দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় -১ জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় VQ
বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)
বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | অধ্যায়: জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-২৫
ক. উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও হরমোন
১. ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: ১) ট্রপিক চলন উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২) ট্রপিক চলন হলো একপ্রকার বৃদ্ধিজনিত স্থায়ী চলন, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন রসস্ফীতিজনিত অস্থায়ী চলন।
২. হরমোনকে ‘রাসায়নিক সমন্বয়কারী’ (Chemical Coordinator) বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: হরমোন নির্দিষ্ট উৎসস্থল (গ্রন্থি বা কোষ) থেকে ক্ষরিত হয়ে রক্তের মাধ্যমে দূরবর্তী কোষে বাহিত হয় এবং কোষগুলোর কাজের মধ্যে রাসায়নিক সংযোগ বা সমন্বয় সাধন করে। কাজ শেষে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তাই হরমোনকে রাসায়নিক সমন্বয়কারী বলা হয়।
৩. কৃত্রিম হরমোনের দুটি ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: ১) আগাছা বিনাশ: কৃত্রিম অক্সিন (যেমন 2,4-D) ব্যবহার করে দ্বিবীজপত্রী আগাছা দমন করা হয়।
২) পার্থেনোকার্পি: কৃত্রিম হরমোন (IBA, NAA) প্রয়োগ করে বীজহীন ফল (যেমন পেঁপে, আঙুর) উৎপাদন করা হয়।
৪. উদ্ভিদের আলোকবত্তী বা ফোটোট্রপিক চলনে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর: অক্সিন হরমোন আলোর উৎসের বিপরীত দিকে (অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে) বেশি জমা হয় এবং কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ফলে কাণ্ডের অন্ধকার দিকের বৃদ্ধি আলোর দিকের চেয়ে বেশি হয় এবং কাণ্ডটি আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায়।
[attachment_0](attachment)
৫. জিব্বেরেলিন হরমোনের দুটি প্রধান কাজ লেখো।
✅ উত্তর: ১) পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি: এটি উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে খর্বাকার উদ্ভিদকে লম্বা হতে সাহায্য করে।
২) সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ: এটি বীজ ও মুকুলের সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে অঙ্কুরোদ্গমে সাহায্য করে।
৬. সাইটোকাইনিন হরমোনের দুটি কাজ উল্লেখ করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর: ১) কোষ বিভাজন: এটি উদ্ভিদের কোষ বিভাজনে (সাইটোকাইনেসিস) মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
২) বার্ধক্য বিলম্বিতকরণ: এটি পাতায় ক্লোরোফিল নষ্ট হতে দেয় না, ফলে পাতা দীর্ঘদিন সবুজ থাকে এবং বার্ধক্য বিলম্বিত হয় (রিচমন্ড-ল্যাং এফেক্ট)।
৭. সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: স্পর্শ, আঘাত বা কম্পন উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের অঙ্গের যে রসস্ফীতিজনিত বক্র চলন হয়, তাকে সিসমোন্যাস্টিক বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন বলে।
উদাহরণ: লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করলে তা গুটিয়ে যায়।
৮. ট্যাকটিক চলন বা গমন বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: বহিঃস্থ উদ্দীপকের (যেমন আলো, তাপমাত্রা) প্রভাবে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বলে।
উদাহরণ: শৈবাল ভলভক্স (Volvox) বা ক্ল্যামাইডোমোনাস আলোর উৎসের দিকে গমন করে (ফোটোট্যাকটিক চলন)।
৯. কৃষি কাজে জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রয়োগ লেখো।
✅ উত্তর: ১) আঙুর, আপেল প্রভৃতি ফলের আকার বৃদ্ধি করতে এবং ফলের সংখ্যা বাড়াতে জিব্বেরেলিন স্প্রে করা হয়।
২) আখের কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
১০. উদ্ভিদ হরমোন ও প্রাণী হরমোনের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) উৎস: উদ্ভিদ হরমোন ভাজক কলা বা বর্ধনশীল অঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়, কিন্তু প্রাণী হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়।
২) পরিবহন: উদ্ভিদ হরমোন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বাহিত হয়, কিন্তু প্রাণী হরমোন রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
খ. প্রাণী হরমোন
১১. অন্তঃক্ষরা ও বহিক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ১) নালী: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নালীবিহীন (অনাল), কিন্তু বহিক্ষরা গ্রন্থিতে নালী থাকে (সদাল)।
২) নিঃসরণ: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরিত হয়, আর বহিক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎসেচক, ঘাম বা লালারস ক্ষরিত হয়।
[attachment_1](attachment)
১২. পিটুইটারি গ্রন্থিকে ‘প্রভু গ্রন্থি’ (Master Gland) বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনগুলি (যেমন- TSH, ACTH, GTH) দেহের অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, জনন গ্রন্থি) বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু এটি অন্য গ্রন্থিদের চালনা করে, তাই একে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
১৩. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের কাজ পরস্পর বিপরীতধর্মী—ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর: ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায় (গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায়)। অন্যদিকে, গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায় (গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায়)। যেহেতু দুটি হরমোন রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে একে অপরের উল্টো কাজ করে, তাই এরা বিপরীতধর্মী।
১৪. অ্যাড্রিনালিনকে ‘আপৎকালীন হরমোন’ বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: রাগ, ভয়, দুশ্চিন্তা বা উত্তেজনার সময় অ্যাড্রিনালিন হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়ে হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসকার্য বাড়িয়ে দেহকে ওই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। সংকটকালে দেহকে রক্ষা করে বলে একে আপৎকালীন হরমোন বলে।
১৫. থাইরক্সিন হরমোনের দুটি কাজ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর: ১) বিপাক নিয়ন্ত্রণ: এটি দেহের মৌল বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
২) বৃদ্ধি: এটি দেহের, বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের ও অস্থির বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনে সাহায্য করে।
১৬. টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎস ও কাজ লেখো।
✅ উত্তর: উৎস: শুক্রাশয়ের লেডিগ-এর আন্তরকোষ থেকে ক্ষরিত হয়।
কাজ: এটি পুরুষদের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য (যেমন- দাড়ি-গোঁফ গজানো, গলার স্বর ভারী হওয়া, পেশিবহুল দেহ) প্রকাশে সাহায্য করে এবং শুক্রাণু উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায়।
১৭. ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ (Feedback Mechanism) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় কোনো একটি হরমোনের ক্ষরণ অন্য কোনো হরমোনের মাত্রা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত (বাড়ানো বা কমানো) হয়, তাকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে।
উদাহরণ: রক্তে থাইরক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা পিটুইটারিকে TSH ক্ষরণ কমাতে নির্দেশ দেয় (নেগেটিভ ফিডব্যাক)।
১৮. অগ্ন্যাশয়কে ‘মিশ্র গ্রন্থি’ বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: অগ্ন্যাশয়ে অন্তঃক্ষরা এবং বহিক্ষরা—উভয় প্রকার কোষই বর্তমান। এর অন্তঃক্ষরা অংশ (আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স) থেকে হরমোন (ইনসুলিন, গ্লুকাগন) এবং বহিক্ষরা অংশ (অ্যাসিনাস) থেকে পাচক রস (উৎসেচক) ক্ষরিত হয়। তাই একে মিশ্র গ্রন্থি বলে।
১৯. কুশিং বর্ণিত রোগ (Cushing’s Syndrome) এবং অ্যাডিসন বর্ণিত রোগ—কোন গ্রন্থির সাথে সম্পর্কিত?
✅ উত্তর: দুটি রোগই অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির (অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স) ক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে হয়। কর্টেক্সের অধিক ক্ষরণে কুশিং সিনড্রোম এবং কম ক্ষরণে অ্যাডিসন রোগ হয়।
২০. ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ও ডায়াবেটিস মেলিটাসের মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ১) ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (বহুমূত্র): ADH হরমোনের অভাবে হয়। এতে মূত্রের পরিমাণ বাড়ে কিন্তু মূত্রে শর্করা থাকে না।
২) ডায়াবেটিস মেলিটাস (মধুমেহ): ইনসুলিনের অভাবে হয়। এতে রক্তে ও মূত্রে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
২১. হরমোন ও উৎসেচকের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) গঠন: হরমোন প্রোটিন, স্টেরয়েড বা অ্যামাইনোধর্মী হতে পারে, কিন্তু উৎসেচক সর্বদা প্রোটিনধর্মী হয়।
২) পরিণতি: হরমোন কাজ শেষে ধ্বংস হয়, কিন্তু উৎসেচক বিক্রিয়ার শেষে অপরিবর্তিত থাকে।
২২. স্থানীয় হরমোন বা লোকাল হরমোন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সব হরমোন উৎসস্থলের কাছাকাছি কোনো অঙ্গে বা কোষে কাজ করে এবং রক্তের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে বাহিত হয় না, তাদের লোকাল হরমোন বলে।
উদাহরণ: টেস্টোস্টেরন (শুক্রাশয়ে কাজ করে), গ্যাস্ট্রিন (পাকস্থলীতে কাজ করে)।
২৩. হাইপোথ্যালামাসের কাজ কী? একে ‘সুপ্রিম কমান্ডার’ বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারি গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণকারী ‘রিলিজিং হরমোন’ (যেমন- TRH, GHRH) নিঃসরণ করে। যেহেতু এটি মাস্টার গ্ল্যান্ড পিটুইটারিকেও নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে ‘সুপ্রিম কমান্ডার’ বা ‘সর্বোচ্চ প্রভু গ্রন্থি’ বলা হয়।
২৪. ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎস ও কাজ লেখো।
✅ উত্তর: উৎস: ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল বা পরিণত ডিম্বথলি।
কাজ: এটি নারীদের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য (ত্বক কোমল হওয়া, স্তনগ্রন্থির বিকাশ) প্রকাশে এবং ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২৫. উদ্ভিদ হরমোনের দুটি বাণিজ্যিক ব্যবহার লেখো।
✅ উত্তর: ১) কৃত্রিম অক্সিন (IBA) ব্যবহার করে জবা, গোলাপ প্রভৃতি গাছের কলম তৈরিতে শিকড় গজানো হয়।
২) ইথিলিন ব্যবহার করে কাঁচা ফল দ্রুত পাকানো হয়।
বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-২)
বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | প্রশ্ন সংখ্যা: ২৬-৫০
গ. স্নায়ুতন্ত্র, জ্ঞানেন্দ্রিয় ও গমন
২৬. স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের কাজের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: ১) গতি: স্নায়ুতন্ত্রের কাজ খুব দ্রুত বা তাৎক্ষণিক, কিন্তু হরমোনের কাজ ধীরগতির ও দীর্ঘস্থায়ী।
২) মাধ্যম: স্নায়বিক বার্তা স্নায়ুর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সংকেতরূপে যায়, কিন্তু হরমোন রক্তের মাধ্যমে রাসায়নিক বার্তাবহরূপে বাহিত হয়।
২৭. নিউরনের অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের কাজ কী?
✅ উত্তর: ১) ডেনড্রন: পূর্ববর্তী নিউরন বা গ্রাহক থেকে স্নায়ু স্পন্দন গ্রহণ করে কোষদেহে প্রেরণ করে।
২) অ্যাক্সন: কোষদেহ থেকে স্নায়ু স্পন্দন পরবর্তী নিউরন বা কারক অঙ্গে (পেশি বা গ্রন্থি) বহন করে নিয়ে যায়।
[attachment_2](attachment)
২৮. সাইন্যাপস (Synapse) বা স্নায়ুসন্নিধি কাকে বলে? এর কাজ কী?
✅ উত্তর: দুটি নিউরনের সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরনের অ্যাক্সন এবং অন্য নিউরনের ডেনড্রন মিলিত হয় (কিন্তু স্পর্শ করে না), তাকে সাইন্যাপস বলে।
কাজ: এর মাধ্যমে স্নায়ু স্পন্দন এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে প্রবাহিত হয় (নিউরোট্রান্সমিটারের সাহায্যে)।
২৯. সংজ্ঞাবহ (Sensory) ও আজ্ঞাবহ (Motor) স্নায়ুর পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) সংজ্ঞাবহ: এটি গ্রাহক অঙ্গ (চামড়া, চোখ) থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্ক) বহন করে। (যেমন- অপটিক নার্ভ)।
২) আজ্ঞাবহ: এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্দেশ কারক অঙ্গে (পেশি) বহন করে। (যেমন- অকিউলোমোটর নার্ভ)।
৩০. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, মস্তিষ্কের ইচ্ছা নিরপেক্ষ, দ্রুত এবং স্বতঃস্ফূর্ত যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ: চোখে হঠাৎ আলো পড়লে পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা গরম বস্তুতে হাত লাগলে হাত সরে আসা।
৩১. প্রতিবর্ত পথ বা রিফ্লেক্স আর্কের (Reflex Arc) পাঁচটি অংশের নাম ক্রমানুসারে লেখো।
✅ উত্তর: গ্রাহক (Receptor) $\rightarrow$ সংজ্ঞাবহ স্নায়ু $\rightarrow$ স্নায়ুকেন্দ্র (সুষুম্নাকাণ্ড) $\rightarrow$ আজ্ঞাবহ স্নায়ু $\rightarrow$ কারক (Effector)।
[attachment_3](attachment)
৩২. জন্মগত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ১) জন্মগত: এটি বংশগত এবং কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না (যেমন- জন্মের পর শিশুর স্তন্যপান)।
২) অর্জিত: এটি অভ্যাসের মাধ্যমে বা শিক্ষার দ্বারা অর্জন করতে হয় (যেমন- সাইকেল চালানো, আবৃত্তি করা)।
৩৩. হাইপোথ্যালামাস ও লঘুমস্তিষ্কের একটি করে কাজ লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর: হাইপোথ্যালামাস: দেহের তাপমাত্রা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।
লঘুমস্তিষ্ক: দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ঐচ্ছিক পেশির চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
৩৪. মায়েলিন সিদ বা মেডুলারি আবরণের কাজ কী?
✅ উত্তর: ১) এটি অ্যাক্সনকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২) এটি তড়িৎ অন্তরক হিসেবে কাজ করে, ফলে স্নায়ু স্পন্দন দ্রুত পরিবাহিত হয় এবং এক তন্তু থেকে অন্য তন্তুতে ছড়িয়ে পড়ে না।
৩৫. সুষুম্নাশীর্ষক (Medulla Oblongata)-এর কাজ কী?
✅ উত্তর: এটি শ্বাসকার্য, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, বমি, হাঁচি ও কাশির মতো অনৈচ্ছিক কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
৩৬. উপযোজন (Accommodation) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: স্থান পরিবর্তন না করে, সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে চোখের লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে রেটিনায় ফোকাস করার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।
৩৭. মায়োপিয়া (হ্রস্ব দৃষ্টি) ও হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘ দৃষ্টি)-এর কারণ ও প্রতিকার লেখো।
✅ উত্তর: ১) মায়োপিয়া: অক্ষিগোলক বড় হলে হয়। প্রতিকার: অবতল লেন্স।
২) হাইপারমেট্রোপিয়া: অক্ষিগোলক ছোট হলে হয়। প্রতিকার: উত্তল লেন্স।
[attachment_4](attachment)
৩৮. মাছের গমনে পটকার ভূমিকা কী?
✅ উত্তর: মাছের পটকা মাছকে জলে ভাসতে ও ডুবতে সাহায্য করে। পটকার গ্যাস গ্রন্থি থেকে গ্যাস নির্গত হলে পটকা ফুলে ওঠে এবং মাছ হালকা হয়ে ভেসে ওঠে। আবার গ্যাস শোষিত হলে পটকা চুপসে যায় এবং মাছ ভারী হয়ে ডুবে যায়। এটি প্লবতা রক্ষা করে।
৩৯. মাছের গমনে মায়োটোম পেশির ভূমিকা লেখো। [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: মাছের মেরুদণ্ডের দুপাশে ‘V’ আকৃতির মায়োটোম পেশি থাকে। এই পেশিগুলির ক্রমিক সংকোচনের ফলে মাছের দেহ ও লেজ ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত হয়। লেজের এই আন্দোলনের ফলে জল যে প্রতিক্ষেপ বল প্রয়োগ করে, তা মাছকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৪০. পায়রার উড্ডয়ন পেশিগুলির নাম ও কাজ লেখো।
✅ উত্তর: পায়রার বুকে তিনটি প্রধান উড্ডয়ন পেশি থাকে:
১) পেক্টোরালিস মেজর: ডানাকে নিচে নামাতে সাহায্য করে।
২) পেক্টোরালিস মাইনর: ডানাকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে।
৩) কোরাকো ব্রাকিয়ালিস: ডানার ঘূর্ণনে সাহায্য করে।
৪১. সাইনোভিয়াল তরল ও সাইনোভিয়াল পর্দার কাজ কী?
✅ উত্তর: অস্থিসন্ধিতে থাকা সাইনোভিয়াল তরল হাড়ের ঘর্ষণ কমায় এবং পুষ্টি জোগায়। সাইনোভিয়াল পর্দা এই তরল ক্ষরণ করে এবং অস্থিসন্ধিকে আবৃত করে রাখে।
৪২. গমনে চালিকা শক্তিগুলি (উদ্দেশ্য) কী কী?
✅ উত্তর: প্রাণীরা মূলত তিনটি কারণে গমন করে:
১) খাদ্য অন্বেষণ বা সংগ্রহের জন্য।
২) আত্মরক্ষা বা শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য।
৩) প্রজনন বা বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী ও বাসস্থান খুঁজতে।
৪৩. চলন ও গমনের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) স্থান পরিবর্তন: চলনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না, কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করে। গমনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে।
২) জীব: চলন মূলত উদ্ভিদে দেখা যায়, গমন মূলত প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য।
৪৪. সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সব অস্থিসন্ধিতে হাড়গুলো স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে, তাদের সচল অস্থিসন্ধি বলে।
উদাহরণ: বল ও সকেট সন্ধি (কাঁধে), কব্জা সন্ধি (হাঁটু বা কনুইতে)।
৪৫. অ্যামিবার গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর: অ্যামিবার গমন পদ্ধতিকে ‘অ্যামিবয়েড গতি’ বলে। অ্যামিবা তার দেহের প্রোটোপ্লাজমকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দিয়ে আঙুলের মতো ক্ষণপদ (Pseudopodia) তৈরি করে। এই ক্ষণপদের সাহায্যে সে সামনের কঠিন বস্তুকে আঁকড়ে ধরে এবং পেছনের দেহকে টেনে সামনে নিয়ে আসে।
৪৬. ক্যাটারাক্ট বা ছানি পড়া কী? এর প্রতিকার কী?
✅ উত্তর: বয়স বাড়লে বা অন্য কারণে চোখের লেন্স অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে হয়ে গেলে দৃষ্টিশক্তি কমে যায় বা অন্ধত্ব আসে। একে ক্যাটারাক্ট বলে।
প্রতিকার: অস্ত্রোপচার করে লেন্স পরিবর্তন (IOL বসানো)।
৪৭. মেনিনজেস ও CSF-এর অবস্থান ও কাজ লেখো।
✅ উত্তর: মেনিনজেস: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরের আবরণী, যা এদের রক্ষা করে।
CSF: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের গহ্বরে এবং মেনিনজেসের স্তরের মাঝে থাকে। এটি মস্তিষ্ককে পুষ্টি দেয় এবং আঘাত থেকে রক্ষা করে (কুশন হিসেবে)।
৪৮. ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ ও গমন পদ্ধতির নাম লেখো।
✅ উত্তর: গমন অঙ্গ: ফ্ল্যাজেলা (Flagella)।
পদ্ধতি: ফ্ল্যাজোলার গতি (Flagellar movement)। ইউগ্লিনা তার চাবুকের মতো ফ্ল্যাজেলাকে জলে আন্দোলন করে সাঁতার কাটে।
৪৯. পাখির উড্ডয়নে রেমিজেস ও রেকট্রি সেস পালকের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর: ১) রেমিজেস: ডানায় থাকা ২৩টি বড় পালক, যা ডানার তলল বাড়িয়ে বাতাসে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
২) রেকট্রি সেস: লেজে থাকা ১২টি বড় পালক, যা উড়বার সময় দিক পরিবর্তন করতে এবং ব্রেক কষতে সাহায্য করে।
৫০. দ্বিপদ গমন কাকে বলে? এতে কোন কোন অঙ্গ সাহায্য করে?
✅ উত্তর: দুটি পায়ের সাহায্যে দেহের ভারসাম্য বজায় রেখে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়াকে দ্বিপদ গমন বলে (মানুষের ক্ষেত্রে)।
সাহায্যকারী অঙ্গ: পায়ের অস্থি (ফিমার, টিবিয়া-ফিবিউলা), পেশি (গ্লুটিয়াস, গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস) এবং লঘুমস্তিষ্ক (ভারসাম্য রক্ষার জন্য)।
বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (অতিরিক্ত সেট – পার্থক্য ও কারণ দর্শানো)
বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | প্রশ্ন সংখ্যা: ৫১-৭০
পার্থক্য নিরূপণ ও তুলনামূলক আলোচনা
৫১. অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের মধ্যে দুটি গঠনগত বা কার্যগত পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর:
| বিষয় | অ্যাক্সন | ডেনড্রন |
|---|---|---|
| গঠন | এটি সাধারণত দীর্ঘ, শাখাবিহীন এবং মায়েলিন সিদ আবৃত হয়। | এটি ক্ষুদ্র, শাখাযুক্ত এবং মায়েলিন সিদ বিহীন হয়। |
| কাজ | কোষদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন পরবর্তী নিউরনে বহন করে। | পূর্ববর্তী নিউরন বা গ্রাহক থেকে স্পন্দন গ্রহণ করে কোষদেহে পাঠায়। |
[attachment_0](attachment)
৫২. হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) কাজের গতি: হরমোনের ক্রিয়া ধীরগতিসম্পন্ন কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী। স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া খুব দ্রুত কিন্তু ক্ষণস্থায়ী।
২) পরিবহন: হরমোন রক্তের মাধ্যমে রাসায়নিকভাবে বাহিত হয়। স্নায়ুস্পন্দন স্নায়ুর মাধ্যমে ভৌত-রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক তরঙ্গরূপে বাহিত হয়।
৫৩. জন্মগত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) পূর্ব অভিজ্ঞতা: জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই (যেমন- শিশুর স্তন্যপান)। অর্জিত ক্রিয়ায় অনুশীলনের প্রয়োজন (যেমন- সাইকেল চালানো)।
২) স্থায়িত্ব: জন্মগত ক্রিয়া স্থায়ী এবং বংশগত। অর্জিত ক্রিয়া অস্থায়ী, চর্চা না করলে ভুলে যেতে হয়।
৫৪. গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের মধ্যে কার্যগত পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) গুরুমস্তিষ্ক: এটি স্মৃতি, বুদ্ধি, চিন্তা, চেতনা এবং ঐচ্ছিক পেশির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
২) লঘুমস্তিষ্ক: এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং গমনের সময় পেশিগুলোর সমন্বয় সাধন করে।
৫৫. রড কোষ ও কোণ কোষের মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ১) আলোক সুবেদিতা: রড কোষ মৃদু আলোতে দর্শনে সাহায্য করে। কোণ কোষ উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে।
২) বর্ণ চেনার ক্ষমতা: রড কোষ বর্ণ চিনতে পারে না। কোণ কোষ বিভিন্ন বর্ণ চিনতে সাহায্য করে।
বৈজ্ঞানিক কারণ দর্শানো ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন
৫৬. মাছের গমনে পটকার ভূমিকা কী? মাছ কীভাবে জলের গভীরে যায় বা ওপরে ওঠে?
✅ উত্তর: মাছের পটকা প্লবতা রক্ষাকারী অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠে থাকা ‘রেড গ্রন্থি’ (Red Gland) গ্যাস উৎপন্ন করে পটকাকে ফুলিয়ে দেয়, ফলে মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে এবং মাছ ভেসে ওঠে। আবার পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের ‘রেটি মিরাবিলি’ (Retia Mirabilia) গ্যাস শোষণ করে নিলে পটকা চুপসে যায়, মাছ ভারী হয় এবং জলের গভীরে ডুবে যায়।
৫৭. পায়রার দেহে বায়ুথলি বা এয়ার স্যাকের প্রয়োজনীয়তা কী? [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: পায়রার ফুসফুসের সাথে ৯টি বায়ুথলি যুক্ত থাকে।
১) এগুলি ওড়ার সময় ফুসফুসে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে (দ্বি-শ্বসন)।
২) বায়ুপূর্ণ হয়ে দেহকে হালকা করে, যা ওড়ার জন্য সুবিধাজনক।
৫৮. দ্বিনেত্র দৃষ্টি (Binocular Vision) বলতে কী বোঝো? মানুষের দৃষ্টি কি দ্বিনেত্র?
✅ উত্তর: যখন দুটি চোখ দিয়ে একই সঙ্গে একটি বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং বস্তুর গভীরতা ও ত্রিমাত্রিক আকার অনুভব করা যায়, তাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে।
হ্যাঁ, মানুষ, পেঁচা, বানর প্রভৃতির দৃষ্টি দ্বিনেত্র। (গরু, ঘোড়ার দৃষ্টি একনেত্র)।
৫৯. উদ্ভিদ হরমোনকে ‘বৃদ্ধিনিয়ন্ত্রক’ বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: উদ্ভিদ হরমোনগুলি (যেমন অক্সিন, জিব্বেরেলিন) উদ্ভিদের কোষ বিভাজন, কোষের আকার বৃদ্ধি, ফলের বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক দৈহিক বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করে। আবার কিছু হরমোন (যেমন অ্যাবসিসিক অ্যাসিড) বৃদ্ধি রোধও করে। অর্থাৎ উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেই এদের বৃদ্ধিনিয়ন্ত্রক বলা হয়।
৬০. ক্যাটারাক্ট বা চোখে ছানি পড়া বলতে কী বোঝো? এর প্রতিকার কী?
✅ উত্তর: বয়স বাড়ার সাথে সাথে বা অন্য কোনো কারণে চোখের লেন্স তার স্বচ্ছতা ও স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেললে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়। একে ক্যাটারাক্ট বা ছানি পড়া বলে।
প্রতিকার: লেন্স প্রতিস্থাপন (Intraocular Lens – IOL) বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি সারানো হয়।
৬১. কৃষিবিদ্যায় কৃত্রিম হরমোনের দুটি গুরুত্ব লেখো।
✅ উত্তর: ১) পার্থেনোকার্পি: কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করে বীজহীন ফল (পেঁপে, টমেটো) উৎপাদন করা হয়।
২) কলম তৈরি: গোলাপ, জবা প্রভৃতি গাছের শাখা কলমে শিকড় গজানোর জন্য কৃত্রিম অক্সিন (IBA, NAA) ব্যবহার করা হয়।
৬২. দরজায় ঘণ্টা বাজলে দরজা খুলে দেওয়া—এটি কী ধরনের স্নায়বিক পথ অনুসরণ করে? (শব্দছক)
✅ উত্তর:
শব্দ (উদ্দীপক) $\rightarrow$ কান (গ্রাহক) $\rightarrow$ অডিটরি স্নায়ু (সংজ্ঞাবহ) $\rightarrow$ মস্তিষ্ক (স্নায়ুকেন্দ্র) $\rightarrow$ আজ্ঞাবহ স্নায়ু $\rightarrow$ হাতের পেশি (কারক) $\rightarrow$ দরজা খোলা (সাড়া)।
৬৩. ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি একটি উদাহরণের সাহায্যে বোঝাও। (TSH ও থাইরক্সিন)
✅ উত্তর: পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত TSH থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন ক্ষরণ ঘটায়। রক্তে থাইরক্সিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে, সেই বর্ধিত থাইরক্সিন পিটুইটারিকে সংকেত পাঠায় TSH ক্ষরণ কমানোর জন্য। একে নেগেটিভ ফিডব্যাক বলে। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
৬৪. গমনে চালিকা শক্তি হিসেবে ‘আত্মরক্ষা’ ও ‘প্রজনন’-এর ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: ১) আত্মরক্ষা: খাদক প্রাণীর হাত থেকে বাঁচার জন্য বা প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে প্রাণীরা নিরাপদ স্থানে গমন করে।
২) প্রজনন: বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজা এবং ডিম পাড়া বা সন্তান প্রসবের জন্য সুরক্ষিত স্থানে যেতে প্রাণীদের গমন করতে হয়।
৬৫. সচল অস্থিসন্ধি ও সাইনোভিয়াল তরলের সম্পর্ক কী?
✅ উত্তর: সচল অস্থিসন্ধিতে (যেমন হাঁটু, কনুই) দুটি অস্থির সংযোগস্থলে একটি গহ্বর থাকে যা ‘সাইনোভিয়াল তরল’ নামক পিচ্ছিল পদার্থে পূর্ণ থাকে। এই তরল হাড়ের ঘর্ষণ কমায় এবং অস্থিসন্ধিকে সহজে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে, অনেকটা মেশিনের লুব্রিকেন্টের মতো।
৬৬. প্রেসায়োপিয়া (Presbyopia) বা চালশে কী? এর প্রতিকার কী?
✅ উত্তর: ৪০ বছরের বেশি বয়সে চোখের লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ায় এবং সিলিয়ারি পেশি দুর্বল হয়ে পড়ায় কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা হয়। একে প্রেসায়োপিয়া বা চালশে বলে।
প্রতিকার: বাই-ফোকাল লেন্স (Bi-focal lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়।
৬৭. মেনিঞ্জেস (Meninges) ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)-এর অবস্থান ও কাজ লেখো।
✅ উত্তর: মেনিঞ্জেস: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে ঘিরে থাকা ত্রিস্তরী আবরণ, যা এদের রক্ষা করে।
CSF: মেনিঞ্জেসের স্তরের মাঝে এবং মস্তিষ্কের গহ্বরে থাকে। এটি মস্তিষ্ককে পুষ্টি জোগায় এবং বাহ্যিক আঘাত থেকে কুশনের মতো রক্ষা করে।
৬৮. ‘পশ্চাৎ পিটুইটারি প্রকৃত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নয়’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর: পশ্চাৎ পিটুইটারি নিজে কোনো হরমোন তৈরি করে না। হাইপোথ্যালামাসে উৎপন্ন হরমোন (যেমন- ADH, অক্সিটোসিন) অ্যাক্সনের মাধ্যমে এসে পশ্চাৎ পিটুইটারিতে জমা হয় এবং সেখান থেকে নির্গত হয়। অর্থাৎ এটি কেবল হরমোন সঞ্চয় ও নিঃসরণ করে, উৎপাদন করে না।
৬৯. সিসমোন্যাস্টিক চলন ও কেমোন্যাস্টিক চলনের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: ১) সিসমোন্যাস্টিক: লজ্জাবতী লতার পাতায় স্পর্শ করলে বা আঘাত লাগলে পত্রকগুলি গুটিয়ে যায়।
২) কেমোন্যাস্টিক: সূর্যশিশির বা কলসপত্রী উদ্ভিদের পাতার রোঁম বা ঢাকনা প্রোটিন বা রাসায়নিক পদার্থের (পতঙ্গ) সংস্পর্শে এলে বেঁকে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়।
৭০. আয়োডিন যুক্ত লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো কেন?
✅ উত্তর: আমাদের থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত ‘থাইরক্সিন’ হরমোন তৈরির মূল উপাদান হলো আয়োডিন। শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরক্সিন তৈরি হয় না এবং থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়। এছাড়াও শিশুদের মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই আয়োডিন যুক্ত লবণ খাওয়া জরুরি।