দশম শ্রেণী: ভৌত বিজ্ঞান অধ্যায় 5 – আলো

অধ্যায়ের ভূমিকা: আলো (Light)


[attachment_0](attachment)আমরা যা দেখি, তা আসলে আলোরই খেলা। ভোরের আকাশের লাল আভা থেকে শুরু করে বর্ষার বিকেলের রঙিন রামধনু, কিংবা চশমার কাঁচ দিয়ে স্পষ্ট দেখা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে আলোর জাদুকরী ধর্ম।

এই অধ্যায়টি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের “হার্ট” বা হৃদপিণ্ড। এখান থেকে সবচেয়ে বেশি নম্বরের প্রশ্ন আসে। আমরা এখানে শিখব:

  • অবতল ও উত্তল দর্পণ কীভাবে প্রতিবিম্ব তৈরি করে (যেমন- গাড়ির লুকিং গ্লাস)।
  • আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে কেন বেঁকে যায় (প্রতিসরণ)।
  • প্রিজম কীভাবে সাদা আলোকে সাতটি রঙে ভেঙে দেয়।
  • আকাশ কেন নীল দেখায় এবং বিপদ সংকেত কেন লাল হয়।

📊 মাধ্যমিক নম্বর বিভাজন (Tentative):এই অধ্যায় থেকে সাধারণত ১২ থেকে ১৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে, যা পুরো সিলেবাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

  • MCQ (বিভাগ-ক): ৩টি প্রশ্ন × ১ = ৩ নম্বর
  • অতি সংক্ষিপ্ত (বিভাগ-খ): ৩টি প্রশ্ন × ১ = ৩ নম্বর
  • সংক্ষিপ্ত (বিভাগ-গ): ১ বা ২টি প্রশ্ন × ২ = ২/৪ নম্বর
  • দীর্ঘ উত্তরধর্মী (বিভাগ-ঘ): ৩টি প্রশ্ন × ৩ = ৯ নম্বর

*এই অধ্যায়টি ভালো করে পড়লে পাস মার্কস তোলার চিন্তা থাকে না!*


বিভাগ-ক: বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) – ৪০টি

১. গোলীয় দর্পণের ফোকাস দৈর্ঘ্য ($f$) এবং বক্রতা ব্যাসার্ধ ($r$)-এর মধ্যে সম্পর্কটি হলো— [মাধ্যমিক ২০১৭]

  1. $f = 2r$
  2. $r = 2f$
  3. $f = r/3$
  4. $f = r$

সঠিক উত্তর: (B) $r = 2f$ (বা $f = r/2$)

২. দন্তচিকিৎসকগণ দাঁত পরীক্ষার জন্য কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহার করেন? [মাধ্যমিক ২০১৯]

  1. সমতল দর্পণ
  2. উত্তল দর্পণ
  3. অবতল দর্পণ
  4. বেলনাকার দর্পণ

সঠিক উত্তর: (C) অবতল দর্পণ (Concave Mirror)

৩. মোটর গাড়ির ভিউ ফাইন্ডার (View finder) বা রিয়ার ভিউ মিরর হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়? [মাধ্যমিক ২০১৮]

  1. সমতল দর্পণ
  2. অবতল দর্পণ
  3. উত্তল দর্পণ
  4. উত্তল লেন্স

সঠিক উত্তর: (C) উত্তল দর্পণ (Convex Mirror)

৪. অবতল দর্পণের বক্রতা কেন্দ্রে বস্তু রাখলে প্রতিবিম্বের আকার কেমন হবে?

  1. বস্তুর চেয়ে বড়
  2. বস্তুর চেয়ে ছোট
  3. বস্তুর সমান
  4. অত্যন্ত ক্ষুদ্র

সঠিক উত্তর: (C) বস্তুর সমান

৫. উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা—

  1. সদ ও অবশীর্ষ হয়
  2. অসদ ও সমশীর্ষ হয়
  3. সদ ও সমশীর্ষ হয়
  4. অসদ ও অবশীর্ষ হয়

সঠিক উত্তর: (B) অসদ ও সমশীর্ষ হয় (এবং বস্তুর চেয়ে ছোট)

৬. প্রতিসরণের ক্ষেত্রে আপতন কোণ $i$ এবং প্রতিসরণ কোণ $r$ হলে, চু্যুতির মান কত?

  1. $i + r$
  2. $i – r$
  3. $i / r$
  4. $\sin i / \sin r$

সঠিক উত্তর: (B) $i – r$ (বা $r – i$, যেটি বড় তার ওপর নির্ভর করে)

৭. কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক ($\mu$) আলোর বেগের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? (শূন্যস্থানে বেগ $c$, মাধ্যমে বেগ $v$)

  1. $\mu = v/c$
  2. $\mu = c/v$
  3. $\mu = c \times v$
  4. $\mu = 1/v$

সঠিক উত্তর: (B) $\mu = c/v$

৮. কাঁচের স্ল্যাবে (Glass Slab) আলোক রশ্মির প্রতিসরণের ফলে চ্যুতির মান কত হয়?

  1. $90^\circ$
  2. $45^\circ$
  3. $0^\circ$
  4. $180^\circ$

সঠিক উত্তর: (C) $0^\circ$ (আপতিত ও নির্গত রশ্মি সমান্তরাল হয়)

৯. প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর প্রতিসরণের ক্ষেত্রে কোন বর্ণের বিচ্যুতি সর্বাধিক? [মাধ্যমিক ২০১৭]

  1. লাল
  2. হলুদ
  3. বেগুনি
  4. সবুজ

সঠিক উত্তর: (C) বেগুনি (Violet)

১০. প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর প্রতিসরণের ক্ষেত্রে কোন বর্ণের বিচ্যুতি সর্বনিম্ন?

  1. লাল
  2. নীল
  3. বেগুনি
  4. কমলা

সঠিক উত্তর: (A) লাল (Red)

১১. আলো লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে কী ঘটে?

  1. অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়
  2. অভিলম্বের দিকে সরে আসে
  3. সোজা পথে চলে যায়
  4. ফিরে আসে

সঠিক উত্তর: (B) অভিলম্বের দিকে সরে আসে ($i > r$)

১২. আপতন কোণ $0^\circ$ হলে (লম্ব আপতন), প্রতিসরণ কোণের মান কত হবে?

  1. $90^\circ$
  2. $45^\circ$
  3. $0^\circ$
  4. $180^\circ$

সঠিক উত্তর: (C) $0^\circ$ (আলো সোজা চলে যায়, চ্যুতি হয় না)

১৩. উত্তল লেন্সের আলোক কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া রশ্মির চ্যুতি কত? [মাধ্যমিক ২০২০]

  1. $0^\circ$
  2. $90^\circ$
  3. $45^\circ$
  4. $30^\circ$

সঠিক উত্তর: (A) $0^\circ$

১৪. একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য $20 \text{ cm}$ হলে তার ক্ষমতা কত?

  1. $+20 \text{ D}$
  2. $+5 \text{ D}$
  3. $-5 \text{ D}$
  4. $+0.5 \text{ D}$

সঠিক উত্তর: (B) $+5 \text{ D}$ ($P = 100/f(\text{cm}) = 100/20 = 5$)

১৫. মানুষের চোখের লেন্সটি হলো— [মাধ্যমিক ২০১৮]

  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. সমতল দর্পণ
  4. প্রিজম

সঠিক উত্তর: (A) উত্তল লেন্স (দ্বি-উত্তল)

১৬. সুস্থ চোখের নিকট বিন্দুর দূরত্ব কত? [মাধ্যমিক ২০১৯]

  1. $25 \text{ m}$
  2. $2.5 \text{ m}$
  3. $25 \text{ cm}$
  4. $2.5 \text{ cm}$

সঠিক উত্তর: (C) $25 \text{ cm}$

১৭. দীর্ঘ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) ত্রুটি দূর করতে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?

  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. বাইফোকাল লেন্স
  4. বেলনাকার লেন্স

সঠিক উত্তর: (A) উত্তল লেন্স

১৮. হ্রস্ব দৃষ্টি বা মায়োপিয়া (Myopia) ত্রুটি দূর করতে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?

  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. টরিক লেন্স
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: (B) অবতল লেন্স (Concave Lens)

১৯. আতস কাঁচ (Magnifying Glass) হিসেবে কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়?

  1. অবতল লেন্স
  2. উত্তল লেন্স
  3. সমতল কাঁচ
  4. উত্তল দর্পণ

সঠিক উত্তর: (B) উত্তল লেন্স (কম ফোকাস দৈর্ঘ্যের)

২০. উত্তল লেন্সের সামনে বস্তুকে $2f$ দূরত্বে রাখলে প্রতিবিম্ব কোথায় গঠিত হবে?

  1. $f$-এ
  2. $2f$-এ
  3. অসীমে
  4. আলোক কেন্দ্রে

সঠিক উত্তর: (B) $2f$-এ (প্রতিবিম্বের আকার বস্তুর সমান হবে)

২১. আলোর বিচ্ছুরণের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ হলো—

  1. মরীচিকা
  2. রামধনু (Rainbow)
  3. নক্ষত্রের ঝিকিমিকি
  4. গোধূলি

সঠিক উত্তর: (B) রামধনু

২২. রামধনু সৃষ্টির মূল কারণ কী?

সঠিক উত্তর: আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion)

  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. বিচ্ছুরণ
  4. বিক্ষেপণ

সঠিক উত্তর: (C) বিচ্ছুরণ (সাথে প্রতিসরণ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনও ঘটে)

২৩. আকাশ নীল দেখায় আলোর কোন ধর্মের জন্য? [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০২২]

  1. বিচ্ছুরণ
  2. বিক্ষেপণ (Scattering)
  3. প্রতিসরণ
  4. প্রতিফলন

সঠিক উত্তর: (B) বিক্ষেপণ

২৪. সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

  1. লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি তাই বিক্ষেপণ কম হয়
  2. লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম
  3. লাল আলো চোখে আরামদায়ক
  4. সূর্যের তাপমাত্রা তখন কম থাকে

সঠিক উত্তর: (A) লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি তাই বিক্ষেপণ কম হয়

২৫. আলোর বিক্ষেপণ সংক্রান্ত র‍্যালের সূত্রানুসারে বিক্ষেপণের তীব্রতা ($I$) ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য ($\lambda$)-এর সম্পর্ক কী?

  1. $I \propto \lambda$
  2. $I \propto 1/\lambda$
  3. $I \propto 1/\lambda^2$
  4. $I \propto 1/\lambda^4$

সঠিক উত্তর: (D) $I \propto 1/\lambda^4$

২৬. কোন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?

  1. বেগুনি
  2. সবুজ
  3. লাল
  4. নীল

সঠিক উত্তর: (C) লাল

২৭. শূন্যস্থানে আলোর বেগ কত?

  1. $3 \times 10^8 \text{ m/s}$
  2. $3 \times 10^6 \text{ m/s}$
  3. $3 \times 10^{10} \text{ m/s}$
  4. $332 \text{ m/s}$

সঠিক উত্তর: (A) $3 \times 10^8 \text{ m/s}$

২৮. প্রতিসরাঙ্কের একক কী?

  1. মিটার
  2. ডিগ্রি
  3. ডায়াপ্টার
  4. কোনো একক নেই

সঠিক উত্তর: (D) কোনো একক নেই (দুটি বেগের অনুপাত)

২৯. একটি অবতল দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ $20 \text{ cm}$ হলে ফোকাস দৈর্ঘ্য কত?

  1. $10 \text{ cm}$
  2. $20 \text{ cm}$
  3. $40 \text{ cm}$
  4. $5 \text{ cm}$

সঠিক উত্তর: (A) $10 \text{ cm}$ ($f = R/2$)

৩০. কোন আলোক রশ্মি প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে কোন বর্ণের আলোর চ্যুতি সবচেয়ে কম হয়?

  1. বেগুনি
  2. নীল
  3. লাল
  4. হলুদ

সঠিক উত্তর: (C) লাল

৩১. দিনের বেলায় আকাশ নীল দেখায়, কিন্তু মহাকাশচারীরা আকাশকে কেমন দেখেন?

  1. নীল
  2. সাদা
  3. কালো
  4. লাল

সঠিক উত্তর: (C) কালো (বায়ুমণ্ডল না থাকায় বিক্ষেপণ হয় না)

৩২. বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহার করা হয় কেন?

  1. লাল আলো চোখে পড়ে বেশি
  2. লাল আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম, তাই বহুদূর থেকে দেখা যায়
  3. লাল আলোর বেগ বেশি
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: (B) লাল আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম

৩৩. নিচের কোনটি তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ নয়? [মাধ্যমিক ২০২০]

  1. বেতার তরঙ্গ
  2. এক্স-রশ্মি
  3. দৃশ্যমান আলো
  4. শব্দ তরঙ্গ

সঠিক উত্তর: (D) শব্দ তরঙ্গ (এটি যান্ত্রিক তরঙ্গ)

৩৪. গামা রশ্মি ($\gamma$-ray), এক্স-রশ্মি এবং অতিবেগুনি রশ্মির মধ্যে কার কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি?

  1. অতিবেগুনি রশ্মি
  2. এক্স-রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. সবার সমান

সঠিক উত্তর: (C) গামা রশ্মি (শক্তি ও কম্পাঙ্ক সর্বাধিক)

৩৫. ক্যামেরায় কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?

  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. সমতল দর্পণ
  4. উত্তল দর্পণ

সঠিক উত্তর: (A) উত্তল লেন্স

৩৬. লেন্সের ক্ষমতার একক কী?

  1. মিটার
  2. সেন্টিমিটার
  3. ডায়াপ্টার ($D$)
  4. ওয়াট

সঠিক উত্তর: (C) ডায়াপ্টার ($D$)

৩৭. শূন্যস্থানে আলোর বিচ্ছুরণ হয় না কেন?

  1. আলোর বেগ শূন্য হয়
  2. সব বর্ণের আলোর বেগ সমান থাকে
  3. আলো সরলরেখায় চলে না
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: (B) সব বর্ণের আলোর বেগ সমান থাকে

৩৮. সিনেমার পর্দায় গঠিত প্রতিবিম্ব কেমন হয়?

  1. সদ ও অবশীর্ষ
  2. অসদ ও সমশীর্ষ
  3. সদ ও সমশীর্ষ
  4. অসদ ও অবশীর্ষ

সঠিক উত্তর: (A) সদ ও অবশীর্ষ (লেন্সের ফোকাসের বাইরে ফিল্ম থাকে)

৩৯. প্রিজমে আপতন কোণ বাড়তে থাকলে চ্যুতিকোণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়?

  1. ক্রমাগত বাড়ে
  2. ক্রমাগত কমে
  3. প্রথমে কমে, সর্বনিম্ন হয়, তারপর বাড়ে
  4. প্রথমে বাড়ে তারপর কমে

সঠিক উত্তর: (C) প্রথমে কমে, সর্বনিম্ন হয়, তারপর বাড়ে

৪০. সাদা আলো প্রিজমে পড়লে কয়টি রঙে বিশ্লিষ্ট হয়?

  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি

সঠিক উত্তর: (C) ৭টি (BENIAHAKALA)

বিভাগ-ক: বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) – অতিরিক্ত ২০টি

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান | অধ্যায়: আলো | প্রশ্ন সংখ্যা: ৪১-৬০


৪১. প্রতিসরণের সময় আলোর কোন ধর্মটি অপরিবর্তিত থাকে? [মাধ্যমিক ২০১৯]

  1. বেগ
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  3. কম্পাঙ্ক (Frequency)
  4. তীব্রতা

সঠিক উত্তর: (C) কম্পাঙ্ক

৪২. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটার জন্য আলোক রশ্মিকে—

  1. লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যেতে হবে
  2. ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে
  3. যেকোনো মাধ্যমে গেলেই হবে
  4. দর্পণে আপতিত হতে হবে

সঠিক উত্তর: (B) ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে

৪৩. সংকট কোণ (Critical Angle) $\theta_c$ এবং মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক $\mu$-এর মধ্যে সম্পর্কটি হলো—

  1. $\mu = \sin \theta_c$
  2. $\mu = 1 / \sin \theta_c$
  3. $\mu = \cos \theta_c$
  4. $\mu = \tan \theta_c$

সঠিক উত্তর: (B) $\mu = \frac{1}{\sin \theta_c}$ (বা $\mu = \text{cosec } \theta_c$)

৪৪. মরুভূমির মরীচিকা (Mirage) সৃষ্টির কারণ কী?

  1. আলোর বিচ্ছুরণ
  2. আলোর বিক্ষেপণ
  3. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন
  4. আলোর অপবর্তন

সঠিক উত্তর: (C) অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন

৪৫. প্রিজমের প্রতিসারক কোণ $A$, আপতন কোণ $i_1$, নির্গমন কোণ $i_2$ হলে চ্যুতিকোণ $\delta$-এর রাশিমালাটি হলো— [মাধ্যমিক ২০১৭]

  1. $\delta = i_1 + i_2 – A$
  2. $\delta = i_1 – i_2 + A$
  3. $\delta = A – (i_1 + i_2)$
  4. $\delta = i_1 + i_2 + A$

সঠিক উত্তর: (A) $\delta = i_1 + i_2 – A$

৪৬. মানুষের চোখের রেটিনায় গঠিত প্রতিবিম্বটি কেমন হয়?

  1. সদ ও সমশীর্ষ
  2. সদ ও অবশীর্ষ (উল্টো)
  3. অসদ ও সমশীর্ষ
  4. অসদ ও অবশীর্ষ

সঠিক উত্তর: (B) সদ ও অবশীর্ষ (মস্তিষ্ক এটিকে সোজা করে দেখে)

৪৭. লেন্সের রৈখিক বিবর্ধন ($m$), বস্তুর দূরত্ব ($u$) এবং প্রতিবিম্বের দূরত্ব ($v$)-এর সম্পর্কটি হলো—

  1. $m = u/v$
  2. $m = v/u$
  3. $m = u \times v$
  4. $m = 1/v$

সঠিক উত্তর: (B) $m = v/u$

৪৮. কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি কোন বর্ণের আলোর জন্য?

  1. লাল
  2. সবুজ
  3. হলুদ
  4. বেগুনি

সঠিক উত্তর: (D) বেগুনি (তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম বলে প্রতিসরাঙ্ক বেশি)

৪৯. একটি অবতল দর্পণের ফোকাস ও মেরুর মাঝখানে বস্তু রাখলে প্রতিবিম্বের প্রকৃতি কী হবে?

  1. সদ ও বিবর্ধিত
  2. অসদ ও খর্বাকৃতি
  3. অসদ ও বিবর্ধিত
  4. সদ ও খর্বাকৃতি

সঠিক উত্তর: (C) অসদ ও বিবর্ধিত (দাঁড়ি কামানোর দর্পণের নীতি)

৫০. বায়ু সাপেক্ষে হীরকের সংকট কোণের মান কত?

  1. $48.5^\circ$
  2. $24.4^\circ$
  3. $90^\circ$
  4. $42^\circ$

সঠিক উত্তর: (B) $24.4^\circ$ (খুব কম বলেই হীরা চকচক করে)

৫১. আলোক তরঙ্গ এক প্রকার—

  1. তড়িৎচৌম্বকীয় তির্যক তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. যান্ত্রিক তির্যক তরঙ্গ
  4. স্থিতিস্থাপক তরঙ্গ

সঠিক উত্তর: (A) তড়িৎচৌম্বকীয় তির্যক তরঙ্গ

৫২. উত্তল লেন্সের সামনে বস্তুকে ফোকাস ($f$)-এ রাখলে প্রতিবিম্ব গঠিত হবে—

  1. ফোকাসে
  2. বক্রতা কেন্দ্রে
  3. অসীমে
  4. লেন্সের পেছনে

সঠিক উত্তর: (C) অসীমে

৫৩. আকাশ নীল দেখালেও মেঘ সাদা দেখায় কেন?

  1. মেঘের কণাগুলি বড়, তাই সব বর্ণের আলো সমানভাবে বিক্ষেপিত হয়
  2. মেঘে আলোর প্রতিসরণ হয়
  3. মেঘ আলো শোষণ করে
  4. মেঘের উচ্চতা কম

সঠিক উত্তর: (A) মেঘের কণাগুলি বড়, তাই সব বর্ণের আলো সমানভাবে বিক্ষেপিত হয় (Mie Scattering)

৫৪. গাড়ির হেডলাইটে কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহার করা হয়?

  1. সমতল দর্পণ
  2. উত্তল দর্পণ
  3. অধিবৃত্তাকার অবতল দর্পণ (Parabolic Concave)
  4. গোলাকার অবতল দর্পণ

সঠিক উত্তর: (C) অধিবৃত্তাকার অবতল দর্পণ (সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ পাওয়ার জন্য)

৫৫. চোখের কোন অংশে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না?

  1. পীত বিন্দু
  2. অন্ধ বিন্দু (Blind Spot)
  3. কর্নিয়া
  4. আইরিস

সঠিক উত্তর: (B) অন্ধ বিন্দু

৫৬. $\mu = A + \frac{B}{\lambda^2}$ — এটি কার সূত্র?

  1. স্নেল (Snell)
  2. কোশি (Cauchy)
  3. নিউটন
  4. হাইগেন

সঠিক উত্তর: (B) কোশি (প্রতিসরাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক)

৫৭. সাদা আলোর বর্ণালীতে প্রিজমের ভূমির দিকে কোন বর্ণ থাকে?

  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. হলুদ
  4. সবুজ

সঠিক উত্তর: (B) বেগুনি (কারণ এর বিচ্যুতি বা বাঁক সবথেকে বেশি)

৫৮. চোখের উপযোজন (Accommodation) বলতে কী বোঝায়?

  1. চোখের রঙের পরিবর্তন
  2. ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা
  3. রেটিনার আকার পরিবর্তন
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: (B) লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা

৫৯. কোনো লেন্সের ক্ষমতা $+2.5D$ হলে, লেন্সটির ফোকাস দৈর্ঘ্য কত?

  1. $40 \text{ cm}$
  2. $25 \text{ cm}$
  3. $50 \text{ cm}$
  4. $100 \text{ cm}$

সঠিক উত্তর: (A) $40 \text{ cm}$ ($f = 100/P = 100/2.5 = 40$)

৬০. আলোর কোন ধর্মের জন্য জলের নিচে রাখা পেন্সিলকে বাঁকা মনে হয়?

  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. অপবর্তন
  4. বিচ্ছুরণ

সঠিক উত্তর: (B) প্রতিসরণ

অধ্যায়: আলো (Light)

বিভাগ: শূন্যস্থান পূরণ ও অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন


বিভাগ-খ: শূন্যস্থান পূরণ করো (২০টি)

১. গোলীয় দর্পণের মেরু এবং বক্রতা কেন্দ্রের সংযোজী সরলরেখাকে _______ বলে।

উত্তর: প্রধান অক্ষ (Principal Axis)

২. দন্ত চিকিৎসায় _______ দর্পণ ব্যবহৃত হয়। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: অবতল (Concave)

৩. আলোক রশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে _______ দিকে সরে আসে।

উত্তর: অভিলম্বের

৪. প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর বিচ্ছুরণে _______ বর্ণের চ্যুতি সবচেয়ে বেশি।

উত্তর: বেগুনি

৫. লেন্সের ক্ষমতার এস.আই (SI) একক হলো _______।

উত্তর: ডায়াপ্টার (Dioptre)

৬. সুস্থ চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্ব _______। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: $25 \text{ cm}$

৭. দীর্ঘ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া প্রতিকারে _______ লেন্স ব্যবহৃত হয়।

উত্তর: উত্তল (Convex)

৮. আলোর _______ ধর্মের জন্য আকাশ নীল দেখায়।

উত্তর: বিক্ষেপণ (Scattering)

৯. শূন্যস্থানে আলোর বেগ _______ মিটার/সেকেন্ড।

উত্তর: $3 \times 10^8$

১০. অবতল দর্পণকে _______ দর্পণও বলা হয়।

উত্তর: অভিসারী (Converging)

১১. কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি _______ বর্ণের আলোর জন্য।

উত্তর: বেগুনি

১২. উত্তল লেন্স দ্বারা গঠিত সদ বিম্ব সর্বদা _______ হয়।

উত্তর: অবশীর্ষ (Inverted)

১৩. গাড়ির হেডলাইটে _______ দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

উত্তর: অধিবৃত্তাকার অবতল (Parabolic Concave)

১৪. _______ কোণের মান $90^\circ$ হলে প্রতিসরণ কোণকে সংকট কোণ বলে।

উত্তর: প্রতিসরণ

১৫. দিনের বেলা আকাশ দেখার জন্য বায়ুমণ্ডলের _______ থাকা জরুরি।

উত্তর: ধূলিকণা / গ্যাসীয় অণু

১৬. $\mu = \frac{\sin i}{\sin r}$ সূত্রটি _______ সূত্র নামে পরিচিত।

উত্তর: স্নেলের (Snell’s)

১৭. ক্যামেরায় _______ লেন্স ব্যবহৃত হয়।

উত্তর: উত্তল

১৮. লাল ফুলের ওপর সবুজ আলো ফেললে ফুলটি _______ দেখাবে।

উত্তর: কালো

১৯. এক্স-রশ্মি (X-ray) হলো একপ্রকার _______ তরঙ্গ।

উত্তর: তড়িৎচৌম্বকীয়

২০. একটি সমতল দর্পণের ফোকাস দৈর্ঘ্য _______।

উত্তর: অসীম ($\infty$)


বিভাগ-গ: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (৫০টি)

১. গোলীয় দর্পণের ফোকাস দৈর্ঘ্য ($f$) ও বক্রতা ব্যাসার্ধ ($r$)-এর সম্পর্কটি লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: $f = \frac{r}{2}$ বা $r = 2f$।

২. কোন দর্পণ সর্বদা অসদ ও খর্বাকৃতি (ছোট) প্রতিবিম্ব গঠন করে?

উত্তর: উত্তল দর্পণ।

৩. গাড়ির ‘রিয়ার ভিউ মিরর’ বা ভিউ ফাইন্ডারে কোন দর্পণ থাকে? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: উত্তল দর্পণ।

৪. দাড়ি কামানোর জন্য (Shaving mirror) কোন দর্পণ উপযুক্ত?

উত্তর: অবতল দর্পণ।

৫. স্নেলের সূত্রটি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না?

উত্তর: লম্ব আপতনের ক্ষেত্রে (যখন আপতন কোণ $0^\circ$ হয়)।

৬. প্রতিসরাঙ্ক ($\mu$)-এর একক কী?

উত্তর: প্রতিসরাঙ্ক দুটি সমজাতীয় রাশির অনুপাত, তাই এর কোনো একক নেই।

৭. হীরক ও কাঁচের মধ্যে কার প্রতিসরাঙ্ক বেশি?

উত্তর: হীরকের ($2.42$)।

৮. লম্ব আপতনের ক্ষেত্রে চ্যুতিকোণের মান কত?

উত্তর: $0^\circ$ (শূন্য ডিগ্রি)।

৯. আয়তাকার কাঁচের স্ল্যাবে আলোক রশ্মির চ্যুতি কত হয়?

উত্তর: $0^\circ$ (আপতিত ও নির্গত রশ্মি সমান্তরাল থাকে)।

১০. একটি প্রিজমে কয়টি তল থাকে?

উত্তর: ৫টি (দুটি ত্রিভুজাকার ও তিনটি আয়তাকার)।

১১. প্রিজমের চ্যুতিকোণ ($\delta$)-এর রাশিমালাটি লেখো।

উত্তর: $\delta = i_1 + i_2 – A$।

১২. ন্যূনতম চ্যুতির অবস্থানে প্রিজমের আপতন কোণ ও নির্গমন কোণের সম্পর্ক কী?

উত্তর: আপতন কোণ ও নির্গমন কোণ সমান হয় ($i_1 = i_2$)।

১৩. কোন লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলা হয়?

উত্তর: উত্তল লেন্সকে।

১৪. কোন লেন্সকে অপসারী লেন্স বলা হয়?

উত্তর: অবতল লেন্সকে।

১৫. বিবর্ধক কাঁচ (Magnifying Glass) হিসেবে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: কম ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স।

১৬. লেন্সের আলোক কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া রশ্মির চ্যুতি কত?

উত্তর: $0^\circ$।

১৭. উত্তল লেন্সের ফোকাস বিন্দুতে বস্তু রাখলে প্রতিবিম্ব কোথায় গঠিত হয়?

উত্তর: অসীমে।

১৮. মানুষের চোখের লেন্সটি কী প্রকৃতির?

উত্তর: উভোত্তল (Biconvex)।

১৯. রেটিনায় গঠিত প্রতিবিম্বের প্রকৃতি কেমন হয়?

উত্তর: সদ ও অবশীর্ষ (Real and Inverted)।

২০. মায়োপিয়া বা হ্রস্ব দৃষ্টির কারণ কী?

উত্তর: অক্ষিগোলকের আকার বড় হয়ে যাওয়া বা লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া।

২১. হাইপারমেট্রোপিয়া বা দীর্ঘ দৃষ্টির প্রতিকারে কোন চশমা ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: উত্তল লেন্স যুক্ত চশমা।

২২. সাদা আলোর বিচ্ছুরণের প্রাকৃতিক দৃষ্টান্ত কী?

উত্তর: রামধনু (Rainbow)।

২৩. বর্ণালীর প্রান্তিক বর্ণ দুটি কী কী?

উত্তর: লাল ও বেগুনি।

২৪. কোন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?

উত্তর: বেগুনি।

২৫. শূন্যস্থানে আলোর বিচ্ছুরণ হয় কি?

উত্তর: না, কারণ শূন্যস্থানে সব বর্ণের আলোর বেগ সমান।

২৬. আলোর বিক্ষেপণ (Scattering) সংক্রান্ত র‍্যালের সূত্রটি লেখো।

উত্তর: বিক্ষেপণের তীব্রতা $I \propto \frac{1}{\lambda^4}$ (যেখানে $\lambda$ হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য)।

২৭. কোন বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: বেগুনি (বা নীল)।

২৮. আকাশ নীল দেখায় কেন?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের কণা দ্বারা সূর্যের সাদা আলোর বিক্ষেপণের জন্য (নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়)।

২৯. বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহারের কারণ কী?

উত্তর: লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম এবং এটি বহুদূর থেকে দেখা যায়।

৩০. গামা রশ্মির একটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: ক্যানসার চিকিৎসায় (রেডিওথেরাপি) ব্যবহৃত হয়।

৩১. এক্স-রশ্মির একটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: শরীরের হাড় ভেঙে গেলে বা ফাটল ধরলে তা নির্ণয় করতে।

৩২. অতিবেগুনি রশ্মির (UV Ray) একটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।

উত্তর: ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং চোখের ক্ষতি করে।

৩৩. অবতল দর্পণ কখন অসদ বিম্ব গঠন করে?

উত্তর: যখন বস্তুকে ফোকাস ও মেরুর মাঝখানে রাখা হয়।

৩৪. লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য ($f$) ও ক্ষমতা ($P$)-এর সম্পর্ক কী?

উত্তর: $P = \frac{1}{f \text{ (in meter)}}$।

৩৫. একটি লেন্সের ক্ষমতা $+2D$। লেন্সটি কী প্রকৃতির?

উত্তর: পজিটিভ ক্ষমতা হওয়ায় এটি উত্তল লেন্স।

৩৬. বায়ু সাপেক্ষে কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক ১.৫ হলে, কাঁচ সাপেক্ষে বায়ুর প্রতিসরাঙ্ক কত?

উত্তর: $\frac{1}{1.5} = \frac{2}{3} \approx 0.67$।

৩৭. মোটর গাড়ির হেডলাইটে কোন দর্পণ ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: অধিবৃত্তাকার অবতল দর্পণ (Parabolic mirror)।

৩৮. দিনের বেলা চাঁদের আকাশ কেমন দেখায়?

উত্তর: কালো (কারণ চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই বিক্ষেপণ হয় না)।

৩৯. মৌলিক বর্ণ (Primary Colors) কোনগুলি?

উত্তর: লাল, সবুজ ও নীল।

৪০. সাদা আলো প্রিজমে পড়লে কয়টি বর্ণে বিশ্লিষ্ট হয়?

উত্তর: ৭টি বর্ণে (VIBGYOR)।

৪১. কোন মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোর বেগের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত?

উত্তর: $\mu = \frac{c \text{ (শূন্যস্থানে বেগ)}}{v \text{ (মাধ্যমে বেগ)}}$।

৪২. চোখের উপযোজন (Accommodation) কী?

উত্তর: চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতা।

৪৩. চালশে বা প্রেসায়োপিয়া (Presbyopia) দূর করতে কোন লেন্স লাগে?

উত্তর: বাইফোকাল (Bi-focal) লেন্স।

৪৪. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের একটি শর্ত লেখো।

উত্তর: আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে।

৪৫. হীরা চকচক করে কেন?

উত্তর: হীরার প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি এবং সংকট কোণ খুব কম ($24.4^\circ$), তাই এতে আলোর অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে।

৪৬. মরীচিকা (Mirage) আলোর কোন ঘটনার ফল?

উত্তর: অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন।

৪৭. সবুজ কাঁচের মধ্য দিয়ে লাল ফুল দেখলে কেমন দেখাবে?

উত্তর: কালো (কারণ সবুজ কাঁচ লাল আলো শোষণ করে নেয়)।

৪৮. কোন আলোক রশ্মির চ্যুতি সবচেয়ে কম হয়?

উত্তর: লাল বর্ণের আলোর।

৪৯. উত্তল লেন্স কখন অবতল লেন্সের মতো আচরণ করে?

উত্তর: যখন লেন্সটিকে তার উপাদানের চেয়ে বেশি প্রতিসরাঙ্ক বিশিষ্ট কোনো তরলে ডোবানো হয়।

৫০. $1$ অ্যাংস্ট্রম ($1 \mathring{A}$) সমান কত মিটার?

উত্তর: $10^{-10}$ মিটার।

বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ২)

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান | অধ্যায়: আলো | মোট প্রশ্ন: ৪৫


ক. গোলীয় দর্পণে প্রতিফলন

১. মোটর গাড়ির ভিউ ফাইন্ডার বা রিয়ার ভিউ মিরর (Rear view mirror) হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৮, ২০২০]

উত্তর: উত্তল দর্পণ সর্বদা বস্তুর সোজা এবং খর্বাকৃতি (ছোট) অসদ বিম্ব গঠন করে। সমতল দর্পণের তুলনায় উত্তল দর্পণের দৃষ্টির ক্ষেত্র (Field of view) অনেক বেশি প্রশস্ত। তাই চালক পেছনের অনেক বিস্তৃত এলাকার গাড়ি বা রাস্তা ছোট আয়নায় দেখতে পান, যা গাড়ি চালাতে সুবিধা দেয়।

২. দন্ত চিকিৎসকরা বা দাড়ি কামানোর জন্য অবতল দর্পণ ব্যবহার করেন কেন?

উত্তর: অবতল দর্পণের ফোকাস ও মেরুর মাঝখানে কোনো বস্তু রাখলে দর্পণের পেছনে বস্তুটির একটি সোজা এবং বিবর্ধিত (বড়) অসদ বিম্ব গঠিত হয়। দাঁত বা গাল ফোকাসের মধ্যে রাখলে ডাক্তার বা ব্যবহারকারী সেই অংশের বড় প্রতিবিম্ব দেখতে পান, ফলে কাজ করতে সুবিধা হয়।

৩. গোলীয় দর্পণের ফোকাস এবং ফোকাস দূরত্ব কাকে বলে?

উত্তর: গোলীয় দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরাল আলোক রশ্মiguচ্ছ দর্পণে প্রতিফলিত হওয়ার পর প্রধান অক্ষের ওপর যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় (অবতল) বা যে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় (উত্তল), তাকে ফোকাস বলে।
দর্পণের মেরু থেকে এই ফোকাস বিন্দুর দূরত্বকে ফোকাস দূরত্ব ($f$) বলে।

৪. গোলীয় দর্পণের মুখ্য ফোকাস ও বক্রতা কেন্দ্রের মধ্যে সম্পর্কটি প্রতিষ্ঠা করো (ক্ষুদ্র উন্মেষযুক্ত দর্পণের ক্ষেত্রে)।

উত্তর: উপাক্ষীয় রশ্মির ক্ষেত্রে গোলীয় দর্পণের ফোকাস দূরত্ব ($f$) তার বক্রতা ব্যাসার্ধের ($r$) অর্ধেক হয়।
অর্থাৎ, $f = \frac{r}{2}$ বা $r = 2f$।

৫. উত্তল ও অবতল দর্পণের একটি করে ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখো।

উত্তর: উত্তল দর্পণ: গাড়ির ভিউ ফাইন্ডার বা রাস্তার স্ট্রিট লাইটের প্রতিফলক হিসেবে।
অবতল দর্পণ: টর্চ লাইট, গাড়ির হেডলাইট বা দন্ত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৬. অবতল দর্পণ দ্বারা গঠিত প্রতিবিম্ব কখন সদ ও কখন অসদ হয়?

উত্তর: বস্তুকে ফোকাসের বাইরে (বক্রতা কেন্দ্রে বা অসীমে) রাখলে সদ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। কিন্তু বস্তুকে ফোকাস ও মেরুর মাঝখানে রাখলে অসদ ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

খ. আলোর প্রতিসরণ (স্ল্যাব ও প্রিজম)

৭. আলোর প্রতিসরণের সূত্র দুটি বিবৃত করো। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ১) আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২) দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যম ও নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে আপতন কোণের সাইন ($\sin i$) ও প্রতিসরণ কোণের সাইন ($\sin r$)-এর অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয়। ($\frac{\sin i}{\sin r} = \mu$)। এটি স্নেলের সূত্র নামে পরিচিত।

৮. প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index) কাকে বলে? এটি কিসের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: শূন্যস্থানে আলোর বেগ ($c$) এবং কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে আলোর বেগের ($v$) অনুপাতকে ওই মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক ($\mu$) বলে। ($\mu = c/v$)।
এটি মাধ্যমের প্রকৃতি, আলোর বর্ণ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে।

৯. দেখাও যে, আয়তাকার কাঁচের স্ল্যাবে আলোর প্রতিসরণের ফলে কোনো চ্যুতি হয় না, কেবল পার্শ্বসরণ ঘটে।

উত্তর: কাঁচের স্ল্যাবে আলো যখন বায়ু থেকে কাঁচে প্রবেশ করে এবং পরে কাঁচ থেকে বায়ুতে নির্গত হয়, তখন আপতন কোণ ($i_1$) এবং নির্গমন কোণ ($i_2$) সমান হয়। যেহেতু আপতিত রশ্মি ও নির্গত রশ্মি পরস্পরের সমান্তরাল থাকে, তাই তাদের কোনো কৌণিক চ্যুতি ঘটে না ($i_1 – i_2 = 0$), কেবল রশ্মিটি কিছুটা পাশে সরে যায় (পার্শ্বসরণ)।

১০. প্রিজমের ন্যূনতম চ্যুতির শর্ত কী?

উত্তর: প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণের সময় চ্যুতিকোণ সর্বনিম্ন বা ন্যূনতম হবে যখন:
১) আপতন কোণ ($i_1$) এবং নির্গমন কোণ ($i_2$) সমান হবে ($i_1 = i_2$)।
২) প্রিজমের ভেতরে প্রতিসৃত রশ্মিটি প্রিজমের ভূমির সমান্তরাল হবে।

১১. স্নেলের সূত্রটি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? চিত্রসহ দেখাও।

উত্তর: আলোক রশ্মি যখন দুই মাধ্যমের বিভেদতলে লম্বভাবে আপতিত হয় (অর্থাৎ আপতন কোণ $i = 0^\circ$), তখন রশ্মিটি কোনো বাঁক না নিয়ে সোজাসুজি দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে ($r = 0^\circ$)। এই বিশেষ ক্ষেত্রে স্নেলের সূত্র ($\frac{\sin i}{\sin r}$) অসংজ্ঞায়িত হয়, তাই প্রযোজ্য নয়।

১২. আপেক্ষিক প্রতিসরাঙ্ক ও পরম প্রতিসরাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: ১ নং মাধ্যমের সাপেক্ষে ২ নং মাধ্যমের আপেক্ষিক প্রতিসরাঙ্ক ($_1\mu_2$) হলো মাধ্যম দুটির পরম প্রতিসরাঙ্কের অনুপাত।
$_1\mu_2 = \frac{\mu_2}{\mu_1}$ (যেখানে $\mu_1$ ও $\mu_2$ হলো যথাক্রমে ১ ও ২ নং মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক)।

১৩. হীরকের প্রতিসরাঙ্ক ২.৪২ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: এর অর্থ হলো, শূন্যস্থানে আলোর বেগ ও হীরকে আলোর বেগের অনুপাত ২.৪২। অথবা, আলোক রশ্মি শূন্যস্থান থেকে হীরাতে প্রবেশ করলে, আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত ২.৪২ হবে।

১৪. আলোর প্রতিসরণ কেন হয়?

উত্তর: বিভিন্ন মাধ্যমে আলোর বেগ বিভিন্ন হয়। আলোক রশ্মি যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য ভিন্ন ঘনত্বের মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন আলোর বেগের পরিবর্তনের জন্য রশ্মির গতিপথের দিক পরিবর্তিত হয়। একেই প্রতিসরণ বলে।

গ. লেন্স (Lenses)

১৫. উত্তল লেন্সকে ‘অভিসারী লেন্স’ বলা হয় কেন?

উত্তর: উত্তল লেন্সের ওপর সমান্তরাল আলোক রশ্মiguচ্ছ আপতিত হলে, প্রতিসরণের পর তারা একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাসে) মিলিত হয় বা অভিসারী গুচ্ছে পরিণত হয়। তাই উত্তল লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলে।

[attachment_0](attachment)

১৬. অবতল লেন্সকে ‘অপসারী লেন্স’ বলা হয় কেন?

উত্তর: অবতল লেন্সের ওপর সমান্তরাল আলোক রশ্মiguচ্ছ আপতিত হলে, প্রতিসরণের পর তারা পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় বা অপসারী গুচ্ছে পরিণত হয় (মনে হয় যেন কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে)। তাই একে অপসারী লেন্স বলে।

১৭. লেন্সের আলোক কেন্দ্র (Optical Centre) কাকে বলে? [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: লেন্সের প্রধান অক্ষের ওপর অবস্থিত এমন একটি বিন্দু, যার মধ্য দিয়ে কোনো আলোক রশ্মি গেলে প্রতিসরণের পর নির্গত রশ্মিটি আপতিত রশ্মির সমান্তরাল হয় (বা পাতলা লেন্সের ক্ষেত্রে সোজাসুজি বেরিয়ে যায়), সেই বিন্দুকে আলোক কেন্দ্র বলে।

১৮. উত্তল লেন্সের ফোকাস কাকে বলে?

উত্তর: উত্তল লেন্সের প্রধান অক্ষের সমান্তরাল আলোক রশ্মiguচ্ছ লেন্স দ্বারা প্রতিসরণের পর প্রধান অক্ষের ওপর যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়, তাকে উত্তল লেন্সের প্রধান ফোকাস বা ফোকাস বলে।

১৯. লেন্সের ক্ষমতা (Power of Lens) বলতে কী বোঝো? এর একক কী?

উত্তর: লেন্সের আলোক রশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার সামর্থ্যকে তার ক্ষমতা বলে। এটি লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্যের (মিটারে প্রকাশিত) অন্যোনক।
$P = \frac{1}{f (\text{mitre})}$।
একক: ডায়াপ্টার ($D$)।

২০. বিবর্ধক কাঁচ (Magnifying Glass) হিসেবে উত্তল লেন্স ব্যবহারের নীতি কী?

উত্তর: একটি স্বল্প ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বের মধ্যে কোনো বস্তুকে রাখলে, লেন্সের যে পাশে বস্তু আছে, সেই পাশেই বস্তুটির একটি সোজা, অসদ এবং বিবর্ধিত (বড়) প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এই নীতিকেই বিবর্ধক কাঁচে কাজে লাগানো হয়।

২১. একটি লেন্স উত্তল না অবতল, তা স্পর্শ না করে কীভাবে বুঝবে?

উত্তর: লেন্সটিকে একটি বইয়ের পাতার খুব কাছে ধরলে:
১) যদি অক্ষরগুলো বড় দেখায়, তবে সেটি উত্তল লেন্স
২) যদি অক্ষরগুলো ছোট দেখায়, তবে সেটি অবতল লেন্স

২২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে কীভাবে সদ ও অবশীর্ষ প্রতিবিম্ব গঠন করা যায়? (শর্ত লেখো)

উত্তর: বস্তুকে উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বের বাইরে (অর্থাৎ $f$ অপেক্ষা বেশি দূরত্বে) রাখলে লেন্সের বিপরীত পাশে একটি সদ ও অবশীর্ষ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

২৩. সদ বিম্ব ও অসদ বিম্বের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) সদ বিম্ব চোখে দেখা যায় এবং পর্দায় ফেলা যায়; অসদ বিম্ব চোখে দেখা যায় কিন্তু পর্দায় ফেলা যায় না।
২) সদ বিম্ব সর্বদা অবশীর্ষ (উল্টো) হয়; অসদ বিম্ব সর্বদা সমশীর্ষ (সোজা) হয়।

২৪. রৈখিক বিবর্ধন ($m$) কাকে বলে? এর মান $1$-এর চেয়ে বেশি হওয়ার অর্থ কী?

উত্তর: প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য (বা আকার) এবং বস্তুর দৈর্ঘ্য (বা আকার)-এর অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে।
$m = \frac{\text{প্রতিবিম্বের উচ্চতা}}{\text{বস্তুর উচ্চতা}}$।
$m > 1$ হওয়ার অর্থ হলো প্রতিবিম্বটি বস্তুর চেয়ে আকারে বড় বা বিবর্ধিত।

ঘ. বিচ্ছুরণ, বিক্ষেপণ ও চোখ

২৫. আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion) কাকে বলে? একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ দাও। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: সাদা বা যৌগিক আলো কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমের (যেমন প্রিজম) মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তার উপাদান বর্ণগুলিতে বিশ্লিষ্ট বা বিভক্ত হওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
উদাহরণ: বৃষ্টির পর আকাশে রামধনু সৃষ্টি।

২৬. বর্ণালী (Spectrum) কাকে বলে? শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বর্ণালীর উদাহরণ দাও।

উত্তর: সাদা আলো বিচ্ছুরিত হয়ে যে সাতটি বর্ণের পট্টি সৃষ্টি করে, তাকে বর্ণালী বলে।
শুদ্ধ বর্ণালী: যেখানে বর্ণগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায় না (যেমন- স্পেকট্রোমিটারের বর্ণালী)।
অশুদ্ধ বর্ণালী: যেখানে বর্ণগুলো একে অপরের ওপর উপরিপাতিত হয় (যেমন- রামধনু)।

২৭. লাল ও বেগুনি আলোর মধ্যে কার চ্যুতি বেশি এবং কেন?

উত্তর: বেগুনি আলোর চ্যুতি বেশি।
কারণ: কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে প্রতিসরাঙ্ক কম, তাই চ্যুতি কম। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম বলে প্রতিসরাঙ্ক বেশি, তাই চ্যুতি বেশি।

২৮. আলোর বিক্ষেপণ (Scattering) কাকে বলে?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা বা গ্যাসীয় অণুর ওপর আলোক রশ্মি আপতিত হলে, ওই কণাগুলি আলোকে শোষণ করে এবং পরে সেই আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত রেখে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে।

[attachment_1](attachment)

২৯. আকাশ নীল দেখায় কেন? [মাধ্যমিক ২০২২]

উত্তর: র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্রানুসারে, বিক্ষেপণের তীব্রতা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক ($I \propto 1/\lambda^4$)। সূর্যের সাদা আলোর মধ্যে নীল ও বেগুনি বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় বায়ুমণ্ডলের কণা দ্বারা এদের বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি হয়। আমাদের চোখ বেগুনির চেয়ে নীলের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাই আমরা আকাশকে নীল দেখি।

৩০. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

উত্তর: সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সূর্য দিগন্তরেখায় থাকে, তাই আলোকরশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। এই সময় কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (নীল/বেগুনি) আলোগুলো বিক্ষেপণের ফলে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের চোখে পৌঁছায় না। কেবল বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো কম বিক্ষেপিত হয়ে সরাসরি আমাদের চোখে আসে, তাই সূর্যকে লাল দেখায়।

৩১. বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। র‍্যালের সূত্রানুসারে, লাল আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয়। তাই কুয়াশা বা ধোঁয়ার মধ্যেও লাল আলো বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

৩২. মায়োপিয়া বা হ্রস্ব দৃষ্টি কী? এর প্রতিকার কী? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: চোখের যে ত্রুটির জন্য কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় কিন্তু দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখায়, তাকে মায়োপিয়া বা হ্রস্ব দৃষ্টি বলে।
প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের অবতল লেন্স (Concave Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করতে হয়।

৩৩. হাইপারমেট্রোপিয়া বা দীর্ঘ দৃষ্টি কী? এর প্রতিকার কী?

উত্তর: চোখের যে ত্রুটির জন্য দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় কিন্তু কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখায়, তাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বলে।
প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স (Convex Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করতে হয়।

৩৪. শূন্যস্থানে বা বায়ুশূন্য স্থানে কি আলোর বিক্ষেপণ সম্ভব? কেন?

উত্তর: না, সম্ভব নয়।
বিক্ষেপণের জন্য বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা বা গ্যাসীয় অণুর উপস্থিতি প্রয়োজন। শূন্যস্থানে কোনো কণা থাকে না, তাই আলোকে শোষণ করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার কেউ থাকে না। ফলে বিক্ষেপণ হয় না এবং আকাশ কালো দেখায়।

৩৫. দিনের বেলা চাঁদের আকাশ কালো দেখায় কেন?

উত্তর: চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। তাই সূর্যের আলো চাঁদে পড়লে তার কোনো বিক্ষেপণ ঘটে না। বিক্ষেপিত আলো আমাদের চোখে না পৌঁছানোর কারণে চাঁদের আকাশ দিনের বেলাতেও ঘুটঘুটে কালো দেখায়।

৩৬. একবর্ণী ও বহুবর্ণী আলোর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ১) একবর্ণী আলো: এতে কেবল একটিমাত্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বা বর্ণের আলো থাকে (যেমন- সোডিয়াম ল্যাম্পের হলুদ আলো, লেজার)।
২) বহুবর্ণী বা যৌগিক আলো: এতে একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বা বর্ণের আলো মিশ্রিত থাকে (যেমন- সূর্যের সাদা আলো)।

৩৭. এক্স-রশ্মি (X-ray) কী? এর দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: এক্স-রশ্মি হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একপ্রকার শক্তিশালী তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
ব্যবহার: ১) চিকিৎসাক্ষেত্র: শরীরের হাড় ভাঙা বা ফাটল নির্ণয়ে। ২) নিরাপত্তা: বিমানবন্দরে লাগেজের ভেতরে নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্তকরণে।

৩৮. গামা রশ্মি ($\gamma$-ray) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেন?

উত্তর: গামা রশ্মির শক্তি ও ভেদন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। এটি জীবন্ত কোশকে ভেদ করে যেতে পারে এবং কোশের ডিএনএ (DNA) গঠন নষ্ট করে দিতে পারে। এর ফলে ক্যানসার বা জিনগত বিকৃতি সৃষ্টি হতে পারে।

৩৯. সবুজ কাঁচের ওপর লাল আলো ফেললে তা কালো দেখায় কেন?

উত্তর: সবুজ কাঁচ কেবল সবুজ রঙের আলোকেই নিজের মধ্য দিয়ে যেতে দেয়, বাকি সব বর্ণ শোষণ করে নেয়। যখন লাল আলো সবুজ কাঁচে পড়ে, তখন কাঁচটি লাল আলো সম্পূর্ণ শোষণ করে নেয় এবং কোনো আলো চোখে ফিরে আসে না। তাই কাঁচটিকে কালো দেখায়।

৪০. চোখের উপযোজন (Accommodation) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: স্থান পরিবর্তন না করে, সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভিন্ন দূরত্বের (কাছের বা দূরের) বস্তুকে স্পষ্টভাবে রেটিনায় ফোকাস করার ক্ষমতাকে চোখের উপযোজন বলে।

৪১. উত্তল লেন্স দ্বারা সূর্যের আলো ব্যবহার করে কাগজ পোড়ানো যায় কেন?

উত্তর: সূর্য অনেক দূরে থাকায় সমান্তরাল আলোক রশ্মি উত্তল লেন্সে পড়ে এবং লেন্সের ফোকাস বিন্দুতে মিলিত হয়। সমস্ত আলোক শক্তি ও তাপ শক্তি ওই একটি ছোট বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সেখানে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা কাগজকে জ্বালিয়ে দেয়।

৪২. আলোর প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্রটি (স্নেলের সূত্র) থেকে কখন আলোকরশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: $\mu = \frac{\sin i}{\sin r}$। আলো যখন লঘু থেকে ঘন মাধ্যমে যায়, তখন প্রতিসরাঙ্ক $\mu > 1$ হয়।
সুতরাং, $\frac{\sin i}{\sin r} > 1 \Rightarrow \sin i > \sin r \Rightarrow i > r$।
অর্থাৎ প্রতিসরণ কোণ আপতন কোণের চেয়ে ছোট হয়, মানে রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।

৪৩. একটি লেন্সের ক্ষমতা $+2.5D$। এর ফোকাস দৈর্ঘ্য ও প্রকৃতি নির্ণয় করো।

উত্তর:
ক্ষমতা $P = +2.5D$।
ফোকাস দৈর্ঘ্য $f = \frac{100}{P} \text{ cm} = \frac{100}{2.5} = 40 \text{ cm}$।
যেহেতু ক্ষমতা ধনাত্মক (+), তাই লেন্সটি উত্তল

৪৪. ক্যামেরা ও মানুষের চোখের একটি সাদৃশ্য ও একটি বৈসাদৃশ্য লেখো।

উত্তর:
সাদৃশ্য: উভয়েই উত্তল লেন্স ব্যবহার করে এবং উল্টো (অবশীর্ষ) প্রতিবিম্ব গঠন করে (রেটিনায় বা ফিল্মে)।
বৈসাদৃশ্য: ক্যামেরার ফোকাস দৈর্ঘ্য স্থির (লেন্স সরে), কিন্তু চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তনশীল (লেন্স সরু বা মোটা হয়)।

৪৫. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের দুটি শর্ত লেখো।

উত্তর: ১) আলোক রশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমের দিকে যেতে হবে।
২) আপতন কোণের মান মাধ্যম দুটির সংকট কোণ (Critical Angle) অপেক্ষা বড় হতে হবে।

বিভাগ-চ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান (আলো) | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-২০


১. গোলীয় দর্পণের মুখ্য ফোকাস ও বক্রতা কেন্দ্রের মধ্যে সম্পর্ক ($r = 2f$) প্রতিষ্ঠা করো (অবতল দর্পণের ক্ষেত্রে)। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর:

মনে করি, একটি অবতল দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একটি রশ্মি দর্পণে আপতিত হয়ে ফোকাস ($F$) দিয়ে যায়। বক্রতা কেন্দ্র ($C$) থেকে আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত রেখাটি অভিলম্ব।

প্রতিফলনের সূত্রানুসারে, আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ ($\theta$)।

একান্তর কোণ হিসেবে $\angle \text{C-F-Reflection} = \theta$।

ত্রিভুজটি সমদ্বিবাহু হয়, যার ফলে $CF = PF$ (উপাক্ষীয় রশ্মির জন্য)।

যেহেতু $PC = R$ এবং $PF = f$, তাই $R = PF + FC = f + f = 2f$। (চিত্র আবশ্যক)।

[attachment_0](attachment)

২. উত্তল দর্পণের ক্ষেত্রে প্রমাণ করো $f = r/2$।

উত্তর:

উত্তল দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি অপসারী হয় এবং মনে হয় ফোকাস থেকে আসছে। বক্রতা কেন্দ্র ($C$) থেকে অঙ্কিত ব্যাসার্ধ অভিলম্বের কাজ করে।

জ্যামিতিক উপপাদ্য ও অনুরূপ কোণের সূত্র ব্যবহার করে প্রমাণ করা যায় যে, ফোকাস দূরত্ব ($f$) বক্রতা ব্যাসার্ধের ($r$) অর্ধেক।

$\therefore f = r/2$ বা $r = 2f$।

৩. অবতল দর্পণের সাহায্যে কীভাবে বস্তুর সদ, অবশীর্ষ ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব গঠন করা যায়? রেখাচিত্রসহ দেখাও।

উত্তর:

বস্তুকে অবতল দর্পণের ফোকাস ($F$) এবং বক্রতা কেন্দ্রের ($C$)-এর মাঝখানে রাখলে দর্পণের সামনে বক্রতা কেন্দ্রের বাইরে একটি **সদ, অবশীর্ষ এবং বিবর্ধিত** প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

(চিত্র: বস্তু $F$ ও $C$-এর মাঝে, প্রতিবিম্ব $C$-এর বাইরে এবং উল্টো)।

[attachment_1](attachment)

৪. অবতল দর্পণের সাহায্যে কীভাবে বস্তুর অসদ ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব গঠিত হয়? এটি কোন কাজে লাগে? [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:

বস্তুকে অবতল দর্পণের মেরু ($P$) এবং ফোকাস ($F$)-এর মাঝখানে রাখলে দর্পণের পেছনে একটি **অসদ, সমশীর্ষ এবং বিবর্ধিত** প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

ব্যবহার: দন্ত চিকিৎসকরা দাঁত পরীক্ষার জন্য এবং দাড়ি কামানোর আয়না হিসেবে এই নীতি ব্যবহার করেন।

[attachment_2](attachment)

৫. গোলীয় দর্পণের ব্যবহার লেখো (উত্তল ও অবতল)।

উত্তর:

১) উত্তল দর্পণ: গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর (Rear view mirror) বা ভিউ ফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি সোজা ও ছোট প্রতিবিম্ব দেয় এবং দৃষ্টির ক্ষেত্র অনেক বড়।

২) অবতল দর্পণ: টর্চ লাইট, গাড়ির হেডলাইট বা সার্চ লাইটে প্রতিফলক হিসেবে এবং দন্ত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৬. আলোর প্রতিফলনের সূত্রগুলি লেখো। নিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

সূত্র: ১) আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। ২) আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হয়।

পার্থক্য: নিয়মিত প্রতিফলনে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলনের পর সমান্তরাল থাকে (মসৃণ তলে হয়, যেমন আয়না)। বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে রশ্মিগুচ্ছ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে (অমসৃণ তলে হয়, যেমন দেওয়াল)।

৭. আলোর প্রতিসরণের সূত্র দুটি লেখো। দ্বিতীয় সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:

১) আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।

২) দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যম ও নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে, আপতন কোণের সাইন ($\sin i$) ও প্রতিসরণ কোণের সাইন ($\sin r$)-এর অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয়।

গাণিতিকভাবে: $\frac{\sin i}{\sin r} = \mu$ (স্নেলের সূত্র)।

৮. প্রতিসরাঙ্ক কাকে বলে? পরম ও আপেক্ষিক প্রতিসরাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর:

পরম প্রতিসরাঙ্ক: শূন্যস্থানে আলোর বেগ ($c$) ও কোনো মাধ্যমে আলোর বেগের ($v$) অনুপাতকে পরম প্রতিসরাঙ্ক ($\mu$) বলে। $\mu = c/v$।

সম্পর্ক: মাধ্যম ১-এর সাপেক্ষে মাধ্যম ২-এর আপেক্ষিক প্রতিসরাঙ্ক ($_1\mu_2$) হলো:

$_1\mu_2 = \frac{\mu_2 (\text{মাধ্যম ২-এর পরম})}{\mu_1 (\text{মাধ্যম ১-এর পরম})}$।

৯. দেখাও যে, সমান্তরাল কাঁচফলক বা স্ল্যাবের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি প্রতিসৃত হলে কোনো চ্যুতি হয় না, কেবল পার্শ্বসরণ ঘটে। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:

কাঁচের স্ল্যাবে আলো দুবার প্রতিসৃত হয় (বায়ু $\rightarrow$ কাঁচ $\rightarrow$ বায়ু)।

প্রথম পৃষ্ঠে আপতন কোণ $i_1$ ও প্রতিসরণ কোণ $r_1$। দ্বিতীয় পৃষ্ঠে আপতন কোণ $r_2$ ও নির্গমন কোণ $i_2$। জ্যামিতিক ভাবে $r_1 = r_2$ (একান্তর কোণ)।

স্নেলের সূত্র প্রয়োগ করে দেখানো যায় যে, $i_1 = i_2$।

$\therefore$ চ্যুতি $\delta = i_1 – i_2 = 0$। অর্থাৎ আপতিত ও নির্গত রশ্মি সমান্তরাল, তাই কোনো কৌণিক চ্যুতি হয় না।

[attachment_3](attachment)

১০. প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণের ক্ষেত্রে প্রমাণ করো যে, চ্যুতিকোণ $\delta = i_1 + i_2 – A$। [খুবই গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:

ত্রিভুজের জ্যামিতিক ধর্ম ব্যবহার করে:

১) প্রিজমের শীর্ষকোণ $A = r_1 + r_2$।

২) মোট চ্যুতি $\delta = (i_1 – r_1) + (i_2 – r_2)$

$\Rightarrow \delta = (i_1 + i_2) – (r_1 + r_2)$

$\Rightarrow \delta = i_1 + i_2 – A$। (প্রমাণিত)

(এখানে $i_1, i_2$ হলো আপতন ও নির্গমন কোণ এবং $r_1, r_2$ হলো প্রতিসরণ কোণ)।

[attachment_4](attachment)

১১. প্রিজমের ন্যূনতম চ্যুতির শর্ত কী? লেখচিত্রের সাহায্যে চ্যুতিকোণের পরিবর্তন দেখাও।

উত্তর:

শর্ত: প্রিজমের আপতন কোণ ($i_1$) এবং নির্গমন কোণ ($i_2$) সমান হলে ($i_1 = i_2$) চ্যুতিকোণ সর্বনিম্ন হয়। এই সময় প্রতিসৃত রশ্মি প্রিজমের ভূমির সমান্তরাল থাকে ($r_1 = r_2$)।

লেখচিত্র: X-অক্ষে আপতন কোণ ($i$) এবং Y-অক্ষে চ্যুতিকোণ ($\delta$) বসালে একটি ‘U’ আকৃতির লেখচিত্র পাওয়া যায়, যার সর্বনিম্ন বিন্দুটি ন্যূনতম চ্যুতি ($\delta_m$) নির্দেশ করে।

১২. প্রতিসরাঙ্ক কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর:

১) মাধ্যমের প্রকৃতি: আলোকীয় ঘনত্ব বেশি হলে প্রতিসরাঙ্ক বেশি হয় (যেমন- কাঁচের চেয়ে হীরা)।

২) আলোর বর্ণ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য: তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়লে প্রতিসরাঙ্ক কমে (লালের প্রতিসরাঙ্ক কম, বেগুনির বেশি)।

৩) তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাড়লে মাধ্যমের ঘনত্ব কমে, ফলে প্রতিসরাঙ্ক কমে।

১৩. কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক $\sqrt{2}$। আলোকরশ্মি ওই মাধ্যমে $45^\circ$ কোণে আপতিত হলে চ্যুতিকোণ কত হবে?

সমাধান:

দেওয়া আছে, $\mu = \sqrt{2}$, আপতন কোণ $i = 45^\circ$।

স্নেলের সূত্র: $\frac{\sin i}{\sin r} = \mu \Rightarrow \frac{\sin 45^\circ}{\sin r} = \sqrt{2}$

$\Rightarrow \frac{1/\sqrt{2}}{\sin r} = \sqrt{2} \Rightarrow \sin r = \frac{1}{2} \Rightarrow r = 30^\circ$।

$\therefore$ চ্যুতিকোণ $\delta = i – r = 45^\circ – 30^\circ = 15^\circ$।

১৪. অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন কাকে বলে? এর শর্তগুলি লেখো।

উত্তর:

আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমের দিকে যাওয়ার সময়, যদি আপতন কোণ মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বড় হয়, তবে রশ্মিটি দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রথম মাধ্যমে (ঘন) প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। একে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন বলে।

শর্ত: ১) আলোকে ঘন থেকে লঘু মাধ্যমে যেতে হবে। ২) আপতন কোণ > সংকট কোণ।

১৫. সংকট কোণ (Critical Angle) কাকে বলে? এর সাথে প্রতিসরাঙ্কের সম্পর্ক কী?

উত্তর:

আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণের সময় আপতন কোণের যে নির্দিষ্ট মানের জন্য প্রতিসরণ কোণ $90^\circ$ হয় (রশ্মি বিভেদতল ঘেঁষে যায়), তাকে ওই দুই মাধ্যমের সংকট কোণ ($\theta_c$) বলে।

সম্পর্ক: $\mu = \frac{1}{\sin \theta_c}$ (বায়ু সাপেক্ষে মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক)।

১৬. মরীচিকা (Mirage) সৃষ্টির কারণ চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

মরুভূমিতে দিনের বেলা বালি সংলগ্ন বাতাস খুব গরম ও হালকা (লঘু) হয় এবং ওপরের বাতাস ঠান্ডা ও ভারী (ঘন) থাকে। দূরের গাছ থেকে আসা আলোক রশ্মি ঘন থেকে লঘু স্তরে প্রবেশের সময় ক্রমশ অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। একসময় আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হলে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে এবং রশ্মিটি ওপরের দিকে বেঁকে দর্শকের চোখে পৌঁছায়। ফলে দর্শক গাছের একটি উল্টো প্রতিবিম্ব দেখে এবং জলের ভ্রম হয়।

১৭. হীরা বা ডায়মন্ড খুব চকচক করে কেন?

উত্তর:

হীরার প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি ($2.42$) হওয়ায় বায়ু সাপেক্ষে এর সংকট কোণ খুব কম (মাত্র $24.4^\circ$)। হীরাকে এমনভাবে কাটা হয় যাতে এর ভেতরে ঢোকা আলোক রশ্মি বিভিন্ন তলে বারবার $24.4^\circ$-এর বেশি কোণে আপতিত হয়। ফলে বারবার অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে এবং রশ্মিটি উজ্জ্বলভাবে নির্গত হয়, তাই হীরা চকচক করে।

১৮. জলের মধ্যে বায়ুর বুদবুদ চকচকে দেখায় কেন?

উত্তর:

জলের মধ্যে থাকা বায়ুর বুদবুদে আলোক রশ্মি যখন জল (ঘন) থেকে বায়ুতে (লঘু) প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তখন বিশেষ কোণে (সংকট কোণের বেশি) আপতিত হলে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। প্রতিফলিত রশ্মি দর্শকের চোখে পৌঁছালে বুদবুদটি রূপর মতো চকচকে দেখায়।

১৯. অপটিক্যাল ফাইবার বা আলোক তন্তু কী? এর কার্যনীতি ও ব্যবহার লেখো।

উত্তর:

এটি কাঁচ বা প্লাস্টিকের তৈরি অতি সূক্ষ্ম তন্তু যা আলো পরিবহনে সক্ষম।

নীতি: এটি অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে। আলো তন্তুর ভেতরে বারবার প্রতিফলিত হয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছায়, কোনো শক্তি ক্ষয় হয় না।

ব্যবহার: টেলিযোগাযোগে (ইন্টারনেট) এবং চিকিৎসায় এন্ডোস্কপিতে ব্যবহৃত হয়।

২০. গাণিতিক সমস্যা: বায়ুর সাপেক্ষে কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক $1.5$। বায়ুতে আলোর বেগ $3 \times 10^8 \text{ m/s}$ হলে কাঁচে আলোর বেগ কত?

সমাধান:

আমরা জানি, $\mu = \frac{c}{v}$

এখানে, $\mu = 1.5$, $c = 3 \times 10^8 \text{ m/s}$

$\therefore v = \frac{c}{\mu} = \frac{3 \times 10^8}{1.5} = \frac{30}{15} \times 10^8 = 2 \times 10^8 \text{ m/s}$।

উত্তর: কাঁচে আলোর বেগ $2 \times 10^8 \text{ m/s}$।

বিভাগ-চ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-২)

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান (আলো) | প্রশ্ন সংখ্যা: ২১-৪০


২১. উত্তল লেন্সের সাহায্যে কীভাবে বস্তুর সদ, অবশীর্ষ ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব গঠন করা যায়? রেখাচিত্রসহ দেখাও। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:

বস্তুকে উত্তল লেন্সের ফোকাস ($F$) এবং দ্বিগুণ ফোকাস দূরত্বের ($2F$) মাঝখানে রাখলে লেন্সের অপরপাশে $2F$ দূরত্বের বাইরে একটি **সদ, অবশীর্ষ এবং বিবর্ধিত** (বস্তুর চেয়ে বড়) প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

(চিত্র: বস্তু $F$ ও $2F$-এর মাঝে $\rightarrow$ প্রতিবিম্ব $2F$-এর বাইরে)।

[attachment_0](attachment)

২২. বিবর্ধক কাঁচ (Magnifying Glass) হিসেবে উত্তল লেন্সের কার্যনীতি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০২০]

উত্তর:

একটি কম ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বের ($f$) মধ্যে কোনো ক্ষুদ্র বস্তুকে রাখলে, লেন্সের যে পাশে বস্তু থাকে, সেই পাশেই বস্তুটির একটি **অসদ, সমশীর্ষ এবং বিবর্ধিত** প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

চোখ লেন্সের খুব কাছে রাখলে দর্শক ওই বড় প্রতিবিম্বটি দেখতে পায়। এভাবেই উত্তল লেন্স বিবর্ধক কাঁচ হিসেবে কাজ করে।

[attachment_1](attachment)

২৩. অবতল লেন্স দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠনের রেখাচিত্র অঙ্কন করো। অবতল লেন্সে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর:

অবতল লেন্সের সামনে বস্তুকে যেখানেই রাখা হোক না কেন, লেন্সটি সর্বদা বস্তুর একটি **অসদ, সমশীর্ষ এবং খর্বাকৃতি** (ছোট) প্রতিবিম্ব গঠন করে। প্রতিবিম্বটি সর্বদা লেন্সের আলোক কেন্দ্র ও ফোকাসের মধ্যে গঠিত হয়।

[attachment_2](attachment)

২৪. উত্তল লেন্সকে ‘অভিসারী’ এবং অবতল লেন্সকে ‘অপসারী’ লেন্স বলা হয় কেন?

উত্তর:

১) উত্তল লেন্স: প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোক রশ্মি উত্তল লেন্সে আপতিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় (অভিসারী গুচ্ছে পরিণত হয়), তাই একে অভিসারী লেন্স বলে。

২) অবতল লেন্স: সমান্তরাল আলোক রশ্মiguচ্ছ অবতল লেন্সে প্রতিসরণের পর পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় (অপসারী গুচ্ছে পরিণত হয়) এবং মনে হয় যেন একটি বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে। তাই একে অপসারী লেন্স বলে।

২৫. লেন্সের আলোক কেন্দ্র (Optical Centre) কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর:

লেন্সের প্রধান অক্ষের ওপর অবস্থিত এমন একটি বিন্দু, যার মধ্য দিয়ে কোনো আলোক রশ্মি গেলে লেন্সের দুই পৃষ্ঠে প্রতিসরণের পর নির্গত রশ্মিটি আপতিত রশ্মির সমান্তরাল থাকে। পাতলা লেন্সের ক্ষেত্রে রশ্মিটি সোজাসুজি বেরিয়ে যায়, কোনো চ্যুতি হয় না। এই বিন্দুকেই আলোক কেন্দ্র বলে।

২৬. হ্রস্ব দৃষ্টি বা মায়োপিয়া (Myopia) কী? এর কারণ ও প্রতিকার চিত্রসহ লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:

সমস্যা: চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখে কিন্তু দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখে। প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়।

কারণ: অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হলে বা লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য কমে গেলে এটি হয়।

প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের **অবতল লেন্স (Concave Lens)** যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে আলোকরশ্মি অপসারী হয়ে ঠিক রেটিনায় মিলিত হয়।

[attachment_3](attachment)

২৭. দীর্ঘ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) কী? এর প্রতিকার চিত্রসহ লেখো।

উত্তর:

সমস্যা: চোখ দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখে কিন্তু কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখে। প্রতিবিম্ব রেটিনার পেছনে গঠিত হয়।

কারণ: অক্ষিগোলকের আকার ছোট হলে বা লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বেড়ে গেলে এটি হয়।

প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের **উত্তল লেন্স (Convex Lens)** যুক্ত চশমা ব্যবহার করে এই ত্রুটি দূর করা হয়।

[attachment_4](attachment)

২৮. আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion) কাকে বলে? একটি প্রিজম কীভাবে সাদা আলোকে বিশ্লিষ্ট করে? [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর:

বিচ্ছুরণ: সাদা বা যৌগিক আলো কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যম (যেমন প্রিজম)-এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তার উপাদান বর্ণগুলিতে বিশ্লিষ্ট হওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।

কারণ: সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। শূন্যস্থানে সব বর্ণের বেগ সমান হলেও কাঁচের (প্রিজম) মধ্যে বিভিন্ন বর্ণের বেগ ও প্রতিসরাঙ্ক আলাদা। বেগুনি বর্ণের প্রতিসরাঙ্ক ও চ্যুতি সবচেয়ে বেশি এবং লালের সবচেয়ে কম। তাই প্রিজমে ঢোকার পর আলোগুলি আলাদা পথে বেঁকে যায় এবং বর্ণালী সৃষ্টি করে।

[attachment_5](attachment)

২৯. আকাশ নীল দেখায় কেন? আলোর কোন ধর্ম এর জন্য দায়ী? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:

এটি আলোর **বিক্ষেপণ (Scattering)** ধর্মের জন্য হয়।

বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা ও গ্যাসীয় অণুগুলি সূর্যের সাদা আলো থেকে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (নীল ও বেগুনি) আলোগুলিকে বেশি মাত্রায় শোষণ করে এবং চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় (র‍্যালের সূত্র $I \propto 1/\lambda^4$)। আমাদের চোখ বেগুনি অপেক্ষা নীল রঙের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাই আমরা আকাশকে নীল দেখি।

৩০. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায় কেন?

উত্তর:

সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সূর্য দিগন্তরেখায় থাকে, ফলে আলোকরশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। এই দীর্ঘ পথে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বর্ণগুলি (নীল, বেগুনি) বিক্ষেপণের ফলে হারিয়ে যায়। কেবল বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের **লাল ও কমলা** আলো কম বিক্ষেপিত হয়ে সরাসরি আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়। তাই সূর্য ও তার আশেপাশের আকাশ লাল দেখায়।

৩১. শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বর্ণালীর মধ্যে পার্থক্য লেখো। রামধনু কি শুদ্ধ বর্ণালী?

উত্তর:

১) শুদ্ধ বর্ণালী: এতে সাতটি বর্ণ স্পষ্টভাবে আলাদা থাকে এবং একে অপরের ওপর উপরিপাতিত হয় না (যেমন- স্পেকট্রোমিটার)।

২) অশুদ্ধ বর্ণালী: এতে বর্ণগুলি একে অপরের ওপর আংশিক মিশে যায়, ফলে সীমানা স্পষ্ট বোঝা যায় না।

রামধনু: রামধনু হলো একটি প্রাকৃতিক **অশুদ্ধ বর্ণালী**, কারণ এখানে রঙের পটিগুলি একে অপরের সাথে মিশে থাকে।

৩২. আলোর বিক্ষেপণ সংক্রান্ত র‍্যালের সূত্রটি (Rayleigh’s Law) লেখো। বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহারের কারণ কী?

উত্তর:

সূত্র: বিক্ষেপক কণার আকার আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় খুব ছোট হলে, বিক্ষেপণের তীব্রতা ($I$) আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ($\lambda$) চতুর্ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক হয়।

$$ I \propto \frac{1}{\lambda^4} $$
লাল আলো: দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ($\lambda$) সবচেয়ে বেশি। তাই র‍্যালের সূত্রানুসারে এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয়। ফলে কুয়াশা বা ধোঁয়ার মধ্যেও লাল আলো অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

৩৩. শূন্যস্থানে আলোর বিচ্ছুরণ হয় না কেন? কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোর বর্ণের ওপর কীভাবে নির্ভর করে?

উত্তর:

শূন্যস্থানে: শূন্যস্থানে সব বর্ণের আলোর বেগ সমান ($3 \times 10^8 \text{ m/s}$)। বেগের কোনো পার্থক্য না থাকায় প্রতিসরাঙ্কের পার্থক্য হয় না এবং কোনো বিচ্ছুরণ ঘটে না।

মাধ্যমে: কোশির সূত্রানুসারে, $\mu = A + \frac{B}{\lambda^2}$। অর্থাৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্য ($\lambda$) বাড়লে প্রতিসরাঙ্ক ($\mu$) কমে। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই প্রতিসরাঙ্ক কম, বেগুনির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই প্রতিসরাঙ্ক বেশি।

৩৪. গাণিতিক সমস্যা: একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য $10 \text{ cm}$। লেন্স থেকে $20 \text{ cm}$ দূরে একটি বস্তু রাখা হলো। প্রতিবিম্বের অবস্থান ও প্রকৃতি নির্ণয় করো।

সমাধান:

এখানে, $u = -20 \text{ cm}$ (বস্তুর দূরত্ব), $f = +10 \text{ cm}$ (উত্তল লেন্স)।

লেন্সের সূত্র: $\frac{1}{v} – \frac{1}{u} = \frac{1}{f}$

$\Rightarrow \frac{1}{v} – \frac{1}{-20} = \frac{1}{10}$

$\Rightarrow \frac{1}{v} + \frac{1}{20} = \frac{1}{10}$

$\Rightarrow \frac{1}{v} = \frac{1}{10} – \frac{1}{20} = \frac{2-1}{20} = \frac{1}{20}$

$\therefore v = +20 \text{ cm}$。

উত্তর: প্রতিবিম্বটি লেন্সের অপরপাশে ২০ সেমি দূরে গঠিত হবে। এটি সদ, অবশীর্ষ এবং বস্তুর সমান আকারের হবে (যেহেতু $u=2f$)।

৩৫. গাণিতিক সমস্যা: বায়ু সাপেক্ষে কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক $1.5$। বায়ুতে আলোর বেগ $3 \times 10^8 \text{ m/s}$ হলে, কাঁচে আলোর বেগ কত?

সমাধান:

আমরা জানি, প্রতিসরাঙ্ক $\mu = \frac{c \text{ (বায়ুতে বেগ)}}{v \text{ (মাধ্যমে বেগ)}}$

দেওয়া আছে, $\mu = 1.5$, $c = 3 \times 10^8 \text{ m/s}$

$\therefore v = \frac{c}{\mu} = \frac{3 \times 10^8}{1.5}$

$= \frac{30}{15} \times 10^8 = 2 \times 10^8 \text{ m/s}$。

উত্তর: কাঁচে আলোর বেগ $2 \times 10^8 \text{ m/s}$।

৩৬. এক্স-রশ্মি (X-ray) ও গামা রশ্মির ($\gamma$-ray) দুটি করে ব্যবহার ও একটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।

উত্তর:

এক্স-রশ্মি: ১) শরীরের হাড় ভাঙা নির্ণয়ে। ২) কেলাসের গঠন বিশ্লেষণে।

গামা রশ্মি: ১) ক্যানসার চিকিৎসায় (রেডিওথেরাপি)। ২) নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটাতে।

ক্ষতিকর প্রভাব: দীর্ঘক্ষণ এই রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে জীবন্ত কোশ ধ্বংস হয় এবং ক্যানসার বা জিনগত বিকৃতি হতে পারে।

৩৭. উপযোজন (Accommodation) কী? দৈনন্দিন জীবনে এর গুরুত্ব কী?

উত্তর:

চোখ তার লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে ফোকাস দৈর্ঘ্যকে কমিয়ে বা বাড়িয়ে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে রেটিনায় ফোকাস করার যে ক্ষমতা অর্জন করে, তাকে উপযোজন বলে।

গুরুত্ব: এর ফলেই আমরা একই সাথে কাছের বই পড়া এবং দূরের দৃশ্য দেখা—উভয় কাজই চশমা ছাড়া করতে পারি।

৩৮. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ কী? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। শূন্যস্থানে এর বেগ কত?

উত্তর:

তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পর্যায়বৃত্ত কম্পনের ফলে যে তরঙ্গ জড় মাধ্যম ছাড়াই শূন্যস্থানের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়, তাকে তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ বলে (যেমন- আলো, এক্স-রে)।

বৈশিষ্ট্য: ১) এটি তির্যক তরঙ্গ। ২) এর বিস্তারের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। ৩) এটি আলোর বেগে চলে।

বেগ: $3 \times 10^8 \text{ m/s}$।

৩৯. সবুজ কাঁচের ভেতর দিয়ে লাল ফুল দেখলে কালো দেখায় কেন? আবার লাল কাঁচের ভেতর দিয়ে সাদা কাগজ দেখলে লাল দেখায় কেন?

উত্তর:

১) সবুজ কাঁচ কেবল সবুজ আলো শোষণ ছাড়া বাকি সব শোষণ করে। লাল ফুল থেকে আসা লাল আলো সবুজ কাঁচে পড়লে তা শোষিত হয় এবং কোনো আলো চোখে আসে না, তাই কালো দেখায়।

২) সাদা কাগজ থেকে সব রঙের আলো প্রতিফলিত হয়। লাল কাঁচ কেবল লাল আলো যেতে দেয়, বাকি সব শোষণ করে। তাই সাদা আলো থেকে কেবল লাল অংশ চোখে পৌঁছায় এবং কাগজটি লাল দেখায়।

৪০. চোখের ‘অন্ধ বিন্দু’ (Blind Spot) এবং ‘পীত বিন্দু’ (Yellow Spot) বলতে কী বোঝো?

উত্তর:

অন্ধ বিন্দু: রেটিনার যে সংযোগস্থলে অপটিক নার্ভ যুক্ত থাকে, সেখানে কোনো আলোকগ্রাহী কোশ থাকে না এবং কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না। একে অন্ধ বিন্দু বলে।

পীত বিন্দু: রেটিনার ঠিক মাঝখানের অবতল অংশ যেখানে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয় (প্রচুর কোণ কোশ থাকে), তাকে পীত বিন্দু বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিস বলে।

বিভাগ-চ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-৩)

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান (আলো) | প্রশ্ন সংখ্যা: ৪১-৬০


৪১. গাণিতিক সমস্যা: একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য $20 \text{ cm}$। লেন্স থেকে কত দূরে বস্তু রাখলে বস্তুর সমান আকারের সদ ও অবশীর্ষ প্রতিবিম্ব গঠিত হবে?

সমাধান:

আমরা জানি, উত্তল লেন্সের ক্ষেত্রে বস্তুর সমান আকারের প্রতিবিম্ব গঠিত হয় যখন বস্তুকে $2f$ দূরত্বে রাখা হয়।

এখানে, ফোকাস দৈর্ঘ্য $f = 20 \text{ cm}$।

$\therefore$ বস্তুর দূরত্ব $u = 2f = 2 \times 20 = 40 \text{ cm}$।

উত্তর: লেন্স থেকে $40 \text{ cm}$ দূরে বস্তুকে রাখতে হবে।

৪২. দিনের বেলা আকাশ নীল দেখায়, কিন্তু মেঘ সাদা দেখায় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:

১) আকাশ নীল: বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও গ্যাসের অণুগুলি সূর্যের আলোর কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল ও বেগুনি বর্ণকে বেশি বিক্ষেপিত করে (র‍্যালের সূত্র $I \propto 1/\lambda^4$)। এই বিক্ষেপিত নীল আলো আমাদের চোখে পৌঁছায় বলে আকাশ নীল দেখায়।

২) মেঘ সাদা: মেঘের জলকণা বা বরফ কণাগুলি আকারে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে বড়। এই বড় কণাগুলি সব বর্ণের আলোকে সমানভাবে বিক্ষেপিত করে। সাতটি বর্ণের মিশ্রণ সাদা, তাই মেঘ সাদা দেখায়।

[attachment_0](attachment)

৪৩. লাল আলো ও বেগুনি আলোর মধ্যে কার প্রতিসরাঙ্ক বেশি এবং কার বেগ বেশি (কাঁচের মধ্যে)? কারণসহ লেখো।

উত্তর:

১) প্রতিসরাঙ্ক: বেগুনি আলোর প্রতিসরাঙ্ক ($\mu_v$) লাল আলোর ($\mu_r$) চেয়ে বেশি ($\mu_v > \mu_r$)। কারণ কোশির সূত্রানুসারে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমলে প্রতিসরাঙ্ক বাড়ে।

২) বেগ: কোনো মাধ্যমে আলোর বেগ প্রতিসরাঙ্কের ব্যস্তানুপাতিক ($v \propto 1/\mu$)। যেহেতু লাল আলোর প্রতিসরাঙ্ক কম, তাই কাঁচের মধ্যে লাল আলোর বেগ বেশি এবং বেগুনি আলোর বেগ কম।

৪৪. আয়তাকার কাঁচের স্ল্যাবে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ হয় না, কিন্তু প্রিজমে হয় কেন?

উত্তর:

কাঁচের স্ল্যাবকে দুটি সর্বসম প্রিজমের সমষ্টি হিসেবে ধরা যায় যারা ভূমি-বিপরীত ভাবে যুক্ত।

প্রথম প্রিজম (বা পৃষ্ঠ) সাদা আলোকে সাতটি বর্ণে ভেঙে দেয় (বিচ্ছুরণ)। কিন্তু দ্বিতীয় বিপরীতমুখী প্রিজম (বা পৃষ্ঠ) ওই সাতটি বর্ণকে পুনরায় সংযুক্ত করে সাদা আলো গঠন করে। একে ‘বর্ণালীর পুনর্যোজন’ বলে। ফলে স্ল্যাব থেকে নির্গত আলো সাদা হয়, বিচ্ছুরণ দেখা যায় না।

[attachment_1](attachment)

৪৫. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) এবং অবলোহিত রশ্মি (IR)-এর উৎস ও একটি করে ব্যবহার লেখো।

উত্তর:

অতিবেগুনি রশ্মি (UV):

উৎস: সূর্য, পারদ বাষ্প বাতি।

ব্যবহার: জল জীবানুমুক্ত করতে (Water Purifier) এবং হীরা বা নকল টাকা শনাক্ত করতে।

অবলোহিত রশ্মি (IR):

উৎস: সূর্য, যেকোনো উত্তপ্ত বস্তু।

ব্যবহার: টিভি রিমোট কন্ট্রোলে এবং অন্ধকারে ছবি তোলার ক্যামেরায় (Night vision)।

৪৬. গাণিতিক সমস্যা: একটি মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক ১.৫। ওই মাধ্যমে আলোর বেগ কত? (শূন্যস্থানে বেগ $3 \times 10^8 \text{ m/s}$) [মাধ্যমিক ২০১৮]

সমাধান:

আমরা জানি, $\mu = \frac{c}{v}$

এখানে, $\mu = 1.5$, $c = 3 \times 10^8 \text{ m/s}$

$\therefore v = \frac{c}{\mu} = \frac{3 \times 10^8}{1.5}$

$= 2 \times 10^8 \text{ m/s}$।

উত্তর: ওই মাধ্যমে আলোর বেগ $2 \times 10^8 \text{ m/s}$।

৪৭. মানুষের চোখ ও ক্যামেরার লেন্সের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয় চোখ ক্যামেরা
১. ফোকাসিং চোখের লেন্স তার বক্রতা বা ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করে ফোকাস করে (উপযোজন)। ক্যামেরার লেন্স সামনে-পেছনে সরিয়ে ফোকাস দূরত্ব ঠিক করা হয়।
২. পর্দা চোখের পর্দা বা রেটিনা স্থায়ী, এটি বদলানো যায় না। ক্যামেরার ফিল্ম বা সেন্সর বদলানো যায় বা মেমোরি কার্ডে ছবি থাকে।

৪৮. শুদ্ধ বর্ণালী গঠনের শর্তগুলি কী কী?

উত্তর:

১) আলোক উৎসটি সরু রেখাছিদ্র বিশিষ্ট হতে হবে।

২) প্রিজমে আপতিত রশ্মিগুচ্ছকে সমান্তরাল হতে হবে (উত্তল লেন্স ব্যবহার করে)।

৩) প্রিজমটিকে ন্যূনতম চ্যুতির অবস্থানে রাখতে হবে।

৪) নির্গত রশ্মিগুচ্ছকে লেন্সের সাহায্যে পর্দায় ফোকাস করতে হবে।

৪৯. উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বের ভেতরে বস্তু রাখলে প্রতিবিম্বের প্রকৃতি ও অবস্থান চিত্রসহ দেখাও। (বিবর্ধক কাঁচের নীতি)

উত্তর:

বস্তুকে আলোক কেন্দ্র ($O$) ও ফোকাস ($F$)-এর মধ্যে রাখলে, লেন্সের যেদিকে বস্তু আছে, সেদিকেই বস্তুর পেছনে একটি অসদ, সমশীর্ষ এবং বিবর্ধিত (বড়) প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এটিই বিবর্ধক কাঁচের মূলনীতি।

(চিত্র আবশ্যক: বস্তু $O$ ও $F$-এর মাঝে $\rightarrow$ অসদ বিম্ব)।

৫০. মরীচিকা (Mirage) কী? এটি কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর:

উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমিতে বা পিচের রাস্তায় আলোর অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের ফলে দূরের কোনো বস্তুর যে উল্টো ও কম্পমান প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং জলের ভ্রম সৃষ্টি হয়, তাকে মরীচিকা বলে।

কারণ: ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর উত্তপ্ত (লঘু) এবং ওপরের স্তর শীতল (ঘন) থাকে। আলোক রশ্মি ঘন থেকে লঘু স্তরে নামার সময় বাঁকতে বাঁকতে একসময় সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে ওপরের দিকে বেঁকে দর্শকের চোখে পৌঁছায়।

[attachment_2](attachment)

৫১. গাণিতিক সমস্যা: $+2.5D$ ও $-1.5D$ ক্ষমতার দুটি লেন্সকে পরস্পরের সংস্পর্শে রাখলে, লেন্স সমবায়টির ক্ষমতা ও ফোকাস দৈর্ঘ্য কত হবে?

সমাধান:

সমবায়ের ক্ষমতা $P = P_1 + P_2 = +2.5 – 1.5 = +1.0 \text{ D}$।

ফোকাস দৈর্ঘ্য $f = \frac{100}{P (\text{in Dioptre})} \text{ cm}$

$= \frac{100}{1} = 100 \text{ cm}$।

উত্তর: ক্ষমতা $+1D$ এবং ফোকাস দৈর্ঘ্য $100 \text{ cm}$ (এটি উত্তল লেন্সের মতো আচরণ করবে)।

৫২. রৈখিক বিবর্ধন ($m$) কাকে বলে? $m = -1$ এবং $m = +2$ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:

প্রতিবিম্বের দূরত্ব ($v$) ও বস্তুর দূরত্বের ($u$) অনুপাতকে (বা প্রতিবিম্বের আকার ও বস্তুর আকারের অনুপাতকে) রৈখিক বিবর্ধন বলে।

১) $m = -1$: প্রতিবিম্বটি সদ, অবশীর্ষ এবং বস্তুর সমান আকারের (উত্তল লেন্সের $2f$ দূরত্বে বস্তু থাকলে হয়)।

২) $m = +2$: প্রতিবিম্বটি অসদ, সমশীর্ষ এবং বস্তুর দ্বিগুণ আকারের (বিবর্ধক কাঁচে দেখা যায়)।

৫৩. ওজোন স্তরের ক্ষয় এবং অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবের সম্পর্ক লেখো।

উত্তর:

ওজোন স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর UV-B ও UV-C রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। CFC বা অন্যান্য গ্যাসের কারণে ওজোন স্তর পাতলা হলে (ওজোন হোল), এই ক্ষতিকর রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছায়। এর ফলে মানুষের ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয়।

৫৪. বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহার করা হয়, কিন্তু হলুদ বা সবুজ নয় কেন? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:

দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ($\lambda$) সবচেয়ে বেশি। র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্র ($I \propto 1/\lambda^4$) অনুযায়ী, লাল আলোর বিক্ষেপণ হলুদ বা সবুজের তুলনায় অনেক কম। তাই কুয়াশা, ধোঁয়া বা বৃষ্টির মধ্যেও লাল আলো বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং চালক বা পথচারীর চোখে সহজেই ধরা পড়ে।

৫৫. প্রিজমের উপাদানের প্রতিসরাঙ্ক ও আপতন কোণের ওপর চ্যুতিকোণ ($\delta$) কীভাবে নির্ভর করে? (লেখচিত্রসহ)

উত্তর:

১) প্রতিসরাঙ্ক: উপাদানের প্রতিসরাঙ্ক বাড়লে চ্যুতিকোণ বাড়ে।

২) আপতন কোণ: আপতন কোণ ($i$) বাড়াতে থাকলে চ্যুতিকোণ ($\delta$) প্রথমে কমে একটি সর্বনিম্ন মানে পৌঁছায় (ন্যূনতম চ্যুতি), এবং তারপর আপতন কোণ আরও বাড়ালে চ্যুতিকোণ আবার বাড়তে থাকে।

(লেখচিত্রটি ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়)।

৫৬. মহাকাশচারীরা বা চাঁদের মাটি থেকে আকাশকে কালো দেখেন কেন?

উত্তর:

আকাশের নীল রং বায়ুমণ্ডলে আলোর বিক্ষেপণের ফল। মহাকাশে বা চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে সূর্যের আলোর কোনো বিক্ষেপণ ঘটে না। কোনো আলো বিক্ষেপিত হয়ে চোখে পৌঁছায় না বলে আকাশকে সম্পূর্ণ কালো দেখায়।

৫৭. একটি লাল রঙের ফুলকে সবুজ আলোয় দেখলে কালো দেখায়, কিন্তু লাল আলোয় দেখলে লাল দেখায় কেন?

উত্তর:

আমরা কোনো বস্তুকে সেই রঙেই দেখি যে রঙের আলো বস্তুটি প্রতিফলিত করে।

১) লাল ফুল কেবল লাল আলো প্রতিফলিত করে এবং অন্য সব বর্ণ শোষণ করে। সবুজ আলোয় লাল বর্ণ নেই, তাই ফুলটি সবুজ আলো সম্পূর্ণ শোষণ করে নেয় এবং কালো দেখায়।

২) লাল আলোয় দেখলে ফুলটি লাল আলো প্রতিফলিত করে, তাই লাল দেখায়।

৫৮. জলের মধ্যে আংশিক ডোবানো লাঠি বা পেন্সিল বাঁকা দেখায় কেন?

উত্তর:

এটি আলোর প্রতিসরণের জন্য হয়। পেন্সিলের জলের নিচের অংশ থেকে আলোকরশ্মি জল (ঘন) থেকে বায়ুতে (লঘু) আসার সময় অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আমাদের চোখ যখন ওই বেকে যাওয়া রশ্মি অনুসরণ করে, তখন মনে হয় পেন্সিলের ডুবন্ত অংশটি কিছুটা ওপরে উঠে এসেছে। ফলে সংযোগস্থলে পেন্সিলটিকে বাঁকা মনে হয়।

[attachment_3](attachment)

৫৯. গাণিতিক সমস্যা: একটি আলোক রশ্মি বায়ু থেকে কাঁচে প্রবেশ করল। আপতন কোণ $60^\circ$ এবং প্রতিসরণ কোণ $30^\circ$। কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক ও চ্যুতিকোণ কত?

সমাধান:

দেওয়া আছে, $i = 60^\circ, r = 30^\circ$।

১) প্রতিসরাঙ্ক $\mu = \frac{\sin i}{\sin r} = \frac{\sin 60^\circ}{\sin 30^\circ}$

$= \frac{\sqrt{3}/2}{1/2} = \sqrt{3} \approx 1.732$।

২) চ্যুতিকোণ $\delta = i – r = 60^\circ – 30^\circ = 30^\circ$।

উত্তর: প্রতিসরাঙ্ক ১.৭৩২ এবং চ্যুতি $30^\circ$।

৬০. এক্স-রশ্মি (X-ray) ও দৃশ্যমান আলোর মধ্যে দুটি সাদৃশ্য ও দুটি বৈসাদৃশ্য লেখো।

উত্তর:

সাদৃশ্য: ১) উভয়ই তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ। ২) শূন্যস্থানে উভয়ের বেগ সমান ($3 \times 10^8 \text{ m/s}$)।

বৈসাদৃশ্য: ১) এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে অনেক কম। ২) এক্স-রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অনেক বেশি, যা দৃশ্যমান আলোর নেই (যেমন- মাংসপেশি ভেদ করা)।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রশ্মিচিত্রের তালিকা


প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, নিচের জ্যামিতিক চিত্রগুলো (Ray Diagrams) পেন্সিল ও স্কেল দিয়ে বাড়িতে বারবার প্র্যাকটিস করবে। পরীক্ষায় এগুলো প্রায়ই আসে:

  • অবতল দর্পণ: ফোকাস ও মেরুর মাঝখানে বস্তু থাকলে প্রতিবিম্ব গঠন (দন্ত চিকিৎসকের দর্পণ)। [attachment_0](attachment)
  • উত্তল লেন্স: ফোকাস ও আলোক কেন্দ্রের মাঝখানে বস্তু থাকলে প্রতিবিম্ব গঠন (বিবর্ধক কাঁচ)। [attachment_1](attachment)
  • প্রিজম: প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণ এবং চ্যুতিকোণ প্রদর্শন।
  • আয়তাকার কাঁচের স্ল্যাব: আলোর প্রতিসরণ ও পার্শ্বসরণ প্রদর্শন।
  • দৃষ্টির ত্রুটি: মায়োপিয়া (হ্রস্ব দৃষ্টি) ও হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘ দৃষ্টি) এবং লেন্স দ্বারা তাদের প্রতিকার। [attachment_2](attachment)
  • লেন্স দ্বারা সদ বিম্ব: উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বের বাইরে (যেমন 2f দূরত্বে) বস্তু থাকলে প্রতিবিম্ব গঠন।

টিপস: চিত্র আঁকার সময় আলোকরশ্মির গতিপথ নির্দেশক তীর চিহ্ন (Arrow mark) দিতে কখনোই ভুলবে না। তীর চিহ্ন না থাকলে পুরো নম্বর কাটা যেতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – আলো


প্রশ্ন: আকাশ নীল দেখায় কেন?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা ও গ্যাসের অণুগুলি সূর্যের আলোর কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল ও বেগুনি বর্ণকে বেশি বিক্ষেপিত করে (র‍্যালের সূত্র)। এই বিক্ষেপিত নীল আলো আমাদের চোখে পৌঁছায় বলে আকাশ নীল দেখায়।

প্রশ্ন: হীরা চকচক করে কেন?

উত্তর: হীরার প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি (২.৪২) এবং সংকট কোণ খুব কম (২৪.৪°)। তাই হীরাকে বিশেষ কায়দাতে কাটলে এর ভেতরে আলোর বারবার অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে, ফলে হীরা উজ্জ্বল দেখায়।

প্রশ্ন: গাড়ির ভিউ ফাইন্ডারে কোন দর্পণ ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: গাড়ির ভিউ ফাইন্ডার বা রিয়ার ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। কারণ এটি সর্বদা সোজা ও ছোট প্রতিবিম্ব গঠন করে এবং এর দৃষ্টির ক্ষেত্র অনেক বড়।

প্রশ্ন: বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয়। ফলে কুয়াশা বা ধোঁয়ার মধ্যেও লাল আলো অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

প্রশ্ন: লেন্স্সের ক্ষমতার একক কী?

উত্তর: লেন্সের ক্ষমতার এস.আই (SI) একক হলো ডায়াপ্টার (Dioptre), যাকে ‘D’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার