপত্তিগতভাবে এক এবং একই কাজ সম্পন্নকারী কোশসমষ্টিকে একত্রে কলা বা টিস্যু বলা হয়।
প্রকারভেদ: বিভাজন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদ কলা প্রধানত 2 প্রকার:
1. ভাজক কলা (Meristematic tissue) এবং 2. স্থায়ী কলা (Permanent tissue)।
8. ভাজক কলা (Meristematic tissue) ও স্থায়ী কলার (Permanent tissue) একটি করে কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. ভাজক কলার কাজ: এই কলার কোশগুলি ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বৃদ্ধি করে।
2. স্থায়ী কলার কাজ: এই কলা উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে খাদ্য তৈরি, খাদ্য ও জল সঞ্চয় এবং পরিবহন করতে সাহায্য করে।
[Image showing xylem vessels transporting water upwards and phloem vessels transporting food downwards in a plant stem]
9. জাইলেম (Xylem) ও ফ্লোয়েম (Phloem) কলার প্রধান কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উদ্ভিদদেহে এই দুই প্রকার কলা সংবহনের কাজ করে:
1. জাইলেম কলার কাজ: উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলরোম দ্বারা যে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে, জাইলেম কলা তা ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের মাধ্যমে পাতায় পৌঁছে দেয়।
2. ফ্লোয়েম কলার কাজ: পাতায় সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া তরল খাদ্য ফ্লোয়েম কলার মাধ্যমে উদ্ভিদের সারা শরীরে (নিম্নমুখী ও পার্শ্বমুখী প্রবাহে) ছড়িয়ে পড়ে।
10. আবরণী কলা (Epithelial tissue) কাকে বলে? এর একটি কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: সংজ্ঞা: যে কলা প্রাণীদেহের বাইরের ত্বক এবং ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গের (যেমন- পাকস্থলী, শ্বাসনালী) মুক্ত পৃষ্ঠের আচ্ছাদন বা আবরণ তৈরি করে, তাকে আবরণী কলা বলে।
কাজ: এটি ভেতরের অঙ্গগুলিকে বাইরের আঘাত, জীবাণুর আক্রমণ এবং ঘর্ষণজনিত ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
11. রক্তকে তরল যোগ কলা (Liquid connective tissue) বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রক্তকে যোগ কলা বলা হয় কারণ এটি প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ, তন্ত্র এবং কোশের মধ্যে যোগাযোগ বা সংযোগ রক্ষা করে। আর যেহেতু রক্তের আন্তঃকোশীয় ধাত্রটি তরল (রক্তরস বা প্লাজমা) এবং এর সাহায্যে রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত হতে পারে, তাই একে তরল যোগ কলা বলা হয়।
12. লিগামেন্ট (Ligament) ও টেনডনের (Tendon) কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: এরা উভয়ই কঠিন যোগ কলা:
1. লিগামেন্টের কাজ: এটি অস্থিসন্ধিতে হাড়ের সাথে হাড়কে (Bone to bone) ফিতের মতো শক্ত করে বেঁধে রাখে।
2. টেনডনের কাজ: এটি হাড়ের সাথে পেশিকে (Bone to muscle) দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখে, যা আমাদের নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
13. পেশি কলার (Muscular tissue) দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: পেশি কলার দুটি প্রধান কাজ হলো:
1. অস্থিসংলগ্ন পেশিগুলি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে প্রাণীদের নড়াচড়া ও চলাফেরায় (গমনে) সাহায্য করে।
2. হৃৎপেশি ও অন্যান্য অঙ্গের পেশিগুলি দেহের ভেতরে রক্ত সঞ্চালন, খাদ্য পরিবহন এবং শ্বাসকার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
14. স্নায়ু কলা (Nervous tissue) কাকে বলে? এর প্রধান কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: সংজ্ঞা: মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ু যে বিশেষ ধরনের কোশ (নিউরন) দ্বারা গঠিত হয়, তাকে স্নায়ু কলা বলে।
কাজ: পরিবেশ থেকে বিভিন্ন উদ্দীপনা (যেমন- আলো, শব্দ, তাপ, ব্যথা) গ্রহণ করা, সেই উদ্দীপনাকে মস্তিষ্কে পাঠানো এবং মস্তিষ্কের নির্দেশ অনুযায়ী উপযুক্ত সাড়া প্রদান করা হলো স্নায়ু কলার প্রধান কাজ।
15. জীবদেহের গঠনগত স্তরগুলি (Levels of organization) ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: একটি বহুকোষী জীবদেহ নিচের পর্যায়ক্রমিক স্তরগুলি নিয়ে গঠিত হয়:
কোশ (Cell) $\rightarrow$ কলা (Tissue) $\rightarrow$ অঙ্গ (Organ) $\rightarrow$ তন্ত্র (System) $\rightarrow$ জীবদেহ (Organism)।
(অর্থাৎ, অনেকগুলো কোশ মিলে কলা, অনেকগুলো কলা মিলে অঙ্গ, অনেকগুলো অঙ্গ মিলে তন্ত্র এবং অনেকগুলো তন্ত্র মিলে আস্ত জীবদেহ তৈরি হয়।)
অধ্যায় 6: দেহের গঠন
(অতিরিক্ত 11টি গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – 2 নম্বর)
[Image comparing a simple prokaryotic bacterial cell without a nucleus and a complex eukaryotic animal cell with a nucleus]
16. প্রোক্যারিওটিক (আদি) এবং ইউক্যারিওটিক (আদর্শ) কোশের দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. নিউক্লিয়াস: প্রোক্যারিওটিক কোশে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না (নিউক্লিয় পর্দা অনুপস্থিত)। কিন্তু ইউক্যারিওটিক কোশে সুগঠিত নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে।
2. কোশ অঙ্গাণু: প্রোক্যারিওটিক কোশে পর্দাবেষ্টিত কোনো অঙ্গাণু (যেমন- মাইটোকনড্রিয়া, গলগি বস্তু) থাকে না। কিন্তু ইউক্যারিওটিক কোশে এই অঙ্গাণুগুলি থাকে।
17. কোশপর্দা (Cell membrane) ও কোশপ্রাচীরের (Cell wall) মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. প্রকৃতি: কোশপর্দা সজীব, পাতলা এবং প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে, কোশপ্রাচীর মৃত, পুরু এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।
2. অবস্থান: কোশপর্দা উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোশেই থাকে, কিন্তু কোশপ্রাচীর শুধুমাত্র উদ্ভিদ কোশে (কোশপর্দার বাইরে) থাকে।
18. এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা (Endoplasmic Reticulum) এবং গলগি বস্তুর (Golgi body) প্রধান কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা: এটি কোশের সাইটোপ্লাজমকে বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে ভাগ করে কোশের কাঠামো তৈরি করে এবং প্রোটিন ও লিপিড সংশ্লেষে সাহায্য করে।
2. গলগি বস্তু: কোশের ভেতরের বিভিন্ন পদার্থ (যেমন- উৎসেচক, হরমোন) ক্ষরণ ও পরিবহনে সাহায্য করে। তাই একে কোশের ‘ক্ষরণকারী অঙ্গাণু’ বলা হয়।
19. উদ্ভিদ ও প্রাণী কোশের ভ্যাকুয়োলের (Vacuole) মধ্যে পার্থক্য কী? এর কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর:
পার্থক্য: পরিণত উদ্ভিদ কোশে সাধারণত একটি বা দুটি খুব বড় আকারের ভ্যাকুয়োল থাকে, যা কোশের অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকে। কিন্তু প্রাণী কোশে সাধারণত ভ্যাকুয়োল থাকে না; থাকলেও তা আকারে খুব ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হয়।
কাজ: জল, খাদ্যরস এবং রেচন পদার্থ সঞ্চয় করে রাখা।
20. মেদ কলা বা অ্যাডিপোজ কলার (Adipose tissue) দুটি কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. এটি দেহে ফ্যাট বা চর্বি সঞ্চয় করে রাখে, যা উপবাসের সময় ভবিষ্যতের খাদ্যের উৎস ও শক্তি হিসেবে কাজ করে।
2. এটি ত্বকের নিচে থেকে তাপ নিরোধক (Insulator) হিসেবে কাজ করে শরীরের তাপ বাইরে বেরোতে দেয় না এবং ভেতরের নরম অঙ্গগুলোকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
21. তরুণাস্থি (Cartilage) কী? এর কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: তরুণাস্থি হলো হাড়ের চেয়ে নরম কিন্তু নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক একপ্রকার যোগ কলা (যেমন- কানের লতি, নাকের ডগা)।
কাজ: দুটি অস্থির সংযোগস্থলে (অস্থিসন্ধিতে) অবস্থান করে এটি হাড়ের ঘর্ষণজনিত ক্ষয় রোধ করে এবং কান, নাক ও শ্বাসনালীকে নির্দিষ্ট আকার প্রদান করে।
[Image showing different types of blood cells: Red blood cells, White blood cells, and Platelets]
22. শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) এবং লোহিত রক্তকণিকার (RBC) একটি করে কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. লোহিত রক্তকণিকা (RBC): এর মধ্যে থাকা হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্যাসকে সারা শরীরের কোষে কোষে পরিবহন করে।
2. শ্বেত রক্তকণিকা (WBC): এটি বাইরে থেকে শরীরে প্রবেশ করা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে আমাদের দেহকে রোগের হাত থেকে রক্ষা করে (দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে)।
23. ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary muscle) এবং অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary muscle) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. ঐচ্ছিক পেশি: যে পেশির নড়াচড়া আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। যেমন- হাত ও পায়ের পেশি।
2. অনৈচ্ছিক পেশি: যে পেশির কাজ আমাদের ইচ্ছাধীন নয়, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাদের অনৈচ্ছিক পেশি বলে। যেমন- পাকস্থলী, অন্ত্র বা রক্তনালীর পেশি।
24. হৃৎপিণ্ড (Heart) এবং ফুসফুস (Lungs) কোন কোন তন্ত্রের অংশ এবং এদের প্রধান কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. হৃৎপিণ্ড: এটি ‘রক্ত সংবহন তন্ত্রের’ প্রধান অঙ্গ। এর কাজ হলো পাম্পিংয়ের মাধ্যমে রক্তনালীর ভেতর দিয়ে সারা শরীরে রক্ত ছড়িয়ে দেওয়া।
2. ফুসফুস: এটি ‘শ্বাসতন্ত্রের’ প্রধান অঙ্গ। এর কাজ হলো বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেনকে রক্তে মেশানো এবং রক্ত থেকে দূষিত কার্বন ডাইঅক্সাইডকে আলাদা করে শরীরের বাইরে বের করে দেওয়া।
25. মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ (Largest organ) কোনটি? এর একটি কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হলো ত্বক বা চামড়া (Skin)।
কাজ: এটি ঘামের মাধ্যমে শরীরের দূষিত পদার্থ বাইরে বের করে দেয়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভেতরের অঙ্গগুলিকে বাইরের আঘাত ও জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
26. মানুষের মুখগহ্বরের ভেতরের দিকের গালের কোশ (Cheek cell) পর্যবেক্ষণ করলে তুমি কোন কোশ অঙ্গাণুটি দেখতে পাবে না এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: গালের কোশ হলো একপ্রকার প্রাণী কোশ। তাই এটি পর্যবেক্ষণ করলে এতে কোনো কোশপ্রাচীর (Cell wall) এবং প্লাসটিড (Plastid) দেখতে পাওয়া যাবে না, কারণ এই দুটি অঙ্গাণু শুধুমাত্র উদ্ভিদ কোশেই থাকে।