দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – 2 ‘বায়ুমন্ডল’
বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-১)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বায়ুমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৪২ | পূর্ণমান: ৩
১. ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]
| বিষয় | ট্রপোস্ফিয়ার | স্ট্রাটোস্ফিয়ার |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর (ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২-১৮ কিমি)। | এটি ট্রপোপজের ওপর থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। |
| ২. উষ্ণতা | উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে (Lapse Rate)। | উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা বাড়ে (ওজোন স্তরের জন্য)। |
| ৩. বৈশিষ্ট্য | ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ হয় বলে একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে। | আবহাওয়া শান্ত থাকে বলে একে শান্তমণ্ডল বলে। |
২. ওজোন স্তর কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং এর গুরুত্ব কী?
সৃষ্টি: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ($UV$) প্রভাবে অক্সিজেন অণু ($O_2$) ভেঙে পরমাণুতে ($O$) পরিণত হয়। পরে এই পরমাণু আবার অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হয়ে ওজোন ($O_3$) গঠন করে।
$O_2 \xrightarrow{UV} O + O$
$O_2 + O \rightarrow O_3$
গুরুত্ব: এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে চর্মরোগ ও ক্যানসার থেকে রক্ষা করে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩. ওজোন গহ্বর বা ওজোন হোল সৃষ্টির কারণগুলি আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]
ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণগুলি হলো:
- CFC গ্যাস: রেফ্রিজারেটর, এসি ও স্প্রে ক্যান থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ($CFC$) স্ট্রাটোস্ফিয়ারে গিয়ে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত করে, যা ওজোনকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে।
- নাইট্রোজেন অক্সাইড: সুপারসনিক বিমান ও রকেটের ধোঁয়া থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO, NO_2$) ওজোন অণুকে ভেঙে দেয়।
- হ্যালন গ্যাস: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হ্যালন গ্যাসও ওজোন ধ্বংসে ভূমিকা রাখে।
৪. বৈপরীত্য উত্তাপ (Inversion of Temperature) কাকে বলে? এটি কীভাবে ঘটে?
সংজ্ঞা: সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে, উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা না কমে বরং বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।
ঘটার পদ্ধতি: শীতকালে পার্বত্য উপত্যকায় রাতে মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে, ওপরের অংশের বাতাস দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ভারী ও শীতল হয় এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচে নেমে আসে (ক্যাটাবেটিক বায়ু)। ফলে উপত্যকার নিচে ঠান্ডা বাতাস এবং ওপরে গরম বাতাস অবস্থান করে।
[attachment_0](attachment)
৫. তাপ বিষুবরেখা (Heat Equator) বলতে কী বোঝো? এটি ভৌগোলিক বিষুবরেখার সাথে মিলে না কেন?
সংজ্ঞা: পৃথিবীর প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার সর্বোচ্চ উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে যোগ করলে যে অনিয়মিত কাল্পনিক রেখা পাওয়া যায়, তাকে তাপ বিষুবরেখা বলে। এর গড় উষ্ণতা প্রায় ৩০°C।
অবস্থান: উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি থাকায় তা জলভাগের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়। তাই তাপ বিষুবরেখাটি ভৌগোলিক বিষুবরেখার (০°) উত্তরে সরে গিয়ে অবস্থান করে এবং এটি সোজা না হয়ে আঁকাবাঁকা হয়।
৬. অ্যালবেডো (Albedo) কী? পৃথিবীর তাপের সমতা বা ‘তাপ বাজেট’ কীভাবে রক্ষিত হয়?
অ্যালবেডো: সূর্য থেকে আসা মোট তাপশক্তির (ইনসোলেশন) প্রায় ৩৪% বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করেই মেঘ, ধূলিকণা ও বরফ দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। একে অ্যালবেডো বলে।
তাপ বাজেট: বাকি ৬৬% তাপ (কার্যকরী সৌর বিকিরণ) পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে। আবার রাতে এই ৬৬% তাপই দীর্ঘ তরঙ্গরূপে পৃথিবী থেকে বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায় (পার্থিব বিকিরণ)। ফলে আগত ও নির্গত তাপের পরিমাণ সমান হয় এবং পৃথিবীর গড় উষ্ণতা স্থির থাকে।
[attachment_1](attachment)
৭. সমউষ্ণরেখার বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
১) এগুলি সাধারণত পূর্ব-পশ্চিমে অক্ষরেখার সমান্তরালে বিস্তৃত থাকে।
২) জলভাগ ও স্থলভাগের সংযোগস্থলে উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে এগুলি হঠাৎ বেঁকে যায়।
৩) দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় রেখাগুলি প্রায় সোজা হয়, কিন্তু উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের প্রভাবে বেশি আঁকাবাঁকা হয়।
৪) শীতকালে রেখাগুলি নিরক্ষরেখার দিকে এবং গ্রীষ্মকালে মেরুর দিকে সরে যায়।
৮. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর তিনটি প্রভাব আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০২০]
১) জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার ফলে আবহাওয়ার চরমভাব দেখা দিচ্ছে। খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দাবানলের প্রকোপ বাড়ছে।
২) সমুদ্রতল বৃদ্ধি: মেরু অঞ্চল ও হিমবাহের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বাড়ছে। ফলে মালদ্বীপ, সুন্দরবনের মতো নিচু এলাকাগুলি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৩) জীববৈচিত্র্য বিনাশ: অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী (যেমন- মেরু ভাল্লুক, প্রবাল প্রাচীর) তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে বিলুপ্ত হচ্ছে।
৯. ইনসোলেশন (Insolation) বা আগত সৌর বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের কারণগুলি কী কী?
পৃথিবীর সব জায়গায় ইনসোলেশন সমান হয় না। এর নিয়ন্ত্রকগুলি হলো:
১) সূর্যরশ্মির পতন কোণ: লম্বভাবে পড়া রশ্মি (নিরক্ষরেখায়) বেশি তাপ দেয়, কিন্তু তির্যক রশ্মি (মেরুতে) কম তাপ দেয়।
২) দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: দিন বড় হলে ইনসোলেশন বেশি হয়।
৩) বায়ুমণ্ডলের স্বচ্ছতা: মেঘ, ধূলিকণা বা কুয়াশা থাকলে ইনসোলেশন বাধা পায়।
১০. আয়নোস্ফিয়ার বা থার্মোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো।
বৈশিষ্ট্য: ১) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা খুব দ্রুত বাড়ে (১২০০°C পর্যন্ত)। ২) এখানকার বায়ু আয়নিত অবস্থায় থাকে।
গুরুত্ব: ১) বেতার তরঙ্গ প্রতিফলন: এই স্তরের আয়নিত কণা বেতার তরঙ্গকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেয়, ফলে রেডিও যোগাযোগ সম্ভব হয়। ২) মেরুজ্যোতি: এখানেই সুমেরু প্রভা ও কুমেরু প্রভা (Aurora) দেখা যায়।
১১. বায়ুচাপের তারতম্যের প্রধান তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
১) উষ্ণতা: বায়ু উষ্ণ হলে হালকা হয়ে ওপরে ওঠে, ফলে চাপ কমে (নিম্নচাপ)। শীতল বায়ু ভারী, তাই চাপ বাড়ে (উচ্চচাপ)।
২) উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ওপরে উঠলে বায়ুর ঘনত্ব কমে, তাই চাপও কমে (প্রতি ৩০০ মিটারে ৩৪ মিলিবার)।
৩) জলীয় বাষ্প: জলীয় বাষ্প বাতাসের চেয়ে হালকা। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়লে বায়ুর চাপ কমে যায় (বর্ষাকালে নিম্নচাপ হয়)।
১২. ফেরেলের সূত্র (Ferrel’s Law) ও বাইস ব্যালট সূত্র (Buys Ballot’s Law) সম্পর্কে লেখো।
ফেরেলের সূত্র: পৃথিবীর আবর্তনের (কোরিওলিস বল) প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ সোজাপথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
বাইস ব্যালট সূত্র: উত্তর গোলার্ধে বাতাসের গতির দিকে পিঠ করে দাঁড়ালে, ডানদিকের চেয়ে বামদিকে বায়ুর চাপ কম অনুভূত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত ঘটে। এই সূত্রের সাহায্যে বায়ুর চাপের অবস্থান বোঝা যায়।
১৩. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) কী? এর নামকরণের কারণ কী?
উভয় গোলার্ধে ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষাংশের মধ্যে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় অবস্থিত। এখানে বায়ু ওপর থেকে নিচে নামে, তাই ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ুপ্রবাহ থাকে না (শান্ত অবস্থা)।
কারণ: প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজগুলি আটলান্টিক মহাসাগরের এই অঞ্চলে এসে বাতাসের অভাবে গতিহীন হয়ে পড়ত। তখন পানীয় জল ও খাবার বাঁচানোর জন্য নাবিকরা জাহাজের ঘোড়াগুলিকে সমুদ্রে ফেলে দিত। তাই এই অংশের নাম ‘অশ্ব অক্ষাংশ’।
[attachment_2](attachment)
১৪. আই.টি.সি.জেড (ITCZ) বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল কী?
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে উত্তর গোলার্ধের উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু এসে মিলিত হয় বা অভিসারী হয়। এই মিলনস্থলকে ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone) বলে। এখানে বায়ু সোজা ওপরে উঠে যায় বলে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ থাকে না, তাই একে ‘নিরক্ষীয় শান্তবলয়’ বা ‘Doldrums’ বলা হয়।
বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-২)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বায়ুমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ১৫-২৮ | পূর্ণমান: ৩
১৫. সমচাপ রেখার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৭]
১) অবস্থান: এগুলি মানচিত্রে বক্রাকারে অবস্থান করে এবং সাধারণত পরস্পরকে ছেদ করে না।
২) ঢাল: সমচাপ রেখাগুলি কাছাকাছি থাকলে বায়ুর চাপের ঢাল খাড়া হয় (ঝড়ের সম্ভাবনা), আর দূরে থাকলে ঢাল মৃদু হয় (শান্ত আবহাওয়া)।
৩) একক: এগুলি মিলিবার (mb) এককে অঙ্কন করা হয়।
৪) চাপ কেন্দ্র: বৃত্তাকার সমচাপ রেখার কেন্দ্রে উচ্চচাপ (‘H’) বা নিম্নচাপ (‘L’) থাকতে পারে।
[attachment_0](attachment)
১৬. স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৮]
| বিষয় | স্থলবায়ু | সমুদ্রবায়ু |
|---|---|---|
| ১. সময় | রাতের বেলা (মূলত ভোররাতে) প্রবাহিত হয়। | দিনের বেলা (বিকেল ও সন্ধ্যায়) প্রবাহিত হয়। |
| ২. দিক | স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। | সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। |
| ৩. প্রকৃতি | এটি শুষ্ক প্রকৃতির হয়। | এটি আর্দ্র ও স্বাস্থ্যকর হয়। |
১৭. মৌসুমি বায়ুর ওপর ‘এল নিনো’-র প্রভাব কী?
এল নিনো (El Nino) হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূল দিয়ে প্রবাহিত এক উষ্ণ সমুদ্রস্রোত। এটি ২-৭ বছর অন্তর দেখা দেয়।
- মৌসুমি বায়ুর দুর্বলতা: এল নিনো বছরগুলিতে ভারত মহাসাগরের ওপর উচ্চচাপ বিরাজ করে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে।
- খরা: এর প্রভাবে ভারতে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং খরার সৃষ্টি হয়।
১৮. ক্যাটাবেটিক ও অ্যানাবেটিক বায়ুর পার্থক্য লেখো।
| বিষয় | ক্যাটাবেটিক বায়ু | অ্যানাবেটিক বায়ু |
|---|---|---|
| ১. সময় | রাতের বেলা প্রবাহিত হয়। | দিনের বেলা প্রবাহিত হয়। |
| ২. গতিপথ | পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপর থেকে নিচে নামে। | পর্বতের ঢাল বেয়ে নিচ থেকে ওপরে ওঠে। |
| ৩. প্রকৃতি | এটি শীতল ও ভারী বায়ু (Mountain Breeze)। | এটি উষ্ণ ও হালকা বায়ু (Valley Breeze)। |
১৯. ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য কী? [মাধ্যমিক ২০১৯]
| বিষয় | ঘূর্ণবাত (Cyclone) | প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone) |
|---|---|---|
| ১. চাপ | কেন্দ্রে নিম্নচাপ, বাইরে উচ্চচাপ। | কেন্দ্রে উচ্চচাপ, বাইরে নিম্নচাপ। |
| ২. বায়ুপ্রবাহ | বায়ু বাইরে থেকে কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। | বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়। |
| ৩. আবহাওয়া | আকাশ মেঘলা থাকে, ঝড়-বৃষ্টি হয়। | আকাশ নির্মল থাকে, শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে। |
২০. ‘জেট বায়ুপ্রবাহ’ (Jet Stream) কী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
সংজ্ঞা: ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বস্তরে (৯-১২ কিমি উচ্চতায়) পশ্চিম থেকে পূর্বে সর্পিলাকার পথে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রবাহিত বায়ুপ্রবাহকে জেট স্ট্রিম বলে।
বৈশিষ্ট্য: ১) এর গতিবেগ ৩০০-৪০০ কিমি/ঘণ্টা। ২) এটি মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন নিয়ন্ত্রণ করে। ৩) এটি আবহাওয়া পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
[attachment_1](attachment)
২১. চিনুক (Chinook) ও ফন (Fohn)-এর তুলনা করো।
উভয়ই উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু।
- চিনুক: উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্ব ঢাল বেয়ে নিচে নামে। এটি প্রেইরি অঞ্চলের বরফ গলিয়ে দেয় বলে একে ‘তুষার ভক্ষক’ বলে।
- ফন: ইউরোপের আল্পস পর্বতের উত্তর ঢাল বেয়ে রাইন নদীর উপত্যকায় নামে। এটি আঙুর চাষে সাহায্য করে।
২২. ঘূর্ণবাতের চক্ষু (Eye of Cyclone) বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য কী?
শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের (যেমন- সাইক্লোন, টর্নেডো) ঠিক কেন্দ্রে ১০-২০ কিমি ব্যাসযুক্ত একটি বৃত্তাকার অঞ্চল থাকে যেখানে বায়ুপ্রবাহ থাকে না। একে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে।
বৈশিষ্ট্য: ১) এখানকার আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে। ২) এখানে বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে। ৩) এর চারপাশে কিউমুলোলিম্বাস মেঘের দেওয়াল থাকে।
২৩. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) ও চরম আর্দ্রতা (Absolute Humidity)-র পার্থক্য কী?
| বিষয় | আপেক্ষিক আর্দ্রতা | চরম আর্দ্রতা |
|---|---|---|
| ১. সংজ্ঞা | নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প ও সেই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় বাষ্পের অনুপাত। | নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত যতটা পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে তার ভর। |
| ২. একক | শতকরা (%) এককে প্রকাশ করা হয়। | গ্রাম প্রতি ঘনমিটার ($g/m^3$) এককে প্রকাশ করা হয়। |
| ৩. গুরুত্ব | আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। | এর গুরুত্ব তুলনামূলক কম। |
২৪. শিশিরাঙ্ক (Dew Point) কাকে বলে? মেঘ ও কুয়াশার পার্থক্য কী?
শিশিরাঙ্ক: যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু তাতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় (RH ১০০% হয়) এবং জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হতে শুরু করে, তাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
পার্থক্য: মেঘ বায়ুমণ্ডলের ওপরে ভাসে, আর কুয়াশা ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বা কাছাকাছি ভাসে। মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়, কুয়াশা থেকে হয় না।
২৫. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) কীভাবে ঘটে?
সমুদ্র থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহপথে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমিতে বাধা পেলে, তা পর্বতের গা বেয়ে ওপরে উঠে যায়। ওপরে ওঠার ফলে বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয় এবং ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward side) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে। (যেমন- চেরাপুঞ্জি বা মৌসিনরামের বৃষ্টি)।
[attachment_2](attachment)
২৬. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Area) কেন সৃষ্টি হয়?
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির পর বায়ু যখন পর্বতের অপর ঢাল বা অনুবাত ঢাল (Leeward side) দিয়ে নিচে নামে, তখন:
১) বায়ুতে জলীয় বাষ্প খুব কম থাকে।
২) নিচে নামার ফলে বায়ু সংকুচিত ও উষ্ণ হয়, ফলে তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
এর ফলে ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় বা হয় না বললেই চলে। একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে (যেমন- শিলং)।
২৭. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি হয় কেন?
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারা বছর লম্বভাবে পড়ে, তাই এখানকার ভূপৃষ্ঠ ও জলাশয় খুব উত্তপ্ত হয়। প্রচুর জলীয় বাষ্পসহ বায়ু হালকা হয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় (পরিচলন স্রোত)। ওপরে গিয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোলিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে এবং বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তাই এখানে পরিচলন বৃষ্টি বেশি হয়।
২৮. ধোঁয়াশা (Smog) কী? এর প্রভাবগুলি লেখো।
সংজ্ঞা: শিল্পাঞ্চল বা শহরের বাতাসে ভাসমান ধোঁয়া (Smoke) এবং ধূলিকণা শীতকালে কুয়াশার (Fog) সাথে মিশে যে ঘন ও দূষিত অবস্থার সৃষ্টি করে, তাকে ধোঁয়াশা (Smog) বলে।
প্রভাব: ১) এটি দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়, ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। ২) শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চোখের জ্বালা সৃষ্টি করে। ৩) সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি করে পাথরের ক্ষতি করে।
বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-৩)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বায়ুমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ২৯-৪২ | পূর্ণমান: ৩
২৯. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]
| বিষয় | আবহাওয়া (Weather) | জলবায়ু (Climate) |
|---|---|---|
| ১. সময়কাল | এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের (১ দিন বা ১ সপ্তাহ) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা। | এটি কোনো বিশাল অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের (৩৫-৪০ বছর) আবহাওয়ার গড় অবস্থা। |
| ২. পরিবর্তনশীলতা | এটি ক্ষণে ক্ষণে বা প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। | এটি সহজে পরিবর্তিত হয় না, দীর্ঘস্থায়ী হয়। |
| ৩. পরিসর | এর পরিসর ক্ষুদ্র বা স্থানীয়। | এর পরিসর বিশাল বা মহাদেশীয়। |
৩০. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone) ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য লেখো।
| বিষয় | ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত | নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তি | উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে সৃষ্টি হয়। | স্থলভাগ ও জলভাগ—উভয় স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে। |
| ২. প্রকৃতি | এটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও প্রবল ঝড় সৃষ্টি করে। | এটি কম শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী ঝিরঝire বৃষ্টি ঘটায়। |
| ৩. চক্ষু | এর কেন্দ্রে শান্ত ‘চক্ষু’ থাকে। | এতে সাধারণত চক্ষু গঠিত হয় না। |
৩১. শিশির জমার অনুকূল পরিবেশ বা শর্তগুলি কী কী? [মাধ্যমিক ২০১৯]
শিশির জমার জন্য প্রয়োজন:
- মেঘমুক্ত আকাশ: আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হতে পারে।
- স্থির বাতাস: বায়ুপ্রবাহ শান্ত থাকলে বাতাস ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে বেশিক্ষণ থাকতে পারে এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছাতে পারে।
- উচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা: বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে শিশির জমার সম্ভাবনা বাড়ে।
- দীর্ঘ রাত্রি: রাত দীর্ঘ হলে ভূপৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করার জন্য অনেকটা সময় পায়।
৩২. নিরক্ষীয় অঞ্চলে কেন পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) হয়?
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- অধিক উষ্ণতা: ফলে এই অঞ্চলের জলভাগ ও স্থলভাগ খুব উত্তপ্ত হয়।
- জলীয় বাষ্প: সমুদ্র ও জলাশয় থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বাতাসে মেশে।
- ঊর্ধ্বগমন: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু হালকা হয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় (পরিচলন স্রোত)।
- ঘনীভবন: ওপরে উঠে বায়ু শীতল হয়, ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোলিম্বাস মেঘ তৈরি করে এবং প্রতিদিন বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
৩৩. মেঘ ও কুয়াশার মধ্যে পার্থক্য কী?
| বিষয় | মেঘ (Cloud) | কুয়াশা (Fog) |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে ট্রপোস্ফিয়ারে ভেসে বেড়ায়। | ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি বা সংলগ্ন বায়ুস্তরে সৃষ্টি হয়। |
| ২. বৃষ্টিপাত | মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। | কুয়াশা থেকে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না। |
| ৩. দৃশ্যমানতা | মেঘ দৃশ্যমানতায় খুব একটা বাধা দেয় না (উঁচুতে থাকায়)। | কুয়াশা ভূপৃষ্ঠের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয় (গাড়ি চালাতে অসুবিধা হয়)। |
৩৪. ওজোন স্তর বিনাশের বা ক্ষয়ের ফলাফলগুলি লেখো।
ওজোন স্তর পাতলা হলে অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B) সরাসরি পৃথিবীতে চলে আসে। এর প্রভাব:
- মানবদেহ: ত্বকের ক্যানসার (মেলানোমা), রোদে পোড়া দাগ (Sun burn) এবং চোখের ছানি পড়ার প্রকোপ বাড়ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে।
- উদ্ভিদ: সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয়, পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট হয় এবং ফসলের উৎপাদন কমে।
- জলজ জীবন: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও মাছের লার্ভা মারা যায়, ফলে খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩৫. জেট বায়ুপ্রবাহ (Jet Stream)-এর গুরুত্ব বা প্রভাব আলোচনা করো।
জেট স্ট্রিম আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়:
- মৌসুমি বায়ু: ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু ভারতে মৌসুমি বায়ুর আগমন বা বর্ষাকাল শুরু করতে সাহায্য করে।
- পশ্চিমা ঝঞ্ঝা: শীতকালে উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট বায়ু ভূমধ্যসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস উত্তর-পশ্চিম ভারতে নিয়ে আসে, যার ফলে পশ্চিমা ঝঞ্ঝা সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণবাত: এটি ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে।
৩৬. ভারতীয় জলবায়ুতে ‘এল নিনো’ (El Nino)-র প্রভাব কী?
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূলের একটি উষ্ণ সমুদ্রস্রোত।
- এল নিনো বছরগুলিতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বাড়ে এবং ভারত মহাসাগরের ওপর উচ্চচাপ তৈরি হয়।
- এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ফলস্বরূপ ভারতে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
৩৭. ধোঁয়াশা (Smog) সৃষ্টির কারণ ও ফলাফল লেখো।
কারণ: শিল্পাঞ্চল ও শহরে কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া ($SO_2, NO_2$) এবং ধূলিকণা শীতকালে বায়ুমণ্ডলের কুয়াশার সাথে রাসায়নিকভাবে মিশে ধোঁয়াশা তৈরি করে।
ফলাফল: ১) দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিমান ও গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ২) শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চোখের জ্বালা সৃষ্টি হয়। ৩) সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি হলে পাথরের ক্ষতি হয়।
৩৮. আপেক্ষিক আর্দ্রতার গুরুত্ব কী?
১) আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হলে বা বাড়লে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বোঝা যায়।
২) শারীরিক অস্বস্তি: আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হলে ঘাম শুকায় না, ফলে ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বাড়ে।
৩) কৃষি ও শিল্প: নির্দিষ্ট ফসলের বৃদ্ধি এবং সুতাকল শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার আর্দ্রতা প্রয়োজন (যেমন- সুতো যাতে না ছিঁড়ে যায়)।
৩৯. সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু সৃষ্টির কারণ বা প্রক্রিয়া চিত্রসহ লেখো। (সংক্ষেপে)
বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য এটি ঘটে।
- সমুদ্রবায়ু (দিনে): দিনের বেলা সূর্যতাপে স্থলভাগ জলভাগের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়। ফলে স্থলে নিম্নচাপ এবং সমুদ্রে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। তাই দিনের বেলায় সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে বাতাস বয়।
- স্থলবায়ু (রাতে): রাতে স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় (উচ্চচাপ), কিন্তু সমুদ্রের জল তখনও গরম থাকে (নিম্নচাপ)। তাই রাতে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে বাতাস বয়।
[attachment_0](attachment)
৪০. অ্যাডভেকশন (Advection) কী? উদাহরণ দাও।
সংজ্ঞা: ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালনকে অ্যাডভেকশন বলে।
উদাহরণ: গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে গরম ও শুষ্ক বাতাস বা ‘লু’ (Loo) প্রবাহিত হয়, তা অ্যাডভেকশন প্রক্রিয়ায় এক স্থানের তাপ অন্য স্থানে বয়ে নিয়ে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
৪১. মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট স্ট্রিমের প্রভাব সংক্ষেপে লেখো।
মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন জেস্ট স্ট্রিম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- গ্রীষ্মকালে ‘ক্রান্তীয় পুবালি জেট’ (Tropical Easterly Jet) তিব্বত মালভূমি অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি করে মৌসুমি বায়ুকে ভারতের দিকে আকর্ষণ করে।
- শীতকালে ‘উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট’ (Sub-tropical Westerly Jet) মৌসুমি বায়ুকে ভারত থেকে পিছু হটতে বা প্রত্যাগমন করতে সাহায্য করে।
৪২. গ্রিনহাউস এফেক্ট কমানোর বা নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি কী কী?
১) জীবাশ্ম জ্বালানি হ্রাস: কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
২) বনসৃজন: বেশি করে গাছ লাগাতে হবে কারণ গাছ বাতাস থেকে $CO_2$ শোষণ করে।
৩) CFC বর্জন: রেফ্রিজারেটর ও এসিতে $CFC$-এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব গ্যাস ব্যবহার করতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বায়ুমণ্ডল (বিশ্লেষণ)
প্রশ্ন: ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মূল পার্থক্য কী?
প্রশ্ন: বৈপরীত্য উত্তাপ কীভাবে ঘটে?
প্রশ্ন: অশ্ব অক্ষাংশ বলতে কী বোঝো?
প্রশ্ন: এল নিনো ভারতের আবহাওয়ায় কী প্রভাব ফেলে?
প্রশ্ন: জেট বায়ুপ্রবাহ বা জেট স্ট্রিম কী?