দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় – ৫ পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ

বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | অধ্যায়: পরিবেশ ও সংরক্ষণ | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৫২


১. নাইট্রোজেন চক্র (Nitrogen Cycle) কাকে বলে?

উত্তর: যে প্রাকৃতিক চক্রাকার পদ্ধতিতে পরিবেশের মুক্ত নাইট্রোজেন জীবদেহে আবদ্ধ হয় এবং জীবদেহ থেকে পুনরায় পরিবেশে ফিরে আসে, যার ফলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় থাকে, তাকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।

২. নাইট্রিফিকেশন (Nitrification) কাকে বলে? একটি নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: যে পদ্ধতিতে মাটির অ্যামোনিয়া ($NH_3$) বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় জারিত হয়ে প্রথমে নাইট্রাইট ($NO_2^-$) এবং পরে নাইট্রেট ($NO_3^-$) আয়নে পরিণত হয়, তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে。
উদাহরণ: নাইট্রোসোমোনাস বা নাইট্রোব্যাকটর।

৩. অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ বা রেচন পদার্থে থাকা জটিল প্রোটিন ও নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগগুলি বিয়োজক বা ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় ভেঙে গিয়ে অ্যামোনিয়া ($NH_3$) উৎপন্ন করার পদ্ধতিকে অ্যামোনিফিকেশন বলে।

৪. ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification) কাকে বলে? এর ফলে পরিবেশের কী ক্ষতি বা লাভ হয়?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় মাটির নাইট্রেট বা নাইট্রাইট লবণ বিজারিত হয়ে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস ($N_2$) রূপে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়, তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে。
লাভ/ক্ষতি: এতে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন ফিরে আসে ঠিকই, কিন্তু মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়।

৫. জৈব নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণে মিথোজীবী ও স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা লেখো।

উত্তর: ১) মিথোজীবী: রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে অর্বুদ বা গুটি তৈরি করে এবং সরাসরি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে আবদ্ধ করে।
২) স্বাধীনজীবী: অ্যাজোটোব্যাকটর ও ক্লস্ট্রিডিয়াম মাটির স্বাধীনভাবে বাস করে এবং বাতাসের নাইট্রোজেনকে দেহকোষে আবদ্ধ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

[attachment_0](attachment)

৬. পরিবেশ দূষণ (Pollution) বলতে কী বোঝো? দূষক (Pollutant) কী?

উত্তর: পরিবেশের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে অবাঞ্ছিত পরিবর্তন জীবজগতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তাকে দূষণ বলে।
যে সব পদার্থ পরিবেশে মিশে দূষণ ঘটায়, তাদের দূষক বা Pollutant বলে (যেমন- ধোঁয়া, প্লাস্টিক)।

৭. গ্রিনহাউস এফেক্ট কী? এর জন্য দায়ী প্রধান গ্যাসগুলি কী কী? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে $CO_2, CH_4$ প্রভৃতি গ্যাসের ঘনত্ব বাড়ার ফলে পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারে না এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে। একে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে。
দায়ী গ্যাস: কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$), মিথেন ($CH_4$), নাইট্রাস অক্সাইড ($N_2O$), ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ($CFC$)।

৮. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি কুফল বা প্রভাব লেখো।

উত্তর: ১) মেরু অঞ্চলের বরফ গলন: পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায় মেরু প্রদেশের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২) জলবায়ু পরিবর্তন: ঋতুচক্রের পরিবর্তন, খরা, অতিবৃষ্টি এবং সুপার সাইক্লোনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৯. অ্যাসিড বৃষ্টি বা অম্লবৃষ্টি (Acid Rain) কী? এর ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।

উত্তর: বাতাসের $SO_2$ ও $NO_2$ বৃষ্টির জলের সাথে মিশে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়লে তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে (pH ৫.৬-এর কম)।
প্রভাব: মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, জলাশয়ের মাছ মারা যায় এবং মার্বেল পাথরের স্মৃতিসৌধ (যেমন তাজমহল) ক্ষতিগ্রস্ত হয় (স্টোন ক্যানসার)।

১০. এস.পি.এম (SPM) কী? মানব স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব কী?

উত্তর: SPM বা Suspended Particulate Matter হলো বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কঠিন বা তরল কণা (যেমন- ধোঁয়া, ছাই, ধূলিকণা)।
প্রভাব: শ্বাসক্রিয়ার মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুসের ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

১১. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে? এর ফলাফল কী? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: জলাশয়ে রাসায়নিক সার বা সাবান জল মেশার ফলে ফসফেট ও নাইট্রেট জাতীয় পুষ্টিদ্রব্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে শৈবাল ও কচুরিপানার অত্যধিক বৃদ্ধি ঘটে। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
ফলাফল: জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায় (BOD বাড়ে) এবং মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়।

[attachment_1](attachment)

১২. জৈব বিবর্ধন বা বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biomagnification) কী?

উত্তর: অপরিবর্তনীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ (যেমন DDT) খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এক পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে প্রবেশ করে এবং ক্রমান্বয়ে তাদের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনাকে জৈব বিবর্ধন বলে।

১৩. বি.ও.ডি (BOD) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: BOD বা Biological Oxygen Demand হলো এক লিটার জলে উপস্থিত জৈব দূষকগুলিকে বিয়োজিত করার জন্য অণুজীবদের বা ব্যাকটেরিয়ার যতটা পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। BOD-এর মান বেশি হলে জল বেশি দূষিত বোঝায়।

১৪. জল দূষণের দুটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর: ১) গৃহস্থালির বর্জ্য: সাবান জল, মলমূত্র ও প্লাস্টিক নর্দমার মাধ্যমে নদীতে মিশে জল দূষিত করে।
২) শিল্পবর্জ্য: কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক (পারদ, সীসা, অ্যাসিড) অপরিশোধিত অবস্থায় জলাশয়ে ফেলা হয়।

১৫. অ্যালগাল ব্লুম (Algal Bloom) কী? এটি ক্ষতিকর কেন?

উত্তর: ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলাশয়ে শৈবালের অত্যধিক ও দ্রুত বৃদ্ধিকে অ্যালগাল ব্লুম বলে।
ক্ষতি: এটি জলের উপরিভাগ ঢেকে দেয়, ফলে সূর্যালোক নিচে পৌঁছাতে পারে না এবং জলের অক্সিজেন কমে গিয়ে জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়।

১৬. শব্দ দূষণ মানবদেহে কী কী প্রভাব ফেলে? (দুটি প্রভাব)

উত্তর: ১) শ্রবণশক্তি হ্রাস: দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দে থাকলে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আংশিক বা পূর্ণ বধিরতা দেখা দিতে পারে।
২) মানসিক ও শারীরিক সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা এবং খিটখিটে মেজাজ সৃষ্টি হয়।

১৭. মাটি দূষণের দুটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর: ১) প্লাস্টিক বর্জ্য: প্লাস্টিক পচে না, তাই এটি মাটিতে জমে মাটির রন্ধ্র বন্ধ করে দেয় এবং উর্বরতা কমায়।
২) রাসায়নিক সার ও কীটনাশক: কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে মাটির স্বাভাবিক গঠন ও উপকারী অণুজীব নষ্ট হয়ে যায়।

১৮. অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? এর কারণ কী?

উত্তর: অ্যাজমা হলো শ্বাসনালীর একপ্রকার অ্যালার্জিজনিত রোগ, যাতে শ্বাসকষ্ট হয়।
কারণ: বাতাসের ধূলিকণা, পরাগরেণু, ধোঁয়া বা রাসায়নিকের প্রভাবে শ্বাসনালীর পেশি সংকুচিত হয় এবং মিউকাস জমে পথ সরু হয়ে যায়।

১৯. ব্রঙ্কাইটিস (Bronchitis) কী? এর লক্ষণ উল্লেখ করো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: বায়ুদূষণ বা ধূমপানের কারণে শ্বাসনালী বা ব্রঙ্কাসের প্রদাহকে ব্রঙ্কাইটিস বলে।
লক্ষণ: ক্রমাগত কাশি, কফ বা শ্লেষ্মা নির্গমন এবং শ্বাসকষ্ট।

২০. ক্যান্সার কী? পরিবেশগত কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: ক্যান্সার হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনজনিত রোগ।
উদাহরণ: ১) সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা আলকাতরা বা টার। ২) অ্যাসবেস্টস কণা বা আর্সেনিক।

২১. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) কাকে বলে? শব্দটি কে প্রথম ব্যবহার করেন?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রকার জিন, প্রজাতি এবং বাস্তুতন্ত্রের সমাহার বা বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।
বিজ্ঞানী ওয়াল্টার জি. রোসেন (W.G. Rosen) ১৯৮৫ সালে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

২২. জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব বা উপযোগিতা লেখো (দুটি)।

উত্তর: ১) খাদ্য উৎপাদন: মানুষ খাদ্য ও পানীয়ের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল।
২) ঔষধ প্রস্তুতি: ভেষজ উদ্ভিদ (যেমন- কুইনাইন, সর্পগন্ধা) থেকে জীবনদায়ী ওষুধ পাওয়া যায়।

২৩. জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) কাকে বলে? শর্তগুলি কী কী? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: পৃথিবীর যে সব অঞ্চলে অত্যধিক জীববৈচিত্র্য এবং বহু এন্ডেমিক প্রজাতি (স্থানীয় প্রজাতি) দেখা যায়, কিন্তু বর্তমানে মানুষের ক্রিয়াকলাপে তা বিপন্ন, সেই অঞ্চলগুলিকে হটস্পট বলে।
শর্ত: ১) কমপক্ষে ১৫০০ টি এন্ডেমিক প্রজাতি থাকতে হবে। ২) মূল বাসস্থানের অন্তত ৭০% নষ্ট হয়ে গেছে।

২৪. ভারতের চারটি জীববৈচিত্র্য হটস্পটের নাম লেখো।

উত্তর: ১) পূর্ব হিমালয় (Eastern Himalaya)।
২) ইন্দো-বার্মা (Indo-Burma)।
৩) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা (Western Ghats & Sri Lanka)।
۴) সুন্দাল্যান্ড (Sundaland – নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ)।

২৫. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic Species) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সব জীব প্রজাতি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্য কোথাও প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে।
উদাহরণ: সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারু।

২৬. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ১) বাসস্থান ধ্বংস: জনবসতি স্থাপন, কৃষি ও শিল্পের প্রয়োজনে অরণ্য ধ্বংস করার ফলে বন্যপ্রাণীরা বাসস্থান হারাচ্ছে।
২) চোরাশিকার: চামড়া, শিং বা দাঁতের লোভে বন্যপ্রাণীদের নির্বিচারে হত্যা করা।

২৭. বহিরাগত প্রজাতি (Exotic Species) কীভাবে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বিদেশ থেকে আসা প্রজাতিরা নতুন পরিবেশে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং দেশীয় প্রজাতির খাদ্য ও বাসস্থানে ভাগ বসায়, ফলে দেশীয় প্রজাতিরা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
উদাহরণ: ১) কচুরিপানা (জলাশয় নষ্ট করে)। ২) তেলাপিয়া বা আফ্রিকান মাগুর (দেশি মাছ খেয়ে ফেলে)।

২৮. সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যাগুলি কী কী? (যেকোনো দুটি)

উত্তর: ১) মিষ্টি জলের সংকট: নদীতে বাঁধ দেওয়ায় মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে গেছে এবং সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে লবণাক্ততা বাড়াচ্ছে।
২) বাসস্থান ধ্বংস: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বাড়ায় দ্বীপগুলি ডুবে যাচ্ছে এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য নষ্ট হচ্ছে।

২৯. চোরাশিকারের (Poaching) কারণ কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: আন্তর্জাতিক বাজারে বন্যপ্রাণীর দেহাংশের (চামড়া, দাঁত, শিং, হাড়) প্রচুর চাহিদা ও চড়া দাম থাকায় চোরাশিকার হয়।
উদাহরণ: গণ্ডার শিকার করা হয় তার শিং বা খড়্গের জন্য, বাঘ শিকার করা হয় চামড়া ও হাড়ের জন্য।

৩০. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর: ১) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখা।
২) ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জিন ভাণ্ডার (Gene pool) রক্ষা করা।
৩) অর্থনৈতিক গুরুত্ব (কাঠ, খাদ্য, ওষুধ) বজায় রাখা।

৩১. ভারতের বিপন্ন প্রজাতির (Endangered Species) দুটি প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: ১) একশৃঙ্গ গণ্ডার (Rhinoceros unicornis)।
২) রেড পান্ডা (Ailurus fulgens)। (এছাড়াও রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লায়ন টেইলড ম্যাকাও)।

৩২. জলবায়ু পরিবর্তন বা বিশ্ব উষ্ণায়ন কীভাবে জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করছে?

উত্তর: তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তনের সাথে অনেক প্রজাতি মানিয়ে নিতে পারছে না এবং মারা যাচ্ছে। যেমন—মেরু ভল্লুকদের বরফ গলে যাওয়ায় বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে, বা প্রবাল প্রাচীর (Coral Reef) উষ্ণ জলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে (Coral bleaching)।

৩৩. দূষণের ফলে জীববৈচিত্র্য কীভাবে হ্রাস পায়?

উত্তর: ১) কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অনেক উপকারী পতঙ্গ ও পাখি মারা যাচ্ছে।
২) জল দূষণে মাছ ও জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে।
৩) অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে বনাঞ্চল ও মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

৩৪. মানুষের অতিব্যবহার (Overexploitation) কীভাবে প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়?

উত্তর: মানুষ যখন কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীবকে তার প্রজনন বা পুনরুৎপাদনের হারের চেয়ে বেশি দ্রুত হারে সংগ্রহ বা শিকার করে, তখন তাকে অতিব্যবহার বলে। এর ফলে সেই প্রজাতিটি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। যেমন- ডোডো পাখি বা প্যাসেঞ্জার পায়রা অত্যধিক শিকারের ফলে বিলুপ্ত হয়েছে।

৩৫. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: যখন কোনো বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশ বা বাসস্থানের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে।
উদাহরণ: জাতীয় উদ্যান (National Park), অভয়ারণ্য (Sanctuary), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।

৩৬. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যখন কোনো বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সরিয়ে এনে অন্য কোনো কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে।
উদাহরণ: চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ক্রায়োব্যাংক, জিন ব্যাংক।

৩৭. জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক কী? ভারতের দুটি জাতীয় উদ্যানের নাম লেখো।

উত্তর: এটি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এমন এক প্রাকৃতিক এলাকা যেখানে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং যেখানে শিকার বা মানুষের বসবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উদাহরণ: জিম করভেট (উত্তরাখণ্ড), কাজিরাঙা (আসাম), গরুমারা (পশ্চিমবঙ্গ)।

৩৮. অভয়ারণ্য বা স্যানচুয়ারি কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: এটি রাজ্য সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বনাঞ্চল যেখানে বন্যপ্রাণীরা নির্ভয়ে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের শিকার নিষিদ্ধ, তবে অনুমতি সাপেক্ষে পর্যটন বা কাঠ সংগ্রহ করা যায়।
উদাহরণ: জলদাপাড়া (পশ্চিমবঙ্গ), চাপড়ামারি, পেরিয়ার।

৩৯. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: এটি ইউনেস্কোর (UNESCO) এমএবি (MAB) কর্মসূচির অন্তর্গত এক বিশাল সংরক্ষিত অঞ্চল, যেখানে জীববৈচিত্র্যের সাথে সাথে স্থানীয় আদিবাসী মানুষের জীবনযাত্রাও সংরক্ষণ করা হয়। এর তিনটি অঞ্চল থাকে (কোর, বাফার, ট্রানজিশন)।
উদাহরণ: সুন্দরবন (পশ্চিমবঙ্গ), নীলগিরি।

৪০. জে.এফ.এম (JFM) কী? এর গুরুত্ব লেখো। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: JFM বা ‘Joint Forest Management’ হলো ভারত সরকার স্বীকৃত এমন এক ব্যবস্থা যেখানে বনদপ্তর এবং স্থানীয় গ্রামের মানুষ যৌথভাবে জঙ্গল বা বনজ সম্পদ রক্ষা ও পরিচালনা করে।
গুরুত্ব: এর ফলে বনজ সম্পদ রক্ষা পায় এবং স্থানীয় মানুষ কাঠ, পাতা, ফলমূল সংগ্রহ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।

৪১. পি.বি.আর (PBR) কী? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এর ভূমিকা কী?

উত্তর: PBR বা ‘People’s Biodiversity Register’ হলো এমন একটি নথি বা রেজিস্টার যেখানে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, ভেষজ উদ্ভিদ এবং সেই সংক্রান্ত স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান লিপিবদ্ধ করা থাকে।
ভূমিকা: এটি স্থানীয় প্রজাতি এবং লোকায়ত জ্ঞান সংরক্ষণ করতে এবং বায়োপাইরেসি (Biopiracy) রোধ করতে সাহায্য করে।

৪২. ক্রায়োপ্রিজারভেশন বা ক্রায়োসংরক্ষণ কাকে বলে? এর একটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: যে বিশেষ পদ্ধতিতে তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় ($-196^\circ C$) উদ্ভিদ বা প্রাণীর নমুনা (কোষ, কলা, গ্যামেট) দীর্ঘকাল সজীব অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, তাকে ক্রায়োসংরক্ষণ বলে।
ব্যবহার: উদ্ভিদের পরাগরেণু ও বীজ এবং গবাদি পশুর শুক্রাণু সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

৪৩. ব্যাঘ্র প্রকল্প বা প্রজেক্ট টাইগার (Project Tiger) কী? এর উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ১৯৭৩ সালে ভারত সরকার বাঘ সংরক্ষণের জন্য যে বিশেষ প্রকল্প চালু করে, তাকে ব্যাঘ্র প্রকল্প বলে।
উদ্দেশ্য: বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা এবং বিজ্ঞানসম্মত প্রজননের মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৪৪. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কী? এতে কোন রঙের পৃষ্ঠায় বিপন্ন প্রাণীর নাম থাকে?

উত্তর: IUCN প্রকাশিত যে পুস্তকে পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় বা বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতিসমূহের বিস্তারিত তালিকা ও তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে রেড ডাটা বুক বলে।
এতে গোলাপি (Pink) পৃষ্ঠায় অতি বিপন্ন প্রজাতির নাম থাকে। (সবুজ পৃষ্ঠায় যারা বিপদমুক্ত)।

৪৫. একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণের দুটি পদক্ষেপ লেখো।

উত্তর: ১) চোরাশিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
২) গণ্ডারের প্রাকৃতিক আবাসস্থল (যেমন কাজিরাঙা, জলদাপাড়া)-কে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে তাদের খাদ্য ও প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৪৬. রেড পান্ডা বা লাল পান্ডা বিপন্ন হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: ১) বাসস্থান ধ্বংস: পাহাড়ি অঞ্চলে বন কেটে ফেলার ফলে এদের বাসস্থান (বাঁশঝাড়) নষ্ট হচ্ছে।
২) খাদ্যাভাব: এদের প্রধান খাদ্য বাঁশ গাছের পাতা কমে যাওয়ায় এরা খাদ্য সংকটে পড়ছে।
৩) শিকার: সুন্দর লোমশ চামড়ার জন্য এদের শিকার করা হয়।

৪৭. সুন্দরবনের বাঘের অস্তিত্ব সংকটের দুটি কারণ লেখো।

উত্তর: ১) খাদ্য সংকট: হরিণ বা বন্যশূকরের মতো শিকার প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং মারা পড়ছে।
২) বাসস্থান হ্রাস: সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি ও ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংসের ফলে বাঘের বিচরণভূমি কমে যাচ্ছে।

৪৮. গির অরণ্যে সিংহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা কী?

উত্তর: গুজরাটের গির অরণ্য এশিয়াটিক লায়নের একমাত্র আবাসস্থল। এখানে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গবাদি পশুর অনিয়ন্ত্রিত চারণ বন্ধ করে সিংহের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৪৯. কুমির সংরক্ষণে ভারতের ভূমিকা কী? (Crocodile Project)

উত্তর: ১৯৭৫ সালে কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প চালু হয়। ওড়িশার ভিতরকণিকা ও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে (ভগবতপুর) কুমির প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে কৃত্রিমভাবে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে নদীতে ছাড়া হয় (Captive Breeding)।

৫০. বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং চিড়িয়াখানার মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ১) বোটানিক্যাল গার্ডেন: এখানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ও দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদ জীবিত অবস্থায় সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়।
২) চিড়িয়াখানা: এখানে বন্য প্রাণীদের খাঁচায় বা ঘেরা জায়গায় কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। উভয়ই এক্স-সিটু সংরক্ষণ।

৫১. জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) নিয়ন্ত্রণ: জাতীয় উদ্যান কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু অভয়ারণ্য রাজ্য সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২) কড়াকড়ি: জাতীয় উদ্যানে মানুষের প্রবেশ ও বনজ সম্পদ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভয়ারণ্যে অনুমতি সাপেক্ষে সীমিত প্রবেশ ও কাঠ সংগ্রহ করা যায়।

৫২. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের তিনটি অঞ্চলের (Zone) নাম লেখো।

উত্তর: ১) কোর এলাকা (Core Zone): সম্পূর্ণ সংরক্ষিত, মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
২) বাফার এলাকা (Buffer Zone): গবেষণা ও শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা যায়।
৩) ট্রানজিশন এলাকা (Transition Zone): বাইরের অংশ, যেখানে স্থানীয় মানুষ বসবাস ও চাষাবাদ করতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – পরিবেশ ও সংরক্ষণ


প্রশ্ন: নাইট্রোজেন চক্র কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: নাইট্রোজেন চক্র বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের ($N_2$) পরিমাণ স্থির রাখে। এটি জীবদেহের গঠনমূলক উপাদান প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড ($DNA, RNA$) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সরবরাহ করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: গ্রিনহাউস এফেক্ট ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর সম্পর্ক কী?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি ($CO_2, CH_4$) তাপ শোষণ করে পৃথিবীকে গরম রাখে, এটি গ্রিনহাউস এফেক্ট। কিন্তু বর্তমানে এই গ্যাসগুলির পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাড়ছে, এই ঘটনাকেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।

প্রশ্ন: ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কী?

উত্তর: কৃষি জমির রাসায়নিক সার বা সাবান জল পুকুরে মিশলে জলে ফসফেট ও নাইট্রেটের পরিমাণ বাড়ে। এর ফলে শ্যাওলা ও কচুরিপানার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে (অ্যালগাল ব্লুম)। এই প্রক্রিয়াই হলো ইউট্রোফিকেশন, যার ফলে জলের অক্সিজেন কমে মাছ মারা যায়।

প্রশ্ন: ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু সংরক্ষণের পার্থক্য কী?

উত্তর:
১. ইন-সিটু (In-situ): নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে সংরক্ষণ (উদাহরণ: সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প, কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান)।
২. এক্স-সিটু (Ex-situ): প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ (উদাহরণ: আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন)।

প্রশ্ন: JFM এবং PBR-এর কাজ কী?

উত্তর: JFM (Joint Forest Management): স্থানীয় মানুষ ও বনদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বনজ সম্পদ রক্ষা করা।
PBR (People’s Biodiversity Register): স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, ভেষজ উদ্ভিদ এবং সেই সংক্রান্ত জ্ঞান নথিবদ্ধ করার সরকারি রেজিস্টার।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার