দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – 3 ‘বারিমন্ডল’

বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-১)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বারিমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৭ | পূর্ণমান:


১. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:

সমুদ্রের জলরাশির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়মিত প্রবাহ বা সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:

  • ১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: এটি সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ু সমুদ্রের জলকে নির্দিষ্ট পথে তাড়িয়ে নিয়ে যায়।
  • ২. পৃথিবীর আবর্তন (কোরিওলিস বল): পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায় (ফেরেলের সূত্র)।
  • ৩. সমুদ্রজলের উষ্ণতা: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হালকা জল বহিঃস্রোত বা পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে মেরুর দিকে এবং মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জল অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষরেখার দিকে প্রবাহিত হয়।
  • ৪. লবণাক্ততা ও ঘনত্ব: অধিক লবণাক্ত জল ভারী হওয়ায় নিচে ডুবে যায় এবং কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় ওপরে ভেসে ওঠে, এর ফলে স্রোতের সৃষ্টি হয়।
  • ৫. মহাদেশের আকৃতি: সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ বা স্থলভাগ থাকলে স্রোতটি বাধা পেয়ে দিক পরিবর্তন করে।

২. পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:
সমুদ্রস্রোত উপকূলবর্তী অঞ্চলের জলবায়ুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে:

  • ১. উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ: উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে উপকূলের তাপমাত্রা বাড়ে এবং আবহাওয়া আরামদায়ক হয়। যেমন- উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে শীতকালেও নরওয়ে ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের বন্দরগুলো বরফমুক্ত থাকে। আবার শীতল স্রোত তাপমাত্রাকে কমিয়ে দেয়।
  • ২. বৃষ্টিপাত: উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প ধারণ করে এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • ৩. মরুভূমি সৃষ্টি: শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে আসা বায়ু শুষ্ক হয়, ফলে বৃষ্টি হয় না। এই কারণে শীতল বেঙ্গুয়েলা স্রোতের প্রভাবে কালাহারি মরুভূমি এবং শীতল পেরু স্রোতের প্রভাবে আটাকামা মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
  • ৪. কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝা: যেখানে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন ঘটে (যেমন- নিউফাউন্ডল্যান্ড), সেখানে তাপমাত্রার পার্থক্যের জন্য ঘন কুয়াশা এবং প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়, যা নৌচলাচলে বাধা দেয়।

৩. মানবজীবনে ও অর্থনীতিতে সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বা গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

  • ১. মৎস্যক্ষেত্র গঠন: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে (যেমন- গ্র্যান্ড ব্যাংকস) প্ল্যাঙ্কটন প্রচুর জন্মানোর ফলে বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠে, যা মৎস্যজীবী ও অর্থনীতির জন্য লাভজনক।
  • ২. নৌ-বাণিজ্য: স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালালে সময় ও জ্বালানি—উভয়ই সাশ্রয় হয়।
  • ৩. বন্দর সচল রাখা: শীতপ্রধান দেশে উষ্ণ সমুদ্রস্রোত উপকূলের বরফ গলিয়ে বন্দরগুলোকে সারা বছর সচল রাখে (যেমন- রাশিয়ার মারমানস্ক বন্দর)।
  • ৪. বিপদ: শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা বিশাল হিমশৈল জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে (যেমন- টাইটানিক)।

৪. আটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলির বর্ণনা দাও।

উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  • উত্তর আটলান্টিক:
    • উষ্ণ স্রোত: উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত, উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream), ক্যানারি স্রোত।
    • শীতল স্রোত: ল্যাব্রাডর স্রোত।
  • দক্ষিণ আটলান্টিক:
    • উষ্ণ স্রোত: দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত, ব্রাজিল স্রোত।
    • শীতল স্রোত: ফকল্যাণ্ড স্রোত, বেঙ্গুয়েলা স্রোত।

বিশেষ উল্লেখ: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনস্থলে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের কাছে বিখ্যাত ‘হিমপ্রাচীর’ দেখা যায়।

[attachment_0](attachment)

৫. ভারত মহাসাগরের সমুদ্রস্রোতগুলি কীভাবে মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:
ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশের স্রোত সম্পূর্ণভাবে ঋতুভিত্তিক মৌসুমি বায়ুর দিক অনুসরণ করে।

  • গ্রীষ্মকাল (দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত): গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমালি স্রোতসহ অন্যান্য স্রোতগুলি ঘড়ির কাঁটার দিকে বা উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
  • শীতকাল (উত্তর-পূর্ব মৌসুমি স্রোত): শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্রোতগুলি দিক পরিবর্তন করে এবং বিপরীত দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।

দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে স্রোতগুলি সারা বছর একই থাকে (মোজাম্বিক, আগুলহাস, পশ্চিম অস্ট্রেলীয় স্রোত)।

[attachment_1](attachment)

৬. প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলির পরিচয় দাও।

উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোতগুলি হলো:

  • উত্তর প্রশান্ত:
    • উষ্ণ স্রোত: উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত, জাপান বা কুরোশিয় স্রোত (কালো স্রোত), উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত।
    • শীতল স্রোত: ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত, বেরিং স্রোত।
  • দক্ষিণ প্রশান্ত:
    • উষ্ণ স্রোত: দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত, পূর্ব অস্ট্রেলীয় স্রোত।
    • শীতল স্রোত: পেরু বা হামবোল্ড স্রোত, পশ্চিম বায়ু প্রবাহ।

৭. জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোতের মধ্যে পার্থক্য লেখো। (৫টি পয়েন্ট)

উত্তর:

বিষয় সমুদ্রস্রোত জোয়ার-ভাটা
১. সংজ্ঞা বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সমুদ্রের জলরাশির একমুখী অনুভূমিক প্রবাহ। মহাকর্ষীয় আকর্ষণে সমুদ্রের জলের উল্লম্ব উত্থান ও পতন।
২. কারণ নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, উষ্ণতা, ঘনত্ব ও লবণের পার্থক্য। চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল।
৩. সময় সারা বছর ধরে অবিরাম ও নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর (দিনে দুবার) ঘটে।
৪. প্রভাব জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে এবং মগ্নচড়া সৃষ্টি করে। নদীর নাব্যতা বাড়ায় এবং মোহনা পরিষ্কার রাখে।
৫. গতি এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৩-১০ কিমি। এর গতিবেগ উপকূলের আকৃতির ওপর নির্ভর করে।

বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-২)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বারিমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ৮-১৪ | পূর্ণমান:


৮. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণগুলি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর:
জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ হলো:

  • ১. মহাকর্ষীয় আকর্ষণ (Gravitational Force): নিউটনের সূত্রানুযায়ী মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। পৃথিবীর ওপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ কাজ করে। সূর্যের ভর চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি হলেও, চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে (৩.৮৪ লক্ষ কিমি) অবস্থিত। তাই জোয়ার সৃষ্টিতে চাঁদের প্রভাব সূর্যের চেয়ে প্রায় ২.২ গুণ বেশি। চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের সামনে থাকে, সেখানে জল ফুলে ওঠে এবং মুখ্য জোয়ার হয়।
  • ২. কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force): পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের ওপর ঘোরার ফলে যে কেন্দ্রবিমুখ বলের সৃষ্টি হয়, তা জলরাশিকে বাইরের দিকে ছিটকে দিতে চায়। চাঁদের আকর্ষণে যেখানে মুখ্য জোয়ার হয়, তার ঠিক বিপরীত দিকে (প্রতিপাদ স্থানে) চাঁদের আকর্ষণ কম থাকে কিন্তু কেন্দ্রাতিগ বল বেশি থাকে। ফলে সেখানেও জল ফুলে ওঠে এবং গৌণ জোয়ার সৃষ্টি হয়।

দুই জোয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে জল সরে যায়, যাকে ভাটা বলে।

[attachment_2](attachment)

৯. ভরা কোটাল ও মরা কোটাল কীভাবে হয়? চিত্রসহ আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:

ক) ভরা কোটাল (Spring Tide): অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে (সিজিগি)।

  • অমাবস্যায় (সংযোগ): সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর একই দিকে থাকে। তাদের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের জল খুব বেশি ফুলে ওঠে।
  • পূর্ণিমায় (প্রতিযোগ): সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে। তবুও দুদিক থেকে আকর্ষণের ফলে প্রবল জোয়ার হয়। একে ভরা কোটাল বলে।

খ) মরা কোটাল (Neap Tide): কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে পরস্পরের সমকোণে ($90^\circ$) অবস্থান করে। ফলে চাঁদের আকর্ষণ বল সূর্যের আকর্ষণ বল দ্বারা কিছুটা প্রশমিত বা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই জোয়ারের জলস্ফীতি বা তীব্রতা কম হয়। একে মরা কোটাল বলে।

[attachment_3](attachment)

১০. চিত্রসহ জোয়ার-ভাটার সময়ের ব্যবধান বা একটি স্থানে দিনে দুবার জোয়ার হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
পৃথিবী নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। কিন্তু এই সময়ে চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবীর গতির দিকে কিছুটা এগিয়ে যায়।

  • পৃথিবী যখন একবার পূর্ণ আবর্তন করে (২৪ ঘণ্টায়), সেই সময়ে চাঁদ তার কক্ষপথে প্রায় ১৩ ডিগ্রি পথ এগিয়ে যায়।
  • পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখাকে সেই এগিয়ে যাওয়া চাঁদের সামনে আবার ফিরে আসতে বাড়তি পথ ঘুরতে হয়, যার জন্য প্রায় ৫২ মিনিট সময় বেশি লাগে।
  • তাই কোনো স্থানে একবার মুখ্য জোয়ার হওয়ার ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর আবার সেখানে মুখ্য জোয়ার হয়।
  • একইভাবে, একটি মুখ্য জোয়ারের প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পর সেখানে গৌণ জোয়ার এবং প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।

১১. মানবজীবনে বা অর্থনীতির ওপর জোয়ার-ভাটার সুফল ও কুফলগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:
সুফল:

  • নৌ-চলাচল: জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় জলতল বাড়ে, ফলে বড় সমুদ্রগামী জাহাজগুলি সহজেই বন্দরের ভেতরে ঢুকতে পারে (যেমন- কলকাতা ও লন্ডন বন্দর)।
  • আবর্জনা পরিষ্কার: ভাটার টানে নদীর পলি ও শহরের আবর্জনা সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, ফলে নদীর নাব্যতা বজায় থাকে এবং মোহনা পরিষ্কার থাকে।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন: জোয়ারের জলের প্রবল তোড়কে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
  • মৎস্য শিকার: জোয়ারের সাথে প্রচুর মাছ নদী মোহনায় বা খাঁড়িতে ঢুকে পড়ে।

কুফল:

  • লোনা জল: প্রবল জোয়ারের সময় লোনা জল কৃষি জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে।
  • দুর্ঘটনা: ভরা কোটাল বা বান ডাকার সময় নদীতে নৌকাডুবি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

১২. বান ডাকা (Tidal Bore) কী? বান ডাকার অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি লেখো।

উত্তর:
বান ডাকা: ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল গর্জনে ও জলোচ্ছ্বাসে খাড়া দেওয়ালের মতো নদীর উজান দিকে ধাবিত হয়। একে বান ডাকা বলে। হুগলি নদীতে একে ‘সারাষাঁড়ির বান’ বলে।
অনুকূল শর্ত:

  • ১) নদীর মোহনা ফানেল আকৃতির বা খুব চওড়া হতে হবে।
  • ২) নদীতে জলের পরিমাণ ও স্রোত বেশি থাকতে হবে (সাধারণত বর্ষাকালে)।
  • ৩) অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ভরা কোটালের প্রভাব থাকতে হবে।
  • ৪) নদীখাত অগভীর বা বালুকাময় হতে হবে।

১৩. অ্যাপোজী (Apogee) ও পেরিজি (Perigee) জোয়ারের বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য আলোচনা করো।

উত্তর:
চাঁদ পৃথিবীকে উপবৃত্তাকার পথে প্রদক্ষিণ করে, তাই দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না।

বিষয় পেরিজি (Perigee) অ্যাপোজী (Apogee)
১. দূরত্ব পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (প্রায় ৩,৫৬,০০০ কিমি)। পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ৪,০৭,০০০ কিমি)।
২. আকর্ষণ দূরত্ব কম থাকায় আকর্ষণ বল ও জোয়ারের প্রাবল্য বাড়ে (প্রায় ২০%)। দূরত্ব বেশি থাকায় আকর্ষণ বল ও জোয়ারের প্রাবল্য কমে।
৩. নাম একে অনুভূ জোয়ার বলে। একে অপভূ জোয়ার বলে।

১৪. শৈবাল সাগর এবং মগ্নচড়া সৃষ্টির কারণ ও গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:
শৈবাল সাগর (Sargasso Sea): উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে স্রোতগুলির চক্রাকার আবর্তনের মাঝখানে স্রোতহীন শান্ত জলভাগে প্রচুর আগাছা ও শৈবাল জন্মায়, একে শৈবাল সাগর বলে। গুরুত্ব: এটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মগ্নচড়া (Bank): উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে হিমশৈল গলে গিয়ে নুড়ি-পাথর জমে অগভীর সমুদ্রতলের সৃষ্টি করে। গুরুত্ব: এখানে মাছের খাদ্য প্ল্যাঙ্কটন জন্মায়, তাই এটি বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে বিখ্যাত (যেমন- গ্র্যান্ড ব্যাংকস)।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বারিমণ্ডল (রচনাধর্মী)


প্রশ্ন: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?

উত্তর: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির মূল কারণ হলো নিয়ত বায়ুপ্রবাহ। আয়ন বায়ু ও পশ্চিমা বায়ু সমুদ্রের জলকে নির্দিষ্ট পথে তাড়িয়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও পৃথিবীর আবর্তন (কোরিওলিস বল), উষ্ণতা ও লবণাক্ততার পার্থক্য স্রোত সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: ভরা কোটাল ও মরা কোটালের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: ভরা কোটাল: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় (সিজিগি) থাকলে প্রবল জোয়ার হয়।
মরা কোটাল: অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে ($90^\circ$) থাকলে আকর্ষণ বল কমে যায় এবং জোয়ার দুর্বল হয়।

প্রশ্ন: জোয়ার-ভাটার সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট হয় কেন?

উত্তর: পৃথিবী একবার আবর্তন করতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। কিন্তু এই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে তার কক্ষপথে প্রায় ১৩ ডিগ্রি পথ এগিয়ে যায়। ওই পথটুকু পার হয়ে চাঁদের সামনে আসতে পৃথিবীর আরও ৫২ মিনিট সময় বেশি লাগে। তাই একটি মুখ্য জোয়ারের পর পরবর্তী মুখ্য জোয়ার হতে ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময় লাগে।

প্রশ্ন: বান ডাকা (Tidal Bore) কী?

উত্তর: বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের বিশাল জলরাশি নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে ও গর্জনে নদীর উজান দিকে ধাবিত হয়। জলতলের এই আকস্মিক স্ফীতিকে বান ডাকা বলে। হুগলি নদীতে একে ‘সারাষাঁড়ির বান’ বলা হয়।

প্রশ্ন: জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব কী?

উত্তর: সমুদ্রস্রোত উপকূলের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে উপকূলের উষ্ণতা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত হয় (যেমন- উত্তর আটলান্টিক স্রোত)। আর শীতল স্রোত প্রবাহিত হলে উষ্ণতা কমে এবং কুয়াশা বা মরুভূমি সৃষ্টি হয় (যেমন- বেঙ্গুয়েলা স্রোত)।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার