অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় –- 5, ‘মেঘ ও বৃষ্টি’ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 5: মেঘ ও বৃষ্টি
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

1. বাষ্পীভবন ও ঘনীভবনের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।

[Image of evaporation and condensation processes in water cycle]

উত্তর দেখো
বাষ্পীভবন ও ঘনীভবনের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো:

  • সংজ্ঞা: তরল জল তাপে গ্যাসে বা জলীয় বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। অন্যদিকে, জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পুনরায় তরল জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।
  • উষ্ণতার প্রভাব: উষ্ণতা বা তাপ বাড়লে বাষ্পীভবন দ্রুত হয়। কিন্তু ঘনীভবন হওয়ার জন্য উষ্ণতা কমা বা শীতল হওয়া প্রয়োজন।
  • অবস্থার পরিবর্তন: বাষ্পীভবনে জলের তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। আর ঘনীভবনে জলের গ্যাসীয় অবস্থা থেকে তরল (বা কঠিন) অবস্থায় রূপান্তর ঘটে।

2. পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করো।

উত্তর দেখো
পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার পার্থক্যগুলি হলো:

  • সংজ্ঞা: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে, তাকে পরম আর্দ্রতা বলে। কিন্তু নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প এবং ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
  • প্রকাশের নিয়ম: পরম আর্দ্রতাকে সাধারণত গ্রাম প্রতি ঘনমিটার এককে প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে, আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে সর্বদা শতকরা (%) হারে প্রকাশ করা হয়।
  • গুরুত্ব: আবহাওয়ার পূর্বাভাস বা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কতটা, তা পরম আর্দ্রতা থেকে খুব একটা বোঝা যায় না, কিন্তু আপেক্ষিক আর্দ্রতা থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুব ভালোভাবে নির্ণয় করা যায়।

3. বাতাসে ধূলিকণা না থাকলে কী মেঘ সৃষ্টি হতে পারত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর দেখো
বাতাসে ধূলিকণা না থাকলে মেঘ সৃষ্টি হওয়া প্রায় অসম্ভব হতো। এর পেছনের যুক্তিগুলি হলো:

  • জলীয় বাষ্প ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হওয়ার পর ভাসমান অবস্থায় থাকার জন্য একটি আশ্রয় বা ভিত্তির প্রয়োজন হয়। বাতাসের অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা, ধোঁয়া বা লবণের কণাগুলি সেই আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
  • জলীয় বাষ্প এই ধূলিকণাগুলিকে কেন্দ্র করেই চারপাশ থেকে জমাট বেঁধে ছোটো ছোটো জলের ফোঁটায় পরিণত হয়।
  • তাই বাতাসে ধূলিকণা না থাকলে জলীয় বাষ্পের পক্ষে জমাট বেঁধে মেঘ তৈরি করার কোনো কেন্দ্রবিন্দু থাকত না।

4. বেশি উচ্চতার মেঘগুলির (সিরাস, সিরোস্ট্যাটাস, সিরোকিউমুলাস) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
আকাশের অনেক উঁচুতে (সাধারণত 6000 মিটারের ওপরে) থাকা মেঘগুলির বৈশিষ্ট্য হলো:

  • সিরাস: এটি সবচেয়ে উঁচুতে থাকা মেঘ। দেখতে অনেকটা সাদা পালকের মতো হয়। এই মেঘ পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া নির্দেশ করে।
  • সিরোস্ট্যাটাস: এই মেঘ দেখতে অনেকটা পাতলা সাদা চাদরের মতো, যা আকাশকে দুধের মতো সাদা করে দেয়। এই মেঘ থাকলে চাঁদ বা সূর্যের চারপাশে এক ধরনের বলয় বা রিং দেখা যায়।
  • সিরোকিউমুলাস: এই মেঘ অনেকটা পেঁজা তুলোর মতো এবং ছোটো ছোটো ঢেউয়ের আকারে আকাশে ছড়িয়ে থাকে। এই মেঘ থাকলে আকাশকে সামুদ্রিক ‘ম্যাকারেল’ মাছের পিঠের আঁশের মতো দেখায়।

5. মাঝারি উচ্চতার মেঘগুলির (অল্টোস্ট্যাটাস, অল্টোকিউমুলাস) সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর দেখো
মাঝারি উচ্চতার মেঘগুলির পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:

  • অল্টোস্ট্যাটাস: এটি একটি ধূসর বা নীলচে ধূসর রঙের মেঘ, যা আকাশের একটা বিশাল অংশ জুড়ে একটানা চাদরের মতো ছড়িয়ে থাকে। এই মেঘের মধ্যে দিয়ে সূর্যকে অনেকটা অনুজ্জ্বল দেখায় এবং এই মেঘ একটানা মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়।
  • অল্টোকিউমুলাস: এই মেঘ দেখতে গোলাকার তুলোর বলের মতো বা ছোটো ছোটো স্তূপের মতো হয়। এগুলি সাধারণত স্তরে স্তরে বা ঢেউয়ের মতো আকাশে সাজানো থাকে এবং এদের ফাঁকে ফাঁকে নীল আকাশ দেখা যায়।

6. নিম্ন স্তরের বা কম উচ্চতার মেঘগুলির (স্ট্যাটোকিউমুলাস, স্ট্যাটাস, নিম্বোস্ট্যাটাস) বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তর দেখো
ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা মেঘগুলির বৈশিষ্ট্য হলো:

  • স্ট্যাটোকিউমুলাস: এই মেঘ অনেকটা স্তূপের মতো হলেও চ্যাপ্টা আকারের হয় এবং স্তরে স্তরে সাজানো থাকে। এই মেঘে সাধারণত আকাশ মেঘলা থাকে, তবে খুব একটা বৃষ্টি হয় না।
  • স্ট্যাটাস: এটি ঘন কুয়াশার মতো বা চাদরের মতো আকাশকে পুরোপুরি ঢেকে রাখে। এই মেঘের কারণে পাহাড় বা উঁচু বাড়ি ঢাকা পড়ে যায় এবং সাধারণত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।
  • নিম্বোস্ট্যাটাস: এই মেঘ খুব ঘন কালো বা ধূসর রঙের হয় এবং এতে কোনো নির্দিষ্ট আকার থাকে না। এই মেঘ একটানা অনেকক্ষণ ধরে ভারী বা মাঝারি বৃষ্টিপাত ঘটায়।

7. কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে প্রবল ঝড়বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হয় কেন?

উত্তর দেখো
  • কিউমুলোনিম্বাস হলো একটি বিশাল আকৃতির উল্লম্ব মেঘ, যা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছ থেকে শুরু করে আকাশের অনেক উঁচুতে (প্রায় 12000 মিটার পর্যন্ত) উঠে যায়।
  • এই মেঘের ভেতরে প্রচণ্ড বেগে বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী স্রোত বইতে থাকে। ঊর্ধ্বমুখী স্রোতের প্রভাবে জলকণাগুলি অতিরিক্ত উঁচুতে উঠে গিয়ে তীব্র ঠান্ডায় জমে গিয়ে বরফের টুকরোয় পরিণত হয়।
  • পরবর্তীতে এই বরফের টুকরো এবং জলকণাগুলি অতিরিক্ত ভারী হয়ে গেলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে প্রবল বেগে নীচে নেমে আসে, যার ফলে এই মেঘ থেকে ঘনঘন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়।

8. অধঃক্ষেপণ বলতে কী বোঝো? কুয়াশা ও শিশির অধঃক্ষেপণ নয় কেন?

উত্তর দেখো
  • অধঃক্ষেপণ: মেঘের মধ্যস্থিত ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণাগুলি একে অপরের সাথে মিশে যখন ভারী হয়ে যায়, তখন সেগুলি আর বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না। তখন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে সেগুলি আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। একেই অধঃক্ষেপণ বলে (যেমন- বৃষ্টিপাত, তুষারপাত)।
  • কুয়াশা ও শিশির অধঃক্ষেপণ নয়: কারণ কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ভেসে থাকা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে তৈরি হওয়া ভাসমান জলকণা। আর শিশির হলো রাতের বেলায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা শীতল বস্তুর (ঘাস, পাতা) ওপর সরাসরি ঘনীভূত হওয়া জলকণা। এগুলি মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে আকাশ থেকে ঝরে পড়ে না বলে এদের অধঃক্ষেপণ বলা যায় না।

9. রেনগেজ যন্ত্রের সাহায্যে কীভাবে বৃষ্টিপাত মাপা হয়?

উত্তর দেখো
  • রেনগেজ হলো বৃষ্টিপাত মাপার একটি বিশেষ যন্ত্র। এতে একটি ফানেল এবং একটি মাপজোক করা (স্কেল আঁকা) কাঁচের বা ধাতব চোঙ বা পাত্র থাকে।
  • যন্ত্রটিকে গাছপালা বা উঁচু বাড়ির আড়াল থেকে দূরে কোনো খোলা মাঠে বসানো হয়, যাতে বৃষ্টির জল সরাসরি ফানেলের মাধ্যমে চোঙের ভেতর জমা হতে পারে।
  • নির্দিষ্ট সময় (যেমন- 24 ঘণ্টা) পর চোঙের গায়ে থাকা স্কেলের মাপ দেখে খুব সহজেই বলে দেওয়া যায় যে ওই স্থানে ওই নির্দিষ্ট সময়ে কত মিলিমিটার বা কত সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

10. পরিচলন বৃষ্টিপাত কীভাবে সৃষ্টি হয় তা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো
পরিচলন বৃষ্টিপাত সৃষ্টির প্রধান পর্যায়গুলি হলো:

  • বাষ্পীভবন: দিনের বেলায় প্রখর সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠের জলভাগ থেকে জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। উষ্ণ ও হালকা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়।
  • ঘনীভবন: ওপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে সেই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিশাল আকৃতির কালো মেঘ তৈরি করে।
  • বৃষ্টিপাত: মেঘের জলকণাগুলি ভারী হয়ে গেলে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বেগে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকেই পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।

11. নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলবেলা বা সন্ধ্যার দিকে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় কেন?

উত্তর দেখো
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণগুলি হলো:

  • এই অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে প্রবল উষ্ণতায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ জল বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে ওঠে।
  • বিকেল হওয়ার আগেই বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে আকাশে বিশাল কালো মেঘের সৃষ্টি করে।
  • অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে প্রতিদিন বিকেল 4টে বা সন্ধ্যার দিকে এই অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। তাই একে ‘4 টার বৃষ্টি’ বা ‘ফোর ও ক্লক রেন’ বলা হয়।

12. শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে সৃষ্টি হয় তা ব্যাখ্যা করো।

[Image of orographic rainfall diagram showing windward and leeward sides]

উত্তর দেখো
শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি হলো:

  • সমুদ্রের দিক থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহপথে আড়াআড়িভাবে থাকা কোনো উঁচু পর্বত বা মালভূমিতে বাধা পায়।
  • বাধা পেয়ে সেই বায়ু পর্বতের ঢাল (প্রতিবাদ ঢাল) বেয়ে ওপরের দিকে ওঠে। ওপরে ওঠার ফলে বায়ু ক্রমশ প্রসারিত ও শীতল হতে থাকে।
  • বায়ু অতিরিক্ত শীতল হলে তার ভেতরের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং পর্বতের ওই ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একেই শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

13. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কীভাবে সৃষ্টি হয়? উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর দেখো
  • সৃষ্টির কারণ: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতের যে ঢালে বাধা পায় (প্রতিবাদ ঢাল), সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরপর সেই বায়ু পর্বত পেরিয়ে যখন বিপরীত দিকের ঢালে (অনুবাত ঢাল) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না। তাছাড়া বায়ু নীচের দিকে নামতে থাকায় ক্রমশ উষ্ণ হতে থাকে। ফলে পর্বতের এই বিপরীত ঢালে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। এই বৃষ্টিহীন অঞ্চলটিকেই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
  • উদাহরণ: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি হলেও, পাহাড় পেরিয়ে উত্তর ঢালে অবস্থিত শিলং হলো একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

14. ঘূর্ণবৃষ্টি সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
ঘূর্ণবৃষ্টি সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি হলো:

  • ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে হঠাৎ করে তীব্র উত্তাপের কারণে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে, চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ছুটে আসা শীতল ও ভারী বায়ু এবং উষ্ণ ও হালকা বায়ু একে অপরের মুখোমুখি হয়।
  • উষ্ণ বায়ু হালকা বলে তা ভারী শীতল বায়ুর ওপর দিয়ে ঘূর্ণির আকারে পাক খেতে খেতে দ্রুত ওপরে উঠে যায়।
  • ওপরে উঠে উষ্ণ বায়ু দ্রুত শীতল ও ঘনীভূত হয়ে ঘন কালো মেঘ সৃষ্টি করে এবং প্রবল ঝড়ো হাওয়াসহ যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে।

15. পরিচলন বৃষ্টিপাত ও শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
পার্থক্যগুলি হলো:

  • বায়ুর গতিবিধি: পরিচলন বৃষ্টিপাতে উষ্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠ থেকে সোজা বা উল্লম্বভাবে ওপরে ওঠে। কিন্তু শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠে।
  • সংঘটনের স্থান: পরিচলন বৃষ্টিপাত মূলত প্রচুর উত্তাপ ও জলভাগ যুক্ত নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত মূলত সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত উঁচু পর্বত বা মালভূমি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
  • বৃষ্টিপাতের স্থায়িত্ব: পরিচলন বৃষ্টিপাত খুব অল্প সময়ের জন্য প্রবল বেগে হয়। কিন্তু শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত একটানা অনেকক্ষণ ধরে বা কয়েক দিন ধরেও হতে পারে।

16. শিলাবৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয়? এর ফলে সাধারণত কী ধরনের ক্ষতি হয়?

উত্তর দেখো
  • সৃষ্টির কারণ: আকাশে বিশাল মেঘের ভেতরে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর স্রোত থাকে। এই স্রোতের ধাক্কায় মেঘের জলকণাগুলি অনেক উঁচুতে উঠে যায় এবং সেখানকার তীব্র ঠান্ডায় জমে কঠিন বরফের টুকরো হয়ে যায়। সেগুলি ভারী হয়ে গেলে মাধ্যাকর্ষণের টানে প্রবল বেগে নীচে ঝরে পড়ে, একেই শিলাবৃষ্টি বলে।
  • ক্ষয়ক্ষতি: আকাশ থেকে তীব্র বেগে বরফের টুকরো আছড়ে পড়ার কারণে মাঠের ফসল, ফল-বাগান, কাঁচা বাড়িঘরের চাল এবং যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানুষ ও গবাদি পশুও আহত হয়।

17. সমবর্ষণ রেখা কী? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর দেখো
  • সংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন- এক মাস বা বছরে) ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সমান থাকে, আবহাওয়া মানচিত্রে সেই স্থানগুলিকে যে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়, তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
  • বৈশিষ্ট্য: ১) এই রেখার সাহায্যে কোনো দেশের বা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের বণ্টন খুব সহজেই বোঝা যায়। ২) দুটি আলাদা সমবর্ষণ রেখা সাধারণত একে অপরকে কখনো ছেদ করে না।

18. বৃষ্টিপাত মাপার জন্য রেনগেজ যন্ত্রটিকে গাছপালা বা বাড়িঘর থেকে দূরে খোলা জায়গায় রাখা হয় কেন?

উত্তর দেখো
বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র রেনগেজকে সর্বদা গাছপালা বা উঁচু বাড়ির আড়াল থেকে দূরে ফাঁকা জায়গায় বসানো হয়। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

  • আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির জল যাতে কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি যন্ত্রের ফানেলের মাধ্যমে ভেতরের পাত্রে জমা হতে পারে।
  • গাছের নীচে বা বাড়ির পাশে রাখলে, গাছের পাতা বা বাড়ির ছাদ থেকে গড়িয়ে পড়া অতিরিক্ত জল যন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে।
  • অতিরিক্ত জল প্রবেশ করলে বৃষ্টিপাতের সঠিক পরিমাপে ভুল হতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার