জীববিদ্যা ও মানব কল্যাণ: নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান সাঁতরা প্রকাশনী বইয়ের প্রশ্ন উত্তর

✅ প্রথম পর্যায়: MCQ প্রশ্ন ও উত্তর (১ নম্বর)

🎯 বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন [MCQ] – প্রশ্নমান ১

১. সব অ্যান্টিবডিই আসলে কী?

  1. অ্যালবুমিন
  2. আলফা গ্লোবিউলিন
  3. গ্লোবিউলিন
  4. ডেল্টা গ্লোবিউলিন

✅ উত্তর: গ্লোবিউলিন

২. নীচে উল্লিখিত কোন্ রোগে দেহের স্বাভাবিক ইমিউনিটি নষ্ট হয়ে যায়?

  1. সিফিলিস
  2. গনোরিয়া
  3. AIDS
  4. হেপাটাইটিস-B

✅ উত্তর: AIDS

৩. টিকাকরণ প্রদান করে কোনটি?

  1. সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  2. নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
  3. প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা
  4. a এবং b উভয়ই

✅ উত্তর: সক্রিয় অনাক্রম্যতা

৪. কোন্ ভ্যাকসিন মুখ দিয়ে গ্রহণ করা হয়?

  1. টাইফয়েড
  2. পোলিও
  3. কলেরা
  4. টিটেনাস

✅ উত্তর: পোলিও

৫. গুটি বসন্তের টিকা কে আবিষ্কার করেন?

  1. ফ্লেমিং
  2. পাস্তুর
  3. জেনার
  4. রবার্ট কচ

✅ উত্তর: জেনার

৬. অ্যান্টিবডি-র চারটি পলিপেপটাইড চেন যে বন্ড দ্বারা সংলগ্ন তা হল:

  1. পেপটাইড
  2. গ্লাইকোসাইডিক
  3. সালফাইড (বা ডাইসালফাইড বন্ড)
  4. হাইড্রোজেন বন্ড

✅ উত্তর: সালফাইড

৭. সহজাত অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে কিসের দ্বারা?

  1. নিউট্রোফিল দ্বারা
  2. B-cell দ্বারা
  3. T-cell দ্বারা
  4. অ্যান্টিবডি দ্বারা

✅ উত্তর: নিউট্রোফিল দ্বারা (নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিসে অংশ নেয়)

৮. কোন্ অ্যান্টিবডি রক্তে বেশি পরিমাণে থাকে?

  1. IgE
  2. IgG
  3. IgM
  4. IgA

✅ উত্তর: IgG

৯. ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় কী থেকে?

  1. মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোশ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
  2. জীবিত ব্যাকটেরিয়ার কোশ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
  3. পোষক দেহের অতিরিক্ত অনাক্রম্যতার প্রকাশ দ্বারা
  4. ভাইরাস কর্তৃক নির্গত বিষ পদার্থের দ্বারা

✅ উত্তর: মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোশ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা (আসলে নিষ্ক্রিয় টক্সিন বা টক্সয়েড থেকে)

১০. কোন্ অ্যান্টিবডি আকারে সবচেয়ে বড়ো?

  1. IgE
  2. IgM
  3. IgA
  4. IgD

✅ উত্তর: IgM

১১. ম্যালেরিয়া রোগে উচ্চ তাপমাত্রার কারণ কোনটি?

  1. রক্ত জালকের মধ্যে স্পোরোজয়েটসের প্রবেশ
  2. লোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন
  3. ক্রিপটোমেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ
  4. মেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ

✅ উত্তর: লোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন

১২. ইমিউনোলজির জনক কে?

  1. Louis Pasteur
  2. Edward Jenner
  3. Ferdinand Kohn
  4. Robert Koch

✅ উত্তর: Edward Jenner

১৩. যে ব্যাকটেরিয়ার জন্য যক্ষ্মা রোগ হয়, তা হল:

  1. Mycobacterium (tuberculosis)
  2. Streptococcus
  3. Pneumococcus
  4. Salmonella

✅ উত্তর: Mycobacterium (tuberculosis)

১৪. ভ্যাকসিনের ভিত্তি হিসেবে অর্জিত অনাক্রম্যতার কোন্ বৈশিষ্ট্যটিকে ধরা হয়?

  1. ডাইভারসিটি
  2. মেমারি
  3. স্পেসিফিসিটি
  4. a ও b উভয়

✅ উত্তর: মেমারি (স্মৃতি কোশ তৈরির মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সম্ভব)

১৫. কোলোস্ট্রামে কোন্ প্রকার অ্যান্টিবডি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে?

  1. IgA
  2. IgM
  3. IgE
  4. কোনোটিই নয়

✅ উত্তর: IgA

১৬. ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় কীভাবে?

  1. মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোশ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
  2. জীবিত ব্যাকটেরিয়ার কোশ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা
  3. পোষক দেহের অতিরিক্ত অনাক্রম্যতার প্রকাশ দ্বারা
  4. ভাইরাস কর্তৃক নির্গত বিষ পদার্থের দ্বারা

✅ উত্তর: মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোশ থেকে যে বিষ নির্গত হয় তার দ্বারা

১৭. কোন্ অ্যান্টিবডি আকারে সবচেয়ে বড়ো?

  1. IgE
  2. IgG
  3. IgM
  4. IgA

✅ উত্তর: IgM

১৮. নিউমোনিয়া যা ফুসফুসের অ্যালভিওলাইকে সংক্রামিত করে, এটি হয় কোনটি দ্বারা?

  1. Salmonella typhii
  2. Haemophilus influenzae (বা Pneumococcus)
  3. Plasmodium
  4. কোনোটিই নয়

✅ উত্তর: Haemophilus influenzae (এটি নিউমোনিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ)

১৯. ডিপথেরিয়া রোগের একটি প্রধান উপসর্গ হল:

  1. জলাতঙ্ক
  2. রক্তপাতযুক্ত মাড়ি
  3. জলবিয়োজন
  4. গলা ব্যথা

✅ উত্তর: গলা ব্যথা

২০. ম্যালেরিয়া রোগে উচ্চ তাপমাত্রার কারণ:

  1. রক্ত জালকের মধ্যে স্পোরোজয়েটসের প্রবেশ
  2. লোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন
  3. ক্রিপটোমেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ
  4. মেরোজয়েটসের লোহিত কণিকায় প্রবেশ

✅ উত্তর: লোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমন

২১. অ্যান্টিবডি হল একটি যৌগিক:

  1. প্রোস্টাম্যান্ডিন
  2. স্টেরয়েড
  3. গ্লাইকোপ্রোটিন
  4. লিপোপ্রোটিন

✅ উত্তর: গ্লাইকোপ্রোটিন

২২. হেপাটাইসিস B-এর অপর নাম কী?

  1. ক্যাটারহাল জন্ডিস
  2. সিরাম জন্ডিস
  3. এপিডেমিক জন্ডিস
  4. কোনোটিই নয়

✅ উত্তর: সিরাম জন্ডিস

২৩. ইমিউনোলজির জনক কে?

  1. Louis Pasteur
  2. Edward Jenner
  3. Ferdinand Kohn
  4. Robert Koch

✅ উত্তর: Edward Jenner

২৪. যে ব্যাকটেরিয়ার জন্য যক্ষ্মা রোগ হয়, তা হল:

  1. Mycobacterium (tuberculosis)
  2. Streptococcus
  3. Pneumococcus
  4. Salmonella

✅ উত্তর: Mycobacterium (tuberculosis)

২৫. অনাক্রম্যতন্ত্র গঠিত হয় যার দ্বারা:

  1. রসভিত্তিক এবং কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা
  2. অ্যান্টিজেন ইনডিউসড অনাক্রম্যতা
  3. রসভিত্তিক তন্ত্র
  4. রক্তভিত্তিক এবং ফাইব্রাস তন্ত্র

✅ উত্তর: রসভিত্তিক এবং কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা

📝 দ্বিতীয় পর্যায়: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (এককথায়) – প্রশ্নমান ১

📌 এককথায় উত্তর দাও – প্রশ্নমান ১

১. কাকে অনাক্রম্যবিদ্যার জনক বলা হয়?

✅ উত্তর: এডওয়ার্ড জেনার

২. অ্যান্টিবডির চেন দুটি কী দিয়ে সংলগ্ন থাকে?

✅ উত্তর: ডাই-সালফাইড বন্ধনী বা সালফাইড বন্ড

৩. অ্যান্টিবডি কত প্রকারের হয়?

✅ উত্তর: পাঁচ প্রকারের (IgG, IgA, IgM, IgD, IgE)

৪. একটি অ্যান্টিজেনের উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর: ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কোশপ্রাচীর

৫. ডিপথেরিয়া রোগের রোগজীবাণুর নাম কী?

✅ উত্তর: কোরিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি

৬. যক্ষ্মা রোগের ভ্যাকসিনের নাম কী?

✅ উত্তর: BCG (বিসিজি)

৭. AIDS-এর পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Acquired Immuno Deficiency Syndrome

৮. ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক পতঙ্গের নাম কী?

✅ উত্তর: এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti)

৯. কোন্ তন্ত্র মানুষের রোগাক্রমণকে প্রতিহত করে?

✅ উত্তর: অনাক্রম্যতন্ত্র বা ইমিউন সিস্টেম

১০. রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু, ভাইরাস ইত্যাদি বিজাতীয় পদার্থের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে কী বলে?

✅ উত্তর: অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি

১১. অ্যান্টিজেন কত প্রকার ও কী কী?

✅ উত্তর: দুই প্রকার – এক্সোজেনাস ও এন্ডোজেনাস

১২. এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেনের উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর: ফুলের রেণু বা পরাগরেণু

১৩. এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেনের উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর: ভাইরাস-আক্রান্ত কোশ বা টিউমার কোশ

১৪. অ্যান্টিবডি কত রকমের?

✅ উত্তর: পাঁচ রকমের (IgG, IgA, IgM, IgD, IgE)

১৫. অ্যান্টিবডিতে ক-টি পলিপেপটাইড চেন থাকে?

✅ উত্তর: চারটি (দুটি ভারী ও দুটি হালকা)

১৬. অ্যান্টিবডির প্রতিটি ভারী চেনে কতকগুলি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে?

✅ উত্তর: প্রায় ৪৪০টি

১৭. চেনের প্রতিটি অর্ধাংশ কী দিয়ে যুক্ত থাকে?

✅ উত্তর: ডাই-সালফাইড বন্ধনী

১৮. উভয় চেনের অগ্রভাগের অংশকে কী বলে?

✅ উত্তর: প্যারাটোপ

১৯. ইমিউন রেসপন্স কত রকমের?

✅ উত্তর: দুই রকমের (প্রাথমিক ও গৌণ ইমিউন রেসপন্স)

২০. DPT-র পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Diphtheria, Pertussis, Tetanus

২১. BCG-র পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Bacillus Calmette Guerin

২২. OPV-র পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Oral Polio Vaccine

২৩. MMR-এর পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Measles, Mumps, Rubella

২৪. TT-র পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Tetanus Toxoid

২৫. দুটি পরজীবী আক্রান্ত রোগের নাম কী?

✅ উত্তর: ম্যালেরিয়া ও ফাইলেরিয়া

২৬. নিউমোনিয়া রোগের জীবাণুর নাম কী?

✅ উত্তর: স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি (Streptococcus pneumoniae)

২৭. লক-জ কোন্ রোগের অপর নাম? এই রোগের জীবাণুর নাম কী?

✅ উত্তর: অপর নাম: টিটেনাস। জীবাণুর নাম: ক্লস্ট্রিডিয়াম টিট্যানি (Clostridium tetani)

২৮. Mycobacterium tuberculosis কোন্ রোগের জীবাণু?

✅ উত্তর: যক্ষ্মা

২৯. দুটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের নাম কী?

✅ উত্তর: যক্ষ্মা ও টিটেনাস

৩০. হেপাটাইটিস-B রোগের ভাইরাসের নাম কী?

✅ উত্তর: হেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV)

৩১. দুটি পরজীবী ঘটিত রোগের নাম কী?

✅ উত্তর: ম্যালেরিয়া ও অ্যামিবিয়াসিস

৩২. অনাক্রম্যতায় অংশ নেয় এমন একটি উৎসেচকের উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর: লাইসোজাইম (যা অশ্রু ও লালায় থাকে)

৩৩. ক্ষত পরিষ্কারের জন্য কী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়?

✅ উত্তর: অ্যান্টিসেপটিক (যেমন: ডেটল) বা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট

৩৪. HIV-র পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Human Immunodeficiency Virus

৩৫. দুটি আদ্যপ্রাণী ঘটিত রোগের নাম কী?

✅ উত্তর: ম্যালেরিয়া ও অ্যামিবিয়াসিস (বা ডায়ারিয়া)

৩৬. দুটি ভাইরাস আক্রান্ত রোগের নাম কী?

✅ উত্তর: AIDS ও পোলিও

৩৭. কোন্ ভ্যাকসিন হেপাটাইটিস-B রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে?

✅ উত্তর: HBV ভ্যাকসিন (হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন)

৩৮. কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতায় কোন্ ধরনের লিম্ফোসাইট কোশ সক্রিয় হয়?

✅ উত্তর: T-লিম্ফোসাইট

৩৯. রসভিত্তিক অনাক্রম্যতায় কোন্ প্রকার লিম্ফোসাইট কার্যকরী হয়?

✅ উত্তর: B-লিম্ফোসাইট

৪০. প্লাজমা কোশ কোন্ অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে?

✅ উত্তর: অ্যান্টিবডি (IgG, IgA, IgM, IgD, IgE)

৪১. প্রথম কোন্ বিজ্ঞানী কোন্ রোগের টিকা আবিষ্কার করেন?

✅ উত্তর: এডওয়ার্ড জেনার, গুটি বসন্ত

৪২. পুষ্টিগত উপাদানের অভাবজনিত দুটি রোগের নাম করো।

✅ উত্তর: কোয়াশিওরকর (প্রোটিন অভাব) ও ম্যারাসমাস (শক্তি ও প্রোটিন অভাব)

৪৩. ডায়ারিয়ার রোগজীবাণুর নাম কী?

✅ উত্তর: ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) বা রোট ভাইরাস

৪৪. ম্যালেরিয়ার রোগজীবাণুর নাম কী?

✅ উত্তর: প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium)

📝 তৃতীয় পর্যায়: শূন্যস্থান পূরণ প্রশ্ন ও উত্তর – প্রশ্নমান ১ (হুবহু ফাইল থেকে)

📌 শূন্যস্থান পূরণ করো – প্রশ্নমান ১

১. পলিস্যাকারাইড একপ্রকারের ___________ ।

✅ উত্তর: পলিস্যাকারাইড একপ্রকারের **অ্যান্টিজেন**।

২. ইমিউনোগ্লোবিউলিন একপ্রকারের ___________ ।

✅ উত্তর: ইমিউনোগ্লোবিউলিন একপ্রকারের **অ্যান্টিবডি**।

৩. রক্তের মনোসাইট একপ্রকারের ___________ সেল।

✅ উত্তর: রক্তের মনোসাইট একপ্রকারের **শ্বেত রক্তকণিকা** সেল।

৪. অ্যান্টিবডি ___________ -এর মতো।

✅ উত্তর: অ্যান্টিবডি **Y**-এর মতো।

৫. অ্যান্টিবডির রাসায়নিক প্রকৃতি ___________ ।

✅ উত্তর: অ্যান্টিবডির রাসায়নিক প্রকৃতি **গ্লাইকোপ্রোটিন**।

৬. টিটেনাস রোগের জীবাণু হল ___________ ।

✅ উত্তর: টিটেনাস রোগের জীবাণু হল **ক্লস্ট্রিডিয়াম টিট্যানি (Clostridium tetani)**।

৭. HIV হল ___________ রোগের ভাইরাস।

✅ উত্তর: HIV হল **AIDS** রোগের ভাইরাস।

৮. ORS পান করতে হয় ___________ রোগে।

✅ উত্তর: ORS পান করতে হয় **ডায়ারিয়া** বা **কলেরা** রোগে।

৯. অ্যান্টিজেন অনাক্রম্যতন্ত্রকে ___________ করে।

✅ উত্তর: অ্যান্টিজেন অনাক্রম্যতন্ত্রকে **উদ্দীপিত** বা **সক্রিয়** করে।

১০. ফুলের রেণু হল একপ্রকার ___________ ।

✅ উত্তর: ফুলের রেণু হল একপ্রকার **এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন**।

১১. অ্যান্টিবডিতে ___________ ভারি শৃঙ্খল ও ___________ হালকা শৃঙ্খল থাকে।

✅ উত্তর: অ্যান্টিবডিতে **দুটি** ভারি শৃঙ্খল ও **দুটি** হালকা শৃঙ্খল থাকে।

১২. অ্যান্টিবডি সাধারণত ___________ জাতীয় প্রোটিন।

✅ উত্তর: অ্যান্টিবডি সাধারণত **গ্লোবিউলিন** জাতীয় প্রোটিন।

১৩. ___________ সর্বপ্রথম জলাতঙ্ক রোগের টিকা প্রস্তুত করেন।

✅ উত্তর: **লুই পাস্তুর** সর্বপ্রথম জলাতঙ্ক রোগের টিকা প্রস্তুত করেন।

১৪. গুদামজাত শস্য বিনষ্টকারী পতঙ্গদের দমনে ___________ নামক প্রোটোজোয়া ব্যবহার করা হয়।

✅ উত্তর: গুদামজাত শস্য বিনষ্টকারী পতঙ্গদের দমনে **নসিম গ্রাসিলি** নামক প্রোটোজোয়া ব্যবহার করা হয়।

১৫. বিন জাতীয় উদ্ভিদের মূলে ___________ নামক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া থাকে।

✅ উত্তর: বিন জাতীয় উদ্ভিদের মূলে **রাইজোবিয়াম** নামক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া থাকে।

১৬. মটর গাছের মূলে বসবাসকারী মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়াটি হল ___________।

✅ উত্তর: মটর গাছের মূলে বসবাসকারী মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়াটি হল **রাইজোবিয়াম লেগুমিনোসেরাম (Rhizobium leguminosarum)**।

১৭. ডেঙ্গু রোগের অপর নাম ___________।

✅ উত্তর: ডেঙ্গু রোগের অপর নাম **ব্রেক-বোন ফিভার** বা **হাড়-ভাঙ্গা জ্বর**।

১৮. অনাক্রম্যবিদ্যার জনক হলেন ___________।

✅ উত্তর: অনাক্রম্যবিদ্যার জনক হলেন **এডওয়ার্ড জেনার**।

১৯. ভ্যাকসিন প্রয়োগে ___________ রোগটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।

✅ উত্তর: ভ্যাকসিন প্রয়োগে **গুটি বসন্ত** রোগটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।

২০. অর্কিড জাতীয় উদ্ভিদের মূলে ___________ গঠিত না হলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব হয় না।

✅ উত্তর: অর্কিড জাতীয় উদ্ভিদের মূলে **মাইকোরাইজা** গঠিত না হলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব হয় না।

২১. মাইকোরাইজা ___________ মাটি দৃঢ় ভাবে আটকে রেখে ভূমিক্ষয় রোধ করে।

✅ উত্তর: মাইকোরাইজা **ছত্রাকজালকের** সাহায্যে মাটি দৃঢ় ভাবে আটকে রেখে ভূমিক্ষয় রোধ করে।

২২. নস্টক হল একটি ___________ সায়ানোব্যাকটেরিয়া।

✅ উত্তর: নস্টক হল একটি **স্বাধীনজীবী** বা **ফিলামেন্টাস** সায়ানোব্যাকটেরিয়া।

২৩. মাইকোরাইজা ___________ বা ___________ সৃষ্টি করে।

✅ উত্তর: মাইকোরাইজা **আবরণ** বা **বোদ** সৃষ্টি করে।

২৪. ___________ নামক ছত্রাক পাইন গাছের মূলে বসবাস করে।

✅ উত্তর: **বোলেটাস** বা **অ্যামানিটা** নামক ছত্রাক পাইন গাছের মূলে বসবাস করে।

✔️ চতুর্থ পর্যায়: সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্ধারণ করো – প্রশ্নমান ১

📌 সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্বাচন করো – প্রশ্নমান ১

১. ম্যালেরিয়া রোগের প্যাথোজেনের নাম ডিপ্লোকক্কাস।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: ম্যালেরিয়ার প্যাথোজেন হলো প্লাজমোডিয়াম)

২. তড়িৎ শক্তি একপ্রকার ভৌত এজেন্ট।

✅ উত্তর: T (সত্য)

৩. Vitamin $B_{12}$ উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।

✅ উত্তর: T (সত্য)

৪. নস্টক স্বাধীনজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়া।

✅ উত্তর: T (সত্য)

৫. লুইপাস্তুর জলবসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন, আর জলবসন্তের টিকা মাইকেলজোন আবিষ্কার করেন)

৬. অ্যান্টিবডি দেহ প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করে না।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: অ্যান্টিবডি দেহ প্রতিরক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করে)

৭. নিউট্রোফিল, মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিসে অংশ নেয়।

✅ উত্তর: T (সত্য)

৮. IgA অ্যান্টিবডিকে ম্যাটারন্যাল অ্যান্টিবডি বলে।

✅ উত্তর: T (সত্য)। (কারণ এটি মাতৃদুগ্ধ বা কোলোস্ট্রামের মাধ্যমে আসে)

৯. অস্ত্রে বসবাসকারী E. coli ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন $B_{12}$ সংশ্লেষ করে।

✅ উত্তর: T (সত্য)

১০. দেহে বিজাতীয় বস্তু প্রবেশ করলে ম্যাক্রোফাজ তাদের ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে আত্মসাৎ করে।

✅ উত্তর: T (সত্য)

১১. এডিস মশকী ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়, এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়)

১২. অ্যাজোলা একধরনের নীলাভ সবুজ শৈবাল।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: অ্যাজোলা একধরনের ফার্ন এবং এর মধ্যে অ্যানাবিনা নামক নীলাভ সবুজ শৈবাল মিথোজীবী রূপে থাকে)

১৩. সজীব ছত্রাক এবং শৈবালের সহাবস্থানকে মাইকোরাইজা বলে।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানকে লাইকেন বলে; ছত্রাক ও উদ্ভিদের মূলের সহাবস্থানকে মাইকোরাইজা বলে)

১৪. বোতলের জলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পেকটিনেজ মেশানো হয়।

✅ উত্তর: F (মিথ্যা)। (সঠিক: এটি ফলের রসকে স্বচ্ছ করতে ব্যবহৃত হয়)

১৫. বেকারি শিল্পে ময়দার মন্ডের সঙ্গে ইস্ট মেশানো হয়।

✅ উত্তর: T (সত্য)

১৬. ব্যাসিলাস পলিমিক্সা একটি স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া।

✅ উত্তর: T (সত্য)

🧩 পঞ্চম পর্যায়: অন্যান্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর – প্রশ্নমান ১ (হুবহু ফাইল থেকে)

📌 প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও

১. রসনির্ভর অনাক্রম্যতা : B কোশ :: কোশনির্ভর অনাক্রম্যতা : ___________

✅ উত্তর: T কোশ বা **T-লিম্ফোসাইট**

২. লুই পাস্তুর : জলাতঙ্ক রোগ :: এডওয়ার্ড জেনার : ___________

✅ উত্তর: **গুটি বসন্ত**

৩. AIDS : HIV :: ডেঙ্গু : ___________

✅ উত্তর: **ডেঙ্গু ভাইরাস**

৪. পোলিও : OPV :: যক্ষ্মা : ___________

✅ উত্তর: **BCG**


📌 বিসদৃশটি বেছে লেখো

১. IgG, IgD, IgM, IgE।

✅ উত্তর: IgE। (কারণ এই চারটিই অ্যান্টিবডি হলেও, IgE অ্যালার্জি বা অতিসংবেদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত)

২. টিটেনাস, যক্ষ্মা, ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া।

✅ উত্তর: ডেঙ্গু। (কারণ ডেঙ্গু ভাইরাস ঘটিত, বাকিগুলি মূলত ব্যাকটেরিয়া ঘটিত)

৩. ম্যালেরিয়া, ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া, টিটেনাস।

✅ উত্তর: ম্যালেরিয়া। (কারণ ম্যালেরিয়া আদ্যপ্রাণী ঘটিত, বাকিগুলি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত)

৪. ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস-A, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-B।

✅ উত্তর: যক্ষ্মা। (কারণ যক্ষ্মা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত, বাকিগুলি ভাইরাস ঘটিত)

৫. ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া, AIDS।

✅ উত্তর: ম্যালেরিয়া। (কারণ ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস ও এইডস ভাইরাস ঘটিত (হেপাটাইটিস A/B/C/D/E), কিন্তু ম্যালেরিয়া আদ্যপ্রাণী ঘটিত)

৬. Boletus eduhis, Laccaria laccata, Amanita muscaria, Glomus।

✅ উত্তর: Glomus। (কারণ এটি এন্ডোমাইকোরাইজার উদাহরণ; বাকিগুলি সাধারণত এক্টোমাইকোরাইজার ছত্রাক)

৭. ক্লোরামফেলিকল, টেট্রাসাইক্লিন, ক্লসট্রিডিয়াম, টেরামাইসিন।

✅ উত্তর: ক্লসট্রিডিয়াম। (কারণ এটি একটি ব্যাকটেরিয়া; বাকিগুলি অ্যান্টিবায়োটিক)


📌 অন্তর্গত বিষয়টি খুঁজে বার করো

১. অ্যাজোটোব্যাকটার, ক্লসট্রিডিয়াম, ব্যাসিলাস পলিমিক্সা, মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়া।

✅ উত্তর: মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়া (অন্যগুলি মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ)

২. Bacillus, Calmette, Guerin, BCG।

✅ উত্তর: BCG (অন্যগুলি BCG-র পূর্ণ নামের অংশ)

৩. Diptheria, Pertussis, Tetanus, DPT।

✅ উত্তর: DPT (অন্যগুলি DPT-র পূর্ণ নামের অংশ)

৪. AIDS, ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া, ওজন হ্রাস।

✅ উত্তর: AIDS (কারণ ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া, ও ওজন হ্রাস AIDS রোগের উপসর্গ বা ফলাফল)


📌 বাম ও ডান স্তম্ভ মেলাও

সারণি ১

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক মেলবন্ধন
i. সায়ানোব্যাকটেরিয়া a. নিওমাইসিন i. → b. অলোসিরা
ii. পাইনাস b. অলোসিরা ii. → e. মাইকোরাইজা
iii. অ্যান্টিবায়োটিক c. হেপাটাইটিস B iii. → a. নিওমাইসিন
iv. HBV ভ্যাকসিন d. যক্ষ্মা iv. → c. হেপাটাইটিস B

সারণি ২

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক মেলবন্ধন
i. এপিটোপ a. অ্যান্টিবডি i. → d. অ্যান্টিজেন
ii. প্যারাটোপ b. B-লিম্ফোসাইট ii. → a. অ্যান্টিবডি
iii. রসনির্ভর অনাক্রম্যতা c. T-লিম্ফোসাইট iii. → b. B-লিম্ফোসাইট
iv. কোশনির্ভর অনাক্রম্যতা d. অ্যান্টিজেন iv. → c. T-লিম্ফোসাইট

সারণি ৩

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক মেলবন্ধন
i. অমরা অতিক্রম করতে পারে a. IgA i. → d. IgG
ii. কোলোস্ট্রামে উপস্থিত b. AIDS ii. → a. IgA
iii. প্রোটোজোয়াঘটিত রোগ c. ডিপথেরিয়া iii. → e. ম্যালেরিয়া
iv. ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ d. IgG iv. → c. ডিপথেরিয়া

সারণি ৪

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক মেলবন্ধন
i. BCG a. জলাতঙ্ক-এর টিকা i. → b. যক্ষ্মার টিকা
ii. DPT b. যক্ষ্মার টিকা ii. → c. ডিপথেরিয়া টিকা
iii. OPV c. ডিপথেরিয়া টিকা iii. → d. ওরাল পোলিও টিকা
iv. MMR d. ওরাল পোলিও টিকা iv. → e. হামের টিকা

📝 ষষ্ঠ পর্যায়: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন – প্রশ্নমান ২

📌 সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন – প্রশ্নমান ২

১. ইমিউনিটি কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: কোনো জীব বা প্রাণীর দেহে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু, ভাইরাস বা অন্যান্য ক্ষতিকারক **বিজাতীয় বস্তুর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্মগত বা অর্জিত ক্ষমতাকে** ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা বলে।
* প্রকারভেদ: ইমিউনিটি প্রধানত দুই প্রকারের হয়: সহজাত (Innate) এবং অর্জিত (Acquired)।

২. অ্যান্টিজেন কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে কোনো বহিরাগত বা বিজাতীয় বস্তু (যেমন—ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, টক্সিন) যা দেহে প্রবেশ করার পর অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং যার প্রভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তাকে অ্যান্টিজেন বলে।
* অংশ: অ্যান্টিজেনের যে অংশ অ্যান্টিবডির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাকে এপিটোপ বলে।

৩. অ্যান্টিবডি কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: অ্যান্টিজেন বা বিজাতীয় বস্তুর উপস্থিতিতে জীবদেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন এক প্রকার প্রতিরক্ষামূলক গ্লাইকোপ্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) যা অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে, তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
* আকার: অ্যান্টিবডি দেখতে অনেকটা ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো।

৪. MMR-এর পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: MMR-এর পুরো নাম হলো Measles (হাম), Mumps (মাম্পস) এবং Rubella (রুবেলা)। এটি এই তিনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ প্রতিরোধের জন্য দেওয়া একটি সম্মিলিত টিকা।

৫. ডায়ারিয়ার দুটি উপসর্গ উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: ডায়ারিয়া বা উদরাময়ের দুটি প্রধান উপসর্গ হলো:
* জলবিয়োজন: ঘন ঘন জলীয় মলত্যাগের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ও লবণ বেরিয়ে যায়, যাকে জলবিয়োজন (Dehydration) বলে।
* পেট ব্যথা ও দুর্বলতা: পেটে মোচড় দেওয়া বা ব্যথা অনুভব করা এবং তীব্র দুর্বলতা ও ক্লান্তি।

৬. টিটেনাসের প্রতিকারের উপায় কী?

✅ উত্তর: টিটেনাস রোগের প্রতিকারের প্রধান উপায়গুলি হলো:
* টিকা: রোগ প্রতিরোধ করতে শৈশবে DPT ভ্যাকসিন এবং পরবর্তীতে নির্দিষ্ট বিরতিতে TT (টিটেনাস টক্সয়েড) বুস্টার ডোজ নিতে হয়।
* অ্যান্টিটক্সিন: আক্রান্ত হলে দ্রুত অ্যান্টি-টিটেনাস সিরাম (ATS) বা হিউম্যান টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন প্রয়োগ করা।

৭. অ্যান্টিবডি কত প্রকারের?

✅ উত্তর:
* প্রকারভেদ: অ্যান্টিবডি প্রধানত পাঁচ প্রকারের হয়।
* নামগুলি: এই পাঁচটি অ্যান্টিবডি হলো—IgG, IgA, IgM, IgD এবং IgE। এদের একত্রে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin) বলা হয়।

৮. এক্সোজেনাস ও এন্ডোজেনাস অ্যান্টিবডি কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন: যেসব অ্যান্টিজেন বাইরের পরিবেশ থেকে (খাবার, বাতাস বা টিকা রূপে) দেহে প্রবেশ করে, তাদের এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন বলে। উদাহরণ: ফুলের রেণু, ব্যাকটেরিয়া।
* এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন: যেসব অ্যান্টিজেন দেহের অভ্যন্তরে (যেমন—টিউমার কোশ বা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোশ) তৈরি হয়, তাদের এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন বলে।

৯. ডেঙ্গু জ্বরের দুটি লক্ষণ উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: ডেঙ্গু জ্বরের দুটি প্রধান লক্ষণ হলো:
* হাড়-ভাঙ্গা জ্বর: শরীরে তীব্র ব্যথা সহ হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রা (১০৪-১০৫°F) সহ জ্বর হয়, যা ‘ব্রেক-বোন ফিভার’ নামে পরিচিত।
* র‌্যাশ ও রক্তপাত: শরীরে লালচে চাকা চাকা দাগ (র‌্যাশ) দেখা যায় এবং জটিল ক্ষেত্রে মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে।

১০. ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* ইন্টারফেরন: ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিছু কোশ (যেমন শ্বেত রক্তকণিকা) থেকে নিঃসৃত এক প্রকার প্রোটিন পদার্থকে ইন্টারফেরন বলে।
* অনাক্রম্যতা: এই প্রোটিন পাশের সুস্থ কোশগুলিতে প্রবেশ করে তাদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ও বংশবিস্তারকে প্রতিরোধ করে যে অনাক্রম্যতা গড়ে তোলে, তাকে ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা বলে।

১১. কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা কীভাবে কাজ করে?

✅ উত্তর:
* পদ্ধতি: কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Cell-Mediated Immunity) বা CMI-তে T-লিম্ফোসাইট কোশ সক্রিয় হয়।
* কার্যকারিতা: T-কোশগুলি সরাসরি **ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোশ** বা **ক্যানসার কোশকে** আক্রমণ করে ধ্বংস করে। এটি মূলত ভাইরাস ও ছত্রাক ঘটিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

১২. রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা কীভাবে কাজ করে?

✅ উত্তর:
* পদ্ধতি: রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Humoral Immunity) বা HMI-তে B-লিম্ফোসাইট কোশ সক্রিয় হয়।
* কার্যকারিতা: B-কোশগুলি প্লাজমা কোশে পরিণত হয়ে **অ্যান্টিবডি** তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডিগুলি রক্তরসের মাধ্যমে জীবাণুর (যেমন ব্যাকটেরিয়া) টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ করে।

১৩. হেপাটাইটিস-B সংক্রমণের দুটি কারণ লেখো।

✅ উত্তর: হেপাটাইটিস-B ভাইরাস (HBV) সংক্রমণের দুটি প্রধান কারণ হলো:
* রক্ত সঞ্চালন: সংক্রমিত ব্যক্তির শরীর থেকে দূষিত রক্ত বা রক্তজাত পদার্থ গ্রহণ করা।
* অসুরক্ষিত সম্পর্ক: সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন।
* অন্যান্য: একই সিরিঞ্জ ব্যবহার, বা সংক্রমিত মায়ের থেকে নবজাতকের শরীরে সংক্রমণ।

১৪. বুস্টার ডোজ কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক টিকা বা ভ্যাকসিনের কোর্স শেষ হওয়ার **কিছু সময় পরে** ইমিউনিটির মাত্রা বাড়ানোর জন্য যে অতিরিক্ত টিকা দেওয়া হয়, তাকে বুস্টার ডোজ বলে।
* উদ্দেশ্য: এটি অনাক্রম্যতন্ত্রের **স্মৃতি কোশগুলিকে** পুনরায় উদ্দীপিত করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।

১৫. ধৌতকরণের কয়েকটি উপাদান উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: রোগ নিরাময় বা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ধৌতকরণের কয়েকটি উপাদান হলো:
* সাবান ও জল: হাত, মুখ ও শরীর পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত প্রধান উপাদান।
* অ্যান্টিসেপটিক: ক্ষতস্থান পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক (যেমন: ডেটল, স্যাভলন)।
* ডিসইনফেক্ট্যান্ট: পরিবেশ বা ঘরবাড়ি জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক (যেমন: ফিনাইল)।

১৬. এপিটোপ ও প্যারাটোপ কী?

✅ উত্তর:
* এপিটোপ (Epitope): এটি হলো অ্যান্টিজেনের সেই নির্দিষ্ট অংশ, যা অ্যান্টিবডির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারে।
* প্যারাটোপ (Paratope): এটি হলো অ্যান্টিবডির অগ্রভাগের সেই নির্দিষ্ট অংশ, যা এপিটোপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্টিজেনকে নিষ্ক্রিয় করে।

১৭. OPV-এর পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: OPV-এর পুরো নাম হলো Oral Polio Vaccine (ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন)। এটি পোলিও রোগের প্রতিরোধের জন্য মুখে খাওয়ার টিকা।

১৮. MMR-এর পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: MMR-এর পুরো নাম হলো Measles (হাম), Mumps (মাম্পস) এবং Rubella (রুবেলা)।

১৯. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির দুটি পার্থক্য লেখো।

✅ উত্তর: অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি
উৎপত্তি দেহের বাইরে থেকে আসে (বহিরাগত বস্তু)। B-লিম্ফোসাইট থেকে তৈরি হয়।
কাজ অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। অ্যান্টিজেনকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে।

২০. ইমিউন রেসপন্স কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: দেহে কোনো অ্যান্টিজেন প্রবেশ করার পর সেই অ্যান্টিজেনকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার জন্য অনাক্রম্যতন্ত্রের যে সাড়াদান বা প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাকে ইমিউন রেসপন্স বা অনাক্রম্য সাড়াদান বলে।
* প্রকারভেদ: এটি প্রধানত দুই প্রকারের: প্রাথমিক ইমিউন রেসপন্স (প্রথমবার আক্রমণে) এবং গৌণ ইমিউন রেসপন্স (পরবর্তী আক্রমণে)।

২১. কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা কীভাবে কাজ করে?

✅ উত্তর: **(১১ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। এটি হুবহু একই প্রশ্ন।)**

২২. রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা কীভাবে কাজ করে?

✅ উত্তর: **(১২ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। এটি হুবহু একই প্রশ্ন।)**

২৩. ডায়ারিয়া বা উদরাময়ের দুটি উপসর্গ উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: **(৫ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। এটি হুবহু একই প্রশ্ন।)**

২৪. ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান তিনটি লক্ষণ কী কী?

✅ উত্তর: ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান তিনটি লক্ষণ হলো:
* কম্প দিয়ে জ্বর: হঠাৎ তীব্র **ঠান্ডা লাগা** (কম্পন) সহ উচ্চ তাপমাত্রা (১০৩-১০৬°F) সহ জ্বর আসা।
* প্রচণ্ড ঘাম: জ্বর কমার সময় শরীর থেকে **প্রচণ্ড ঘাম নির্গত হওয়া**।
* অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা): লোহিত রক্তকণিকাগুলি ধ্বংস হওয়ায় রোগীর শরীরে **রক্তাল্পতা** দেখা যায়।

📝 সপ্তম পর্যায়: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

১. অ্যান্টিবডির গঠন চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:
* ভূমিকা: অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকার প্রতিরক্ষামূলক গ্লাইকোপ্রোটিন, যা দেহে অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন হয়। এর গঠন অনেকটা ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো।

* অ্যান্টিবডির গঠন (Y-আকৃতি):
একটি আদর্শ অ্যান্টিবডিতে চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে, যা ডাই-সালফাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত।

  • ভারী শৃঙ্খল (Heavy Chain – H):
    দুটি লম্বা পলিপেপটাইড শৃঙ্খলকে ভারী শৃঙ্খল বলে। প্রতিটি ভারী শৃঙ্খলে প্রায় ৪৪০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে।
  • হালকা শৃঙ্খল (Light Chain – L):
    দুটি ছোট পলিপেপটাইড শৃঙ্খলকে হালকা শৃঙ্খল বলে।
  • ডাই-সালফাইড বন্ধনী:
    এই বন্ধনীগুলি ভারী শৃঙ্খল দু’টিকে পরস্পরের সঙ্গে এবং প্রতিটি ভারী শৃঙ্খলকে হালকা শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করে।

২. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির পার্থক্য দেখাও।

✅ উত্তর: অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি
সংজ্ঞা অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপিতকারী বহিরাগত বস্তু। অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে B-কোশ থেকে উৎপন্ন প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন
রাসায়নিক প্রকৃতি সাধারণত প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড বা লাইপোপ্রোটিন। শুধুমাত্র গ্লাইকোপ্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন)।
উৎপত্তি দেহের বাইরে থেকে প্রবেশ করে। দেহের B-লিম্ফোসাইট কোশ দ্বারা উৎপাদিত হয়।

৩. বিভিন্ন রকমের টিকার নাম ও যে রোগে ব্যবহৃত হয় তার নাম উল্লেখ করো।

✅ উত্তর:
* বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিকার তালিকা: কিছু প্রধান টিকা ও তাদের রোগ নিম্নরূপ:

টিকার নাম (সংক্ষেপ) পূর্ণ নাম ব্যবহৃত রোগ
BCG Bacillus Calmette Guerin যক্ষ্মা
DPT Diphtheria, Pertussis, Tetanus ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টঙ্কার
OPV Oral Polio Vaccine পোলিও
MMR Measles, Mumps, Rubella হাম, মাম্পস, রুবেলা

৪. ম্যালেরিয়া রোগের উপসর্গ ও প্রতিকার উল্লেখ করো।

✅ উত্তর:
ম্যালেরিয়া রোগের উপসর্গ (লক্ষণ):
এই রোগ প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) আদ্যপ্রাণীর দ্বারা ছড়ায়, যার প্রধান উপসর্গগুলি হলো:

  • কম্প দিয়ে জ্বর:
    হঠাৎ তীব্র ঠান্ডা লাগা (কম্পন) সহ উচ্চ তাপমাত্রা সহ জ্বর আসে।
  • ঘাম ও তাপ হ্রাস:
    জ্বর কমার সময় শরীর থেকে প্রচণ্ড ঘাম নির্গত হয়। এটি ঘটে লোহিত কণিকা থেকে মেরোজয়েটসের নির্গমনের কারণে।
  • অন্যান্য:
    মাথা ব্যথা, বমি, দুর্বলতা এবং রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা যায়।

ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিকার:

  • ওষুধ ব্যবহার:
    চিকিৎসকের পরামর্শে কুইনাইন, ক্লোরোকুইন, বা আর্টেমিসিনিন গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা।
  • বাহক নিয়ন্ত্রণ:
    রোগের বাহক মশা (স্ত্রী অ্যানোফিলিস) নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করা এবং মশারির ব্যবহার করা।

৫. দুটি ভাইরাসঘটিত রোগের উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর:
* দুটি ভাইরাসঘটিত রোগের উদাহরণ:
ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এবং মানবকল্যাণের জন্য বিপজ্জনক এমন দুটি রোগ হলো:

  • AIDS (এইডস):
    এটি HIV ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ, যা মানবদেহের অনাক্রম্যতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
  • পোলিও (Polio):
    এটি পোলিওভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং শিশুদের মধ্যে স্থায়ী পক্ষাঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

৬. যক্ষ্মা রোগের উপসর্গ ও সংক্রমণ পদ্ধতি উল্লেখ করো।

✅ উত্তর:
যক্ষ্মা রোগের উপসর্গ (লক্ষণ):
যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগটি Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। এর প্রধান উপসর্গগুলি হলো:

  • দীর্ঘস্থায়ী কাশি:
    তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া।
  • ওজন হ্রাস ও দুর্বলতা:
    রোগীর দেহের ওজন দ্রুত কমতে থাকে এবং তীব্র দুর্বলতা দেখা যায়।
  • জ্বর ও ঘাম:
    বিশেষত সন্ধ্যায় হালকা জ্বর ও রাতে প্রচণ্ড ঘাম হওয়া।

সংক্রমণ পদ্ধতি:

  • বায়ু বাহিত:
    আক্রান্ত ব্যক্তি কাশলে বা হাঁচি দিলে রোগজীবাণু বাতাসে মিশে যায় এবং সুস্থ ব্যক্তির শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে।
  • খোলা ক্ষত:
    অনেক সময় আক্রান্তের দেহের ক্ষতস্থানের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

৭. রোগ নিরাময়ে ধৌতকরণের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:
* ধৌতকরণের ভূমিকা:
রোগ নিরাময় ও সংক্রমণ প্রতিরোধে ধৌতকরণের পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত কার্যকর:

  • জীবাণু অপসারণ:
    সাবান ও জল দিয়ে হাত ধুলে বা ক্ষতস্থান পরিষ্কার করলে চামড়ার ওপরের অধিকাংশ জীবাণু ও ময়লা অপসারিত হয়।
  • সংক্রমণ রোধ:
    অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করে ক্ষতস্থান ধৌত করলে সেখানকার জীবাণুগুলি নষ্ট হয় এবং সংক্রমণ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা:
    ডিসইনফেক্ট্যান্ট (যেমন ফিনাইল) ব্যবহার করে ঘরবাড়ি ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখলে রোগজীবাণুর বংশবৃদ্ধি প্রতিহত হয়।

৮. মানবকল্যাণে জীবাণুর ৫টি ভূমিকা উল্লেখ করো।

✅ উত্তর:
* মানবকল্যাণে জীবাণুর ভূমিকা: কিছু জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক) মানবজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:

  • অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি: বিভিন্ন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থেকে **অ্যান্টিবায়োটিক** (যেমন—পেনিসিলিন) তৈরি করা হয়, যা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে।
  • ভিটামিন সংশ্লেষ: আমাদের বৃহদন্ত্রে বসবাসকারী **E. coli ব্যাকটেরিয়া** ভিটামিন $B_{12}$ এবং ভিটামিন K সংশ্লেষ করে।
  • কৃষি ও সার: রাইজোবিয়ামের মতো ব্যাকটেরিয়া মাটির উর্বরতা বাড়াতে **নাইট্রোজেন সংবন্ধন** করে।
  • খাদ্য উৎপাদন: ইস্ট (ছত্রাক) বেকারি শিল্পে পাউরুটি তৈরিতে এবং ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দই তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা: বিয়োজক বা রূপান্তরক হিসেবে মৃতদেহ ও বর্জ্য পদার্থ পচনে সাহায্য করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে।

৯. অনাক্রম্যতন্ত্র কাকে বলে? অনাক্রম্যতন্ত্রের অন্তর্গত কোশগুলি কী কী? ছকের সাহায্যে দেখাও।

✅ উত্তর:
* অনাক্রম্যতন্ত্র (Immune System): রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বা ক্ষতিকারক বস্তুর আক্রমণ থেকে **দেহকে রক্ষা করার জন্য** প্রাণীদেহে যে বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে **অনাক্রম্যতন্ত্র** বলে।
* অনাক্রম্যতন্ত্রের অন্তর্গত কোশগুলি: এই তন্ত্রে প্রধানত শ্বেত রক্তকণিকা (Leukocytes)-র বিভিন্ন কোশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:

কোশের প্রধান ভাগ উদাহরণ ভূমিকা
১. লিম্ফোসাইট B-কোশ, T-কোশ অ্যান্টিবডি তৈরি ও কোশভিত্তিক প্রতিরক্ষা
২. ফ্যাগোসাইটিক কোশ নিউট্রোফিল, মনোসাইট, ম্যাক্রোফাজ জীবাণুকে সরাসরি গ্রাস (ফ্যাগোসাইটোসিস) করা

১০. আদর্শ অ্যান্টিবডির গঠন চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করো।

✅ উত্তর: **(এটি ১ নং প্রশ্নের উত্তর। অ্যান্টিবডির গঠন চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে।)**


১১. B-কোশ ও T-কোশের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

✅ উত্তর: B-কোশ ও T-কোশের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য B-কোশ (B-লিম্ফোসাইট) T-কোশ (T-লিম্ফোসাইট)
প্রধান ভূমিকা অ্যান্টিবডি তৈরি করে (রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা)। সরাসরি জীবাণুযুক্ত কোশ ধ্বংস করে (কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা)।
নিষ্ক্রিয়করণ দেহের তরলে থাকা জীবাণুকে অ্যান্টিবডি দ্বারা নিষ্ক্রিয় করে। জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কোশকে সরাসরি ধ্বংস করে।
অনাক্রম্যতা রসনির্ভর অনাক্রম্যতার ভিত্তি। কোশনির্ভর অনাক্রম্যতার ভিত্তি।

১২. টিকা বা ভ্যাকসিন কাকে বলে? টিকাকরণ কাকে বলে? টিকাকরণের গুরুত্ব কী?

✅ উত্তর:
* টিকা বা ভ্যাকসিন: যে পদার্থটি কোনো রোগের দুর্বল বা মৃত জীবাণু বা তার নিষ্ক্রিয় টক্সিন থেকে তৈরি হয় এবং যা সুস্থ দেহে প্রয়োগ করলে **প্রতিরোধ ক্ষমতা (অনাক্রম্যতা)** জন্মায়, তাকে টিকা বা ভ্যাকসিন বলে।
* টিকাকরণ (Vaccination): নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধের জন্য, নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে, টিকা বা ভ্যাকসিন সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রয়োগ করার পদ্ধতিকে টিকাকরণ বলে।
* টিকাকরণের গুরুত্ব:

  • রোগ প্রতিরোধ: টিকাকরণের মাধ্যমে দেহে সক্রিয় ও দীর্ঘস্থায়ী অনাক্রম্যতা তৈরি হয়।
  • মেমরি: এটি অর্জিত অনাক্রম্যতার **মেমরি (স্মৃতি)** বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগায়।
  • রোগ নির্মূল: ব্যাপক টিকাকরণের ফলে বিশ্ব থেকে গুটি বসন্তের মতো কিছু রোগ **সম্পূর্ণ নির্মূল** করা সম্ভব হয়েছে।

১৩. রোগ কত রকমের হয় তা ছকের সাহায্যে দেখাও।

✅ উত্তর:
* রোগের প্রধান প্রকারভেদ: রোগকে প্রধানত উৎপত্তি এবং সংক্রমণের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা যায়:

রোগের প্রকারভেদ
১. জন্মগত রোগ (Congenital) জন্মের সময় থেকেই উপস্থিত (যেমন: হিমোফিলিয়া)
২. অর্জিত রোগ (Acquired) জন্মের পরে হয়, যা দুই প্রকার:
ক. সংক্রামক (Communicable) জীবাণু দ্বারা হয় এবং ছোঁয়াচে (যেমন: কলেরা, যক্ষ্মা)।
খ. অসংক্রামক (Non-communicable) জীবাণু দ্বারা হয় না এবং ছোঁয়াচে নয় (যেমন: ডায়াবেটিস, ক্যানসার)।

১৪. নিউমোনিয়া এবং টিটেনাসের প্রকৃতি, উপসর্গ ও সংক্রমণ পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:
* নিউমোনিয়া (Pneumonia):

  • প্রকৃতি: প্রধানত **ব্যাকটেরিয়া** ঘটিত (Streptococcus pneumoniae) ফুসফুসের একটি সংক্রমণ।
  • উপসর্গ: শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, **সর্দিযুক্ত কাশি**, এবং জ্বর।
  • সংক্রমণ পদ্ধতি: আক্রান্ত ব্যক্তির **হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে** নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমে বায়ু বাহিত হয়ে ছড়ায়।

* টিটেনাস (Tetanus):

  • প্রকৃতি: **Clostridium tetani** নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট, যা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি **লক-জ** নামে পরিচিত।
  • উপসর্গ: পেশীর **তীব্র সংকোচন** (খিঁচুনি) এবং চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে যাওয়ায় মুখ খুলতে না পারা।
  • সংক্রমণ পদ্ধতি: মাটি বা মরিচা পড়া ধাতুতে থাকা ব্যাকটেরিয়া **ক্ষতস্থান দিয়ে** শরীরে প্রবেশ করে।

১৫. হেপাটাইটিস-A ও B এবং AIDS-এর প্রকৃতি, উপসর্গ ও সংক্রমণ পদ্ধতি বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:
* হেপাটাইটিস-A ও B:

  • প্রকৃতি: উভয়ই **ভাইরাস** ঘটিত রোগ, যা **যকৃতকে** আক্রমণ করে। হেপাটাইটিস-B বেশি বিপজ্জনক। হেপাটাইটিস-B এর অপর নাম সিরাম জন্ডিস।
  • উপসর্গ: সাধারণ দুর্বলতা, জ্বর, বমি বমি ভাব এবং **জন্ডিস** (চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া)।
  • সংক্রমণ (A): দূষিত **খাবার ও জল** থেকে ছড়ায়।
  • সংক্রমণ (B): সংক্রমিত **রক্ত** বা অসুরক্ষিত দৈহিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।

* AIDS (Acquired Immunodeficiency Syndrome):

  • প্রকৃতি: **HIV** ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যা দেহের **T-লিম্ফোসাইটকে** আক্রমণ করে প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নষ্ট করে।
  • উপসর্গ: ওজন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, এবং যেকোনো **সংক্রমণ বা ক্যানসার** হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি।
  • সংক্রমণ: সংক্রমিত **রক্ত, সিরিঞ্জ** ব্যবহার বা অসুরক্ষিত দৈহিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার