অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 11 আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 11: আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – 2 নম্বর: পর্ব 1)

1. বাঁশ (Bamboo) গাছকে ঘাস বলা হয় কেন? দৈনন্দিন জীবনে বাঁশের দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ঘাস বলার কারণ: বাঁশের কাণ্ডে ঘাসের মতোই সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে এবং এদের কাণ্ড ফাঁপা হয়। তাই উদ্ভিদবিজ্ঞানে বাঁশকে কোনো বৃক্ষ নয়, বরং দ্রুত বর্ধনশীল ঘাস হিসেবে ধরা হয়।
ব্যবহার: 1. বাড়ি তৈরি, মই, এবং আসবাবপত্র বানাতে বাঁশ ব্যবহৃত হয়। 2. কাগজ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

2. শাল গাছের (Sal tree) দুটি অর্থকরী গুরুত্ব বা ব্যবহার উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. শাল গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এটি দিয়ে রেললাইনের স্লিপার, নৌকো, বাড়ির দরজা-জানলা এবং মজবুত আসবাবপত্র তৈরি করা হয়।
2. শাল গাছের আঠা বা রজন থেকে পুজোয় ব্যবহৃত ‘ধুনো’ তৈরি হয় এবং শালপাতা দিয়ে খাবার খাওয়ার থালা বা বাটি তৈরি করা হয়।

3. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর (Pneumatophores) কী? এর কাজ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: সুন্দরবনের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে। তাই বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নেওয়ার জন্য সুন্দরী গাছের মূলের কিছু শাখা মাটির ওপরে খাড়াভাবে উঠে আসে, এদের শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।
কাজ: শ্বাসমূলে থাকা অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র বা শ্বাসরন্ধ্রের সাহায্যে গাছ বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়।

4. কচুরিপানাকে (Water hyacinth) ক্ষতিকারক আগাছা বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কচুরিপানা খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে পুরো জলাশয়কে ঢেকে ফেলে। এর ফলে জলের নিচে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না এবং জলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এর কারণে জলাশয়ের মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। তাই একে ক্ষতিকারক আগাছা বলা হয়।

5. গোলমরিচকে (Black pepper) ‘কালো সোনা’ বা ‘Black Gold’ বলা হতো কেন? এর একটি ভেষজ গুণ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: কালো সোনা বলার কারণ: প্রাচীনকালে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় গোলমরিচের বিপুল চাহিদা এবং আকাশছোঁয়া দাম ছিল। এটি সোনার মতোই মূল্যবান ছিল বলে একে ‘কালো সোনা’ বা ‘Black Gold’ বলা হতো।
ভেষজ গুণ: গোলমরিচ সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং হজমের সমস্যা দূর করতে দারুণ কাজ করে।

6. দারুচিনির (Cinnamon) দুটি ব্যবহার বা ঔষধি গুণ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. মশলা হিসেবে: দারুচিনির শুকনো ছাল রান্নার স্বাদ ও চমৎকার সুগন্ধ বাড়ানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
2. ঔষধি গুণ: এটি দাঁতের ব্যথা, বমিভাব এবং পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও এটি উপকারী।

7. হলুদে (Turmeric) উপস্থিত প্রধান রাসায়নিক উপাদানটির নাম কী? এর একটি ঔষধি গুণ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: রাসায়নিক উপাদান: হলুদে উপস্থিত প্রধান রাসায়নিক উপাদানটি হলো কারকিউমিন (Curcumin)।
ঔষধি গুণ: কারকিউমিন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জীবাণুনাশক (Antiseptic)। এটি শরীরের ক্ষত সারাতে, রক্ত পরিষ্কার করতে এবং লিভার বা যকৃৎ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

8. মশলা হিসেবে এলাচের (Cardamom) দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. সুগন্ধি হিসেবে: মিষ্টিজাতীয় খাবার, বিরিয়ানি বা পোলাওয়ের চমৎকার সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে এলাচ ব্যবহার করা হয়।
2. মুখশুদ্ধি হিসেবে: খাবার খাওয়ার পর মুখশুদ্ধি হিসেবে এলাচ চিবিয়ে খাওয়া হয়, যা মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং হজমে সাহায্য করে।

9. আদার (Ginger) প্রধান দুটি ভেষজ বা ঔষধি গুণ আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. আদার রসে থাকা ‘জিনজেরল’ নামক উপাদান গলা ব্যথা, সাধারণ সর্দি-কাশি এবং জ্বর উপশমে দারুণ কাজ করে।
2. এটি বমিভাব (বিশেষ করে ভ্রমণের সময়) দূর করতে এবং বদহজম বা পেটের গ্যাস কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী।

10. রসুনকে (Garlic) ‘প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: রসুনের মধ্যে ‘অ্যালিসিন’ (Allicin) নামক একটি বিশেষ সালফারযুক্ত যৌগ থাকে। এটি বিভিন্ন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। কৃত্রিম ওষুধের মতো কাজ করে বলে রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়।

11. রসুনের দুটি ঔষধি গুণ বা স্বাস্থ্য উপকারিতা লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. রসুন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
2. এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সাধারণ সর্দি-কাশি বা জীবাণুর সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

12. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মশলার দুটি সাধারণ গুরুত্ব বা ব্যবহার লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. মশলা রান্নার স্বাদ, সুগন্ধ এবং রং বৃদ্ধি করে খাবারকে সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
2. অনেক মশলা (যেমন- হলুদ, আদা, রসুন) জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং খাবারকে তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে (খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে কাজ করে)।

13. নিম (Neem) গাছের দুটি প্রধান ঔষধি গুণ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. নিমের পাতা ও ছালে থাকা ‘নিমবিন’ ও ‘নিম্বিডিন’ বিভিন্ন চর্মরোগ (যেমন- দাদ, হাজা, চুলকানি) সারাতে দারুণ কাজ করে।
2. নিমের ডাল বা দাঁতন দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি জীবাণুমুক্ত এবং সুস্থ থাকে।

14. জৈব কীটনাশক (Bio-pesticide) হিসেবে নিমের ব্যবহার আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: নিমের পাতা বা বীজের নির্যাস (যাতে ‘অ্যাজাডিরাকটিন’ নামক উপাদান থাকে) কৃষিকাজে জৈব কীটনাশক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি রাসায়নিক কীটনাশকের মতো মাটি, জল বা ফসলের কোনো ক্ষতি করে না, অথচ ক্ষতিকারক পোকামাকড় মেরে ফেলতে বা দূরে রাখতে সাহায্য করে।

15. বেল (Bael) ফলের দুটি ঔষধি গুণ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. বেলের শরবত দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় (Dysentery) এবং পেটের গোলমাল সারাতে অত্যন্ত উপকারী।
2. বেল ফলে থাকা ‘মারমেলোসিন’ নামক রাসায়নিক উপাদান আমাদের হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে।

16. আমলকী (Amla) ফলের পুষ্টিগুণ ও একটি প্রধান ব্যবহার লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: পুষ্টিগুণ: আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি (Vitamin C) থাকে।
ব্যবহার: এটি দাঁতের মাড়ির রোগ (স্কার্ভি) প্রতিরোধ করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি (Immunity) বাড়িয়ে সর্দি-কাশির হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

17. আমলকীতে উপস্থিত ভিটামিন সি আমাদের শরীরে কী কী উপকার করে?

উত্তর দেখো

উত্তর: আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের খাদ্য থেকে লোহা বা আয়রন (Iron) শোষণ করতে সাহায্য করে, যা রক্তাল্পতা (Anemia) দূর করে। এছাড়া এটি আমাদের ত্বক উজ্জ্বল রাখতে এবং চুল মজবুত করতে সাহায্য করে।

18. তুলসী (Tulsi) পাতার দুটি প্রধান ঔষধি গুণ আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. তুলসী পাতার রস (যাতে ‘ইউজিনল’ থাকে) মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ খুব দ্রুত সেরে যায়।
2. এটি পেটের সমস্যা দূর করে হজমশক্তি বাড়ায় এবং কৃমিনাশক হিসেবেও কাজ করে।

19. পুদিনা (Mint) পাতার দুটি ব্যবহার বা স্বাস্থ্য উপকারিতা লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. পুদিনা পাতায় থাকা ‘মেনথল’ অম্বল, বদহজম এবং পেটের গ্যাস কমাতে খুব ভালো কাজ করে।
2. পুদিনা পাতার সতেজ গন্ধ ক্লান্তি ও বমিভাব দূর করে, তাই এটি চাটনি বা স্বাস্থ্যকর শরবত তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

20. ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার (Aloe vera) জেলের দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. রোদে পোড়া দাগ (Sunburn), ব্রণ এবং চামড়ার অন্যান্য সমস্যা সারাতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জেলের প্রলেপ লাগানো হয়।
2. এটি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুল ভালো রাখতে ব্যবহৃত হয়।

21. ঘৃতকুমারী (Aloe vera) উদ্ভিদের পাতাগুলি পুরু ও মাংসল হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ঘৃতকুমারী গাছ সাধারণত শুষ্ক ও রুক্ষ পরিবেশে জন্মায়। তাই গাছের ভেতরে জল ধরে রাখার জন্য এর পাতাগুলো খুব পুরু এবং মাংসল হয়। পাতার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে পিচ্ছিল জলীয় পদার্থ (Gel) থাকে, যা বাষ্পীভবন রোধ করে গাছকে শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

22. নয়নতারা (Periwinkle) গাছের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. নয়নতারা গাছের পাতা ও মূল থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক উপাদান ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া (Leukemia) নিরাময়ের জীবনদায়ী ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
2. এই গাছের পাতার রস ডায়াবেটিস বা মধুমেহ (Diabetes) রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী।

23. ক্যান্সার চিকিৎসায় নয়নতারা গাছের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: নয়নতারা গাছে থাকা ‘ভিনক্রিস্টিন’ এবং ‘ভিনব্লাস্টিন’ নামক দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান ক্যান্সার কোশের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিভাজনকে আটকে দেয়। তাই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিউকেমিয়া এবং অন্যান্য ক্যান্সারের জীবনদায়ী ওষুধ তৈরিতে এর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

24. ভেষজ বা ঔষধি উদ্ভিদ (Medicinal plants) কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: যেসব গাছপালার বিভিন্ন অংশ (যেমন- পাতা, মূল, কাণ্ড, ছাল, ফুল বা ফল) থেকে মানুষের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য ওষুধ তৈরি করা হয়, তাদের ভেষজ বা ঔষধি উদ্ভিদ বলে।
উদাহরণ: নিম, তুলসী, নয়নতারা, আমলকী ইত্যাদি।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার