অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় 9: অন্তক্ষরা গ্রন্থি ও বয়ঃসন্ধি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২
অধ্যায় 9: অন্তক্ষরা গ্রন্থি ও বয়ঃসন্ধি
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – 2 নম্বর)
1. অন্তক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) ও বহিক্ষরা গ্রন্থির (Exocrine gland) মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. নালীর উপস্থিতি: অন্তক্ষরা গ্রন্থির নিজস্ব কোনো নালী থাকে না (অনাল), কিন্তু বহিক্ষরা গ্রন্থির নিজস্ব নালী থাকে (সোনাল)।
2. ক্ষরণ: অন্তক্ষরা গ্রন্থি থেকে প্রধানত হরমোন ক্ষরিত হয় যা সরাসরি রক্তে মেশে। অন্যদিকে, বহিক্ষরা গ্রন্থি থেকে লালা, ঘাম বা উৎসেচক ক্ষরিত হয় যা নালীর মাধ্যমে বাইরে আসে।
2. হরমোন (Hormone) কাকে বলে? এর একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: সংজ্ঞা: যে রাসায়নিক বার্তাবহ পদার্থ অন্তক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দূরে বাহিত হয় এবং নির্দিষ্ট অঙ্গ বা কোশের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বলে।
বৈশিষ্ট্য: হরমোন কাজের শেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় এবং দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
[Image showing the Pituitary gland regulating other glands like Thyroid and Adrenal]
3. পিটুইটারি গ্রন্থিকে (Pituitary gland) ‘প্রভু গ্রন্থি’ বা মাস্টার গ্ল্যান্ড বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: মস্তিষ্কের মূলদেশে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এমন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানবদেহের অন্যান্য সমস্ত অন্তক্ষরা গ্রন্থির (যেমন থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জনন গ্রন্থি) বৃদ্ধি ও হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য গ্রন্থির ওপর প্রভুত্ব করে বলেই একে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
4. সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH) বা গ্রোথ হরমোনের কাজ কী? এর অস্বাভাবিক ক্ষরণে কী ঘটে?
উত্তর দেখো
উত্তর: কাজ: এই হরমোন মানবদেহের হাড় ও পেশির বৃদ্ধি ঘটিয়ে মানুষের উচ্চতা ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
অস্বাভাবিক ক্ষরণ: শৈশবে এই হরমোন খুব কম ক্ষরিত হলে মানুষের বৃদ্ধি থেমে যায় (বামনত্ব বা Dwarfism)। আবার অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষরিত হলে মানুষ অস্বাভাবিক লম্বা হয়ে যায় (অতিকায়ত্ব বা Gigantism)।
5. থাইরক্সিন (Thyroxine) হরমোনের দুটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. এটি শরীরের কোশে কোশে শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাকের হার বাড়িয়ে দেহে তাপশক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
2. এটি হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন হার বাড়ায় এবং শরীরের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
6. গয়টার বা গলগণ্ড (Goiter) রোগ কেন হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: আমাদের রোজকার খাবারে বা পানীয় জলে আয়োডিন (Iodine) নামক খনিজ পদার্থের অভাব ঘটলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন ঠিকমতো তৈরি হতে পারে না। এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টায় থাইরয়েড গ্রন্থিটি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে বড় হয়ে যায়। এর ফলেই গলা ফুলে যায়, যাকে গয়টার বা গলগণ্ড রোগ বলা হয়।
7. অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) মিশ্র গ্রন্থি (Mixed gland) বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: অগ্ন্যাশয় একই সাথে অন্তক্ষরা ও বহিক্ষরা—এই দুই প্রকার গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। এর বহিক্ষরা অংশ থেকে নালীর মাধ্যমে পাচক রস বা উৎসেচক নিঃসৃত হয় (যা পরিপাকে সাহায্য করে), আবার অন্তক্ষরা অংশ থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন সরাসরি রক্তে নিঃসৃত হয়। তাই একে মিশ্র গ্রন্থি বলে।
8. ইনসুলিন (Insulin) এবং গ্লুকাগন (Glucagon) হরমোন কীভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর দেখো
উত্তর: অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এই দুটি হরমোন বিপরীত কাজ করে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিন অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। আবার, রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব কমে গেলে গ্লুকাগন ওই সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়।
9. ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes mellitus) বা মধুমেহ রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: রক্তে ইনসুলিনের অভাব হলে এই রোগ হয়। এর প্রধান দুটি লক্ষণ হলো:
1. রোগীর বারবার প্রস্রাব পায় এবং প্রস্রাবের সাথে প্রচুর পরিমাণে শর্করা বা গ্লুকোজ দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
2. প্রবল তৃষ্ণা পায়, খুব দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং শরীরের ওজন হঠাৎ করে কমতে শুরু করে।
10. অ্যাড্রেনালিনকে (Adrenaline) ‘আপৎকালীন হরমোন’ বা জরুরীকালীন হরমোন বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: সাধারণ বা শান্ত অবস্থায় এই হরমোন খুব কম ক্ষরিত হয়। কিন্তু ভয়, রাগ, উত্তেজনা বা হঠাৎ বিপদের মতো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে এই হরমোন প্রচুর পরিমাণে ক্ষরিত হয়। এটি দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসকার্যের হার বাড়িয়ে শরীরকে সেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করে। তাই একে আপৎকালীন হরমোন বলে।
11. পুরুষদের শুক্রাশয় থেকে নিঃসৃত টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোনের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
1. এটি বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং পেশিবহুল দেহ গঠন করে।
2. এই হরমোনের প্রভাবেই ছেলেদের গলার স্বর ভারী হয় এবং মুখে গোঁফ-দাড়ি গজায়।
12. মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোনের কাজ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইস্ট্রোজেন মহিলাদের প্রধান যৌন হরমোন। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটানো এবং মেয়েদের সুলভ শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলি (যেমন- কোমল কণ্ঠস্বর, ত্বকের নিচে ফ্যাট সঞ্চয়) প্রকাশ করতে এই হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে।
13. বয়ঃসন্ধিকাল (Adolescence) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
উত্তর: শৈশব এবং পূর্ণাঙ্গ বয়সের মধ্যবর্তী সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, 10 থেকে 19 বছর বয়স পর্যন্ত সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এই সময়ে ছেলেমেয়েদের শরীরে এবং মনে খুব দ্রুত নানা রকমের পরিবর্তন ঘটে।
14. বয়ঃসন্ধিকালে খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহা (Iron) এবং ক্যালসিয়াম (Calcium) থাকা প্রয়োজন কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে অনেক বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্ত তৈরি করতে এবং অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা রোধ করতে লোহা বা আয়রন প্রয়োজন। অন্যদিকে, এই সময়ে হাড় লম্বা ও চওড়া হয়, তাই হাড়ের গঠন শক্ত ও মজবুত করতে প্রচুর ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
15. জীবনকুশলতা (Life Skills) বলতে কী বোঝো? দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: সংজ্ঞা: দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি, মানসিক চাপ বা সমস্যাগুলিকে ইতিবাচক ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য মানুষের মধ্যে যে মানসিক ও সামাজিক দক্ষতাগুলি থাকা প্রয়োজন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের জীবনকুশলতা বা Life Skills বলেছে।
উদাহরণ: আত্মসচেতনতা (Self-awareness) এবং সমমর্মিতা (Empathy)।