দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় -১: বড় প্রশ্ন

বিভাগ-ঘ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান

বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-২৫ | পূর্ণমান: ৫ (৩+২ বা ৫)


১. ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। উদ্ভিদদেহে সাইটোকাইনিন হরমোনের দুটি ভূমিকা উল্লেখ করো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য:

বিষয় ট্রপিক চলন (Tropic Movement) ন্যাস্টিক চলন (Nastic Movement)
১. উদ্দীপকের ভূমিকা এই চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ (Direction) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই চলন উদ্দীপকের তীব্রতা (Intensity) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. প্রকৃতি এটি একপ্রকার অক্সিন হরমোন নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিজনিত স্থায়ী চলন এটি মূলত কোষের রসস্ফীতিজনিত তারতম্যের ফলে ঘটা অস্থায়ী বক্র চলন
৩. উদাহরণ উদ্ভিদের কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যাওয়া (ফটোট্রপিক)। লজ্জাবতী লতা স্পর্শ করলে মুদে যাওয়া (সিসমোন্যাস্টিক)।

খ) সাইটোকাইনিন হরমোনের ভূমিকা:

১) কোষ বিভাজন (Cell Division): সাইটোকাইনিন উদ্ভিদের কোষ বিভাজনে (বিশেষ করে সাইটোকাইনেসিস পর্যায়ে) প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে। এটি কোষচক্রের দশা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়।

২) বার্ধক্য বিলম্বিতকরণ (Richmond-Lang Effect): এই হরমোন পাতার ক্লোরোফিল অণু এবং প্রোটিন নষ্ট হতে দেয় না। ফলে পাতা দীর্ঘদিন সবুজ ও সতেজ থাকে এবং উদ্ভিদের বার্ধক্য বা জরা বিলম্বিত হয়।

২. উদ্ভিদের আলোকবর্তী (Phototropic) চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। কৃষি কাজে কৃত্রিম হরমোনের দুটি ব্যবহার লেখো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) আলোকবর্তী চলনে অক্সিনের ভূমিকা:

উদ্ভিদের কাণ্ড বা বিটপ অংশ আলোক উৎসের দিকে বেঁকে যায়। এর কারণ হলো অক্সিন হরমোনের অসম বণ্টন।

[attachment_0](attachment)

১) কাণ্ডের যে দিকে আলো পড়ে, অক্সিন সেই আলোকপ্রাপ্ত স্থান থেকে সরে গিয়ে বিপরীত দিকের অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে বেশি পরিমাণে জমা হয়।

২) অন্ধকার দিকের কোষগুলিতে অক্সিনের ঘনত্ব বাড়ার ফলে সেই কোষগুলি দ্রুত বিভাজিত হয় এবং লম্বায় বৃদ্ধি পায়।

৩) কিন্তু আলোর দিকের কোষগুলির বৃদ্ধি কম হয়। এই অসম বৃদ্ধির ফলে কাণ্ডটি আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায়।

খ) কৃত্রিম হরমোনের ব্যবহার:

১) বীজহীন ফল উৎপাদন (পার্থেনোকার্পি): কৃত্রিম অক্সিন (যেমন- NAA, IBA) নিষেকের আগেই ডিম্বাশয়ে স্প্রে করলে বীজহীন ফল (যেমন- পেঁপে, কলা, আঙুর) উৎপন্ন হয়।

২) আগাছা দমন: ধান বা গম ক্ষেতে কৃত্রিম অক্সিন (যেমন- 2,4-D) স্প্রে করলে ফসলের ক্ষতি না করে অবাঞ্ছিত দ্বিবীজপত্রী আগাছাগুলি মরে যায়।

৩. জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রধান তিনটি কাজ উল্লেখ করো। উদ্ভিদের জিওট্রপিক চলন কাকে বলে? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) জিব্বেরেলিনের কাজ:

১) পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি: জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের পর্বমধ্যের (Internode) কোষগুলির দ্রুত বিভাজন ও প্রসারণ ঘটিয়ে কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে খর্বাকার উদ্ভিদ (যেমন- বাঁধাকপি) দ্রুত লম্বা হয়।

২) সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ: বীজ বা মুকুলের সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে অঙ্কুরোদ্গম ত্বরান্বিত করতে জিব্বেরেলিন সাহায্য করে।

৩) বোল্টিং (Bolting): দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জিব্বেরেলিন প্রয়োগে পুষ্পমঞ্জরী দণ্ডের দৈর্ঘ্য হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত ফুল ফোটে।

খ) জিওট্রপিক চলন:

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বা অভিকর্ষ বলের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক বা অভিকর্ষবর্তী চলন বলে। (যেমন- উদ্ভিদের প্রধান মূল অভিকর্ষের টানে মাটির গভীরে প্রবেশ করে, এটি অনুকূল অভিকর্ষবর্তী চলন)।

৪. একটি নিউরনের পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ডেনড্রন, (খ) অ্যাক্সন, (গ) মায়েলিন সিদ, (ঘ) সোয়ান কোষ। (৩+২=৫)

উত্তর:

(শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশ: পেন্সিল ও কম্পাস ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন চিত্র আঁকতে হবে। ডানদিকে সোজা লাইন টেনে লেবেলিং করতে হবে।)

[attachment_1](attachment)
চি চিহ্নিতকরণ:

১) ডেনড্রন: কোষদেহ থেকে নির্গত ছোট শাখাপ্রশাখা যা উদ্দীপনা গ্রহণ করে।

২) অ্যাক্সন: নিউরনের দীর্ঘ প্রবর্ধক যা উদ্দীপনা বহন করে।

৩) মায়েলিন সিদ: অ্যাক্সনের ওপরের ফ্যাট ও প্রোটিন নির্মিত অন্তরক আবরণ।

৪) সোয়ান কোষ: মায়েলিন সিদের নিচে অবস্থিত নিউক্লিয়াসযুক্ত বিশেষ কোষ।

৫. পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনগুলির নাম ও কাজ ছকের সাহায্যে দেখাও (যেকোনো তিনটি)। অ্যাড্রিনালিনকে কেন আপৎকালীন হরমোন বলা হয়? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) পিটুইটারি নিঃসৃত হরমোন ও কাজ:

হরমোন পুরো নাম প্রধান কাজ
ACTH Adrenocorticotropic Hormone অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
TSH Thyroid Stimulating Hormone থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি ও থাইরক্সিন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
STH / GH Somatotropic Hormone দেহের সার্বিক বৃদ্ধি, বিশেষ করে অস্থি ও পেশির বৃদ্ধি ঘটায়।

খ) অ্যাড্রিনালিন – আপৎকালীন হরমোন:

স্বাভাবিক অবস্থায় এই হরমোন খুব কম ক্ষরিত হয়। কিন্তু রাগ, ভয়, দুশ্চিন্তা বা উত্তেজনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাড্রিনালিন দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এটি হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসহার বাড়িয়ে দেহকে ওই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। তাই একে সংকটকালীন বা আপৎকালীন হরমোন বলে।

৬. হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যপদ্ধতির তিনটি পার্থক্য লেখো। ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝো? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্য হরমোন (রাসায়নিক সমন্বয়কারী) স্নায়ুতন্ত্র (ভৌত সমন্বয়কারী)
১. কাজের প্রকৃতি কাজের গতি ধীর কিন্তু প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী। কাজের গতি অত্যন্ত দ্রুত কিন্তু প্রভাব ক্ষণস্থায়ী ও তাৎক্ষণিক।
২. বার্তা পরিবহন রাসায়নিক বার্তাবহ রূপে রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়। তড়িৎ-রাসায়নিক তরঙ্গরূপে স্নায়ুর মাধ্যমে বাহিত হয়।
৩. পরিণতি কাজের শেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কাজের শেষে স্নায়ু বা নিউরনের কোনো পরিবর্তন হয় না।

খ) ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ (Feedback Control):

যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রক্তে উপস্থিত কোনো একটি হরমোনের মাত্রা অন্য কোনো গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণকে উদ্দীপিত বা নিবৃত করে, তাকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে।

উদাহরণ: রক্তে থাইরক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারিকে সংকেত পাঠায় TSH ক্ষরণ কমানোর জন্য (Negative Feedback)।

৭. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের কাজ পরস্পর বিপরীতধর্মী—ব্যাখ্যা করো। ডায়াবেটিস মেলিটাসের দুটি লক্ষণ লেখো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) বিপরীতধর্মী কাজ:

ইনসুলিন ও গ্লুকাগন উভয়ই অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত হয় কিন্তু রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এরা একে অপরের উল্টো কাজ করে।

১) ইনসুলিন: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিন গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে যকৃৎ ও পেশিতে জমা রাখে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে

২) গ্লুকাগন: রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস) এবং রক্তে পাঠায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে

খ) ডায়াবেটিস মেলিটাস বা মধুমেহ-এর লক্ষণ:

১) মূত্রের পরিমাণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় (পলিইউরিয়া) এবং প্রবল তৃষ্ণা পায় (পলিডিপসিয়া)।

২) মূত্রের মাধ্যমে গ্লুকোজ নির্গত হয় (গ্লাইকোসুরিয়া) এবং দেহ ক্রমশ দুর্বল ও শীর্ণ হয়ে পড়ে।

৮. মানুষের চোখের লম্বচ্ছেদের একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) কর্নিয়া, (খ) লেন্স, (গ) রেটিনা, (ঘ) অন্ধবিন্দু। (৫)

উত্তর:

(এটি সম্পূর্ণ চিত্রাঙ্কন ভিত্তিক ৫ নম্বরের প্রশ্ন। চিত্রটি অবশ্যই পেন্সিল দিয়ে আঁকতে হবে।)

[attachment_2](attachment)

চিহ্নিতকরণ নির্দেশিকা:

কর্নিয়া: অক্ষিগোলকের সামনের উত্তল স্বচ্ছ অংশ।

লেন্স: আইরিসের পেছনে অবস্থিত উভোত্তল স্বচ্ছ অংশ।

রেটিনা: অক্ষিগোলকের একেবারে ভেতরের আলোক সুবেদী স্তর।

অন্ধবিন্দু: রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থল যেখানে কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না।

৯. প্রতিবর্ত চাপ বা রিফ্লেক্স আর্কের (Reflex Arc) বিভিন্ন অংশের কাজ ছকের সাহায্যে দেখাও। জন্মগত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি পার্থক্য লেখো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) প্রতিবর্ত চাপের অংশ ও কাজ:

১) গ্রাহক (Receptor): পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে।

২) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু (Sensory Nerve): উদ্দীপনা গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে বহন করে।

৩) স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve Centre): সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তু, যা উদ্দীপনা বিশ্লেষণ করে এবং নির্দেশ তৈরি করে।

৪) আজ্ঞাবহ স্নায়ু (Motor Nerve): স্নায়ুকেন্দ্র থেকে নির্দেশ কারক অঙ্গে বহন করে।

৫) কারক (Effector): পেশি বা গ্রন্থি, যা নির্দেশ অনুযায়ী সাড়া প্রদান করে (যেমন পেশি সংকোচন)।

খ) জন্মগত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পার্থক্য:

১) উৎস: জন্মগত ক্রিয়া বংশগত সূত্রে পূর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত। অর্জিত ক্রিয়া জন্মের পর অভ্যাসের মাধ্যমে শিখতে হয়।

২) শর্ত: জন্মগত ক্রিয়া শর্তনিরপেক্ষ। অর্জিত ক্রিয়া শর্তসাপেক্ষ এবং নিয়মিত অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল।

১০. থাইরক্সিন হরমোনের তিনটি প্রধান কাজ লেখো। বামনত্ব ও গলগণ্ড রোগের কারণ কী? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) থাইরক্সিনের কাজ:

১) বিপাকীয় কাজ: এটি কোষে অক্সিজেন গ্রহণ ও শক্তি উৎপাদনের হার বাড়ায়। দেহের মৌল বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে।

২) হৃদস্পন্দন: এটি হৃৎস্পন্দনের হার ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।

৩) বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটন: এটি ব্যাঙাচির রূপান্তর এবং মানবশিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

খ) রোগের কারণ:

১) বামনত্ব (Dwarfism): শৈশবে পিটুইটারি থেকে গ্রোথ হরমোন (STH) বা থাইরয়েড থেকে থাইরক্সিনের কম ক্ষরণের ফলে এটি হয়।

২) গলগণ্ড (Goiter): খাদ্যে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরক্সিন উৎপাদন কমে যায়। তখন গ্রন্থিটি অধিক কাজ করার চেষ্টা করে ফুলে ওঠে, একে গলগণ্ড বলে।

১১. মানুষের গমনে লঘুমস্তিষ্ক এবং অন্তঃকর্ণের ভূমিকা কী? বল ও সকেট সন্ধির বৈশিষ্ট্য ও অবস্থান লেখো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা:

১) লঘুমস্তিষ্ক: গমনের সময় দেহের বিভিন্ন ঐচ্ছিক পেশির টান নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেহের ভঙ্গি ও ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি না থাকলে আমরা টলতে টলতে হাঁটতাম।

২) অন্তঃকর্ণ: অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালী এবং অটোলিথ যন্ত্র (Vestibular apparatus) দেহের স্থিতাবস্থা ও গতির পরিবর্তন অনুভব করে এবং স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে বার্তা পাঠিয়ে ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।

খ) বল ও সকেট সন্ধি (Ball & Socket Joint):

বৈশিষ্ট্য: এই সন্ধিতে একটি অস্থির গোলাকার মাথা অন্য একটি অস্থির বাটি আকৃতির গহ্বরে এমনভাবে আটকানো থাকে যে অস্থিটিকে যেকোনো দিকে ($360^\circ$) ঘোরানো যায়।

অবস্থান: স্কন্ধ সন্ধি (কাঁধ) এবং কটি সন্ধি (কোমর)।

১২. একটি প্রতিবর্ত চাপের (Reflex Arc) চিত্র অঙ্কন করে গ্রাহক, সংজ্ঞাবহ স্নায়ু, স্নায়ুকেন্দ্র ও চেষ্টীয় স্নায়ু চিহ্নিত করো। (৫)

উত্তর:

(এটি চিত্রাঙ্কন প্রশ্ন। সুষুম্নাকাণ্ডের প্রস্থচ্ছেদ এঁকে স্নায়ু পথ দেখাতে হবে।)

[attachment_3](attachment)

চিহ্নিতকরণ:

১) গ্রাহক: ত্বক বা চামড়া।

২) সংজ্ঞাবহ নিউরন: যা ডর্সাল রুট দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ডে প্রবেশ করছে।

৩) স্নায়ুকেন্দ্র: সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তু (Grey matter)।

৪) চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবহ নিউরন: যা ভেন্ট্রাল রুট দিয়ে পেশির দিকে যাচ্ছে।

৫) কারক: পেশি।

১৩. মাছের গমনে পাখনার ভূমিকা আলোচনা করো। মাছের দেহে পটকার গ্যাস শোষণ ও গ্যাস উৎপাদনকারী অংশ দুটির নাম লেখো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) পাখনার ভূমিকা:

১) বক্ষ ও শ্রোণি পাখনা (জোড়): জলের গভীরে যেতে, ভেসে উঠতে এবং গমনের সময় ব্রেক কষতে বা থামতে সাহায্য করে।

২) পৃষ্ঠ ও পায়ু পাখনা (বিজোড়): গমনের সময় দেহের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং কাত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

৩) পুচ্ছ পাখনা (বিজোড়): এটি হালের মতো কাজ করে এবং সাঁতারের সময় মাছের দিক পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

খ) পটকার অংশ:

১) গ্যাস উৎপাদনকারী অংশ: অগ্র প্রকোষ্ঠে অবস্থিত ‘রেড গ্রন্থি’ (Red Gland)

২) গ্যাস শোষণকারী অংশ: পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত ‘রেটি মিরাবিলি’ (Retia Mirabilia)

১৪. অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের মধ্যে তিনটি গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য লেখো। সাইন্যাপস বা স্নায়ুসন্নিধির কাজ কী? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) পার্থক্য:

বিষয় অ্যাক্সন (Axon) ডেনড্রন (Dendron)
১. গঠন এটি নিউরনের দীর্ঘ, শাখাবিহীন (প্রান্তীয় বুরুশ বাদে) প্রবর্ধক। এটি নিউরনের ক্ষুদ্র ও শাখাপ্রশাখা যুক্ত প্রবর্ধক।
২. আবরণ এর ওপর মায়েলিন সিদ ও নিউরোলেমা নামক আবরণ থাকে। এর ওপর কোনো আবরণ থাকে না।
৩. কাজ এটি কোষদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন পরবর্তী নিউরনে বা কারক অঙ্গে বহন করে (চেষ্টীয়)। এটি পূর্ববর্তী নিউরন বা গ্রাহক থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে কোষদেহে পাঠায় (সংজ্ঞাবহ)।

খ) সাইন্যাপসের কাজ:

সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরনের সংযোগস্থল (যেখানে তারা স্পর্শ করে না)। এর প্রধান কাজ হলো রাসায়নিক পদার্থ বা ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ (যেমন- অ্যাসিটাইলকোলিন)-এর মাধ্যমে স্নায়ুস্পন্দনকে এক নিউরন থেকে পরবর্তী নিউরনে একমুখীভাবে প্রবাহিত করা। একে ‘স্নায়ুবিক ভালভ’ও বলা হয়।

১৫. পায়রার উড্ডয়নে উড্ডয়ন পেশিগুলির (Pectoralis Major & Minor) ভূমিকা আলোচনা করো। রেমিজেস ও রেকট্রি সেস পালক কী? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) উড্ডয়ন পেশির ভূমিকা:

পায়রার বুকে স্টার্নাম অস্থির সাথে যুক্ত শক্তিশালী পেশিগুলি ওড়ার সময় ডানা সঞ্চালনে সাহায্য করে।

১) পেক্টোরালিস মেজর (Pectoralis Major): এটি সবচেয়ে বড় পেশি। এটি সংকুচিত হলে ডানা সজোরে নিচের দিকে নামে (Downstroke) এবং বাতাসকে আঘাত করে পায়রাকে ওপরে ও সামনে ঠেলে দেয়।

২) পেক্টোরালিস মাইনর (Pectoralis Minor): এটি সংকুচিত হলে ডানা ওপরের দিকে উঠে আসে (Upstroke) এবং পরবর্তী ঝাপটার জন্য প্রস্তুত হয়।

খ) পালক:

১) রেমিজেস (Remiges): পায়রার প্রতিটি ডানার প্রান্তে অবস্থিত ২৩টি বড় ও শক্ত পালক, যা ডানার তলল বা ক্ষেত্রফল বাড়িয়ে বাতাসে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

২) রেকট্রি সেস (Rectrices): পায়রার লেজে অবস্থিত ১২টি বড় পালক, যা ওড়ার সময় দিক পরিবর্তন করতে (হালের মতো) এবং ব্রেক কষতে সাহায্য করে।

[attachment_0](attachment)

১৬. উপযোজন (Accommodation) কাকে বলে? প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজনের গুরুত্ব কী? দ্বিনেত্র দৃষ্টি একনেত্র দৃষ্টির চেয়ে উন্নত কেন? (২+২+১)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) উপযোজন: স্থান পরিবর্তন না করে, সিলিয়ারি পেশির সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চোখের লেন্সের বক্রতা বা ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন ঘটিয়ে, বিভিন্ন দূরত্বের (কাছের বা দূরের) বস্তুকে স্পষ্টভাবে রেটিনায় ফোকাস করার ক্ষমতাকে চোখের উপযোজন বলে।

খ) গুরুত্ব: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত দৃষ্টির ফোকাস বদলাতে হয়। যেমন- রাস্তা পার হওয়ার সময় দূরের গাড়ি দেখা এবং পরক্ষণেই রাস্তার গর্ত দেখা, বা ক্লাসে বোর্ডের লেখা এবং খাতার লেখা পর্যায়ক্রমে দেখা। উপযোজন ছাড়া এই কাজগুলো অসম্ভব হতো এবং আমাদের বারবার চশমা বদলাতে হতো।

গ) দ্বিনেত্র দৃষ্টির সুবিধা: দুটি চোখ দিয়ে একই বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখলে বস্তুর সঠিক অবস্থান, গভীরতা (Depth perception) এবং ত্রিমাত্রিক আকার (3D View) সঠিকভাবে বোঝা যায়, যা একনেত্র দৃষ্টিতে (যেমন- গরু, ঘোড়া) সম্ভব নয়। শিকার ধরা বা সুচের ফুটোয় সুতো পরানোর মতো কাজে এটি জরুরি।

১৭. প্রাণী হরমোনের তিনটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লেখো। ফেরোমন (Pheromone) কী? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) হরমোনের বৈশিষ্ট্য:

১) উৎস ও কাজ: হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয় এবং রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে উৎসস্থল থেকে দূরবর্তী কোষে কাজ করে।

২) সক্রিয়তা: খুব অল্প ঘনত্বেই হরমোন অত্যন্ত সক্রিয় হয় এবং বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

৩) পরিণতি: কাজ শেষ হওয়ার পর হরমোন দ্রুত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং যকৃৎ বা বৃক্কের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত হয়।

খ) ফেরোমন:

এটি একপ্রকার উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ যা প্রাণীদের (বিশেষ করে পতঙ্গ ও স্তন্যপায়ী) দেহ থেকে নির্গত হয় এবং একই প্রজাতির অন্য প্রাণীদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- পিঁপড়েরা ফেরোমন শুঁকে সারি দিয়ে চলে, বা স্ত্রী পতঙ্গ ফেরোমন ছড়িয়ে পুরুষ পতঙ্গকে প্রজননের জন্য আকৃষ্ট করে।

১৮. মাছের গমনে মায়োটোম পেশি এবং বক্ষ ও পুচ্ছ পাখনার ভূমিকা আলোচনা করো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) মায়োটোম পেশি:

মাছের মেরুদণ্ডের দুপাশে ‘V’ আকৃতির খণ্ডকযুক্ত মায়োটোম পেশি থাকে। গমনের সময় এই পেশিগুলি অগ্রপ্রান্ত থেকে পশ্চাৎপ্রান্ত পর্যন্ত ক্রমিক সংকুচিত হয়। এর ফলে মাছের মেরুদণ্ড ও দেহ ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত হয়। এই আন্দোলন মাছকে জল কেটে সামনের দিকে এগোতে সাহায্য করে।

খ) পাখনার ভূমিকা:

১) বক্ষ পাখনা (Pectoral Fin): এটি একজোড়া থাকে। মাছকে জলের গভীরে যেতে, ভেসে উঠতে এবং গমনের সময় ব্রেক কষে থামতে সাহায্য করে।

২) পুচ্ছ পাখনা (Caudal Fin): এটি লেজের শেষে থাকে। এটি নৌকার হালের মতো কাজ করে এবং সাঁতার কাটার সময় মাছের দিক পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

১৯. মেনিঞ্জেস ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)-এর অবস্থান ও একটি করে কাজ লেখো। সুষুম্নাকাণ্ডের কাজ কী? (২+২+১)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) মেনিঞ্জেস (Meninges):

অবস্থান: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে বেষ্টন করে থাকা ত্রি-স্তরী (ডুরাম্যাটার, অ্যারাকনয়েড, পিয়াম্যাটার) আবরণী।

কাজ: এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে যান্ত্রিক আঘাত ও ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে।

খ) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF):

অবস্থান: মস্তিষ্কের নিলয় (Ventricle), সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালী এবং মেনিঞ্জেসের সাব-অ্যারাকনয়েড স্পেসে থাকে।

কাজ: এটি মস্তিষ্ককে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কুশনের মতো কাজ করে অভিঘাত শোষণ করে।

গ) সুষুম্নাকাণ্ডের কাজ:

১) বিভিন্ন প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) নিয়ন্ত্রণ করা।

২) মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অংশের মধ্যে স্নায়ু স্পন্দন আদান-প্রদান করা।

২০. কৃষিবিদ্যায় ও উদ্যানপালনে কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোনের (অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন, ইথিলিন) পাঁচটি ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখো। (৫)

বিস্তারিত উত্তর:

১) শাখা কলম তৈরি: জবা, গোলাপ, পেয়ারা প্রভৃতি গাছের শাখা কলমে দ্রুত অস্থানিক মূল গজানোর জন্য কৃত্রিম অক্সিন (IBA, NAA) দ্রবণ প্রয়োগ করা হয়।

২) আগাছা বিনাশ: গম, ধান বা যব ক্ষেতে কৃত্রিম অক্সিন (যেমন 2,4-D) স্প্রে করলে ফসলের ক্ষতি না করে অবাঞ্ছিত দ্বিবীজপত্রী আগাছা (যেমন- বথুয়া) নির্মূল হয়।

৩) বীজহীন ফল উৎপাদন: নিষেকের আগেই ফুলে কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করে পরাগযোগ ও নিষেধ ছাড়াই বীজহীন ফল (পার্থেনোকার্পি) তৈরি করা হয় (যেমন- পেঁপে, টমেটো)।

৪) ফল পাকানো: কৃত্রিম ইথিলিন গ্যাস বা ইথ্রেলে স্প্রে করে কাঁচা ফল (যেমন- আম, কলা) দ্রুত পাকানো হয় এবং বাজারজাত করা হয়।

৫) ফলন বৃদ্ধি ও ঝরা রোধ: কৃত্রিম জিব্বেরেলিন প্রয়োগে আঙুর বা আপেলের আকার বৃদ্ধি করা হয় এবং কৃত্রিম অক্সিন স্প্রে করে অপরিণত ফলের ঝরে পড়া রোধ করা হয় (মোচন রোধ)।

২১. নিম্নলিখিত হরমোনগুলির উৎস ও একটি করে কাজ লেখো: (ক) অ্যাড্রিনালিন, (খ) ইনসুলিন, (গ) ইস্ট্রোজেন। (১.৫ + ১.৫ + ২ = ৫)

উত্তর:

(ক) অ্যাড্রিনালিন:

উৎস: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডালা অঞ্চল।

কাজ: জরুরি অবস্থায় (ভয়, রাগ) হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেহকে সচল রাখা এবং গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ানো।

(খ) ইনসুলিন:

উৎস: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা ($\beta$) কোষ।

কাজ: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমানো (কোষে গ্লুকোজ প্রবেশে সাহায্য করা এবং গ্লাইকোজেন সংশ্লেষ করা)।

(গ) ইস্ট্রোজেন:

উৎস: পরিণত ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল বা ডিম্বথলি।

কাজ: নারীদেহে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য (ত্বক কোমল হওয়া, স্তনগ্রন্থির বিকাশ, কন্ঠস্বর তীক্ষ্ণ হওয়া) প্রকাশে এবং ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা।

২২. গমনের চালিকাশক্তি বা উদ্দেশ্যগুলি (খাদ্য, আত্মরক্ষা, প্রজনন) উদাহরণসহ আলোচনা করো। চলন ও গমনের তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) গমনের উদ্দেশ্য:

১) খাদ্য অন্বেষণ: প্রাণীরা এক জায়গায় স্থির থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না (সালোকসংশ্লেষ অক্ষম), তাই খাদ্যের সন্ধানে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হয়। (যেমন- বাঘ শিকারের খোঁজে ঘোরে)।

২) আত্মরক্ষা: খাদক প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে বা প্রতিকূল আবহাওয়া (বন্যা, খরা) থেকে রক্ষা পেতে প্রাণীরা নিরাপদ স্থানে গমন করে। (যেমন- হরিণ বাঘের ভয়ে পালায়)।

৩) প্রজনন ও বংশবিস্তার: প্রজননের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজা এবং ডিম পাড়া বা সন্তান প্রসবের জন্য সুরক্ষিত স্থানে যেতে প্রাণীরা গমন করে। (যেমন- ইলিশ মাছ বা কচ্ছপের পরিযান)।

খ) চলন ও গমনের পার্থক্য:

১) চলনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না, গমনে হয়।

২) চলন মূলত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য (ব্যতিক্রম আছে), গমন মূলত প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য।

৩) চলন একটি ধীর প্রক্রিয়া, গমন তুলনামূলক দ্রুত প্রক্রিয়া।

২৩. মানুষের গমনে পায়ের পেশি ও অস্থির ভূমিকা আলোচনা করো। সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) মানুষের গমনে ভূমিকা:

মানুষের দ্বিপদ গমনে পায়ের অস্থি এবং পেশি একযোগে কাজ করে।

১) অস্থি: পায়ের ফিমার, টিবিয়া, ফিবিউলা এবং টারসাল অস্থিগুলি দেহের ভার বহন করে এবং লিভারের মতো কাজ করে গতির সৃষ্টি করে।

২) পেশি: পায়ের বিভিন্ন ঐচ্ছিক পেশি (যেমন- গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস, বাইসেপস ফিমোরিস, এক্সটেনসর ডিজিটোরিয়াম) সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে পা ভাঁজ করতে, মাটি থেকে গোড়ালি তুলতে এবং পা সোজা করে সামনে ফেলতে সাহায্য করে। এর ফলে মানুষ হাঁটতে পারে।

খ) সচল অস্থিসন্ধি:

যে সব অস্থিসন্ধিতে হাড়গুলি লিগামেন্ট দ্বারা যুক্ত থাকে কিন্তু স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং মাঝে সাইনোভিয়াল তরল পূর্ণ গহ্বর থাকে, তাদের সচল অস্থিসন্ধি বলে। (উদাহরণ: হাঁটু, কনুই, কাঁধের সন্ধি)।

২৪. অ্যামিবার গমন পদ্ধতি (অ্যামিবয়েড গতি) চিত্রসহ বর্ণনা করো। প্যারামিসিয়াম ও ইউগ্লিনার গমন অঙ্গের নাম কী? (৩+২)

বিস্তারিত উত্তর:

ক) অ্যামিবার গমন (Amoeboid Movement):

অ্যামিবার গমনকে ‘সল-জেল’ (Sol-Gel) মতবাদ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

১) গমনের সময় অ্যামিবা তার দেহের প্রোটোপ্লাজমকে (এন্ডোপ্লাজম) নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দেয়।

২) এর ফলে দেহত্বক প্রসারিত হয়ে আঙুলের মতো ভোঁতা প্রবর্ধক বা ক্ষণপদ (Pseudopodia) তৈরি হয়।

৩) এই ক্ষণপদ দিয়ে অ্যামিবা সামনের কোনো কঠিন বস্তুকে আঁকড়ে ধরে এবং পেছনের দেহকে গুটিয়ে সামনে নিয়ে আসে। এভাবেই অ্যামিবা ধীরে ধীরে এগোতে থাকে।

[attachment_1](attachment)

খ) গমন অঙ্গ:

– প্যারামিসিয়াম: সিলিয়া (Cilia)।

– ইউগ্লিনা: ফ্ল্যাজেলা (Flagella)।

২৫. মানুষের চোখের বিভিন্ন প্রতিসারক মাধ্যমগুলির (কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, লেন্স, ভিট্রিয়াস হিউমার) অবস্থান ও কাজ সংক্ষেপে লেখো। (৫)

উত্তর:

চোখের প্রতিসারক মাধ্যমগুলি আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে।

১) কর্নিয়া (Cornea): এটি চোখের সামনের স্বচ্ছ উত্তল অংশ। কাজ: আলোকরশ্মিকে চোখের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় এবং প্রাথমিক প্রতিসরণ ঘটায়।

২) অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous Humor): কর্নিয়া ও লেন্সের মাঝে থাকা স্বচ্ছ জলীয় তরল। কাজ: লেন্স ও কর্নিয়াকে পুষ্টি জোগায় এবং চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ (Intraocular pressure) নিয়ন্ত্রণ করে।

৩) লেন্স (Lens): আইরিসের পেছনে থাকা স্বচ্ছ, নমনীয় ও দ্বি-উত্তল অংশ। কাজ: আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে রেটিনার ওপর ফোকাস করে প্রতিবিম্ব গঠন করা।

৪) ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous Humor): লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে থাকা জেলির মতো ঘন তরল। কাজ: চোখের গোলকের আকৃতি বজায় রাখে এবং রেটিনাকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়


প্রশ্ন: পিটুইটারি গ্রন্থিকে ‘প্রভু গ্রন্থি’ (Master Gland) বলা হয় কেন?

উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলি (যেমন TSH, ACTH) দেহের অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল) ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু এটি অন্য গ্রন্থিদের চালনা করে, তাই একে ‘প্রভু গ্রন্থি’ বলা হয়। (তবে পিটুইটারিকেও নিয়ন্ত্রণ করে হাইপোথ্যালামাস, তাই সে সুপ্রিম কমান্ডার)।

প্রশ্ন: ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ (Direction) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি উদ্ভিদের একটি স্থায়ী বৃদ্ধিজনিত চলন। অন্যদিকে, ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা (Intensity) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি রসস্ফীতিজনিত অস্থায়ী বক্র চলন।

প্রশ্ন: অ্যাড্রিনালিনকে আপৎকালীন হরমোন বলা হয় কেন?

উত্তর: ভয়, রাগ, দুশ্চিন্তা বা উত্তেজনার সময় অ্যাড্রিনালিন হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়। এটি হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসকার্য বাড়িয়ে দেহকে ওই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে। তাই একে আপৎকালীন বা সংকটকালীন হরমোন বলে।

প্রশ্ন: সাইন্যাপস (Synapse) কী এবং এর কাজ কী?

উত্তর: দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বা স্নায়ুসন্নিধি বলে। এখানে একটি নিউরনের অ্যাক্সন শেষ হয় এবং অপর নিউরনের ডেনড্রন শুরু হয় (এরা একে অপরকে স্পর্শ করে না)। এর কাজ হলো রাসায়নিক পদার্থের (নিউরোট্রান্সমিটার) মাধ্যমে স্নায়ু স্পন্দনকে এক নিউরন থেকে পরবর্তী নিউরনে পাঠানো।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: চলন ও গমনের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: চলন: জীব এক জায়গায় স্থির থেকে কেবল ডালপালা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করে (মূলত উদ্ভিদে দেখা যায়)।
গমন: জীব অঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন করে (মূলত প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য)।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার