নবম শ্রেণি: ইতিহাস অধ্যায় – 6 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান 4

অধ্যায় ৬: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-১)

1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ (জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ) আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণ ছিল বারুদের স্তূপে শেষ স্ফুলিঙ্গের মতো, যা বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে।

ঘটনাপ্রবাহ:

  • হিটলারের দাবি: ভার্সাই সন্ধি অনুযায়ী জার্মানিকে দ্বিখণ্ডিত করে পোল্যান্ডকে সমুদ্রপথ বা ‘পোলিশ করিডর’ দেওয়া হয়েছিল এবং জার্মানির ডানজিগ বন্দরকে ‘মুক্ত বন্দর’ করা হয়েছিল। হিটলার পোল্যান্ডের কাছে এই করিডর ও ডানজিগ বন্দর ফেরত চান।
  • পোল্যান্ডের প্রত্যাখ্যান: পোল্যান্ড হিটলারের এই অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স পোল্যান্ডকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, জার্মানি আক্রমণ করলে তারা সাহায্য করবে।
  • আক্রমণ ও যুদ্ধ ঘোষণা: ১ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেন। এর প্রতিবাদে ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

2. ‘ব্লিটজক্রিগ’ (Blitzkrieg) বা ঝটিকা যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি এক অভিনব ও বিধ্বংসী যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ করে, যা ‘ব্লিটজক্রিগ’ (Blitzkrieg) বা ‘বিদ্যুৎগতিতে যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

কৌশলসমূহ:

  • আকাশপথে আক্রমণ: প্রথমে লুফৎবাফে (জার্মান বিমানবাহিনী) শত্রুর বিমানঘাঁটি, রেললাইন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিত।
  • প্যানজার ডিভিশন: এরপর দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্যাঙ্ক বাহিনী বা প্যানজার ডিভিশন শত্রুর এলাকায় ঢুকে পড়ত।
  • পদাতিক বাহিনী: সবশেষে যান্ত্রিক যানে করে পদাতিক বাহিনী গিয়ে এলাকা দখল করত।

ফলাফল: এই কৌশলে জার্মানি খুব অল্প সময়ে পোল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং ফ্রান্স দখল করে নেয়। শত্রুপক্ষ প্রস্তুতির কোনো সুযোগই পেত না।


3. রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি (১৯৩৯) কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৯ সালের ২৩ আগস্ট চরম শত্রুভাবাপন্ন নাৎসি জার্মানি ও সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া ১০ বছরের জন্য অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর করে বিশ্বকে চমকে দেয়।

উদ্দেশ্য:

  • জার্মানির স্বার্থ: হিটলার চেয়েছিলেন পোল্যান্ড আক্রমণের সময় রাশিয়া যেন নিরপেক্ষ থাকে, যাতে তাকে দুই সীমান্তে (পূর্ব ও পশ্চিম) একসঙ্গে যুদ্ধ করতে না হয়।
  • রাশিয়ার স্বার্থ: স্টালিন জানতেন হিটলার একদিন রাশিয়া আক্রমণ করবেন। তাই যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য তিনি কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। এছাড়া পোল্যান্ডের পূর্বাংশ বিনা যুদ্ধে পাওয়ার লোভও ছিল।

গুরুত্ব: এই চুক্তির ফলে হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণের সবুজ সংকেত পান এবং মাত্র এক সপ্তাহ পরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।


4. ‘অপারেশন বারবারোসা’ (Operation Barbarossa) কী? এটি ব্যর্থ হলো কেন?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৪১ সালের ২২ জুন হিটলার রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি ভঙ্গ করে হঠাৎ তিন দিক দিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করেন। এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন বারবারোসা’।

ব্যর্থতার কারণ:

  • ১. বিশাল আয়তন: রাশিয়ার বিশাল আয়তন এবং দুর্গম পথ জার্মান সেনাদের ক্লান্ত করে দেয়।
  • ২. পোড়া মাটি নীতি: রুশরা পিছু হটার সময় খাবার ও রসদ পুড়িয়ে দেওয়ায় জার্মান বাহিনী খাদ্য সংকটে পড়ে।
  • ৩. ‘জেনারেল উইন্টার’: রাশিয়ার তীব্র শীত (মাইনাস ৪০ ডিগ্রি) জার্মানদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের শীতের পোশাক ও সরঞ্জাম ছিল না।
  • ৪. রুশ প্রতিরোধ: দেশপ্রেমিক রুশ জনগণের মরণপণ প্রতিরোধ জার্মানদের মনোবল ভেঙে দেয়।

5. ‘পোড়া মাটি নীতি’ (Scorched Earth Policy) সম্পর্কে আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: জার্মান আক্রমণের মুখে রাশিয়ার লাল ফৌজ যে অভিনব আত্মরক্ষামূলক কৌশল গ্রহণ করেছিল, তাকে ‘পোড়া মাটি নীতি’ বলে।

কৌশল: জার্মান বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে যতই এগোচ্ছিল, রুশ বাহিনী ততই পিছু হটছিল। কিন্তু পিছু হটার সময় তারা:

  • শস্যক্ষেত পুড়িয়ে দিত।
  • বিষাক্ত করে দিত পানীয় জল।
  • কলকারখানা, রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস করে দিত।

উদ্দেশ্য ও ফলাফল: এর উদ্দেশ্য ছিল শত্রু যাতে দখলকৃত এলাকায় কোনো খাবার, আশ্রয় বা যোগাযোগ সুবিধা না পায়। এই নীতির ফলেই শক্তিশালী জার্মান বাহিনী রাশিয়ায় গিয়ে খাদ্য ও রসদের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে পরাজিত হয়।


6. পার্ল হারবার ঘটনা (১৯৪১) ও তার গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এশিয়ায় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা আমেরিকার সাথে সংঘাতের সৃষ্টি করে।

ঘটনা: ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর রবিবার সকালে, কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই জাপান প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে আকস্মিক বিমান আক্রমণ চালায়। এতে আমেরিকার অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজ ও বিমান ধ্বংস হয় এবং কয়েক হাজার সৈন্য মারা যায়।

গুরুত্ব:

  • আমেরিকার যোগদান: এই ঘটনার পরদিন আমেরিকা জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়।
  • যুদ্ধের বিস্তার: আমেরিকা মিত্রশক্তিতে যোগ দেওয়ায় যুদ্ধের পাল্লা মিত্রশক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং যুদ্ধ সত্যিকারের ‘বিশ্বযুদ্ধে’ রূপ নেয়।

7. ‘আটলান্টিক চার্টার’ (Atlantic Charter) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালের ৯ আগস্ট নিউ ফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে এক যুদ্ধজাহাজে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল গোপন বৈঠকে মিলিত হন।

ঘোষণা: ১৪ আগস্ট তাঁরা যে ৮-দফা যৌথ ইস্তাহার প্রকাশ করেন, তা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত।

মূল নীতিসমূহ:

  • কোনো দেশ নতুন কোনো ভূখণ্ড দখল করবে না।
  • জনগণের সম্মতি ছাড়া সরকার পরিবর্তন করা যাবে না।
  • সব জাতি তাদের নিজস্ব সরকার গঠনের অধিকার পাবে।
  • বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন করা হবে।

গুরুত্ব: এই সনদই পরবর্তীতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা UNO গঠনের ভিত্তি তৈরি করে।


8. ‘লেন্ড-লিজ’ আইন (Lend-Lease Act) বা ধার ও ইজারা আইন কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথমদিকে আমেরিকা নিরপেক্ষ থাকলেও, গণতন্ত্রকামী দেশগুলিকে সাহায্য করার জন্য ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট এই আইন পাস করেন।

বিষয়বস্তু: এই আইন অনুযায়ী, আমেরিকা যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিয়েও তার মিত্র দেশগুলিকে (ইংল্যান্ড, চিন, রাশিয়া, ফ্রান্স) যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক, অস্ত্র, খাদ্য ও ওষুধ ধার বা ইজারা দিতে পারবে। যুদ্ধের পর এই সাহায্য ফেরত দিতে হবে বা মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

গুরুত্ব: রুজভেল্ট আমেরিকাকে “গণতন্ত্রের অস্ত্রভাণ্ডার” (Arsenal of Democracy) বলে ঘোষণা করেন। এই সাহায্য মিত্রশক্তিকে হিটলারের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে বিশাল সহায়তা করেছিল।


9. স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধের (১৯৪২-৪৩) গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা বলা হয়।

ঘটনা: জার্মানি রাশিয়ার ভলগা নদীর তীরে শিল্পশহর স্টালিনগ্রাদ দখলের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কিন্তু জেনারেল জুকভের নেতৃত্বে লাল ফৌজ এবং রুশ জনগণের মরণপণ প্রতিরোধে জার্মান বাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মান ফিল্ড মার্শাল ভন পলাউস সসৈন্যে আত্মসমর্পণ করেন।

গুরুত্ব:

  • এটি ছিল জার্মানির প্রথম বড় পরাজয়।
  • এই যুদ্ধের পর জার্মানি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এবং রুশ বাহিনী বার্লিনের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে।
  • হিটলারের অপরাজিত থাকার মিথ ভেঙে যায়।

10. ডি-ডে (D-Day) বা নরম্যান্ডি অবতরণ বলতে কী বোঝো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: জার্মানির কবল থেকে ফ্রান্স ও পশ্চিম ইউরোপকে মুক্ত করার জন্য মিত্রশক্তি যে ঐতিহাসিক উভচর অভিযান চালায়, তা ডি-ডে নামে পরিচিত।

ঘটনা: ১৯৪৪ সালের ৬ জুন, মার্কিন জেনারেল আইসেনহাওয়ারের নেতৃত্বে লক্ষাধিক মিত্রসৈন্য, হাজার হাজার জাহাজ ও বিমান নিয়ে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে অবতরণ করে। এটি ইতিহাসের বৃহত্তম নৌ-অভিযান।

গুরুত্ব:

  • এর মাধ্যমে ইউরোপে জার্মানির বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় রণাঙ্গন’ (Second Front) খোলা হয়।
  • জার্মানিকে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিক থেকে যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হয়, যা তার পতন ত্বরান্বিত করে।

11. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: যুদ্ধের শুরুতে জার্মানি অপ্রতিরোধ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে। এর কারণগুলি হলো:

  • একাধিক রণাঙ্গন: হিটলার একই সাথে পূর্বে রাশিয়া এবং পশ্চিমে ইংল্যান্ড-আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করার ভুল করেছিলেন। ফলে জার্মান শক্তি বিভক্ত হয়ে পড়ে।
  • রাশিয়া আক্রমণ: রাশিয়ার বিশাল আয়তন ও তীব্র শীত জার্মান বাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়।
  • সম্পদের অভাব: দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য জার্মানির তেল, খাদ্য ও কাঁচামালের অভাব দেখা দেয়। অন্যদিকে আমেরিকার যোগদানে মিত্রশক্তির সম্পদ অঢেল হয়ে যায়।
  • মিত্রশক্তির নৌ ও বিমান শক্তি: মিত্রশক্তির বিমান ও নৌবাহিনী জার্মানির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।

12. ‘ব্যাটল অফ ব্রিটেন’ (Battle of Britain) সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফ্রান্সের পতনের পর হিটলার ইংল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশ্যে ১৯৪০ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জার্মানির বিমানবাহিনী (Luftwaffe) ইংল্যান্ডের ওপর যে ভয়াবহ আক্রমণ চালায়, তা ‘ব্যাটল অফ ব্রিটেন’ নামে পরিচিত।

ঘটনা: জার্মানি লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরের ওপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে। কিন্তু ব্রিটিশ বিমানবাহিনী (RAF) এবং প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের দৃঢ় নেতৃত্বে ইংল্যান্ড এই আক্রমণ প্রতিহত করে।

ফলাফল: আকাশে জার্মানির এই পরাজয় হিটলারকে ইংল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা (অপারেশন সি লায়ন) ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এটি ছিল হিটলারের প্রথম কৌশলগত পরাজয়।


13. হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন পরমাণু বোমা নিক্ষেপ কি সমর্থনযোগ্য ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট আমেরিকা জাপানে পরমাণু বোমা ফেলে, যা বিতর্কের বিষয়।

আমেরিকার যুক্তি: আমেরিকা দাবি করে যে, জাপান আত্মসমর্পণ করতে চাইছিল না। স্থলপথে জাপান আক্রমণ করলে আরও লক্ষ লক্ষ মার্কিন ও জাপানি সৈন্য মারা যেত। তাই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে এবং প্রাণহানি কমাতে এই বোমা ফেলা জরুরি ছিল।

সমালোচনা: সমালোচকরা বলেন, জাপান তখন এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং আত্মসমর্পণের কথা ভাবছিল। এই অমানবিক বোমাবর্ষণের আসল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াকে আমেরিকার সামরিক শক্তি দেখানো এবং এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তার করা। এটি মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ ছিল।


14. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) গঠনের উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মহান দায়িত্ব নিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠিত হয়। এর সনদে ১ নং ধারায় এর উদ্দেশ্যগুলি বর্ণিত আছে।

উদ্দেশ্যসমূহ:

  • ১. শান্তি রক্ষা: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে বাঁচানো।
  • ২. বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক: জাতি ও রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
  • ৩. সহযোগিতা: আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একে অপরকে সহযোগিতা করা।
  • ৪. মানবাধিকার: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা।

15. নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council)-এর গঠন ও ক্ষমতা আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিপুঞ্জের শাসন বিভাগ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ।

গঠন: এটি ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। ৫টি স্থায়ী সদস্য (আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চিন) এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য (২ বছরের জন্য সাধারণ সভা দ্বারা নির্বাচিত)।

ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

  • বিশ্বশান্তি রক্ষা করা এর প্রধান দায়িত্ব।
  • বিবাদমান দেশগুলির মধ্যে মীমাংসা করা।
  • প্রয়োজনে আগ্রাসী দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা।
  • নতুন সদস্য গ্রহণ ও মহাসচিব নিয়োগের জন্য সাধারণ সভাকে সুপারিশ করা।
  • স্থায়ী সদস্যদের ‘ভেটো’ বা প্রস্তাব নাকচ করার ক্ষমতা আছে।

16. সাধারণ সভা (General Assembly)-কে ‘বিশ্বের বিতর্ক সভা’ বলা হয় কেন?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: সাধারণ সভা হলো জাতিপুঞ্জের আইনসভা বা বিতর্ক সভা। জাতিপুঞ্জের সব সদস্য রাষ্ট্রই (বর্তমানে ১৯৩টি) এর সদস্য।

বৈশিষ্ট্য:

  • প্রতিটি দেশ এখানে ৫ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে, কিন্তু ভোট দিতে পারে একটিই।
  • এখানে ছোট-বড় সব রাষ্ট্রের মর্যাদা সমান।
  • বিশ্বের যেকোনো সমস্যা নিয়ে এখানে আলোচনা, বিতর্ক ও প্রস্তাব গ্রহণ করা যায়।
  • সারা বিশ্বের প্রতিনিধিরা এখানে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন বলে একে ‘বিশ্ব পার্লামেন্ট’ বা ‘বিশ্বের বিতর্ক সভা’ বলা হয়।

17. ‘ঠান্ডা লড়াই’ (Cold War) বা স্নায়ুযুদ্ধ বলতে কী বোঝো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে যে নতুন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাকে ঠান্ডা লড়াই বলে। শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন বার্নার্ড বারুচ।

সংজ্ঞা: কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ না হলেও, আমেরিকা (পুঁজিবাদী) এবং রাশিয়ার (সমাজতান্ত্রিক) মধ্যে যে তীব্র মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক অবিশ্বাস, কূটনৈতিক সংঘাত এবং ভীতিপ্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তাকেই ঠান্ডা লড়াই বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য: এটি ছিল অস্ত্রহীন যুদ্ধ। এর হাতিয়ার ছিল—অপপ্রচার, সামরিক জোট গঠন (ন্যাটো, ওয়ারশ), এবং পরোক্ষ যুদ্ধ।


18. ট্রুম্যান নীতি (Truman Doctrine, 1947) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ঠান্ডা লড়াই চলাকালীন আমেরিকার সোভিয়েত-বিরোধী নীতির প্রথম প্রকাশ ছিল ট্রুম্যান নীতি।

ঘোষণা: ১৯৪৭ সালের ১২ মার্চ মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি এস. ট্রুম্যান কংগ্রেসে ঘোষণা করেন যে, বিশ্বের যেকোনো দেশ যদি সশস্ত্র সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বা বাইরের কোনো শক্তির দ্বারা (পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে বোঝানো হয়) আক্রান্ত হয়, তবে আমেরিকা সেই দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেবে।

উদ্দেশ্য: এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রিস ও তুরস্কে এবং সমগ্র বিশ্বে সাম্যবাদের প্রসার রোধ করা।


19. মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan, 1947) কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ট্রুম্যান নীতির অর্থনৈতিক পরিপূরক ছিল মার্শাল পরিকল্পনা।

ঘোষণা: ১৯৪৭ সালের ৫ জুন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল ইউরোপীয় পুনর্গঠন পরিকল্পনা (ERP) পেশ করেন।

বিষয়বস্তু: এতে বলা হয়, আমেরিকা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলিকে অর্থনৈতিক সাহায্য দিয়ে পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।

গূঢ় উদ্দেশ্য: এর আসল উদ্দেশ্য ছিল—দারিদ্র্য দূর করে ইউরোপের দেশগুলিকে কমিউনিজমের প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং আমেরিকার পণ্যের জন্য ইউরোপে বাজার তৈরি করা।


20. নিউরেমবার্গ বিচার (Nuremberg Trials) কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জার্মানিতে নিউরেমবার্গ বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

বিচার্য বিষয়: মিত্রশক্তি নাৎসি জার্মানির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ আনে—১. শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, ২. যুদ্ধাপরাধ এবং ৩. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ (যেমন—হলোকস্ট)।

ফলাফল: বিচারে ১২ জন নাৎসি নেতাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এটি প্রমাণ করে যে, যুদ্ধে পরাজিত হলেও অপরাধীদের শাস্তি পেতে হয় এবং ‘আদেশ পালন করেছি’—এই অজুহাতে গণহত্যাকে সমর্থন করা যায় না।


21. ১৯৪১ সালকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘোরানো বছর বলা হয় কেন?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৪১ সালটি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল।

কারণ:

  • রাশিয়ার যোগদান: হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করলে (জুন ১৯৪১) স্টালিন মিত্রশক্তিতে যোগ দেন। ফলে জার্মানিকে বিশাল রুশ বাহিনীর মোকাবিলা করতে হয়।
  • আমেরিকার যোগদান: জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করলে (ডিসেম্বর ১৯৪১) আমেরিকা যুদ্ধে যোগ দেয়। আমেরিকার বিপুল অর্থ ও অস্ত্র মিত্রশক্তিকে অজেয় করে তোলে।

ফলাফল: এই দুই মহাশক্তির যোগদানের ফলেই অক্ষশক্তির পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।


22. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ভূমিকা কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: এশিয়ায় জাপানের উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতি বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।

ভূমিকা:

  • জাপান অক্ষশক্তিতে যোগ দিয়ে এশিয়ায় ‘এশিয়া এশিয়াবাসীর জন্য’ স্লোগান তুলে সাম্রাজ্য বিস্তার করে।
  • চিন, কোরিয়া, ফিলিপাইন, বার্মা দখল করে তারা ব্রিটিশ ও মার্কিন উপনিবেশগুলিতে আঘাত হানে।
  • তাদের পার্ল হারবার আক্রমণই যুদ্ধকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়।
  • অবশেষে পরমাণু বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে জাপান আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে।

23. ভিশি সরকার (Vichy Government) সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৪০ সালে জার্মানির কাছে ফ্রান্সের শোচনীয় পরাজয়ের পর ফ্রান্সে যে নতুন সরকার গঠিত হয়, তাকে ভিশি সরকার বলে।

গঠন: এর রাজধানী ছিল দক্ষিণ ফ্রান্সের ভিশি শহরে। এর নেতৃত্বে ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের নায়ক কিন্তু হিটলারের সহযোগী মার্শাল পেঁতা।

চরিত্র: এটি ছিল মূলত নাৎসি জার্মানির একটি ‘পুতুল সরকার’। তারা জার্মানির নীতি মেনে চলত এবং ইহুদি নিধনে সহায়তা করত। চার্লস দ্য গলের ‘মুক্ত ফ্রান্স’ সরকার এদের বিরোধিতা করেছিল।


24. ‘দ্বিতীয় রণাঙ্গন’ (Second Front)-এর গুরুত্ব কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: স্টালিনের দীর্ঘদিনের দাবির পর ১৯৪৪ সালে মিত্রশক্তি পশ্চিম ইউরোপে (ফ্রান্সে) যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র বা ফ্রন্ট খোলে, তাকে দ্বিতীয় রণাঙ্গন বলে।

গুরুত্ব:

  • চাপ হ্রাস: এর ফলে পূর্ব সীমান্তে রাশিয়ার ওপর জার্মানির চাপ কমে যায়।
  • শক্তি বিভাজন: হিটলারকে বাধ্য হয়ে তার সৈন্যবাহিনী দুই ভাগে ভাগ করতে হয়—একদল পূর্বে রাশিয়ার বিরুদ্ধে, আরেকদল পশ্চিমে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে।
  • পতন ত্বরান্বিত: এই সাঁড়াশি আক্রমণের ফলেই জার্মানি দ্রুত পরাজিত হয় এবং যুদ্ধ শেষ হয়।

25. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল বা প্রভাব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৯-৪৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ। এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

ফলাফল:

  • ১. প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংস: এই যুদ্ধে প্রায় ৫-৬ কোটি মানুষ মারা যায়। অসংখ্য শহর, বন্দর ও কলকারখানা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
  • ২. ফ্যাসিবাদের পতন: জার্মানির নাৎসিবাদ, ইতালির ফ্যাসিবাদ এবং জাপানের সামরিকতন্ত্রের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের জয় হয়।
  • ৩. দুই মহাশক্তির উত্থান: যুদ্ধের পর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকা (USA) ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR)—এই দুই মহাশক্তির উত্থান ঘটে।
  • ৪. ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান: এশিয়া ও আফ্রিকার পরাধীন দেশগুলিতে (যেমন—ভারত, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা) স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয় এবং বি-ঔপনিবেশায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

26. তেহরান সম্মেলন (১৯৪৩) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের জন্য ১৯৪৩ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে মিত্রশক্তির প্রধান তিন নেতা বৈঠকে বসেন।

উপস্থিতি: এই সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল এবং রুশ রাষ্ট্রপ্রধান স্টালিন উপস্থিত ছিলেন।

সিদ্ধান্তসমূহ:

  • পশ্চিম ইউরোপে জার্মানির বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় রণাঙ্গন’ (Second Front) খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
  • যুদ্ধে জার্মানিকে পরাজিত করার পর তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
  • যুদ্ধ শেষে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা (জাতিপুঞ্জ) গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।

27. জার্মানিকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাশিয়ার ভূমিকা আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার প্রধান কারিগর ছিল সোভিয়েত রাশিয়া বা লাল ফৌজ।

ভূমিকা:

  • প্রতিরোধ: ১৯৪১ সালে হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করলে রুশরা ‘পোড়া মাটি নীতি’ এবং প্রবল সাহসিকতার সাথে জার্মানদের বাধা দেয়।
  • স্টালিনগ্রাদের জয়: স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধে রাশিয়ার জয় জার্মানির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। এটি ছিল যুদ্ধের মোড় ঘোরানো ঘটনা।
  • বার্লিন দখল: রুশ বাহিনী জার্মান বাহিনীকে হঠিয়ে পূর্ব ইউরোপ মুক্ত করে এবং সবার আগে জার্মানির রাজধানী বার্লিন দখল করে (১৯৪৫)। হিটলারের পতনে রাশিয়ার অবদানই ছিল সর্বাধিক।

28. ঠান্ডা লড়াইয়ের উদ্ভবের পটভূমি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা ও রাশিয়া মিত্রশক্তিতে থাকলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই তাদের মধ্যে ফাটল ধরে।

কারণ:

  • আদর্শগত সংঘাত: আমেরিকা ছিল পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, আর রাশিয়া ছিল সমাজতন্ত্রী একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী। দুই বিপরীত আদর্শের সহাবস্থান সম্ভব ছিল না।
  • ইয়াল্টা ও পটসডাম মতভেদ: পোল্যান্ড ও জার্মানির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই শক্তির মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়।
  • পারমাণবিক রহস্য: আমেরিকা রাশিয়াকে না জানিয়ে গোপনে পরমাণু বোমা তৈরি করায় (ম্যানহাটান প্রজেক্ট) স্টালিন ক্ষুব্ধ ও সন্দিহান হয়ে পড়েন।
  • লৌহ যবনিকা: চার্চিলের ‘লৌহ যবনিকা’ বক্তৃতা এবং ট্রুম্যান নীতি এই বিভেদকে আরও বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়।

29. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: জাতিপুঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ। এর মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী জনকল্যাণ।

গঠন: বর্তমানে ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে এটি গঠিত। সদস্যরা ৩ বছরের জন্য সাধারণ সভা দ্বারা নির্বাচিত হয়।

কাজ:

  • বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো।
  • মানবাধিকার রক্ষা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
  • বিভিন্ন বিশেষ সংস্থা (যেমন—WHO, UNESCO, UNICEF, ILO)-র কাজের তদারকি ও সমন্বয় করা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার