অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 2 অস্তিত পৃথিবী, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 2: অস্থিত পৃথিবী
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) –

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

1. ‘মহাদেশীয় সরণ তত্ত্ব’ (Continental Drift Theory) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো
  • প্রবক্তা: 1912 সালে জার্মান আবহবিদ আলফ্রেড ওয়েগনার (Alfred Wegener) এই তত্ত্বটি প্রথম প্রকাশ করেন।
  • মূল বক্তব্য: তাঁর মতে, প্রায় 30 কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একসাথে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র বিশাল ভূখণ্ড গঠন করেছিল। প্রায় 20 কোটি বছর আগে এই বিশাল ভূখণ্ডটি ভাঙতে শুরু করে।
  • সরণ: খণ্ডিত ভূখণ্ডের টুকরোগুলি ভাসমান অবস্থায় ক্রমশ একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়ে (সরণ ঘটে) বর্তমানের মহাদেশ ও মহাসাগরগুলির রূপ নিয়েছে। একেই মহাদেশীয় সরণ তত্ত্ব বলে।

2. ‘প্যানজিয়া’ (Pangea) এবং ‘প্যানথালাসা’ (Panthalassa) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো
  • প্যানজিয়া: মহাদেশীয় সরণ তত্ত্ব অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় 30 কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ বা মহাদেশগুলি একসাথে যুক্ত ছিল। এই আদিম ও বিশাল ভূখণ্ডটিকেই ‘প্যানজিয়া’ বলা হয়।
  • প্যানথালাসা: আদিমকালের সেই বিশাল ভূখণ্ড বা প্যানজিয়ার চারপাশ ঘিরে যে একটানা বিশাল জলভাগ বা আদিম মহাসাগর অবস্থান করত, তাকে ‘প্যানথালাসা’ বলা হতো।

3. ‘পাত সংস্থান তত্ত্ব’ (Plate Tectonics Theory) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো
  • প্রবক্তা: 1968 সালে ভূতত্ত্ববিদ পিঁচো, ম্যাকেনজি এবং পার্কার সম্মিলিতভাবে এই যুগান্তকারী তত্ত্বটি প্রকাশ করেন।
  • মূল বক্তব্য: এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর একেবারে ওপরের কঠিন আবরণ অর্থাৎ শিলামণ্ডল কোনো টানা বা অখণ্ড আবরণ নয়। এটি বেশ কয়েকটি ছোটো-বড়ো কঠিন টুকরো বা ‘পাত’-এ বিভক্ত। পৃথিবীতে মূলত 6টি বৃহৎ পাত রয়েছে (যেমন- ইউরেশীয় পাত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত)।
  • গতিশীলতা: এই পাতগুলি স্থির নয়, এগুলি গুরুমণ্ডলের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরের ওপর ভাসমান অবস্থায় অত্যন্ত ধীর গতিতে সর্বদা চলাচল করছে।

4. পৃথিবীর পাতগুলি কেন গতিশীল হয় বা চলাচল করে?

উত্তর দেখো

পৃথিবীর কঠিন শিলামণ্ডলের পাতগুলি মূলত দুটি কারণে গতিশীল হয়:

  • অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের সান্দ্রতা: পাতগুলির ঠিক নীচে থাকা গুরুমণ্ডলের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরটি অর্ধতরল বা পিচ্ছিল অবস্থায় রয়েছে। এই স্তরের ওপরেই পাতগুলি ভাসমান অবস্থায় থাকে।
  • পরিচলন স্রোত: ভূগর্ভের অত্যধিক তাপে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরের গলিত ম্যাগমার মধ্যে চক্রাকার ‘পরিচলন স্রোত’-এর সৃষ্টি হয়। এই স্রোত যখন নীচ থেকে ওপরের দিকে উঠে পাতগুলিতে ধাক্কা মারে, তখন স্রোতের ধাক্কায় পাতগুলি বছরে কয়েক সেন্টিমিটার বেগে একে অপরের দিকে বা দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়।

5. অভিসারী পাত সীমানাকে (Convergent Boundary) ‘বিনাশী’ পাত সীমানা বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
  • সংঘর্ষ: অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়ে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
  • অধঃপাত: এই সংঘর্ষের ফলে অপেক্ষাকৃত ভারী পাতটি হালকা পাতের নীচে ঢুকে গিয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরে (গুরুমণ্ডলে) প্রবেশ করে।
  • বিনাশ: পৃথিবীর অভ্যন্তরের প্রচণ্ড তাপে ওই নিমজ্জিত ভারী পাতটি গলে গিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পাতের এই বিনাশ ঘটার জন্যই এই সীমানাকে ‘বিনাশী পাত সীমানা’ বলে।

6. প্রতিসারী পাত সীমানাকে (Divergent Boundary) ‘গঠনকারী’ পাত সীমানা বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
  • বিপরীত চলন: প্রতিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত একে অপরের থেকে বিপরীত দিকে বা দূরে সরে যায়।
  • ম্যাগমার নির্গমন: পাত দুটি দূরে সরে যাওয়ার ফলে মাঝখানে যে ফাটল বা শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা সেই ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
  • নতুন ভূতক গঠন: বাইরে বেরিয়ে আসা এই ম্যাগমা সমুদ্রের জলের সংস্পর্শে ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে নতুন ভূতক বা সামুদ্রিক শৈলশিরা গঠন করে। নতুন ভূতক গঠিত হয় বলেই একে ‘গঠনকারী পাত সীমানা’ বলে।

7. নিরপেক্ষ পাত সীমানা (Transform Boundary) বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো
  • সংজ্ঞা: যখন দুটি পাত একে অপরের সমান্তরালে বা পাশাপাশি ঘষে অগ্রসর হয়, তখন তাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি সংঘর্ষ বা দূরে সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে না। ফলে এখানে ভূতক ধ্বংস বা সৃষ্টি কোনোটিই হয় না বলে একে নিরপেক্ষ পাত সীমানা বলে।
  • ফলাফল: পাতের ঘর্ষণের ফলে এই সীমানায় প্রায়শই ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়ে থাকে এবং চ্যুতি বা ফাটলের সৃষ্টি হয়।
  • উদাহরণ: উত্তর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সান আন্দ্রিয়াজ চ্যুতি’ হলো নিরপেক্ষ পাত সীমানার একটি আদর্শ উদাহরণ।

8. হিমালয় বা আল্পস-এর মতো ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর দেখো

হিমালয় বা আল্পসের মতো সুউচ্চ ভঙ্গিল পর্বতগুলি মূলত ‘অভিসারী পাত সীমানায়’ সৃষ্টি হয়েছে:

  • অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত যখন একে অপরের দিকে এগিয়ে এসে প্রবল জোরে ধাক্কা খায় বা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন সেই দুই পাতের মাঝখানে থাকা সমুদ্রের তলদেশের পলিস্তরে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে।
  • এই প্রবল চাপের ফলে নরম পলিস্তর ভাঁজ খেয়ে (Fold) ক্রমশ ওপরের দিকে উঠে গিয়ে হিমালয় বা আল্পস-এর মতো নবীন ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে।

9. ভূমিকম্প (Earthquake) সৃষ্টির প্রধান তিনটি কারণ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো

ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান তিনটি প্রাকৃতিক কারণ হলো:

  • পাত সঞ্চালন (প্রধান কারণ): পৃথিবীর টেকটনিক পাতগুলি সর্বদা গতিশীল। এই পাতগুলি যখন একে অপরের সাথে ধাক্কা খায় বা প্রবল বেগে ঘষা খায়, তখন ভূগর্ভে সঞ্চিত বিপুল শক্তি মুক্ত হয়ে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
  • অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরি থেকে যখন প্রবল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ম্যাগমা, গ্যাস ও বাষ্প বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন সেই প্রচণ্ড ধাক্কায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র ভূমিকম্প হয়।
  • ধস ও হিমানী সম্প্রপাত: উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে বড়ো ধরনের ধস নামলে বা বরফের বিশাল স্তূপ (হিমানী সম্প্রপাত) তীব্র বেগে নীচে আছড়ে পড়লেও স্থানীয়ভাবে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

10. ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus) ও উপকেন্দ্র (Epicenter)-এর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো:

  • অবস্থান: পৃথিবীর অভ্যন্তরে (ভূগর্ভে) যে নির্দিষ্ট স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, তাকে কেন্দ্র বলে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের ঠিক সোজাসুজি বা উলম্বভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপরে অবস্থিত স্থানটিকে উপকেন্দ্র বলে।
  • তরঙ্গের পৌঁছানো: ভূকম্পন তরঙ্গ কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই তরঙ্গ সবচেয়ে আগে এসে পৌঁছায় উপকেন্দ্রে।
  • ক্ষয়ক্ষতি: কেন্দ্রে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না, কেবল শক্তির মুক্তি ঘটে। কিন্তু উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই সেখানে ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসলীলা সর্বাধিক হয়।

11. ভূমিকম্পের তরঙ্গ (Seismic Waves) কয় প্রকার ও কী কী? এদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর দেখো

ভূমিকম্পের তরঙ্গ প্রধানত তিন প্রকার:

  • P-তরঙ্গ (Primary Wave): এটি প্রাথমিক তরঙ্গ। এটি সবচেয়ে দ্রুতগামী (প্রায় 6 কিমি/সেকেন্ড) এবং এটি কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়—সব ধরনের মাধ্যমের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে।
  • S-তরঙ্গ (Secondary Wave): এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ। এর গতিবেগ P-তরঙ্গের চেয়ে কম এবং এটি তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না, কেবল কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
  • L-তরঙ্গ (Surface Wave): এটি পৃষ্ঠ তরঙ্গ। এর গতিবেগ সবচেয়ে কম হলেও এটি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক। এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রবেশ না করে কেবল ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং বাড়িঘর ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

12. সিসমোগ্রাফ (Seismograph) এবং রিখটার স্কেল (Richter Scale)-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

সিসমোগ্রাফ এবং রিখটার স্কেলের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো:

  • প্রকৃতি: সিসমোগ্রাফ হলো একটি ভৌত যন্ত্র। অন্যদিকে, রিখটার স্কেল কোনো যন্ত্র নয়, এটি একটি গাণিতিক পরিমাপক বা সূচক (Mathematical Scale)।
  • কাজ: সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবিধি, উৎপত্তিস্থল এবং স্থায়িত্ব রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলের সাহায্যে ভূমিকম্পের তীব্রতা, মাত্রা বা ধ্বংস করার ক্ষমতা (Magnitude) পরিমাপ করা হয়।
  • রেকর্ড বা সূচক: সিসমোগ্রাফে একটি ড্রামের গায়ে লাগানো কাগজের ওপর তরঙ্গের আঁকাবাঁকা রেখা বা গ্রাফ তৈরি হয় (যাকে সিসমোগ্রাম বলে)। আর রিখটার স্কেলে 0 থেকে 10 পর্যন্ত গাণিতিক সংখ্যা বা সূচক থাকে।

13. সুনামি (Tsunami) বলতে কী বোঝো? এর সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
  • সংজ্ঞা: ‘সুনামি’ (Tsunami) হলো একটি জাপানি শব্দ (Tsu = বন্দর এবং Nami = ঢেউ)। সমুদ্রের তলদেশে ভয়াবহ ভূ-আলোড়নের ফলে সমুদ্রের জল ফুলে উঠে যে ধ্বংসাত্মক, বিশাল ও উঁচু ঢেউ নিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে, তাকে সুনামি বলে।
  • সৃষ্টির কারণ: সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো— 1) সমুদ্রের তলদেশে রিখটার স্কেলে 7 বা তার বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। 2) সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত আগ্নেয়গিরির প্রবল অগ্ন্যুৎপাত। 3) সমুদ্রের তলদেশে বিশাল আকারের ধস নামা বা উল্কাপাত।

14. আগ্নেয়গিরি (Volcano) বলতে কী বোঝো? এর ‘জ্বালামুখ’ ও ‘ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ’ কী?

উত্তর দেখো
  • আগ্নেয়গিরি: ভূতকের কোনো দুর্বল ফাটল বা গর্ত দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা, গ্যাস, জলীয় বাষ্প, ভস্ম ও পাথর লাভা রূপে প্রবল বেগে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে এলে, সেই স্থানটিকে আগ্নেয়গিরি বলে।
  • জ্বালামুখ (Crater): আগ্নেয়গিরির চূড়ায় থাকা যে ফানেল বা গামলা আকৃতির গর্ত বা পথ দিয়ে ভূগর্ভের লাভা বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে জ্বালামুখ বলে।
  • ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ (Magma Chamber): আগ্নেয়গিরির ঠিক নীচে ভূগর্ভের গভীরে যে বিশাল গহ্বরে গলিত ম্যাগমা বা তরল শিলা জমা হয়ে থাকে, তাকে ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ বলা হয়।

15. অগ্ন্যুৎপাতের সক্রিয়তা বা স্থায়িত্ব অনুসারে আগ্নেয়গিরিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? প্রতিটি ভাগের একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

অগ্ন্যুৎপাতের সক্রিয়তা বা স্থায়িত্ব অনুযায়ী আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  • জীবন্ত বা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি: যেখান থেকে এখনো নিয়মিতভাবে অগ্ন্যুৎপাত হয়। উদাহরণ: ভারতের আন্দামানের ব্যারেন (Barren) দ্বীপ।
  • সুপ্ত আগ্নেয়গিরি: যা বর্তমানে শান্ত কিন্তু ভবিষ্যতে যেকোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে। উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা (Fujiyama)
  • মৃত আগ্নেয়গিরি: যেখানে সুদীর্ঘকাল অগ্ন্যুৎপাত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। উদাহরণ: মায়ানমারের পোপো (Popa)

16. জীবন্ত আগ্নেয়গিরির চেয়ে সুপ্ত আগ্নেয়গিরিগুলি অনেক বেশি বিপজ্জনক বা ধ্বংসাত্মক হয় কেন?

উত্তর দেখো
  • জীবন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে যেহেতু নিয়মিত অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাই মানুষ সেই এলাকা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।
  • কিন্তু সুপ্ত আগ্নেয়গিরিগুলি দীর্ঘকাল (কয়েকশো বছর) ধরে শান্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। ফলে মানুষ সেগুলিকে নিরাপদ মনে করে তার আশেপাশে জনবসতি বা শহর গড়ে তোলে।
  • দীর্ঘকাল পর এই সুপ্ত আগ্নেয়গিরিগুলি যখন কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ করে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেগে ওঠে, তখন পালানোর কোনো সুযোগ থাকে না, ফলে জীবন ও সম্পত্তির সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

17. ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ (Pacific Ring of Fire) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো
  • সংজ্ঞা: প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূল (উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা) এবং পশ্চিম উপকূল (এশিয়া ও ওশেনিয়া) বরাবর পৃথিবীর অধিকাংশ আগ্নেয়গিরি একটি বলয় বা আংটির মতো পরপর অবস্থান করছে। আগ্নেয়গিরিগুলির এই বলয়াকার শৃঙ্খলকেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলা হয়।
  • গুরুত্ব: এই অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। পৃথিবীর প্রায় 70% জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এই অঞ্চলেই অবস্থিত এবং পৃথিবীর ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিগুলির বেশিরভাগই এই বলয় বরাবর ঘটে থাকে (যেমন- জাপান, ইন্দোনেশিয়া)।

18. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে মানুষের বা পরিবেশের কী কী সুফল ও কুফল হতে পারে?

উত্তর দেখো

সুফল (উপকারিতা):

  • নির্গত লাভা জমাট বেঁধে ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে কালো মাটির (Black soil) সৃষ্টি করে, তা কার্পাস বা তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উর্বর (যেমন- দাক্ষিণাত্যের মালভূমি)।
  • অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভের অনেক অমূল্য খনিজ পদার্থ পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসে।

কুফল (অপকারিতা):

  • উত্তপ্ত লাভা, ছাই ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আশেপাশে থাকা জনবসতি ধ্বংস হয় এবং মানুষের প্রচুর প্রাণহানি ঘটে।
  • সমুদ্রের তলদেশে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হলে ধ্বংসাত্মক সুনামির সৃষ্টি হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার