নবম শ্রেণি: ইতিহাস, অধ্যায় – 5 বিশ শতকে ইউরোপ 4 নম্বরের প্রশ্নত্তোর

অধ্যায় ৫: বিংশ শতকের ইউরোপ – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন

1. ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব বা নভেম্বর বিপ্লবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব ছিল রাশিয়ার দীর্ঘদিনের জমে থাকা সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের অনিবার্য পরিণতি।

সামাজিক কারণ:

  • শ্রেণি বৈষম্য: রাশিয়ার সমাজ মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। একদিকে ছিল মুষ্টিমেয় অভিজাত ও জমিদার, যারা সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। অন্যদিকে ছিল বিশাল সংখ্যক কৃষক ও শ্রমিক, যারা ছিল অধিকারহীন ও শোষিত।
  • অ-রুশ জাতির ক্ষোভ: রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ছিল পোল, ফিন, ইউক্রেনীয় প্রভৃতি অ-রুশ জাতি। জারের ‘রুশীকরণ’ নীতি তাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

অর্থনৈতিক কারণ:

  • কৃষকদের দুর্দশা: ১৮৬১ সালে ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদ হলেও কৃষকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। জমির ওপর তাদের কোনো মালিকানা ছিল না এবং চড়া খাজনা দিতে গিয়ে তারা সর্বস্বান্ত হতো।
  • শ্রমিক অসন্তোষ: রাশিয়ার কলকারখানাগুলিতে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। তাদের দীর্ঘ সময় (১২-১৪ ঘণ্টা) কাজ করতে হতো কিন্তু মজুরি ছিল নামমাত্র।

উপসংহার: এই চরম বৈষম্য ও দারিদ্র্য রাশিয়ার সাধারণ মানুষকে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবের পথে ঠেলে দিয়েছিল।


2. লেনিনের ‘এপ্রিল থিসিস’ (April Theses) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর রাশিয়ায় যে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল, তা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে ১৬ এপ্রিল বলশেভিক দলের এক সভায় যে কর্মসূচী ঘোষণা করেন, তা ‘এপ্রিল থিসিস’ নামে পরিচিত।

প্রধান দাবিসমূহ:

  • ১. যুদ্ধ বন্ধ: অবিলম্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে রাশিয়ার সরে আসা উচিত।
  • ২. জমি বণ্টন: সমস্ত জমি বাজেয়াপ্ত করে তা কৃষকদের মধ্যে বিনা শর্তে বিতরণ করতে হবে।
  • ৩. ব্যাংক জাতীয়করণ: দেশের সমস্ত ব্যাংক ও শিল্পকে জাতীয়করণ বা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনতে হবে।
  • ৪. ক্ষমতা হস্তান্তর: “সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে” (All power to the Soviets)—এই স্লোগান তুলে তিনি অস্থায়ী সরকারকে হটিয়ে শ্রমিক ও কৃষকদের সরকার প্রতিষ্ঠার ডাক দেন।

গুরুত্ব: এপ্রিল থিসিস বলশেভিক কর্মীদের বিভ্রান্তি দূর করে এবং তাদের নভেম্বর বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।


3. রুশ বিপ্লবের (১৯১৭) বৈশ্বিক প্রভাব বা গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব কেবল রাশিয়ার ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এটি ছিল কার্ল মার্কসের সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বের প্রথম সফল প্রয়োগ।

গুরুত্ব বা প্রভাব:

  • ১. সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা: এই বিপ্লবের ফলে পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত মালিকানার অবসান ঘটিয়ে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ২. শ্রমিক শ্রেণির জাগরণ: বিশ্বের শোষিত শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ বুঝতে পারে যে, ঐক্যবদ্ধ হলে তারাও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক আন্দোলন জোরদার হয়।
  • ৩. মুক্তি আন্দোলনের প্রেরণা: এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলির স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মনে এই বিপ্লব নতুন আশার সঞ্চার করে। তারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত হয়।
  • ৪. বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তন: রুশ বিপ্লবের পর পৃথিবী মতাদর্শগতভাবে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে—সমাজতান্ত্রিক শিবির (রাশিয়ার নেতৃত্বে) এবং পুঁজিবাদী শিবির (আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে)।

4. উড্রো উইলসনের ‘চৌদ্দ দফা নীতি’ (Fourteen Points) সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষলগ্নে ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন আমেরিকান কংগ্রেসে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪টি প্রস্তাব পেশ করেন, যা ‘চৌদ্দ দফা নীতি’ নামে পরিচিত।

প্রধান নীতিসমূহ:

  • ১. গোপন কূটনীতি বর্জন: ভবিষ্যতে কোনো দেশ গোপনে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। সমস্ত চুক্তি প্রকাশ্যে হতে হবে।
  • ২. আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার: ইউরোপের পরাধীন জাতিগুলিকে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দিতে হবে।
  • ৩. অবাধ বাণিজ্য ও সমুদ্রপথ: শান্তিকালীন ও যুদ্ধকালীন সময়ে সমুদ্রপথে নিরপেক্ষ দেশগুলির অবাধ চলাচলের অধিকার থাকবে এবং বাণিজ্য শুল্ক কমাতে হবে।
  • ৪. আন্তর্জাতিক সংস্থা: ছোট-বড় সব রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা (লিগ অফ নেশনস) গঠন করতে হবে।

গুরুত্ব: এই নীতির ভিত্তিতেই জার্মানি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছিল এবং লিগ অফ নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


5. লিগ অফ নেশনস বা জাতিপুঞ্জ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। তাই ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি উড্রো উইলসনের উদ্যোগে ‘লিগ অফ নেশনস’ গঠিত হয়।

প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ:

  • ১. বিশ্বশান্তি রক্ষা: আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিবাদ মেটানো এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো বিশ্বযুদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা।
  • ২. নিরাপত্তা প্রদান: সদস্য রাষ্ট্রগুলির স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তাকে যৌথভাবে সাহায্য করা (যৌথ নিরাপত্তা)।
  • ৩. নিরস্ত্রীকরণ: দেশগুলিকে মারণাস্ত্র তৈরি ও মজুত কমানোর জন্য উৎসাহিত করা।
  • ৪. জনকল্যাণ: শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি, নারী ও শিশু পাচার রোধ, রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করা।

6. লিগ অফ নেশনস বা জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতার কারণগুলি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হলেও লিগ অফ নেশনস বিশ্বশান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয় এবং মাত্র ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

ব্যর্থতার কারণ:

  • ১. আমেরিকার অনুপস্থিতি: লিগের প্রধান উদ্যোক্তা আমেরিকা নিজেই এর সদস্য হয়নি (কংগ্রেসের বাধায়)। শক্তিশালী আমেরিকার অনুপস্থিতি লিগকে শুরুতেই দুর্বল করে দেয়।
  • ২. নিজস্ব বাহিনীর অভাব: লিগের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী ছিল না। আগ্রাসী দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের ওপর নির্ভর করতে হতো।
  • ৩. তোষণ নীতি: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তোষণ নীতির কারণে লিগ জাপান, ইতালি ও জার্মানির অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
  • ৪. সদস্যপদ ত্যাগ: জাপান, জার্মানি ও ইতালি যখন ইচ্ছে লিগ ত্যাগ করে, ফলে লিগ কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে।

7. ১৯২৯ সালের মহামন্দা (Great Depression)-র কারণগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯২৯ সালে আমেরিকায় যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় এবং যা পরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে মহামন্দা বলে।

[Image of Great Depression stock market crash graph]

প্রধান কারণসমূহ:

  • ১. অতিরিক্ত উৎপাদন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার কলকারখানা ও কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় সেই পণ্য অবিক্রীত থেকে যায়।
  • ২. শেয়ার বাজারে ধস: ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর (কালো বৃহস্পতিবার) আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট শেয়ার বাজারে হঠাৎ ধস নামে। একদিনেই শেয়ারের দাম তলানিতে ঠেকে এবং হাজার হাজার মানুষ দেউলিয়া হয়ে যায়।
  • ৩. ঋণ ফেরত সমস্যা: আমেরিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে যে ঋণ দিয়েছিল, যুদ্ধের পর তা তারা ফেরত দিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।
  • ৪. অসম বণ্টন: সম্পদের অসম বণ্টনের ফলে ধনীরা আরও ধনী হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতে পণ্য কেনার মতো অর্থ ছিল না।

8. মহামন্দা মোকাবিলার জন্য রুজভেল্টের ‘নিউ ডিল’ (New Deal) নীতি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩২ সালে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট মহামন্দা কাটাতে যে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন, তা ‘নিউ ডিল’ নামে পরিচিত।

নিউ ডিলের বৈশিষ্ট্য (Three R’s):

  • ১. ত্রাণ (Relief): বেকার ও ক্ষুধার্ত মানুষদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ সাহায্য ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয় (যেমন—FERA গঠন)।
  • ২. পুনরুদ্ধার (Recovery): কৃষি ও শিল্পের উন্নতির জন্য কৃষকদের ঋণ দেওয়া এবং শিল্পে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থা করা হয় (AAA ও NIRA আইন)।
  • ৩. সংস্কার (Reform): ভবিষ্যতে যাতে এমন সংকট না হয়, তার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা ও শেয়ার বাজারের সংস্কার করা হয়।
  • ৪. কর্মসংস্থান: টেনিসি ভ্যালি অথরিটি (TVA) গঠন করে বাঁধ নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান করা হয়।

9. ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে বেনিটো মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে।

কারণসমূহ:

  • ১. ভার্সাই সন্ধিতে বঞ্চনা: মিত্রশক্তির পক্ষে যুদ্ধ করেও ইতালি তার প্রতিশ্রুত ভূখণ্ড পায়নি। এই ‘বিকৃত জয়’ ইতালিবাসীকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।
  • ২. অর্থনৈতিক সংকট: যুদ্ধের ফলে ইতালির অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও খাদ্যাভাব চরমে পৌঁছায়।
  • ৩. সাম্যবাদের ভীতি: রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের জয়ে ইতালির শ্রমিকরাও আন্দোলন শুরু করে। এতে ধনী, শিল্পপতি ও জমিদাররা ভীত হয়ে সাম্যবাদ বিরোধী শক্তি হিসেবে মুসোলিনিকে সমর্থন দেয়।
  • ৪. গণতান্ত্রিক সরকারের ব্যর্থতা: তৎকালীন দুর্বল গণতান্ত্রিক সরকার এই সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে মানুষ একনায়কতন্ত্রের দিকে ঝোঁকে।

10. জার্মানিতে হিটলারের নাৎসি দলের উত্থানের পটভূমি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হতাশার সুযোগ নিয়ে হিটলার ও তাঁর নাৎসি দল ক্ষমতায় আসে।

কারণসমূহ:

  • ১. ভার্সাই সন্ধির অপমান: ভার্সাই সন্ধি জার্মানির ওপর যে অপমানজনক শর্ত ও বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়েছিল, জার্মান জাতি তা মেনে নিতে পারেনি। হিটলার এই সন্ধি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন।
  • ২. ভাইমার প্রজাতন্ত্রের ব্যর্থতা: নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে ব্যর্থ হয়, ফলে জনগণ গণতন্ত্রের ওপর আস্থা হারায়।
  • ৩. অর্থনৈতিক মহামন্দা: ১৯২৯ সালের মহামন্দায় জার্মানির অর্থনীতি ধসে পড়ে। লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক হিটলারের কথায় আশার আলো দেখে।
  • ৪. হিটলারের ব্যক্তিত্ব: হিটলার ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী। তিনি জার্মানির হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ইহুদিদের বিতাড়িত করার উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচার চালিয়ে জনগণকে সম্মোহিত করেন।

11. ‘NEP’ বা নতুন অর্থনৈতিক নীতি (১৯২১) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: বলশেভিক বিপ্লবের পর গৃহযুদ্ধ ও ‘ওয়ার কমিউনিজম’ নীতির ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল। এই অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে লেনিন ১৯২১ সালে সমাজতন্ত্রের কঠোরতা শিথিল করে NEP বা New Economic Policy ঘোষণা করেন।

বৈশিষ্ট্য:

  • ১. কৃষিতে ছাড়: কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে শস্য নেওয়া বন্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট কর দেওয়ার পর বাকি শস্য খোলা বাজারে বিক্রির অধিকার দেওয়া হয়।
  • ২. ছোট শিল্পে মালিকানা: ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিতে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়।
  • ৩. বিদেশি পুঁজি: শর্তসাপেক্ষে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়।

ফলাফল: এর ফলে রাশিয়ার কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায়।


12. স্পেনের গৃহযুদ্ধ (Spanish Civil War, 1936-39) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৬ সালে স্পেনে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক ‘পপুলার ফ্রন্ট’ সরকারের বিরুদ্ধে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিদ্রোহ এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। একে ‘ক্ষুদ্র বিশ্বযুদ্ধ’ বা ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া’ বলা হয়।

কারণ: স্পেনের সমাজতন্ত্রী ও বামপন্থীদের সংস্কারমূলক কার্যক্রমে (যেমন—গির্জার সম্পত্তি ও জমি বাজেয়াপ্ত) ক্ষুব্ধ হয়ে ক্যাথলিক চার্চ, জমিদার ও সেনাবাহিনীর একাংশ বিদ্রোহ করে।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ:

  • জার্মানি ও ইতালি: হিটলার ও মুসোলিনি ফ্রাঙ্কোকে বিপুল অর্থ, সেনা ও আধুনিক বিমান দিয়ে সাহায্য করে।
  • রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক ব্রিগেড: রাশিয়া এবং বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবকরা (আন্তর্জাতিক ব্রিগেড) প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে।
  • ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স: তোষণ নীতির কারণে এরা ‘নিরপেক্ষ’ থাকে, যা পরোক্ষভাবে ফ্রাঙ্কোকে সাহায্য করে।

ফলাফল: ১৯৩৯ সালে মাদ্রিদ পতনের মধ্য দিয়ে ফ্রাঙ্কো জয়ী হন এবং স্পেনে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি গণতন্ত্রের ওপর ফ্যাসিবাদের বড় আঘাত ছিল।


13. ভাইমার প্রজাতন্ত্রের (Weimar Republic) ব্যর্থতার কারণগুলি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জার্মানির প্রথম গণতান্ত্রিক সরকারকে ভাইমার প্রজাতন্ত্র বলা হয়। এটি মাত্র ১৪ বছর টিকেছিল এবং ১৯৩৩ সালে হিটলারের উত্থানের সঙ্গে এর পতন ঘটে।

ব্যর্থতার কারণ:

  • ১. ভার্সাই সন্ধির কলঙ্ক: জার্মান জনগণ এই সরকারকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ মনে করত কারণ তারা অপমানজনক ভার্সাই সন্ধিতে স্বাক্ষর করেছিল।
  • ২. অর্থনৈতিক সংকট: যুদ্ধের বিশাল ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে জার্মানি দেউলিয়া হয়ে যায়। ১৯২৩ সালে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছায়, টাকার মূল্য এতটাই কমে যায় যে এক টুকরো রুটির জন্য ঝুড়ি ভর্তি টাকা লাগত।
  • ৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা: সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার কারণে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না। ফলে ঘন ঘন কোয়ালিশন সরকার গঠিত হতো এবং ভেঙে যেত।
  • ৪. মহামন্দার প্রভাব: ১৯২৯ সালের মহামন্দায় বেকারত্ব ৬০ লক্ষে পৌঁছায়। মানুষ গণতন্ত্রের ওপর আস্থা হারিয়ে হিটলারের প্রতিশ্রুতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

14. মিউনিখ চুক্তি (Munich Pact, 1938) ও তার ফলাফল আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির মিউনিখ শহরে হিটলার, মুসোলিনি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেন এবং ফরাসি প্রধানমন্ত্রী দালাদিয়ের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তা মিউনিখ চুক্তি নামে পরিচিত।

প্রেক্ষাপট: হিটলার দাবি করেন যে চেকোশ্লোভাকিয়ার জার্মান ভাষাভাষী অঞ্চল ‘সুদেতেনল্যান্ড’ জার্মানিকে দিতে হবে। তিনি হুমকি দেন যে দাবি না মানলে তিনি চেকোশ্লোভাকিয়া আক্রমণ করবেন। যুদ্ধ এড়ানোর জন্য তোষণ নীতি গ্রহণ করে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স হিটলারের দাবি মেনে নেয়।

ফলাফল ও গুরুত্ব:

  • ১. বিশ্বাসঘাতকতা: মিত্রশক্তি চেকোশ্লোভাকিয়াকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ভঙ্গ করে। চেক প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকাই হয়নি।
  • ২. হিটলারের সাহস বৃদ্ধি: হিটলার বুঝে যান যে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যুদ্ধের ভয়ে যেকোনো শর্ত মেনে নেবে। তাই তিনি মাত্র ৬ মাসের মধ্যে (মার্চ ১৯৩৯) পুরো চেকোশ্লোভাকিয়া দখল করে নেন।
  • ৩. তোষণ নীতির ব্যর্থতা: এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তোষণ নীতি হিটলারকে থামানোর বদলে আরও আগ্রাসী করে তুলেছে।

15. ১৯৩৯ সালের রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি (Non-Aggression Pact) কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ১৯৩৯ সালের ২৩ আগস্ট চরম শত্রুভাবাপন্ন নাৎসি জার্মানি ও সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া ১০ বছরের জন্য অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর করে বিশ্বকে চমকে দেয়।

শর্তসমূহ:

  • ১. জার্মানি ও রাশিয়া একে অপরকে আক্রমণ করবে না।
  • ২. কোনো তৃতীয় শক্তি তাদের একজনকে আক্রমণ করলে অপরজন নিরপেক্ষ থাকবে।
  • ৩. গোপন শর্ত: পোল্যান্ডকে দুজনে ভাগ করে নেবে এবং বাল্টিক দেশগুলিতে রাশিয়ার প্রভাব মেনে নেওয়া হবে।

গুরুত্ব:

  • ১. জার্মানির সুবিধা: হিটলার নিশ্চিত হন যে পোল্যান্ড আক্রমণ করলে রাশিয়া বাধা দেবে না এবং তাকে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হবে না।
  • ২. রাশিয়ার লাভ: স্টালিন যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য মূল্যবান সময় পান এবং পোল্যান্ডের পূর্বাংশ বিনা যুদ্ধে দখল করার সুযোগ পান।
  • ৩. যুদ্ধের সূচনা: এই চুক্তিই হিটলারকে ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণের সবুজ সংকেত দেয়।

16. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স কেন তোষণ নীতি (Policy of Appeasement) গ্রহণ করেছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স হিটলার ও মুসোলিনির অন্যায় দাবি মেনে নিয়ে তাদের শান্ত রাখার যে নীতি গ্রহণ করে, তাকে তোষণ নীতি বলে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল:

  • ১. সাম্যবাদ ভীতি: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স মনে করত রাশিয়ার সাম্যবাদ বা কমিউনিজম তাদের জন্য ফ্যাসিবাদের চেয়েও বড় বিপদ। তারা চেয়েছিল জার্মানি শক্তিশালী হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বাধা বা ‘বাফার’ হিসেবে কাজ করুক।
  • ২. যুদ্ধের আতঙ্ক: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি তখনো মানুষের মনে তাজা ছিল। তাই তারা যেকোনো মূল্যে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিল।
  • ৩. অপরাধবোধ: ইংল্যান্ডের অনেক রাজনীতিবিদ মনে করতেন যে ভার্সাই সন্ধিতে জার্মানির প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তাই হিটলারের কিছু দাবি (যেমন—অস্ত্রসজ্জা) তারা ন্যায্য বলে মনে করত।
  • ৪. প্রস্তুতির অভাব: সেই সময় ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সামরিক শক্তি জার্মানির মতো শক্তিশালী ছিল না, তাই তারা যুদ্ধের জন্য সময় চেয়েছিল।

17. রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষজোট (Rome-Berlin-Tokyo Axis) কীভাবে গড়ে ওঠে?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আগ্রাসী শক্তিগুলি নিজেদের স্বার্থে যে সামরিক জোট গড়ে তোলে, তা অক্ষশক্তি নামে পরিচিত। এটি তিনটি ধাপে গঠিত হয়:

  • ১. রোম-বার্লিন অক্ষ (১৯৩৬): ইতালির আবিসিিনিয়া দখল এবং জার্মানির রাইনল্যাণ্ড দখলের পর লিগ অফ নেশনস তাদের বিরোধিতা করে। ফলে নিঃসঙ্গ ইতালি ও জার্মানি কাছাকাছি আসে এবং ১৯৩৬ সালে হিটলার ও মুসোলিনির মধ্যে এই মৈত্রী চুক্তি হয়।
  • ২. অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট (১৯৩৬): রাশিয়ার কমিউনিজমের বিরোধিতা করার জন্য জার্মানি ও জাপান এই চুক্তি স্বাক্ষর করে।
  • ৩. রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষ (১৯৩৭): ১৯৩৭ সালে ইতালিও অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্টে যোগ দেয়। ফলে জার্মানি, ইতালি ও জাপান—এই তিন শক্তি মিলে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট বা ‘অক্ষ’ গড়ে তোলে।

ফলাফল: এই জোট বিশ্বকে দুটি সশস্ত্র শিবিরে ভাগ করে দেয় এবং যুদ্ধ অনিবার্য করে তোলে।


18. হিটলারের বিদেশনীতির মূল লক্ষ্যগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় এসে হিটলার জার্মানিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করার জন্য এক আগ্রাসী বিদেশনীতি গ্রহণ করেন।

মূল লক্ষ্যসমূহ:

  • ১. ভার্সাই সন্ধি বাতিল: হিটলার ভার্সাই সন্ধিকে ‘অপমানজনক’ মনে করতেন এবং এর শর্তগুলি ভেঙে জার্মানির হৃত গৌরব ও ভূখণ্ড ফিরিয়ে আনাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
  • ২. প্যান-জার্মানবাদ: ইউরোপের যেখানেই জার্মান ভাষাভাষী মানুষ আছে, সেই সব অঞ্চল (যেমন—অস্ট্রিয়া, সুদেতেনল্যান্ড, পোল্যান্ড) জার্মানির অন্তর্ভুক্ত করে ‘বৃহৎ জার্মানি’ গঠন করা।
  • ৩. লেবেনস্রাম (Lebensraum): জার্মান জাতির বংশবৃদ্ধির জন্য বাড়তি বাসযোগ্য স্থানের প্রয়োজন। তাই পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়া দখল করা তাঁর নীতির অংশ ছিল।
  • ৪. সাম্যবাদ ধ্বংস: হিটলার কমিউনিজম বা সাম্যবাদকে জার্মানির শত্রু মনে করতেন এবং রাশিয়াকে ধ্বংস করা তাঁর স্বপ্ন ছিল।

19. জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ (১৯৩৯) ও তার গুরুত্ব লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণ ছিল বারুদের স্তূপে শেষ স্ফুলিঙ্গ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়ে দেয়।

কারণ: ভার্সাই সন্ধি অনুযায়ী জার্মানিকে দ্বিখণ্ডিত করে পোল্যান্ডকে সমুদ্রপথ বা ‘করিডর’ দেওয়া হয়েছিল এবং ডানজিগ বন্দরকে ‘মুক্ত বন্দর’ ঘোষণা করা হয়েছিল। হিটলার ডানজিগ ও পোলিশ করিডর ফেরত চাইলে পোল্যান্ড তা প্রত্যাখ্যান করে।

ঘটনা: ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভোরবেলায় হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেন। তাঁর এই ঝটিকা আক্রমণকে ‘ব্লিটজক্রিগ’ (Blitzkrieg) বলা হয়।

গুরুত্ব: পোল্যান্ডকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলেই আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।


20. নাৎসিবাদের (Nazism) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানিতে যে রাজনৈতিক মতবাদ গড়ে ওঠে, তাকে নাৎসিবাদ বলে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ১. সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র: নাৎসিরা বিশ্বাস করত যে ব্যক্তি বা সমাজের কোনো স্বাধীনতা নেই, রাষ্ট্রই সব। “এক জাতি, এক রাষ্ট্র, এক নেতা”—এই ছিল তাদের স্লোগান।
  • ২. গণতন্ত্র বিরোধিতা: তারা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিল না। সব বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করা হয়।
  • ৩. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও বর্ণবিদ্বেষ: হিটলার প্রচার করতেন যে জার্মান আর্যরাই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি এবং ইহুদিরা হলো জঘন্য ও দূষিত জাতি। তাই ইহুদি নিধন ছিল নাৎসিবাদের অন্যতম কর্মসূচি।
  • ৪. যুদ্ধরীতি: নাৎসিবাদ মনে করত, “নারীর কাছে মাতৃত্ব যা, পুরুষের কাছে যুদ্ধ তাই।” তারা শান্তিতে নয়, যুদ্ধে বিশ্বাসী ছিল।

21. ভার্সাই সন্ধির মধ্যেই কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল? আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ঐতিহাসিক ই.এইচ. কার-এর মতে, ১৯১৯ সালের ভার্সাই সন্ধির মধ্যেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ লুকিয়ে ছিল।

যুক্তি:

  • ১. অপমানজনক শর্ত: জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য এককভাবে দায়ী করে তার ওপর ৬৬০ কোটি পাউন্ডের বিশাল ঋণের বোঝা চাপানো হয় এবং তার সেনাবাহিনী কেড়ে নেওয়া হয়। কোনো জাতি এই অপমান দীর্ঘকাল মেনে নিতে পারে না।
  • ২. ভূখণ্ড দখল: জার্মানির সমৃদ্ধ খনি অঞ্চল ও উপনিবেশগুলি কেড়ে নেওয়া হয় এবং জার্মানিকে দ্বিখণ্ডিত করে পোল্যান্ডকে জমি দেওয়া হয়।
  • ৩. প্রতিহিংসা: এই সন্ধি জার্মানির মনে তীব্র প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। হিটলার এই ক্ষোভকেই কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসেন এবং সন্ধির শর্তগুলি একে একে ভেঙে বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যান।

22. ১৯২৯ সালের মহামন্দার প্রভাব জার্মানিতে কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: মহামন্দার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল জার্মানিতে, কারণ জার্মানি আমেরিকার ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

প্রভাব:

  • ১. ঋণ বন্ধ: আমেরিকা জার্মানিকে দেওয়া ঋণ ফেরত চায় এবং নতুন ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে জার্মানির শিল্প ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
  • ২. বেকারত্ব: ১৯৩২ সালের মধ্যে জার্মানিতে বেকারের সংখ্যা ৬০ লক্ষে পৌঁছায়। মানুষ অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হয়।
  • ৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হিটলারের উত্থান: এই চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভাইমার প্রজাতন্ত্র ব্যর্থ হয়। হতাশ জনগণ হিটলারের প্রতিশ্রুতির প্রতি আকৃষ্ট হয়, যা নাৎসি দলের ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করে।

23. ফ্যাসিবাদের (Fascism) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ইতালিতে মুসোলিনির হাত ধরে ফ্যাসিবাদের উদ্ভব হয়। এর বৈশিষ্ট্যগুলি নাৎসিবাদের মতোই ছিল।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ১. রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব: মুসোলিনির স্লোগান ছিল—”রাষ্ট্রের মধ্যেই সব, রাষ্ট্রের বাইরে কিছু নেই, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু নেই।”
  • ২. এক দল, এক নেতা: ফ্যাসিবাদের মূল কথা হলো দেশে একটিই রাজনৈতিক দল থাকবে এবং একজনই সর্বাধিনায়ক (Il Duce) থাকবেন।
  • ৩. সাম্রাজ্যবাদ: ফ্যাসিবাদ দুর্বল প্রতিবেশীকে আক্রমণ ও সাম্রাজ্য বিস্তারে বিশ্বাসী ছিল।
  • ৪. সাম্যবাদ বিরোধিতা: ফ্যাসিবাদীরা সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমকে তাদের প্রধান শত্রু মনে করত।

24. মুসোলিনির বিদেশনীতির প্রধান দিকগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: মুসোলিনি চেয়েছিলেন প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের গৌরব ফিরিয়ে এনে ইতালিকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে।

লক্ষ্যসমূহ:

  • ১. ভূমধ্যসাগরে আধিপত্য: তিনি ভূমধ্যসাগরকে ‘ইতালির হ্রদ’-এ পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
  • ২. সাম্রাজ্য বিস্তার: তিনি ফিউম বন্দর, আলবেনিয়া এবং আফ্রিকার আবিসিিনিয়া (ইথিওপিয়া) দখল করেন।
  • ৩. ভার্সাই সন্ধির বিরোধিতা: তিনি ভার্সাই সন্ধিতে ইতালির প্রতি বঞ্চনার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জার্মানির সাথে মৈত্রী জোট (অক্ষশক্তি) গড়ে তোলেন।

25. ‘লেবেনস্রাম’ (Lebensraum) বা বাসযোগ্য স্থান তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ‘লেবেনস্রাম’ একটি জার্মান শব্দ যার অর্থ ‘বাসযোগ্য স্থান’। এটি ছিল হিটলারের বিদেশনীতির অন্যতম ভিত্তি।

মূল কথা: হিটলার বিশ্বাস করতেন যে জার্মান জাতির জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু তাদের থাকার জায়গার অভাব। শ্রেষ্ঠ আর্য জাতি হিসেবে জার্মানদের বিস্তার লাভের অধিকার আছে।

প্রয়োগ: তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত জায়গার সন্ধান করতে হবে পূর্ব ইউরোপে, বিশেষত রাশিয়া এবং পোল্যান্ডে। স্লাভ জাতিগুলিকে দাস বানিয়ে বা হত্যা করে সেই উর্বর জমি জার্মানদের জন্য দখল করতে হবে। এই তত্ত্বই হিটলারকে রাশিয়া আক্রমণের দিকে ঠেলে দেয়।


26. লিগ অফ নেশনস বা জাতিপুঞ্জ কেন ব্যর্থ হয়েছিল? (সংক্ষেপে)

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: বিশ্বশান্তি রক্ষার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হলেও লিগ অফ নেশনস চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়।

কারণ:

  • ১. সদস্যপদের অভাব: আমেরিকা লিগে যোগ দেয়নি এবং রাশিয়াকে অনেক পরে নেওয়া হয়েছিল। ফলে লিগ দুর্বল ছিল।
  • ২. বৃহৎ শক্তির আগ্রাসন: জাপান যখন মাঞ্চুরিয়া দখল করে (১৯৩১) এবং ইতালি যখন আবিসিিনিয়া দখল করে (১৯৩৫), লিগ তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
  • ৩. তোষণ নীতি: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স লিগের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ এবং হিটলারকে তোষণ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল।
  • ৪. নিজস্ব বাহিনীর অভাব: লিগের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী না থাকায় আক্রমণকারী দেশগুলো লিগের নির্দেশকে গ্রাহ্য করত না।

27. ‘ব্ল্যাক শার্ট’ ও ‘ব্রাউন শার্ট’ বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ব্ল্যাক শার্ট (Black Shirts): ইতালিতে মুসোলিনি তাঁর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠন করেন। তারা কালো পোশাক পরত। এদের কাজ ছিল সমাজতন্ত্রী ও বিরোধীদের মারধর করা, সভা পণ্ড করা এবং জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে মুসোলিনির ক্ষমতা দখলকে সহজ করা।

ব্রাউন শার্ট (Brown Shirts): জার্মানিতে হিটলারের ব্যক্তিগত ঝটিকা বাহিনীকে (S.A.) ব্রাউন শার্ট বলা হতো, কারণ তারা বাদামী পোশাক পরত। এরা ইহুদি ও কমিউনিস্টদের ওপর হামলা চালাত এবং হিটলারের সভাগুলোতে পাহারা দিত। নাৎসি সন্ত্রাসের মূলে ছিল এই বাহিনী।


28. অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট (Anti-Comintern Pact) সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান রাশিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী সংস্থা বা ‘কমিন্টার্ন’-এর বিরুদ্ধে যে চুক্তি করে, তাকে অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট বলে।

উদ্দেশ্য: এর বাহ্যিক উদ্দেশ্য ছিল সাম্যবাদের প্রসার রোধ করা। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়া এবং বিশ্বজয়ের পরিকল্পনা করা। ১৯৩৭ সালে ইতালি এই চুক্তিতে যোগ দিলে অক্ষশক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।


29. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য হিটলার কতটা দায়ী ছিলেন?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩৯ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ঐতিহাসিকরা প্রধানত অ্যাডলফ হিটলার এবং তাঁর আগ্রাসী নীতিকেই দায়ী করেন। তবে এর সাথে তোষণ নীতিও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল।

হিটলারের দায়িত্ব:

  • ১. ভার্সাই সন্ধি লঙ্ঘন: ক্ষমতায় এসেই হিটলার ভার্সাই সন্ধির তোয়াক্কা না করে জার্মানির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং রাইনল্যাণ্ড পুনর্দখল করেন।
  • ২. আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি: তিনি ‘লেবেনস্রাম’ বা বাসযোগ্য স্থান তত্ত্বের দোহাই দিয়ে একের পর এক স্বাধীন দেশ (অস্ট্রিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া) গ্রাস করতে থাকেন।
  • ৩. পোল্যান্ড আক্রমণ: হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণই ছিল যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ। তিনি জানতেন যে পোল্যান্ড আক্রমণ করলে যুদ্ধ বাধবে, তবুও তিনি তা করেছিলেন।

উপসংহার: যদিও ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তোষণ নীতি হিটলারকে সাহসী করে তুলেছিল, কিন্তু হিটলারের অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও যুদ্ধবাজ মনোভাবই ছিল বিশ্বযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি।


30. হিটলারের ‘মেইন ক্যাম্প’ (Mein Kampf) গ্রন্থটির গুরুত্ব কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯২৩ সালে ব্যর্থ ‘বিয়ার হল অভ্যুত্থান’-এর পর ল্যান্ডসবার্গ জেলে বন্দী থাকাকালীন হিটলার তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘মেইন ক্যাম্প’ (Mein Kampf) বা ‘আমার সংগ্রাম’ রচনা করেন।

গ্রন্থটির গুরুত্ব ও বিষয়বস্তু:

  • ১. নাৎসি বাইবেল: এই বইটি ছিল নাৎসি দলের আদর্শ ও কর্মসূচীর দলিল। নাৎসি কর্মীরা একে ধর্মগ্রন্থের মতো মান্য করত।
  • ২. আর্য শ্রেষ্ঠত্ব ও ইহুদি বিদ্বেষ: হিটলার এতে প্রচার করেন যে জার্মানরাই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আর্য জাতি এবং ইহুদিরা হলো সমাজের আবর্জনা। এই বইটিতেই ইহুদি নিধনের পূর্বাভাস ছিল।
  • ৩. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জার্মানি ভবিষ্যতে কীভাবে তার হৃত গৌরব ফিরে পাবে, ভার্সাই সন্ধি বাতিল করবে এবং বিশ্বজয় করবে—তার নীল নকশা এই বইতে আঁকা ছিল।
  • ৪. গণতন্ত্র বিরোধিতা: এই গ্রন্থে সংসদীয় গণতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং একনায়কতন্ত্রের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়।

31. রাশিয়ায় জোসেফ স্ট্যালিনের ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’র (Five Year Plans) গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: লেনিনের মৃত্যুর পর জোসেফ স্ট্যালিন রাশিয়ার ক্ষমতায় আসেন এবং ১৯২৮ সালে রাশিয়ায় পরিকল্পিত অর্থনীতির সূচনা করেন।

উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব:

  • ১. দ্রুত শিল্পায়ন: পিছিয়ে পড়া কৃষিপ্রধান রাশিয়াকে আধুনিক শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করা। এর ফলে লোহা, ইস্পাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়।
  • ২. স্বনির্ভরতা: পুঁজিবাদী দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা।
  • ৩. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: ভারী শিল্পের প্রসারের ফলে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে হারাতে সাহায্য করে।

32. লোকার্নো চুক্তি (Locarno Pact, 1925) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ১৯২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের লোকার্নো শহরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড ও ইতালি অংশ নেয়।

শর্ত ও গুরুত্ব:

  • ১. জার্মানি তার পশ্চিম সীমান্ত (ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের সাথে) মেনে নেয় এবং তা আর লঙ্ঘন না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
  • ২. রাইনল্যাণ্ড অঞ্চলকে নিরস্ত্রীকৃত রাখা হবে বলে স্থির হয়।
  • ৩. এই চুক্তির ফলে জার্মানিকে আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্মানের সাথে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ১৯২৬ সালে জার্মানি লিগ অফ নেশনসের সদস্যপদ পায়।

33. জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ (১৯৩১) কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৯৩১ সালে এশীয় শক্তি জাপান চিনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ আক্রমণ ও দখল করে নেয়। এটি ছিল লিগ অফ নেশনসের ব্যর্থতার প্রথম বড় প্রমাণ।

গুরুত্ব:

  • ১. লিগের ব্যর্থতা: চিন লিগের কাছে অভিযোগ জানালে লিগ জাপানকে আক্রমণকারী ঘোষণা করে, কিন্তু কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
  • ২. আগ্রাসনে উৎসাহ: জাপানের এই বিনা বাধায় সাফল্য দেখে মুসোলিনি ও হিটলার ভবিষ্যতে আগ্রাসন চালাতে উৎসাহিত হন।
  • ৩. সদস্যপদ ত্যাগ: লিগের নিন্দার প্রতিবাদে জাপান লিগ অফ নেশনস ত্যাগ করে, যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

34. ইতালির আবিসিনিয়া (Abyssinia) বা ইথিওপিয়া দখল সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে মুসোলিনি ১৯৩৫ সালে আফ্রিকার স্বাধীন দেশ আবিসিনিয়া বা ইথিওপিয়া আক্রমণ করেন।

ঘটনা: আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইতালীয় বাহিনী সহজেই আবিসিনিয়া দখল করে। আবিসিনিয়ার সম্রাট হেইলে সেলাসি লিগ অফ নেশনসের সাহায্য প্রার্থনা করেন।

গুরুত্ব: লিগ ইতালিকে আক্রমণকারী ঘোষণা করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে, কিন্তু তেল ও কয়লার মতো জরুরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই তোষণ নীতির ফলে মুসোলিনি সহজেই জয়ী হন এবং লিগের অসারতা প্রমাণিত হয়।


35. রাশিয়ায় কৃষি যৌথীকরণ বা ‘কালেক্টিভ ফার্মিং’ (Collectivization) ব্যবস্থা কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: স্ট্যালিন তাঁর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার কৃষিব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন, যা কৃষি যৌথীকরণ নামে পরিচিত।

ব্যবস্থা:

  • ছোট ছোট জোতগুলিকে মিলিয়ে বিশাল এক-একটি সমবায় খামার বা ‘কলখোজ’ (Kolkhoz) তৈরি করা হয়।
  • কৃষকদের ব্যক্তিগত জমি, লাঙল ও পশু এই খামারের সম্পত্তিতে পরিণত হয়।
  • আধুনিক ট্রাক্টর ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে চাষাবাদ করা হয়।

ফলাফল: ধনী কৃষক বা ‘কুলাক’-রা এর বিরোধিতা করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হয়। এর ফলে রাশিয়ায় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দুর্ভিক্ষ দূর হয়।


Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার