দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় -১ জীবনের প্রবাহমানতা

বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)

বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৫০


১. ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের আন্তঃসম্পর্ক লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ক্রোমোজোম হলো ডিএনএ (DNA) ও প্রোটিনের কুণ্ডলীকৃত গঠন। DNA-এর যে নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত বহন করে এবং বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে জিন (Gene) বলে। অর্থাৎ, জিন হলো DNA-এর অংশ এবং DNA হলো ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান।

২. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিনের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) সক্রিয়তা: ইউক্রোমাটিনে সক্রিয় জিন থাকে এবং এটি জিনগতভাবে সক্রিয়। হেটারোক্রোমাটিনে নিষ্ক্রিয় জিন থাকে।
২) রঞ্জক ধারণ: ইউক্রোমাটিন বিভাজন দশায় হালকা রং ধারণ করে, কিন্তু হেটারোক্রোমাটিন গাঢ় রং ধারণ করে।

৩. DNA ও RNA-এর গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) গঠন: DNA দ্বিতন্ত্রী এবং এতে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে। RNA একতন্ত্রী এবং এতে রাইবোজ শর্করা থাকে।
২) ক্ষারক: DNA-তে থাইমিন ($T$) থাকে, কিন্তু RNA-তে তার বদলে ইউরাসিল ($U$) থাকে।

৪. কোষ বিভাজনে সেন্ট্রোজোম ও রাইবোজোমের ভূমিকা কী?

উত্তর: সেন্ট্রোজোম: প্রাণীকোষ বিভাজনের সময় বেমতন্তু (Spindle Fibre) গঠন করে।
রাইবোজোম: কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংশ্লেষ করে।

৫. কোষ চক্রের $G_0$ দশা বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: কোষ চক্রের যে দশায় কোষটি বিভাজন বন্ধ করে বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে বা স্থায়ী কলায় রূপান্তরিত হয়, তাকে $G_0$ দশা বলে।
উদাহরণ: পরিণত স্নায়ুকোষ এবং হৃৎপেশির কোষ এই দশায় থাকে।

৬. কোষ চক্র (Cell Cycle) কাকে বলে? এর প্রধান দুটি পর্যায় কী কী?

উত্তর: একটি কোষের বিভাজন এবং বৃদ্ধি ও পরবর্তী বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়ে যে চক্রাকার ঘটনাগুলি ঘটে, তাকে কোষ চক্র বলে।
এর দুটি পর্যায়: ১) ইন্টারফেজ (Interphase) বা প্রস্তুতি দশা এবং ২) মাইটোটিক ফেজ (M-phase) বা বিভাজন দশা।

৭. উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিসের পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস ঘটে কোষের মাঝখানে **’কোষপাত’ (Cell plate)** গঠনের মাধ্যমে। কিন্তু প্রাণীকোষে এটি ঘটে কোষপর্দার **’ক্লিভেজ’ (Cleavage)** বা খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে।

৮. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের দুটি তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: ১) বৃদ্ধি: বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়।
২) ক্ষয়পূরণ: ক্ষতস্থান নিরাময় এবং পুরনো কোষের বদলে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে।

৯. মিয়োসিসকে ‘হ্রাস বিভাজন’ বলা হয় কেন?

উত্তর: মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ($2n$) অপত্য কোষে অর্ধেক ($n$) হয়ে যায়। ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলেই একে হ্রাস বিভাজন বা Reduction Division বলে।

১০. ক্রসিং ওভার (Crossing Over) কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দশায় দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়ের মধ্যে দেহাংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
গুরুত্ব: এর ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, যা নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য জীব সৃষ্টিতে এবং বিবর্তনে সাহায্য করে।

১১. সাইন্যাপসিস (Synapsis) ও বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সাইন্যাপসিস: মিয়োসিস বিভাজনে দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোমের জোড় বাঁধার প্রক্রিয়া।
বাইভ্যালেন্ট: সাইন্যাপসিসের ফলে গঠিত একজোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোমকে (যাতে ৪টি ক্রোমাটিড থাকে) বাইভ্যালেন্ট বলে।

১২. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের দুটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: ১) স্থান: মাইটোসিস দেহকোষে ঘটে, মিয়োসিস জনন মাতৃকোষে ঘটে।
২) ক্রোমোজোম সংখ্যা: মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে, মিয়োসিসে অর্ধেক হয়ে যায়।

১৩. অ্যামাইটোসিস কাকে বলে? কাদের দেহে দেখা যায়?

উত্তর: যে সরল কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় বেমতন্তু গঠন ছাড়াই নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে।
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা।

১৪. টেলোমিয়ার (Telomere)-এর কাজ কী?

উত্তর: ১) দুটি ক্রোমোজোমের প্রান্ত জুড়ে যাওয়া রোধ করে।
২) কোষের বার্ধক্য ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে (টেলোমিয়ার ছোট হতে থাকলে কোষ বুড়িয়ে যায়)।

১৫. ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর: ক্রোমোজোম প্রধানত তিনটি উপাদান দিয়ে গঠিত:
১) নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA ও RNA)।
২) প্রোটিন (ক্ষারীয় হিস্টোন ও আম্লিক নন-হিস্টোন)।
৩) ধাতব আয়ন ($Ca^{2+}, Mg^{2+}$ ইত্যাদি)।

১৬. নিউক্লিওজোম (Nucleosome) কী?

উত্তর: ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের গঠনগত একক। এটি ডিএনএ (DNA) তন্তু এবং ৮টি হিস্টোন প্রোটিন অণু (হিস্টোন অক্টামার) দ্বারা গঠিত পুঁতির মতো গঠন।

১৭. অযৌন জনন কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট উৎপাদন ও মিলন ছাড়াই কেবল দেহকোষ বিভাজিত হয়ে বা রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।
উদাহরণ: অ্যামিবার দ্বি-বিভাজন।

১৮. অযৌন ও যৌন জননের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) জনন কোষ: অযৌন জননে গ্যামেট লাগে না, যৌন জননে গ্যামেটের মিলন প্রয়োজন।
২) বৈচিত্র্য: অযৌন জননে অপত্য হুবহু জনিতৃর মতো হয় (ক্লোন), যৌন জননে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয় (বৈচিত্র্য)।

১৯. কোরকোদগম বা বাডিং (Budding) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় জনিতৃ দেহ থেকে একটি উপবৃদ্ধি বা ‘কোরক’ (Bud) নির্গত হয় এবং পরে সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন জীব গঠন করে, তাকে কোরকোদগম বলে।
উদাহরণ: হাইড্রা, ইস্ট।

২০. খণ্ডীভবন (Fragmentation) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় বহুকোষী জীবের দেহ কোনো কারণে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় এবং প্রতিটি টুকরো থেকে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে খণ্ডীভবন বলে।
উদাহরণ: স্পাইরোগাইরা (শৈবাল)।

২১. পুনুরুৎপাদন (Regeneration) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: কোনো জীবের দেহের কাটা বা বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ জীব গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পুনুরুৎপাদন বলে।
উদাহরণ: প্ল্যানেরিয়া, হাইড্রা।

২২. রেণু উৎপাদন বা স্পোরুলেশন (Sporulation) কী? রেণু কয় প্রকার?

উত্তর: মস, ফার্ন ও ছত্রাক যে এককোষী প্রাচীরযুক্ত বিশেষ জনন কোষ বা রেণুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে, তাকে রেণু উৎপাদন বলে।
প্রকারভেদ: চলরেণু (জুস্পোর) এবং অচলরেণু (অ্যাপ্লানোস্পোর)।

২৩. অঙ্গজ জননের দুটি সুবিধা লেখো।

উত্তর: ১) খুব অল্প সময়ে অনেক অপত্য উদ্ভিদ তৈরি করা যায়।
২) অপত্য উদ্ভিদে মাতৃউদ্ভিদের গুণাগুণ হুবহু বজায় থাকে (বিশুদ্ধতা রক্ষা)।

২৪. স্টক (Stock) ও সিয়ন (Scion) কী?

উত্তর: জোড়কলমে দুটি ভিন্ন গাছের ডাল জোড়া লাগানো হয়।
১) স্টক: যে গাছটির মূল মাটিতে থাকে।
২) সিয়ন: যে উন্নত মানের ডালটি স্টকের ওপর জোড়া হয়।

২৫. মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ কী? এর একটি সুবিধা লেখো। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: উদ্ভিদের ক্ষুদ্র কলা বা দেহাংশ (এক্সপ্ল্যান্ট) নিয়ে পরীক্ষাগারে কর্ষণ দ্রবণে (Culture medium) দ্রুত বংশবিস্তার ঘটানোর পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।
সুবিধা: রোগমুক্ত এবং উন্নত মানের চারাগাছ দ্রুত উৎপাদন করা যায়।

২৬. জনুক্রম (Alternation of Generations) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ($n$) লিঙ্গধর দশা এবং ডিপ্লয়েড ($2n$) রেণুধর দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।
উদাহরণ: ফার্ন (ড্রায়োপটেরিস) বা মস গাছের জীবনচক্রে এটি স্পষ্ট দেখা যায়।

২৭. স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ১) স্থান: স্বপরাগযোগ একই ফুলে বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে ঘটে। ইতর পরাগযোগ একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন গাছের ফুলের মধ্যে ঘটে।
২) বাহক: স্বপরাগযোগে বাহকের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু ইতর পরাগযোগে বাহক (বায়ু, পতঙ্গ) অপরিহার্য।

২৮. স্বপরাগযোগের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।

উত্তর: সুবিধা: পরাগরেণুর অপচয় কম হয় এবং বাহকের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
অসুবিধা: নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় না এবং অপত্য উদ্ভিদ দুর্বল প্রকৃতির হতে পারে।

২৯. ইতর পরাগযোগের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।

উত্তর: সুবিধা: নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত ও উন্নত মানের অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে।
অসুবিধা: বাহকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরাগযোগ অনিশ্চিত এবং প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় হয়।

৩০. দ্বিনিষেক (Double Fertilization) কাকে বলে?

উত্তর: সপুষ্পক উদ্ভিদে নিষেকের সময় দুটি পুংগ্যামেটের একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট ($2n$) গঠন করে এবং অপরটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস ($3n$) গঠন করে। একই সাথে এই দুটি মিলনকে দ্বিনিষেক বলে।

৩১. ত্রিমিলন (Triple Fusion) কী? এর ফলে কী উৎপন্ন হয়?

উত্তর: গুপ্তবীজী উদ্ভিদের নিষেকের সময় একটি পুংগ্যামেট ($n$) এবং দুটি মেরু নিউক্লিয়াস ($2n$) বা নির্ণীত নিউক্লিয়াসের মিলনকে ত্রিমিলন বলে।
এর ফলে ট্রিপ্লয়েড ($3n$) শস্য নিউক্লিয়াস (Endosperm) উৎপন্ন হয়।

৩২. সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেকের পর ডিম্বাশয়, ডিম্বক ও জাইগোট কিসে পরিণত হয়?

উত্তর:
১) ডিম্বাশয় $\rightarrow$ ফলে পরিণত হয়।
২) ডিম্বক $\rightarrow$ বীজে পরিণত হয়।
৩) জাইগোট $\rightarrow$ ভ্রূণে পরিণত হয়।

৩৩. শস্য (Endosperm)-এর কাজ কী? এটি কোন উদ্ভিদে থাকে না?

উত্তর: শস্যের প্রধান কাজ হলো বর্ধনশীল ভ্রূণকে পুষ্টি সরবরাহ করা।
অশসল বীজ বা দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে (যেমন- মটর, ছোলা) পরিণত বীজে শস্য থাকে না (ভ্রূণেই শোষিত হয়)।

৩৪. বায়ুপরাগী ফুলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। উদাহরণ দাও।

উত্তর: ১) ফুলগুলি ক্ষুদ্র, বর্ণহীন, গন্ধহীন ও মকরন্দহীন হয়।
২) পরাগরেণু প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয় এবং হালকা হয় যাতে বাতাসে ভাসতে পারে।
উদাহরণ: ধান, গম।

৩৫. পতঙ্গপরাগী ফুলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। উদাহরণ দাও।

উত্তর: ১) ফুলগুলি বড়, উজ্জ্বল বর্ণের এবং সুগন্ধযুক্ত হয়।
২) ফুলে মকরন্দ বা মধু থাকে এবং পরাগরেণু আঠালো হয়।
উদাহরণ: আম, সূর্যমুখী।

৩৬. জলপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: ১) ফুলগুলি হালকা এবং মোম জাতীয় পদার্থে আবৃত থাকে যাতে জলে না পচে।
২) পুংপুষ্প বা পরাগরেণু জলের ওপর ভাসে।
উদাহরণ: পাতাঝাঁঝি (Vallisneria)।

৩৭. পক্ষীপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: ১) ফুলগুলি বেশ বড় এবং উজ্জ্বল রঙের (লাল বা কমলা) হয়।
২) ফুলে প্রচুর মকরন্দ থাকে, কিন্তু সাধারণত গন্ধ থাকে না (পাখিদের ঘ্রাণশক্তি কম)।
উদাহরণ: পলাশ, শিমুল।

৩৮. বৃদ্ধি ও বিকাশের সম্পর্ক কী? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: বৃদ্ধি হলো জীবের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজনের স্থায়ী পরিবর্তন (পরিমাণগত)। বিকাশ হলো বৃদ্ধির ফলস্বরূপ জীবের কার্যকারিতা ও জটিলতার পরিবর্তন (গুণগত)।
অর্থাৎ, “বৃদ্ধি হলো বিকাশের একটি অংশ বা কারণ, আর বিকাশ হলো বৃদ্ধির ফলাফল।”

৩৯. মানববিকাশের বয়ঃসন্ধিকাল (Adolescence)-এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১) গৌণ যৌন লক্ষণ: ছেলে ও মেয়েদের দেহে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যগুলি (যেমন- গলার স্বর পরিবর্তন, দাড়ি-গোঁফ, স্তনগ্রন্থির বিকাশ) প্রকাশ পায়।
২) দ্রুত বৃদ্ধি: দৈহিক উচ্চতা ও ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক পরিবর্তন আসে।

৪০. সদ্যজাত বা শৈশব দশার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১) এই সময়ে দৈহিক বৃদ্ধির হার খুব বেশি থাকে।
২) শিশু সম্পূর্ণভাবে মাতৃদুগ্ধ ও পরিবারের ওপর নির্ভরশীল থাকে এবং কথা বলা ও হাঁটতে শেখে।

৪১. রূপান্তর (Metamorphosis) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় লার্ভা বা অপরিণত প্রাণী বিভিন্ন দশা অতিক্রম করে গঠনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়, তাকে রূপান্তর বলে।
উদাহরণ: ব্যাঙাচির (লার্ভা) লেজ ও ফুলকা বিলুপ্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙে রূপান্তর।

৪২. বৃদ্ধির তিনটি দশা কী কী?

উত্তর: ১) কোষ বিভাজন দশা: কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি।
২) কোষের আকার বৃদ্ধি দশা: কোষের আয়তন বৃদ্ধি।
৩) কোষীয় বিভেদন দশা: কোষগুলি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য কলা বা অঙ্গে রূপান্তরিত হয়।

৪৩. বার্ধক্য দশার (Senescence) দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১) দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের (চোখ, কান, পেশি) কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।
২) স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং হাড়ের ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পায়।

৪৪. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী? বৃদ্ধির হার কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

উত্তর: যন্ত্রের নাম: আর্ক অক্সানোমিটার (Arc Auxanometer)
বৃদ্ধির হার = নির্দিষ্ট সময়ে অঙ্গের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি / সময়।

৪৫. পার্থেনোকার্পি (Parthenocarpy) কী? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: নিষেধ বা Fertilization ছাড়াই ডিম্বাশয় থেকে বীজহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে।
গুরুত্ব: এর মাধ্যমে বীজহীন উন্নত মানের ফল (যেমন- পেঁপে, কলা, আঙুর) উৎপাদন করা যায়, যা খেতে সুস্বাদু এবং বাণিজ্যিক মূল্য বেশি।

৪৬. জননের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা দুটি বাক্যে লেখো।

উত্তর: ১) অস্তিত্ব রক্ষা: জননের মাধ্যমে জীব নিজের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে পৃথিবীতে নিজ প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় রাখে।
২) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: জীবের মৃত্যুজনিত সংখ্যা হ্রাস পূরণ করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।

৪৭. কোষীয় বিভেদন (Cell Differentiation) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় বিভাজিত কোষগুলি আকার ও আকৃতিতে পরিবর্তিত হয়ে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করার জন্য কলা, অঙ্গ বা তন্ত্র গঠন করে, তাকে কোষীয় বিভেদন বলে। এটি বহুকোষী জীবের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

৪৮. প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা কোন বিভাজনের কাজ এবং কীভাবে?

উত্তর: মিয়োসিস বিভাজন প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখে।
জনন কোষ তৈরির সময় মিয়োসিসের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক ($n$) হয়। পরে নিষেকের সময় দুটি গ্যামেট ($n+n$) মিলিত হয়ে পুনরায় ডিপ্লয়েড ($2n$) সংখ্যা ফিরিয়ে আনে।

৪৯. অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের কাজ কী?

উত্তর: অটোজোম: দেহের সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য (যেমন- উচ্চতা, গায়ের রং) নিয়ন্ত্রণ করে।
সেক্স ক্রোমোজোম: জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ (পুরুষ না স্ত্রী) এবং যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।

৫০. জনন কি জীবের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: না, কোনো নির্দিষ্ট একক জীবের বেঁচে থাকার জন্য (শ্বসন বা পুষ্টির মতো) জনন অপরিহার্য নয়। জনন না করলেও জীবটি বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু সমগ্র প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জনন অপরিহার্য। জনন না হলে পৃথিবী থেকে প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার