দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – ৬ ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র
বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (৫ নম্বর) (১-১২)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র (সম্ভাব্য কম্বো প্রশ্ন)
১. উপগ্রহ চিত্রের প্রধান চারটি ব্যবহার উল্লেখ করো এবং ফলস কালার কম্পোজিট (FCC) কেন ব্যবহার করা হয় তা ব্যাখ্যা করো। (৩+২)
✅ উত্তর: উপগ্রহ চিত্র হলো আধুনিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম, যা নানা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
ক) উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার (Uses):
- ১. আবহাওয়ার পূর্বাভাস: মেঘের গতিপথ, ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি ও শক্তি পরিমাপের মাধ্যমে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়।
- ২. প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান: বনভূমি, খনিজ এবং জলের উৎস সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত ও সহজে জানা যায়।
- ৩. সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষণ: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শত্রু দেশের গতিবিধি এবং সামরিক স্থাপনার তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা যায়।
- ৪. দুর্যোগ মোকাবিলা: বন্যা, খরা বা ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় এবং ত্রাণকার্য পরিচালনায় এটি সাহায্য করে।
খ) FCC ব্যবহারের কারণ (Why FCC is used):
- ১. সুস্থ গাছপালা ইনফ্রারেড শক্তিকে বেশি প্রতিফলিত করে। FCC তে সেই শক্তিকে **উজ্জ্বল লালে** দেখানো হয়। এতে স্বাভাবিক সবুজ রঙের তুলনায় বনভূমি ও শস্যের স্বাস্থ্য অনেক সহজে ও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়।
- ২. এটি জলভাগ, বনভূমি এবং মাটির মধ্যে পার্থক্যকে দৃশ্যমান করে তোলে, যা সাধারণ ছবিতে বোঝা কঠিন।
২. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো এবং টোপোশিটের দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো। (৩+২) [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের পার্থক্যগুলি এবং টোপোশিটের ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র | উপগ্রহ চিত্র |
|---|---|---|
| উৎস | জরিপ কাজ ও সমীক্ষার মাধ্যমে তৈরি হয়। | কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। |
| প্রকৃতি | এটি একটি প্রতীকভিত্তিক রেখাচিত্র এবং স্কেলভিত্তিক। | এটি একটি আলোকচিত্র বা ছবি, পিক্সেল দ্বারা গঠিত। |
| সময়কাল | তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে, তথ্যের পরিবর্তন ধীর। | তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে (Real-time data)। |
টোপোশিটের দুটি ব্যবহার:
- ১. **পরিকল্পনা ও উন্নয়ন:** নতুন রাস্তা, বাঁধ বা সেচ ব্যবস্থা তৈরির জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা তৈরির কাজে অপরিহার্য।
- ২. **সামরিক কৌশল:** ভূমির ঢাল ও উচ্চতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকায় সামরিক চলাচলের পথ ও কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করে।
৩. ভূসমলয় (Geostationary) এবং ধ্রুবীয় (Sun-synchronous) উপগ্রহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (৫)
✅ উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের গতির ওপর ভিত্তি করে প্রধানত দুই ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ দেখা যায়।
ক) ভূসমলয় উপগ্রহ (Geostationary Satellite):
- ১. উচ্চতা: এরা পৃথিবী থেকে প্রায় **৩৬,০০০ কিমি** উচ্চতায় থাকে।
- ২. গতি ও পথ: এরা নিরক্ষীয় তলে পৃথিবীর আবর্তনের গতির সাথে সমলয়ে ঘোরে। ফলে এটি পৃথিবীর **একই অংশের ওপর স্থির** থাকে।
- ৩. কাজ: এদের পরিক্রমণকাল ২৪ ঘণ্টা হওয়ায় এরা মূলত যোগাযোগ স্থাপন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য ব্যবহৃত হয়। (যেমন—INSAT)।
খ) ধ্রুবীয় উপগ্রহ (Sun-synchronous Satellite):
- ১. উচ্চতা: এরা পৃথিবী থেকে **৮০০-৯০০ কিমি** মতো কম উচ্চতায় থাকে।
- ২. গতি ও পথ: এরা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে আবর্তন করে এবং পৃথিবীর প্রায় সমস্ত অংশের ছবি তোলে।
- ৩. কাজ: এদের প্রধান কাজ হলো প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান, বনভূমি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশগত গবেষণা। (যেমন—IRS)।
৪. দূর সংবেদনের চারটি সুবিধা এবং দুটি অসুবিধা আলোচনা করো। (৩+২)
✅ উত্তর: তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দূর সংবেদন প্রযুক্তির ভূমিকা ব্যাপক হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ক) প্রধান চারটি সুবিধা (Advantages):
- ১. **দ্রুত তথ্য সংগ্রহ:** অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল অঞ্চলের তথ্য এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য (যেমন—বন্যা) সংগ্রহ করা সম্ভব।
- ২. **দুর্গমতা:** দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে মানুষের পক্ষে পৌঁছানো কঠিন, সেখান থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
- ৩. **পুনরাবৃত্তি:** একই স্থানের ছবি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বারবার তোলা যায়, যা পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে।
- ৪. **সময় ও ব্যয়:** প্রথাগত জরিপের চেয়ে এই পদ্ধতিতে সময় ও জনবল অনেক কম লাগে।
খ) দুটি অসুবিধা (Disadvantages):
- ১. **উচ্চ ব্যয়:** কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ এবং উৎক্ষেপণ অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
- ২. **দক্ষতা: ** সংগৃহীত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নির্ভুল বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন।
৫. উপগ্রহ চিত্রের চারটি প্রধান রেজোলিউশনের (Resolution) ধারণা দাও। (৫)
✅ উত্তর: রেজোলিউশন হলো উপগ্রহ চিত্রের গুণমান পরিমাপের মূল ভিত্তি। উপগ্রহ চিত্রে ব্যবহৃত চারটি প্রধান রেজোলিউশন হলো:
- ১. স্পেশিয়াল রেজোলিউশন (Spatial Resolution): সেন্সরের দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষুদ্রতম যে অংশটিকে এককভাবে শনাক্ত করা যায়, তার পরিমাপ। রেজোলিউশন যত ছোট, ছবির ডিটেইল তত বেশি। (একক: পিক্সেল)।
- ২. স্পেকট্রাল রেজোলিউশন (Spectral Resolution): সেন্সরটি তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর কতগুলি তরঙ্গদৈর্ঘ্য শনাক্ত ও রেকর্ড করতে পারে, তার ক্ষমতা। এটি বস্তুর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সাহায্য করে।
- ৩. টেম্পোরাল রেজোলিউশন (Temporal Resolution): একই স্থান বা বস্তুটিকে উপগ্রহটি কত সময় অন্তর পুনরায় চিত্রগ্রহণ করতে পারে, তা বোঝায়। (যেমন—প্রতি ১৬ দিনে একবার)।
- ৪. রেডিওমেট্রিক রেজোলিউশন (Radiometric Resolution): সেন্সরটি কোনো বস্তু থেকে বিকিরিত শক্তির সামান্য পরিবর্তনকে কত নিখুঁতভাবে রেকর্ড করতে পারে, তা এই রেজোলিউশন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এটি তথ্য ধারণের ক্ষমতাকে বোঝায়।
৬. প্রতিভূ অনুপাত (R.F. Scale) কী? এর তিনটি সুবিধা এবং একটি অসুবিধা উল্লেখ করো। (২+৩)
✅ উত্তর: R.F. স্কেল হলো মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির দূরত্বের মধ্যে গাণিতিক অনুপাত, যেখানে অনুপাতের লব (Numerator) সর্বদা ১ রাখা হয়।
ক) R.F. স্কেলের সুবিধা (Advantages):
- ১. **আন্তর্জাতিক ব্যবহার:** এটি একক-নিরপেক্ষ হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং যেকোনো দেশে ব্যবহার করা যায়।
- ২. **গাণিতিক সরলতা:** অনুপাত আকারে প্রকাশ হওয়ায় গাণিতিক পরিমাপের ক্ষেত্রে অনেক সরল ও নির্ভুল।
- ৩. **সংকোচনের স্বাধীনতা:** মানচিত্রটি ছোট বা বড় করা হলেও R.F. স্কেলের মাধ্যমে অনুপাত সর্বদা বজায় থাকে।
খ) একটি অসুবিধা (Disadvantage):
- ১. রৈখিক স্কেলের মতো মানচিত্রে এটি সরাসরি দূরত্ব পরিমাপের জন্য ব্যবহার করা যায় না; সবসময় গণনা বা রৈখিক স্কেলের মাধ্যমে পরিবর্তন করে নিতে হয়।
৭. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের চারটি ব্যবহার উল্লেখ করো এবং ভূমিরূপ প্রদর্শনে কন্টুর রেখার গুরুত্ব লেখো। (৩+২)
✅ উত্তর:
ক) টোপোশিটের ব্যবহার:
- ১. **নকশা তৈরি:** রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ বা সেচ খালের মতো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পগুলির নকশা তৈরিতে এটি অপরিহার্য।
- ২. **সামরিক পরিকল্পনা:** শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে এটি সাহায্য করে।
- ৩. **প্রশাসনিক সীমানা:** আন্তর্জাতিক, রাজ্য ও জেলার সীমানা চিহ্নিত করতে এর ব্যবহার হয়।
- ৪. **ভূমি ব্যবহার:** কোনো অঞ্চলের ভূমি ব্যবহার (কৃষি, বন, বসতি) বিশ্লেষণ করা যায়।
খ) কন্টুর রেখার গুরুত্ব (Importance of Contours):
- ১. **উচ্চতা:** কন্টুর রেখাগুলি সমুদ্র সমতল থেকে স্থানের সঠিক উচ্চতা নির্ভুলভাবে নির্দেশ করে।
- ২. **ভূমির ঢাল:** কন্টুর রেখাগুলি যত কাছাকাছি থাকে, ভূমির ঢাল তত বেশি হয়। এর মাধ্যমে মালভূমি, সমভূমি বা পর্বত সহজে চেনা যায়।
৮. সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় দূর সংবেদনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো এবং সেন্সর কাকে বলে তা বুঝিয়ে দাও। (৩+২)
✅ উত্তর:
ক) সক্রিয় (Active) ও নিষ্ক্রিয় (Passive) সেন্সরের পার্থক্য:
| বিষয় | নিষ্ক্রিয় সেন্সর | সক্রিয় সেন্সর |
|---|---|---|
| শক্তির উৎস | সূর্যের আলো বা পৃথিবী থেকে বিকিরিত শক্তির ওপর নির্ভরশীল। | নিজস্ব শক্তির উৎস (রাডার) থাকে। |
| কাজের সময় | রাত্রি বা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে না। | যে কোনো সময় (দিনে বা রাতে) কাজ করতে পারে। |
| উদাহরণ | ক্যামেরা, স্ক্যানার। | রাডার, লাইডার। |
খ) সেন্সর (Sensor) কী:
- সংজ্ঞা: যে যন্ত্র তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ গ্রহণ করে বা নির্গত করে দূর সংবেদনের তথ্য সংগ্রহ করে, তাকে সেন্সর বলে। এটিই দূর সংবেদনের মূল যন্ত্র।
৯. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত চারটি প্রধান রং কী নির্দেশ করে এবং দুটি প্রচলিত প্রতীকের নাম লেখো। (৩+২)
✅ উত্তর:
ক) চারটি প্রধান রং-এর নির্দেশক:
- **বাদামী (Brown):** সমোন্নতি রেখা, টিলা, বালিয়াড়ি।
- **সবুজ (Green):** বনভূমি, সংরক্ষিত অরণ্য, গাছপালা।
- **নীল (Blue):** নদী, খাল, বিল, পুকুর সহ সমস্ত ধরনের জলভাগ।
- **লাল (Red):** বসতি, পাকা রাস্তা, গ্রিড লাইন।
খ) দুটি প্রচলিত প্রতীক (Conventional Signs):
- ১. **মন্দির:** লাল রং-এর চূড়া আকৃতির প্রতীক।
- ২. **পাকা রাস্তা:** লাল রং-এর দুটি সমান্তরাল রেখা।
১০. GIS এবং GPS-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো এবং এদের প্রধান দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো। (৩+২)
✅ উত্তর:
ক) GIS ও GPS-এর পার্থক্য:
- **GIS (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা):** এটি ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও মানচিত্র আকারে উপস্থাপনের একটি শক্তিশালী কম্পিউটার সিস্টেম।
- **GPS (বিশ্ব অবস্থান নির্ণায়ক ব্যবস্থা):** এটি কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সঠিক অবস্থান (অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা) নির্ণয়ের একটি ব্যবস্থা।
খ) প্রধান দুটি ব্যবহার:
- ১. **পরিবহন (GPS):** বিমান, জাহাজ, গাড়ি ইত্যাদির অবস্থান নির্ভুলভাবে জানা এবং নেভিগেশনে সাহায্য করে।
- ২. **পরিকল্পনা (GIS):** পৌর-পরিকল্পনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মডেলিং-এর জন্য GIS অপরিহার্য।
১১. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ভূমির উচ্চতা প্রদর্শনের তিনটি পদ্ধতি এবং দুটি বসতি বিন্যাস ব্যাখ্যা করো। (৩+২)
✅ উত্তর:
ক) ভূমির উচ্চতা প্রদর্শনের পদ্ধতি:
- ১. **সমোন্নতি রেখা (Contour Lines):** একই উচ্চতার স্থানগুলিকে যোগ করে টানা রেখা। এটি ভূমির ঢালও নির্দেশ করে।
- ২. **স্পট হাইট (Spot Height):** মানচিত্রে একটি বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করে স্থানের সঠিক উচ্চতা সংখ্যায় লেখা হয়।
- ৩. **ট্রিগনোমেট্রিক্যাল স্টেশন:** সর্বোচ্চ চূড়া বা শৃঙ্গের উচ্চতাকে ছোট ত্রিভুজের মাধ্যমে দেখানো হয়।
খ) দুটি বসতি বিন্যাস:
- ১. **রৈখিক বসতি (Linear):** নদী, খাল বা প্রধান রাস্তার দুপাশ বরাবর ঘরবাড়ি সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠলে।
- ২. **পুঞ্জীভূত বসতি (Nucleated):** জলের উৎস বা বাজারের মতো সুবিধা কেন্দ্রকে ঘিরে ঘরবাড়ি জমাট বেঁধে থাকলে।
১২. উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে দূর সংবেদনের মূল নীতি বা প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো। (৫)
✅ উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
- **১. শক্তির উৎস:** সূর্য থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণই হলো মূল শক্তির উৎস।
- **২. বস্তুর সাথে মিথস্ক্রিয়া:** এই শক্তি ভূ-পৃষ্ঠে এসে বস্তু দ্বারা প্রতিফলিত, শোষিত বা নির্গত হয়। প্রতিটি বস্তুর প্রতিফলনের ধরন ভিন্ন।
- **৩. সেন্সরের মাধ্যমে গ্রহণ:** উপগ্রহের প্ল্যাটফর্মে থাকা সেন্সর ওই প্রতিফলিত বা নির্গত শক্তিকে গ্রহণ করে।
- **৪. ডেটা রেকর্ডিং:** সেন্সর গৃহীত শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে উপগ্রহে রেকর্ড করে।
- **৫. ডেটা ট্রান্সমিশন:** উপগ্রহ সেই তথ্য পৃথিবীতে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায়।
- **৬. প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণ:** প্রাপ্ত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপগ্রহ চিত্রে রূপান্তরিত হয়।
[attachment_0](attachment)
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন: ৫ নম্বর প্রস্তুতি (FAQ) 🎓
অধ্যায়: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র (মূল ভাব)
১. উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: উপগ্রহ চিত্র হলো সেন্সর দ্বারা তোলা আলোকচিত্র, যা তাৎক্ষণিক তথ্য দেয় এবং পিক্সেল দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে, ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র হলো জরিপভিত্তিক প্রতীকযুক্ত রেখাচিত্র, যা তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং নির্দিষ্ট স্কেলে তৈরি হয়।
২. Geostationary এবং Sun-synchronous উপগ্রহের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: Geostationary উপগ্রহগুলি প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় পৃথিবীর সাথে একই গতিতে ঘোরে এবং যোগাযোগ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু Sun-synchronous উপগ্রহগুলি মেরু বরাবর কম উচ্চতায় ঘোরে এবং পৃথিবীর সমস্ত অংশের অনুসন্ধান ও ছবি তোলে।
৩. দূর সংবেদনের (Remote Sensing) দুটি প্রধান সুবিধা ও দুটি অসুবিধা কী?
✅ উত্তর: সুবিধা: ১) দুর্গম অঞ্চলের তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়। ২) সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়। অসুবিধা: ১) উপগ্রহ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। ২) তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য উচ্চ দক্ষতার প্রয়োজন।
৪. উপগ্রহ চিত্রে ব্যবহৃত চারটি রেজোলিউশনের নাম কী?
✅ উত্তর: উপগ্রহ চিত্রে ব্যবহৃত চারটি প্রধান রেজোলিউশন হলো: ১) স্পেশিয়াল রেজোলিউশন (Spatial), ২) স্পেকট্রাল রেজোলিউশন (Spectral), ৩) টেম্পোরাল রেজোলিউশন (Temporal) এবং ৪) রেডিওমেট্রিক রেজোলিউশন (Radiometric)।
৫. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ভূমির উচ্চতা কীভাবে দেখানো হয়?
✅ উত্তর: ভূমির উচ্চতা তিনটি প্রধান উপায়ে দেখানো হয়: ১) **সমোন্নতি রেখা** (Contours), ২) **স্পট হাইট** (Spot Height), এবং ৩) **ট্রিগনোমেট্রিক্যাল স্টেশন**।