অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 8 ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 8: ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সাথে সম্পর্ক
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1
নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
1. ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে সুসম্পর্ক বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রধান কারণগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
- ব্যবসা-বাণিজ্য: সুসম্পর্ক থাকলে নিজেদের মধ্যে জিনিসপত্রের আমদানি ও রপ্তানি খুব সহজে হয়, যা দেশগুলির আর্থিক উন্নতি ঘটায়।
- বিপদে সাহায্য: বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির সময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।
- শান্তি ও নিরাপত্তা: প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে বিবাদ না থাকলে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
2. সার্ক গঠনের প্রধান তিনটি উদ্দেশ্য আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
- সদস্য দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিতে একে অপরকে সাহায্য করা।
- নিজেদের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি প্রযুক্তির আদানপ্রদান বাড়ানো।
- সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা।
3. নেপালের পর্যটন শিল্প অত্যন্ত উন্নত কেন?
উত্তর দেখো
- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: নেপাল সম্পূর্ণভাবে হিমালয় পর্বতের কোলে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম।
- পর্বতশৃঙ্গ: মাউন্ট এভারেস্ট, অন্নপূর্ণা ও ধবলগিরির মতো পৃথিবীর উচ্চতম তুষারাবৃত শৃঙ্গগুলি দেখার জন্য এবং পর্বতারোহণের জন্য সারা বিশ্ব থেকে মানুষ এখানে আসেন।
- সুন্দর শহর: কাঠমান্ডু, পোখরার মতো সুন্দর শহর এবং সেখানকার পুরোনো মন্দিরগুলি পর্যটকদের ভীষণভাবে আকর্ষণ করে।
4. ভারত ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
- আমদানি: ভারত তার প্রতিবেশী দেশ নেপাল থেকে প্রধানত বড়ো এলাচ, চামড়া, পশম এবং বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ আমদানি করে।
- রপ্তানি: এর বিনিময়ে ভারত নেপালে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, ওষুধ, কাপড় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রপ্তানি করে।
- নেপাল একটি স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় তারা ভারতের কলকাতা বন্দর ব্যবহার করে বিদেশের সাথে বাণিজ্য করে।
5. ভুটানকে ‘বজ্রপাতের দেশ’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
- ভুটান একটি সম্পূর্ণ পাহাড়ি দেশ, যা পূর্ব হিমালয়ের গভীর উপত্যকায় অবস্থিত।
- এখানকার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সারা বছরই প্রবল বেগে বাতাস বয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- বৃষ্টির সময় এখানকার আকাশে অত্যন্ত ভয়ানকভাবে মেঘের গর্জন হয় এবং ঘন ঘন মারাত্মক বজ্রপাত বা বাজ পড়ে। এই প্রবল বজ্রপাতের কারণেই একে বজ্রপাতের দেশ বলা হয়।
6. ভুটানের জলবিদ্যুৎ শক্তি সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর দেখো
- ভুটান একটি পাহাড়ি দেশ হওয়ায় এখানকার নদীগুলি অত্যন্ত খরস্রোতা, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য খুবই আদর্শ।
- ভারতের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ভুটান চুখা, তালাই, কুড়িচু প্রভৃতি বিখ্যাত এবং বড়ো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলেছে।
- নিজেদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভুটান প্রচুর পরিমাণে জলবিদ্যুৎ ভারতে রপ্তানি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করে।
7. বাংলাদেশের কৃষিকাজ খুব উন্নত হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
- উর্বর সমভূমি: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) ও মেঘনা নদীর বয়ে আনা উর্বর পলিমাটি দিয়ে এখানকার সমভূমি তৈরি, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত আদর্শ।
- অনুকূল জলবায়ু: এখানকার আবহাওয়া এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত ধান ও পাট চাষের জন্য খুব সহায়ক।
- জলসেচ: অসংখ্য নদনদী থাকায় সারা বছর ধরে খুব সহজেই জমিতে জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায়।
8. ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কেমন বাণিজ্যিক আদানপ্রদান হয়?
উত্তর দেখো
- আমদানি: ভারত বাংলাদেশ থেকে প্রধানত কাঁচা পাট, পাটের তৈরি জিনিস, সুপারি, চামড়া এবং ইলিশ মাছ আমদানি করে।
- রপ্তানি: এর বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে কয়লা, খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, তুলা, চিনি এবং ইস্পাত রপ্তানি করে থাকে।
9. মায়ানমারের বনজ সম্পদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর দেখো
- মায়ানমারের মোট আয়তনের অর্ধেকেরও বেশি অংশ গভীর বনভূমিতে ঢাকা।
- এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত ও মূল্যবান বনজ সম্পদ হলো সেগুন কাঠ, যা সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হয়। ভারতও এই কাঠ আমদানি করে।
- সেগুন ছাড়াও এখানকার জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে গর্জন, মেহগনি, রবার, বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়, যা দেশের অর্থনীতিতে বড়ো ভূমিকা পালন করে।
10. শ্রীলঙ্কার কৃষিকাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
- বাগিচা ফসল: শ্রীলঙ্কার জলবায়ু এবং মাটি মূলত বাগিচা ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল হলো চা, নারকেল এবং রবার।
- মশলা চাষ: এখানে দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ এবং এলাচের মতো প্রচুর উন্নত মানের সুগন্ধি মশলার চাষ হয়, যা বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
- খাদ্যশস্য: উপকূলবর্তী সমভূমি অঞ্চলে নিজেদের দেশের মানুষের খাবারের জন্য প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ করা হয়।
11. শ্রীলঙ্কাকে ‘প্রাচ্যের মুক্তো’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
- ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোরম।
- চারিদিকে নীল সমুদ্র, নারকেল গাছ এবং সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই দ্বীপদেশটিকে মানচিত্রে দেখতে ঠিক জলের ফোঁটা বা একটি জ্বলজ্বলে মুক্তোর মতো লাগে।
- এর এই অপূর্ব ভৌগোলিক অবস্থান, আকৃতি ও অপরূপ সৌন্দর্যের জন্যই একে প্রাচ্যের মুক্তো বলা হয়।
12. পাকিস্তানের কৃষিকাজ মূলত জলসেচের ওপর নির্ভরশীল কেন?
উত্তর দেখো
- পাকিস্তানের জলবায়ু অত্যন্ত শুষ্ক এবং সেখানে সারা বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম।
- বৃষ্টির অভাবে কৃষিকাজের জন্য জলের এই ঘাটতি মেটাতে কৃষকদের মূলত খালের জল ও নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হয়।
- সিন্ধু ও তার উপনদীগুলিতে একাধিক বাঁধ তৈরি করে সেখান থেকে খাল কেটে এই উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
13. পাকিস্তানের ‘কারেজ প্রথা’ সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর দেখো
- পাকিস্তানের পশ্চিম দিকের বিস্তীর্ণ শুষ্ক পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় এবং প্রচণ্ড গরমে জল দ্রুত বাষ্প হয়ে শুকিয়ে যায়।
- তাই জলের বাষ্পীভবন আটকানোর জন্য মাটির নিচ দিয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ কেটে সরাসরি কৃষিজমিতে জল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- মাটির তলার সুড়ঙ্গ দিয়ে জল নিয়ে যাওয়ার এই প্রাচীন ও বিশেষ পদ্ধতিকেই পাকিস্তানে কারেজ প্রথা বলা হয়।
14. পাকিস্তানের প্রধান কৃষিজ ফসলগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর দেখো
- এখানকার প্রধান খাদ্যফসল ও অর্থকরী ফসলগুলি হলো— গম, তুলো বা কার্পাস, আখ এবং ধান।
- শুষ্ক জলবায়ু হওয়ার কারণে এখানে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের আপেল, আঙুর, বেদানা ও খেজুরের মতো ফলেরও চাষ হয়।
15. মালদ্বীপের অর্থনীতি মূলত কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং কেন?
উত্তর দেখো
- পর্যটন শিল্প: নীল সমুদ্র এবং পরিষ্কার বালুকাময় তটভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এখানে ছুটি কাটাতে আসেন।
- মৎস্য শিল্প: চারদিকে সমুদ্র থাকায় এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা হলো মাছ ধরা, যা তারা বিদেশেও রপ্তানি করে।
16. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন?
উত্তর দেখো
- আমদানি: ভারত পাকিস্তান থেকে প্রধানত চামড়া, শুকনো ফল এবং কার্পাস আমদানি করে।
- রপ্তানি: এর বিনিময়ে ভারত পাকিস্তানে মূলত লৌহ-আকরিক, চা, মশলা ও কয়লা রপ্তানি করে থাকে।
17. ভারত তার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে প্রধানত কী কী জিনিস আমদানি করে?
উত্তর দেখো
- পাকিস্তান থেকে আমদানি: ভারত তার এই প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে প্রধানত চামড়া, কার্পাস এবং বিভিন্ন শুকনো ফল আমদানি করে।
- শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানি: ভারত শ্রীলঙ্কা থেকে মূলত মূল্যবান রত্ন, গ্রাফাইট, লবঙ্গ এবং নারকেল জাত দ্রব্য আমদানি করে থাকে।
18. ভারত তার প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটানে কী কী জিনিস রপ্তানি করে?
উত্তর দেখো
- নেপালে রপ্তানি: ভারত নেপালে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, ওষুধ, সুতির কাপড় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রপ্তানি করে।
- ভুটানে রপ্তানি: অন্যদিকে ভারত ভুটানে মূলত যন্ত্রপাতি, কয়লা, চিনি, ওষুধ এবং যানবাহন রপ্তানি করে থাকে।
19. ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা লেখো।
উত্তর দেখো
- ভারত বাংলাদেশ থেকে প্রধানত কাঁচা পাট, পাটের তৈরি জিনিস, সুপারি, চামড়া এবং ইলিশ মাছ আমদানি করে।
- এর বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে কয়লা, খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, তুলা এবং ইস্পাত রপ্তানি করে। এই ব্যবসা দুই দেশের অর্থনীতিকেই মজবুত করে।
20. ভারত ও মায়ানমারের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো。
উত্তর দেখো
- আমদানি: ভারত মায়ানমার থেকে প্রধানত উন্নত মানের সেগুন কাঠ, খনিজ তেল, টিন এবং মূল্যবান রত্ন প্রচুর পরিমাণে আমদানি করে।
- রপ্তানি: এর বিনিময়ে ভারত তার এই প্রতিবেশী দেশে ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, কয়লা এবং সুতির কাপড় রপ্তানি করে থাকে।
21. শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে চা ও নারকেল চাষের গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
- শ্রীলঙ্কার অনুকূল জলবায়ু ও মাটির কারণে এই দুটি বাগিচা ফসল সেখানে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
- উন্নত মানের এই চা এবং নারকেল (ও নারকেল জাত দ্রব্য) বিদেশে রপ্তানি করে শ্রীলঙ্কা প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা বা অর্থ উপার্জন করে, যা তাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
22. প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে সুসম্পর্ক না থাকলে কী কী অসুবিধা বা সমস্যা হতে পারে?
উত্তর দেখো
- নিজেদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়, যার ফলে উভয় দেশেরই আর্থিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
- সীমান্তে সারাক্ষণ অশান্তি ও যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং দেশের প্রচুর অর্থ সামরিক খাতে নষ্ট হয়।
- বন্যা বা মহামারির মতো বিপদের সময় একে অপরের সাহায্য পাওয়া যায় না।