অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 11 আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় 11: আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ
(গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – 3 বা 5 নম্বর: পর্ব 1)

1. বাঁশ (Bamboo) গাছকে ঘাস বলা যুক্তিসঙ্গত কেন? দৈনন্দিন জীবনে এবং অর্থনীতিতে বাঁশ গাছের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার বা গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
ঘাস বলার কারণ: উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় বাঁশ কোনো গাছ বা বৃক্ষ নয়। বাঁশের কাণ্ডে ঘাসের মতোই সুস্পষ্ট পর্ব (Node) এবং পর্বমধ্য (Internode) থাকে। এদের কাণ্ড ভেতর থেকে ফাঁপা হয় এবং এরা পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাঁশকে ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ বলা হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব:
1. নির্মাণকাজ ও আসবাবপত্র: বাঁশ অত্যন্ত শক্ত ও স্থিতিস্থাপক হওয়ায় বাড়ি তৈরি, মই, ভারা বাঁধা, এবং সুন্দর ও টেকসই আসবাবপত্র বা হস্তশিল্প তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
2. কাগজ শিল্প: কাগজ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের মণ্ড (Pulp) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
3. খাদ্য হিসেবে: কচি বাঁশের কোড়ল (Bamboo shoots) ভারতের অনেক জায়গায় এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এটি রেড পান্ডারও প্রধান খাদ্য।

2. শাল গাছের (Sal tree) কাঠ এত উন্নত মানের কেন? এই গাছের কাঠ এবং অন্যান্য অংশের তিনটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
উন্নত কাঠের কারণ: শাল গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত, ভারী, দীর্ঘস্থায়ী এবং ঘুণ বা উইপোকা সহজে এই কাঠ নষ্ট করতে পারে না। তাই এটি অত্যন্ত উন্নত মানের এবং দামি কাঠ হিসেবে পরিচিত।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
1. কাঠের ব্যবহার: অত্যন্ত মজবুত হওয়ার কারণে রেললাইনের স্লিপার, নৌকো, সেতু, এবং বাড়ির দরজা-জানলা তৈরির প্রধান উপকরণ হলো শাল কাঠ।
2. রজন বা ধুনো: শাল গাছের বাকল থেকে যে সুগন্ধি আঠা বা রজন পাওয়া যায়, তা শুকিয়ে পুজো-পার্বণে ব্যবহৃত ‘ধুনো’ তৈরি হয়।
3. পাতা ও বীজের ব্যবহার: শালপাতা দিয়ে পরিবেশবান্ধব থালা বা বাটি তৈরি হয়। এছাড়া এর বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা সাবান তৈরি এবং রান্নার কাজেও ব্যবহৃত হয়।

3. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল (Pneumatophore) কী এবং কেন সৃষ্টি হয়? ম্যানগ্রোভ অরণ্য বা উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় এই গাছের ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর:
শ্বাসমূল ও সৃষ্টির কারণ: সুন্দরবন অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত কর্দমাক্ত এবং লবণাক্ত হওয়ায় মাটির কণার মাঝে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে। তাই শিকড়ের শ্বাসকার্যের সুবিধার্থে, সুন্দরী গাছের মূলের কিছু শাখা অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই মূলগুলির গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র (শ্বাসরন্ধ্র) থাকে, যা দিয়ে গাছ বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এদের শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।

পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা: সুন্দরী গাছ এবং অন্যান্য ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ তাদের মজবুত শিকড়ের জালিকা দিয়ে নরম মাটিকে শক্তভাবে আটকে রাখে। এর ফলে সমুদ্রের প্রবল ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস এবং বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের (যেমন- আয়লা বা আমফান) সময় উপকূলবর্তী এলাকার মাটি ক্ষয়রোধ হয় এবং লোকালয় বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।

4. কচুরিপানাকে (Water hyacinth) কেন ক্ষতিকারক জলজ আগাছা বলা হয়? জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি পর্যায়ক্রমে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
ক্ষতিকারক আগাছা বলার কারণ: কচুরিপানা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আনা একটি বহিরাগত উদ্ভিদ। এটি ‘খর্বধাবক’ বা অফসেটের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন ঘটিয়ে এত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সম্পূর্ণ জলাশয়কে ঢেকে ফেলে। এর ফলে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয় বলে একে ক্ষতিকারক আগাছা বলা হয়।

বাস্তুতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রভাব:
1. সূর্যালোক ও অক্সিজেনের অভাব: পুরো জলাশয় কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ার ফলে জলের গভীরে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে জলের ভেতরের অন্যান্য উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না এবং জলে অক্সিজেনের (BOD) চরম অভাব দেখা দেয়।
2. জলজ প্রাণীর মৃত্যু: জলে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
3. মশার উপদ্রব: কচুরিপানায় ঢাকা বদ্ধ জলাশয় মশা ও অন্যান্য ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়, যা ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়।

5. মশলা (Spices) কী? দৈনন্দিন জীবনে মশলার তিনটি ব্যবহারিক গুরুত্ব আলোচনা করো। গোলমরিচকে ‘কালো সোনা’ বলার কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর:
মশলা: উদ্ভিদের যে নির্দিষ্ট সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত অংশ (যেমন- ছাল, মূল, বীজ, ফল) রান্নার স্বাদ, রং বা সুগন্ধ বাড়ানোর জন্য এবং খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, তাকে মশলা বলে।

মশলার ব্যবহারিক গুরুত্ব:
1. স্বাদ ও সুগন্ধ: মশলা সাধারণ খাবারকে অত্যন্ত সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
2. খাদ্য সংরক্ষণ: রসুন, হলুদ, লবঙ্গ ইত্যাদি মশলার শক্তিশালী জীবাণুনাশক ক্ষমতা থাকায় এরা খাবারকে পচে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
3. ঔষধি গুণ: আদা, গোলমরিচ, দারুচিনির মতো মশলা সর্দি-কাশি, পেটের গোলমাল এবং অন্যান্য সাধারণ রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী।

কালো সোনা বলার কারণ: গোলমরিচকে প্রাচীনকালে ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে সোনার মতোই মূল্যবান মনে করা হতো এবং অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করা হতো। তাই একে ‘কালো সোনা’ বা ‘Black Gold’ বলা হতো।

6. আদা (Ginger) এবং রসুনের (Garlic) মধ্যে থাকা প্রধান রাসায়নিক উপাদানগুলির নাম লেখো এবং এদের ঔষধি গুণ বা স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
আদার রাসায়নিক উপাদান ও ঔষধি গুণ:
আদার ঝাঁঝালো গন্ধের জন্য দায়ী রাসায়নিক যৌগটি হলো জিনজেরল (Gingerol)
* উপকারিতা: আদার রস সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বর উপশমে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি বমিভাব (বিশেষ করে মোশন সিকনেস) কাটাতে এবং পেটের গ্যাস বা বদহজম দূর করে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

রসুনের রাসায়নিক উপাদান ও ঔষধি গুণ:
রসুনে উপস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সালফারযুক্ত যৌগটি হলো অ্যালিসিন (Allicin)
* উপকারিতা: অ্যালিসিন একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক, যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। রসুন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

7. হলুদ (Turmeric) ও দারুচিনির (Cinnamon) প্রধান রাসায়নিক উপাদানগুলির নাম লেখো এবং মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় এদের ভূমিকা বা গুরুত্ব উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
হলুদের রাসায়নিক উপাদান ও গুরুত্ব:
হলুদের উজ্জ্বল হলুদ রঙের জন্য দায়ী রাসায়নিক যৌগটি হলো কারকিউমিন (Curcumin)
* ভূমিকা: কারকিউমিন অত্যন্ত শক্তিশালী জীবাণুনাশক (Antiseptic) এবং প্রদাহরোধী উপাদান। এটি শরীরের ক্ষত বা আঘাত দ্রুত সারাতে, রক্ত পরিষ্কার করতে, লিভার সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক সাহায্য করে।

দারুচিনির গুরুত্ব:
দারুচিনির শুকনো ছালে থাকা উদ্বায়ী তেলের (যেমন- সিনামালডিহাইড) জন্য চমৎকার সুগন্ধ হয়।
* ভূমিকা: দারুচিনি দাঁতের ব্যথা এবং বমিভাব দূর করতে উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং অম্বল বা পেটের গোলমাল সারিয়ে তোলে।

8. নিম (Neem) এবং বেল (Bael) গাছের প্রধান রাসায়নিক উপাদানগুলির নাম লেখো এবং এদের দুটি করে ভেষজ গুণ বা ঔষধিসম্পর্কিত ব্যবহার আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
নিম গাছের উপাদান ও গুণাগুণ:
নিমে অ্যাজাডিরাকটিন (Azadirachtin), নিমবিন এবং নিম্বিডিন থাকে।
1. এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক। নিমের পাতা ও ছাল বিভিন্ন চর্মরোগ (দাদ, হাজা, চুলকানি) এবং অ্যালার্জি সারাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
2. কৃষিকাজে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে নিমের নির্যাস চমৎকার জৈব কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বেল গাছের উপাদান ও গুণাগুণ:
বেলে মারমেলোসিন (Marmelosin) নামক রাসায়নিক উপাদান থাকে।
1. বেলের শরবত দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় (Dysentery) এবং পেটের নানা রকম গোলমাল সারাতে অত্যন্ত উপকারী।
2. এটি আমাদের হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার ও ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

9. আমলকী (Amla) এবং তুলসী (Tulsi) গাছের ঔষধি গুণাবলি এবং মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় এদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর:
আমলকীর ঔষধি গুণ:
আমলকী ভিটামিন সি (Vitamin C)-এর একটি অন্যতম সেরা উৎস।
1. এটি দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা স্কার্ভি (Scurvy) রোগ প্রতিরোধ করে।
2. এটি খাদ্য থেকে লোহা বা আয়রন শোষণে সাহায্য করে রক্তাল্পতা (Anemia) দূর করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তুলসীর ঔষধি গুণ:
তুলসী পাতায় ইউজিনল (Eugenol) নামক উপাদান থাকে।
1. সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণে (Bronchitis) তুলসী পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে খুব দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
2. এটি গলা ব্যথা কমায় এবং পেটের সমস্যা দূর করে হজমশক্তি বাড়ায়।

10. পুদিনা (Mint) এবং ঘৃতকুমারী (Aloe vera) গাছের রাসায়নিক উপাদান ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলি লেখো। ঘৃতকুমারীর পাতা এত পুরু ও মাংসল হয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর:
পুদিনার ব্যবহার: পুদিনায় মেনথল (Menthol) থাকে। এটি অম্বল, বদহজম এবং পেটের গ্যাস কমাতে খুব ভালো কাজ করে। এর সতেজ গন্ধ ক্লান্তি ও বমিভাব দূর করে।

ঘৃতকুমারীর ব্যবহার: ঘৃতকুমারীতে অ্যালোইন (Aloin) থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে রেচক হিসেবে কাজ করে। এর পাতার জেল (Gel) রোদে পোড়া দাগ (Sunburn), ব্রণ এবং চামড়ার অন্যান্য সমস্যা সারাতে ও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

পাতা পুরু হওয়ার কারণ: ঘৃতকুমারী সাধারণত শুষ্ক পরিবেশে জন্মায়। তাই গাছের ভেতরে জল ও আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য এবং বাষ্পীভবন রোধ করার জন্য এর পাতাগুলো পুরু, মাংসল এবং জেলের মতো জলীয় পদার্থে পূর্ণ হয়।

11. নয়নতারা (Periwinkle) গাছকে ‘জীবনদায়ী উদ্ভিদ’ বলা হয় কেন? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই গাছের ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: নয়নতারা গাছ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সত্যিই এক আশীর্বাদ, তাই একে জীবনদায়ী উদ্ভিদ বলা হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভূমিকা:
1. ক্যান্সার চিকিৎসায়: নয়নতারা গাছের পাতা ও মূলে ভিনক্রিস্টিন (Vincristine) এবং ভিনব্লাস্টিন (Vinblastine) নামক দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড থাকে। এই উপাদানগুলি ক্যান্সার কোশের দ্রুত বিভাজনকে আটকে দেয়। তাই ব্লাড ক্যান্সার (Leukemia) এবং অন্যান্য জটিল ক্যান্সারের জীবনদায়ী ওষুধ তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
2. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: এই গাছের পাতার রস ডায়াবেটিস বা মধুমেহ (Diabetes) রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

12. জৈব কীটনাশক (Bio-pesticide) কী? রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে কৃষিকাজে নিম গাছের নির্যাস ব্যবহার করা পরিবেশের পক্ষে কতটা লাভজনক তা বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: জৈব কীটনাশক: যেসব উদ্ভিদ বা জীবাণুর নির্যাস ব্যবহার করে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না ঘটিয়ে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন করা হয়, তাদের জৈব কীটনাশক বলে।

নিমের নির্যাস ব্যবহারের সুবিধা (পরিবেশের লাভ):
1. রাসায়নিক কীটনাশক মাটি ও জলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে, কিন্তু নিমের পাতার নির্যাস (অ্যাজাডিরাকটিন) সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি মাটি বা জলের কোনো দূষণ ঘটায় না।
2. রাসায়নিক কীটনাশক বন্ধু পোকামাকড় (যেমন- মৌমাছি, প্রজাপতি) এবং ফসলের ক্ষতি করে, এমনকি মানুষের দেহে বিষক্রিয়া ঘটায়। কিন্তু নিমের নির্যাস শুধুমাত্র ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গকে দূরে রাখে এবং ফসল ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

13. ভেষজ উদ্ভিদ (Medicinal plants) এবং মশলা (Spices) উৎপাদনকারী উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো.

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. প্রধান ব্যবহার: ভেষজ উদ্ভিদের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন অসুখ বা রোগ নিরাময়ের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ তৈরি করা। অন্যদিকে, মশলার মূল উদ্দেশ্য হলো রান্নার স্বাদ, রং এবং সুগন্ধ বৃদ্ধি করা (যদিও অনেক মশলার ঔষধি গুণ থাকে)।
2. ব্যবহারের ধরন: ভেষজ উদ্ভিদের পাতা, মূল বা কাণ্ডের রস সাধারণত সরাসরি ওষুধ হিসেবে খাওয়া বা লাগানো হয়। কিন্তু মশলাকে শুকিয়ে বা গুঁড়ো করে রান্নার সময় খুব সামান্য পরিমাণে খাবারে মেশানো হয়।
3. উদাহরণ: ভেষজ উদ্ভিদের উদাহরণ হলো নিম, নয়নতারা, ঘৃতকুমারী। আর মশলার উদাহরণ হলো দারুচিনি, এলাচ, গোলমরিচ।

14. ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ভেষজ উদ্ভিদের গুরুত্ব অপরিসীম’— এই উক্তিটির সাপেক্ষে তিনটি যুক্তি দাও এবং এদের সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: যুক্তি:
1. প্রতিদিনের ছোটখাটো রোগ (যেমন- সর্দি, কাশি, পেটের গোলমাল) সারাতে আমরা কৃত্রিম ওষুধের বদলে তুলসী, আদা বা পুদিনার মতো নিরাপদ প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভর করি।
2. অ্যালোভেরা বা নিমের মতো ভেষজ উদ্ভিদ ত্বকের পরিচর্যা ও চর্মরোগ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী।
3. আধুনিক চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া (সিঙ্কোনা থেকে) বা ক্যান্সারের (নয়নতারা থেকে) মতো মারণ রোগের জীবনদায়ী ওষুধ এই ভেষজ উদ্ভিদ থেকেই তৈরি হয়।

সংরক্ষণের উপায়:
1. যথেচ্ছভাবে বনজঙ্গল কাটা বন্ধ করতে হবে এবং বাড়িতে বা বাড়ির আশেপাশে টবে এই সমস্ত ঔষধি গাছ বেশি করে লাগাতে হবে।
2. স্থানীয় মানুষের সাহায্যে PBR (People’s Biodiversity Register) তৈরি করে এই সমস্ত গাছের গুণাগুণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার