অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 10 ‘পরিবেশ ও তার সংরক্ষণ’ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3 বা 5
অধ্যায় 10: পরিবেশের সংকট ও সংরক্ষণ
(6টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – 3 বা 5 নম্বর)
[Image illustrating the effects of Global Warming like melting glaciers and rising sea levels]
1. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন কী? পরিবেশে এর প্রধান তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়ন: মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, CFC-এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির পরিমাণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এই গ্যাসগুলি পৃথিবীর তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়, যার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
ক্ষতিকর প্রভাব:
1. বরফ গলন ও জলস্তর বৃদ্ধি: তাপমাত্রা বাড়ার কারণে মেরু অঞ্চল এবং উঁচু পর্বতের বিশাল বরফের স্তূপ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সুন্দরবনের মতো উপকূলবর্তী এলাকা জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
2. জলবায়ুর পরিবর্তন: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা বাড়ছে। এর ফলে কোথাও অতিবৃষ্টি ও ভয়ংকর বন্যা হচ্ছে, আবার কোথাও মারাত্মক খরা দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
3. জীববৈচিত্র্য হ্রাস: তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেক মেরু অঞ্চলের প্রাণী (যেমন- মেরু ভল্লুক, পেঙ্গুইন) এবং সমুদ্রের প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
2. পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বা বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার প্রধান তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখো
উত্তর: পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য ক্রমশ কমে যাওয়ার প্রধান তিনটি কারণ হলো:
1. বাসস্থান ধ্বংস (Habitat Destruction): মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং কলকারখানা তৈরির জন্য নির্বিচারে বনজঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বাসস্থান এবং খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে, যা তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
2. চোরাশিকার (Poaching): মানুষের মাত্রাতিরিক্ত লোভের কারণে অর্থের বিনিময়ে চামড়া, দাঁত, শিং বা মাংসের জন্য বাঘ, হাতি, গণ্ডার বা হরিণের মতো প্রাণীদের বেআইনিভাবে হত্যা করা হচ্ছে।
3. পরিবেশ দূষণ (Pollution): কলকারখানা ও কৃষিজমির রাসায়নিক বর্জ্য নদী ও সমুদ্রের জলকে দূষিত করছে, যার ফলে গঙ্গার শুশুক বা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বায়ু দূষণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেও অনেক প্রাণী বিলুপ্তির পথে।
[Image comparing In-situ conservation like a sprawling National Park with Ex-situ conservation like a controlled Zoo environment]
3. ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো। এদের একটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর:
| পার্থক্যের বিষয় | ইন-সিটু সংরক্ষণ | এক্স-সিটু সংরক্ষণ |
|---|---|---|
| ১. সংরক্ষণের স্থান | বিপন্ন জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে বা জঙ্গলেই সংরক্ষণ করা হয়। | বিপন্ন জীবকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে কৃত্রিম জায়গায় এনে সংরক্ষণ করা হয়। |
| ২. সংরক্ষণের পরিসর | এই সংরক্ষণের এলাকা অত্যন্ত বিশাল ও বিস্তৃত হয়। | এই সংরক্ষণের এলাকা তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট ও সীমাবদ্ধ হয়। |
| ৩. প্রাকৃতিক অবস্থা | প্রাণীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করে। | প্রাণীদের মানুষের তত্ত্বাবধানে খাঁচায় বা ঘেরা জায়গায় রাখা হয় এবং খাবার দেওয়া হয়। |
উদাহরণ:
* ইন-সিটু: সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্ক, কাজিরাঙা অভয়ারণ্য।
* এক্স-সিটু: আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন।
4. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা কমে যাওয়ার বা বিপন্ন হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
উত্তর:
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বিপন্ন হওয়ার কারণ:
1. বাসস্থান ধ্বংস: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ জঙ্গল এবং বাঘেদের বাসস্থান জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে।
2. খাদ্যাভাব ও চোরাশিকার: জঙ্গলে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ ও বন্য শূকরের সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া চামড়া ও হাড়ের লোভে চোরাশিকারিরা প্রতিনিয়ত বাঘ হত্যা করছে।
একশৃঙ্গ গণ্ডার বিপন্ন হওয়ার কারণ:
1. খড়্গের জন্য শিকার: গণ্ডারের খড়্গ বা শিং (Horn) দিয়ে দামি ওষুধ তৈরি হয়— এই সম্পূর্ণ ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে চোরাশিকারিরা অত্যন্ত নির্মমভাবে এদের হত্যা করে।
2. চারণভূমির অভাব: জঙ্গল কেটে কৃষিজমি ও জনবসতি বাড়ানোর ফলে এদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বা চারণভূমির অভাব দেখা দিয়েছে।
5. গঙ্গার শুশুক (Ganges River Dolphin) আজ বিপন্ন হওয়ার কারণ কী? এদের সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে?
উত্তর দেখো
উত্তর:
বিপন্ন হওয়ার কারণ:
1. নদীর তীরে থাকা কলকারখানা, কৃষিজমি এবং শহরের মারাত্মক বিষাক্ত বর্জ্য গঙ্গা নদীর জলকে দূষিত করছে, যা এদের বেঁচে থাকার প্রধান অন্তরায়।
2. নদীর বুকে যত্রতত্র বাঁধ দেওয়ার ফলে এদের স্বাধীন চলাফেরা ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
3. মাছ ধরার সময় মৎস্যজীবীদের জালে প্রায়শই শুশুক আটকে যায় এবং জলের ওপর উঠে শ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
সংরক্ষণের উপায়:
1. নদীতে কোনোভাবেই শিল্পের বিষাক্ত বর্জ্য বা দূষিত পদার্থ ফেলা চলবে না।
2. শুশুক শিকার করা বা মারা পড়া রোধ করতে মৎস্যজীবীদের এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
6. পরিবেশ ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা হিসেবে JFM (Joint Forest Management) এবং PBR (People’s Biodiversity Register) এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
উত্তর: পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি:
1. JFM-এর গুরুত্ব: বনদপ্তর এবং স্থানীয় মানুষের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ব্যবস্থার ফলে ধ্বংস হতে বসা অরণ্য (যেমন- আড়াবাড়ির শাল জঙ্গল) পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় মানুষেরাই পাহারা দিয়ে কাঠ মাফিয়া এবং চোরাশিকারিদের হাত থেকে জঙ্গলকে রক্ষা করছেন। এর বিনিময়ে তারা জঙ্গল থেকে জ্বালানি কাঠ বা শালপাতা সংগ্রহ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন।
2. PBR-এর গুরুত্ব: এটি হলো স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের একটি প্রামাণ্য সরকারি নথি। স্থানীয় মানুষের সাহায্যেই এলাকার সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর তথ্য এতে নথিবদ্ধ করা হয়। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নিজস্ব সম্পদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং আদিবাসী মানুষদের গাছপালা বা ঔষধ সম্পর্কে থাকা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুব সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।
7. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) বলতে কী বোঝো? দৈনন্দিন জীবনে এবং পরিবেশ রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের তিনটি গুরুত্ব বা ব্যবহার লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: সংজ্ঞা: আমাদের এই পৃথিবীতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব এবং তাদের জিন ও বাস্তুতন্ত্রের যে বিপুল বৈচিত্র্য বা সমাহার দেখা যায়, তাকেই জীববৈচিত্র্য বলে।
জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব:
1. খাদ্যের উৎস: আমরা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত খাদ্য (যেমন- ধান, গম, ফলমূল, মাছ, মাংস, দুধ) এই বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণীদের থেকেই পেয়ে থাকি।
2. ওষুধ তৈরি: আধুনিক চিকিৎসার প্রচুর জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হয় জীববৈচিত্র্য থেকে। যেমন— সিঙ্কোনা গাছ থেকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন, এবং নানা ধরনের ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন বা অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়।
3. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা: উদ্ভিদরা সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে বাতাসে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে। বিভিন্ন প্রাণী একে অপরকে খেয়ে খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখে, যা পরিবেশকে সুস্থ রাখে।
8. বায়োডাইভারসিটি হটস্পট (Biodiversity Hotspot) নির্ধারণের প্রধান শর্তগুলি কী কী? ভারতের যেকোনো দুটি হটস্পটের নাম ও সেখানে পাওয়া যায় এমন একটি করে এন্ডেমিক প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: হটস্পট নির্ধারণের শর্ত: কোনো অঞ্চলকে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করতে গেলে প্রধানত দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়:
1. সেই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ‘এন্ডেমিক প্রজাতি’ (যেসব জীব পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না) থাকতে হবে।
2. মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত 70 শতাংশ আদিম বা প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসের মুখে বা চরম বিপন্ন হতে হবে।
ভারতের দুটি হটস্পট এবং এন্ডেমিক প্রাণী:
1. পূর্ব হিমালয় (Eastern Himalayas): এখানে এন্ডেমিক প্রাণী হিসেবে রেড পান্ডা (Red Panda) পাওয়া যায়।
2. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা: এখানকার একটি বিখ্যাত এন্ডেমিক প্রাণী হলো লায়ন-টেইলড ম্যাকাক (Lion-tailed macaque) বা সিংহ-লেজযুক্ত বাঁদর।
[Image showing Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park with Red Panda conservation efforts]
9. কুমির (Crocodile) এবং রেড পান্ডা (Red Panda) সংরক্ষণের জন্য আমাদের রাজ্যে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
উত্তর:
কুমির সংরক্ষণ: চোরাশিকারের ফলে কুমিরের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকার ভগবতপুর (Bhagabatpur)-এ একটি কুমির প্রজনন ও সংরক্ষণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে কৃত্রিমভাবে কুমিরের ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করা হয় এবং পরে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে (নদীতে) ছেড়ে দেওয়া হয়।
রেড পান্ডা সংরক্ষণ: রেড পান্ডাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান (যেমন বাঁশবন) ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এরা চরম বিপন্ন। এদের সংরক্ষণের জন্য দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে (Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park) কৃত্রিম প্রজনন (Captive breeding) কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের মতো ইন-সিটু সংরক্ষণ কেন্দ্রেও এদের কড়া নিরাপত্তায় রাখা হচ্ছে।
10. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন (Sundarbans) অঞ্চলের প্রধান পরিবেশগত সংকটগুলি কী কী? আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
উত্তর: সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য হলেও বর্তমানে এটি মারাত্মক পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
1. সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি: বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সমুদ্রের জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে সুন্দরবনের বহু দ্বীপ এবং ম্যানগ্রোভ জঙ্গল চিরতরে জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে।
2. জলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি: নদীতে মিষ্টি জলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের জলের লবণাক্ততা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরী গাছসহ অন্যান্য ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং বাঘেদের পানীয় জলের তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে।
3. মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত: জঙ্গল কেটে লোকালয় তৈরি করা এবং নদী ভাঙনের ফলে বাঘেদের বাসস্থান ছোট হয়ে যাচ্ছে। খাদ্যের অভাবে বাঘ প্রায়শই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যার ফলে মানুষ ও বাঘের মধ্যে মারাত্মক সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।