অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 5, ‘মেঘ ও বৃষ্টি’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২
অধ্যায় 5: মেঘ ও বৃষ্টি
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)
নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:
1. বাষ্পীভবন বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ তাপে গ্যাসে পরিণত হয়, তাকে বাষ্পীভবন বলে। প্রকৃতির বুকে সূর্যের প্রখর তাপে নদী, সমুদ্র, হ্রদ বা পুকুরের জল প্রতিনিয়ত গরম হয়ে গ্যাসে বা জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে।
2. ঘনীভবন কাকে বলে?
উত্তর দেখো
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় বায়বীয় পদার্থ ঠান্ডা হয়ে তরল বা কঠিন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে ঘনীভবন বলে। বাতাসে ভাসমান উষ্ণ জলীয় বাষ্প ওপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঠান্ডা হয়ে জলকণা বা বরফকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো ঘনীভবন।
3. জলচক্র বলতে কী বোঝো?
[Image of water cycle diagram showing evaporation condensation precipitation]
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রকৃতির বুকে জল কখনো বাষ্প হয়ে ওপরে উঠছে, ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করছে, আবার কখনো বৃষ্টি বা বরফরূপে আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ছে। জলভাগের এই যে আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যে চক্রাকারে আবর্তন, একেই জলচক্র বলে।
4. বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে? এটি কোন যন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বাতাসে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প মিশে থাকে, তাকেই সাধারণভাবে ওই বায়ুর আর্দ্রতা বলা হয়। বায়ুর আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়।
5. পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কাকে বলে?
উত্তর দেখো
উত্তর: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকে, তাকে পরম আর্দ্রতা বলে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং ওই বায়ুকে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
6. সম্পৃক্ত বায়ু ও শিশিরাঙ্ক বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, ঠিক ততটাই জলীয় বাষ্প থাকলে তাকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে। আর যে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত হয় অর্থাৎ বায়ু আর কোনো নতুন জলীয় বাষ্প গ্রহণ করতে পারে না, সেই উষ্ণতাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
7. মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: বাতাসে ভাসমান উষ্ণ ও হালকা জলীয় বাষ্প ওপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে। এরপর তা ঘনীভূত হয়ে বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ছোটো ছোটো জলকণা বা বরফকণায় পরিণত হয়। এই অসংখ্য জলকণা বা বরফকণার সমষ্টিই হলো মেঘ।
8. মেঘাচ্ছন্নতা বলতে কী বোঝো? এটি কীভাবে মাপা হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: আকাশে মেঘের পরিমাণকে মেঘাচ্ছন্নতা বলে। এটি ‘অকটা’ এককের সাহায্যে মাপা হয়। আকাশ সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত থাকলে তাকে 0 অকটা এবং আকাশ সম্পূর্ণ মেঘে ঢাকা থাকলে তাকে 8 অকটা ধরা হয়।
9. সিরাস মেঘের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: 1) সিরাস হলো আকাশের সবচেয়ে উঁচুতে থাকা মেঘ, যা দেখতে অনেকটা সাদা রঙের পালকের মতো হয়। 2) এই মেঘ সাধারণত পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে।
10. কিউমুলাস মেঘের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: 1) কিউমুলাস মেঘ দেখতে অনেকটা পেঁজা তুলোর মতো হয় এবং এর উপরিভাগ গম্বুজের মতো ফোলা থাকে। 2) এই মেঘ আকাশে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে।
11. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: 1) এটি একটি বিশাল আকৃতির উল্লম্ব মেঘ, যার শীর্ষদেশ অনেকটা চ্যাপ্টা হয় এবং রং কালো বা ঘন ধূসর হয়। 2) এই মেঘ থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল ঝড়বৃষ্টি এবং অনেক সময় শিলাবৃষ্টি হয়।
12. স্ট্যাটাস এবং নিম্বোস্ট্যাটাস মেঘের একটি করে বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: স্ট্যাটাস মেঘ আকাশে কুয়াশার মতো বা চাদরের মতো স্তরে স্তরে ঢাকা থাকে। অন্যদিকে, নিম্বোস্ট্যাটাস মেঘ ঘন কালো রঙের হয়, যা সূর্যকে ঢেকে দেয় এবং এর থেকে একটানা বৃষ্টিপাত হয়।
13. অধঃক্ষেপণ কাকে বলে? এর দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: মেঘের মধ্যস্থিত জলকণা বা বরফকণাগুলি একে অপরের সাথে মিশে ভারী হয়ে গেলে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে সেগুলি আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। একেই অধঃক্ষেপণ বলে। এর সবচেয়ে পরিচিত দুটি উদাহরণ হলো বৃষ্টিপাত এবং তুষারপাত।
14. কুয়াশা ও শিশিরকে অধঃক্ষেপণ বলা হয় না কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: মেঘ থেকে জলকণা বা বরফকণা মাধ্যাকর্ষণের টানে নীচে পড়লে তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। কিন্তু কুয়াশা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাসে ভেসে থাকে এবং শিশির সরাসরি গাছের পাতা বা ঘাসের ওপর ঘনীভূত হয়ে জমে থাকে। এগুলি আকাশ থেকে ঝরে পড়ে না বলে এদের অধঃক্ষেপণ বলা হয় না।
15. সৃষ্টির প্রক্রিয়া অনুযায়ী বৃষ্টিপাতকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: সৃষ্টির প্রক্রিয়া বা উৎপত্তির ধরন অনুযায়ী বৃষ্টিপাতকে প্রধানত 3টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা— 1) পরিচলন বৃষ্টিপাত, 2) শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত এবং 3) ঘূর্ণবৃষ্টি।
16. পরিচলন বৃষ্টিপাত কাকে বলে?
[Image of Convectional rainfall diagram]
উত্তর দেখো
উত্তর: দিনের বেলায় প্রখর সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত হয়ে হালকা ও উষ্ণ হয়ে সোজা ওপরে উঠে যায়। ওপরে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে সেই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিশাল মেঘ তৈরি করে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ যে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।
17. নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলবেলা পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং জলভাগের পরিমাণ বেশি থাকায় প্রচুর জল বাষ্পীভূত হয়। এই বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রতিদিন ওপরে উঠে ঘনীভূত হয় এবং বিকেল 4টে বা সন্ধ্যার দিকে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত ঘটায়।
18. শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কাকে বলে?
উত্তর দেখো
উত্তর: সমুদ্রের দিক থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু তার প্রবাহপথে কোনো উঁচু পর্বত বা মালভূমিতে বাধা পেলে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠে। ওপরে উঠে সেই বায়ু শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের ওই ঢালে যে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
19. পর্বতের প্রতিবাদ ঢাল এবং অনুবাত ঢাল বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
উত্তর: পর্বতের যে ঢালটি বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি থাকে এবং যেখানে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রথমে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে প্রতিবাদ ঢাল বলে। অন্যদিকে, পর্বতের যে বিপরীত ঢাল বেয়ে বায়ু নীচের দিকে নামে এবং যেখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না, তাকে অনুবাত ঢাল বলে।
20. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর যখন বিপরীত দিকের অনুবাত ঢালে পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না। ফলে পর্বতের এই বিপরীত ঢালে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। এই বৃষ্টিহীন অঞ্চলটিকেই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। উদাহরণ: ভারতের মেঘালয়ের শিলং।
21. ঘূর্ণবৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: কোনো স্থানে হঠাৎ করে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ছুটে আসা শীতল ও ভারী বায়ু এবং উষ্ণ ও হালকা বায়ু মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তখন উষ্ণ বায়ু হালকা বলে শীতল বায়ুর ওপর দিয়ে ঘূর্ণির আকারে ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে যে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে।
22. গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কাকে বলে?
উত্তর দেখো
উত্তর: যখন মেঘ থেকে 0.5 মিলিমিটারের চেয়েও কম ব্যাসযুক্ত খুব ছোটো ছোটো জলের ফোঁটা বা জলকণা আকাশ থেকে একটানা ঝরে পড়ে, তখন তাকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বলে। সাধারণত স্তরে স্তরে থাকা মেঘ থেকে এই ধরনের বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
23. স্লিট কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: শীতপ্রধান দেশে বা পর্বতের উঁচু অংশে আকাশ থেকে যখন বৃষ্টির জলের ফোঁটা (জলকণা) এবং ছোটো ছোটো তুষারকণা (বরফ) একসঙ্গে মিশে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়, তখন বৃষ্টি ও তুষারের সেই মিশ্রিত রূপকেই স্লিট বলে।
24. শিলাবৃষ্টি কাকে বলে?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের কারণে মেঘের জলকণাগুলি অনেক উঁচুতে উঠে গিয়ে অতিরিক্ত ঠান্ডায় জমে কঠিন বরফের টুকরোয় পরিণত হয়। সেই বরফের টুকরোগুলি যখন আর ভেসে থাকতে না পেরে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে প্রবল বেগে নীচে ঝরে পড়ে, তখন তাকে শিলাবৃষ্টি বলে।
25. সমবর্ষণ রেখা বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
উত্তর: কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন- এক মাস বা এক বছরে) ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সমান থাকে, আবহাওয়া মানচিত্রে সেই সমান বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলিকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
26. রেনগেজ কী? এটি কোথায় রাখা হয়?
[Image of Rain Gauge instrument measuring rainfall]
উত্তর দেখো
উত্তর: রেনগেজ হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপার একটি বিশেষ যন্ত্র। সঠিক পরিমাপ পাওয়ার জন্য এই যন্ত্রটিকে গাছপালা বা উঁচু বাড়ির আড়াল থেকে দূরে কোনো খোলা বা উন্মুক্ত মাঠে রাখা হয়, যাতে বৃষ্টির জল সরাসরি এতে পড়তে পারে।