দশম শ্রেণী বাংলা: অভিষেক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘অভিষেক’ (কবিতাংশ: মাইকেল মধুসূদন দত্ত)


📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা

‘অভিষেক’ কবিতাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি **’মেঘনাদবধ কাব্য’**-এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত। এই অংশটি মূলত রাবণপুত্র **মেঘনাদের (ইন্দ্রজিৎ)** বীরত্ব, প্রতিজ্ঞা এবং আত্মমর্যাদার কাহিনী। লক্ষ্মণের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে মেঘনাদ কর্তব্যচ্যুতির জন্য নিজেকে ধিক্কার দেন। এরপর লঙ্কা রক্ষার জন্য তিনি পিতা রাবণের আদেশে সেনাপতির পদে **’অভিষিক্ত’** হয়ে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নেন। এই কবিতাংশের মাধ্যমে কবি সনাতন রামায়ণের বিপরীতে গিয়ে মেঘনাদকে এক আধুনিক বীরের মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবিতাটি **অমিত্রাক্ষর ছন্দে** রচিত।


🎯 ‘অভিষেক’ কবিতাংশ থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)

এই কবিতাংশ থেকে মেঘনাদের বীরত্ব, রাবণের হতাশা এবং মধুসূদনের ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন আসে।

প্রশ্নের ধরন মোট নম্বর অনুমানিক সংখ্যা
MCQ (১ নম্বর) ১টি
SAQ (১ নম্বর) ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি)
LAQ (৩ নম্বর) ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি)
LAQ (৫ নম্বর) ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি)

১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)

নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

১. ‘অভিষেক’ কবিতাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

  • ক) বীরাঙ্গনা কাব্য
  • খ) মেঘনাদবধ কাব্য
  • গ) ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  • ঘ) চর্তুদশপদী কবিতা

✅ উত্তর: খ

২. মূল কাব্যগ্রন্থের কততম সর্গ থেকে ‘অভিষেক’ নেওয়া হয়েছে?

  • ক) প্রথম সর্গ
  • খ) দ্বিতীয় সর্গ
  • গ) তৃতীয় সর্গ
  • ঘ) চতুর্থ সর্গ

✅ উত্তর: ক

৩. বীরবাহু কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?

  • ক) রামের হাতে
  • খ) লক্ষ্মণের হাতে
  • গ) রাবণের হাতে
  • ঘ) বিভীষণের হাতে

✅ উত্তর: খ

৪. মেঘনাদের অন্য নাম কী?

  • ক) অরিন্দম
  • খ) বীরেন্দ্রকেশরী
  • গ) ইন্দ্রজিৎ
  • ঘ) উপরের সবকটি

✅ উত্তর: ঘ

৫. মেঘনাদের কাছে বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ কে নিয়ে এসেছিলেন?

  • ক) রাবণ
  • খ) বিভীষণ
  • গ) ধাত্রী প্রভাষা
  • ঘ) প্রমীলা

✅ উত্তর: গ

৬. ‘হা ধিক্ মোরে!’—ধিক্কার দিয়েছেন কে?

  • ক) রাবণ
  • খ) প্রভাষা
  • গ) মেঘনাদ
  • ঘ) রাম

✅ উত্তর: গ

৭. মেঘনাদ কোথায় যুদ্ধ করছিলেন না?

  • ক) লঙ্কায়
  • খ) অস্ত্রাগারে
  • গ) প্রমোদ-উদ্যানে
  • ঘ) নিকুম্ভিলা যজ্ঞে

✅ উত্তর: গ

৮. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে মেঘনাদ কী ছিঁড়ে ফেলেছিলেন?

  • ক) অস্ত্র
  • খ) কুসুমদাম
  • গ) বস্ত্র
  • ঘ) রথের চাকা

✅ উত্তর: খ

৯. রাবণ কাকে নতুন সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করলেন?

  • ক) কুম্ভকর্ণকে
  • খ) বিভীষণকে
  • গ) মেঘনাদকে
  • ঘ) কোনো নতুনকে নয়

✅ উত্তর: গ

১০. মেঘনাদ রামকে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?

  • ক) বীর
  • খ) দুরাচার
  • গ) অরিন্দম
  • ঘ) বৈরী

✅ উত্তর: গ

১১. রাবণ কাকে ‘রাক্ষস-কুল-মানস-সরোবর’ বলেছেন?

  • ক) মেঘনাদকে
  • খ) রামকে
  • গ) লক্ষ্মণকে
  • ঘ) রাবণ নিজেকে

✅ উত্তর: খ

১২. মেঘনাদ লক্ষ্মণের বধে শপথ নিয়ে যুদ্ধযাত্রার আগে কী যজ্ঞ সাঙ্গ করতে চেয়েছিলেন?

  • ক) শান্তিকামী যজ্ঞ
  • খ) নিকুম্ভিলা যজ্ঞ
  • গ) অশ্বমেধ যজ্ঞ
  • ঘ) রাজসূয় যজ্ঞ

✅ উত্তর: খ

১৩. মেঘনাদ ক্রোধবশত পিতাকে কী বলে সম্বোধন করেছেন?

  • ক) মহাবাহু
  • খ) রাক্ষস-কুল-ঈশ্বর
  • গ) রাক্ষস-কুলের শেখর
  • ঘ) তাত

✅ উত্তর: গ

১৪. রাবণের নিজের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি দেখে মেঘনাদ কী বলেছিলেন?

  • ক) আনন্দিত হয়েছিলেন
  • খ) রাবণকে রণে ক্ষান্ত হতে বলেছিলেন
  • গ) তাঁকে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন
  • ঘ) প্রভাষাকে ডেকেছিলেন

✅ উত্তর: খ

১৫. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ কে দিয়েছিল?

  • ক) রাম
  • খ) ধাত্রী প্রভাষা
  • গ) রাবণ
  • ঘ) লক্ষ্মণ

✅ উত্তর: খ

১৬. মেঘনাদ কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?

  • ক) যুদ্ধ না করার জন্য
  • খ) লঙ্কা অরক্ষিত রেখে প্রমোদ-উদ্যানে প্রমত্ত থাকায়
  • গ) বীরবাহুকে হত্যা করায়
  • ঘ) রাবণের আজ্ঞা অমান্য করায়

✅ উত্তর: খ

১৭. মেঘনাদ কাকে বধ করার শপথ নিয়েছিলেন?

  • ক) রামকে
  • খ) লক্ষ্মণকে
  • গ) বিভীষণকে
  • ঘ) হনুমানকে

✅ উত্তর: খ

১৮. ‘অরিন্দম’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক) শত্রুর বন্ধু
  • খ) শত্রুকে দমনকারী
  • গ) যুদ্ধ জয়ী
  • ঘ) মেঘের শব্দ

✅ উত্তর: খ

১৯. মেঘনাদকে কে ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ বলেছেন?

  • ক) প্রমীলা
  • খ) স্বয়ং কবি
  • গ) রাবণ
  • ঘ) প্রভাষা

✅ উত্তর: খ

২০. ‘অভিষেক’ কথাটির অর্থ কী?

  • ক) জল দেওয়া
  • খ) প্রধান সেনাপতির পদে বরণ
  • গ) আশীর্বাদ
  • ঘ) যুদ্ধ জয়

✅ উত্তর: খ

২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৫০টি প্রশ্ন

ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৮টি)

নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।

  • ১. কনক-আসন ত্যজি বীরেন্দ্রকেশরী
  • ২. ধাত্রী প্রভাষা এই সংবাদ মেঘনাদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন।
  • ৩. রামকে রাক্ষস-কুল-মানস-সরোবরে স্থান দিয়েছেন স্বয়ং রাবণ।
  • ৪. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে রাবণ শোকে মূহ্যমান।
  • ৫. মেঘনাদ প্রমীলার সাথে প্রমোদ-উদ্যানে ছিলেন।
  • ৬. রামকে মেঘনাদ অরিন্দম বলে সম্বোধন করেছেন।
  • ৭. মেঘনাদ বারেক মাত্র রামকে যুদ্ধে হারিয়েছিলেন।
  • ৮. রাবণ নতুন সেনাপতি পদে মেঘনাদকে অভিষিক্ত করলেন।
  • ৯. বীরবাহু লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়েছিলেন।
  • ১০. রাবণ সাজিলা রণে, নিজ হাতে রথ সাজালেন।
  • ১১. অস্ত্রাগার থেকে মেঘনাদকে তার রথ আনতে বলা হলো।
  • ১২. মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করতে চেয়েছিলেন।
  • ১৩. মেঘনাদবধ কাব্যের ছন্দের নাম অমিত্রাক্ষর ছন্দ।
  • ১৪. মেঘনাদ কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে ছিলেন না।
  • ১৫. রামচন্দ্রকে হায়! পুত্র বলে সম্বোধন করেছেন রাবণ।
  • ১৬. মেঘনাদ ধাত্রীকে সম্মতি দিয়েছেন।
  • ১৭. মেঘনাদ রামের কাছে বার বার হেরে যাননি।
  • ১৮. মেঘনাদকে অভিষেক করতে নির্দেশ দেন রাবণ

খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১৬টি)

নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।

  • ১. ‘অভিষেক’ কবিতাটি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর দ্বিতীয় সর্গ থেকে নেওয়া। (মি) [সঠিক: প্রথম সর্গ]
  • ২. বীরবাহু লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়েছিলেন। (স)
  • ৩. মেঘনাদ বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন। (মি) [সঠিক: প্রমোদ-উদ্যানে]
  • ৪. মেঘনাদ লক্ষ্মণকে ‘অরিন্দম’ বলে সম্বোধন করেছেন। (মি) [সঠিক: রামকে]
  • ৫. ধাত্রী প্রভাষা মেঘনাদের কাছে এসেছিলেন। (স)
  • ৬. রাবণ নিজেই রথ সাজিয়ে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। (স)
  • ৭. রামচন্দ্রকে রাবণ রাক্ষস কুলের মানস-সরোবর বলেছেন। (স)
  • ৮. মেঘনাদ যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে প্রমীলার অনুমতি নেননি। (মি) [সঠিক: মেঘনাদবধ কাব্যে নিয়েছিলেন]
  • ৯. মেঘনাদকে ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ বলা হয়েছে। (স)
  • ১০. মেঘনাদ কুম্ভকর্ণের মতো যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত থাকতে চেয়েছিলেন। (মি) [সঠিক: অবিলম্বে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন]
  • ১১. মেঘনাদ লক্ষ্মণকে বার বার হারিয়েছেন। (মি) [সঠিক: বারেক মাত্র হারিয়েছিলেন]
  • ১২. ‘অভিষেক’ কবিতাটি চতুর্দশপদী কবিতার আঙ্গিকে লেখা। (মি) [সঠিক: অমিত্রাক্ষর ছন্দ]
  • ১৩. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে রাবণ মেঘনাদকে ধিক্কার দিয়েছেন। (মি) [সঠিক: মেঘনাদ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন]
  • ১৪. অভিষেক কথাটির অর্থ প্রধান সেনাপতির পদে বরণ। (স)
  • ১৫. বীরবাহু ছিলেন রাবণের কনিষ্ঠ পুত্র। (মি) [সঠিক: মেঘনাদ কনিষ্ঠ ছিলেন]
  • ১৬. রাবণ মেঘনাদকে ‘রাক্ষস কুলের শেখর’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। (মি) [সঠিক: মেঘনাদ রাবণকে বলেছিলেন]

গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৬টি)

নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

১. ‘অভিষেক’ কবিতাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

✅ উত্তর: ‘অভিষেক’ কবিতাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অন্তর্গত।

২. মেঘনাদের স্ত্রীর নাম কী?

✅ উত্তর: মেঘনাদের স্ত্রীর নাম প্রমীলা।

৩. মেঘনাদের কাছে বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ কে নিয়ে এসেছিলেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদের কাছে বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ ধাত্রী প্রভাষা নিয়ে এসেছিলেন।

৪. বীরবাহু কার হাতে নিহত হয়েছিলেন?

✅ উত্তর: বীরবাহু লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়েছিলেন।

৫. ‘ধিক্ মোরে!’—কে নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।

৬. মেঘনাদ কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ প্রমোদ-উদ্যানে প্রমত্ত থাকাকালীন লক্ষ্মণ যে বীরবাহুকে হত্যা করেছেন, তাই নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন।

৭. রাবণ কাকে নতুন সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করলেন?

✅ উত্তর: রাবণ মেঘনাদকে নতুন সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করলেন।

৮. ‘অরিন্দম’ শব্দের অর্থ কী?

✅ উত্তর: ‘অরিন্দম’ শব্দের অর্থ শত্রুকে দমনকারী।

৯. মেঘনাদ কাকে ‘অরিন্দম’ বলে সম্বোধন করেছেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ রামকে ‘অরিন্দম’ বলে সম্বোধন করেছেন।

১০. রাক্ষস-কুল-মানস-সরোবর কী?

✅ উত্তর: রাবণ রামচন্দ্রকে রাক্ষস-কুল-মানস-সরোবর বলে অভিহিত করেছেন।

১১. মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রা করার আগে কী যজ্ঞ সাঙ্গ করতে চেয়েছিলেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রা করার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করতে চেয়েছিলেন।

১২. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে রাবণ কী করেছিলেন?

✅ উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে রাবণ শোকে মূহ্যমান হয়েছেন এবং নিজ হাতে রথ সাজিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

১৩. মেঘনাদ কাকে ‘রাক্ষস-কুলের শেখর’ বলেছেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ তার পিতা রাবণকে ‘রাক্ষস-কুলের শেখর’ বলে সম্বোধন করেছেন।

১৪. মেঘনাদ কেন যুদ্ধ করতে যেতে চেয়েছিলেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ বীরবাহুর মৃত্যু এবং রাবণের শোচনীয় অবস্থা দেখে লক্ষ্মণকে বধ করে লঙ্কার মান রক্ষা করতে যুদ্ধ করতে যেতে চেয়েছিলেন।

১৫. মেঘনাদ কার বধে শপথ নিলেন?

✅ উত্তর: মেঘনাদ লক্ষ্মণের বধে শপথ নিলেন।

১৬. মেঘনাদের প্রিয়তমের নাম কী?

✅ উত্তর: মেঘনাদের প্রিয়তমের নাম প্রমীলা।


৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১০টি প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. “হা ধিক্ মোরে!”—কে কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন? (মাধ্যমিক ২০১৫, ২০২০)

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি রাবণপুত্র মেঘনাদ (অরিন্দম) নিজেকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।

  • কারণ: লক্ষ্মণের হাতে তার ছোট ভাই বীরবাহু নিহত হয়েছে। এই শোচনীয় অবস্থায় যখন তার লঙ্কা রক্ষার দায়িত্ব ছিল, তখন মেঘনাদ কর্তব্য ভুল করে প্রমোদ-উদ্যানে প্রমীলার সাথে বিনোদনে মত্ত ছিলেন।
  • তাৎপর্য: তিনি নিজের এই কর্তব্যচ্যুতিকে মেনে নিতে পারেননি। তাই লক্ষ্মণের মতো ‘তুচ্ছ’ শত্রুকে জীবিত রেখে এমন নিশ্চিন্ত বিনোদনে মত্ত থাকায় তিনি নিজেকে ধিক্কার জানিয়েছেন।

প্রশ্ন ২. “ছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে।”—কে, কেন কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেললেন? তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯)

উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে মেঘনাদ রোষে অর্থাৎ প্রচণ্ড রাগে নিজের গলার কুসুমদাম (ফুলের মালা) ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।

  • কারণ: বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ছিল মেঘনাদের কাছে অপমানজনক। যুদ্ধ তখন লঙ্কার শেষ পর্যায়ে, অথচ তিনি প্রমোদ-উদ্যানে ছিলেন। এই শোকে ও অপমানে তিনি অস্থির হয়ে ওঠেন।
  • তাৎপর্য: ফুলের মালা ছিল বিলাসের প্রতীক। বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শোনার পর মেঘনাদ বিলাসের প্রতীক সেই মালাকে ছিঁড়ে ফেলে নিজের ভোগবাসনা ত্যাগ করেন এবং অবিলম্বে কর্তব্য অর্থাৎ যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হন।

প্রশ্ন ৩. “অরিন্দম কহিলা”- অরিন্দম কাকে এবং কী বলেছিলেন?

উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যুর পর রাবণ যখন নিজেই যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন মেঘনাদ তাঁর পিতা রাবণকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছিলেন।

  • বক্তব্য: তিনি রাবণকে যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি কেন নিজে রথ সাজাচ্ছেন? আমি কি জীবিত নেই? আমি এখনই লক্ষ্মণকে বধ করে লঙ্কার কলঙ্ক দূর করব।’
  • তাৎপর্য: এই কথা বলার মাধ্যমে মেঘনাদ তাঁর নিজের বীরত্ব, আত্মমর্যাদা এবং পিতার প্রতি শ্রদ্ধাকে একসঙ্গে প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন ৪. রাবণ কেন নিজে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন? মেঘনাদ রাবণের কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?

উত্তর:

  • কারণ: লক্ষ্মণের হাতে বীরবাহু নিহত হওয়ায় রাবণ শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন। তাঁর কাছে তখন আর কোনো যোগ্য পুত্র ছিল না। তাই তিনি হতাশা এবং প্রতিশোধের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নিজেই রথ সাজিয়ে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
  • মেঘনাদের প্রার্থনা: মেঘনাদ তাঁর পিতাকে যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হতে অনুরোধ করেন এবং বলেন, তিনি যেন অবিলম্বে **অস্ত্রাগার থেকে রথ** আনার অনুমতি দেন এবং তাঁকে **সেনাপতির পদে অভিষিক্ত** করেন। তিনি লক্ষ্মণকে বধ করে লঙ্কার কলঙ্ক দূর করার শপথ নেন।

প্রশ্ন ৫. “এ কলঙ্ক, পিতা, ঘুষিবে জগতে।”—কলঙ্কটি কী ছিল? তা জগতে ঘুষিবে কেন?

উত্তর:

  • কলঙ্ক: কলঙ্কটি হলো—মেঘনাদের মতো বীরপুত্র জীবিত থাকা সত্ত্বেও, রামের অনুজ লক্ষ্মণ লঙ্কায় প্রবেশ করে বীরবাহুকে হত্যা করেছেন। মেঘনাদের মতো বীরের অনুপস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড লঙ্কার বীরত্বের প্রতি চরম অপমান।
  • ঘুষিবে কেন: মেঘনাদ ছিলেন ইন্দ্রজয়ী বীর। সেই বীরের দুর্বলতা এবং লঙ্কার এই চরম পরাজয় যদি শত্রুপক্ষকে লঙ্কার ভিতরে এসে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস দেয়, তবে এই অপমানের কথা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং লঙ্কা চিরকালের জন্য কলঙ্কিত হবে।

প্রশ্ন ৬. রাবণ রামচন্দ্রকে ‘রাক্ষস-কুল-মানস-সরোবর’ বলেছেন কেন?

উত্তর: এই উক্তিটি রাবণের চরম হতাশা ও রামের প্রতি তাঁর সুপ্ত শ্রদ্ধার প্রকাশ।

  • ব্যাখ্যা: রামচন্দ্র একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। রাবণ প্রথমে তাঁকে তুচ্ছ করতেন। কিন্তু বীরবাহু নিহত হওয়ায় রাবণ বুঝতে পারেন যে রামচন্দ্রকে তুচ্ছ করা যায় না।
  • তাৎপর্য: মানস-সরোবর পবিত্র স্থান। রাম যেন সেই পবিত্র স্থানের মতো হয়ে উঠেছেন, যেখানে রাক্ষসকুলের বীরেরা একে একে আত্মত্যাগ করছে। এখানে ‘মানস-সরোবর’ হলো **রাক্ষসকুলের সর্বনাশ** বা ধ্বংসের প্রতীক। রাবণ হতাশা থেকেই এই কথা বলেছেন।

প্রশ্ন ৭. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে মেঘনাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে মেঘনাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ক্রোধ ও ধিক্কার মিশ্রিত।

  • ক্রোধ ও বিস্ময়: প্রথমে মেঘনাদ সংবাদটি বিশ্বাস করতে পারেননি। তিনি অবাক হন যে লক্ষ্মণের মতো তুচ্ছ ব্যক্তির হাতে বীরবাহুর মতো বীর নিহত হলেন।
  • ধিক্কার: তিনি নিজের বিলাসী জীবনকে ধিক্কার জানান। তিনি বলেন, **”হা ধিক্ মোরে!”**—অর্থাৎ, এমন সময়ে প্রমোদ-উদ্যানে প্রমত্ত থাকায় তিনি নিজেকে ধিক্কার জানান।
  • প্রতিজ্ঞা: এরপরই তিনি বিলাসের প্রতীক কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলেন এবং অবিলম্বে লক্ষ্মণকে বধ করে লঙ্কার কলঙ্ক দূর করার প্রতিজ্ঞা করেন।

প্রশ্ন ৮. “নাহে, রাঘব দাস আমি”—কে, কাকে এ কথা বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: উক্তিটি রাবণপুত্র মেঘনাদ তাঁর পিতা রাবণকে বলেছেন।

  • প্রসঙ্গ: রাবণ যখন নিজে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন মেঘনাদ তাঁকে বাধা দেন। রাবণ ভেবেছিলেন মেঘনাদ হয়তো যুদ্ধে যেতে চাইছেন না।
  • তাৎপর্য: মেঘনাদ বলতে চেয়েছেন, তিনি এখনও যুদ্ধ থেকে পলাতক নন, তিনি এখনও জীবিত। লক্ষ্মণকে বধ করার দায়িত্ব তিনি পালন করতে প্রস্তুত। এই কথা বলার মধ্য দিয়ে মেঘনাদ তার **বীরত্বের অহংকার** এবং **পিতার প্রতি সম্মান** উভয়ই প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন ৯. মেঘনাদ কেন যুদ্ধযাত্রার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করতে চেয়েছিলেন?

উত্তর:

  • যজ্ঞের গুরুত্ব: নিকুম্ভিলা যজ্ঞ ছিল রাক্ষসদের কাছে এক পবিত্র ও শক্তিশালী যজ্ঞ। এই যজ্ঞ সফলভাবে সাঙ্গ করতে পারলে মেঘনাদ অজেয় হওয়ার বর পেতেন।
  • অজেয়তা: যজ্ঞ সাঙ্গ না করে যুদ্ধে গেলে মেঘনাদ জয়ী নাও হতে পারতেন। তাই নিজের বিজয় ও লঙ্কার নিশ্চিত রক্ষার জন্য মেঘনাদ এই যজ্ঞ করতে চেয়েছিলেন।
  • আদর্শ: যদিও রাবণ দ্রুত যুদ্ধযাত্রার নির্দেশ দেন, তবুও মেঘনাদ আদর্শ বীর হিসেবে যজ্ঞ করে নিজের শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য করতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১০. “ভূঞ্জিছ এখন তুমি সুখে”—কে কাকে একথা বলেছেন? এই মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর: উক্তিটি মেঘনাদের **ধাত্রী প্রভাষা** বীরবাহুর মৃত্যুর পর মেঘনাদকে বলেছিলেন।

  • কারণ: লঙ্কা যখন চরম বিপদে, রাবণের ছোট পুত্র বীরবাহু যখন নিহত, তখন মেঘনাদ তার স্ত্রী প্রমীলার সাথে প্রমোদ-উদ্যানে বিনোদনে মত্ত ছিলেন।
  • ধিক্কার: প্রভাষা এই বিলাসিতার জীবনকে মেনে নিতে পারেননি। তাই কর্তব্য ছেড়ে এই প্রমত্ততাকে তিনি ‘সুখ’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন এবং মেঘনাদকে তার বীরত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হতে বলেছেন।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. ‘অভিষেক’ কবিতাংশ অবলম্বনে মেঘনাদের বীরত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় দাও। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)

উত্তর: মেঘনাদ মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে এক আধুনিক বীরের মহিমায় প্রতিষ্ঠিত। তাঁর বীরত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধ ছিল অতুলনীয়।

  • ১. আত্মধিক্কার ও কর্তব্যবোধ: বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনেই তিনি বিলাসের প্রতীক **’কুসুমদাম’ ছিঁড়ে ফেলেন**। শত্রুকে তুচ্ছ করেও লঙ্কা অরক্ষিত রাখায় তিনি **’হা ধিক্ মোরে!’** বলে নিজেকে ধিক্কার দেন—যা তাঁর গভীর কর্তব্যবোধের পরিচায়ক।
  • ২. বীরত্বের অহংকার: পিতা রাবণকে যখন তিনি যুদ্ধে যেতে দেখেন, তখন **”নাহে, রাঘব দাস আমি”** বলে বাধা দেন। এই উক্তি তাঁর বীরত্বের অহংকারকে প্রকাশ করে। লক্ষ্মণকে বধ করে লঙ্কার কলঙ্ক দূর করার শপথ নেন তিনি।
  • ৩. পিতাকে সম্মান: মেঘনাদ রাবণকে **’রাক্ষস-কুলের শেখর’** বলে সম্বোধন করেন এবং তাঁকে রণে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বীরত্ব পিতার প্রতি শ্রদ্ধাকে ম্লান করে না।
  • ৪. আত্মমর্যাদা: তিনি নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে অজেয় বেশে যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলেন। এটি তাঁর রণনীতির প্রতি আস্থা এবং আত্মমর্যাদাবোধের প্রমাণ। লক্ষ্মণের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু তাঁর কাছে অপমানজনক কলঙ্ক ছিল, যা তিনি নিজ হাতে মুছতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন ২. বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে রাবণ কেন নিজে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? তার এই উদ্যোগের কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে রাবণের মানসিক অবস্থা এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব তাঁকে এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছিল।

  • ১. শোক ও হতাশা: বীরবাহু ছিলেন রাবণের অন্যতম প্রিয় পুত্র। তাঁর মৃত্যুতে রাবণ শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন। তাঁর মনে হতাশা জন্মায় যে একের পর এক বীরের মৃত্যু হলেও রামের অনুজ লক্ষ্মণকে কিছুতেই বধ করা যাচ্ছে না।
  • ২. আত্মমর্যাদা রক্ষা: মেঘনাদ তখন প্রমোদ-উদ্যানে মত্ত। এই অবস্থায় লঙ্কার মান রক্ষা করার মতো কোনো বীর তাঁর সামনে ছিল না। তিনি ভাবেন, যদি তিনি নিজে যুদ্ধে না যান, তবে লঙ্কা সম্পূর্ণ অরক্ষিত থেকে যাবে।
  • ৩. রামের শক্তি উপলব্ধি: লক্ষ্মণের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু রাবণকে রামের শক্তির কাছে অসহায় করে তোলে। তিনি রামকে **’রাক্ষস-কুল-মানস-সরোবর’** বলে অভিহিত করেন এবং প্রতিশোধ নিতে উদগ্রীব হন।
  • ৪. মেঘনাদের বিলম্ব: মেঘনাদকে যুদ্ধযাত্রার কথা জানানো হলেও তিনি প্রস্তুত হতে সময় নিচ্ছিলেন। এই বিলম্ব সহ্য করতে না পেরেই রাবণ নিজ হাতে রথ সাজিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন।

প্রশ্ন ৩. “এ কলঙ্ক, পিতা, ঘুষিবে জগতে।”—কে, কেন এ কথা বলেছেন? এই কলঙ্ক ঘোচানোর জন্য তিনি কী সংকল্প করলেন?

উত্তর: এই উক্তিটি রাবণপুত্র **মেঘনাদ** তাঁর পিতা **রাবণকে** উদ্দেশ্য করে বলেছেন।

  • কলঙ্কটি: কলঙ্কটি হলো—মেঘনাদের মতো ইন্দ্রজয়ী বীরপুত্র জীবিত থাকা সত্ত্বেও রামের অনুজ লক্ষ্মণ লঙ্কায় প্রবেশ করে মেঘনাদের কনিষ্ঠ ভাই বীরবাহুকে হত্যা করেছেন।
  • জগতে ঘুষিবার কারণ: মেঘনাদের মতো বীরের অনুপস্থিতিতে এমন তুচ্ছ শত্রুকে লঙ্কার অভ্যন্তরে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সুযোগ দেওয়া লঙ্কার বীরত্বের প্রতি চরম অপমান। এই অপমানের কথা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে লঙ্কা চিরকালের জন্য কলঙ্কিত হবে।
  • সংকল্প: এই কলঙ্ক ঘোচানোর জন্য মেঘনাদ অবিলম্বে রথ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি চান। তিনি লক্ষ্মণকে বধ করার শপথ নেন এবং যুদ্ধযাত্রার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন ৪. “কনক-আসন ত্যজি বীরেন্দ্রকেশরী” —কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? বীরেন্দ্রকেশরীকে কীভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে দেখা যায়?

উত্তর:

প্রসঙ্গ:

  • বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ নিয়ে ধাত্রী প্রভাষা যখন প্রমোদ-উদ্যানে মেঘনাদের কাছে পৌঁছান, তখন মেঘনাদ (বীরেন্দ্রকেশরী) তাঁর স্ত্রী প্রমীলার সঙ্গে কনক-আসনে বসে প্রমত্ত ছিলেন। বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনেই মেঘনাদ বিলাসের আসন ত্যাগ করেন।

যুদ্ধের প্রস্তুতি:

  • ১. বিলাস ত্যাগ: মেঘনাদ মুহূর্তের মধ্যে বিলাসের প্রতীক **’কুসুমদাম’ ছিঁড়ে ফেলেন** এবং শান্তবেশ ত্যাগ করেন।
  • ২. পিতার নিবৃত্তিকরণ: তিনি রাবণের কাছে যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হওয়ার অনুরোধ করেন এবং নিজে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান।
  • ৩. যজ্ঞ: তিনি অস্ত্রাগার থেকে রথ এনে প্রথমে **নিকুম্ভিলা যজ্ঞ** সাঙ্গ করতে চেয়েছিলেন, যাতে তিনি অজেয় হন।
  • ৪. শপথ: তিনি **লক্ষ্মণকে বধ করে** লঙ্কার কলঙ্ক মোচনের দৃঢ় শপথ নেন।

প্রশ্ন ৫. ‘অভিষেক’ কবিতাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যশৈলীর কোন্ বৈশিষ্ট্যগুলিকে তুলে ধরে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কবিতাংশটি মধুসূদনের কাব্যশৈলীর কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।

  • **১. অমিত্রাক্ষর ছন্দ:** কবিতাটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত, যা মধুসূদনের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। এটি বাংলা কাব্যে পর্ব ও যতি বিন্যাসের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা এনে নতুন গাম্ভীর্য ও গতি সৃষ্টি করেছিল।
  • **২. ব্যতিক্রমী বীরত্ব: (রামায়ণ বিরোধিতা):** কবি সনাতন রামায়ণের আদর্শ চরিত্র রামকে সাধারণ মানুষ এবং খলনায়ক মেঘনাদকে বীর ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন নায়কের মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটি তাঁর ব্যতিক্রমী দৃষ্টির প্রমাণ।
  • **৩. পুরাণাশ্রয়: (ক্লাসিক্যাল প্রভাব):** তিনি রামায়ণের কাহিনীকে অবলম্বন করলেও, গ্রিক ও রোমান পুরাণের মতো ক্লাসিক্যাল ট্র্যাজেডির বীরত্ব ও সংঘাতকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
  • **৪. গাম্ভীর্য ও ওজস্বিতা:** বীররসাত্মক এই কবিতাংশের ভাষা, উপমা এবং অলংকার (যেমন—’বীরেন্দ্রকেশরী’, ‘অরিন্দম’) ওজস্বী ও গম্ভীর।

## ❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – দৃশ্যমান বিভাগ

“`html


৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১. ‘অভিষেক’ কবিতাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত **’মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ** থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ২. মেঘনাদের রোষের প্রধান কারণ কী ছিল?

উত্তর: লক্ষ্মণের মতো তুচ্ছ শত্রুকে জীবিত রেখে তিনি প্রমোদ-উদ্যানে প্রমত্ত ছিলেন, যার ফলস্বরূপ বীরবাহু নিহত হন। এই **কর্তব্যচ্যুতিই** তাঁর ক্রোধের মূল কারণ।

প্রশ্ন ৩. অভিষেক কথাটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: অভিষেক কথাটির অর্থ হলো **প্রধান সেনাপতির পদে বরণ বা দায়িত্ব অর্পণ**। এখানে রাবণ মেঘনাদকে সেই পদে অভিষিক্ত করেছিলেন।

প্রশ্ন ৪. মেঘনাদ কেন নিজেকে ‘ধিক্কার’ দিয়েছিলেন?

উত্তর: লঙ্কা যখন চরম বিপদে, তখন তিনি বিলাসে মত্ত ছিলেন—নিজের এই **কর্তব্যজ্ঞানহীনতার** জন্য তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন।


JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার