দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – ৫ ভারত রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর
বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (ভারত: প্রাকৃতিক – পর্ব ১)
বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: ভারত (অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি) | পূর্ণমান: ৫
১. প্রস্থ বরাবর বা উত্তর থেকে দক্ষিণে হিমালয় পর্বতের ভূপ্রকৃতির বর্ণনা দাও। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৯]
ভূমিকা: ভূপ্রকৃতি ও উচ্চতার তারতম্য অনুসারে প্রস্থ বরাবর অর্থাৎ দক্ষিণ থেকে উত্তরে হিমালয় পর্বতমালাকে চারটি প্রধান সমান্তরাল পর্বতশ্রেণিতে ভাগ করা যায়। নিচে এগুলির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—
ক) শিবালিক বা অব-হিমালয়:
- অবস্থান: এটি হিমালয়ের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সবথেকে নবীন ও নিচু অংশ।
- গঠন: হিমালয়ের নদীগুলি দ্বারা বাহিত পলি, বালি ও নুড়ি সঞ্চিত হয়ে এর সৃষ্টি হয়েছে।
- বৈশিষ্ট্য: এর গড় উচ্চতা ৬০০-১৫০০ মিটার। শিবালিক ও হিমাচলের মাঝখানের সংকীর্ণ উপত্যকাগুলিকে ‘দুন’ বলে। যেমন—দেরাদুন।
খ) হিমাচল বা মধ্য হিমালয়:
- অবস্থান: শিবালিকের উত্তরে এবং হিমদ্রির দক্ষিণে এই শ্রেণি অবস্থিত।
- উচ্চতা: এর গড় উচ্চতা ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ মিটার।
- পর্বতশ্রেণি: পীরপঞ্জল (কাশ্মীর), ধৌলাধর (হিমাচল প্রদেশ), মুসৌরি ও মহাভারত এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণি।
- পর্যটন: মনোরম আবহাওয়ার জন্য এখানে শিমলা, মানালি, ডালহৌসি, নৈনিতাল প্রভৃতি শৈলশহর গড়ে উঠেছে।
গ) হিমাদ্রি বা উচ্চ হিমালয়:
- অবস্থান: হিমাচলের উত্তরে অবস্থিত এটি হিমালয়ের সর্বোচ্চ অংশ।
- উচ্চতা: এর গড় উচ্চতা ৬০০০ মিটারের বেশি। এখানকার শৃঙ্গগুলি সারা বছর তুষারে ঢাকা থাকে।
- শৃঙ্গ ও গিরিপথ: পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮ মি), কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৯৮ মি) এবং জেলেপ লা, নাথু লা গিরিপথ এখানে অবস্থিত।
ঘ) টেথিস বা ট্রান্স হিমালয়:
- বর্ণনা: এটি হিমদ্রির উত্তরে তিব্বত সংলগ্ন অঞ্চল। এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণি হলো জাস্কর ও কারাকোরাম। ভারতের উচ্চতম শৃঙ্গ ‘গডউইন অস্টিন’ বা K2 (৮৬১১ মি) কারাকোরাম পর্বতে অবস্থিত।
২. দৈর্ঘ্য বরাবর বা পশ্চিম হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৭]
ভূমিকা: ভারতের পশ্চিমে সিন্ধু নদ থেকে পূর্বে নেপাল সীমানার কালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয়ের অংশকে পশ্চিম হিমালয় বলা হয়। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পশ্চিম হিমালয়কে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়—
ক) কাশ্মীর হিমালয়:
- অবস্থান: জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ অঞ্চল নিয়ে এটি গঠিত।
- পর্বতশ্রেণি: এখানে কারাকোরাম, লাদাখ, জাস্কর ও পীরপঞ্জল পর্বতশ্রেণি দেখা যায়।
- বৈশিষ্ট্য: পীরপঞ্জল ও উচ্চ হিমালয়ের মাঝখানে বিখ্যাত ‘কাশ্মীর উপত্যকা’ অবস্থিত। এখানকার হ্রদ সংলগ্ন ধাপযুক্ত পলিমাটিকে ‘কারেওয়া’ বলে, যেখানে জাফরান চাষ হয়।
খ) হিমাচল হিমালয়:
- অবস্থান: হিমাচল প্রদেশ রাজ্য জুড়ে এই অংশটি বিস্তৃত।
- পর্বতশ্রেণি: ধৌলাধর, পীরপঞ্জল ও নাগটিব্বা এখানকার প্রধান পর্বত।
- উপত্যকা: এখানে কুলু, কাংড়া, লাহুল ও স্পিতি উপত্যকা দেখা যায়। শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদী এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
গ) কুমায়ুন হিমালয়:
- অবস্থান: উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত এই অংশটি পশ্চিমে শতদ্রু নদী থেকে পূর্বে কালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- শৃঙ্গ: নন্দাদেবী (এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ), কামেট, ত্রিশূল, বদ্রিনাথ, কেদারনাথ প্রভৃতি বিখ্যাত শৃঙ্গ এখানে রয়েছে।
- হ্রদ ও হিমবাহ: নৈনিতাল, ভীমতাল প্রভৃতি হ্রদ বা ‘তাল’ এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। গঙ্গা ও যমুনার উৎস গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী হিমবাহ এখানেই অবস্থিত।
৩. ভারতের উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি বা শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো। (৫)
ভূমিকা: হিমালয় পর্বতের দক্ষিণে এবং উপদ্বীপীয় মালভূমির উত্তরে সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে যে বিশাল সমভূমি গঠিত হয়েছে, তাকে উত্তরের সমভূমি বলে। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে একে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়—
ক) রাজস্থান সমভূমি (মরুস্থলী):
- অবস্থান: রাজস্থানের আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিম অংশ নিয়ে এটি গঠিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি মূলত বালুকাময় মরুভূমি অঞ্চল, যা ‘থর মরুভূমি’ নামে পরিচিত। এখানকার চলমান বালিয়াড়িকে ‘ধ্রিয়ান’ এবং লবণাক্ত হ্রদগুলিকে ‘প্লায়া’ বা রান বলা হয় (যেমন—সম্বর হ্রদ)।
খ) পাঞ্জাব-হরিয়ানা সমভূমি:
- অবস্থান: পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লি নিয়ে এই সমভূমি গঠিত।
- গঠন: শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর পলি সঞ্চয়ে এটি গঠিত।
- বৈশিষ্ট্য: দুই নদীর মধ্যবর্তী পলিগঠিত উর্বর অঞ্চলকে ‘দোয়াব’ বলে (যেমন—বিশত দোয়াব)। নবীন পলিমাটি অঞ্চল ‘বেট’ এবং প্লাবনভূমি ‘ধায়া’ নামে পরিচিত।
গ) গাঙ্গেয় সমভূমি:
- বিস্তার: এটি ভারতের বৃহত্তম সমভূমি। দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত এটি বিস্তৃত।
- ভাগ: একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—
- উচ্চ গঙ্গা সমভূমি: গঙ্গার উচ্চ অববাহিকা (পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ)।
- মধ্য গঙ্গা সমভূমি: পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহার।
- নিম্ন গঙ্গা সমভূমি: সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ।
ঘ) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি:
- অবস্থান: অসম রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহপথে এটি গঠিত।
- বৈশিষ্ট্য: এই সমভূমিতে প্রচুর অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ও চড়া দেখা যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে অবস্থিত ‘মাজুলি’ হলো ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপ।
বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (ভারত: প্রাকৃতিক – পর্ব ২)
৪. উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৮]
ভূমিকা: ভারতের ভূপ্রকৃতিগত বৈচিত্র্যের কারণে উত্তর ভারত (হিমালয়ের নদী) এবং দক্ষিণ ভারতের (উপদ্বীপীয় নদী) নদনদীগুলোর মধ্যে উৎপত্তি ও প্রবাহের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে পার্থক্যগুলি আলোচনা করা হলো—
| বিষয় | উত্তর ভারতের নদনদী | দক্ষিণ ভারতের নদনদী |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তি | এই নদীগুলি হিমালয়ের বরফগলা জল বা হিমবাহ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। (যেমন—গঙ্গা, সিন্ধু)। | এই নদীগুলি মালভূমির বৃষ্টির জল বা ঝরনা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। (যেমন—গোদাবরী, কৃষ্ণা)। |
| ২. প্রবাহের প্রকৃতি | সারা বছর জল থাকে বলে এগুলি নিত্যবহ নদী। | কেবল বর্ষাকালে জল থাকে এবং গ্রীষ্মে প্রায় শুকিয়ে যায় বলে এগুলি অনিত্যবহ নদী। |
| ৩. নদীর পর্যায় | এই নদীগুলির গতিপথে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন—তিনটি প্রবাহই স্পষ্টভাবে দেখা যায় (আদর্শ নদী)। | এই নদীগুলির প্রবাহপথে সব পর্যায় স্পষ্ট নয় এবং ভূমির ঢালু অনুসারে প্রবাহিত হয়। |
| ৪. নাব্যতা | সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীগুলি গভীর এবং নৌপরিবহনযোগ্য। | বন্ধুর ও পাথুরে মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এগুলি নৌপরিবহনযোগ্য নয়। |
| ৫. বদ্বীপ গঠন | নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল কম থাকায় মোহনায় বিশাল বদ্বীপ গড়ে ওঠে (যেমন—গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ)। | নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় মোহনায় সব সময় বদ্বীপ গঠিত হয় না (নর্মদা ও তাপ্তীতে বদ্বীপ নেই)। |
৫. পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি ও পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০২০]
ভূমিকা: ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমির দুই দিকে অর্থাৎ আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের তীর বরাবর যে সংকীর্ণ সমভূমি দেখা যায়, তাদের ভূপ্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যে বিস্তর তফাত রয়েছে। নিচে এই পার্থক্য আলোচনা করা হলো—
| বিষয় | পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি | পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | আরব সাগর এবং পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত। | বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বঘাট পর্বতমালার মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত। |
| ২. বিস্তার ও প্রস্থ | এটি বেশ সংকীর্ণ ও ভগ্ন প্রকৃতির। এর গড় প্রস্থ মাত্র ৬৫ কিমি। | এটি তুলনামূলক অনেক চওড়া ও অভগ্ন। এর গড় প্রস্থ প্রায় ১০০ কিমি। |
| ৩. বদ্বীপ | নদীগুলি ছোট ও খরস্রোতা হওয়ায় এখানে কোনো বদ্বীপ নেই। | মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরীর মোহনায় বিশাল ও উর্বর বদ্বীপ রয়েছে। |
| ৪. হ্রদ বা কয়াল | মালাবার উপকূলে প্রচুর লবণাক্ত উপহ্রদ বা ‘কয়াল’ দেখা যায় (যেমন—ভেমবানাথ)। | এখানে চিল্কা, পুলিকট ও কোলেরুর মতো উপহ্রদ থাকলেও কয়ালের অস্তিত্ব নেই। |
| ৫. বৃষ্টিপাত | দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখার প্রভাবে গ্রীষ্মকালে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। | তুলনামূলক কম বৃষ্টি হয়, তবে করমন্ডল উপকূলে বছরে দুবার (শীত ও গ্রীষ্মে) বৃষ্টিপাত হয়। |
৬. ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি (Factors affecting Climate) সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৬, ২০২২]
ভূমিকা: ভারত একটি বিশাল দেশ। তাই এর সব জায়গায় একরকম জলবায়ু দেখা যায় না। ভারতের জলবায়ুর এই বৈচিত্র্যের পিছনে একাধিক ভৌগোলিক কারণ বা নিয়ন্ত্রক কাজ করে। প্রধান ৫টি নিয়ন্ত্রক হলো—
- ১. অক্ষাংশ ও অবস্থান: কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের ঠিক মাঝখান দিয়ে গেছে। ফলে ভারতের উত্তর অংশ ‘উপক্রান্তীয়’ এবং দক্ষিণ অংশ ‘ক্রান্তীয়’ জলবায়ুর অন্তর্গত। একারণে দক্ষিণ ভারতে সারা বছর উষ্ণতা বেশি থাকে।
- ২. হিমালয় পর্বতের অবস্থান: ভারতের উত্তরে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকা হিমালয় পর্বত প্রধানত দুটি কাজ করে—
- (ক) মধ্য এশিয়া থেকে আসা হাড়কাঁপানো শীতল বাতাসকে ভারতে ঢুকতে বাধা দেয়।
- (খ) জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- ৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: ভারতের তিনদিক সমুদ্র দিয়ে ঘেরা। সমুদ্রের কাছাকাছি স্থানগুলো (মুম্বাই, কলকাতা) ‘সমভাবাপন্ন’ হয়। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরের স্থানগুলো (দিল্লি, রাজস্থান) ‘চরমভাবাপন্ন’ হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে প্রবল গরম ও শীতে প্রবল ঠান্ডা থাকে।
- ৪. মৌসুমি বায়ু: ভারতের জলবায়ু মূলত মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল। এই বায়ুর আগমনেই বর্ষাকাল শুরু হয়। ভারতের বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০ ভাগই এই বায়ুর প্রভাবে ঘটে।
- ৫. ভূমির উচ্চতা: উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে (প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪°C হারে)। তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও দিল্লির তুলনায় শিমলা বা দার্জিলিং অনেক বেশি শীতল।
[attachment_0](attachment)
৭. ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ করো এবং যেকোনো এক প্রকার উদ্ভিদের বর্ণনা দাও। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]
শ্রেণিবিভাগ: বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা ও মাটির পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য
- ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য
- মরু উদ্ভিদ বা জেরোফাইট
- পার্বত্য উদ্ভিদ
- উপকূলীয় বা ম্যানগ্রোভ অরণ্য
ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় বনভূমির বর্ণনা:
- অঞ্চল: ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলের বদ্বীপ ও খাড়ি এলাকায় যেখানে জোয়ার-ভাটার জল প্রবেশ করে, সেখানে এই বনভূমি দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন, ওড়িশার মহানদী বদ্বীপ ও অন্ধ্রপ্রদেশের গোদাবরী বদ্বীপে এটি দেখা যায়।
- জলবায়ু: এই উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটি অপরিহার্য। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমির আশেপাশে এবং তাপমাত্রা ২৬°C-৩০°C থাকা প্রয়োজন।
- প্রধান উদ্ভিদ: সুন্দরী, গড়ান, গেঁওয়া, হোগলা, গোলপাতা, কেয়া প্রভৃতি।
- অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য:
- (ক) জোয়ারের জলে অক্সিজেন পাওয়ার জন্য এদের মাটি ফুঁড়ে উপরে ওঠা শ্বাসমূল (Pneumatophore) থাকে।
- (খ) নরম কাদা মাটিতে গাছকে সোজা রাখার জন্য এদের ঠেসমূল (Stilt root) দেখা যায়।
- (গ) লবণাক্ত জল থেকে বাঁচার জন্য এদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম দেখা যায়।
[attachment_1](attachment)
বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (ভারত: অর্থনৈতিক – পর্ব ৩)
৮. ভারতে ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বর্ণনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৯, ২০২২]
ভূমিকা: ধান ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য এবং এটি একটি ক্রান্তীয় ফসল। জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে ভারতে আমন, আউশ ও বোরো—তিন ধরণের ধান চাষ হয়। নিচে ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ আলোচনা করা হলো—
ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ:
- উষ্ণতা: রোপণের সময় ২০°C এবং বৃদ্ধির জন্য ২০°C থেকে ২৭°C উষ্ণতা প্রয়োজন। তবে ধান পাকার সময় ৩০°C-এর বেশি উষ্ণতা আদর্শ।
- বৃষ্টিপাত: ধান চাষের জন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়, তাই ১০০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত আদর্শ। জমিতে ১-২ মাস জল জমে থাকা ভালো।
- মৃত্তিকা: নদীর পলি দ্বারা গঠিত এঁটেল বা কাদা মাটি সবচেয়ে উপযোগী। এই মাটি জল ধরে রাখতে পারে এবং এর কাদার ভাগ বেশি থাকে।
- ভূমি: জল জমে থাকার জন্য সমতল ও সামান্য ঢালু জমি প্রয়োজন।
খ) অর্থনৈতিক পরিবেশ:
- শ্রমিক: চারা রোপণ, আগাছা দমন ও ধান কাটার জন্য প্রচুর সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
- মূলধন ও জলসেচ: উন্নত বীজ, সার এবং প্রয়োজনমতো জলসেচের জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের প্রয়োজন।
[attachment_0](attachment)
৯. ভারতে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৮]
ভূমিকা: চা একটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় ফসল এবং এটি ভারতের একটি অন্যতম প্রধান বাগিচা ফসল। এটি মূলত উষ্ণ আর্দ্র ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে চাষ হয়।
ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ:
- জলবায়ু: ২১°C থেকে ২৯°C উষ্ণতা চা গাছের জন্য আদর্শ। বছরের প্রায় ৮ মাসই উষ্ণতা বেশি থাকা প্রয়োজন।
- বৃষ্টিপাত: ১৫০-২৫০ সেমি সুষম বৃষ্টিপাত প্রয়োজন, তবে গাছের গোড়ায় জল জমলে চলবে না।
- মৃত্তিকা ও ভূমি: পাহাড়ের ঢালু জমি এবং লোহা মিশ্রিত, হিউমাসযুক্ত সামান্য আম্লিক (Acidic) দোআঁশ মাটি প্রয়োজন।
- ছায়া: সরাসরি রোদ চা গাছের ক্ষতি করে, তাই বাগিচায় ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ (যেমন—সিলভার ওক) লাগানো হয়।
খ) অর্থনৈতিক পরিবেশ:
- শ্রমিক: চা পাতা তোলার জন্য প্রচুর মহিলা শ্রমিকের প্রয়োজন, যারা অত্যন্ত দক্ষ ও নিপুণ হয়।
- পরিবহণ ও বাজার: চা-পাতা তোলার পরই প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠানো দরকার এবং দ্রুত বিক্রির জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
১০. পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি ব্যাখ্যা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৯, ২০১৭]
ভূমিকা: ভারতের ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় রাজ্য জুড়ে একটি বিশাল শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, যেখানে জামশেদপুর, দুর্গাপুর, রাউরকেলার মতো ইস্পাত কেন্দ্রগুলি কেন্দ্রীভূত। একে ভারতের ‘খনিজ ভান্ডার’ বা রূঢ় অঞ্চলও বলা হয়।
কারণ বা কেন্দ্রীভবনের সহায়ক অবস্থা:
- ১. আকরিক লোহার সহজলভ্যতা: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ ও ঝাড়খণ্ডের সিংভূম খনি থেকে প্রচুর উচ্চমানের আকরিক লোহা সহজে পাওয়া যায়।
- ২. কয়লার নৈকট্য: পশ্চিমবঙ্গের রাণীগঞ্জ এবং ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া ও বোকারো থেকে তাপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোক কয়লা সরবরাহ করা সহজ।
- ৩. অন্যান্য খনিজ: ইস্পাত উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর ও ডলোমাইট কাছাকাছি এলাকার খনি থেকে অল্প খরচে পাওয়া যায়।
- ৪. জল সরবরাহ: দামোদর, সুবর্ণরেখা, মহানদী এবং ব্রাহ্মণী নদী থেকে শিল্প প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জল পাওয়া যায়।
- ৫. উন্নত পরিবহন: কলকাতা, হলদিয়া এবং বিশাখাপত্তনমের মতো বড় বন্দরগুলি কাছে থাকায় যন্ত্রপাতি আমদানি ও পণ্য রপ্তানি করা সহজ হয়।
- ৬. মূলধন ও শ্রমিক: Tata Steel-এর মতো বৃহৎ সংস্থাগুলির বিপুল বিনিয়োগ এবং সস্তা শ্রমিকের প্রাচুর্য এই শিল্পকে সাহায্য করেছে।
১১. পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের (Cotton Textile Industry) একদেশীভবনের কারণগুলি আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০২০]
ভূমিকা: গুজরাট ও মহারাষ্ট্র রাজ্যের (বিশেষত মুম্বাই ও আহমেদাবাদ অঞ্চল) পশ্চিম ভারতে ভারতের অধিকাংশ সুতির বস্ত্রকল গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক কারণগুলি এই শিল্পের केंद्रीভবনের জন্য দায়ী।
কারণ বা কেন্দ্রীভবনের সহায়ক অবস্থা:
- ১. কাঁচামালের নৈকট্য: নিকটবর্তী দাক্ষিণাত্য মালভূমির লাভা গঠিত ‘কৃষ্ণ মৃত্তিকা’ বা রেগুর অঞ্চলে প্রচুর উচ্চমানের কার্পাস বা তুলা উৎপন্ন হয়।
- ২. আর্দ্র জলবায়ু: আরব সাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় এখানকার বাতাস আর্দ্র, যা সুতোর ছেঁড়া যাওয়া রোধ করে এবং সুতোর গুণমান বজায় রাখে।
- ৩. পরিবহন ব্যবস্থা: মুম্বাই বন্দর এবং রেল ও সড়কপথের উন্নত জালিকা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
- ৪. বন্দরের সুবিধা: মুম্বাই ও কান্দালা বন্দরের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি আমদানি ও উৎপাদিত বস্ত্র রপ্তানি করার সুবিধা রয়েছে।
- ৫. মূলধন ও বাজার: বহু পুরনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে বিপুল মূলধন এবং বস্ত্রের বিশাল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে।
- ৬. বিদ্যুৎ সরবরাহ: পশ্চিমঘাট পর্বতের জলবিদ্যুৎ এবং স্থানীয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
১২. ভারতের জনসংখ্যা বন্টনের তারতম্যের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো। (৫)
ভূমিকা: ভারতে জনসংখ্যা বন্টন অত্যন্ত অসম—কোথাও প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০০-এর বেশি মানুষ বাস করে (যেমন—পশ্চিমবঙ্গ) আবার কোথাও মাত্র ১০ জন (যেমন—অরুণাচল প্রদেশ)। এই তারতম্যের জন্য প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক উভয় কারণই দায়ী।
ক) প্রাকৃতিক কারণ:
- ১. ভূপ্রকৃতি: সমতল ভূমিতে (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি) কৃষি ও পরিবহন সহজ হওয়ায় জনসংখ্যা বেশি। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চল (হিমালয়) ও বন্ধুর মালভূমিতে জনসংখ্যা কম।
- ২. জলবায়ু: অনুকূল জলবায়ুযুক্ত অঞ্চলে (উপকূলীয় সমভূমি) জনবসতি বেশি। কিন্তু চরম জলবায়ুযুক্ত অঞ্চলে (থর মরুভূমি, উচ্চ হিমালয়) বসতি কম।
- ৩. জলের সরবরাহ: নদী তীরবর্তী অঞ্চলে পানীয় ও কৃষির জন্য জলের সুবিধা থাকায় জনবসতি ঘন।
খ) অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কারণ:
- ৪. নগরায়ণ ও শিল্পায়ন: শিল্পাঞ্চলে (দুর্গাপুর, জামশেদপুর) কাজের সুযোগ থাকায় এবং বড় শহরগুলোতে (কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি) জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় এখানে জনসংখ্যা বেশি।
- ৫. পরিবহন ও বাণিজ্য: উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা ও বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো জনবসতিকে আকর্ষণ করে।
- ৬. কৃষি: উর্বর পলিমাটিতে নিবিড় কৃষি সম্ভব হওয়ায় গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে জনসংখ্যা সর্বাধিক।
[attachment_1](attachment)
বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (ভারত: প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক – পর্ব ৪)
১৩. ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৯]
ভূমিকা: ভারত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু’ নামে পরিচিত। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখানকার জলবায়ুতে কতগুলি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ১. ঋতুচক্রের আবর্তন: ভারতে চারটি প্রধান ঋতু (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত) পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। যা পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে খুব কমই দেখা যায়।
- ২. মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: ভারতের জলবায়ু পুরোপুরি মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমি বায়ুর আগমনকে ‘মৌসুমি বিস্ফোরণ’ বলা হয়।
- ৩. বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা: মৌসুমি বায়ু অনিয়মিত ও খামখেয়ালী। এটি সময়মতো না এলে খরা হয়, আবার বেশি এলে বন্যা হয়। তাই ভারতের কৃষিকে ‘মৌসুমি বায়ুর জুয়াখেলা’ বলা হয়।
- ৪. অসম বৃষ্টিপাত: ভারতের সব জায়গায় সমান বৃষ্টিপাত হয় না। মেঘালয়ের মৌসিনরামে যেখানে ১২০০ সেমির বেশি বৃষ্টি হয়, সেখানে রাজস্থানের জয়সলমীরে মাত্র ২৫ সেমি বৃষ্টি হয়।
- ৫. উষ্ণতা ও আর্দ্রতার তারতম্য: গ্রীষ্মকাল শুষ্ক ও উষ্ণ হলেও বর্ষায় তীব্র আর্দ্রতা দেখা যায়। আবার শীতকালে উষ্ণতা সাধারণত কম ও আরামদায়ক হয়।
১৪. ভারতে গম চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বর্ণনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০২৫]
ভূমিকা: ধান চাষের পরেই গম হলো ভারতের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। এটি একটি শীতকালীন ফসল এবং মূলত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে এর চাষ হয়। নিচে গম চাষের অনুকূল পরিবেশ আলোচনা করা হলো—
ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ:
- উষ্ণতা: বীজ বোনার সময় ১০°C-১৫°C এবং পাকার সময় ২০°C-২৫°C উষ্ণতা প্রয়োজন। এটি একটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফসল।
- বৃষ্টিপাত: সাধারণত ৫০-১০০ সেমি বৃষ্টিপাত আদর্শ। বৃষ্টি কম হলে শেষ বা জলসেচের প্রয়োজন হয়।
- মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ মাটি বা হালকা এঁটেল মাটি যেখানে চুন ও পটাস বেশি থাকে, সেখানে গম ভালো হয়।
- ভূমি: জলসেচ এবং যান্ত্রিক চাষের জন্য সমতল ভূমি একান্ত প্রয়োজন।
খ) অর্থনৈতিক পরিবেশ:
- যন্ত্রের ব্যবহার: গম চাষে ট্রাক্টর ও হার্ভেস্টারের মতো যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- পরিবহণ ও বাজার: গম প্রধানত শুষ্ক আকারে উৎপাদিত হয়, তাই পরিবহণ সহজ এবং বাজারের চাহিদা সারা বছরই থাকে।
- মূলধন: উচ্চ ফলনশীল বীজ (HYV) এবং রাসায়নিক সার ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের প্রয়োজন।
১৫. পশ্চিম ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্প দ্রুত উন্নতির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো। (৫)
ভূমিকা: পেট্রোলিয়ামজাত শিল্প, যা পেট্রোরসায়ন নামে পরিচিত, বর্তমানে ভারতের দ্রুততম বর্ধনশীল শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুম্বাই, কোয়েলি (গুজরাট) এবং হলদিয়াতে এই শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।
উন্নতির প্রধান কারণসমূহ:
- ১. কাঁচামাল ও শোধনাগার: এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো অপরিশোধিত তেল বা ন্যাপথা। পশ্চিম ভারতে (যেমন—মুম্বাই, জামনগর) বড় বড় তেল শোধনাগার থাকায় কাঁচামালের সরবরাহ সহজ।
- ২. বন্দরের ভূমিকা: মুম্বাই ও কান্দালা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা সহজ হয়।
- ৩. পরিবহন ব্যবস্থা: তেলক্ষেত্র (যেমন—মুম্বাই হাই) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি কাঁচামাল শোধনাগারে আনার ব্যবস্থা রয়েছে।
- ৪. জলের সরবরাহ: শিল্পে জল শীতলীকরণ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত জলের সরবরাহ প্রয়োজন, যা এখানকার সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে পাওয়া যায়।
- ৫. বাজারের নৈকট্য: মুম্বাই এবং আহমেদাবাদ হলো জনবহুল ও শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল, তাই পলিমার, সিনথেটিক ফাইবার ও সারের মতো পেট্রোরসায়নজাত পণ্যের বাজার এখানে খুব কাছেই রয়েছে।