অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – ৪ ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 5
অধ্যায় 8: ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সাথে সম্পর্ক
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. সার্ক কী? দক্ষিণ এশিয়ায় সার্ক গঠনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। (1+4=5)
উত্তর দেখো
সার্ক গঠনের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ:
- অর্থনৈতিক উন্নতি: সদস্য দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করা।
- জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি ঘটিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
- শান্তি ও নিরাপত্তা: দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে সীমানায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
- সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান: সদস্য দেশগুলির মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি প্রযুক্তির আদানপ্রদান বাড়ানো, যাতে সব দেশ সমানভাবে উন্নত হতে পারে।
2. নেপালের পর্যটন শিল্প অত্যন্ত উন্নত কেন? পাকিস্তানের কৃষিকাজে জলসেচ ব্যবস্থা ও কারেজ প্রথার গুরুত্ব আলোচনা করো। (2.5+2.5=5)
উত্তর দেখো
- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্গ: সম্পূর্ণ হিমালয়ের কোলে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। মাউন্ট এভারেস্ট, অন্নপূর্ণার মতো পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গগুলি দেখার জন্য এবং পর্বতারোহণের জন্য সারা বিশ্ব থেকে মানুষ এখানে আসেন।
- ঐতিহ্যবাহী শহর: কাঠমান্ডু, পোখরার মতো সুন্দর শহর এবং পশুপতিনাথ মন্দিরের মতো পুরোনো ধর্মীয় স্থানগুলি পর্যটকদের ভীষণভাবে আকর্ষণ করে।
পাকিস্তানের কৃষিকাজে জলসেচ ও কারেজ প্রথার গুরুত্ব:
- জলসেচের প্রয়োজনীয়তা: পাকিস্তানের জলবায়ু অত্যন্ত শুষ্ক এবং বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। তাই কৃষিকাজের জন্য জলের এই ঘাটতি মেটাতে সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলিতে বাঁধ দিয়ে খাল কেটে উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর ওপর নির্ভর করেই সেখানে গম ও তুলো চাষ হয়।
- কারেজ প্রথা: পশ্চিমের শুষ্ক পাহাড়ি অঞ্চলে জলের বাষ্পীভবন আটকানোর জন্য মাটির নিচ দিয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ কেটে কৃষিজমিতে জল নিয়ে যাওয়ার প্রাচীন পদ্ধতিকে কারেজ প্রথা বলে। এটি ওই অঞ্চলের কৃষিকাজকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
3. বাংলাদেশের কৃষিকাজ ও কুটিরশিল্পের উন্নতির প্রধান কারণগুলি কী কী? (3+2=5)
উত্তর দেখো
- উর্বর সমভূমি: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) ও মেঘনার মতো অসংখ্য নদীর বয়ে আনা উর্বর পলিমাটি দিয়ে এখানকার সমভূমি তৈরি, যা ধান ও পাট চাষের জন্য অত্যন্ত আদর্শ।
- অনুকূল জলবায়ু ও জলসেচ: এখানকার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত কৃষিকাজের পক্ষে খুব সহায়ক। এছাড়া অসংখ্য নদনদী থাকায় খরা মরশুমে খুব সহজেই জমিতে জলসেচ করা যায়।
কুটিরশিল্পের উন্নতির কারণ:
- কাঁচামালের সহজলভ্যতা: উন্নত মানের পাট, বাঁশ, বেত এবং রেশম গুটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাওয়ায় এখানে হস্তশিল্পের প্রচুর প্রসার ঘটেছে।
- ঐতিহ্য ও দক্ষতা: বংশপরম্পরায় এখানকার তাঁতি ও কারিগররা অত্যন্ত দক্ষ। তাদের তৈরি টাঙ্গাইল, জামদানি শাড়ি এবং নকশিকাঁথা সারা বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
4. প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা কী? ভারতের সাথে বাংলাদেশ ও ভুটানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আলোচনা করো। (2+3=5)
উত্তর দেখো
- সুসম্পর্ক থাকলে নিজেদের মধ্যে জিনিসপত্রের আমদানি ও রপ্তানি খুব সহজে হয়, যা উভয় দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করে।
- সীমান্তে যুদ্ধ বা অশান্তি না থাকলে দেশগুলি শান্তির পথে এগোতে পারে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির সময় একে অপরের থেকে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ও ভুটানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক:
- বাংলাদেশ: ভারত তার এই প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রধানত কাঁচা পাট, সুপারি, চামড়া এবং ইলিশ মাছ আমদানি করে। এর বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে কয়লা, খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, তুলা এবং ইস্পাত রপ্তানি করে।
- ভুটান: ভারতের সাথে ভুটানের খুব বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রয়েছে। ভারত ভুটান থেকে মূলত জলবিদ্যুৎ, কাঠ এবং ফল আমদানি করে। অন্যদিকে, ভারত ভুটানে যন্ত্রপাতি, কয়লা, চিনি, ওষুধ এবং যানবাহন রপ্তানি করে থাকে।
5. শ্রীলঙ্কার কৃষিকাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। শ্রীলঙ্কাকে ‘প্রাচ্যের মুক্তো’ বা ‘দারুচিনির দ্বীপ’ বলা হয় কেন? (3+2=5)
উত্তর দেখো
- বাগিচা কৃষি: শ্রীলঙ্কার মাটি এবং বৃষ্টিবহুল জলবায়ু বাগিচা কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল হলো চা, নারকেল এবং রবার, যা বিদেশে রপ্তানি করে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে।
- মশলার চাষ: এখানে দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, গোলমরিচের মতো উন্নত মানের সুগন্ধি মশলার ব্যাপক চাষ হয়।
- খাদ্যশস্য: সমুদ্র উপকূলবর্তী সমভূমি অঞ্চলে নিজেদের দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ করা হয়।
প্রাচ্যের মুক্তো ও দারুচিনির দ্বীপ:
- ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার নীল সমুদ্র, নারকেল গাছ ও সবুজ পাহাড়ে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতই মনোরম এবং মানচিত্রে এর আকৃতি জলের ফোঁটার মতো হওয়ায়, একে ‘প্রাচ্যের মুক্তো’ বলা হয়।
- অন্যদিকে, এই দেশে প্রচুর পরিমাণে অত্যন্ত উন্নত মানের দারুচিনি উৎপন্ন হয় বলে একে ‘দারুচিনির দ্বীপ’ বলা হয়ে থাকে।
6. মায়ানমারের বনজ ও খনিজ সম্পদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ভারতের সাথে মায়ানমারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন? (3+2=5)
উত্তর দেখো
- বনজ সম্পদ: মায়ানমারের অর্ধেকেরও বেশি অংশ গভীর জঙ্গলে ঢাকা। এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত ও মূল্যবান সম্পদ হলো সেগুন কাঠ, যা সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। এছাড়া গর্জন, মেহগনি, রবার ও বাঁশ এখানকার অন্যতম বনজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ: প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে মায়ানমারে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে খনিজ তেল, টিন, সিসা, দস্তা এবং মূল্যবান রত্ন (চুনি, পান্না, নীলকান্তমণি) উল্লেখযোগ্য।
ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক:
- ভারত তার এই প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রধানত উন্নত মানের সেগুন কাঠ, খনিজ তেল, টিন এবং মূল্যবান রত্ন প্রচুর পরিমাণে আমদানি করে।
- এর বিনিময়ে ভারত মায়ানমারে নিজেদের দেশে তৈরি ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, কয়লা এবং সুতির কাপড় রপ্তানি করে থাকে। দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ।
7. ভুটানের ভূপ্রকৃতি ও জলবিদ্যুৎ শক্তির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো। ভারতের সাথে নেপালের বাণিজ্যের প্রধান দিকগুলি কী কী? (3+2=5)
উত্তর দেখো
- ভূপ্রকৃতি: ভুটান সম্পূর্ণভাবে পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি দেশ। এখানকার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত উঁচু-নিচু। চারিদিকে বরফে ঢাকা উঁচু পর্বতশৃঙ্গ এবং গভীর উপত্যকা দেখা যায়।
- জলবিদ্যুৎ: পাহাড়ি বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে এখানকার নদীগুলি অত্যন্ত খরস্রোতা। তাই এখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সুযোগ রয়েছে। ভারতের সহায়তায় ভুটান চুখা, তালাই প্রভৃতি বড়ো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলেছে এবং সেই বিদ্যুৎ ভারতে রপ্তানি করে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে।
ভারতের সাথে নেপালের বাণিজ্য:
- আমদানি: ভারত নেপাল থেকে মূলত বড়ো এলাচ, চামড়া, পশম এবং হিমালয়ের বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ আমদানি করে।
- রপ্তানি: অন্যদিকে ভারত নেপালে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, ওষুধ, কাপড় এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী রপ্তানি করে। নেপাল একটি স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় তারা ভারতের কলকাতা বন্দর মাধ্যমেই বাইরের দেশগুলির সাথে বাণিজ্য করে।