দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান: 1. পরিবেশের জন্য ভাবনা

অধ্যায়ের ভূমিকা: পরিবেশের জন্য ভাবনা


[attachment_0](attachment)আমাদের পৃথিবীটা একটা বিশাল গ্যাসের চাদর বা কম্বল দিয়ে মোড়া, যাকে আমরা বলি বায়ুমণ্ডল। এই বায়ুমণ্ডলই আমাদের সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচায়, আবার পৃথিবীর তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে।

কিন্তু মানুষের বিভিন্ন অবিবেচক কাজের ফলে এই সুরক্ষা কবচ আজ হুমকির মুখে।

  • ওজোন স্তরের ক্ষয়: যার ফলে অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে ঢুকে পড়ছে।
  • গ্লোবাল ওয়ার্মিং: পৃথিবী জ্বরে পুড়ছে গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে।
  • শক্তির সংকট: কয়লা বা পেট্রোলিয়াম ফুরিয়ে আসছে, তাই আমাদের তাকাতে হবে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির মতো অপ্রচলিত শক্তির দিকে।

এছাড়াও এই অধ্যায়ে আমরা জানব রহস্যময় ‘ফায়ার আইস’ বা মিথেন হাইড্রেট সম্পর্কে। চলো, আমাদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হই!


বিভাগ-ক: বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) – ২৫টি

১. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়? [মাধ্যমিক ২০১৭]

  1. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  2. ট্রপোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (B) ট্রপোস্ফিয়ার (ক্ষুব্ধমণ্ডল)

২. কোন স্তরে ওজন গ্যাসের স্তর দেখা যায়? [মাধ্যমিক ২০১৯]

  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (B) স্ট্রাটোস্ফিয়ার (শান্তমণ্ডল)

৩. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর কোনটি?

  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. মেসোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (B) মেসোস্ফিয়ার (তাপমাত্রা প্রায় $-93^\circ\text{C}$)

৪. গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মধ্যে প্রধান কোনটি? [মাধ্যমিক ২০১৮]

  1. $\text{CH}_4$
  2. $\text{N}_2\text{O}$
  3. $\text{CO}_2$
  4. $\text{CFC}$

সঠিক উত্তর: (C) $\text{CO}_2$ (কার্বন ডাই-অক্সাইড)

৫. নিচের কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়? [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০২০]

  1. মিথেন ($\text{CH}_4$)
  2. জলীয় বাষ্প ($\text{H}_2\text{O}$)
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড ($\text{CO}_2$)
  4. অক্সিজেন ($\text{O}_2$)

সঠিক উত্তর: (D) অক্সিজেন ($\text{O}_2$) (নাইট্রোজেনও গ্রিনহাউস গ্যাস নয়)

৬. ওজন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক কী?

  1. ডেসিবেল
  2. পাস্কাল
  3. ডবসন (Dobson)
  4. অ্যাম্পিয়ার

সঠিক উত্তর: (C) ডবসন (DU)

৭. ওজন স্তর ধ্বংসে প্রধান ভূমিকা পালন করে কোন যৌগ?

  1. $\text{CO}_2$
  2. $\text{NO}_2$
  3. $\text{CFC}$ (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন)
  4. $\text{CH}_4$

সঠিক উত্তর: (C) $\text{CFC}$

৮. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে?

  1. মেসোস্ফিয়ার
  2. আয়নোস্ফিয়ার (থার্মোস্ফিয়ার)
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (B) আয়নোস্ফিয়ার

৯. একটি অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস হলো— [মাধ্যমিক ২০১৮]

  1. পেট্রোল
  2. কেরোসিন
  3. বায়োগ্যাস
  4. কয়লা

সঠিক উত্তর: (C) বায়োগ্যাস

১০. কোন জীবাশ্ম জ্বালানির তাপন মূল্য (Calorific Value) সবচেয়ে বেশি?

  1. কয়লা
  2. পেট্রোল
  3. ডিজেল
  4. রান্নার গ্যাস (LPG)

সঠিক উত্তর: (D) রান্নার গ্যাস (LPG)

১১. ‘ফায়ার আইস’ (Fire Ice) বা ‘আগুনে বরফ’ কাকে বলা হয়? [মাধ্যমিক ২০১৯]

  1. $\text{CO}_2$
  2. মিথেন হাইড্রেট
  3. মিথানল
  4. শুষ্ক বরফ

সঠিক উত্তর: (B) মিথেন হাইড্রেট ($4\text{CH}_4 \cdot 23\text{H}_2\text{O}$)

১২. বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি? [মাধ্যমিক ২০২০]

  1. $\text{CO}_2$
  2. $\text{CH}_4$ (মিথেন)
  3. $\text{H}_2$
  4. $\text{CH}_3\text{OH}$

সঠিক উত্তর: (B) মিথেন ($\text{CH}_4$)

১৩. জেট প্লেন বা বিমান চলাচলের জন্য উপযুক্ত স্তর কোনটি?

  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (B) স্ট্রাটোস্ফিয়ার (ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে)

১৪. সৌরকোশ (Solar Cell) তৈরিতে কোন অর্ধপরিবাহী ব্যবহৃত হয়?

  1. তামা ($\text{Cu}$)
  2. সিলিকন ($\text{Si}$)
  3. সিলভার ($\text{Ag}$)
  4. কার্বন ($\text{C}$)

সঠিক উত্তর: (B) সিলিকন ($\text{Si}$)

১৫. কয়লা খনিতে জমে থাকা কোন গ্যাসটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়? (CBM)

  1. মিথেন
  2. ইথেন
  3. বিউটেন
  4. প্রোপেন

সঠিক উত্তর: (A) মিথেন (Coal Bed Methane)

১৬. প্রদত্ত কোনটির তাপন মূল্য সর্বাধিক?

  1. কাঠ
  2. কয়লা
  3. LPG
  4. হাইড্রোজেন ($\text{H}_2$)

সঠিক উত্তর: (D) হাইড্রোজেন (যদিও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার সীমিত)

১৭. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেরুজ্যোতি (Aurora) দেখা যায়?

  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. আয়নোস্ফিয়ার (থার্মোস্ফিয়ার)
  4. এক্সোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (C) আয়নোস্ফিয়ার

১৮. একটি জৈব গ্রিনহাউস গ্যাসের উদাহরণ হলো—

  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. মিথেন
  4. জলীয় বাষ্প

সঠিক উত্তর: (C) মিথেন (জৈব যৌগ)

১৯. বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতম স্তর কোনটি?

  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. মেসোস্ফিয়ার
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার

সঠিক উত্তর: (D) এক্সোস্ফিয়ার (১২০০°C এর বেশি)

২০. ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী $\text{CFC}$ অণুর কোন পরমাণুটি সক্রিয় ভূমিকা নেয়?

  1. কার্বন
  2. ফ্লুরিন
  3. সক্রিয় ক্লোরিন ($\text{Cl}$)
  4. অক্সিজেন

সঠিক উত্তর: (C) সক্রিয় ক্লোরিন

২১. সুইট গ্যাস (Sweet Gas) বা কোল বেড মিথেন-এর প্রধান উপাদান কী?

  1. $N_2$
  2. $H_2$
  3. $CH_4$
  4. $CO_2$

সঠিক উত্তর: (C) $CH_4$ (মিথেন)

২২. গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ কোন গ্যাসের অবদান সবচেয়ে বেশি?

  1. $\text{CO}_2$
  2. $\text{CH}_4$
  3. $\text{CFC}$
  4. $\text{N}_2\text{O}$

সঠিক উত্তর: (A) $\text{CO}_2$ (প্রায় ৫০-৬০%)

২৩. প্রতি কিলোমিটার ওপরে উঠলে ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর উষ্ণতা কতটা কমে?

  1. $10^\circ\text{C}$
  2. $6.5^\circ\text{C}$
  3. $5^\circ\text{C}$
  4. $2^\circ\text{C}$

সঠিক উত্তর: (B) $6.5^\circ\text{C}$ (Lapse Rate)

২৪. বায়োফুয়েল (Biofuel)-এর মূল উপাদান কী?

  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. ইথার
  4. অ্যাসিটোন

সঠিক উত্তর: (A) ইথানল (গ্যাসহল তৈরিতে লাগে)

২৫. মিথেন হাইড্রেটের ভৌত অবস্থা কেমন?

  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. কঠিন (বরফের মতো)
  4. প্লাজমা

সঠিক উত্তর: (C) কঠিন (বরফের মতো কেলাসাকার)

অধ্যায়: পরিবেশের জন্য ভাবনা

বিভাগ: সত্য/মিথ্যা, শূন্যস্থান ও অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন


বিভাগ-ক: সত্য অথবা মিথ্যা নির্বাচন করো (২০টি)

১. ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: সত্য

২. ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।

উত্তর: সত্য

৩. কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) একমাত্র গ্রিনহাউস গ্যাস।

উত্তর: মিথ্যা (মিথেন, জলীয় বাষ্প, CFC ইত্যাদিও গ্রিনহাউস গ্যাস)।

৪. স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে ‘শান্তমণ্ডল’ বলা হয়।

উত্তর: সত্য

৫. সিএফসি ($CFC$) ওজোন স্তর ধ্বংসে সাহায্য করে।

উত্তর: সত্য

৬. বায়োগ্যাস একটি অনবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস।

উত্তর: মিথ্যা (এটি নবীকরণযোগ্য)।

৭. মিথেন হাইড্রেটকে ‘ফায়ার আইস’ বলা হয়।

উত্তর: সত্য

৮. মেসোস্ফিয়ার হলো বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতম স্তর।

উত্তর: মিথ্যা (এটি শীতলতম স্তর)।

৯. আয়নোস্ফিয়ার থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।

উত্তর: সত্য

১০. এলপিজি (LPG)-এর প্রধান উপাদান হলো মিথেন।

উত্তর: মিথ্যা (প্রধান উপাদান বিউটেন)।

১১. সৌরকোশ (Solar Cell) তৈরিতে সিলিকন ব্যবহৃত হয়।

উত্তর: সত্য

১২. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল হ্রাস পাবে।

উত্তর: মিথ্যা (বরফ গলে জলতল বৃদ্ধি পাবে)।

১৩. কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি।

উত্তর: সত্য

১৪. বায়োফুয়েলের একটি উদাহরণ হলো গ্যাসোলিন।

উত্তর: মিথ্যা (উদাহরণ: ইথানল বা বায়োডিজেল)।

১৫. নাইট্রোজেন ($N_2$) একটি গ্রিনহাউস গ্যাস।

উত্তর: মিথ্যা

১৬. সিএনজি (CNG) পেট্রোলের চেয়ে কম দূষণ ঘটায়।

উত্তর: সত্য

১৭. ওজোন গহ্বর বা হোল সর্বপ্রথম আন্টার্কটিকার আকাশে দেখা যায়।

উত্তর: সত্য

১৮. জ্বালানির তাপন মূল্যের এস.আই (SI) একক হলো $\text{kJ/kg}$।

উত্তর: সত্য

১৯. কাঠ কয়লার তাপন মূল্য কয়লার চেয়ে বেশি।

উত্তর: মিথ্যা (কম)।

২০. থার্মোস্ফিয়ারের আরেক নাম আয়নোস্ফিয়ার।

উত্তর: সত্য


বিভাগ-খ: শূন্যস্থান পূরণ করো (২০টি)

১. বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরটি হলো _______।

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ার

২. ওজোন গ্যাসের অণুতে অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যা _______ টি।

উত্তর:

৩. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ঘনত্ব মাপার একক হলো _______।

উত্তর: ডবসন (DU)

৪. প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসটি হলো _______। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$)

৫. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১ কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে _______ হারে উষ্ণতা কমে।

উত্তর: $6.5^\circ\text{C}$

৬. CFC-এর পুরো নাম _______।

উত্তর: ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন

৭. বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান হলো _______। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: মিথেন ($CH_4$)

৮. সৌরকোশ সূর্যালোককে _______ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

উত্তর: বিদ্যুৎ বা তড়িৎ

৯. মিথেন হাইড্রেটের সংকেত হলো _______।

উত্তর: $4CH_4 \cdot 23H_2O$

১০. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর হলো _______।

উত্তর: মেসোস্ফিয়ার

১১. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় _______ স্তর থেকে।

উত্তর: আয়নোস্ফিয়ার

১২. _______ রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।

উত্তর: অতিবেগুনি (UV)

১৩. সুইট গ্যাস বা কোল বেড মিথেনের প্রধান উপাদান _______।

উত্তর: মিথেন ($CH_4$)

১৪. _______ একটি জৈব গ্রিনহাউস গ্যাস।

উত্তর: মিথেন

১৫. বায়ুমণ্ডলের _______ স্তরে মেরুজ্যোতি দেখা যায়।

উত্তর: আয়নোস্ফিয়ার বা থার্মোস্ফিয়ার

১৬. রেফ্রিজারেটরে শীতলীকরণের জন্য আগে _______ গ্যাস ব্যবহৃত হতো।

উত্তর: সিএফসি ($CFC$)

১৭. এলপিজি (LPG)-এর প্রধান উপাদান হলো _______।

উত্তর: বিউটেন

১৮. বায়ুমণ্ডলের _______ স্তর উল্কাপিণ্ডকে পুড়িয়ে দেয়।

উত্তর: মেসোস্ফিয়ার

১৯. বায়ুশক্তি বা উইন্ড মিল-এ বায়ুর _______ শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।

উত্তর: গতি

২০. পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনাকে _______ বলে।

উত্তর: গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন


বিভাগ-গ: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (৩৫টি)

১. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে যে অদৃশ্য গ্যাসের আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।

২. ট্রপোপজ (Tropopause) কী?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের সংযোগস্থলে যে অঞ্চলে উষ্ণতার কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে ট্রপোপজ বলে।

৩. ওজোন স্তরের প্রধান কাজ কী? [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) শোষণ করে জীবকুলকে রক্ষা করা।

৪. গ্রিনহাউস এফেক্ট কী?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত $CO_2$, মিথেন প্রভৃতি গ্যাসের কারণে পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারে না, ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত থাকে। একে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে।

৫. দুটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।

উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) এবং মিথেন ($CH_4$)।

৬. ওজোন স্তর ধ্বংসে $NO_2$-এর ভূমিকা কী?

উত্তর: নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ($NO_2$) ওজোন ($O_3$) অণুর সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনকে অক্সিজেনে পরিণত করে, ফলে ওজোন স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

৭. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন কী?

উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।

৮. দুটি প্রচলিত বা চিরাচরিত শক্তির উৎসের নাম লেখো।

উত্তর: কয়লা এবং পেট্রোলিয়াম (খনিজ তেল)।

৯. দুটি অপ্রচলিত বা অচিরাচরিত শক্তির উৎসের নাম লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তি।

১০. CBM-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: Coal Bed Methane.

১১. ফায়ার আইস বা মিথেন হাইড্রেট কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলাস্তরের নিচে নিম্ন তাপমাত্রায় ও উচ্চ চাপে পাওয়া যায়।

১২. তাপন মূল্য বা Calorific Value কাকে বলে?

উত্তর: একক ভরের কোনো জ্বালানির সম্পূর্ণ দহনে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে ওই জ্বালানির তাপন মূল্য বলে।

১৩. কোন জ্বালানির তাপন মূল্য সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: তরল হাইড্রোজেন ($150 \text{ kJ/g}$)।

১৪. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি দেখা যায়?

উত্তর: আয়নোস্ফিয়ার বা থার্মোস্ফিয়ারে।

১৫. ল্যাপস রেট (Lapse Rate) কী?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা হ্রাসের হারকে (প্রতি কিমিতে ৬.৫ ডিগ্রি সে.) ল্যাপস রেট বলে।

১৬. ODS-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: Ozone Depleting Substances.

১৭. IPCC-এর পুরো নাম লেখো।

উত্তর: Intergovernmental Panel on Climate Change.

১৮. সৌরকোশের একটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য, সোলার ক্যালকুলেটর বা ট্রাফিক সিগন্যালে ব্যবহৃত হয়।

১৯. ফটোভোল্টায়িক কোশ তৈরিতে কোন অর্ধপরিবাহী লাগে?

উত্তর: সিলিকন ($Si$)।

২০. বায়োমাস বা জীবভর কাকে বলে?

উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ বা বর্জ্য পদার্থ, যা থেকে শক্তি উৎপাদন সম্ভব, তাকে বায়োমাস বলে। যেমন- কাঠ, গোবর।

২১. বায়োগ্যাসে মিথেনের পরিমাণ কত?

উত্তর: প্রায় ৫০% থেকে ৭৫%।

২২. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) কী?

উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমিত ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।

২৩. কাঠ ও কয়লার মধ্যে কোনটি ভালো জ্বালানি এবং কেন?

উত্তর: কয়লা ভালো জ্বালানি, কারণ কয়লার তাপন মূল্য কাঠের চেয়ে বেশি এবং এটি পোড়ালে ধোঁয়া কম হয় (উন্নত মানের কয়লার ক্ষেত্রে)।

২৪. স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলা হয় কেন?

উত্তর: এই স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি বা বায়ুপ্রবাহ প্রায় থাকে না বললেই চলে, তাই একে শান্তমণ্ডল বলে।

২৫. বায়ুমণ্ডলে $CFC$-এর একটি উৎস লেখো।

উত্তর: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার বা সুগন্ধি স্প্রে।

২৬. অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে চোখের কী ক্ষতি হয়?

উত্তর: চোখে ছানি পড়ে (Cataract) বা কর্নিয়া নষ্ট হয়ে অন্ধত্ব আসতে পারে।

২৭. CNG-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: Compressed Natural Gas.

২৮. LPG-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: Liquefied Petroleum Gas.

২৯. দুটি নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসের নাম লেখো।

উত্তর: সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি (বা জোয়ার-ভাটার শক্তি)।

৩০. ভূ-তাপীয় শক্তির উৎস কী?

উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা গলিত ম্যাগমা বা গরম শিলাস্তর।

৩১. মিথেনোজেনিক ব্যাকটেরিয়া কী কাজ করে?

উত্তর: এরা বায়োমাস বা জৈব বর্জ্যকে বিয়োজিত করে মিথেন গ্যাস (বায়োগ্যাস) উৎপন্ন করে।

৩২. একটি জৈব গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: মিথেন ($CH_4$)।

৩৩. স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওজোন ঘনত্ব কোন এককে মাপা হয়?

উত্তর: ডবসন ইউনিট (DU)।

৩৪. এক্সোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা প্রায় কত হয়?

উত্তর: প্রায় $1200^\circ\text{C}$ বা তার বেশি।

৩৫. অ্যালবেডো (Albedo) কী?

উত্তর: সূর্য থেকে আসা তাপের যে অংশ পৃথিবী দ্বারা শোষিত না হয়ে মহাশূন্যে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায় (প্রায় ৩৪%), তাকে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলে।

বিভাগ-ঘ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ২)

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান | অধ্যায়: পরিবেশের জন্য ভাবনা | মোট প্রশ্ন: ৪০


ক. বায়ুমণ্ডল ও তার স্তরবিন্যাস

১. ট্রপোস্ফিয়ারকে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর বা ট্রপোস্ফিয়ারে ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প, মেঘ ইত্যাদি থাকে। এই স্তরেই ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং বায়ুপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি ঘটে বলে একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলা হয়।

২. স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে ‘শান্তমণ্ডল’ বলা হয় কেন? এই স্তরে জেট বিমান চলাচল করে কেন?

উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্প বা ধূলিকণা প্রায় নেই বললেই চলে, তাই এখানে মেঘ, ঝড় বা বৃষ্টি হয় না। বায়ুমণ্ডল শান্ত থাকে বলে একে শান্তমণ্ডল বলে।
বায়ুর বাধা কম থাকায় এবং ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি না থাকায় এই স্তরে জেট বিমানগুলি নিরাপদে ও দ্রুতগতিতে চলাচল করতে পারে।

৩. মেসোস্ফিয়ার স্তরের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১) এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর (তাপমাত্রা প্রায় $-93^\circ\text{C}$ পর্যন্ত নামে)।
২) মহাকাশ থেকে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরে এসে বায়ুর ঘর্ষণে জ্বলে ছাই হয়ে যায়।

৪. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব কী?

উত্তর: ১) এই স্তরে গ্যাসীয় অণুগুলি আয়নিত অবস্থায় থাকে, যা বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেয়। ফলে বেতার সংযোগ সম্ভব হয়।
২) এই স্তরেই মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) দেখা যায়।

৫. ট্রপোপজ (Tropopause) ও স্ট্রাটোপজ (Stratopause) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ট্রপোপজ: ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের সংযোগকারী অঞ্চল, যেখানে উচ্চতা বাড়লেও উষ্ণতার পরিবর্তন হয় না।
স্ট্রাটোপজ: স্ট্রাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ারের সংযোগকারী অঞ্চল, যেখানে উষ্ণতা স্থির থাকে।

৬. ল্যাপস রেট (Lapse Rate) বা উষ্ণতার হ্রাসের স্বাভাবিক হার কাকে বলে?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর উষ্ণতা তত কমতে থাকে। প্রতি ১ কিলোমিটার ($1 \text{ km}$) উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা প্রায় $6.5^\circ\text{C}$ হারে হ্রাস পায়। উষ্ণতা হ্রাসের এই হারকে ল্যাপস রেট বলে।

৭. এক্সোস্ফিয়ারের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তর: ১) এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব অত্যন্ত কম থাকে এবং এখানে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দেখা যায়।
২) কৃত্রিম উপগ্রহ (Artificial Satellites) এবং মহাকাশ স্টেশনগুলি এই স্তরেই স্থাপন করা হয়।

৮. পরিচলন স্রোত বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায় এবং কেন?

উত্তর: পরিচলন স্রোত ট্রপোস্ফিয়ারে দেখা যায়। সূর্যরশ্মিতে পৃথিবী পৃষ্ঠ উত্তপ্ত হলে সংলগ্ন বাতাস গরম ও হালকা হয়ে ওপরে ওঠে এবং ওপরের ভারী বাতাস নিচে নেমে আসে। এই বায়ুপ্রবাহ বা পরিচলন স্রোতের ফলেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে।

খ. ওজোন স্তর ও গ্রিনহাউস প্রভাব

৯. ওজোন স্তর কীভাবে সৃষ্টি হয়? (আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া) [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ($UV$) প্রভাবে অক্সিজেন অণু ($O_2$) বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন পরমাণুতে ($O$) পরিণত হয়। পরে এই পরমাণু অপর অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হয়ে ওজোন ($O_3$) গঠন করে।
১) $O_2 \xrightarrow{UV} O + O$
২) $O_2 + O \rightarrow O_3$ (ওজোন)।

১০. ওজোন স্তরের ধ্বংসের বা ক্ষয়ের দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: ১) মানুষের ওপর প্রভাব: অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে ত্বকের ক্যান্সার (Skin cancer), রোদে পোড়া দাগ এবং চোখের ছানি পড়ার কারণ হয়।
২) পরিবেশের ওপর প্রভাব: উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নষ্ট হয়ে যায়।

১১. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ($CFC$) কীভাবে ওজোন স্তর ধ্বংস করে? (বিক্রিয়াসহ)

উত্তর: অতিবেগুনি রশ্মির আঘাতে $CFC$ অণু ভেঙে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু ($Cl$) তৈরি করে। এই সক্রিয় ক্লোরিন ওজোন অণুর ($O_3$) সাথে বিক্রিয়া করে তাকে অক্সিজেনে ($O_2$) পরিণত করে এবং ওজোন স্তর ক্ষয় করে।
$CFCl_3 \xrightarrow{UV} CFCl_2 + Cl$
$Cl + O_3 \rightarrow ClO + O_2$।

[attachment_0](attachment)

১২. গ্রিনহাউস এফেক্ট (Greenhouse Effect) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কিছু গ্যাস (যেমন- $CO_2, CH_4$) সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপীয় বিকিরণকে পৃথিবীতে আসতে দেয়, কিন্তু পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় এবং শোষণ করে। এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত থাকে। এই ঘটনাকে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে।

[attachment_1](attachment)

১৩. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি কুফল বা ফলাফল লেখো। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: ১) জলবায়ুর পরিবর্তন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২) আবহাওয়ার পরিবর্তন: অতিবৃষ্টি, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা সুপার সাইক্লোনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১৪. গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর দুটি উপায় লেখো।

উত্তর: ১) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস: কয়লা, পেট্রোলের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
২) বনসৃজন: নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগাতে হবে যাতে তারা বাতাস থেকে $CO_2$ শোষণ করতে পারে।

১৫. ODS কী? কয়েকটি ODS-এর নাম লেখো।

উত্তর: ODS-এর পুরো নাম Ozone Depleting Substances। অর্থাৎ যেসব রাসায়নিক পদার্থ স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী, তাদের ODS বলে।
উদাহরণ: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ($CFC$), হ্যালন (Halons), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ ($NO, NO_2$) ইত্যাদি।

১৬. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্রিনহাউস গ্যাস নয় কেন?

উত্তর: কোনো গ্যাসের গ্রিনহাউস প্রভাব দেখানোর জন্য অবলোহিত রশ্মি বা ইনফ্রারেড রেডিয়েশন শোষণ করার ক্ষমতা থাকতে হয়। $N_2$ বা $O_2$ অণুর এই ক্ষমতা নেই (এদের ডাইপোল মোমেন্ট শূন্য বা পরিবর্তিত হয় না), তাই এরা তাপ ধরে রাখতে পারে না এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।

গ. শক্তির উৎস ও জ্বালানি

১৭. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) বলতে কী বোঝো? [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর সামর্থ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের যে পরিমিত, সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার করা হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বা ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলে।

১৮. জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: কোটি কোটি বছর ধরে ভূগর্ভের নিচে চাপা পড়ে থাকা উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ তাপ ও চাপের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে যে জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম (খনিজ তেল) ও প্রাকৃতিক গ্যাস।

১৯. জ্বালানির তাপন মূল্য (Calorific Value) বলতে কী বোঝো? এর একক কী? [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: একক ভরের কোনো জ্বালানির সম্পূর্ণ দহনে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে ওই জ্বালানির তাপন মূল্য বলে।
এর এস.আই (SI) একক হলো কিলোজুল প্রতি কেজি ($kJ/kg$)

২০. ‘ফায়ার আইস’ (Fire Ice) বা মিথেন হাইড্রেট কী? এটি কোথায় পাওয়া যায়? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: মিথেন হাইড্রেট ($4CH_4 \cdot 23H_2O$) হলো জলের অণুর খাঁচার মধ্যে আবদ্ধ মিথেন গ্যাসের একটি কঠিন কেলাসাকার যৌগ। এটি দেখতে বরফের মতো কিন্তু আগুনের সংস্পর্শে জ্বলে ওঠে, তাই একে ‘ফায়ার আইস’ বলে।
এটি সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলাস্তরে নিম্ন তাপমাত্রা ও উচ্চ চাপে পাওয়া যায়।

২১. নবীকরণযোগ্য এবং অনবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহার করা যায় (যেমন- সৌরশক্তি), কিন্তু অনবীকরণযোগ্য শক্তি সীমিত এবং একবার ফুরিয়ে গেলে আর পাওয়া যায় না (যেমন- কয়লা)।
২) নবীকরণযোগ্য শক্তি পরিবেশবান্ধব, কিন্তু অনবীকরণযোগ্য শক্তি পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

২২. সৌরকোশ (Solar Cell) কী? এর দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: যে ব্যবস্থার মাধ্যমে সূর্যের আলোক শক্তিকে অর্ধপরিবাহীর (সিলিকন) সাহায্যে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সৌরকোশ বলে।
ব্যবহার: কৃত্রিম উপগ্রহে বিদ্যুৎ সরবরাহে এবং প্রত্যন্ত গ্রামে বা সোলার স্ট্রিট লাইটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

২৩. বায়োগ্যাস (Biogas) কী? এর প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: প্রাণীজ বর্জ্য (যেমন গোবর), কৃষিজ বর্জ্য বা কচুরিপানা ইত্যাদি বায়োমাসকে বাতাসের অনুপস্থিতিতে মিথেনোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিয়োজিত করলে যে জ্বালানি গ্যাস উৎপন্ন হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।
এর প্রধান উপাদান হলো মিথেন ($CH_4$) (প্রায় ৫০-৭৫%)।

২৪. কোল বেড মিথেন (CBM) কী? এটি কীভাবে আহরণ করা হয়?

উত্তর: মাটির নিচে কয়লা খনির কয়লার স্তরের ফাঁকে ফাঁকে অধিশোষিত অবস্থায় যে প্রাকৃতিক গ্যাস (প্রধানত মিথেন) জমে থাকে, তাকে কোল বেড মিথেন বা CBM বলে।
কয়লা স্তরে ছিদ্র করে পাম্পের সাহায্যে চাপ কমিয়ে এই গ্যাসকে বাইরে বের করে আনা হয়। একে ‘সুইট গ্যাস’ও বলা হয়।

২৫. সৌরশক্তির দুটি সুবিধা ও দুটি অসুবিধা লেখো।

উত্তর: সুবিধা: ১) এটি অফুরন্ত ও নবীকরণযোগ্য। ২) এটি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।
অসুবিধা: ১) রাতে বা মেঘলা দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। ২) সৌরকোশ স্থাপনের প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি।

২৬. বায়োফুয়েল (Biofuel) বা জৈব জ্বালানি কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: উদ্ভিদ বা অণুজীব থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রাপ্ত যে জ্বালানি পুনর্নবীকরণযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব, তাকে বায়োফুয়েল বলে।
উদাহরণ: বায়ো-ইথানল (ভুট্টা বা আখের রস থেকে) এবং বায়ো-ডিজেল (জ্যাট্রোফা গাছের বীজ থেকে)।

২৭. কয়লার চেয়ে LPG বা রান্নার গ্যাস ভালো জ্বালানি কেন?

উত্তর: ১) LPG-এর তাপন মূল্য ($50 \text{ kJ/g}$) কয়লার ($25-30 \text{ kJ/g}$) চেয়ে অনেক বেশি, তাই একই ওজনে বেশি তাপ পাওয়া যায়।
২) LPG ধোঁয়াহীনভাবে জ্বলে এবং কোনো ছাই অবশিষ্ট থাকে না, ফলে পরিবেশ দূষণ কম হয়, যা কয়লার ক্ষেত্রে হয় না।

২৮. অপ্রচলিত শক্তির উৎস ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর: ১) জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার সীমিত এবং দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, তাই ভবিষ্যতের শক্তি সংকট মোকাবিলা করতে অপ্রচলিত শক্তির প্রয়োজন।
২) অপ্রচলিত শক্তি (সৌর, বায়ু) পরিবেশবান্ধব এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমায়, যা পরিবেশ রক্ষায় জরুরি।

২৯. ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal Energy) কীভাবে কাজে লাগানো হয়?

উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা গরম শিলাস্তর বা ম্যাগমার তাপে ভূগর্ভস্থ জল ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়। পাইপের সাহায্যে এই উচ্চচাপযুক্ত বাষ্পকে উপরে তুলে এনে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বক্রেশ্বর বা মনিকরণে এর প্ল্যান্ট আছে।

৩০. বায়োমাস (Biomass) শক্তি কী?

উত্তর: উদ্ভিদের মৃতদেহ, কাঠের গুড়ো, কৃষিজাত বর্জ্য, প্রাণীর মলমূত্র প্রভৃতি জৈব পদার্থে যে রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত থাকে, তাকে বায়োমাস শক্তি বলে। একে সরাসরি পুড়িয়ে বা বায়োগ্যাসে রূপান্তর করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

৩১. মিথেন হাইড্রেটকে ভবিষ্যতের জ্বালানি বলা হয় কেন?

উত্তর: মিথেন হাইড্রেটের ভাণ্ডার বিশাল এবং এতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস সঞ্চিত আছে। ১ ঘনমিটার মিথেন হাইড্রেট থেকে প্রায় ১৬০-১৭০ ঘনমিটার মিথেন গ্যাস পাওয়া যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে এটিই শক্তির চাহিদা মেটাতে পারবে বলে একে ভবিষ্যতের জ্বালানি বলা হয়।

৩২. বিশ্ব উষ্ণায়ন কমানোর জন্য দুটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার নাম লেখো।

উত্তর: ১) কিওটো প্রোটোকল (Kyoto Protocol): গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য চুক্তি।
২) প্যারিস জলবায়ু চুক্তি (Paris Agreement): বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রির নিচে রাখার অঙ্গীকার।

৩৩. উইন্ড মিল বা বায়ুকলের দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: ১) টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে।
২) মাটির নিচ থেকে জল তুলতে বা যাতাকল চালাতে (গম ভাঙাতে) যান্ত্রিক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩৪. জ্বালানি সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর: ১) ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন (বাস, ট্রেন) ব্যবহার করা এবং সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানো।
২) বাড়িতে বা অফিসে অকারণে আলো-পাখা না জ্বালানো এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি (LED) ব্যবহার করা।

৩৫. সুন্দরবনের ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি প্রভাব লেখো।

উত্তর: ১) সমুদ্রের জলতল বাড়ার ফলে ঘোড়ামারা, লোহাচড়া প্রভৃতি দ্বীপগুলি ডুবে যাচ্ছে।
২) নোনা জল ঢুকে যাওয়ার ফলে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে এবং কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

৩৬. মন্ট্রিল প্রোটোকল (Montreal Protocol) কী?

উত্তর: ওজোন স্তরকে রক্ষা করার জন্য ১৯৮৭ সালে কানাডায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে মন্ট্রিল প্রোটোকল বলে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল CFC-এর মতো ওজোন ধ্বংসকারী পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করা।

৩৭. কাঠকয়লা বা চারকোল কি জীবাশ্ম জ্বালানি? কারণ দর্শাও।

উত্তর: না, কাঠকয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি নয়। কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন কয়লা) তৈরি হতে ভূগর্ভে কোটি কোটি বছর সময় লাগে। কিন্তু কাঠকয়লা সদ্য কাটা কাঠকে বাতাসের অনুপস্থিতিতে পুড়িয়ে কৃত্রিমভাবে বা দ্রুত তৈরি করা যায়। এটি একটি বায়োমাসজাত জ্বালানি।

৩৮. বায়ুমণ্ডলে পরিচলন স্রোত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: সূর্য তাপে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। তখন ওপরের শীতল ও ভারী বাতাস সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে নিচে নেমে আসে। এই ওঠানামার ফলেই বায়ুমণ্ডলে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা ঝড়-বৃষ্টির কারণ।

৩৯. বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কীভাবে সম্ভব?

উত্তর: শহরের কঠিন বর্জ্য পদার্থকে পুড়িয়ে (Incineration) যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা দিয়ে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। একে Waste-to-Energy বলা হয়।

৪০. একটি আদর্শ জ্বালানির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১) উচ্চ তাপন মূল্য: অল্প পরিমাণ পোড়ালে বেশি তাপ পাওয়া যাবে।
২) পরিবেশবান্ধব: দহনের ফলে বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া কম উৎপন্ন হবে এবং ছাই কম থাকবে।

বিভাগ-চ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ৩)

বিষয়: ভৌতবিজ্ঞান | অধ্যায়: পরিবেশের জন্য ভাবনা | মোট প্রশ্ন: ৩০


১. ওজোন স্তর কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং কীভাবে ধ্বংস হয়? (বিক্রিয়াসহ লেখো) [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর:

সৃষ্টি: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ($UV$) প্রভাবে অক্সিজেন অণু বিয়োজিত হয়ে পরমাণুতে পরিণত হয়, যা পরে অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হয়ে ওজোন গঠন করে।

$O_2 \xrightarrow{UV} O + O$

$O_2 + O \rightarrow O_3$ (ওজোন)।

ধ্বংস: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ($CFC$) অতিবেগুনি রশ্মির আঘাতে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু ($Cl$) তৈরি করে, যা ওজোনকে ভেঙে অক্সিজেন তৈরি করে।

$CFCl_3 \xrightarrow{UV} CFCl_2 + Cl$

$Cl + O_3 \rightarrow ClO + O_2$।

২. গ্রিনহাউস এফেক্ট কী? এর ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:

গ্রিনহাউস এফেক্ট: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত $CO_2, CH_4$ প্রভৃতি গ্যাস সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপীয় বিকিরণকে পৃথিবীতে প্রবেশ করতে দেয়, কিন্তু পৃথিবী থেকে নির্গত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপীয় বিকিরণকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় এবং শোষণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত থাকে। একে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে।

উষ্ণতা বৃদ্ধি: জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক দহন ও বনভূমি ধ্বংসের ফলে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে তাপ আটকে পড়ার হার বাড়ছে এবং পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

[attachment_0](attachment)

৩. গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:

১) জলবায়ুর পরিবর্তন: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে উপকূলবর্তী এলাকা ও দ্বীপসমূহ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২) আবহাওয়ার চরমভাব: সুপার সাইক্লোন, খরা, অতিবৃষ্টি এবং দাবানলের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩) বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ: উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে।

৪. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) বলতে কী বোঝো? এর প্রধান লক্ষ্য কী?

উত্তর:

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের যে পরিমিত ও সুপরিকল্পিত ব্যবহার করা হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।

লক্ষ্য: ১) পরিবেশ দূষণ কমানো। ২) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। ৩) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।

৫. মিথেন হাইড্রেট কী? একে ‘ফায়ার আইস’ বলা হয় কেন? এটি শক্তির উৎস হিসেবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:

মিথেন হাইড্রেট ($4CH_4 \cdot 23H_2O$) হলো সমুদ্রের তলদেশে নিম্ন তাপমাত্রায় ও উচ্চ চাপে গঠিত বরফের মতো দেখতে কঠিন কেলাসাকার পদার্থ, যার মধ্যে প্রচুর মিথেন গ্যাস আটকা থাকে।

ফায়ার আইস: এটি দেখতে বরফের মতো কিন্তু আগুনের সংস্পর্শে এলে মিথেন গ্যাসের জন্য জ্বলে ওঠে, তাই একে ‘ফায়ার আইস’ বলে।

গুরুত্ব: এটি ভবিষ্যতে শক্তির বিশাল উৎস হতে পারে কারণ এর ১ একক আয়তন থেকে প্রায় ১৬০-১৭০ একক আয়তন মিথেন গ্যাস পাওয়া যায়।

[attachment_1](attachment)

৬. ওজোন স্তর ধ্বংসে $CFC$ এবং $NO_2$-এর ভূমিকা বিক্রিয়াসহ লেখো।

উত্তর:

১) $CFC$: অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে $CFC$ থেকে উৎপন্ন সক্রিয় ক্লোরিন ($Cl$) ওজোনকে ভেঙে দেয়।

$Cl + O_3 \rightarrow ClO + O_2$।

২) $NO_2$: সুপারসনিক বিমান থেকে নির্গত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ($NO_2$) ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।

$2NO_2 + O_3 \rightarrow N_2O_5 + O_2$।

৭. সৌরশক্তি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।

উত্তর:

সুবিধা: ১) এটি অফুরন্ত ও নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। ২) এটি পরিবেশবান্ধব এবং কোনো দূষণ সৃষ্টি করে না। ৩) রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম।

অসুবিধা: ১) সৌরকোশ প্যানেল বসানোর প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি। ২) রাতে বা মেঘলা দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না।

৮. বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয় ট্রপোস্ফিয়ার স্ট্রাটোস্ফিয়ার
১. উচ্চতা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২-১৮ কিমি পর্যন্ত। ট্রপোপজ থেকে প্রায় ৫০ কিমি পর্যন্ত।
২. উষ্ণতা উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে। উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা বাড়ে।
৩. আবহাওয়া ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ হয় (ক্ষুব্ধমণ্ডল)। মেঘ বা ঝড়-বৃষ্টি থাকে না (শান্তমণ্ডল)।

৯. বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের কার্যনীতি সংক্ষেপে লেখো। এর দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো।

উত্তর:

বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে গোবর, কৃষিজ বর্জ্য বা আবর্জনা ও জল মিশিয়ে একটি বায়ু নিরুদ্ধ প্রকোষ্ঠে পচানো হয়। মিথেনোজেনিক ব্যাকটেরিয়া এই জৈব পদার্থকে বিয়োজিত করে মিথেন ($CH_4$), কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) ও অন্যান্য গ্যাসের মিশ্রণ বা বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে।

ব্যবহার: ১) রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে। ২) গ্যাস বাতি জ্বালাতে বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

১০. অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর:

১) সীমাবদ্ধ ভাণ্ডার: কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের ভাণ্ডার সীমিত এবং দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিকল্প শক্তির প্রয়োজন।

২) পরিবেশ রক্ষা: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটায়। কিন্তু অপ্রচলিত শক্তি (সৌর, বায়ু) পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত।

১১. অতিবেগুনি রশ্মির ($UV$) প্রভাবে জীবজগত ও পরিবেশের কী ক্ষতি হয়?

উত্তর:

১) মানুষের ওপর: ত্বকের ক্যান্সার (Skin cancer), সান বার্ন এবং চোখে ছানি পড়ার মতো রোগ হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

২) উদ্ভিদের ওপর: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

৩) সামুদ্রিক জীবন: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বা আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদ নষ্ট হয়ে যায়, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলকে বিঘ্নিত করে।

১২. ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন কমানোর উপায়’—সম্পর্কে তিনটি প্রস্তাবনা লেখো।

উত্তর:

১) জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন: কয়লা, পেট্রোল, ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি বা বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

২) বনসৃজন: প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে এবং বনভূমি ধ্বংস রোধ করতে হবে, কারণ গাছ বাতাস থেকে $CO_2$ শোষণ করে।

৩) CFC বর্জন: রেফ্রিজারেটর ও এসিতে $CFC$-এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব গ্যাস (যেমন- $HFC$) ব্যবহার করতে হবে।

১৩. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

বৈশিষ্ট্য: ১) এই স্তরের তাপমাত্রা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় ১২০০°C-এ পৌঁছায়। ২) এখানকার বায়ু আয়নিত অবস্থায় থাকে ($O^+, NO^+$ ইত্যাদি)।

গুরুত্ব: ১) পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ এই স্তরে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, ফলে বেতার যোগাযোগ সম্ভব হয়। ২) এই স্তরেই মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যায়।

১৪. কোল বেড মিথেন (CBM) কী? এটি আহরণ ও ব্যবহারের সুবিধা কী?

উত্তর:

ভূগর্ভস্থ কয়লা স্তরের ফাঁকে অধিশোষিত অবস্থায় যে প্রাকৃতিক গ্যাস (প্রধানত মিথেন) জমে থাকে, তাকে কোল বেড মিথেন বলে।

সুবিধা: ১) এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। ২) কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমাতে $CBM$ আহরণ করা জরুরি। ৩) এটি প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

১৫. জ্বালানির তাপন মূল্য (Calorific Value) কাকে বলে? কয়লা ও পেট্রোলের মধ্যে কোনটির তাপন মূল্য বেশি এবং কেন তা ভালো জ্বালানি?

উত্তর:

একক ভরের কোনো জ্বালানির সম্পূর্ণ দহনে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে তার তাপন মূল্য বলে।

পেট্রোলের তাপন মূল্য ($\approx 48000 \text{ kJ/kg}$) কয়লার ($\approx 30000 \text{ kJ/kg}$) চেয়ে বেশি। তাই পেট্রোল ভালো জ্বালানি কারণ সমপরিমাণ কয়লার চেয়ে পেট্রোল পোড়ালে অনেক বেশি তাপশক্তি পাওয়া যায় এবং ধোঁয়া বা ছাই কম হয়।

১৬. বায়ুশক্তির (Wind Energy) ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা লেখো।

উত্তর:

ব্যবহার: ১) উইন্ড মিলের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ২) মাটির নিচ থেকে জল তুলতে যান্ত্রিক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সীমাবদ্ধতা: ১) সব জায়গায় সারাবছর জোরে বাতাস বয় না। ২) বায়ুকল বসাতে বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গার প্রয়োজন হয়। ৩) এটি শব্দ দূষণ ঘটাতে পারে এবং পাখির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

১৭. ওজোন গহ্বর বা ওজোন হোল (Ozone Hole) কী? এটি প্রধানত কোথায় দেখা যায় এবং কেন?

উত্তর:

স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তরের ঘনত্ব কমে গিয়ে যে পাতলা এলাকার সৃষ্টি হয়, তাকে ওজোন গহ্বর বলে। ঘনত্ব ২০০ ডবসন ইউনিটের (DU) নিচে নামলে তাকে হোল বলা হয়।

এটি প্রধানত আন্টার্কটিকা বা দক্ষিণ মেরুর আকাশে বসন্তকালে দেখা যায়। কারণ সেখানকার বিশেষ ভৌগোলিক পরিবেশ এবং ‘পোলার স্ট্রাটোস্ফিয়ারিক মেঘ’ ($PSC$) ক্লোরিনকে সক্রিয় করে ওজোন ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করে।

১৮. বায়োমাস (Biomass) থেকে কীভাবে শক্তি উৎপাদন করা যায়? উদাহরণ দাও।

উত্তর:

১) সরাসরি দহন: কাঠ, শুকনো পাতা বা গোবর ঘুঁটে হিসেবে সরাসরি পুড়িয়ে তাপশক্তি পাওয়া যায়।

২) বায়োগ্যাস উৎপাদন: জৈব বর্জ্যকে পচিয়ে মিথেন গ্যাস তৈরি করে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৩) বায়োফুয়েল: শস্য (যেমন ভুট্টা, আখ) থেকে গেঁজিয়ে ইথানল বা তেল বীজ থেকে বায়োডিজেল তৈরি করা হয়।

১৯. আদর্শ জ্বালানির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

১) উচ্চ তাপন মূল্য: অল্প পরিমাণ পোড়ালেই বেশি তাপ পাওয়া যাবে।

২) পরিবেশবান্ধব: দহনের ফলে বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া উৎপন্ন হবে না এবং ছাই বা অবশেষ খুব কম থাকবে।

৩) সহজলভ্য ও নিরাপদ: এটি সস্তা হতে হবে এবং এর পরিবহন ও সঞ্চয় নিরাপদ হতে হবে (জ্বলন বিন্দু খুব কম বা খুব বেশি হবে না)।

২০. এলপিজি (LPG) এবং সিএনজি (CNG)-এর মধ্যে পরিবেশগত ও ব্যবহারিক পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয় LPG (Liquefied Petroleum Gas) CNG (Compressed Natural Gas)
প্রধান উপাদান বিউটেন (তরলীকৃত)। মিথেন (সংকুচিত গ্যাস)।
ব্যবহার গৃহস্থালির রান্নার কাজে। যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে।
দূষণ কম দূষণ ঘটায়, তবে $CO_2$ নির্গমন করে। সবচেয়ে কম দূষণ ঘটায় (Cleanest fuel)।

২১. মন্ট্রিল প্রোটোকল (Montreal Protocol) কী? এর উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর:

ওজোন স্তর ক্ষয় রোধ করার জন্য ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে মন্ট্রিল প্রোটোকল বলে।

উদ্দেশ্য: $CFC$, হ্যালন এবং অন্যান্য ওজোন ধ্বংসকারী পদার্থের (ODS) উৎপাদন ও ব্যবহার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা এবং শেষপর্যন্ত বন্ধ করা।

২২. ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal Energy) কী? এটি কীভাবে কাজে লাগানো হয়?

উত্তর:

পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা তাপশক্তি (ম্যাগমা বা গরম শিলাস্তর) ব্যবহার করে যে শক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে ভূ-তাপীয় শক্তি বলে।

পদ্ধতি: ভূগর্ভস্থ গরম শিলাস্তরের সংস্পর্শে থাকা জল ফুটে উচ্চচাপযুক্ত বাষ্পে পরিণত হয়। পাইপের মাধ্যমে এই বাষ্প তুলে এনে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। (যেমন- ভারতের মণিকরণ বা বক্রেশ্বর)।

২৩. বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন (Waste to Energy) বলতে কী বোঝো? এর সুবিধা কী?

উত্তর:

পৌরসভা বা শহরের কঠিন বর্জ্য পদার্থকে চুল্লিতে পুড়িয়ে (Incineration) যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা দিয়ে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্প দিয়ে টারবাইন চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

সুবিধা: ১) বর্জ্য পদার্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা হয় এবং জঞ্জাল কমে। ২) বিদ্যুৎ শক্তির চাহিদা মেটানো যায়।

২৪. জোয়ার-ভাটার শক্তি কীভাবে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়? এর সীমাবদ্ধতা কী?

উত্তর:

সমুদ্রের জোয়ারের সময় জলস্ফীতির ফলে বাঁধের মধ্য দিয়ে জল প্রবেশ করে টারবাইন ঘোরায়। আবার ভাটার সময় জল নেমে যাওয়ার সময়ও টারবাইন ঘোরে। এভাবে জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়।

সীমাবদ্ধতা: ১) সব নদী বা উপকূলে প্রবল জোয়ার-ভাটা হয় না। ২) এটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। ৩) নির্মাণ খরচ বেশি।

২৫. নাইট্রোজেন ঘটিত সার ব্যবহারে কীভাবে পরিবেশ দূষণ হয়?

উত্তর:

জমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ঘটিত সার ব্যবহার করলে:

১) বৃষ্টির জলে ধুয়ে তা জলাশয়ে মেশে এবং শৈবাল বৃদ্ধি ঘটায় (ইউট্রোফিকেশন), ফলে জলজ প্রাণী মারা যায়।

২) মাটি থেকে ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে ভেঙে নাইট্রাস অক্সাইড ($N_2O$) গ্যাস তৈরি করে, যা একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস এবং ওজোন স্তর ক্ষয়কারী।

২৬. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা কমে এবং কোন স্তরে বাড়ে? কারণসহ লেখো।

উত্তর:

১) ট্রপোস্ফিয়ার: এখানে উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে। কারণ এই স্তরটি ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত তাপ দ্বারা নিচ থেকে উত্তপ্ত হয়, তাই ওপরে উঠলে তাপ কমে।

২) স্ট্রাটোস্ফিয়ার: এখানে উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা বাড়ে। কারণ এই স্তরে ওজোন গ্যাস সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে তাপ উৎপন্ন করে।

২৭. সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি প্রভাব উল্লেখ করো।

উত্তর:

১) দ্বীপের নিমজ্জন: সমুদ্রের জলতল বাড়ার ফলে লোহাচড়া, নিউমুর ও ঘোড়ামারা দ্বীপগুলি ডুবে গেছে বা যাচ্ছে।

২) লবণাক্ততা বৃদ্ধি: নোনা জল কৃষিজমিতে ঢুকে চাষাবাদ নষ্ট করছে এবং মিষ্টি জলের উৎস কমে যাচ্ছে।

৩) ম্যানগ্রোভ বিনাশ: মাটির ক্ষয় ও জলের উচ্চতা বাড়ায় সুন্দরী গাছসহ ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে।

২৮. শক্তি সংরক্ষণের (Conservation of Energy) প্রয়োজনীয়তা কী? আমরা দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে শক্তি বাঁচাতে পারি?

উত্তর:

জীবাশ্ম জ্বালানি সীমিত, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তি সঞ্চয় করা জরুরি। তাছাড়া শক্তি সাশ্রয় করলে পরিবেশ দূষণ কমে।

উপায়: ১) সাধারণ বাল্বের বদলে LED ব্যবহার করা। ২) ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা। ৩) সোলার হিটার বা কুকার ব্যবহার করা।

২৯. কাঠের দহনের চেয়ে কাঠকয়লার দহন ভালো কেন?

উত্তর:

১) কাঠকয়লার তাপন মূল্য কাঠের চেয়ে বেশি, তাই বেশি তাপ পাওয়া যায়।

২) কাঠ পোড়ালে প্রচুর ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস বের হয়, কিন্তু কাঠকয়লা ধোঁয়াহীনভাবে জ্বলে, তাই পরিবেশ দূষণ কম হয়।

৩০. ওজোন স্তরের গুরুত্ব লেখো। ওজোন স্তর না থাকলে পৃথিবীতে কী ঘটত?

উত্তর:

গুরুত্ব: ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ($UV-B$) শোষণ করে ছাতার মতো পৃথিবীকে রক্ষা করে।

প্রভাব: ওজোন স্তর না থাকলে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে আসত। ফলে মানুষের ত্বকের ক্যান্সার হতো, চোখের ক্ষতি হতো, ফসলের উৎপাদন কমতো এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে জীবজগৎ ধ্বংসের মুখে পড়ত।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার