দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় – 3 বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিন ঘটিত রোগ

বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন

বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | অধ্যায়: বংশগতি ও জিনগত রোগ | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৪৬


১. বংশগতি (Heredity) ও প্রকরণ (Variation) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: বংশগতি: যে প্রক্রিয়ায় পিতামাতার বা জনিতৃর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি বংশপরম্পরায় অপত্যের দেহে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।
প্রকরণ: একই প্রজাতিভুক্ত জীবের মধ্যে জিনের পরিবর্তন বা পরিবেশগত কারণে যে গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ বা ভেদ বলে।

২. অ্যালিল (Allele) বা অ্যালিলোমর্ফ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট বিন্দুতে (লোকাস) অবস্থিত একই জিনের দুটি ভিন্ন রূপভেদকে একে অপরের অ্যালিল বলে।
উদাহরণ: মটর গাছের উচ্চতার জন্য দায়ী জিনের দুটি অ্যালিল হলো লম্বা হওয়ার জন্য $T$ এবং খর্ব হওয়ার জন্য $t$।

৩. লোকাস (Locus) কী? অ্যালিলের সাথে এর সম্পর্ক কী?

উত্তর: ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে বা স্থানে কোনো জিন অবস্থান করে, তাকে লোকাস বলে।
প্রতিটি জিনের নির্দিষ্ট লোকাস থাকে এবং সমসংস্থ ক্রোমোজোমের একই লোকাসে দুটি অ্যালিল অবস্থান করে।

৪. হোমোজাইগাস (সমসংকর) ও হেটারোজাইগাস (বিষমসংকর) জীবের পার্থক্য কী?

উত্তর: ১) হোমোজাইগাস: কোনো জীবের নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমীয় লোকাসে একই প্রকারের দুটি অ্যালিল থাকলে (যেমন $TT$ বা $tt$), তাকে হোমোজাইগাস বলে।
২) হেটারোজাইগাস: নির্দিষ্ট লোকাসে দুটি ভিন্ন প্রকারের অ্যালিল থাকলে (যেমন $Tt$), তাকে হেটারোজাইগাস বলে।

৫. ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ কাকে বলে?

উত্তর: ফিনোটাইপ: কোনো জীবের বাহ্যিক প্রকাশিত লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যকে ফিনোটাইপ বলে (যেমন- লম্বা গাছ)।
জিনোটাইপ: জীবের বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনগত গঠনকে জিনোটাইপ বলে (যেমন- $Tt$ বা $TT$)। ফিনোটাইপ জিনোটাইপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

৬. প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলতে কী বোঝো?

উত্তর: হেটারোজাইগাস বা সংকর জীবে দুটি বিপরীতধর্মী অ্যালিলের মধ্যে যেটির বৈশিষ্ট্য বাহ্যিকভাবে প্রকাশ পায়, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে। আর যেটি অপ্রকাশিত বা সুপ্ত থাকে, তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।

৭. মেন্ডেল মটর গাছ নির্বাচনের দুটি কারণ লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ১) মটর গাছ দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং আয়ুষ্কাল অল্প, তাই কম সময়ে অনেক জনু পরীক্ষা করা যায়।
২) মটর গাছে অনেকগুলি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য (যেমন লম্বা-বেটে, গোল-কুঞ্চিত বীজ) স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

৮. ইমাসকুলেশন (Emasculation) কী? এটি কেন করা হয়?

উত্তর: উভলিঙ্গ ফুল থেকে অপরিণত অবস্থায় পুংকেশরগুলিকে কেটে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিকে ইমাসকুলেশন বলে।
মেন্ডেল মটর গাছের স্বপরাগযোগ রোধ করতে এবং কাঙ্ক্ষিত ইতর পরাগযোগ ঘটাতে এটি করেছিলেন।

৯. মেন্ডেলের একসংকর জনন (Monohybrid Cross) পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সূত্রটি লেখো।

উত্তর: সূত্রটি হলো ‘পৃথকীভবন সূত্র’ (Law of Segregation): কোনো জীবের একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য জনিতৃ থেকে অপত্যে সঞ্চারিত হওয়ার সময় একত্রিত হলেও তারা মিশ্রিত হয় না, বরং গ্যামেট গঠনের সময় বৈশিষ্ট্যগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।

১০. মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন (Dihybrid Cross) পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সূত্রটি লেখো।

উত্তর: সূত্রটি হলো ‘স্বাধীন বিন্যাস সূত্র’ (Law of Independent Assortment): দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য গ্যামেট গঠনের সময় কেবল পৃথক হয় তাই নয়, প্রতিটি বৈশিষ্ট্য একে অপরের সাথে স্বাধীনভাবে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয়ে গ্যামেটে সঞ্চারিত হয়।

১১. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: $F_1$ জনুর সংকর জীবের (Hybrid) সাথে হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন জনিতৃ জীবের সংকরায়ণকে টেস্ট ক্রস বলে।
গুরুত্ব: এর সাহায্যে অজানা ফিনোটাইপ যুক্ত জীবের জিনোটাইপ নির্ণয় করা যায় (সেটি বিশুদ্ধ না সংকর তা বোঝা যায়)।

১২. ব্যাক ক্রস (Back Cross) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: $F_1$ জনুর অপত্য জীবের সাথে জনিতৃ জনুর (Parental generation) যেকোনো একটির (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে ব্যাক ক্রস বলে। (সব টেস্ট ক্রসই ব্যাক ক্রস, কিন্তু সব ব্যাক ক্রস টেস্ট ক্রস নয়)।

১৩. অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) কী? উদাহরণ দাও। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: যখন কোনো সংকর জীবে প্রকট জিনটি প্রচ্ছন্ন জিনের ওপর সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় না এবং উভয়ের মাঝামাঝি একটি নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী ফুলে লাল ($RR$) ও সাদা ($rr$) ফুলের ক্রসে গোলাপি ($Rr$) ফুল হয়।

১৪. মিউটেশন বা পরিব্যক্তি কাকে বলে?

উত্তর: ক্রোমোজোম বা জিনের রাসায়নিক গঠনের আকস্মিক, স্থায়ী এবং বংশানুক্রমিক পরিবর্তনকে মিউটেশন বা পরিব্যক্তি বলে। এটি নতুন প্রজাতি সৃষ্টির মূল কারণ।

১৫. বিশুদ্ধ ও সংকর জীব বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ১) বিশুদ্ধ: যখন কোনো জীবের সমসংস্থ ক্রোমোজোমে একই বৈশিষ্ট্যের দুটি সমপ্রকৃতির অ্যালিল থাকে (যেমন $TT$ বা $tt$)।
২) সংকর: যখন সমসংস্থ ক্রোমোজোমে দুটি বিপরীতধর্মী অ্যালিল থাকে (যেমন $Tt$)।

১৬. মেন্ডেল নির্বাচিত মটর গাছের বীজ ও ফলের দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:
১) বীজের আকার: গোল (প্রকট) ও কুঞ্চিত (প্রচ্ছন্ন)।
২) ফলের আকৃতি: স্ফীত (প্রকট) ও খাঁজযুক্ত (প্রচ্ছন্ন)।

১৭. জিনোম (Genome) কী?

উত্তর: কোনো প্রজাতির হ্যাপ্লয়েড ($n$) সংখ্যক ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের মোট সমষ্টিকে জিনোম বলে।

১৮. মেন্ডেলের সাফল্যের দুটি কারণ উল্লেখ করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: ১) তিনি পরীক্ষার জন্য খাঁটি বা বিশুদ্ধ লক্ষণের মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন।
২) তিনি একসময়ে কেবল এক বা দুই জোড়া নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন এবং গাণিতিক বিশ্লেষণ করেছিলেন।

১৯. গিনিপিগের ক্ষেত্রে কালো বর্ণ ও কর্কশ লোম—এই দুটি বৈশিষ্ট্য কী প্রকৃতির (প্রকট/প্রচ্ছন্ন)?

উত্তর: গিনিপিগের ক্ষেত্রে কালো বর্ণ ($B$) সাদা বর্ণের ($b$) ওপর প্রকট এবং কর্কশ বা অমসৃণ লোম ($R$) মসৃণ লোমের ($r$) ওপর প্রকট বৈশিষ্ট্য।

২০. সহ-প্রকটতা (Co-dominance) কী? মানুষের রক্তের গ্রুপের উদাহরণ দাও।

উত্তর: যখন হেটারোজাইগাস অবস্থায় দুটি অ্যালিলই সমানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে সহ-প্রকটতা বলে।
উদাহরণ: মানুষের $AB$ রক্ত গ্রুপে $A$ অ্যান্টিজেন এবং $B$ অ্যান্টিজেন তৈরির জিন—উভয়ই সমভাবে প্রকাশিত হয়।

২১. লিংকেজ (Linkage) কী? এটি মেন্ডেলের কোন সূত্রের ব্যতিক্রম?

উত্তর: একই ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলি জননকোষ গঠনের সময় পৃথক না হয়ে একসঙ্গে জোটবদ্ধভাবে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হওয়ার প্রবণতাকে লিংকেজ বলে। এটি মেন্ডেলের স্বাধীন বিন্যাস সূত্রের ব্যতিক্রম।

২২. “জিনোটাইপ এক হলেও ফিনোটাইপ আলাদা হতে পারে”—ব্যাখ্যা করো (পরিবেশের প্রভাব)।

উত্তর: জিনোটাইপ কোনো বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনা তৈরি করে, কিন্তু পরিবেশ তা প্রকাশে সাহায্য করে। যেমন—দুটি গাছের জিনোটাইপ লম্বা ($TT$) হলেও, একটিকে উর্বর মাটিতে এবং অন্যটিকে পুষ্টিহীন মাটিতে রাখলে প্রথমটি লম্বা হবে কিন্তু দ্বিতীয়টি খর্বকায় হতে পারে। অর্থাৎ পরিবেশ ফিনোটাইপ পাল্টে দিতে পারে।

২৩. একসংকর জননে $F_2$ জনুতে জিনোটাইপিক অনুপাত $1:2:1$ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: এর অর্থ হলো, $F_2$ জনুতে উৎপন্ন উদ্ভিদগুলির মধ্যে ২৫% বিশুদ্ধ প্রকট ($TT$), ৫০% সংকর ($Tt$) এবং ২৫% বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন ($tt$) বৈশিষ্ট্যের হয়।

২৪. লিঙ্গ নির্ধারণ (Sex Determination) কাকে বলে? মানুষের সেক্স ক্রোমোজোমগুলি কী কী?

উত্তর: যে পদ্ধতিতে কোনো জীবের যৌনতা বা লিঙ্গ (পুরুষ বা স্ত্রী) নির্ধারিত হয়, তাকে লিঙ্গ নির্ধারণ বলে।
মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম দুটি: X এবং Y। পুরুষদের $XY$ এবং মহিলাদের $XX$ থাকে।

২৫. হেটারোগ্যামেটিক ও হোমোগ্যামেটিক সেক্স বলতে কী বোঝো? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: হেটারোগ্যামেটিক: যারা দুই প্রকার গ্যামেট তৈরি করে (যেমন- মানব পুরুষ, X ও Y শুক্রাণু)।
হোমোগ্যামেটিক: যারা কেবল এক প্রকার গ্যামেট তৈরি করে (যেমন- মানব স্ত্রী, শুধুই X ডিম্বাণু)।

২৬. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই প্রধান—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: সন্তানের লিঙ্গ নির্ভর করে কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করছে তার ওপর। পিতার Y-ক্রোমোজোম যুক্ত শুক্রাণু নিষিক্ত করলে পুত্র ($XY$) এবং X-ক্রোমোজোম যুক্ত শুক্রাণু নিষিক্ত করলে কন্যা ($XX$) সন্তান হয়। যেহেতু পিতা দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি করেন কিন্তু মাতা কেবল এক প্রকার, তাই লিঙ্গ নির্ধারণে পিতাই দায়ী।

২৭. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) কী? এর প্রকারভেদগুলি লেখো।

উত্তর: থ্যালাসেমিয়া হলো একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ, যেখানে হিমোগ্লোবিন ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে গিয়ে রক্তাল্পতা সৃষ্টি করে।
প্রকারভেদ: ১) আলফা ($\alpha$) থ্যালাসেমিয়া। ২) বিটা ($\beta$) থ্যালাসেমিয়া।

২৮. আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়ার কারণ কী?

উত্তর: ১) আলফা থ্যালাসেমিয়া: ১৬ নং ক্রোমোজোমে থাকা আলফা গ্লোবিন জিনের ত্রুটি বা অনুপস্থিতির কারণে হয়।
২) বিটা থ্যালাসেমিয়া: ১১ নং ক্রোমোজোমে থাকা বিটা গ্লোবিন জিনের মিউটেশনের কারণে হয়।

২৯. থ্যালাসেমিয়া রোগের দুটি লক্ষণ লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ১) তীব্র রক্তাল্পতা: লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ায় ক্লান্তি ও ফ্যাকাশে ভাব দেখা দেয়।
২) লৌহ সঞ্চয়: বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে দেহে লোহা জমে হৃদপিণ্ড ও যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্লীহা বড় হয়ে যায় (Splenomegaly)।

৩০. হিমোফিলিয়া (Hemophilia) কী? এটি পুরুষদের বেশি হয় কেন?

উত্তর: এটি একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ, যাতে রক্ত তঞ্চনকারী ফ্যাক্টরের অভাবে কাটা স্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না।
পুরুষদের একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকে ($XY$), তাই একটি আক্রান্ত জিন থাকলেই রোগ হয়। মহিলাদের দুটি X থাকে, তাই রোগ হতে দুটি আক্রান্ত জিন লাগে, যা বিরল।

৩১. হিমোফিলিয়া A এবং হিমোফিলিয়া B-এর কারণ কী?

উত্তর: ১) হিমোফিলিয়া A (রয়াল): রক্ত তঞ্চনকারী ফ্যাক্টর-VIII (Anti-hemophilic factor)-এর অভাবে হয়।
২) হিমোফিলিয়া B (ক্রিসমাস): রক্ত তঞ্চনকারী ফ্যাক্টর-IX (Christmas factor)-এর অভাবে হয়।

৩২. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) কী? এটি কয় প্রকার?

উত্তর: এটি একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত বংশগত রোগ, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু বর্ণ (লাল, সবুজ) চিনতে বা পার্থক্য করতে পারে না।
প্রকারভেদ: প্রোটানোপিয়া (লাল বর্ণান্ধতা), ডিউটেরানোপিয়া (সবুজ বর্ণান্ধতা)।

৩৩. ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার (Criss-cross Inheritance) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে বংশগতিতে পিতা থেকে বৈশিষ্ট্য কন্যার মাধ্যমে নাতিতে (Grandson) সঞ্চারিত হয়, তাকে ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার বলে।
উদাহরণ: একজন বর্ণান্ধ পুরুষের জিন তার বাহক কন্যার মাধ্যমে তার নাতির দেহে প্রকাশিত হয়।

৩৪. জেনেটিক কাউন্সিলিং (Genetic Counseling) কী? এর গুরুত্ব লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: বিয়ের আগে বা সন্তান নেওয়ার আগে দম্পতির জিনগত রোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে এবং রক্ত পরীক্ষা করে ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্থতা সম্পর্কে যে পরামর্শ দেওয়া হয়, তাকে জেনেটিক কাউন্সিলিং বলে।
গুরুত্ব: থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত জরুরি।

৩৫. একজন স্বাভাবিক পুরুষ ও একজন বাহক মহিলার বিবাহ হলে সন্তানদের হিমোফিলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কত?

উত্তর: পুত্র সন্তানদের ৫০% স্বাভাবিক এবং ৫০% হিমোফিলিক হবে। কন্যা সন্তানদের সবাই বাহ্যিক ভাবে স্বাভাবিক হবে (তবে ৫০% বাহক হবে)। অর্থাৎ মোট সন্তানের ২৫% রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (শুধুমাত্র পুত্র)।

৩৬. মানুষের পপুলেশনে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের দুটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্রকট: রোলার জিভ (Roller tongue), মুক্ত কানের লতি, কালো চুল।
প্রচ্ছন্ন: স্বাভাবিক জিভ, সংযুক্ত কানের লতি, নীল চোখ।

৩৭. থ্যালাসেমিয়া মেজর ও মাইনরের পার্থক্য কী?

উত্তর: ১) মাইনর (Trait): এতে একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ থাকে (হেটারোজাইগাস)। রোগী সাধারণত স্বাভাবিক জীবনযাপন করে, শুধু বাহক হয়।
২) মেজর (Disease): এতে দুটি জিনই ত্রুটিপূর্ণ থাকে (হোমোজাইগাস)। এতে তীব্র রক্তাল্পতা হয় এবং নিয়মিত রক্ত দিতে হয়।

৩৮. অটোজোম ঘটিত রোগ এবং সেক্স-লিংকড রোগের পার্থক্য কী?

উত্তর: ১) অটোজোমাল: এই রোগের জিন অটোজোমে থাকে এবং নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে আক্রান্ত হতে পারে (যেমন- থ্যালাসেমিয়া)।
২) সেক্স-লিংকড: এই রোগের জিন সেক্স ক্রোমোজোমে (X) থাকে এবং পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয় (যেমন- বর্ণান্ধতা)।

৩৯. রোলার জিভ ও স্বাভাবিক জিভ—এই বৈশিষ্ট্যটি কীভাবে বংশানুসরণ করে?

উত্তর: রোলার জিভ বা জিভ গুটিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য ($R$) এবং স্বাভাবিক জিভ প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য ($r$)। বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজনের রোলার জিভ থাকলে সন্তানেরও তা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে (মেন্ডেলীয় নীতি মেনে চলে)।

৪০. “বর্ণান্ধতা রোগের বাহক কেবল মহিলারা হতে পারে”—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বর্ণান্ধতার জিন প্রচ্ছন্ন এবং X-ক্রোমোজোমে থাকে। মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোম থাকায়, একটিতে বর্ণান্ধতার জিন থাকলেও অন্যটি সুস্থ থাকলে রোগ প্রকাশ পায় না, তারা কেবল ‘বাহক’ হয়। কিন্তু পুরুষদের একটিই X ক্রোমোজোম, তাই জিন থাকলেই রোগ হয়, তারা বাহক হতে পারে না।

৪১. পপুলেশন বা জনসমষ্টি বলতে কী বোঝো? জেনেটিক্সে এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী একই প্রজাতিভুক্ত জীবের সমষ্টিকে পপুলেশন বলে।
গুরুত্ব: পপুলেশনে জিন ফ্রিকোয়েন্সি বা জিনের হারের পরিবর্তন অধ্যয়ন করে বিবর্তন এবং জিনগত রোগের বিস্তার বোঝা যায়।

৪২. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার ফলাফলে ‘ফ্যাক্টর’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন কেন? বর্তমানে একে কী বলা হয়?

উত্তর: মেন্ডেলের সময় ক্রোমোজোম বা ডিএনএ আবিষ্কৃত হয়নি। তিনি লক্ষ্য করেন যে কোনো একটি ‘কণা’ বা বস্তু জনিতৃ থেকে অপত্যে বৈশিষ্ট্য বহন করছে। তিনি একে ‘ফ্যাক্টর’ নাম দেন।
বর্তমানে একেই ‘জিন’ (Gene) বলা হয়।

৪৩. হোলান্ড্রিক জিন (Holandric Gene) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত জিন কেবলমাত্র Y-ক্রোমোজোমে অবস্থান করে এবং কেবল পিতা থেকে পুত্রে সঞ্চারিত হয়, তাদের হোলান্ড্রিক জিন বলে।
উদাহরণ: কানের লোম (Hypertrichosis) বা TDF (Testis Determining Factor)।

৪৪. হিমোফিলিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত তঞ্চন হয় না কেন?

উত্তর: রক্ত তঞ্চনের জন্য প্লাজমা প্রোটিন বা ফ্যাক্টর (VIII বা IX) প্রয়োজন। হিমোফিলিয়া রোগীদের জিনের ত্রুটির কারণে এই প্রোটিনগুলি তৈরি হয় না। ফলে কোথাও কেটে গেলে ফাইব্রিন জালক গঠিত হয় না এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না।

৪৫. বিবাহপূর্ব কুণ্ডলী বা রক্ত পরীক্ষার গুরুত্ব কী?

উত্তর: বিবাহের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় পাত্র বা পাত্রী থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না। যদি দুজনেই বাহক হয়, তবে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া মেজর হওয়ার ২৫% সম্ভাবনা থাকে। এই ঝুঁকি এড়াতে জেনেটিক কাউন্সিলিং ও রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

৪৬. মিউটেশন তত্ত্বের প্রবক্তা কে? কোন উদ্ভিদের ওপর তিনি কাজ করেছিলেন?

উত্তর: মিউটেশন তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন হুগো দ্য ভ্রিস (Hugo de Vries)
তিনি ইভিনিং প্রিমরোজ বা সন্ধ্যামালতী জাতীয় উদ্ভিদ ($Oenothera \ lamarckiana$) নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বংশগতি ও জিনগত রোগ


প্রশ্ন: ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: ফিনোটাইপ হলো জীবের বাহ্যিক বা দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য (যেমন- মটর গাছটি লম্বা)। অন্যদিকে, জিনোটাইপ হলো জীবের জিনগত বা অভ্যন্তরীণ গঠন যা ওই বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে (যেমন- বিশুদ্ধ লম্বা $TT$ নাকি সংকর লম্বা $Tt$)।

প্রশ্ন: হিমোফিলিয়া বা বর্ণান্ধতা পুরুষদের বেশি হয় কেন?

উত্তর: এগুলি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ। পুরুষদের দেহে একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকে ($XY$), তাই একটি আক্রান্ত জিন থাকলেই রোগ প্রকাশ পায়। কিন্তু মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোম থাকে ($XX$), তাই রোগ প্রকাশ পেতে হলে দুটি জিনকেই আক্রান্ত হতে হয় (হোমোজাইগাস অবস্থা), যা সচরাচর কম ঘটে।

প্রশ্ন: থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ কী?

উত্তর: থ্যালাসেমিয়া একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন প্রোটিন চেইন ($\alpha$ বা $\beta$) তৈরির জিনের ত্রুটির কারণে লোহিত রক্তকণিকা ঠিকমতো গঠিত হয় না এবং দ্রুত ভেঙে যায়, ফলে তীব্র রক্তাল্পতা দেখা দেয়।

প্রশ্ন: লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা কেন প্রধান?

উত্তর: মাতা কেবল এক প্রকার গ্যামেট বা ডিম্বাণু ($A+X$) তৈরি করেন, কিন্তু পিতা দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি করেন: অ্যান্ড্রোপার্ম ($A+Y$) এবং গাইনিস্পার্ম ($A+X$)। পিতার Y-ক্রোমোজোম যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলেই পুত্র সন্তান হয়। তাই লিঙ্গ নির্ধারণে পিতাই দায়ী।

প্রশ্ন: মেন্ডেল পরীক্ষার জন্য মটর গাছ কেন বেছে নিয়েছিলেন?

উত্তর: ১) মটর গাছ দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে ও আয়ুষ্কাল কম।
২) এটি উভলিঙ্গ ফুল হওয়ায় স্বপরাগযোগ সম্ভব, আবার ইতর পরাগযোগও ঘটানো যায়।
৩) এতে অনেকগুলি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য (যেমন- লম্বা/খর্ব, গোল/কুঞ্চিত বীজ) স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

[attachment_0](attachment)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার