দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় – ৫ পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ
বিভাগ-ঘ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-১)
বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | অধ্যায়: পরিবেশ ও সংরক্ষণ | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৪৪ | পূর্ণমান: ৫
১. নাইট্রোজেন চক্রের ধাপগুলি একটি রেখাচিত্রের সাহায্যে বা পর্যায়ক্রমিকভাবে বর্ণনা করো। ব্যাকটেরিয়াগুলির ভূমিকা উল্লেখ করো। (৩+২) [মাধ্যমিক ২০১৭]
নাইট্রোজেন চক্রের প্রধান ধাপগুলি হলো:
১) নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ (Nitrogen Fixation): বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন মাটিতে মেশা।
– প্রাকৃতিক উপায়: বজ্রপাতের সময় বিদ্যুক্ষরণের ফলে নাইট্রোজেন অক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে মিশে মাটিতে আসে।
– জীবজ উপায়: অ্যাজোটোব্যাকটর (স্বাধীনজীবী) এবং রাইজোবিয়াম (মিথোজীবী) ব্যাকটেরিয়া সরাসরি নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে।
২) অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification): মৃত জীবদেহ বা রেচন পদার্থ বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়া ($NH_3$) গঠন করে। সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া: ব্যাসিলাস মাইকোইডিস।
৩) নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): অ্যামোনিয়া প্রথমে নাইট্রাইট ($NO_2^-$) এবং পরে নাইট্রেট ($NO_3^-$) লবণে পরিণত হয়।
– ধাপ ১: $NH_3 \rightarrow$ নাইট্রাইট (ব্যাকটেরিয়া: নাইট্রোসোমোনাস)।
– ধাপ ২: নাইট্রাইট $\rightarrow$ নাইট্রেট (ব্যাকটেরিয়া: নাইট্রোব্যাকটর)।
৪) ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): মাটির নাইট্রেট পুনরায় বিজারিত হয়ে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস ($N_2$) রূপে বাতাসে ফিরে যায়। সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া: সিউডোমোনাস বা থিওব্যাসিলাস।
২. মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ক্রিয়াকলাপের ফলে নাইট্রোজেন চক্র কীভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে? এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি লেখো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৯]
মানুষের বিভিন্ন কাজের ফলে নাইট্রোজেন চক্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে:
১) রাসায়নিক সারের ব্যবহার: কৃষিজমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ঘটিত সার (ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) ব্যবহারের ফলে মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
২) জীবাশ্ম জ্বালানি দহন: কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে প্রচুর নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$) বাতাসে মিশছে।
ক্ষতিকর প্রভাব:
– বিশ্ব উষ্ণায়ন: নাইট্রাস অক্সাইড ($N_2O$) একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।
– অ্যাসিড বৃষ্টি: বাতাসের নাইট্রোজেন অক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) তৈরি করে, যা মাটি ও জলাশয়ের ক্ষতি করে।
– ইউট্রোফিকেশন: অতিরিক্ত সার বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে পড়লে জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়।
৩. অ্যাসিড বৃষ্টি বা অম্লবৃষ্টি (Acid Rain) সৃষ্টির কারণ এবং এর তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো। (২+৩) [মাধ্যমিক ২০১৮]
কারণ: যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড ($SO_2$) এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ($NO_2$) বাতাসের জলীয় বাষ্প ও বৃষ্টির জলের সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড ($H_2SO_4$) ও নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) উৎপন্ন করে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত বৃষ্টিই হলো অম্লবৃষ্টি।
ক্ষতিকর প্রভাব:
১) মাটির উর্বরতা হ্রাস: মাটি আম্লিক হয়ে যায়, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায় এবং অণুজীব মারা যায়।
২) জলাশয়ের ক্ষতি: পুকুর বা হ্রদের জল আম্লিক হওয়ায় মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে এবং ডিম নষ্ট হয়।
৩) স্মৃতিসৌধের ক্ষতি (Stone Cancer): অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবে মার্বেল পাথরে তৈরি স্থাপত্য (যেমন- তাজমহল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল) ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও বিবর্ণ হয়ে যায়। একে ‘স্টোন ক্যানসার’ বলে।
৪. গ্রিনহাউস এফেক্ট ও বিশ্ব উষ্ণায়নের সম্পর্ক কী? পরিবেশের ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের তিনটি প্রভাব লেখো। (২+৩)
সম্পর্ক: গ্রিনহাউস এফেক্ট হলো বায়ুমণ্ডলের তাপ ধরে রাখার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু মানুষের ক্রিয়াকলাপে গ্রিনহাউস গ্যাস ($CO_2, CH_4$) অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবী থেকে তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারছে না। এই বর্ধিত গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে, যাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
প্রভাব:
১) মেরুপ্রদেশের বরফ গলন: তাপমাত্রা বাড়ায় মেরু অঞ্চল ও হিমবাহের বরফ গলে যাচ্ছে।
২) সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি: বরফ গলার ফলে সমুদ্রের জলতল বাড়ছে, যার ফলে উপকূলবর্তী এলাকা (যেমন- সুন্দরবনের দ্বীপ) ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৩) আবহাওয়ার পরিবর্তন: ঋতুচক্রের পরিবর্তন হচ্ছে, খরা, বন্যা ও সুপার সাইক্লোনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৫. বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো। এস.পি.এম (SPM) মানবদেহে কী ক্ষতি করে? (৩+২)
বায়ুদূষণের কারণ:
১) যানবাহন: পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া ($CO, NO_2, SO_2$) বাতাস দূষিত করে।
২) শিল্পকারখানা: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কলকারখানা থেকে নির্গত ফ্লাই অ্যাশ, ধূলিকণা ও বিষাক্ত গ্যাস বায়ুদূষণ ঘটায়।
৩) কৃষিকাজ ও দহন: জঞ্জাল পোড়ানো, খড় পোড়ানো এবং জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার ফলেও বায়ু দূষিত হয়।
SPM-এর ক্ষতি:
SPM (Suspended Particulate Matter) বা ভাসমান ধূলিকণা শ্বাসগ্রহণের সময় ফুসফুসে প্রবেশ করে। এর ফলে ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি (Asthma), যক্ষ্মা এবং ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এটি দৃশ্যমানতা কমিয়ে কুয়াশা সৃষ্টি করে।
৬. জল দূষণের প্রধান তিনটি কারণ আলোচনা করো। গঙ্গা নদীর দূষণ রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? (৩+২)
জল দূষণের কারণ:
১) গৃহস্থালির বর্জ্য: শহরের নর্দমার জল, মলমূত্র, সাবান ও ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জল সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে জল দূষিত হয়।
২) শিল্প বর্জ্য: কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক (পারদ, সীসা, আর্সেনিক, অ্যাসিড) অপরিশোধিত অবস্থায় জলাশয়ে মিশলে জল বিষাক্ত হয়।
৩) কৃষিজ বর্জ্য: চাষের জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে মেশে।
গঙ্গা দূষণ রোধ:
– নর্দমার জল শোধন করে (Sewage Treatment Plant) তবেই নদীতে ফেলা উচিত।
– নদীর পাড়ে মৃতদেহ সৎকার বা আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ করা এবং ‘গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান’-এর সঠিক রূপায়ণ করা।
৭. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো। এর ফলে জলজ বাস্তুতন্ত্রের কী ক্ষতি হয়? (৩+২)
প্রক্রিয়া: কৃষি জমি থেকে ফসফেট ও নাইট্রেট জাতীয় রাসায়নিক সার এবং গৃহস্থালির ডিটারজেন্ট বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুর বা হ্রদে এসে মেশে। এই পুষ্টিদ্রব্যের প্রভাবে জলাশয়ে শৈবাল, কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের অস্বাভাবিক ও দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
ক্ষতিকর প্রভাব:
১) অ্যালগাল ব্লুম: শৈবালের স্তরের কারণে সূর্যালোক জলের নিচে পৌঁছাতে পারে না।
২) অক্সিজেন ঘাটতি: জলজ উদ্ভিদ পচে যাওয়ার সময় বিয়োজকরা জলের দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে (BOD বাড়ে)।
৩) প্রাণীর মৃত্যু: অক্সিজেনের অভাবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায় এবং জল পচে দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
৮. মাটি দূষণের তিনটি কারণ এবং মানব স্বাস্থ্যের ওপর এর দুটি প্রভাব লেখো। (৩+২)
কারণ:
১) প্লাস্টিক বর্জ্য: প্লাস্টিক জৈব অভঙ্গুর হওয়ায় এটি মাটিতে মিশে মাটির রন্ধ্র বন্ধ করে দেয় এবং জল চলাচল ব্যাহত করে।
২) রাসায়নিক সার ও কীটনাশক: অতিরিক্ত সার মাটির অম্লত্ব বাড়ায় এবং উপকারী অণুজীব ধ্বংস করে।
৩) শিল্প ও চিকিৎসা বর্জ্য: কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য এবং হাসপাতালের সিরিঞ্জ, ওষুধ মাটিতে মিশে দূষণ ঘটায়।
মানব স্বাস্থ্যে প্রভাব:
১) দূষিত মাটিতে উৎপাদিত ফসল খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে (জৈব বিবর্ধন)।
২) মাটির ধূলিকণা থেকে টিটেনাস বা অ্যানথ্রাক্সের মতো রোগ ছড়াতে পারে।
৯. শব্দ দূষণের কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো। মানুষের ওপর শব্দ দূষণের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব আলোচনা করো। (২+৩)
কারণ: যানবাহনের হর্ন, সাইরেন, বাজি ফাটানো, লাউড স্পিকার, কারখানার মেশিনের শব্দ এবং বিমানের শব্দ।
প্রভাব:
১) শারীরিক প্রভাব: দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দে থাকলে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে আংশিক বা পূর্ণ বধিরতা হতে পারে। এছাড়া রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম দেখা দেয়।
২) মানসিক প্রভাব: মনোযোগ নষ্ট হয়, অনিদ্রা (Insomnia), মাথাব্যথা এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।
১০. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) কাকে বলে? জীববৈচিত্র্যের তিনটি গুরুত্ব বা উপযোগিতা লেখো। (২+৩) [মাধ্যমিক ২০২০]
সংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রকার জীব (উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব), তাদের জিনগত বৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্রের সমাহারকে জীববৈচিত্র্য বলে।
গুরুত্ব:
১) খাদ্য উৎপাদন: মানুষ তার খাদ্যের (শস্য, সবজি, মাছ, মাংস) জন্য সরাসরি জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল।
২) ঔষধ প্রস্তুতি: বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ (যেমন- সিঙ্কোনা, সর্পগন্ধা, নয়নতারা) থেকে জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হয়।
৩) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল ঠিক রাখার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
১১. সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যাগুলি (দ্বীপের নিমজ্জন, মিষ্টি জলের অভাব, বাসস্থান ধ্বংস) আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]
সুন্দরবন বর্তমানে বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন:
১) দ্বীপের নিমজ্জন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরুপ্রদেশের বরফ গলছে এবং সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের লোহাচড়া, নিউমুর ও ঘোড়ামারা দ্বীপগুলি ডুবে গেছে বা যাচ্ছে।
২) মিষ্টি জলের অভাব: নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে গেছে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে মাটি ও জলকে অতিরিক্ত লবণাক্ত করে তুলছে, যা সুন্দরী গাছের জন্য ক্ষতিকর।
৩) বাসস্থান ধ্বংস: জঙ্গল কেটে জনবসতি ও চিংড়ি চাষের ভেরি তৈরি করায় বাঘ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে।
১২. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলি (বাসস্থান ধ্বংস, চোরাশিকার, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন) সংক্ষেপে লেখো। (৫)
১) বাসস্থান ধ্বংস: নগরায়ন, শিল্পায়ন ও কৃষিকাজের জন্য অরণ্য ধ্বংস করার ফলে বন্যপ্রাণীরা আশ্রয় ও খাদ্য হারাচ্ছে।
২) চোরাশিকার: আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া, দাঁত, শিং ও হাড়ের লোভে বাঘ, হাতি, গন্ডার নির্বিচারে শিকার করা হচ্ছে।
৩) পরিবেশ দূষণ: জল, বায়ু ও মাটি দূষণের ফলে অনেক সংবেদনশীল প্রজাতি (যেমন- ব্যাঙ, মাছ) হারিয়ে যাচ্ছে।
৪) জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু ভাল্লুক বা প্রবাল প্রাচীরের মতো প্রজাতিরা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
৫) বহিরাগত প্রজাতি: কচুরিপানা বা তেলাপিয়ার মতো আগ্রাসী প্রজাতি দেশীয় প্রজাতির অস্তিত্ব বিপন্ন করছে।
১৩. পরিবেশ দূষণের ফলে সৃষ্ট মানুষের তিনটি প্রধান রোগের নাম, কারণ ও লক্ষণ লেখো। (৫)
| রোগ | কারণ (দূষক) | লক্ষণ |
|---|---|---|
| ১. ব্রঙ্কাইটিস | বায়ুর ধূলিকণা, ধোঁয়া ($SO_2, NO_2$) এবং ধূমপান। | ক্রমাগত কাশি, কফ ওঠা, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথা। |
| ২. ক্যানসার (ফুসফুস/ত্বক) | অ্যাসবেস্টস, আর্সেনিক, সিগারেটের ধোঁয়া, অতিবেগুনি রশ্মি। | অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন, টিউমার সৃষ্টি, ক্ষত না শুকানো। |
| ৩. অ্যাজমা বা হাঁপানি | পরাগরেণু, ধূলিকণা, ছত্রাক স্পোর (অ্যালার্জেন)। | শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ, কাশি। |
১৪. জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) কাকে বলে? একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করো। (২+৩)
সংজ্ঞা: খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরিবর্তনীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ (যেমন DDT, পারদ) এক পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী উচ্চতর পুষ্টিস্তরে প্রবেশ করলে, জীবদেহে ওই বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে জৈব বিবর্ধন বলে।
উদাহরণ:
জলে DDT স্প্রে করলে তা প্রথমে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের দেহে প্রবেশ করে।
$জলে DDT (0.003 ppm) \rightarrow ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (0.04 ppm) \rightarrow ছোট মাছ (0.5 ppm) \rightarrow বড় মাছ (2 ppm) \rightarrow মাছরাঙা বা বাজপাখি (25 ppm)$।
দেখা যাচ্ছে, খাদ্যশৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরের প্রাণীতে বিষের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৫. গঙ্গা নদীর দূষণ এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
দূষণের উৎস: শহরের নর্দমার নোংরা জল, কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য, কৃষিজমির সার, মৃতদেহ সৎকার এবং প্রতিমা বিসর্জন গঙ্গার জলকে দূষিত করছে। এতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত ধাতু বাড়ছে।
প্রতিকার বা গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান:
১) নর্দমার জল সরাসরি নদীতে না ফেলে শোধন (Treatment) করে ফেলা।
২) কলকারখানার বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা।
৩) বৈদ্যুতিক চুল্লিতে শবদাহ করা এবং নদীতে আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ করা।
৪) জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
১৬. জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) কাকে বলে? হটস্পট নির্ধারণের শর্তগুলি কী কী? ভারতের দুটি হটস্পটের নাম ও একটি করে এন্ডেমিক প্রাণীর নাম লেখো। (১+২+২)
সংজ্ঞা: পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে খুব বেশি সংখ্যক জীব প্রজাতি এবং এন্ডেমিক প্রজাতি (যা কেবল ওখানেই পাওয়া যায়) বাস করে, কিন্তু বর্তমানে মানুষের ক্রিয়াকলাপে সেই অঞ্চলগুলি এবং তাদের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন, সেই অঞ্চলগুলিকে জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে। (শব্দটি প্রবর্তন করেন নরম্যান মায়ার্স)।
শর্ত: ১) ওই অঞ্চলে অন্তত ১৫০০টি এন্ডেমিক বা স্থানীয় সংবহনকলা যুক্ত উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে। ২) ওই অঞ্চলের আদি বাসস্থানের অন্তত ৭০% নষ্ট হয়ে গেছে।
ভারতের হটস্পট ও এন্ডেমিক প্রাণী:
১) পূর্ব হিমালয়: রেড পান্ডা (Red Panda)।
২) পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কা: লায়ন টেইলড ম্যাকাও (Lion-tailed Macaque)।
১৭. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ ও এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে পার্থক্য লেখো। প্রতিটির দুটি করে উদাহরণ দাও। (৩+২) [মাধ্যমিক ২০১৮]
পার্থক্য:
| বিষয় | ইন-সিটু সংরক্ষণ | এক্স-সিটু সংরক্ষণ |
|---|---|---|
| ১. স্থান | জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বা বন্য পরিবেশেই সংরক্ষণ করা হয়। | জীবকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। |
| ২. আওতা | এতে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষিত হয়। | কেবল নির্দিষ্ট প্রজাতিকে সংরক্ষণ করা হয়। |
| ৩. উদাহরণ | জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। | চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাংক। |
উদাহরণ: ইন-সিটু: সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এক্স-সিটু: শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন।
১৮. জে.এফ.এম (JFM) বা যৌথ বন ব্যবস্থাপনা কী? এর উদ্দেশ্য ও সাফল্য সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। (৫) [মাধ্যমিক ২০২০]
সংজ্ঞা: JFM বা ‘Joint Forest Management’ হলো ভারত সরকার স্বীকৃত এমন এক বন পরিচালন ব্যবস্থা, যেখানে ক্ষয়প্রাপ্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য স্থানীয় গ্রামবাসী এবং বনদপ্তর যৌথভাবে কাজ করে। এটি ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আরাবাড়ি অরণ্যে প্রথম শুরু হয়।
উদ্দেশ্য: ১) বনজ সম্পদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা। ২) স্থানীয় মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
সাফল্য: আরাবাড়ি অরণ্যে সাল গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় মানুষ বনজ দ্রব্য (মধু, মোম, পাতা) সংগ্রহের অধিকার পেয়ে উপকৃত হয়েছে।
১৯. পি.বি.আর (PBR) বা গণ জীববৈচিত্র্য রেজিস্টার কী? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এর ভূমিকা লেখো। (২+৩) [মাধ্যমিক ২০১৯]
সংজ্ঞা: PBR বা ‘People’s Biodiversity Register’ হলো এমন একটি সরকারি নথি বা দলিল, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, ভেষজ উদ্ভিদ, তাদের ব্যবহার এবং সেই সংক্রান্ত স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সংস্কৃতি লিপিবদ্ধ থাকে।
ভূমিকা:
১) জ্ঞান সংরক্ষণ: এটি স্থানীয় ভেষজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যবহার সম্পর্কে লুপ্তপ্রায় জ্ঞান সংরক্ষণ করে।
২) বায়োপাইরেসি রোধ: বিদেশি সংস্থা যাতে আমাদের সম্পদ চুরি করতে না পারে, তার আইনি প্রমাণ হিসেবে এটি কাজ করে।
৩) উন্নয়ন: স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়।
২০. সুন্দরবনের বাঘ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার তিনটি কারণ লেখো। বাঘ সংরক্ষণের জন্য ভারত সরকারের একটি পদক্ষেপ উল্লেখ করো। (৩+২)
বিপন্ন হওয়ার কারণ:
১) বাসস্থান ধ্বংস: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাওয়ায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য ডুবে যাচ্ছে এবং বাঘের বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে।
২) খাদ্য সংকট: বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ ও বন্যশূকরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাঘ খাদ্যাভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং মারা পড়ছে।
৩) চোরাশিকার: আন্তর্জাতিক বাজারে বাঘের চামড়া, হাড় ও দাঁতের চড়া দাম থাকায় চোরাশিকারিরা বাঘ হত্যা করছে।
পদক্ষেপ: ১৯৭৩ সালে ভারত সরকার ‘ব্যাঘ্র প্রকল্প’ বা ‘Project Tiger’ চালু করে বাঘের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং প্রজননের ব্যবস্থা করেছে।
২১. একশৃঙ্গ গণ্ডারের বিপন্নতার কারণ কী? গণ্ডার সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? (৩+২)
বিপন্নতার কারণ:
১) চোরাশিকার: গণ্ডারের শিং বা খড়্গের ঔষধি গুণ আছে—এই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে চোরাশিকারিরা নির্বিচারে গণ্ডার হত্যা করে।
২) বাসস্থান বিনাশ: তৃণভূমি ধ্বংস এবং বন্যার কারণে গণ্ডারের বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
সংরক্ষণ ব্যবস্থা:
১) আসামের কাজিরাঙা ও পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যকে গণ্ডার সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।
২) চোরাশিকার রোধে বনরক্ষী বাহিনী ও কড়া আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।
৩) কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
২২. রেড পান্ডা কোথায় পাওয়া যায়? এটি বিপন্ন কেন? রেড পান্ডা সংরক্ষণের একটি প্রচেষ্টা লেখো। (১+৩+১)
বাসস্থান: ভারতের পূর্ব হিমালয় অঞ্চল অর্থাৎ সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় রেড পান্ডা দেখা যায়।
বিপন্নতার কারণ:
১) বাসস্থান বিনাশ: পাহাড়ি অঞ্চলে গাছ কেটে জনবসতি ও রাস্তা তৈরির ফলে এদের প্রাকৃতিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
২) খাদ্য সংকট: এদের প্রধান খাদ্য বাঁশ গাছের কচি পাতা ও ডগা। বাঁশ ঝাড় কমে যাওয়ায় এরা খাদ্য সংকটে পড়ছে।
৩) চোরাশিকার: এদের সুন্দর লোমশ চামড়ার জন্য শিকার করা হয়।
প্রচেষ্টা: ‘রেড পান্ডা প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে দার্জিলিং-এর সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যানে এদের সংরক্ষণ ও প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২৩. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve) কী? এর তিনটি অঞ্চলের (Core, Buffer, Transition) কাজ সংক্ষেপে লেখো। (২+৩)
সংজ্ঞা: ইউনেস্কো (UNESCO)-এর এমএবি (MAB) কর্মসূচির অধীনে স্থলজ ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের যে বিশাল সংরক্ষিত অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের সাথে সাথে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও সুরক্ষিত থাকে, তাকে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বলে। (যেমন- সুন্দরবন)।
তিনটি অঞ্চল:
১) কোর অঞ্চল (Core Zone): এটি কেন্দ্রীয় অংশ, যেখানে মানুষের প্রবেশ ও কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখানে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদে থাকে।
২) বাফার অঞ্চল (Buffer Zone): কোর অঞ্চলের বাইরের অংশ, যেখানে গবেষণা, শিক্ষা ও পর্যটনের অনুমতি থাকে।
৩) ট্রানজিশন অঞ্চল (Transition Zone): সবচেয়ে বাইরের অংশ, যেখানে স্থানীয় মানুষ বসবাস ও চাষাবাদ করতে পারে।
[attachment_0](attachment)
২৪. জাতীয় উদ্যান (National Park) ও অভয়ারণ্য (Sanctuary)-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো। প্রতিটির একটি করে উদাহরণ দাও। (৩+২)
পার্থক্য:
| বিষয় | জাতীয় উদ্যান | অভয়ারণ্য |
|---|---|---|
| ১. নিয়ন্ত্রণ | কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। | রাজ্য সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। |
| ২. আয়তন | সাধারণত আয়তনে বড় হয়। | আয়তনে তুলনামূলক ছোট হয়। |
| ৩. নিয়মাবলী | পর্যটন ছাড়া অন্য কোনো মানুষের প্রবেশ ও সম্পদ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। | অনুমতি সাপেক্ষে পর্যটন ও কাঠ বা মধু সংগ্রহের সুযোগ থাকে। |
উদাহরণ: জাতীয় উদ্যান – জিম করভেট (উত্তরাখণ্ড)। অভয়ারণ্য – জলদাপাড়া (পশ্চিমবঙ্গ)।
২৫. সিংহ বা এশিয়াটিক লায়ন সংরক্ষণের সমস্যাগুলি কী কী? গির অরণ্যে সিংহ সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? (২+৩)
সমস্যা:
১) ইনব্রিডিং: সিংহের সংখ্যা কমে যাওয়ায় একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রজনন (Inbreeding) ঘটছে, ফলে জিনগত বৈচিত্র্য কমছে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
২) মানুষ-সিংহ সংঘাত: অরণ্যের ভেতর দিয়ে রাস্তা ও রেললাইন যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং গ্রামবাসীদের সাথে সংঘাত বাড়ছে।
সংরক্ষণ ব্যবস্থা (গির অরণ্য):
১) গুজরাটের গির অরণ্যকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে।
২) অরণ্যের ভেতরে কুয়োগুলোকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে যাতে সিংহ পড়ে না যায়।
৩) গবাদি পশুর অনিয়ন্ত্রিত চারণ বন্ধ করা হয়েছে।
২৬. কুমির বা ক্রোকোডাইল প্রজেক্ট সম্পর্কে যা জানো লেখো। কুমির কমে যাওয়ার কারণ কী? (৩+২)
প্রজেক্ট: ১৯৭৫ সালে ভারত সরকার কুমির সংরক্ষণের জন্য এই প্রকল্প চালু করে। ওড়িশার ভিতরকণিকা এবং পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ভগবতপুরে কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে কৃত্রিমভাবে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে নদীতে ছাড়া হয় (Captive Breeding)।
কমে যাওয়ার কারণ:
১) শিকার: কুমিরের দামী চামড়ার জন্য চোরাশিকার করা হয়।
২) জেলেদের জালে আটকা: মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অনেক কুমির মারা যায়।
৩) বাসস্থান নষ্ট: নদীর দূষণ এবং পাড় বাঁধানোর ফলে ডিম পাড়ার জায়গার অভাব ঘটছে।
২৭. ক্রায়োপ্রিজারভেশন বা ক্রায়োসংরক্ষণ কী? এর সুবিধা ও অসুবিধা লেখো। (২+৩)
সংজ্ঞা: যে এক্স-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতিতে উদ্ভিদের পরাগরেণু, বীজ কিংবা প্রাণীর শুক্রাণু, ডিম্বাণু বা ভ্রূণকে তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় ($-196^\circ C$) দীর্ঘকাল সজীব ও অবিকৃত অবস্থায় রাখা হয়, তাকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলে।
সুবিধা: ১) দীর্ঘকাল সংরক্ষণ সম্ভব। ২) খুব অল্প জায়গায় অনেক নমুনা রাখা যায়। ৩) বিপন্ন প্রজাতির জিন রক্ষা করা যায়।
অসুবিধা: ১) এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল পদ্ধতি। ২) সব জায়গায় এই প্রযুক্তি ও তরল নাইট্রোজেন পাওয়া যায় না।
২৮. বহিরাগত প্রজাতি (Exotic Species) কীভাবে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে? তিনটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। (৫)
বিদেশ বা অন্য স্থান থেকে আসা প্রজাতিরা স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে প্রাকৃতিক শত্রু না থাকায় দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং দেশীয় প্রজাতির খাদ্য ও বাসস্থানে ভাগ বসায়। এর ফলে দেশীয় প্রজাতিরা বিলুপ্ত হয়।
উদাহরণ:
১) কচুরিপানা: ব্রাজিল থেকে আসা এই উদ্ভিদটি জলাশয় ঢেকে ফেলে জলের অক্সিজেন কমিয়ে দেশীয় জলজ উদ্ভিদ ও মাছ মেরে ফেলে।
২) পার্থেনিয়াম: আমেরিকা থেকে গমের সাথে আসা এই আগাছাটি স্থানীয় গাছপালাকে জন্মাতে দেয় না এবং মানুষের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জি ঘটায়।
৩) তেলাপিয়া ও মাগুর (আফ্রিকান): এই মাছগুলি রাক্ষুসে স্বভাবের হওয়ায় পুকুরের দেশীয় ছোট মাছ (পুঁটি, মৌরলা) খেয়ে বংশ ধ্বংস করে দেয়।
২৯. সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে ‘মিষ্টি জলের সংকট’ এবং ‘বাসস্থান ধ্বংস’ আলোচনা করো। (৫)
১) মিষ্টি জলের সংকট: ফারাক্কা বাঁধ ও অন্যান্য কারণে গঙ্গা ও তার শাখা নদী দিয়ে মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে গেছে। ফলে সুন্দরবনের নদীতে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে পড়ছে। অতিরিক্ত লবণের কারণে সুন্দরী গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং আগামরা রোগ (Die back) দেখা দিচ্ছে।
২) বাসস্থান ধ্বংস: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বাড়ছে এবং ঘোড়ামারা, লোহাচড়ার মতো দ্বীপগুলি ডুবে যাচ্ছে। এছাড়া মানুষ জঙ্গল কেটে জনবসতি ও চিংড়ি চাষের ভেরি তৈরি করায় বাঘ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে, যা মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বাড়াচ্ছে।
৩০. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মানবসৃষ্ট কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
১) অরণ্য ধ্বংস: কৃষি, শিল্প ও নগরায়নের জন্য বনভূমি কেটে ফেলার ফলে বন্যপ্রাণীরা আশ্রয় ও খাদ্য হারাচ্ছে।
২) চোরাশিকার: চামড়া, শিং বা দাঁতের লোভে বাঘ, হাতি, গন্ডার শিকার করার ফলে তাদের সংখ্যা কমছে।
৩) পরিবেশ দূষণ: জল ও বায়ুদূষণের ফলে অনেক সংবেদনশীল প্রজাতি (যেমন- ব্যাঙ, মাছ, লাইকেন) হারিয়ে যাচ্ছে।
৪) অতিব্যবহার: অতিরিক্ত মৎস্য শিকার বা ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহের ফলে সেই প্রজাতিগুলি বিলুপ্তির পথে।
৫) জলবায়ু পরিবর্তন: মানুষের কারণে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু ভাল্লুক বা প্রবাল প্রাচীরের মতো বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে।
৩১. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা কীভাবে পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে? (ভূগর্ভস্থ জল ও অরণ্য ধ্বংসের প্রেক্ষিতে লেখো) (৫) [মাধ্যমিক ২০১৯]
জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে:
১) ভূগর্ভস্থ জলের সংকট:
– পানীয় জল, কৃষিকাজ এবং শিল্পের জন্য মাটির নিচ থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে জল তোলা হচ্ছে।
– এর ফলে ভৌমজলস্তর (Water table) দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।
– অনেক জায়গায় নলকূপে জল উঠছে না এবং আর্সেনিক বা ফ্লুরাইড দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে।
২) অরণ্য ধ্বংস (Deforestation):
– মানুষের বাসস্থান, রাস্তাঘাট ও কলকারখানা তৈরির জন্য নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে।
– জ্বালানি ও আসবাবপত্রের জোগান দিতে বনভূমি উজাড় হচ্ছে।
– এর ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, ভূমিক্ষয় বাড়ছে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
৩২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডল ও কৃষিজমির ওপর কী প্রভাব পড়ছে? (৩+২)
১) বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন:
– অতিরিক্ত যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ($CO_2, SO_2, NO_2$) বাতাস দূষিত করছে।
– গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে (Global Warming)।
– এসি ও রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার বাড়ায় CFC নির্গত হয়ে ওজোন স্তরের ক্ষতি করছে।
২) কৃষিজমি হ্রাস ও জলাভূমি ধ্বংস:
– আবাসন তৈরির জন্য উর্বর কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে।
– অধিক ফলনের আশায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে এবং মাটি দূষিত হচ্ছে।
৩৩. পরিবেশ দূষণের ফলে সৃষ্ট মানুষের শ্বাসতন্ত্রের দুটি রোগ (অ্যাজমা ও ব্রঙ্কাইটিস)-এর কারণ ও লক্ষণ লেখো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৮]
| রোগ | কারণ | লক্ষণ |
|---|---|---|
| ১. অ্যাজমা বা হাঁপানি | বাতাসের ধূলিকণা, পরাগরেণু, ছত্রাকের স্পোর বা রাসায়নিক ধোঁয়া (অ্যালার্জেন) শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে অ্যালার্জি হয়। | – শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হয় (Dyspnea)। – বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ হয়। – কাশি ও কফ বের হয়। |
| ২. ব্রঙ্কাইটিস | ধূমপান, বায়ুদূষক গ্যাস ($SO_2, NO_2$) এবং ধূলিকণা শ্বাসনালীর মিউকাস পর্দায় প্রদাহ সৃষ্টি করে। | – ক্রমাগত কাশি ও সবুজাভ কফ। – শ্বাসকষ্ট ও সামান্য জ্বর। – বুকে ব্যথা। |
৩৪. পরিবেশগত কারণে সৃষ্ট ক্যানসারের কারণগুলি আলোচনা করো। (৫)
পরিবেশে উপস্থিত যেসব পদার্থ ক্যানসার সৃষ্টি করে, তাদের কার্সিনোজেন (Carcinogen) বলে।
১) রাসায়নিক কার্সিনোজেন: সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা বেনজোপাইরিন ও টার ফুসফুসের ক্যানসার ঘটায়। প্লাস্টিক কারখানার ভিনাইল ক্লোরাইড যকৃৎ ক্যানসার ঘটায়।
২) ভৌত কার্সিনোজেন: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) ত্বকের ক্যানসার (মেলানোমা) সৃষ্টি করে। এক্স-রশ্মি ও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার ঘটাতে পারে।
৩) ধাতব দূষণ: পানীয় জলে আর্সেনিক দূষণের ফলে ত্বকের ক্যানসার এবং অ্যাসবেস্টস কারখানার কর্মীদের ফুসফুসে মেসোথেলিয়মা হতে পারে।
৩৫. জলাভূমিকে ‘প্রকৃতির বৃক্ক’ (Nature’s Kidney) বলা হয় কেন? জলাভূমি সংরক্ষণের গুরুত্ব লেখো। (২+৩)
প্রকৃতির বৃক্ক: জলাভূমি জলজ উদ্ভিদের সাহায্যে জল থেকে বিষাক্ত পদার্থ, ভারী ধাতু ও অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান শোষণ করে জলকে প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধন করে, ঠিক যেমন বৃক্ক বা কিডনি আমাদের রক্ত পরিষ্কার করে। তাই একে প্রকৃতির বৃক্ক বলে।
গুরুত্ব:
১) এটি ভৌমজলের ভাণ্ডার পুনর্ভরণ (Recharge) করে।
২) বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত জল ধারণ করে।
৩) বহু জলজ প্রাণী ও পরিযায়ী পাখির বাসস্থান হিসেবে কাজ করে (জীববৈচিত্র্য রক্ষা)।
[attachment_0](attachment)
৩৬. মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের (Man-Wildlife Conflict) কারণগুলি কী কী? (৫)
বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের প্রধান কারণগুলি হলো:
১) বাসস্থান সংকোচন: জঙ্গল কেটে বসতি ও চাষাবাদ করায় প্রাণীদের থাকার জায়গা কমছে, ফলে তারা লোকালয়ে চলে আসছে (যেমন- সুন্দরবনের বাঘ, ডুয়ার্সের হাতি)।
২) খাদ্যাভাব: জঙ্গলে হরিণ বা বুনোশূকরের সংখ্যা কমায় বাঘ গবাদি পশু শিকারে গ্রামে ঢুকছে। হাতির দল ফসলের লোভে ক্ষেতে হানা দিচ্ছে।
৩) চলাচলের পথে বাধা: বনের ভেতর দিয়ে রেললাইন বা রাস্তা তৈরি হওয়ায় প্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে।
৩৭. অ্যাসিড বৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয় (রাসায়নিক বিক্রিয়াসহ)? এর ফলে ‘স্টোন ক্যানসার’ কীভাবে হয়? (৩+২)
সৃষ্টি: বাতাসে ভাসমান $SO_2$ এবং $NO_2$ বৃষ্টির জল ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক ($H_2SO_4$) ও নাইট্রিক ($HNO_3$) অ্যাসিড তৈরি করে।
$2SO_2 + O_2 + 2H_2O \rightarrow 2H_2SO_4$
$4NO_2 + O_2 + 2H_2O \rightarrow 4HNO_3$
স্টোন ক্যানসার: অ্যাসিড বৃষ্টি মার্বেল পাথরের ($CaCO_3$) ইমারত বা স্মৃতিসৌধে (যেমন- তাজমহল) পড়লে ক্যালসিয়াম সালফেট বা নাইট্রেট তৈরি হয়, ফলে পাথর ক্ষয়ে যায় ও বিবর্ণ হয়। একেই স্টোন ক্যানসার বলে।
$CaCO_3 + H_2SO_4 \rightarrow CaSO_4 + CO_2 + H_2O$।
৩৮. জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) বলতে কী বোঝো? DDT কীভাবে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে ক্ষতি করে? (২+৩)
সংজ্ঞা: অপরিবর্তনীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে প্রবেশ করার সময় তাদের ঘনত্বের যে ক্রমবৃদ্ধি ঘটে, তাকে জৈব বিবর্ধন বলে।
DDT-র প্রভাব: জলে মশা মারার জন্য DDT স্প্রে করা হলে তা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের দেহে প্রবেশ করে। এরপর খাদ্যশৃঙ্খল বরাবর (ছোট মাছ $\rightarrow$ বড় মাছ $\rightarrow$ মাছরাঙা/মানুষ) এটি বাহিত হয়। প্রতিটি ধাপে এর ঘনত্ব বাড়ে। সর্বোচ্চ খাদকের দেহে এর ঘনত্ব এতই বাড়ে যে তা ক্যালসিয়াম বিপাক নষ্ট করে (পাখির ডিমের খোসা পাতলা হয়) বা মানুষের যকৃৎ ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে।
৩৯. রেড পান্ডা ও কুমির সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? (২.৫ + ২.৫)
রেড পান্ডা সংরক্ষণ:
১) এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল (দার্জিলিং, সিকিম) সংরক্ষণ করা হয়েছে (যেমন- সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান)।
২) পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্কে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে (Project Red Panda)।
কুমির সংরক্ষণ:
১) ১৯৭৫ সালে কুমির প্রজনন ও সংরক্ষণ প্রকল্প (Crocodile Conservation Project) চালু হয়।
২) ওড়িশার ভিতরকণিকা ও সুন্দরবনের ভগবতপুরে কুমিরের ডিম সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবে ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করা হয় এবং নদীতে ছাড়া হয় (Captive Breeding)।
৪০. জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব হিসেবে ‘খাদ্য উৎপাদন’ এবং ‘জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ’ আলোচনা করো। (৫)
১) খাদ্য উৎপাদন: মানুষ তার খাদ্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। ধান, গম, সবজি, ফল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, দুধ—সবই উদ্ভিদ ও প্রাণীজ উৎস থেকে আসে। বন্য প্রজাতি থেকে সংকরায়ণের মাধ্যমে উন্নত ফলনশীল শস্য তৈরি করা হয়।
২) জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: উদ্ভিদরা সালোকসংশ্লেষের সময় বাতাস থেকে $CO_2$ শোষণ করে এবং $O_2$ ত্যাগ করে, যা গ্রিনহাউস প্রভাব কমায় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বনভূমি বৃষ্টিপাত ঘটাতে এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪১. নাইট্রোজেন সংবন্ধনে (Nitrogen Fixation) প্রাকৃতিক এবং জীবজ পদ্ধতিগুলি লেখো। (৫)
১) প্রাকৃতিক বা ভৌত পদ্ধতি: আকাশে বজ্রপাতের সময় উচ্চ তাপমাত্রায় নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO, NO_2$) তৈরি করে। এগুলি বৃষ্টির জলের সাথে নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) রূপে মাটিতে মেশে এবং খনিজ লবণের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট লবণ গঠন করে।
২) জীবজ পদ্ধতি:
– স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া: অ্যাজোটোব্যাকটর ও ক্লস্ট্রিডিয়াম সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেন দেহকোষে আবদ্ধ করে।
– মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া: শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটিতে মেশায়।
– শৈবাল: অ্যানাবিনা ও নস্টক-এর মতো নীলাভ সবুজ শৈবালও নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারে।
৪২. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাঁচটি উপায় লেখো। (৫)
১) আইন প্রয়োগ: শব্দবাজি ফাটানো এবং জোড়ে মাইক বাজানোর ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা (৬৫ ডেসিবলের নিচে)।
২) সাইলেন্স জোন: হাসপাতাল, স্কুল ও আদালতের চারপাশে ১০০ মিটার এলাকাকে ‘নীরব অঞ্চল’ ঘোষণা করা।
৩) বৃক্ষরোপণ: রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগালে (Green Muffler) তা শব্দ শোষণ করে দূষণ কমায়।
৪) যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ: পুরনো গাড়ি ও মেশিনে সাইলেন্সার ব্যবহার এবং নিয়মিত অয়েলিং করা।
৫) জনসচেতনতা: অযথা হর্ন না বাজানো এবং কম শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহারের জন্য মানুষকে সচেতন করা।
৪৩. PBR (People’s Biodiversity Register)-এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা এবং বায়োপাইরেসি রোধে গুরুত্ব লেখো। (৩+২)
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা: PBR-এ স্থানীয় এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতি, তাদের বাসস্থান, সংখ্যা এবং ব্যবহার লিপিবদ্ধ থাকে। এর ফলে কোনো প্রজাতি বিপন্ন হলে বা কমে গেলে তা দ্রুত নজরে আসে এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বায়োপাইরেসি রোধ: অনেক বিদেশি সংস্থা আমাদের দেশের ভেষজ উদ্ভিদ (যেমন- নিম, হলুদ) বা জ্ঞান চুরি করে পেটেন্ট নেওয়ার চেষ্টা করে (বায়োপাইরেসি)। PBR এই জ্ঞান যে স্থানীয় মানুষের নিজস্ব, তার আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজ করে এবং চুরি আটকাতে সাহায্য করে।
৪৪. ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের তুলনামূলক আলোচনা করো। (৫)
| বিষয় | ইন-সিটু সংরক্ষণ | এক্স-সিটু সংরক্ষণ |
|---|---|---|
| ১. স্থান | নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে সংরক্ষণ করা হয়। | প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। |
| ২. আওতা | এতে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র এবং বহু প্রজাতি একসাথে সংরক্ষিত হয়। | এতে কেবল নির্দিষ্ট বা নির্বাচিত প্রজাতিকে সংরক্ষণ করা হয়। |
| ৩. খরচ | তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। | কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ বেশি। |
| ৪. উদাহরণ | জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য। | চিড়িয়াখানা, জিন ব্যাংক। |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
প্রশ্ন: জলাভূমিকে ‘প্রকৃতির বৃক্ক’ (Nature’s Kidney) বলা হয় কেন?
[attachment_0](attachment)
প্রশ্ন: অ্যাসিড বৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
প্রশ্ন: জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) কী?
প্রশ্ন: অ্যাজমা এবং ব্রঙ্কাইটিসের মূল পার্থক্য কী?
ব্রঙ্কাইটিস: এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ বা ইনফেকশন, যা মূলত ধোঁয়া, ধূমপান বা দূষণের কারণে হয় এবং এতে ক্রমাগত কাশি ও কফ বের হয়।
প্রশ্ন: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে পরিবেশের প্রধান দুটি ক্ষতি কী?
২) জল সংকট: অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ভৌমজলস্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পানীয় জলের অভাব দেখা দিচ্ছে।