দশম শ্রেণী বাংলা – অদল বদল
📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘অদল বদল’ (গল্প: পান্নালাল প্যাটেল)
📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
‘অদল বদল’ গল্পটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা একটি গুজরাটি গল্পের বাংলা অনুবাদ (অনুবাদ: **অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত**)। গল্পটি **অদল (অমৃত) ও ইসাব** নামে দুই বন্ধুর নিবিড় সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। **হোলি উৎসবের** দিনে দুই বন্ধুর জামা অদল বদল হয়ে যাওয়ার সামান্য ঘটনাটি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করলেও, শেষ পর্যন্ত সেই বন্ধুত্ব, মানবিকতা ও মায়ের ভালোবাসাই সমস্ত বিদ্বেষ দূর করে। গল্পের মূল বার্তাটি হলো—মানুষের **স্নেহ, মায়া ও ভালোবাসা** ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে।
🎯 ‘অদল বদল’ গল্প থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)
এই গল্প থেকে সাধারণত চরিত্র বিশ্লেষণ, নামকরণের সার্থকতা, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রশ্ন আসে।
| প্রশ্নের ধরন | মোট নম্বর | অনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| MCQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি |
| SAQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৩ নম্বর) | ৩ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৫ নম্বর) | ৫ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)
নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।
১. ‘অদল বদল’ গল্পটির লেখক কে?
- ক) সুবোধ ঘোষ
- খ) পান্নালাল প্যাটেল
- গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
✅ উত্তর: খ
২. গল্পটি কোন্ উৎসবের প্রেক্ষাপটে লেখা?
- ক) ঈদ
- খ) দীপাবলি
- গ) হোলি
- ঘ) মহরম
✅ উত্তর: গ
৩. ইসাবের বাবার নাম কী?
- ক) হাসান
- খ) রহিম
- গ) আলিবক্স
- ঘ) করিম
✅ উত্তর: ক
৪. জামাটা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে অদল কী করেছিল?
- ক) খেলা বন্ধ করে দেয়
- খ) ইসাবকে জাপটে ধরেছিল
- গ) ইসাবের সঙ্গে মারামারি শুরু করেছিল
- ঘ) পালিয়ে গিয়েছিল
✅ উত্তর: খ
৫. ইসাবের জামার কোন্ অংশ ছিঁড়ে গিয়েছিল?
- ক) পকেট
- খ) কাঁধের অংশ
- গ) পাজামার একটা অংশ
- ঘ) শার্টের হাতা
✅ উত্তর: গ
৬. অদল তার নতুন জামাটি কার কাছ থেকে পেয়েছিল?
- ক) তার বাবার কাছ থেকে
- খ) তার মায়ের কাছ থেকে
- গ) মামার কাছ থেকে
- ঘ) সে নিজেই কিনেছিল
✅ উত্তর: ক
৭. ‘ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।’—উক্তিটির বক্তা কে?
- ক) ইসাব
- খ) অদল-এর বাবা
- গ) ইসাব-এর বাবা
- ঘ) অদল
✅ উত্তর: খ
৮. ইসাব ও অদলকে নিয়ে কেন ভীড় হয়েছিল?
- ক) তারা নাচছিল
- খ) হোলির রং মাখা নিয়ে ঝগড়ার জন্য
- গ) নতুন জামা পরার জন্য
- ঘ) তাদের বাড়ি থেকে মারামারি হচ্ছিল
✅ উত্তর: খ
৯. জামা বদলের কথা শুনে অদল-এর মা কী করেছিলেন?
- ক) ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন
- খ) হেসেছিলেন
- গ) রাগ করেছিলেন
- ঘ) কিছুই বলেননি
✅ উত্তর: ক
১০. অদল-এর আসল নাম কী?
- ক) ইসাব
- খ) হাসান
- গ) অমৃত
- ঘ) আনন্দ
✅ উত্তর: গ
১১. জামা বদলানোর ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কিসে পরিণত হলো?
- ক) একটি বড় মারামারিতে
- খ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক নজিরবিহীন উদাহরণে
- গ) দুই বন্ধুর বিচ্ছেদে
- ঘ) পারিবারিক কলহে
✅ উত্তর: খ
১২. ইসাবের গায়ে কোন্ রং লাগানো ছিল?
- ক) লাল রং
- খ) কালো রং
- গ) হলুদ রং
- ঘ) নীল রং
✅ উত্তর: খ
১৩. ইসাবের মা অদলকে বুকে টেনে নিয়ে কেন কেঁদেছিলেন?
- ক) তার ছেঁড়া জামার জন্য
- খ) অদলকে শাস্তি দিতে
- গ) অদলকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসার জন্য
- ঘ) স্বামী হাসানকে ভয় পেয়ে
✅ উত্তর: গ
১৪. ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে অদল-এর বাবা কী বোঝাতে চেয়েছিলেন?
- ক) নতুন জামা
- খ) অর্থ
- গ) অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব
- ঘ) ধর্মীয় বিশ্বাস
✅ উত্তর: গ
১৫. ‘অদল বদল’ গল্পের অনুবাদক কে?
- ক) সত্যজিৎ রায়
- খ) অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত
- গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- ঘ) বুদ্ধদেব গুহ
✅ উত্তর: খ
১৬. অমৃতের গায়ের জামাটা কী ছিল বলে ছিঁড়ে গিয়েছিল?
- ক) খুবই পুরোনো
- খ) খুব পাতলা
- গ) কোঁচকানো ছিল বলে
- ঘ) দর্জির ভুল ছিল
✅ উত্তর: গ
১৭. ‘আস্তে আস্তেই হয়ে গেল অদল বদল।’—এখানে অদল বদল হলো কীসের?
- ক) বইয়ের
- খ) জামা কাপড়ের
- গ) রঙের
- ঘ) নামের
✅ উত্তর: খ
১৮. অদল-এর মা দুশ্চিন্তা করে কোথায় বসে পড়েছিলেন?
- ক) চেয়ারে
- খ) দরজার সামনে
- গ) মাটিতে
- ঘ) সিঁড়িতে
✅ উত্তর: গ
১৯. ইসাব তার জামা অদলকে দিয়ে কী করতে বলেছিল?
- ক) যত্ন নিতে
- খ) লুকিয়ে রাখতে
- গ) রং মাখতে চলে যেতে
- ঘ) ফেরত দিতে
✅ উত্তর: গ
২০. ‘অদল বদল’ গল্পটি কোন্ ভাষার মূল গল্প থেকে অনূদিত?
- ক) হিন্দি
- খ) গুজরাটি
- গ) মারাঠি
- ঘ) অসমীয়া
✅ উত্তর: খ
২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৫৩টি প্রশ্ন
ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৮টি)
নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।
- ১. অদল ও ইসাব দুজনে একই রকম নতুন জামা পরেছিল।
- ২. গল্পটি হোলি উৎসবের দিনে লেখা।
- ৩. ইসাবের বাবার নাম হাসান।
- ৪. অদল ও ইসাব মারামারি শুরু করেছিল রং নিয়ে।
- ৫. জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে অদল ইসাবকে জাপটে ধরেছিল।
- ৬. ইসাবের পাজামার একটা অংশ ছিঁড়ে গিয়েছিল।
- ৭. জামা অদল বদল হয়ে যাওয়ার কথা শুনে অদল-এর মা ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন।
- ৮. অমৃতের মা দুশ্চিন্তা করে মাটিতে বসে পড়লেন।
- ৯. ইসাব তার জামা অদলকে দিয়ে রং মাখাতে চলে যায়।
- ১০. অদল তার নতুন জামা পেয়েছিল তার বাবার কাছ থেকে।
- ১১. দু’জনের মায়েরাই ছেলেদের একই রকম ভালোবেসেছিলেন।
- ১২. অমৃতের গায়ের জামাটা ছিঁড়ে গিয়েছিল কোঁচকানো ছিল বলে।
- ১৩. ইসাবের গায়ে কালো রং মাখা ছিল।
- ১৪. ছেলেরা তাদের মায়েদের চোখের আড়াল হয়ে গিয়েছিল।
- ১৫. অদল-এর আসল নাম ছিল অমৃত।
- ১৬. জামা বদলে নেওয়ার কথা শুনে সবাই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল।
- ১৭. হোলির দিনে চারিদিকে মাতামাতি চলছিল।
- ১৮. অদল ইসাবকে শিখিয়েছিল খাঁটি জিনিস কাকে বলে।
খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১৭টি)
নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।
- ১. ‘অদল বদল’ গল্পটি মূলত বাংলা ভাষায় রচিত। (মি)
- ২. গল্পটি দোল উৎসবের পটভূমিতে লেখা। (স)
- ৩. অদল ও ইসাব দুজনেই নতুন জামা পরেছিল। (স)
- ৪. জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় অদল ইসাবের দিকে ছুটে গিয়েছিল। (স)
- ৫. ইসাবের জামার পকেট ছিঁড়ে গিয়েছিল। (মি)
- ৬. অদল তার জামা বদল করে নিয়েছিল তার মায়ের নির্দেশে। (মি)
- ৭. অদল ও ইসাব মারামারি শুরু করেছিল সামান্য রং মাখা নিয়ে। (স)
- ৮. ভিড়ের মধ্যে সবাই প্রথমে অদল ও ইসাবকে চিনতে পারছিল না। (স)
- ৯. ইসাবের বাবার নাম করিম। (মি)
- ১০. অমৃতের মা অদলকে মারতে গিয়েছিলেন। (মি)
- ১১. জামা বদলানোর ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরি করেছিল। (স)
- ১২. অমৃত আর অদল একই রকম জামা পরেছিল। (স)
- ১৩. অদল তার জামা তার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিল। (মি)
- ১৪. অদল-এর মা দুশ্চিন্তা করে মাটিতে বসে পড়েছিলেন। (স)
- ১৫. ইসাবের জামাটা ছিল অদল-এর গায়ের থেকে বেশি মোটা। (মি)
- ১৬. ইসাবের মা অদলকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। (স)
- ১৭. অদল ও ইসাবের ঝগড়া থামাতে অমৃতের বাবা এগিয়ে এসেছিলেন। (মি)
গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৭টি)
নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১. ‘অদল বদল’ গল্পটি কে অনুবাদ করেছেন?
✅ উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পটি অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনুবাদ করেছেন।
২. গল্পটির মূল লেখক কে?
✅ উত্তর: গল্পটির মূল লেখক হলেন পান্নালাল প্যাটেল।
৩. গল্পটি কোন্ উৎসবের পটভূমিতে লেখা?
✅ উত্তর: গল্পটি হোলি উৎসবের পটভূমিতে লেখা।
৪. অদল ও ইসাব কীভাবে জামা অদল বদল করেছিল?
✅ উত্তর: জামা ছেঁড়ার ভয়ে অদল ইসাবকে জাপটে ধরলে, তারা দুজনে নিজের নতুন জামা বদলে নেয়।
৫. অদল ও ইসাবের ঝগড়া থামাতে এগিয়ে এসেছিল কারা?
✅ উত্তর: অদল ও ইসাবের ঝগড়া থামাতে আশেপাশের ভিড় ও তাদের মায়েরা এগিয়ে এসেছিল।
৬. ইসাবের বাবার নাম কী?
✅ উত্তর: ইসাবের বাবার নাম ছিল হাসান।
৭. জামাটা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে অদল কী করেছিল?
✅ উত্তর: জামাটা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে অদল ইসাবকে জাপটে ধরেছিল।
৮. ইসাবের জামার কোন্ অংশ ছিঁড়ে গিয়েছিল?
✅ উত্তর: ইসাবের জামার পাজামার একটা অংশ ছিঁড়ে গিয়েছিল।
৯. অমৃতের মা দুশ্চিন্তা করে কোথায় বসে পড়েছিলেন?
✅ উত্তর: অমৃতের মা দুশ্চিন্তা করে মাটিতে বসে পড়েছিলেন।
১০. অদল ইসাবকে কী শিখিয়েছিল?
✅ উত্তর: অদল ইসাবকে শিখিয়েছিল খাঁটি জিনিস কাকে বলে।
১১. অদল-এর আসল নাম কী ছিল?
✅ উত্তর: অদল-এর আসল নাম ছিল অমৃত।
১২. ইসাবের গায়ে কি রং লাগানো ছিল?
✅ উত্তর: ইসাবের গায়ে কালো রং লাগানো ছিল।
১৩. অদল তার নতুন জামাটি কার কাছ থেকে পেয়েছিল?
✅ উত্তর: অদল তার নতুন জামাটি তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছিল।
১৪. অদল ও ইসাব দুজনেই কোন রঙের জামা পরেছিল?
✅ উত্তর: অদল ও ইসাব দুজনেই একই রকম নতুন জামা পরেছিল।
১৫. জামা অদল বদল হওয়ার কথা শুনে কে ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন?
✅ উত্তর: জামা অদল বদল হওয়ার কথা শুনে অমৃতের মা ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন।
১৬. অদল ইসাবকে কী করার নির্দেশ দিয়েছিল?
✅ উত্তর: অদল ইসাবকে তার জামাটা পরে নিয়ে রং মাখতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
১৭. ‘অদল বদল’ গল্পে প্রধানত কোন্ দুটি সম্প্রদায়ের কথা এসেছে?
✅ উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পে প্রধানত হিন্দু ও মুসলিম এই দুটি সম্প্রদায়ের কথা এসেছে।
৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১৫টি প্রশ্ন
প্রশ্ন ১. “অদল আর ইসাব একই জামা পরেছিল।”—উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
✅ উত্তর: এই উক্তিটি গল্পের মূল ভাববস্তু ও দুই পরিবারের নিবিড় সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।
- ১. সাদৃশ্যের প্রতীক: অদল (অমৃত) ও ইসাব, দুই ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ছেলে হলেও তারা ছিল পরস্পরের প্রতিচ্ছবি। একই রকম জামা পরা তাদের এই অভিন্নতা ও বন্ধুত্বের গভীরতার প্রতীক।
- ২. বন্ধুত্বের বন্ধন: জামাটি ছিল তাদের কাছে কেবল পোশাক নয়, ভালোবাসার প্রতীক। তারা যেন একই মায়ের দুই সন্তান—এই ভাবনাই তাদের একই রকম জামা পরার মধ্যে ফুটে ওঠে।
- ৩. ঘটনার সূচনা: এই সাদৃশ্যই জামা অদল বদল হওয়ার ঘটনার জন্ম দেয়, যা শেষ পর্যন্ত সম্প্রীতির এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল।
প্রশ্ন ২. “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”—কারা কেন ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল?
✅ উত্তর: ‘ওরা’ বলতে অদল ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
- ভয়ের কারণ: হোলির দিন রং খেলা নিয়ে সামান্য বিবাদের জেরে অদল ইসাবকে জাপটে ধরলে ইসাবের নতুন পাজামার একটা অংশ ছিঁড়ে যায়।
- পরিণাম চিন্তা: দুজনের মায়েরাই নতুন জামা ছিঁড়লে কঠোর শাস্তি দেবেন, এই ভয়েই তারা কাঠ হয়ে গিয়েছিল। অদল তার বাবার কাছ থেকে নতুন জামা পেয়েছিল, তাই সে ভয় পাচ্ছিল। অন্যদিকে ইসাব ভয় পাচ্ছিল তার বাবার কঠোর মেজাজকে।
- জামা বদল: এই ভয় থেকেই বাঁচার উপায় হিসেবে তারা জামা অদল বদল করে নেয়।
প্রশ্ন ৩. “যেন এই আশঙ্কায় ও এতক্ষণ মাটিতে বসে ছিল।”—কে, কোন্ আশঙ্কায় মাটিতে বসে ছিল?
✅ উত্তর: এখানে অদল-এর মা (অমৃতের মা) এর কথা বলা হয়েছে।
- আশঙ্কা: জামা অদল বদল হয়ে যাওয়ার কথা শুনে অদল-এর মা প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন যে ইসাবের ছিঁড়ে যাওয়া জামা দেখলে অদল-এর বাবা (অমৃতের বাবা) রেগে গিয়ে তাকে নির্দয়ভাবে মারবেন।
- আচরণের কারণ: ছেলের ভয়ে তিনি এতটাই অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন যে, মারের হাত থেকে রক্ষা করার কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে মাটিতে বসে পড়েছিলেন।
- মুক্তির কারণ: যখন তিনি ইসাবের মা’র কাছ থেকে ইসাবের আস্ত জামাটি পেলেন এবং শুনলেন যে ইসাবের মা অদলকে নিজের ছেলের মতো ভালোবেসেছেন, তখন তাঁর সেই আশঙ্কা দূর হয়।
প্রশ্ন ৪. জামা বদলের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জনতার মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল?
✅ উত্তর: জামা বদলের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও, পরে এক আবেগপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
- প্রাথমিক উত্তেজনা: অদল ও ইসাবের ঝগড়া, জামা ছেঁড়া এবং দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের দুই মায়ের উপস্থিতি দেখে ভিড় করা জনতা প্রথমে ভেবেছিল যে বুঝি বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক বিবাদ শুরু হতে চলেছে।
- বিস্ময় ও মুগ্ধতা: কিন্তু যখন তারা দেখল যে ইসাবের মা ছেঁড়া জামার জন্য অদলকে শাস্তি না দিয়ে বরং তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন এবং দুই বন্ধু জামা অদল বদল করে ফেলেছে, তখন তারা বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়।
- সম্প্রীতির জন্ম: এই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের পরিবর্তে দুই মায়ের এবং দুই বন্ধুর ভালোবাসার জয় ঘোষণা করে। জনতা এই মানবিক ভালোবাসার কাছে মাথা নত করে।
প্রশ্ন ৫. “ইসবের মায়ের সে কি দারুণ হাউমাউ।”—ইসাবের মা কেন হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছিলেন?
✅ উত্তর: ইসাবের মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছিলেন অদলকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসার জন্য।
- ছেলের মতো ভালোবাসা: অদল ইসাবকে জাপটে ধরার ফলে যখন ইসাবের পাজামা ছিঁড়ে যায়, তখন ইসাবের মা দেখেন যে অদল তার ছেঁড়া জামার জন্য ইসাবের কাছে আত্মসমর্পণ করছে। এই দৃশ্য দেখে তাঁর মনে মাতৃত্ব জেগে ওঠে।
- আবেগ প্রকাশ: ইসাবের মা বুঝতে পারেন, জামা ছেঁড়ার দায়ভার শুধু ইসাবের নয়, অদলও তার বন্ধুর প্রতি ভালোবাসার কারণেই এই কাজ করেছে। সেই মুহূর্তে অদল তাঁর কাছে ধর্ম-পরিচয় ভুলে তাঁর নিজের ছেলের মতোই হয়ে ওঠে।
- সম্প্রীতির বার্তা: তিনি অদলকে বুকে টেনে নিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। এই কান্নার মাধ্যমে তিনি দুই বন্ধুর প্রতি স্নেহ ও দুই সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দেন।
প্রশ্ন ৬. ‘অদল বদল’ গল্পে হোলি উৎসবের কী ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়?
✅ উত্তর: গল্পে হোলি উৎসবের একটি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে।
- রঙের মাতামাতি: গল্পটি শুরুই হয়েছে হোলির দিনের রঙে মাতামাতির মধ্যে। সব ধরনের ছেলে-মেয়ে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই রং খেলায় মেতে উঠেছিল।
- আনন্দের আবহ: চারিদিকে আনন্দের তীব্রতা ছিল। আবির, পিচকারি আর হাসি-ঠাট্টার মধ্যে এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল।
- পটভূমি হিসেবে ব্যবহার: এই উৎসবের আবহই ইসাব ও অদলকে কাছে এনেছিল এবং রং মাখা নিয়েই তাদের মধ্যে সামান্য বিবাদ শুরু হয়। এই উৎসবের দিনেই তাদের জামা অদল বদল হয়, যা গল্পটিকে এক বিশেষ মাত্রা দেয়।
প্রশ্ন ৭. ইসাবের বাবা হাসান তাঁর সিদ্ধান্ত কেন পরিবর্তন করলেন?
✅ উত্তর: ইসাবের বাবা হাসান প্রথমে ক্ষুব্ধ হলেও, পরবর্তীতে দুই বন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
- প্রাথমিক ক্ষোভ: জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় হাসান রেগে গিয়েছিলেন এবং ইসাবকে শাসন করতে চেয়েছিলেন।
- আবেগের উপলব্ধি: কিন্তু তিনি যখন দেখেন যে ইসাব ও অদল উভয়েই একে অপরের ছেঁড়া জামা পরে নিজের বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে, এবং ইসাবের মা অদলকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসছেন, তখন তাঁর রাগ চলে যায়।
- সম্প্রীতির স্বীকৃতি: তিনি বুঝতে পারেন যে এই ভালোবাসা সমস্ত ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে। তাই তিনি কেবল ইসাবকে ক্ষমা করেন না, বরং ঘটনাটিকে ‘অদল বদল’ নামে চিরস্মরণীয় করে রাখার কথা বলেন।
প্রশ্ন ৮. “খাঁটি জিনিস কাকে বলে, ও আমাকে শিখিয়েছে।”—কে, কাকে একথা বলেছিল? খাঁটি জিনিসটি কী ছিল?
✅ উত্তর: উক্তিটি অদল-এর বাবা (অমৃতের বাবা) ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের উদ্দেশ্যে করেছিলেন।
- খাঁটি জিনিস: এখানে ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে **অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বন্ধুত্বকে** বোঝানো হয়েছে।
- শিক্ষার কারণ: সামান্য জামা ছিঁড়ে যাওয়া নিয়ে যে ভুল বোঝাবুঝি বা বিবাদ হতে পারত, অদল ও ইসাব তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা এবং বন্ধুকে রক্ষার চেষ্টা দিয়ে সেই বিবাদকে সম্প্রীতিতে পরিণত করেছে।
- তাৎপর্য: অদল তার নতুন জামার মায়া ত্যাগ করে ইসাবের ছেঁড়া জামা পরে বন্ধুকে বাঁচিয়েছিল। এই ত্যাগ ও বন্ধুপ্রেমই ছিল সবচেয়ে ‘খাঁটি জিনিস’, যা অদল-এর বাবা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন।
প্রশ্ন ৯. ‘অদল বদল’ গল্পে মানব সম্পর্কের কোন্ দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?
✅ উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পে মানব সম্পর্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
- অকৃত্রিম বন্ধুত্ব: অদল ও ইসাব ভিন্ন ধর্ম ও পরিবারের হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে ছিল এক গভীর ও পবিত্র বন্ধুত্ব। তারা একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতেও দ্বিধা করেনি।
- মাতৃত্বের জয়: দুই মায়ের মধ্যে ছিল অভিন্ন মাতৃত্ববোধ। ইসাবের মা অদলকে নিজের ছেলের মতো আপন করে নিয়েছিলেন, যা ধর্মীয় সীমানাকে মুছে দিয়েছিল।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: গল্পটি প্রমাণ করে যে, মানুষের মধ্যে যদি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ভালোবাসা থাকে, তবে ধর্ম বা জাতির নামে সৃষ্ট বিবাদ সহজেই দূর করা যায়। গল্পটি সম্প্রীতির এক নজিরবিহীন উদাহরণ।
প্রশ্ন ১০. ‘তারা জানত নতুন জামা ছিঁড়লে তাদের কপালে কী আছে।’—জামা ছিঁড়লে তাদের কপালে কী ছিল? তারা কীভাবে তা এড়াতে চেয়েছিল?
✅ উত্তর:
- কপালে যা ছিল: নতুন জামা ছিঁড়লে তাদের কপালে নির্দয় **মারধর ও কঠোর শাস্তি** ছিল। অদল তার বাবার কাছ থেকে জামা পেয়েছিল, তাই সে বাবার মারের ভয় পাচ্ছিল।
- এড়ানোর উপায়: মার এড়ানোর জন্য অদল ও ইসাব এক বুদ্ধি বের করে। তারা নিজেদের নতুন জামা দুটি পরস্পরের মধ্যে **অদল বদল** করে নেয়।
- কারণ: তারা ভেবেছিল, জামা বদল করলে ছেঁড়ার ব্যাপারটা সাময়িকভাবে লুকানো যাবে এবং পরে আস্তে ধীরে জামা পরিবর্তন করে নেওয়া যাবে। এই চেষ্টা থেকেই গল্পের নামকরণ ‘অদল বদল’ হয়।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ৮টি প্রশ্ন
প্রশ্ন ১. ‘অদল বদল’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর: নামকরণ একটি গল্পের মূল ভাব, ঘটনা ও চরিত্রকে প্রকাশ করে। পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পটির নামকরণ ঘটনা ও ভাববস্তু উভয় দিক থেকেই সার্থক হয়েছে।
- ১. আখ্যানগত সার্থকতা: গল্পের মূল ঘটনাটিই হলো দুই বন্ধু অদল ও ইসাবের জামা ‘অদল বদল’ করে নেওয়া। হোলির দিন ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় মারের হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা এই কাজটি করে। এই কেন্দ্রীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গল্পের ক্লাইম্যাক্স গড়ে উঠেছে।
- ২. চরিত্রগত সার্থকতা: অদল ও ইসাব দুজনে একই রকম জামা পরায় তারা যেন পরস্পরের প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়। তাদের এই বাহ্যিক অভিন্নতা তাদের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার প্রতীক, যা ‘অদল বদল’ শব্দটির মধ্যে নিহিত।
- ৩. ভাবগত সার্থকতা: এই জামা বদলের মধ্য দিয়ে গল্পে আরও এক গভীর ‘অদল বদল’ ঘটে। দুই ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিদ্বেষের পরিবর্তে **স্নেহ, মায়া ও সম্প্রীতি** স্থান করে নেয়। ইসাবের মা অদলকে এবং অদল-এর বাবা ইসাবকে নিজের ছেলের মতো দেখেন।
উপসংহারে বলা যায়, গল্পে পোশাক বদলের মতো বাহ্যিক ঘটনা থেকে শুরু করে হৃদয়ের বদল বা সম্প্রীতির প্রতিষ্ঠা—সবকিছুই এই নামকরণের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, তাই নামকরণটি যথার্থ ও প্রতীকী ব্যঞ্জনাযুক্ত।
প্রশ্ন ২. ‘অদল বদল’ গল্পে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বিশ্লেষণ করো। (গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পটি হলো মানবতা ও সম্প্রীতির এক অসামান্য দলিল, যেখানে বন্ধুত্ব, মাতৃত্ব ও মানবিকতা ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে।
- ১. বন্ধুত্বের বন্ধন: হিন্দু ছেলে অদল ও মুসলিম ছেলে ইসাব ছিল একে অপরের প্রতিচ্ছবি। তারা এক সঙ্গে খেলা করত, এমনকি নতুন জামাও পরেছিল একই রকম। জামা ছেঁড়ার ঘটনায় মারের হাত থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে অদল ও ইসাবের জামা বদল করে নেওয়া—এই গভীর বন্ধুত্বেরই পরিচায়ক।
- ২. মাতৃত্বের সার্বজনীন রূপ: জামা ছেঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন জনতা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আশা করছিল, ঠিক তখনই ইসাবের মা অদলকে নিজের ছেলের মতোই কোলে টেনে নেন এবং হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। এই কান্না কোনো ধর্মীয় বিভেদ মানেনি, এটি ছিল শুধু মাতৃস্নেহের কান্না।
- ৩. অভিভাবকের স্বীকৃতি: ইসাবের বাবা হাসান তাঁর ক্ষোভ ভুলে দুই বন্ধুর ভালোবাসা ও ইসাবের মায়ের স্নেহ দেখে খুশি হন। অদল-এর বাবাও ইসাবকে ‘খাঁটি জিনিস’ এর শিক্ষা দিয়েছে বলে প্রশংসা করেন। দুই অভিভাবকের এই উদারতা সমাজে সম্প্রীতির পথ দেখায়।
এভাবে জামা বদলের একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখক দেখিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশুদ্ধ ভালোবাসা যেকোনো ধর্মীয় ভেদাভেদকে দূর করে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।
প্রশ্ন ৩. ‘ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।’—কে, কাকে, কী প্রসঙ্গে একথা বলেছিল? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর:
কে, কাকে, কী প্রসঙ্গে: উক্তিটি অদল-এর বাবা (অমৃতের বাবা) জামা বদলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিড়ের মধ্যে থাকা জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।
- প্রসঙ্গ: ইসাবের ছেঁড়া জামা দেখে যখন অদল-এর মা ভয় পেয়ে মাটিতে বসে পড়েছিলেন, তখন অদল ইসাবের আস্ত জামা পরেছিল এবং ইসাব ছিঁড়ে যাওয়া জামাটা পরে বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। এই ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রকাশ দেখে অদল-এর বাবা এই মন্তব্যটি করেন।
‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে:
- ১. অকৃত্রিম বন্ধুত্ব: এখানে ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে অদল ও ইসাবের মধ্যেকার স্বার্থহীন, গভীর ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বকে বোঝানো হয়েছে। তারা একে অপরের জন্য মার খেতেও প্রস্তুত ছিল।
- ২. আত্মত্যাগ: অমৃত নিজের নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় না করে, ইসাবকে বাঁচানোর জন্য নিজের জামা বদলে নেয়। এই আত্মত্যাগই হলো ‘খাঁটি জিনিস’।
- ৩. মানবিক মূল্যবোধ: জামা-কাপড়ের মতো পার্থিব জিনিসের চেয়ে বন্ধুত্বের মূল্য অনেক বেশি, এই মানবিক মূল্যবোধটিই এখানে ‘খাঁটি জিনিস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রশ্ন ৪. ‘ওরা তখন মায়ের কোলে বাহু জড়িয়ে ধরে রয়েছে।’—কারা, কার কোলে বাহু জড়িয়ে ছিল? এরপর কী হয়েছিল?
✅ উত্তর:
কারা, কার কোলে: অদল (অমৃত) তার নিজের মা এবং ইসাব তার নিজের মা (হাসানের স্ত্রী)-এর কোলে বাহু জড়িয়ে ধরেছিল।
- প্রেক্ষাপট: জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন জনতা সাম্প্রদায়িক বিবাদ আশা করছিল, তখন ইসাবের মা উদারতা দেখিয়ে অদলকে নিজের ছেলের মতো বুকে জড়িয়ে নেন এবং হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
এরপর কী হয়েছিল:
- ১. আবেগের বহিঃপ্রকাশ: ইসাবের মা’র এই মাতৃত্বের চরম প্রকাশ দেখে ভিড়ের মানুষ হতবাক হয়ে যায় এবং চারপাশের উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
- ২. ক্ষমা ও স্নেহ: অমৃতের মা ও ইসাবের মা’র মধ্যে স্নেহ ও ভালোবাসার আদান প্রদান হয়। ইসাবের বাবা হাসানও দুই বন্ধুর এই ত্যাগ দেখে মুগ্ধ হন এবং ইসাবকে ক্ষমা করে দেন।
- ৩. চিরস্মরণীয়: হাসান ঘোষণা করেন যে আজকের এই ঘটনা চিরকাল ‘অদল বদল’ নামে তাদের গ্রামে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রশ্ন ৫. ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাবের মায়ের চরিত্রটি আলোচনা করো।
✅ উত্তর: ইসাবের মা এই গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, যিনি মাতৃত্বের সার্বজনীন রূপকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
- ১. স্নেহময়ী মা: সন্তানের নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি প্রথমে কিছুটা চিন্তিত হলেও, পুত্রের প্রতি তাঁর স্নেহ ছিল অগাধ।
- ২. উদার ও মানবিক: তিনি অদলকে ভিন্ন ধর্মের বা ভিন্ন পরিবারের ছেলে হিসেবে দেখেননি। অদল যখন ছেঁড়া জামার জন্য ইসাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তখন তিনি অদলকে নিজের ছেলের মতো বুকে টেনে নেন।
- ৩. সম্প্রীতির প্রতীক: তাঁর এই উদারতা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। তাঁর হাউমাউ করে কান্না ছিল ধর্মীয় ভেদাভেদকে ছাপিয়ে ওঠা এক বিশুদ্ধ মাতৃস্নেহের প্রকাশ।
- ৪. নির্ভীক নারী: স্বামীর রাগের ভয় থাকা সত্ত্বেও তিনি অদলকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন, যা তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মানবিকতার পরিচয় দেয়।
প্রশ্ন ৬. ইসাবের বাবা হাসান কেন জামা বদলের ঘটনাটিকে চিরকাল ‘অদল বদল’ নামে স্মরণীয় করে রাখার কথা বললেন?
✅ উত্তর: ইসাবের বাবা হাসান প্রথমে কঠোর হলেও, জামা বদলের ঘটনার মধ্যে নিহিত গভীর মানবিক মূল্যবোধ তাঁকে বিগলিত করেছিল।
- ভুলের ঊর্ধ্বে বন্ধুত্ব: তিনি দেখলেন, ছেঁড়া জামার জন্য দোষারোপ বা মারামারি না করে অদল ও ইসাব একে অপরের জন্য আত্মত্যাগ করেছে। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি বন্ধুত্বের এক নজিরবিহীন উদাহরণ।
- মাতৃত্বের জয়: তাঁর স্ত্রী (ইসাবের মা) যখন অদলকে নিজের সন্তানের মতো বুকে টেনে নেন, তখন তিনি মাতৃত্বের সার্বজনীনতা উপলব্ধি করেন। এই ভালোবাসা ধর্ম বা জাতি মানে না।
- ইতিবাচক পরিবর্তন: যে ঘটনাটি সামান্য বিবাদ বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারত, সেটিই শেষ পর্যন্ত প্রেম ও স্নেহের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। এই ইতিবাচক পরিবর্তন সমাজের কাছে শিক্ষণীয়।
তাই, হাসান চান যে এই ঘটনাটি যেন জামা বদলের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ‘হৃদয়ের বদল’ এবং সম্প্রীতির এক প্রতীক হিসেবে চিরকাল মনে রাখা হয়।
প্রশ্ন ৭. অদল ও ইসাবের জামা বদলের ঘটনাটি কী পরিস্থিতিতে ঘটেছিল এবং তার ফল কী হয়েছিল?
✅ উত্তর:
ঘটনার পরিস্থিতি:
- হোলির উৎসব: হোলির দিনে অদল ও ইসাব দুজনেই তাদের বাবার কাছ থেকে পাওয়া একই রকম নতুন জামা পরেছিল।
- বিবাদ ও ছেঁড়া: রং খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে সামান্য ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে অদল তার জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে ইসাবকে জাপটে ধরে এবং এর ফলে ইসাবের পাজামার একটা অংশ ছিঁড়ে যায়।
- শাস্তির ভয়: নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় দুই বন্ধুই তাদের বাবা-মায়ের কঠোর শাস্তির ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। এই ভয় থেকেই মার এড়ানোর জন্য তারা নিজেদের জামা অদল বদল করে নেয়।
ঘটনার ফল:
- ১. সাময়িক উত্তেজনা: জামা বদলের ঘটনা নিয়ে দুই মায়ের এবং জনতার মধ্যে প্রথমে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
- ২. সম্প্রীতির জন্ম: ইসাবের মায়ের উদারতা এবং দুই বন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসা জনতাকে মুগ্ধ করে। যে ঘটনাটি বিবাদ বাঁধাতে পারত, সেটিই সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৮. অদল-এর মা কেন ভয় পেয়ে মাটিতে বসে পড়েছিলেন? পরে তাঁর ভয় কীভাবে দূর হয়েছিল?
✅ উত্তর:
ভয় পেয়ে মাটিতে বসে পড়ার কারণ:
- ছেঁড়া জামার চিন্তা: জামা অদল বদল হওয়ার পর অমৃতের মা ইসাবের ছিঁড়ে যাওয়া পাজামাটি হাতে পেয়েছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে তাঁর স্বামী (অমৃতের বাবা) নতুন জামা ছেঁড়ার ঘটনা জানলে ছেলেকে নির্দয়ভাবে মারবেন।
- মার থেকে রক্ষা: মারের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচানোর কোনো উপায় না দেখে এবং স্বামীর রাগের কথা মনে করে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে মাটিতে বসে পড়েছিলেন।
ভয় দূর হওয়ার কারণ:
- ইসাবের মায়ের স্নেহ: যখন ইসাবের মা এগিয়ে এসে অদলকে নিজের ছেলের মতো বুকে টেনে নেন এবং তার জামাটি তার হাতে দেন, তখন তিনি মাতৃত্বের উদারতা উপলব্ধি করেন।
- স্বামীর উপলব্ধি: এরপর যখন অদল-এর বাবা ইসাব ও অদল-এর এই বন্ধুত্বকে ‘খাঁটি জিনিস’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং হাসান সাহেব জামা বদলের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার কথা বলেন, তখন অদল-এর মায়ের সমস্ত ভয় দূর হয়ে যায়।
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১. ‘অদল বদল’ গল্পটির মূল লেখক ও অনুবাদক কে?
✅ উত্তর: গল্পটির মূল লেখক **পান্নালাল প্যাটেল** এবং অনুবাদক **অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত**।
প্রশ্ন ২. জামা বদলের ঘটনাটি কেন ঘটেছিল?
✅ উত্তর: হোলির দিন রং মাখা নিয়ে ঝগড়ার সময় ইসাবের পাজামা ছিঁড়ে যাওয়ায়, বাবার মারের হাত থেকে বাঁচার জন্য অদল ও ইসাব জামা অদল বদল করেছিল।
প্রশ্ন ৩. ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে গল্পে কী বোঝানো হয়েছে?
✅ উত্তর: এখানে ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে অদল ও ইসাবের **অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মত্যাগপূর্ণ বন্ধুত্বকে** বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ৪. জামা বদলের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কিসের প্রতীক হয়ে ওঠে?
✅ উত্তর: ঘটনাটি দুই মায়ের মাতৃত্ববোধের মাধ্যমে **সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক ভালোবাসার** প্রতীক হয়ে ওঠে।
JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)