দশম শ্রেণী বাংলা: প্রলয়োল্লাস কাজী নজরুল ইসলাম

📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘প্রলয়োল্লাস’ (কাজী নজরুল ইসলাম)


📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের **বিদ্রোহী মনোভাবের** শ্রেষ্ঠ প্রতিফলন। এটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ **’অগ্নিবীণা’**-র প্রথম কবিতা। ১৯২২ সালে এই কবিতাটি রচিত হয়। পরাধীন ভারতবর্ষে বিপ্লব ও স্বাধীনতার উন্মাদনাকে এই কবিতায় আহ্বান জানানো হয়েছে। কবি মনে করেন, পুরাতন, পচা ও জীর্ণ সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার জন্য **প্রলয়** (ধ্বংস) অপরিহার্য। এই প্রলয় সৃষ্টির মাধ্যমেই নতুনের অর্থাৎ স্বাধীনতার আগমন ঘটবে—এই আনন্দে তিনি প্রলয়কেও উল্লাসের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। ধ্বংস ও সৃষ্টির যুগলবন্দীই হলো এই কবিতার মূল সুর।


🎯 ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাংশ থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)

এই কবিতাংশ থেকে বিদ্রোহীর আগমন, প্রলয়ের পটভূমি এবং ধ্বংসের মধ্যে নতুনের বার্তা—এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন আসে।

প্রশ্নের ধরন মোট নম্বর অনুমানিক সংখ্যা
MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক) ১-২টি
SAQ (অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর) ১-২টি
SAQ (সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক) ১টি
LAQ (রচনাধর্মী) ১টি (বিকল্পসহ)

১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)

নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

  • ক) বিষের বাঁশি
  • খ) অগ্নিবীণা
  • গ) দোলনচাঁপা
  • ঘ) সাম্যবাদী

✅ উত্তর: খ

২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন্ ছন্দে রচিত?

  • ক) মাত্রাবৃত্ত
  • খ) অক্ষরবৃত্ত
  • গ) স্বরবৃত্ত
  • ঘ) অমিত্রাক্ষর

✅ উত্তর: ক

৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক) সৃষ্টিতে আনন্দ
  • খ) শান্তিতে উল্লাস
  • গ) ধ্বংসের মাঝে আনন্দ
  • ঘ) মিলনের আনন্দ

✅ উত্তর: গ

৪. কবি ‘আসছে হাসি’ বলতে কীসের আগমনকে বুঝিয়েছেন?

  • ক) পুরাতন দিনের
  • খ) দেবতাদের
  • গ) ভয়ের
  • ঘ) নতুন যুগের

✅ উত্তর: ঘ

৫. ঝঞ্ঝা-কেতনের মধ্যে দিয়ে কী উড়ে আসছে?

  • ক) জীর্ণতা
  • খ) অলক্ষ্যে হাসি
  • গ) দৈত্য
  • ঘ) অট্টহাসি

✅ উত্তর: খ

৬. কবি কাকে ‘ভয়ঙ্করের সুন্দর’ বলেছেন?

  • ক) মহাদেবকে
  • খ) লক্ষ্মীকে
  • গ) প্রলয়কে
  • ঘ) দৈত্যকে

✅ উত্তর: গ

৭. কবি ‘প্রলয় নেশার নৃত্য পাগল’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন?

  • ক) মানুষ
  • খ) অসুর
  • গ) মহাকাল (শিব)
  • ঘ) দেবতা

✅ উত্তর: গ

৮. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’—কথাটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

  • ক) ৮ বার
  • খ) ১৪ বার
  • গ) ১৬ বার
  • ঘ) ২০ বার

✅ উত্তর: গ

৯. মহাকাল হাতে কী ধরে আসছেন?

  • ক) ত্রিশূল
  • খ) তলোয়ার
  • গ) ঝাটকা মারা চাঁদ
  • ঘ) দণ্ড

✅ উত্তর: গ

১০. কবি কার ভাঙা তাণ্ডবের গান গেয়েছেন?

  • ক) বিদ্রোহীর
  • খ) দৈত্যের
  • গ) শিবের
  • ঘ) মানুষের

✅ উত্তর: গ

১১. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

  • ক) ১৯২১
  • খ) ১৯২২
  • গ) ১৯২৩
  • ঘ) ১৯২৪

✅ উত্তর: খ

১২. প্রলয় কীভাবে আসছে?

  • ক) ধীরে ধীরে
  • খ) শান্তভাবে
  • গ) প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে
  • ঘ) নিঃশব্দে

✅ উত্তর: গ

১৩. ‘দিগন্তের’ কোন্‌ অংশ রক্তমাখা?

  • ক) উত্তর
  • খ) পশ্চিম
  • গ) প্রাচী
  • ঘ) দক্ষিণ

✅ উত্তর: গ

১৪. আসছে নবীন জীবন-হারা _____। শূন্যস্থানে কী হবে?

  • ক) সৃষ্টি
  • খ) ভয়
  • গ) ধ্বংস
  • ঘ) অ-সুন্দরের বিনাশকারী

✅ উত্তর: ঘ

১৫. ‘প্রলয়’ শব্দের প্রতিশব্দ কী?

  • ক) সৃষ্টি
  • খ) ধ্বংস
  • গ) আনন্দ
  • ঘ) শান্তি

✅ উত্তর: খ

১৬. ‘রুদ্র’ কিসের প্রতীক?

  • ক) ভালোবাসার
  • খ) শান্তির
  • গ) ধ্বংসের
  • ঘ) সুরক্ষার

✅ উত্তর: গ

১৭. কবি কেন প্রলয়কে আহ্বান জানাচ্ছেন?

  • ক) পুরাতনকে বজায় রাখতে
  • খ) শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে
  • গ) পুরাতন জীর্ণকে ধ্বংস করে নতুন প্রতিষ্ঠা করতে
  • ঘ) যুদ্ধ থামাতে

✅ উত্তর: গ

১৮. ‘অন্ধকার বিনাশী’ কী আসছে?

  • ক) হাসি
  • খ) চির-সুন্দর
  • গ) অট্টহাসি
  • ঘ) দৈত্য

✅ উত্তর: খ

১৯. কবি কাদের ‘ভীষণ’ বলেছেন?

  • ক) শাসককে
  • খ) বিপ্লবীদের
  • গ) বজ্রশিখার মশালকে
  • ঘ) দেবতাকে

✅ উত্তর: গ

২০. কবি কাকে ‘চির-সুন্দর’ বলেছেন?

  • ক) শিব
  • খ) নবীন
  • গ) দৈত্য
  • ঘ) ঝড়

✅ উত্তর: খ


২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৫০টির বেশি প্রশ্ন

ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (২০টি)

নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।

  • ১. তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
  • ২. অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি নেওয়া হয়েছে।
  • ৩. আসছে ভয়ঙ্করের সুন্দর।
  • ৪. সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে শৃঙ্খল ধরে কাঁপল যারা।
  • ৫. কবি প্রলয়কে প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল বলেছেন।
  • ৬. আসছে নবীন জীবন-হারা অ-সুন্দরের বিনাশকারী।
  • ৭. দ্বারে লেগেছে আঘাত হানাসব ভাঙা প্রাচীর।
  • ৮. দিগন্তের প্রাচী রক্তমাখা।
  • ৯. মহাকাল হাতে ধরে আসছেন ঝাঁটকা মারা চাঁদ।
  • ১০. প্রলয়োল্লাস কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
  • ১১. তোরা সব মুক্ত হতে ভয় পাসনা।
  • ১২. বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর।
  • ১৩. কবি ‘প্রলয়’ বলতে ধ্বংস-কে বুঝিয়েছেন।
  • ১৪. জীর্ণ পুরাতনকে ধ্বংস করাই প্রলয়ের কাজ।
  • ১৫. প্রলয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে চির-সুন্দর
  • ১৬. কবি অন্ধকার বিনাশী চির-সুন্দরকে আহ্বান করেছেন।
  • ১৭. প্রলয় আসছে প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে।
  • ১৮. সর্বনাশ দেখেও যারা ভয় পায় না, তাদেরই জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে।
  • ১৯. প্রলয়ের মাঝে অলক্ষ্যে হাসি আসছে।
  • ২০. আসছে নবীন—জীবন-হারা অ-সুন্দরের বিনাশকারী।

খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১৬টি)

নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।

  • ১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। (মি) [সঠিক: অগ্নিবীণা]
  • ২. কবিতাটিতে কবি প্রলয়কে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন। (স)
  • ৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত। (মি) [সঠিক: মাত্রাবৃত্ত]
  • ৪. মহাকাল হাতে ত্রিশূল নিয়ে আসছেন। (মি) [সঠিক: ঝাঁটকা মারা চাঁদ]
  • ৫. ‘প্রাচী’ বলতে পশ্চিম দিককে বোঝানো হয়েছে। (মি) [সঠিক: পূর্ব দিক]
  • ৬. কবি পুরাতন জীর্ণ সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়তে চেয়েছেন। (স)
  • ৭. প্রলয়ের মধ্য দিয়ে চির-সুন্দরের আগমন হবে। (স)
  • ৮. ঝঞ্ঝা-কেতনের মধ্যে দিয়ে দৈত্য উড়ে আসছে। (মি) [সঠিক: অলক্ষ্যে হাসি]
  • ৯. কবি মহাকালকে ‘ভয়ঙ্করের সুন্দর’ বলেছেন। (স)
  • ১০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ১৯২১ সালে লেখা। (মি) [সঠিক: ১৯২২ সালে]
  • ১১. ‘উল্লাস’ কথাটির অর্থ দুঃখ। (মি) [সঠিক: আনন্দ]
  • ১২. প্রলয় আসে ‘প্রলয়-বিষাণ’ বাজিয়ে। (স)
  • ১৩. কবি রুদ্রের বীণা বাজানোর কথা বলেছেন। (মি) [সঠিক: রুদ্রের নাচন বা তাণ্ডব]
  • ১৪. ‘প্রাচী’ রক্তমাখা কারণ পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয় হয়েছে। (মি) [সঠিক: বিদ্রোহ ও ধ্বংসের প্রতীক]
  • ১৫. কবিতাটিতে ‘জয়ধ্বনি’ শব্দটি ১৬ বার ব্যবহৃত হয়েছে। (স)
  • ১৬. ‘আসছে নবীন’ বলতে তিনি যুবসমাজকে বুঝিয়েছেন। (স)

গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (২০টি)

নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা?

✅ উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

২. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী?

✅ উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ হলো ধ্বংসের মাঝে আনন্দ বা মহাধ্বংসের উল্লাস।

৩. কবি কেন প্রলয়কে আহ্বান করেছেন?

✅ উত্তর: জীর্ণ পুরাতন সমাজ এবং শোষণকে ধ্বংস করে নতুন সমাজ গড়ার জন্য কবি প্রলয়কে আহ্বান করেছেন।

৪. ‘ভয়ঙ্করের সুন্দর’ কাকে বলা হয়েছে?

✅ উত্তর: কবি প্রলয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নতুনের বা চির-সুন্দরের আগমনকে ‘ভয়ঙ্করের সুন্দর’ বলেছেন।

৫. ‘ঝঞ্ঝা-কেতন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

✅ উত্তর: ‘ঝঞ্ঝা-কেতন’ বলতে ঝড়ের ধ্বজা বা পতাকা বোঝানো হয়েছে, যা মহাকালের ধ্বংসলীলার প্রতীক।

৬. প্রলয় কীভাবে আসছে?

✅ উত্তর: প্রলয় প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে এবং বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে।

৭. ‘প্রাচী’ রক্তমাখা কেন?

✅ উত্তর: ‘প্রাচী’ রক্তমাখা, কারণ সেখানে বিদ্রোহ ও ধ্বংসের তাণ্ডব শুরু হয়েছে এবং নতুন যুগের জন্ম হচ্ছে।

৮. মহাকাল কার প্রতীক?

✅ উত্তর: মহাকাল ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিবের প্রতীক।

৯. কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?

✅ উত্তর: কবি সেই মানুষদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন, যারা সাহস করে পুরাতনকে ভেঙে মুক্ত হতে চায় এবং নতুনকে স্বাগত জানায়।

১০. প্রলয়ের মাঝে অলক্ষ্যে কী উড়ে আসছে?

✅ উত্তর: প্রলয়ের মাঝে অলক্ষ্যে নতুন যুগের আগমনের হাসি উড়ে আসছে।

১১. ‘আসছে নবীন’ বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন?

✅ উত্তর: ‘আসছে নবীন’ বলতে কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী যুবসমাজকে বুঝিয়েছেন।

১২. মহাকাল হাতে কী ধরে আসছেন?

✅ উত্তর: মহাকাল হাতে ঝাঁটকা মারা চাঁদ ধরে আসছেন।

১৩. ‘অ-সুন্দরের বিনাশকারী’ কে?

✅ উত্তর: ‘অ-সুন্দরের বিনাশকারী’ হলো মহাকালের ধ্বংসলীলা, যার মাধ্যমে পুরাতন জীর্ণ ব্যবস্থা ধ্বংস হবে।

১৪. ‘প্রাচী’ শব্দের অর্থ কী?

✅ উত্তর: ‘প্রাচী’ শব্দের অর্থ হলো পূর্ব দিক।

১৫. কবি কাদের ‘বজ্রশিখার মশাল’ বলেছেন?

✅ উত্তর: কবি প্রলয়কে আহ্বানকারী বিদ্রোহী শক্তিকে ‘বজ্রশিখার মশাল’ বলেছেন।

১৬. ‘শৃঙ্খল’ ধরে কারা কেঁপেছিল?

✅ উত্তর: সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে যারা শৃঙ্খল ধরে কেঁপেছিল, তারা হলো বিপ্লবী ও বিদ্রোহীরা।

১৭. কবি কিসের তাণ্ডবের গান গেয়েছেন?

✅ উত্তর: কবি রুদ্রের (শিবের) ভাঙা তাণ্ডবের গান গেয়েছেন।

১৮. ‘প্রলয়-বিষাণ’ কী?

✅ উত্তর: ‘প্রলয়-বিষাণ’ হলো মহাধ্বংসের আগমন বার্তা ঘোষণা করার শিং বা শিঙা।

১৯. ‘চির-সুন্দর’ কখন আসে?

✅ উত্তর: পুরাতন জীর্ণতা ও অ-সুন্দর ধ্বংস হওয়ার পরই ‘চির-সুন্দর’ আসে।

২০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন সময়ের রচনা?

✅ উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ১৯২২ সালে রচিত।


৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১০টি প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. “আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,”—’নৃত্য-পাগল’ কে? কেন তাঁকে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ বলা হয়েছে? (মাধ্যমিক ২০১৮)

উত্তর: এখানে ‘নৃত্য-পাগল’ হলেন মহাকালের প্রতীক **শিব** বা **রুদ্র**।

  • কারণ: মহাকালের এই ধ্বংসলীলার নৃত্য সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ। কিন্তু কবি জানেন, এই ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পুরাতন জীর্ণ সমাজব্যবস্থা (পরাধীনতা) ভেঙে গিয়ে নতুন জীবন ও মুক্তি আসবে।
  • তাৎপর্য: শিবের প্রলয়ঙ্করী তাণ্ডব নৃত্যের ফলেই জগতের সব অশুভ ও অসুন্দর বিনষ্ট হয়। এই ধ্বংসের নেশায় তিনি বিভোর, তাই তাঁকে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ২. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”—কাদের উদ্দেশ্যে কবির এই আহ্বান? কেন তারা জয়ধ্বনি করবে? (মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯)

উত্তর: কবির এই আহ্বান **পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তিকামী ও নবীন যুবসমাজকে** উদ্দেশ্য করে।

  • কারণ: কবি মনে করেন, প্রলয়ের ভয়াবহতা দেখে সাধারণ মানুষ ভীত হতে পারে। কিন্তু নবীনরাই হল সেই বিপ্লবী শক্তি, যারা পুরাতন জীর্ণ ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার জন্য প্রস্তুত।
  • জয়ধ্বনির কারণ: এই প্রলয় কোনো সাধারণ ধ্বংস নয়, এটি হলো নতুনের আগমনী বার্তা। এই প্রলয়ের পথ ধরেই অত্যাচারী ইংরেজ শাসনের অবসান হবে এবং স্বাধীনতা আসবে। তাই ধ্বংসের মধ্যেও নতুনের আশায় কবি নবীনদের উল্লাস করতে বলেছেন।

প্রশ্ন ৩. “ভয়ঙ্করেরও বেশে তিনি আসেন, তবে তিনি সুন্দরেরও প্রতীক।”—’প্রলয়োল্লাস’ কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। (মাধ্যমিক ২০১৬, ২০২০)

উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণভাবে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূলভাবকে তুলে ধরে।

  • ভয়ঙ্করের বেশ: প্রলয় প্রথমে মহাকালের রুদ্ররূপে আসে। তার হাতে ‘ঝাঁটকা মারা চাঁদ’, সে প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে ‘বজ্রশিখার মশাল’ জ্বেলে আসে। এই রূপ চরম ধ্বংস ও বিভীষিকার প্রতীক।
  • সুন্দরের প্রতীক: কিন্তু এই ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টি। পুরাতন, জীর্ণ ও শোষণমূলক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার পরই আসে ‘চির-সুন্দর’ বা নতুন যুগের আগমন। এই নতুনের হাসিকে কবি ‘অলক্ষ্যে হাসি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাই প্রলয়ের ধ্বংসরূপের আড়ালে নতুনের আগমনই হলো সুন্দরের প্রতীক।

প্রশ্ন ৪. ‘দিগন্তের প্রাচী’ কেন রক্তমাখা?

উত্তর: ‘প্রাচী’ শব্দের অর্থ পূর্ব দিক। সাধারণত পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয়ের সময় রক্তিম আভা দেখা যায়। কিন্তু এখানে রক্তিমতার অন্য তাৎপর্য রয়েছে।

  • আক্ষরিক কারণ: ‘প্রাচী’ রক্তমাখা, কারণ সেখানে প্রলয় এবং বিপ্লবের সংঘাত শুরু হয়েছে।
  • তাৎপর্য: প্রাচী বা পূর্ব দিক হলো নতুনের আগমনের দিক। এই নতুন যুগ বা স্বাধীনতা সহজে আসবে না। এর জন্য প্রয়োজন চরম আত্মত্যাগ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং বিদ্রোহ। সেই সংগ্রামের চিহ্ন হিসেবেই দিগন্তের প্রাচী রক্তমাখা। এই রক্তপাতই নতুন ভোরের ইঙ্গিত দেয়।

প্রশ্ন ৫. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়।”—’কেতন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এই ঝড়ের তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর:

  • **কেতন:** ‘কেতন’ শব্দের অর্থ পতাকা বা ধ্বজা। এখানে ‘নূতনের কেতন’ বলতে নতুন যুগ, স্বাধীনতা ও বিপ্লবের প্রতীকী পতাকা বোঝানো হয়েছে।
  • **ঝড়ের তাৎপর্য:** কালবোশেখীর ঝড় প্রলয় ও ধ্বংসের প্রতীক। কবি এই ঝড়ের সঙ্গে নতুন যুগের আগমনকে তুলনা করেছেন, কারণ—
    * ঝড় যেমন পুরোনো, জীর্ণ জিনিস ভেঙে ফেলে, তেমনই এই প্রলয়রূপী ঝড় পুরাতন পরাধীনতাকে ভেঙে ফেলবে।
    * ঝড়ের শেষে যেমন আকাশ পরিষ্কার ও নির্মল হয়, তেমনই এই ধ্বংসের পরই নতুনের আবির্ভাব ঘটবে।

প্রশ্ন ৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটিকে কেন দ্বৈত-সত্ত্বার কবিতা বলা হয়?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটিকে দ্বৈত-সত্ত্বার কবিতা বলা হয়, কারণ এখানে একই সঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

  • ১. ধ্বংসের সত্ত্বা: এখানে ‘রুদ্র এসেন্ট্রি’, ‘প্রলয়-বিষাণ’, ‘বজ্রশিখার মশাল’, ‘ঝঞ্ঝা-কেতন’ ইত্যাদির মাধ্যমে পুরাতন ও জীর্ণ সমাজ ব্যবস্থার চূড়ান্ত বিনাশের ছবি আঁকা হয়েছে।
  • ২. সৃষ্টির সত্ত্বা: অন্যদিকে, এই ধ্বংসের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ‘চির-সুন্দর’, ‘নূতন’ এবং ‘অলক্ষ্যে হাসি’। অর্থাৎ, ধ্বংসের মধ্য দিয়ে পরাধীনতার অবসান এবং স্বাধীনতার আগমনকে কবি অনিবার্য করে তুলেছেন। এই ধ্বংস ও সৃষ্টির যুগলবন্দীর কারণেই এটি দ্বৈত-সত্ত্বার কবিতা।

প্রশ্ন ৭. ‘জীবন-হারা অ-সুন্দরের বিনাশকারী’—কে? তাঁর এই নাম কেন?

উত্তর: এখানে ‘জীবন-হারা অ-সুন্দরের বিনাশকারী’ হলেন **নবীন** বা **বিপ্লবী শক্তি**।

  • অ-সুন্দর: ‘অ-সুন্দর’ বলতে কবি অত্যাচারী পরাধীন শাসন এবং সেই ব্যবস্থার জীর্ণতাকে বুঝিয়েছেন। এই শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রাণ বা সৌন্দর্য নেই, তাই এটি ‘জীবন-হারা’।
  • বিনাশকারী: কবি বিশ্বাস করেন, এই জীর্ণ ও অসুন্দর ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্যই নবীন যুবশক্তি প্রলয়ের বেশে আসছে। অর্থাৎ, অশুভ ও অসুন্দরের বিনাশ করাই নতুনের কাজ, তাই তাদের এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা অবলম্বনে ধ্বংস ও সৃষ্টির জয়গান কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে, আলোচনা করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একই সঙ্গে ধ্বংস (প্রলয়) ও সৃষ্টি (উল্লাস)-এর যুগলবন্দী ঘটিয়েছেন।

  • ১. ধ্বংসের আহ্বান: পুরাতন, জীর্ণ, পচে যাওয়া শোষণমূলক সমাজ ও শাসন ব্যবস্থাকে ভাঙার জন্য প্রলয়কে আহ্বান জানানো হয়েছে। মহাকাল রুদ্রের বেশে **’ঝঞ্ঝা-কেতন’** উড়িয়ে এবং **’বজ্রশিখার মশাল’** জ্বেলে আসছেন। এটি হলো ধ্বংসের ভয়ংকর রূপ।
  • ২. সৃষ্টির উল্লাস: এই ধ্বংসই কিন্তু নতুনের ভিত্তি। কবি জানেন, **’অ-সুন্দরের বিনাশকারী’** এই প্রলয়ের পথ ধরেই আসবে **’চির-সুন্দর’**। সেই নতুনের আগমনের উল্লাসেই কবি প্রলয়ের মধ্যে উল্লাস খুঁজে পেয়েছেন।
  • ৩. দ্বৈত-সত্ত্বা: কবি প্রলয়কে **’ভয়ঙ্করের সুন্দর’** বলেছেন। অর্থাৎ, বাইরে থেকে যা ধ্বংসাত্মক ও ভীতিকর, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে মুক্তি ও কল্যাণের বীজ। ধ্বংস এখানে শেষ নয়, বরং সৃষ্টির প্রবেশপথ।
  • ৪. মুক্তিকামী বার্তা: পরাধীন ভারতে এই প্রলয় ছিল ইংরেজ শাসনের অবসান এবং স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠা। তাই এই কবিতা ধ্বংসকে ভয় না পেয়ে, উল্লাসের সঙ্গে স্বাগত জানানোর বার্তা দেয়।

প্রশ্ন ২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির মধ্যে কবির বিপ্লবী ও আশাবাদী মনোভাব কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে? (মাধ্যমিক ২০১৫, ২০১৭)

উত্তর: এই কবিতাটি কবির বিপ্লবী চেতনা এবং ভবিষ্যতের প্রতি তাঁর গভীর আশাবাদকে তুলে ধরে।

  • বিপ্লবী মনোভাব:
    • রুদ্রের তাণ্ডব: কবি মহাকালের ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবকে ভয় না পেয়ে তাকেই আহ্বান জানিয়েছেন পুরাতনকে ভেঙে ফেলার জন্য।
    • শৃঙ্খল ভাঙা: শোষকের শৃঙ্খলকে চূর্ণ করার জন্য তিনি ‘বজ্রশিখার মশাল’ জ্বেলে ধ্বংসকে বরণ করে নিতে বলেছেন।
    • ‘জয়ধ্বনি’র আহ্বান: তিনি মুক্তিকামী যুবসমাজকে ভয় না পেয়ে ধ্বংসের মাঝে উল্লাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।
  • আশাবাদী মনোভাব:
    • নতুনের আগমন: কবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই প্রলয়ের শেষে **’আসছে নবীন’** বা **’চির-সুন্দর’**।
    • অলক্ষ্যে হাসি: তিনি ঝঞ্ঝা-কেতনের মধ্যে **’অলক্ষ্যে হাসি’** উড়ে আসতে দেখেছেন—যা পরাধীনতার অবসানের পর স্বাধীনতার প্রতীক।
    • ভবিষ্যৎ দৃষ্টি: দিগন্তের প্রাচী রক্তমাখা হলেও সেই রক্তের মধ্য দিয়েই মুক্তি আসবে—এই আশাবাদ কবির মনে ছিল।

প্রশ্ন ৩. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়।”—পঙ্‌ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

তাৎপর্য: এই পঙ্‌ক্তিটিতে নতুনের আগমনকে কালবোশেখীর ঝড়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।

  • নূতনের কেতন: ‘কেতন’ অর্থাৎ পতাকা। এটি নতুন যুগ, স্বাধীনতা ও বিপ্লবের প্রতীকী ধ্বজা।
  • কালবোশেখীর ঝড়: কালবোশেখী হলো আকস্মিক, ধ্বংসাত্মক ও প্রলয়ঙ্করী ঝড়। এই ঝড় পুরাতন, জীর্ণ কাঠামোকে এক লহমায় ভেঙে ফেলে।
  • যুগলবন্দী: কবি দেখাতে চেয়েছেন যে, পুরাতন সমাজ সহজে বিদায় নেবে না। নতুনের আগমনী বার্তা (কেতন) নিয়ে আসে এই ধ্বংসাত্মক ঝড়। অর্থাৎ, পুরাতনকে ভাঙার তীব্রতা যত বেশি হবে, নতুনের প্রতিষ্ঠা তত দ্রুত হবে।
  • আশাবাদ: ঝড়ের শেষে যেমন আকাশ নির্মল হয়, তেমনই এই প্রলয়ের শেষে পরাধীনতা মুক্ত হয়ে এক নতুন, সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে—এই আশাবাদই এখানে ধ্বনিত।

প্রশ্ন ৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় রুদ্ররূপী মহাকালের তাণ্ডব কেন প্রয়োজন ছিল?

উত্তর: মহাকালের রুদ্র বা শিবের তাণ্ডব এখানে পুরাতন জীর্ণতাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য অপরিহার্য ছিল।

  • ১. জীর্ণতার বিনাশ: পুরাতন, শোষণমূলক সমাজ, যা পরাধীনতাকে আঁকড়ে ধরেছিল, তা সহজে বিদায় নিত না। তাই এই জীর্ণতাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করতে মহাকালের তাণ্ডব অপরিহার্য।
  • ২. ভিত্তি স্থাপন: ধ্বংস না হলে সৃষ্টি অসম্ভব। রুদ্রের তাণ্ডব হলো সেই পবিত্র ধ্বংস, যা নতুন সমাজ ও স্বাধীনতার জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
  • ৩. বিদ্রোহের প্রতীক: এই তাণ্ডব হলো পরাধীনতার বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষের বিদ্রোহের প্রতীকী প্রকাশ। কবি রুদ্রের তাণ্ডবের মাধ্যমে বিপ্লবকে আহ্বান করেছেন।
  • ৪. নতুনের পথ: এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখেই নবীন সমাজ ভয়কে জয় করে মুক্তির পথ চিনতে পারবে। তাই ধ্বংসের আনন্দ বা ‘প্রলয়োল্লাস’ অপরিহার্য ছিল।

## ❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – দৃশ্যমান বিভাগ

“`html


৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত **’অগ্নিবীণা’** কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রশ্ন ২. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ হলো **ধ্বংসের মাঝে আনন্দ** বা মহাধ্বংসের উল্লাস।

প্রশ্ন ৩. কবি কাকে ‘ভয়ঙ্করের সুন্দর’ বলেছেন?

উত্তর: কবি প্রলয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা **চির-সুন্দরকে** (নতুনের আগমন) ‘ভয়ঙ্করের সুন্দর’ বলেছেন।

প্রশ্ন ৪. ‘প্রাচী’ রক্তমাখা কেন?

উত্তর: প্রাচী বা পূর্ব দিগন্ত রক্তমাখা, কারণ সেখানে **বিপ্লব, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও নতুনের জন্মমুহূর্ত** সূচিত হয়েছে।


JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার