বিভাগ-গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বায়ুমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-২১
১. বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) কাকে বলে?
✅ উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে আবর্তিত হচ্ছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। এটি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
২. এরোসল (Aerosol) কী? [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কঠিন ও তরল কণা (যেমন- ধূলিকণা, ধোঁয়া, লবণকণা, পরাগরেণু)-কে একত্রে এরোসল বলে। এগুলি মেঘ ও কুয়াশা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
৩. ট্রপোস্ফিয়ারকে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোস্ফিয়ারে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এর ফলে এই স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ, বজ্রপাত প্রভৃতি আবহাওয়ার গোলযোগ বা অশান্ত অবস্থা দেখা যায়। তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে।
৪. স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে ‘শান্তমণ্ডল’ বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই এখানে মেঘ, ঝড় বা বৃষ্টি হয় না এবং বায়ুপ্রবাহও শান্ত থাকে। একারণেই একে শান্তমণ্ডল বলে। এই স্তরে জেট বিমান চলাচল করে।
৫. ওজোন স্তর (Ozone Layer) বা ওজোনস্ফিয়ার-এর গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত এই স্তরটি সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। তাই একে ‘পৃথিবীর ছাতা’ বা ‘প্রাকৃতিক সৌরপর্দা’ বলা হয়।
৬. হোমোস্ফিয়ার ও হেটারোস্ফিয়ার বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: হোমোস্ফিয়ার (সমমণ্ডল): ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলির অনুপাত প্রায় একই থাকে, তাই একে হোমোস্ফিয়ার বলে।
হেটারোস্ফিয়ার (বিষমমণ্ডল): ৯০ কিমি থেকে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত স্তরে গ্যাসগুলির অনুপাত এবং ঘনত্ব আলাদা হয়, তাই একে হেটারোস্ফিয়ার বলে।
৭. ইনসোলেশন (Insolation) কাকে বলে?
✅ উত্তর: সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত তাপশক্তির যে সামান্য অংশ (২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ) ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় এবং পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে, তাকে ইনসোলেশন বা আগত সৌর বিকিরণ বলে।
৮. কার্যকরী সৌর বিকিরণ (Effective Solar Radiation) কী?
✅ উত্তর: পৃথিবীতে আগত মোট সৌরশক্তির ৩৪% মহাশূন্যে ফিরে যায়। বাকি ৬৬% সৌরশক্তি বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে এবং উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ করে। এই ৬৬% শক্তিকেই কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলে।
৯. অ্যালবেডো (Albedo) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: সূর্য থেকে আগত তাপশক্তির যে অংশ (প্রায় ৩৪%) বায়ুমণ্ডল বা ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত না করেই মেঘপুঞ্জ, ধূলিকণা ও বরফাবৃত অঞ্চল দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো বা ‘নিষ্ক্রিয় সৌরতাপ’ বলে।
১০. বৈপরীত্য উত্তাপ (Inversion of Temperature) কাকে বলে? [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: সাধারণ নিয়মে উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে। কিন্তু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন- পার্বত্য উপত্যকায় শান্ত ও পরিষ্কার রাতে) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা না কমে বরং বেড়ে যায়। উষ্ণতার এই বিপরীত আচরণকে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।
১১. ক্যাটাবেটিক (Katabatic) ও অ্যানাবেটিক (Anabatic) বায়ুর পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: ক্যাটাবেটিক: রাতে পর্বতের ঢাল বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচে নেমে আসে।
অ্যানাবেটিক: দিনের বেলা সূর্যতাপে উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়।
১২. স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার (Normal Lapse Rate) কী?
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে উঠলে প্রতি ১০০০ মিটার বা ১ কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৪°C হারে তাপমাত্রা কমে যায়। একেই স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার বা Normal Lapse Rate বলে।
১৩. সমউষ্ণরেখা (Isotherm) কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী?
✅ উত্তর: ভূপৃষ্ঠের সমান উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমউষ্ণরেখা বলে।
বৈশিষ্ট্য: এগুলি সাধারণত অক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত থাকে। জলভাগ ও স্থলভাগের সংযোগস্থলে এগুলি বেঁকে যায়।
১৪. তাপ বিষুবরেখা (Heat Equator) কাকে বলে?
✅ উত্তর: পৃথিবীর প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার সর্বোচ্চ উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে যোগ করলে যে অনিয়মিত কাল্পনিক রেখা পাওয়া যায়, তাকে তাপ বিষুবরেখা বলে। এটি ভৌগোলিক বিষুবরেখার (০°) কিছুটা উত্তরে অবস্থান করে।
১৫. ওজোন গহ্বর বা হোল (Ozone Hole) কী?
✅ উত্তর: বায়ুদূষণ এবং CFC গ্যাসের প্রভাবে স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তরের ঘনত্ব কমে গিয়ে (২০০ ডবসন ইউনিটের নিচে) যে ছিদ্র বা ফাঁকা অংশের সৃষ্টি হয়, তাকে ওজোন গহ্বর বলে। এটি আন্টার্কটিকা মহাদেশের ওপর প্রথম আবিষ্কৃত হয়।
১৬. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে?
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির ($CO_2, CH_4, CFC$) পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে বিগত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
১৭. গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি কী কী? এদের উৎস কী?
✅ উত্তর: প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$), মিথেন ($CH_4$), নাইট্রাস অক্সাইড ($N_2O$) এবং ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ($CFC$)।
উৎস: জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, অরণ্য ধ্বংস, পচা জলাভূমি এবং রেফ্রিজারেটর বা এসি থেকে এগুলি নির্গত হয়।
১৮. তাপ বাজেট (Heat Budget) কী?
✅ উত্তর: সূর্য থেকে আসা তাপশক্তি (আগমন) এবং পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপশক্তির (নির্গমন) মধ্যে যে ভারসাম্য বজায় থাকে, যার ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা স্থির থাকে, তাকে পৃথিবীর তাপ বাজেট বা তাপের সমতা বলে।
১৯. ট্রপোপজ (Tropopause) ও স্ট্রাটোপজ (Stratopause)-এর অবস্থান লেখো।
✅ উত্তর: ট্রপোপজ: ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের সংযোগস্থলে (প্রায় ১২-১৮ কিমি উঁচুতে)। এখানে উষ্ণতা স্থির থাকে।
স্ট্রাটোপজ: স্ট্রাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ারের সংযোগস্থলে (প্রায় ৫০ কিমি উঁচুতে)।
২০. আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: ১) এই স্তরে গ্যাসীয় কণাগুলি আয়নিত অবস্থায় থাকে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেয়। ফলে বেতার যোগাযোগ সম্ভব হয়।
২) এই স্তরেই মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) সৃষ্টি হয়।
২১. দৈনিক উষ্ণতার প্রসর (Diurnal Range of Temperature) কাকে বলে?
✅ উত্তর: কোনো স্থানের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং ওই দিনেরই সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে দৈনিক উষ্ণতার প্রসর বলে। মরু অঞ্চলে এই প্রসর সবচেয়ে বেশি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সবচেয়ে কম।
বিভাগ-গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-২)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বায়ুমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ২২-৪২
২২. সমচাপ রেখা বা আইসোবার (Isobar) কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর: ভূপৃষ্ঠের সমান বায়ুচাপযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমচাপ রেখা বলে।
বৈশিষ্ট্য: ১) এগুলি সাধারণত চক্রাকারে অবস্থান করে। ২) কাছাকাছি রেখাগুলির চাপের পার্থক্য বেশি হলে ঝড়ের সম্ভাবনা থাকে।
২৩. কোরিওলিস বল (Coriolis Force) কী?
✅ উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে ভূপৃষ্ঠে যে বিচ্ছুরণ বলের সৃষ্টি হয়, যা বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোতকে সোজাপথে প্রবাহিত হতে না দিয়ে দিকবিক্ষিপ্ত করে, তাকে কোরিওলিস বল বলে। বিজ্ঞানী জি. জি. কোরিওলিস এটি আবিষ্কার করেন।
২৪. ফেরেলের সূত্রটি (Ferrel’s Law) বিবৃত করো। [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের জন্য সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটিই ফেরেলের সূত্র।
২৫. বাইস ব্যালট সূত্রটি (Buys Ballot’s Law) কী?
✅ উত্তর: ১৮৫৭ সালে ওলন্দাজ আবহবিদ বাইস ব্যালট বলেন—উত্তর গোলার্ধে বাতাসের গতির দিকে পিঠ করে দাঁড়ালে, ডানদিকের চেয়ে বামদিকে বায়ুর চাপ কম অনুভূত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত ঘটে।
২৬. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: উভয় গোলার্ধে ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় অবস্থিত। এখানে বায়ুপ্রবাহ প্রায় থাকে না বললেই চলে (শান্ত বলয়)। প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজগুলি এই অঞ্চলে আটকা পড়লে নাবিকরা ভার কমাতে ঘোড়াগুলিকে সমুদ্রে ফেলে দিত। তাই একে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
২৭. আই.টি.সি.জেড (ITCZ) কী? [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: ITCZ বা Inter Tropical Convergence Zone (আন্তঃক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল) হলো নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সেই অঞ্চল যেখানে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু মিলিত হয়। এখানে বায়ুপ্রবাহ অনিয়মিত এবং শান্ত থাকে, তাই একে ‘নিরক্ষীয় শান্তবলয়’ বা ‘Doldrums’ বলা হয়।
২৮. গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) কাকে বলে?
✅ উত্তর: দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে স্থলভাগ খুব কম থাকায় পশ্চিমা বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর এই বায়ুর প্রচণ্ড গর্জনকে ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ বলা হয়।
২৯. স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: ১) সময়: সমুদ্রবায়ু দিনের বেলা (বিকেলে) প্রবাহিত হয়, আর স্থলবায়ু রাতের বেলা (ভোররাতে) প্রবাহিত হয়।
২) দিক: সমুদ্রবায়ু সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে, আর স্থলবায়ু স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়।
৩০. মৌসুমি বায়ুকে ‘সাময়িক বায়ু’ বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: মৌসুমি বায়ু সারা বছর ধরে প্রবাহিত হয় না। এটি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মকালে এটি সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে এবং শীতকালে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হয় বলেই একে সাময়িক বায়ু বলে।
৩১. চিনুক (Chinook) ও লু (Loo) কী?
✅ উত্তর: চিনুক: উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্ব ঢাল বেয়ে নিচে নামা একপ্রকার উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু। একে ‘তুষার ভক্ষক’ বলা হয়।
লু: গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমি অঞ্চলে প্রবাহিত অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু।
৩২. এল নিনো (El Nino) ও লা নিনা (La Nina) কী?
✅ উত্তর: এল নিনো: প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূল দিয়ে প্রবাহিত একপ্রকার অনিয়মিত উষ্ণ সমুদ্রস্রোত, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায় এবং ভারতে খরা সৃষ্টি করে।
লা নিনা: এটি এল নিনোর বিপরীত অবস্থা, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের জল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা হয় এবং ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৩৩. ঘূর্ণবাতের চক্ষু (Eye of Cyclone) কাকে বলে?
✅ উত্তর: শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের ঠিক কেন্দ্রে ১০-২০ কিমি ব্যাসযুক্ত একটি শান্ত অঞ্চল থাকে, যেখানে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে এবং বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে। এই অঞ্চলকে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে।
৩৪. প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone) কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী?
✅ উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশে বা শীতপ্রধান দেশে যখন বায়ুমণ্ডলের কোনো কেন্দ্রে উচ্চচাপ এবং বাইরে নিম্নচাপ বিরাজ করে, তখন কেন্দ্র থেকে বাতাস বাইরের দিকে কুন্ডলাকারে বেরিয়ে যায়। একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে।
বৈশিষ্ট্য: এতে আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে।
৩৫. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) কাকে বলে? [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং ওই একই উষ্ণতায় ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এটি শতকরায় (%) প্রকাশ করা হয়।
৩৬. সম্পৃক্ত বায়ু কাকে বলে? শিশিরাঙ্ক কী?
✅ উত্তর: সম্পৃক্ত বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছালে তাকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে (আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০%)。
শিশিরাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় কোনো বায়ু সম্পৃক্ত হয় এবং জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশিরে পরিণত হতে শুরু করে, তাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
৩৭. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) কীভাবে হয়?
✅ উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহপথে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমিতে বাধা পেলে, সেই বায়ু পর্বতের গা বেয়ে ওপরে ওঠে। ওপরে উঠে বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward side) যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে। (যেমন- চেরাপুঞ্জির বৃষ্টি)।
৩৮. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Area) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির পর বায়ু যখন পর্বতের অপর ঢাল বা অনুবাত ঢাল (Leeward side) দিয়ে নিচে নামে, তখন তাতে জলীয় বাষ্প কমে যায় এবং উষ্ণতা বাড়ায় ঘনীভবন হয় না। ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
উদাহরণ: পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে অবস্থিত পুনে বা শিলং মালভূমি।
৩৯. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) কাকে বলে? এটি কোথায় দেখা যায়?
✅ উত্তর: প্রবল সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় এবং শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।
এটি মূলত নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে (4’o clock rain) দেখা যায়।
৪০. সমবর্ষণ রেখা (Isohyet) কাকে বলে?
✅ উত্তর: ভূপৃষ্ঠের সমান বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
৪১. ধোঁয়াশা (Smog) কী? এর ক্ষতিকর প্রভাব কী?
✅ উত্তর: ধোঁয়া (Smoke) এবং কুয়াশা (Fog)-এর মিশ্রিত রূপ হলো ধোঁয়াশা। শিল্পাঞ্চল বা শহরের দূষিত ধোঁয়া কুয়াশার সাথে মিশে এটি তৈরি করে।
প্রভাব: এটি দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়, শ্বাসকষ্ট ও চোখের জ্বালা সৃষ্টি করে।
৪২. জেট বায়ুপ্রবাহ (Jet Stream) কী?
✅ উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বস্তরে (৯-১২ কিমি উচ্চতায়) পশ্চিম থেকে পূর্বে সর্পিলাকার পথে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে (৩০০-৪০০ কিমি/ঘণ্টা) প্রবাহিত প্রবল বায়ুপ্রবাহকে জেট স্ট্রিম বলে। এটি আবহাওয়া ও মৌসুমি বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বায়ুমণ্ডল (সংক্ষিপ্ত)
প্রশ্ন: এরোসল (Aerosol) কী?
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কঠিন (যেমন- ধূলিকণা, বালি, লবণকণা) এবং তরল কণাগুলিকে একত্রে এরোসল বলে। এগুলি জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত করে মেঘ ও বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে এবং আকাশের নীল রঙের জন্য দায়ী।
প্রশ্ন: ইনসোলেশন ও অ্যালবেডোর মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ উত্তর: ইনসোলেশন হলো সূর্য থেকে আসা মোট সৌরশক্তি যা পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে। অন্যদিকে, অ্যালবেডো হলো ইনসোলেশনের সেই অংশ (৩৪%), যা পৃথিবীকে স্পর্শ করার আগেই মেঘ বা বায়ুমণ্ডল দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়।
প্রশ্ন: ফেরেলের সূত্রটি কী?
✅ উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটিই ফেরেলের সূত্র।
[attachment_0](attachment)
প্রশ্ন: ঘূর্ণবাতের চক্ষু কাকে বলে?
✅ উত্তর: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের (যেমন- সাইক্লোন, আমফান) ঠিক কেন্দ্রে একটি বৃত্তাকার শান্ত অঞ্চল থাকে যেখানে ঝড়-বৃষ্টি হয় না এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে। একে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে। এখানে বায়ুর চাপ সর্বনিম্ন থাকে।
প্রশ্ন: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কোথায় হয়?
✅ উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো পর্বতে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঘনীভূত হলে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে। পর্বতের অপর পাশ বা অনুবাত ঢালে বৃষ্টি কম হওয়ায় তা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়।