বিভাগ-গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-২১
১. বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenetic Process) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: যেসব প্রাকৃতিক শক্তি (যেমন- নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ) পৃথিবীর বাইরের বা ভূপৃষ্ঠের ওপর দীর্ঘকাল ধরে ক্রিয়াশীল থেকে শিলাস্তরের ক্ষয় বা সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে। এই শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য।
২. পর্যায়ন (Gradation) কাকে বলে? [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: অবরোহণ (ক্ষয়) এবং আরোহণ (সঞ্চয়) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উঁচু-নিচু জায়গাগুলির উচ্চতার সমতা বিধান বা সামঞ্জস্যপূর্ণ তল গঠনের প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বলে। ১৮৭৬ সালে জি. কে. গিলবার্ট প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।
৩. নদীর ষষ্ঠঘাতের সূত্র (Sixth Power Law) বলতে কী বোঝো? [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর: ১৮৪২ সালে ডব্লিউ. হপকিন্স এই সূত্রটি দেন। সূত্রানুসারে, নদীর গতিবেগ কোনো কারণে দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ ($2^6 = 64$) বৃদ্ধি পায়। একেই নদীর ষষ্ঠঘাতের সূত্র বলে।
৪. অবরোহণ (Degradation) ও আরোহণ (Aggradation)-এর পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: অবরোহণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে উঁচু ভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হয় (উচ্চতা হ্রাস)। আর আরোহণ প্রক্রিয়ায় ক্ষয়জাত পদার্থ নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
৫. জলবিভাজিকা (Water Divide) কাকে বলে?
✅ উত্তর: যে উচ্চভূমি (পাহাড় বা পর্বত) দুই বা ততোধিক নদী অববাহিকা বা নদীগোষ্ঠীকে পরস্পর থেকে পৃথক করে রাখে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। যেমন- বিন্ধ্য পর্বত উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীকে পৃথক করেছে।
৬. গিরিখাত (Gorge) ও ক্যানিয়ন (Canyon)-এর পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: গিরিখাত বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে সৃষ্টি হয় এবং দেখতে ইংরেজি ‘V’ আকৃতির হয়। ক্যানিয়ন শুষ্ক মরু অঞ্চলে সৃষ্টি হয় এবং পার্শ্বক্ষয় না হওয়ায় এটি খুব গভীর ও খাড়া হয়, দেখতে ইংরেজি ‘I’ আকৃতির মতো।
[attachment_0](attachment)
৭. অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake) কীভাবে সৃষ্টি হয়? [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: নদীর মধ্য বা নিম্ন গতিতে নদী খুব বেশি বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হলে, বাঁকের দুই প্রান্ত কাছাকাছি চলে আসে। বন্যার সময় নদী সোজা পথে বইতে শুরু করলে বাঁকটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বের ক্ষুরের মতো হ্রদ সৃষ্টি করে।
৮. পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয়?
✅ উত্তর: নদীর মোহনায় সমুদ্রের জল শান্ত থাকলে এবং পলির পরিমাণ খুব বেশি হলে, নদীখাত পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এবং নদীটি বহু শাখায় বিভক্ত হয়ে সমুদ্রে মেশে। এই শাখার পাশে পলি জমে পাখির আঙুলের মতো দেখতে বদ্বীপ তৈরি হয়। (উদাহরণ: মিসিসিপি বদ্বীপ)।
৯. প্রপাতকূপ (Plunge Pool) কী?
✅ উত্তর: জলপ্রপাতের জল প্রবল বেগে নিচে পড়ার সময় জলস্রোত ও শিলাখণ্ডের আঘাতে জলপ্রপাতের পাদদেশের নরম শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে হাঁড়ির মতো গভীর গর্তের সৃষ্টি করে, তাকে প্রপাতকূপ বলে।
১০. হিমরেখা (Snowline) কাকে বলে?
✅ উত্তর: উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যে কাল্পনিক সীমারেখার ওপরে সারা বছর তুষার জমে থাকে এবং যার নিচে বরফ গলে জল হয়, তাকে হিমরেখা বলে। এর উচ্চতা অক্ষাংশ ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়।
১১. ক্রেভাস (Crevasse) ও বার্গস্রুন্ড (Bergschrund)-এর পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ক্রেভাস: হিমবাহের ওপরের পৃষ্ঠে অসমান গতির ফলে যে ফাটল সৃষ্টি হয়।
বার্গস্রুন্ড: হিমবাহ এবং পর্বতগাত্রের (Arete) মাঝখানে যে গভীর ও দীর্ঘ ফাটল থাকে।
১২. ড্রামলিন (Drumlin) কী? একে ‘বাস্কেট অফ এগ টোপোগ্রাফি’ বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট উল্টানো নৌকা বা চামচের মতো আকৃতির স্তূপকে ড্রামলিন বলে। একসঙ্গে বহু ড্রামলিন থাকলে ওপর থেকে দেখলে মনে হয় ঝুড়ি ভর্তি ডিম রাখা আছে, তাই একে ‘বাস্কেট অফ এগ টোপোগ্রাফি’ বলে।
১৩. রসে মতানে (Roche Moutonnee) কী?
✅ উত্তর: হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে কঠিন শিলাস্তরের যে ঢালটি হিমবাহ প্রবাহের দিকে থাকে তা মসৃণ হয় এবং বিপরীত দিকটি এবড়ো-খেবড়ো ও ফাটলযুক্ত হয়। এই ঢিবির মতো ভূমিরূপকে রসে মতানে বলে।
১৪. ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে প্রধান হিমবাহের উপত্যকাটি তার উপনদী হিমবাহের উপত্যকার চেয়ে অনেক গভীর হয়। বরফ গলে গেলে মনে হয় যেন ছোট উপত্যকাটি বড় উপত্যকার ওপর ঝুলে আছে। একে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে। এখানে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়।
১৫. নদী অববাহিকা (River Basin) ও ধারণ অববাহিকার (Catchment Area) পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: প্রধান নদী, তার উপনদী ও শাখানদী মিলিয়ে যে অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা বলে। আর নদীর উচ্চগতিতে বা পার্বত্য প্রবাহে যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জল এসে নদীতে পড়ে, তাকে ধারণ অববাহিকা বলে।
১৬. সব নদীতে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন? (দুটি কারণ)
✅ উত্তর: ১) নদীর মোহনায় সমুদ্রস্রোত বা জোয়ার-ভাটার প্রকোপ খুব বেশি থাকলে পলি ধুয়ে চলে যায়।
২) নদীতে পলির পরিমাণ কম থাকলে বদ্বীপ গঠিত হতে পারে না। (যেমন- নর্মদা ও তাপ্তী নদী)।
১৭. হিমশৈল (Iceberg) কী? এর গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: সমুদ্রের জলে ভাসমান বিশাল বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে। এর ১/৯ অংশ জলের ওপরে এবং বাকি ৮/৯ অংশ জলের নিচে থাকে।
গুরুত্ব: এটি জাহাজ চলাচলে বিপদের কারণ হতে পারে (যেমন- টাইটানিক)।
১৮. খাড়ি (Estuary) কাকে বলে?
✅ উত্তর: নদীর মোহনা বা সমুদ্র সংযোগস্থল যদি খুব চওড়া বা ফানেল আকৃতির হয় এবং সেখানে জোয়ারের জল প্রবল বেগে প্রবেশ করে, তবে তাকে খাড়ি বলে। এখানে বদ্বীপ গঠিত হয় না। (যেমন- সুন্দরবনের খাড়ি)।
১৯. পলল ব্যজনী (Alluvial Fan) কেন গঠিত হয়?
✅ উত্তর: নদী পার্বত্য অঞ্চল ছেড়ে সমভূমিতে প্রবেশ করলে তার গতিবেগ ও বহন ক্ষমতা হঠাৎ কমে যায়। ফলে নদীবাহিত পলি, বালি ও নুড়ি পর্বতের পাদদেশে হাতপাখার আকৃতিতে সঞ্চিত হয়ে পলল ব্যজনী গঠন করে।
২০. কিউসেক ও কিউমেক কী?
✅ উত্তর: নদীর জলপ্রবাহ মাপার একক।
কিউসেক: প্রতি সেকেন্ডে কত ঘনফুট জল প্রবাহিত হচ্ছে (Cubic feet per second)।
কিউমেক: প্রতি সেকেন্ডে কত ঘনমিটার জল প্রবাহিত হচ্ছে (Cubic meter per second)।
২১. ফিয়র্ড উপকূল (Fiord Coast) কাকে বলে?
✅ উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ‘U’ আকৃতির উপত্যকা সমুদ্রের জলে ডুবে গেলে যে গভীর, সংকীর্ণ ও খাঁজকাটা উপকূল সৃষ্টি হয়, তাকে ফিয়র্ড বলে। নরওয়েতে এটি বেশি দেখা যায়।
২২. মরুদ্্যান (Oasis) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
✅ উত্তর: মরুভূমিতে বায়ুর অপসারণ কার্যের ফলে বালি উড়ে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। এই গর্তের গভীরতা ভূগর্ভস্থ জলস্তর পর্যন্ত পৌঁছালে সেখানে জল জমা হয়ে হ্রদ ও গাছপালা তৈরি হয়। একেই মরুদ্্যান বলে।
২৩. গৌর (Gaur) বা মাশরুম রক কী? [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়কার্যের ফলে শিলাখণ্ডের নিচের অংশ (কোমল শিলা) ওপরের অংশের (কঠিন শিলা) তুলনায় বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে শিলাটি দেখতে ব্যাঙের ছাতার মতো হয়, একে গৌর বলে।
[attachment_1](attachment)
২৪. বার্খান (Barchan) বালিয়াড়ি কাকে বলে?
✅ উত্তর: বায়ুর গতিপথের আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠা আধখানা চাঁদের মতো দেখতে বালিয়াড়িকে বার্খান বলে। এর বাতাসের দিকের ঢাল উত্তল এবং বিপরীত দিকের ঢাল অবতল বা খাড়া হয়।
২৫. ইনসেলবার্জ (Inselberg) কী?
✅ উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়কার্যের ফলে কোমল শিলা অপসারিত হওয়ার পর কঠিন শিলা গঠিত যে মসৃণ ও গোলাকার টিলাগুলি বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের ইনসেলবার্জ বা ‘দ্বীপ পাহাড়’ বলে।
২৬. লোয়েস (Loess) কী? এটি কীভাবে গঠিত হয়?
✅ উত্তর: ‘লোয়েস’ একটি জার্মান শব্দ যার অর্থ স্থানচ্যুত বস্তু। মরুভূমি থেকে বায়ুর দ্বারা উড়ে আসা অতি সূক্ষ্ম ও হলুদ রঙের বালি বা পলি কণা বহু দূরে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস বলে। (যেমন- চীনের হোয়াংহো অববাহিকা)।
২৭. ওয়াদি (Wadi) কী?
✅ উত্তর: মরুভূমির শুষ্ক নদীখাতকে ওয়াদি বলা হয়। এগুলি সাধারণত শুকনো থাকে, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে জল প্রবাহিত হয়।
২৮. প্লায়া (Playa) হ্রদ কাকে বলে?
✅ উত্তর: মরুভূমি বেষ্টিত পাহাড়ের পাদদেশে সৃষ্ট লবণাক্ত জলের হ্রদকে প্লায়া বলে। এটি বায়ুর অপসারণ কার্যের ফলে সৃষ্ট গর্তে জল জমে তৈরি হয়। একে আমেরিকায় ‘বোলসন’ও বলা হয়।
২৯. ইয়ার্দাঙ (Yardang) ও জিউগেন (Zeugen)-এর পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ১) ইয়ার্দাঙ: কঠিন ও কোমল শিলা উলম্বভাবে অবস্থান করে এবং মোরগের ঝুঁটির মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়।
২) জিউগেন: কঠিন ও কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে অবস্থান করে এবং চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত টেবিলের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়।
৩০. পেডিমেন্ট (Pediment) ও বাজাদা (Bajada) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: পেডিমেন্ট: মরু অঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশে বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট মৃদু ঢালু শিলাময় ভূমি।
বাজাদা: পেডিমেন্টের নিচে নুড়ি, বালি ও পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠিত হয়।
৩১. অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট (Blow-out) কী?
✅ উত্তর: প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে মরুভূমির বালি এক স্থান থেকে অপসারিত হয়ে যে বিশাল গর্তের সৃষ্টি করে, তাকে অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট বলে। মিশরের কাতারা এর উদাহরণ।
৩২. মরুস্থলী কথার অর্থ কী? এটি কোথায় অবস্থিত?
✅ উত্তর: ‘মরুস্থলী’ কথার অর্থ হলো ‘মৃতের দেশ’। এটি ভারতের থর মরুভূমির পশ্চিম অংশে (রাজস্থান) অবস্থিত একটি অতি শুষ্ক ও উদ্ভিদহীন অঞ্চল।
৩৩. ধান্দ (Dhand) কী?
✅ উত্তর: রাজস্থানের থর মরুভূমিতে দুটি বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী নিচু অংশে সৃষ্ট লবণাক্ত জলের হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় ধান্দ বলে।
৩৪. সিফ (Seif) বালিয়াড়ি কী?
✅ উত্তর: বায়ুর গতিপথের সমান্তরালে গড়ে ওঠা দীর্ঘ, সংকীর্ণ ও তলোয়ারের মতো দেখতে বালিয়াড়িকে সিফ বা অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বলে। এগুলি কয়েকশো কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
৩৫. বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) দুটি প্রভাব সুন্দরবনের ওপর লেখো।
✅ উত্তর: ১) দ্বীপ নিমজ্জন: সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধির ফলে লোহাচড়া, নিউমুর ও ঘোড়ামারা দ্বীপগুলি তলিয়ে যাচ্ছে।
২) লবণাক্ততা বৃদ্ধি: নোনা জল ঢুকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং কৃষি জমি নষ্ট করছে।
৩৬. হামাদা (Hamada) ও আর্গ (Erg)-এর পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ১) হামাদা: শিলাময় বা পাথুরে মরুভূমি (সাহারাতে দেখা যায়)।
২) আর্গ: বালুকাময় মরুভূমি, যেখানে কেবল বালির সাগর দেখা যায়।
৩৭. নদীবাঁকের কোন দিকে ক্ষয় ও কোন দিকে সঞ্চয় হয়?
✅ উত্তর: নদীবাঁকের অবতল অংশে (বাইরের দিক) জলস্রোতের আঘাতে ক্ষয় হয় এবং খাড়া পাড় সৃষ্টি হয়। আর উত্তল অংশে (ভেতরের দিক) স্রোত কম থাকায় পলি সঞ্চিত হয়ে ঢালু পাড় বা বালুচর (Point bar) সৃষ্টি হয়।
৩৮. পর্যায়ন প্রক্রিয়াটি কয়টি ধাপে সম্পন্ন হয়?
✅ উত্তর: দুটি ধাপে: ১) অবরোহণ (Degradation): ক্ষয়ের মাধ্যমে উচ্চতা হ্রাস। ২) আরোহণ (Aggradation): সঞ্চয়ের মাধ্যমে উচ্চতা বৃদ্ধি।
৩৯. মোনাডনক (Monadnock) কী?
✅ উত্তর: সমপ্রায় ভূমিতে (Peneplain) কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত এবং ক্ষয় প্রতিরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকা গোলাকার টিলাগুলিকে মোনাডনক বলে। (নদীর ক্ষয়কার্যের শেষ পর্যায়ে দেখা যায়)।
৪০. হিমবাহের প্রকারভেদগুলি কী কী?
✅ উত্তর: অবস্থান অনুযায়ী হিমবাহ তিন প্রকার:
১) মহাদেশীয় হিমবাহ (আন্টার্কটিকা)।
২) পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ (হিমালয়)।
৩) পাদদেশীয় হিমবাহ (আলাস্কা)।
৪১. মরু অঞ্চলের প্রসারণ রোধের দুটি উপায় লেখো।
✅ উত্তর: ১) বৃক্ষরোপণ: মরুভূমির প্রান্তে ‘শেল্টার বেল্ট’ বা সবুজ প্রাচীর তৈরি করা (যেমন- সাহারার গ্রেট গ্রিন ওয়াল)।
২) পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ করে মাটির ক্ষয় রোধ করা।
৪২. ষষ্ঠঘাতের সূত্রটি কার? এর গাণিতিক রূপ কী?
✅ উত্তর: এটি ডব্লিউ. হপকিন্স-এর সূত্র। গাণিতিক রূপ: নদীর বহন ক্ষমতা $\propto (\text{গতিবেগ})^6$। অর্থাৎ বেগ ২ গুণ হলে বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ বাড়ে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বহির্জাত প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ
প্রশ্ন: পর্যায়ন (Gradation) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: অবরোহণ (ক্ষয়) এবং আরোহণ (সঞ্চয়) প্রক্রিয়ার যৌথ ক্রিয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠের বন্ধুরতা দূর হয়ে একটি সমতল বা ভারসাম্যযুক্ত তলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বলে। এই ধারণাটি প্রথম দেন গিলবার্ট।
প্রশ্ন: নদীর ষষ্ঠঘাতের সূত্রটি কী?
✅ উত্তর: নদীর গতিবেগ ও বহন ক্ষমতার গাণিতিক সম্পর্ক হলো ষষ্ঠঘাতের সূত্র। নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বাড়লে তার বহন ক্ষমতা বা বোঝা বহনের শক্তি ৬৪ গুণ ($2^6$) বৃদ্ধি পায়। এটি মূলত নদীর উচ্চগতিতে বা বন্যার সময় বেশি প্রযোজ্য।
প্রশ্ন: পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয়?
✅ উত্তর: নদীর মোহনায় পলি সঞ্চয়ের হার সমুদ্রস্রোতের অপসারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি হলে, নদীটি সমুদ্রের ভেতর বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং দুপাশে পলি জমিয়ে পাখির আঙুলের মতো আকার ধারণ করে। উদাহরণ: মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ।
[attachment_0](attachment)
প্রশ্ন: সুন্দরবনের দ্বীপগুলি কেন ডুবে যাচ্ছে?
✅ উত্তর: এর প্রধান কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming)। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল (Sea Level) বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের দ্বীপগুলি নিচু হওয়ায় সেগুলি সহজেই জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে (যেমন- লোহাচড়া, নিউমুর)।
প্রশ্ন: মরুদ্্যান (Oasis) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
✅ উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর অপসারণ কার্যের ফলে বালি উড়ে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। এই গর্তের গভীরতা যখন ভূগর্ভস্থ জলস্তর (Ground water table) স্পর্শ করে, তখন সেখানে জল চুঁইয়ে জমা হয় এবং গাছপালা জন্মায়। একে মরুদ্্যান বলে।