নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ – জৈবনিক প্রক্রিয়া পুষ্টি, সংবহন এবং রেচন
🌿 পুষ্টি বিভাগ (Nutrition) – (মান: ৩)
১. উদ্ভিদের পুষ্টিতে নাইট্রোজেনের তিনটি গুরুত্ব লেখো।
✅ উদ্ভিদের পুষ্টিতে নাইট্রোজেনের তিনটি গুরুত্ব:
- প্রোটিন সংশ্লেষ: নাইট্রোজেন অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রধান উপাদান, যা থেকে প্রোটিন তৈরি হয়। প্রোটিন উদ্ভিদদেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে অপরিহার্য।
- নিউক্লিক অ্যাসিড: এটি DNA এবং RNA-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই বংশগতি ও কোষ বিভাজনের জন্য নাইট্রোজেন অপরিহার্য।
- ক্লোরোফিল গঠন: ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রে নাইট্রোজেন থাকে। এটি সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং উদ্ভিদের সবুজ বর্ণ বজায় রাখে।
২. মানুষের মুখগহ্বরে খাদ্য পরিপাক কীভাবে শুরু হয়?
✅ মুখগহ্বরে খাদ্য পরিপাক শুরু হয় মূলত শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে:
- খাদ্য চিবানোর সময় লালাগ্রন্থি থেকে লালারস নিঃসৃত হয়, যাতে টায়ালিন (স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ) নামক উৎসেচক থাকে।
- এই টায়ালিন সেদ্ধ শ্বেতসার বা স্টার্চের উপর কাজ করে এবং এটিকে মলটোজ নামক দ্বি-শর্করাতে পরিণত করে।
- মুখগহ্বরে প্রোটিন বা ফ্যাট পরিপাক হয় না। খাদ্য চিবানোর ফলে যান্ত্রিক পরিপাকও সম্পন্ন হয়।
৩. ফ্যাট-দ্রাব্য ভিটামিন A, D, E, K-এর একটি করে কাজ উল্লেখ করো।
✅ ফ্যাট-দ্রাব্য ভিটামিনগুলির একটি করে কাজ:
- ভিটামিন A: এটি স্বাভাবিক দৃষ্টি বজায় রাখতে, চোখের রডোপসিন গঠনে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন D: এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অস্থি ও দাঁতের সঠিক গঠনে সহায়তা করে।
- ভিটামিন E: এটি কোষপর্দার স্থায়িত্ব রক্ষা করে এবং প্রজনন ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন K: এটি রক্ততঞ্চনে সাহায্যকারী বিভিন্ন উপাদান (যেমন প্রোথ্রম্বিন) সংশ্লেষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
৪. পরজীবী ও মিথোজীবী পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
✅ পরজীবী ও মিথোজীবী পুষ্টির মধ্যে প্রধান পার্থক্য:
- পরজীবী পুষ্টি: এই পুষ্টিতে একটি জীব (পরজীবী) অন্য একটি জীব (পোষক)-এর ক্ষতি করে তার থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। যেমন: গোলকৃমি মানুষের অন্ত্রে পুষ্টি গ্রহণ করে।
- মিথোজীবী পুষ্টি: এই পুষ্টিতে দুটি জীব একে অপরের সাথে সহাবস্থান করে এবং উভয়েই উপকৃত হয়। যেমন: রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে বাস করে নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে এবং উদ্ভিদের থেকে খাদ্য নেয়।
৫. পাকস্থলীতে কীভাবে প্রোটিন পরিপাক হয় তা সংক্ষেপে লেখো।
✅ পাকস্থলীতে প্রোটিন পরিপাক প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
- পাকস্থলীর প্রাচীর থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ($HCl$) এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন ক্ষরিত হয়।
- $HCl$ পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে এবং এটি মাধ্যমকে আম্লিক করে তোলে।
- এই সক্রিয় উৎসেচক পেপসিন খাদ্যের প্রোটিনের উপর কাজ করে এবং সেগুলিকে ভেঙে তুলনামূলকভাবে সরল পেপটন ও প্রোটিওজে পরিণত করে।
৬. সালোকসংশ্লেষকে কেন জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়?
✅ সালোকসংশ্লেষ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া কারণ এখানে একই সাথে জারণ ও বিজারণ ঘটে:
- জারণ (Oxidation): এই প্রক্রিয়ায় জল ($H_2O$) জারিত হয়ে অক্সিজেন ($O_2$) উৎপন্ন হয়।
- বিজারণ (Reduction): অন্যদিকে, পরিবেশে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) বিজারিত হয়ে শর্করা বা গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- তাই এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান হয় এবং জারণ-বিজারণ একসঙ্গে ঘটে।
৭. মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে ফ্যাট পরিপাকে অগ্ন্যাশয় রসের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
✅ ফ্যাট পরিপাকে অগ্ন্যাশয় রসের ভূমিকা:
- অগ্ন্যাশয় রস খাদ্যনালীতে এলে প্রথমে পিত্তরস চর্বিকে ইমালসিফিকেশন করে ক্ষুদ্র কণিকায় পরিণত করে।
- এরপর অগ্ন্যাশয় রসে থাকা **লাইপেজ** নামক উৎসেচক ফ্যাট কণাগুলির উপর কাজ করে।
- লাইপেজের সাহায্যে ফ্যাট ভেঙে সরল উপাদান ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়, যা শোষণযোগ্য।
৮. পুষ্টির ক্ষেত্রে শোষণের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।
✅ পুষ্টির ক্ষেত্রে শোষণের দুটি গুরুত্ব:
- উপাদান সরবরাহ: শোষণ প্রক্রিয়ায় পরিপাক হওয়া সরল খাদ্য উপাদানগুলি (গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ইত্যাদি) ভিলাই দ্বারা শোষিত হয়ে রক্ত ও লসিকায় প্রবেশ করে।
- শক্তি ও বৃদ্ধি: শোষিত খাদ্য উপাদানগুলি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে পৌঁছায়, যেখানে তারা শক্তি উৎপাদন, দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
৯. জলদ্রাব্য ভিটামিনগুলির নাম লেখো এবং ভিটামিন C-এর অভাবে কী রোগ হয়?
✅ জলদ্রাব্য ভিটামিনগুলি:
- ভিটামিন: ভিটামিন B কমপ্লেক্স (যেমন $B_1, B_2, B_6, B_{12}$) এবং ভিটামিন C।
- ভিটামিন C-এর অভাবজনিত রোগ: ভিটামিন C-এর অভাবে **স্কার্ভি** রোগ হয়। এই রোগের ফলে মাড়ি ফুলে যায়, রক্তপাত হয় এবং দাঁত নড়ে যায়।
১০. সবাত শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষের মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ সবাত শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষ একে অপরের পরিপূরক:
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত গ্লুকোজ ও অক্সিজেন সবাত শ্বসনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যদিকে, সবাত শ্বসনে উৎপাদিত কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) এবং জল সালোকসংশ্লেষের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এই দুটি প্রক্রিয়া পরস্পরের উপর নির্ভরশীল, যা প্রকৃতিতে শক্তিচক্রকে সচল রাখে।
১১. অ্যামিবাতে খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
✅ অ্যামিবাতে খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া (ফ্যাগোসাইটোসিস) নিচে দেওয়া হলো:
- অ্যামিবা ক্ষণপদ সৃষ্টি করে খাদ্যবস্তুকে ঘিরে ধরে এবং এটিকে কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায়। এই প্রক্রিয়াকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।
- খাদ্যবস্তুটি খাদ্য গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করে। এরপর খাদ্য গহ্বরে উৎসেচক প্রবেশ করে খাদ্যের পরিপাক ঘটায়।
- পরিশেষে পাচিত খাদ্য শোষিত হয় এবং অপাচিত অংশ বহিষ্করণের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
১২. কাইম ও কাইল বলতে কী বোঝো?
✅ কাইম ও কাইল হলো পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যের পরিবর্তিত রূপ:
- কাইম (Chyme): পাকস্থলীতে আংশিক পরিপাক হওয়া অম্লধর্মী মণ্ডাকার খাদ্যকে কাইম বলে। এটিই এরপর ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে।
- কাইল (Chyle): ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পূর্ণ পরিপাকের পর যে ক্ষারীয়, দুধের মতো সাদা তরল খাদ্য তৈরি হয় এবং যা ল্যাকটিয়ালের মাধ্যমে শোষিত হয়, তাকে কাইল বলে।
১৩. বৃক্কীয় নালিকার পুনঃশোষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
✅ বৃক্কীয় নালিকার পুনঃশোষণের গুরুত্ব:
- আল্ট্রা ফিল্ট্রেশনের সময় জল, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানও বাইরে বেরিয়ে যায়।
- এই পুনঃশোষণের ফলে এই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি রক্তে আবার ফিরে আসে এবং অপচয় রোধ হয়।
- পুনঃশোষণ প্রক্রিয়াটি দেহের জলের সঠিক ভারসাম্য (জলসাম্য) বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৪. ফ্লোয়েম কলার মধ্য দিয়ে খাদ্য সংবহন প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
✅ ফ্লোয়েম কলার মধ্য দিয়ে খাদ্য সংবহন:
- পাতায় সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে তৈরি শর্করা (সুক্রোজ) প্রথমে ফ্লোয়েম কলার সীব-নলে প্রবেশ করে।
- এরপর অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জাইলেম থেকে জল সীব-নলে প্রবেশ করে এবং সেখানে উচ্চ চাপ সৃষ্টি করে।
- এই উচ্চচাপের প্রভাবে খাদ্য উদ্ভিদদেহের কম চাপযুক্ত অংশে (যেমন মূল বা সঞ্চয়ী অঙ্গ) পরিবাহিত হয়, এই প্রক্রিয়াকে প্রেশার ফ্লো মেকানিজমও বলা হয়।
১৫. মানুষের হজমে যকৃতের তিনটি ভূমিকা লেখো।
✅ মানুষের হজমে যকৃতের তিনটি ভূমিকা:
- পিত্তরস নিঃসরণ: যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি পরিপাকের জন্য ইমালসিফিকেশনে সাহায্য করে।
- শর্করা নিয়ন্ত্রণ: এটি অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চয় করে এবং প্রয়োজনে তা রক্তে মুক্ত করে রক্ত শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- বিপাক: এটি বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়াতে রূপান্তরিত করে (রেচন প্রক্রিয়া)।
🩸 সংবহন বিভাগ (Circulation) – (মান: ৩)
১. হৃদপিণ্ডের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
✅ হৃদপিণ্ডের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের গুরুত্ব:
- সিস্টোল (সংকোচন): সিস্টোলের মাধ্যমে রক্ত অলিন্দ থেকে নিলয়ে এবং নিলয় থেকে ফুসফুস (ডান নিলয়) ও দেহের বাকি অংশে (বাম নিলয়) উচ্চচাপে পাম্প হয়।
- ডায়াস্টোল (প্রসারণ): ডায়াস্টোলের সময় হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি প্রসারিত হয় এবং সেই মুহূর্তে রক্ত সেই প্রকোষ্ঠগুলিতে প্রবেশ করে।
- এই দুটি প্রক্রিয়ার ছান্দিক আবর্তন রক্তকে সারা দেহে নিয়মিতভাবে সঞ্চালিত করে। [attachment_0](attachment)
২. লসিকার তিনটি কাজ সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
✅ লসিকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ:
- পুষ্টি পরিবহন: ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই-এর ল্যাকটিয়াল দ্বারা শোষিত চর্বি জাতীয় পদার্থ (ফ্যাট) লসিকার মাধ্যমে রক্তে পরিবাহিত হয়।
- কোষীয় প্রতিরক্ষা: লসিকাতে থাকা **লিম্ফোসাইট** শ্বেত রক্তকণিকাগুলি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুদের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে দেহকে রক্ষা করে।
- জলসাম্য রক্ষা: কলাকোষের মধ্যেকার অতিরিক্ত কলা-রস লসিকা দ্বারা সংগৃহীত হয়ে রক্তে ফিরে যায়, ফলে কলাকোষে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
✅ রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব:
- রক্তপাত বন্ধ: শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে **অনুচক্রিকা**র সহায়তায় রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ করে, ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধ হয়।
- ক্ষত নিরাময়: তঞ্চনের ফলে তৈরি হওয়া জমাট বাঁধা রক্ত ক্ষতিকারক জীবাণুদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।
- এই প্রক্রিয়া জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৪. ধমনী ও শিরার মধ্যে গঠনগত তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ ধমনী ও শিরার মধ্যে গঠনগত তিনটি পার্থক্য:
- প্রাচীরের পুরুত্ব: ধমনীর প্রাচীর শিরার প্রাচীরের তুলনায় অনেক বেশি পুরু এবং স্থিতিস্থাপক।
- গহ্বর: ধমনীর ভেতরের গহ্বর (Lumen) শিরার গহ্বরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ছোট হয়।
- কপাটিকা: ধমনীতে কপাটিকা থাকে না (ফুসফুসীয় ধমনী ব্যতীত), কিন্তু শিরায় রক্তকে উল্টোদিকে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য কপাটিকা থাকে। [attachment_1](attachment)
৫. উচ্চ রক্তচাপের তিনটি প্রধান ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।
✅ উচ্চ রক্তচাপের তিনটি ক্ষতিকারক প্রভাব (High Blood Pressure):
- হৃদরোগ: হৃদপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা হৃদপেশীকে দুর্বল করে তোলে এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ায়।
- স্ট্রোক: মস্তিষ্কের রক্তবাহিকা ফেটে যেতে পারে (হেমোরেজিক স্ট্রোক) বা রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে, যা স্ট্রোকের কারণ হয়।
- বৃক্কের ক্ষতি: বৃক্কের সূক্ষ্ম রক্তজালকগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে বৃক্কের পরিস্রাবণ ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বৃক্ক বিকল হতে পারে।
৬. লোহিত রক্তকণিকা (RBC) এবং শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ RBC এবং WBC এর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য:
- নিউক্লিয়াস: পরিণত RBC-তে নিউক্লিয়াস থাকে না, কিন্তু WBC-তে নিউক্লিয়াস থাকে।
- কাজ: RBC-এর প্রধান কাজ **অক্সিজেন পরিবহন**, আর WBC-এর প্রধান কাজ দেহকে **রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা** করা।
- হিমোগ্লোবিন: RBC-তে হিমোগ্লোবিন থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়, কিন্তু WBC-তে হিমোগ্লোবিন থাকে না।
৭. রসের উৎস্রোত বা বাষ্পমোচন টানের গুরুত্ব আলোচনা করো।
✅ বাষ্পমোচন টানের গুরুত্ব:
- জল পরিবহন: বাষ্পমোচনের ফলে পাতার মেসোফিল কলায় জলের ঘাটতি হয়, যা একটি টান সৃষ্টি করে। এই টানের ফলেই জল মূল থেকে পাতা পর্যন্ত জাইলেম কলার মাধ্যমে উপরে ওঠে।
- খনিজ শোষণ: জলের সাথে মাটিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণও মূল দ্বারা শোষিত হয় এবং উদ্ভিদদেহে পরিবাহিত হয়।
- তাপ নিয়ন্ত্রণ: বাষ্পমোচনের ফলে জল বাষ্পীভূত হয়, যা উদ্ভিদ দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করে।
৮. রক্ত কেন লাল এবং লসিকা কেন বর্ণহীন?
✅ রক্ত এবং লসিকার বর্ণ:
- রক্ত লাল: রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় **হিমোগ্লোবিন** নামক লাল রঙের রঞ্জক পদার্থ থাকে। এই হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণেই রক্তের বর্ণ লাল হয়।
- লসিকা বর্ণহীন: লসিকাতে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) অনুপস্থিত থাকে। এটি মূলত রক্তরস এবং শ্বেত রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত হয়, তাই লসিকার কোনো নির্দিষ্ট রঙ থাকে না এবং এটি বর্ণহীন বা হালকা হলুদ বর্ণের হয়।
৯. হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction) কেন হয়? এর দুটি প্রধান কারণ লেখো।
✅ হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন:
- কারণ: হৃদপিণ্ডের পেশীতে (মায়োকার্ডিয়াম) রক্ত সরবরাহকারী **করোনারি ধমনীতে** ফ্যাট বা কোলেস্টেরল জমার ফলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়।
- প্রধান কারণ: ১. অতিরিক্ত ধূমপান, যা ধমনীর ক্ষতি করে। ২. **স্থূলতা (Obesity)**, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ।
১০. সর্বজনীন দাতা (Universal Donor) এবং সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient) বলতে কী বোঝো?
✅ রক্তের গ্রুপের ভিত্তিতে এদের চিহ্নিত করা হয়:
- সর্বজনীন দাতা (O-): যে ব্যক্তির রক্তে A বা B কোনো **অ্যান্টিজেন** থাকে না, ফলে এই রক্ত যেকোনো গ্রুপের ব্যক্তিকে দান করা যায়। রক্তের গ্রুপ **O-** কে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।
- সর্বজনীন গ্রহীতা (AB+): যে ব্যক্তির রক্তে A ও B উভয় অ্যান্টিজেন এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, ফলে ইনি যেকোনো গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারেন। রক্তের গ্রুপ **AB+** কে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়। [attachment_2](attachment)
১১. হৃৎপিণ্ডের কপাটিকার দুটি কাজ উল্লেখ করো।
✅ হৃৎপিণ্ডের কপাটিকার দুটি কাজ:
- রক্তের একমুখী প্রবাহ: কপাটিকাগুলি রক্তকে শুধুমাত্র একমুখী পথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে বা নিলয় থেকে রক্তবাহে যেতে সাহায্য করে।
- বিপরীতমুখী প্রবাহ রোধ: সংকোচনের (সিস্টোল) সময় কপাটিকাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রক্ত কখনোই উল্টো দিকে বা পিছনের প্রকোষ্ঠে ফিরে যেতে পারে না।
১২. থ্যালাসেমিয়া রোগের তিনটি লক্ষণ লেখো।
✅ থ্যালাসেমিয়া রোগের তিনটি লক্ষণ:
- তীব্র রক্তাল্পতা: লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়ায় রোগী মারাত্মক **রক্তাল্পতা**য় ভোগে।
- জন্ডিস: লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়া থেকে উৎপন্ন বিলিরুবিনের আধিক্যে জন্ডিস দেখা দেয়।
- বৃদ্ধি হ্রাস: রোগী দুর্বল থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয় এবং পেটের প্লীহা ও যকৃৎ বড় হয়ে যায়।
১৩. উদ্ভিদদেহে জাইলেম ও ফ্লোয়েম-এর মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
✅ জাইলেম ও ফ্লোয়েম একে অপরের সহযোগী:
- জাইলেম: জাইলেম মূল থেকে **জল ও খনিজ লবণ** পাতায় পরিবহন করে। এই জল বাষ্পমোচনে ব্যবহৃত হয়।
- ফ্লোয়েম: ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি হওয়া **খাদ্য (শর্করা)** সারা দেহে পরিবহন করে।
- খাদ্য পরিবহনের সময় ফ্লোয়েমে যখন শর্করার ঘনত্ব বাড়ে, তখন জাইলেম থেকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জল ফ্লোয়েমে প্রবেশ করে খাদ্য পরিবহনে সাহায্য করে।
১৪. রক্তজালক (Capillary)-এর গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও তার ভূমিকা কী?
✅ রক্তজালকের গঠন ও ভূমিকা:
- গঠন: রক্তজালক হলো ধমনী ও শিরার সংযোগস্থলে থাকা অতি সূক্ষ্ম রক্তবাহিকা। এদের প্রাচীর মাত্র **একটি স্তর** (এন্ডোথেলিয়াম) দিয়ে গঠিত।
- ভূমিকা: এদের সূক্ষ্ম প্রাচীরের মাধ্যমেই রক্ত এবং কলাকোষের মধ্যে গ্যাস ($O_2$ ও $CO_2$) এবং পুষ্টি উপাদান আদান-প্রদান হয়।
- এরা মূলত কলাকোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বর্জ্য সংগ্রহ করে।
১৫. হৃৎপিণ্ডকে দ্বিপদ পাম্প (Double Pump) বলা হয় কেন?
✅ হৃৎপিণ্ডকে দ্বিপদ পাম্প বলার কারণ:
- হৃদপিণ্ডের **ডান দিক** (ডান অলিন্দ ও নিলয়) দেহ থেকে দূষিত রক্ত গ্রহণ করে **ফুসফুসে** পাঠায়—এটি ফুসফুসীয় সংবহন।
- হৃদপিণ্ডের **বাম দিক** (বাম অলিন্দ ও নিলয়) ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে তা **সারা দেহে** ছড়িয়ে দেয়—এটি সিস্টেমিক সংবহন।
- অর্থাৎ, হৃৎপিণ্ড একই সঙ্গে দুটি সংবহন (ফুসফুসীয় ও সিস্টেমিক) পরিচালনা করে বলে একে দ্বিপদ পাম্প বলে।
🗑️ রেচন বিভাগ (Excretion) – (মান: ৩)
১. রেচন ও ক্ষরণের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ রেচন ও ক্ষরণের মধ্যে তিনটি পার্থক্য:
- উদ্দেশ্য: রেচনের উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিকারক বিপাকজাত বর্জ্য **অপসারণ** করা। ক্ষরণের উদ্দেশ্য হলো দেহে ব্যবহারযোগ্য পদার্থ **নির্গত** করা (যেমন উৎসেচক, হরমোন)।
- পদার্থের প্রকৃতি: রেচিত পদার্থ সর্বদা ক্ষতিকারক ও অপ্রয়োজনীয়। ক্ষরিত পদার্থ প্রয়োজনীয় হতে পারে (যেমন লালারস) বা অপ্রয়োজনীয় (যেমন ঘাম)।
- ক্ষতি: রেচন না ঘটলে জীবদেহের ক্ষতি হয় এবং বিষক্রিয়া দেখা দেয়। ক্ষরণ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকারক নয়।
২. বৃক্কের কাজ তিনটি পয়েন্টে লেখো।
✅ বৃক্কের তিনটি প্রধান কাজ [attachment_0](attachment):
- বর্জ্য অপসারণ: এটি রক্ত থেকে **ইউরিয়া**, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিনের মতো নাইট্রোজেন ঘটিত বিপাকজাত বর্জ্যগুলিকে ফিল্টার করে মূত্র তৈরি ও অপসারণ করে।
- জল ও লবণের ভারসাম্য: বৃক্ক দেহের অতিরিক্ত জল ও খনিজ লবণ বের করে দেয় এবং প্রয়োজনীয় জল ও লবণ পুনঃশোষণ করে জলের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- pH নিয়ন্ত্রণ: বৃক্ক প্রয়োজনে রক্তে অতিরিক্ত $H^+$ বা $HCO_3^-$ আয়ন ক্ষরণ বা শোষণ করে রক্তের **অম্ল-ক্ষার (pH) ভারসাম্য** বজায় রাখে।
৩. মানবদেহে বৃক্ক ছাড়াও রেচনে অংশগ্রহণকারী তিনটি অঙ্গ ও তাদের কাজ লেখো।
✅ বৃক্ক ছাড়াও রেচনে অংশগ্রহণকারী তিনটি অঙ্গ ও তাদের কাজ:
- ফুসফুস: ফুসফুস প্রধানত **কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$)** এবং অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প রেচন পদার্থ হিসেবে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেয়।
- ত্বক: ত্বক **ঘামের** মাধ্যমে অতিরিক্ত জল, লবণ এবং সামান্য পরিমাণে ইউরিয়া ও ল্যাকটিক অ্যাসিড রেচন করে।
- যকৃৎ: যকৃৎ অ্যামিনো অ্যাসিডের ভাঙন থেকে উৎপন্ন বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে কম ক্ষতিকারক **ইউরিয়াতে** রূপান্তরিত করে (ইউরিয়া চক্র)।
৪. অ্যামোনোটেলিক, ইউরিওটেলিক ও ইউরিকোটেলিক প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ বর্জ্য ত্যাগের প্রকৃতির ভিত্তিতে পার্থক্য:
- অ্যামোনোটেলিক: এরা নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যকে **অ্যামোনিয়া** হিসেবে ত্যাগ করে (যেমন মাছ)। এদের অপসারণের জন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন।
- ইউরিওটেলিক: এরা নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যকে **ইউরিয়া** হিসেবে ত্যাগ করে (যেমন মানুষ)। এদের অ্যামোনোটেলিক প্রাণীর চেয়ে কম জল লাগে।
- ইউরিকোটেলিক: এরা নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যকে **ইউরিক অ্যাসিড** হিসেবে ত্যাগ করে (যেমন পাখি)। এদের জল সবচেয়ে কম প্রয়োজন হয়।
৫. বৃক্কীয় নালিকার ক্ষরণ (Tubular Secretion)-এর গুরুত্ব কী?
✅ বৃক্কীয় নালিকার ক্ষরণের গুরুত্ব:
- pH নিয়ন্ত্রণ: এটি রক্তে অতিরিক্ত **হাইড্রোজেন ($H^+$) আয়ন** ক্ষরণ করে মূত্রে মিশিয়ে দেয়, ফলে রক্তে অম্ল-ক্ষার (pH) ভারসাম্য বজায় থাকে।
- বর্জ্য অপসারণ: এটি কিছু বর্জ্য পদার্থ (যেমন ওষুধ, ক্রিয়েটিনিন) এবং অতিরিক্ত **পটাশিয়াম ($K^+$)** আয়ন সরাসরি রক্ত থেকে বৃক্কীয় নালিকাতে ক্ষরণ করে মূত্রের মাধ্যমে অপসারণ করে।
৬. ডায়ালিসিস (Dialysis) প্রক্রিয়া কেন করা হয়?
✅ ডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার কারণ:
- বৃক্কের কার্যকারিতা হ্রাস: যখন কোনো ব্যক্তির বৃক্ক রোগ বা আঘাতের কারণে মূত্র তৈরির কাজ করতে পারে না, তখন **কৃত্রিম বৃক্ক** বা ডায়ালিসিস করা হয়।
- বর্জ্য অপসারণ: এর মাধ্যমে রক্ত থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের মতো ক্ষতিকারক নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থগুলিকে পরিস্রাবণ করে রক্তকে বিশুদ্ধ করা হয়।
- এই প্রক্রিয়া রোগীর শরীরে জল ও লবণের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। [attachment_1](attachment)
৭. উদ্ভিদের তিনটি প্রধান রেচন পদার্থ এবং তাদের ব্যবহার উল্লেখ করো।
✅ উদ্ভিদের তিনটি রেচন পদার্থ ও তাদের ব্যবহার:
- কুইনাইন (Alkaloid): সিঙ্কোনা গাছের ছালে পাওয়া যায়। এটি **ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ** তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- রজন (Resin): পাইন বা দেবদারু গাছের রেচন পদার্থ। এটি বার্নিশ, পেইন্ট এবং **আঠা** তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- ট্যানিন (Tannin): চায়ের পাতা বা বাবলা গাছের ছালে পাওয়া যায়। এটি চামড়া **ট্যানিং শিল্পে** ব্যবহৃত হয়।
৮. গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুলের দুটি কাজ লেখো।
✅ গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুলের দুটি কাজ:
- অতি-পরিস্রাবণ: গ্লোমেরুলাসের জালকের মাধ্যমে রক্ত উচ্চচাপে পরিস্রুত হয়। এই প্রক্রিয়াকে **আল্ট্রা ফিল্ট্রেশন** বা অতি-পরিস্রাবণ বলে।
- প্রাথমিক মূত্র গঠন: বোম্যান্স ক্যাপসুল এই পরিস্রুত তরলকে সংগ্রহ করে। জল, লবণ, ইউরিয়া এবং গ্লুকোজযুক্ত এই সংগৃহীত তরলটিই হলো প্রাথমিক মূত্র।
৯. রেনাল থ্রেশহোল্ড (Renal Threshold) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?
✅ রেনাল থ্রেশহোল্ড:
- সংজ্ঞা: রক্তে গ্লুকোজের যে নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত বৃক্কীয় নালিকা সেটিকে সম্পূর্ণরূপে পুনঃশোষণ করে নিতে পারে, তাকে রেনাল থ্রেশহোল্ড বলে।
- গুরুত্ব: যখন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ এই থ্রেশহোল্ড (প্রায় ১৮০ mg/dL)-এর চেয়ে বেশি হয়, তখন বৃক্ক সব গ্লুকোজ শোষণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত গ্লুকোজ **মূত্রের মাধ্যমে** বেরিয়ে যায়।
১০. মূত্র কী? এর দুটি প্রধান জৈব উপাদান উল্লেখ করো।
✅ মূত্র (Urine):
- সংজ্ঞা: মূত্র হলো বৃক্ক দ্বারা পরিস্রাবিত সেই তরল বর্জ্য, যা জল, লবণ এবং বিপাকজাত ক্ষতিকারক পদার্থ নিয়ে গঠিত এবং মূত্রনালী দিয়ে দেহ থেকে অপসারিত হয়।
- প্রধান জৈব উপাদান: মূত্রের প্রধান দুটি জৈব উপাদান হলো—**ইউরিয়া** (প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন) এবং **ক্রিয়েটিনিন** (পেশীর বিপাকের ফলে উৎপন্ন)।
১১. বৃক্কীয় কর্টেক্স ও মেডুলার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ বৃক্কীয় কর্টেক্স ও মেডুলার মধ্যে দুটি পার্থক্য:
- অবস্থান: **কর্টেক্স** হলো বৃক্কের বাইরের দিকের অংশ, যা ক্যাপসুলের ঠিক নিচে অবস্থিত। **মেডুলা** হলো বৃক্কের ভেতরের অংশ, যা রেনাল পিরামিড নিয়ে গঠিত।
- নেফ্রনের অংশ: নেফ্রনের ম্যালপিজিয়ান কর্পাসল এবং সংবর্ত নালিকাগুলি কর্টেক্স অংশে থাকে। হেনলির লুপ এবং সংগ্রহক নালীগুলি মেডুলা অংশে থাকে।
১২. উদ্ভিদের কান্ড ও মূলে রেচন পদার্থ কীভাবে সঞ্চিত থাকে?
✅ উদ্ভিদের কান্ড ও মূলে রেচন পদার্থ সঞ্চয়:
- কাণ্ড: পুরোনো কাণ্ডের কেন্দ্রে থাকা মৃত জাইলেম কলায় (সার কাঠ) **ট্যানিন** বা **রজন** জাতীয় রেচন পদার্থ জমা থাকে। গঁদও কান্ডের বাকলে সঞ্চিত থাকে।
- মূল: কোনো কোনো উদ্ভিদের মূলে উপক্ষার বা অন্যান্য রেচন পদার্থ জমা থাকে। যেমন, রাউলফিয়া গাছের মূলে **রেসারপিন** নামক উপক্ষার সঞ্চিত থাকে।
১৩. বৃক্কীয় নালিকার পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান কোনটি? এই প্রক্রিয়ায় কী কী উপাদান শোষিত হয়?
✅ পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ার স্থান ও উপাদান:
- প্রধান স্থান: নেফ্রনের **নিকটবর্তী সংবর্ত নালিকা (PCT)** হলো পুনঃশোষণের প্রধান স্থান।
- শোষিত উপাদান: এই স্থানে প্রায় ৭০-৮০% জল, **গ্লুকোজ**, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় লবণ ও ভিটামিন সম্পূর্ণরূপে রক্তে পুনঃশোষিত হয়।
১৪. রেচন পদার্থরূপে ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগের সুবিধা কী?
✅ ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগের সুবিধা:
- জল সাশ্রয়: ইউরিক অ্যাসিড তুলনামূলকভাবে কম দ্রবণীয় এবং কম বিষাক্ত। তাই এটি ত্যাগ করার জন্য **খুব কম জলের** প্রয়োজন হয়।
- উপযোগীতা: এই কারণে পাখি, সরীসৃপ এবং পতঙ্গদের মতো জল সাশ্রয়কারী প্রাণীদের জন্য এটি আদর্শ রেচন পদার্থ।
১৫. মানুষের মূত্রে অ্যালবুমিন বা গ্লুকোজ থাকলে তা কী নির্দেশ করে?
✅ মূত্রে এই উপাদানগুলির উপস্থিতি অস্বাভাবিকতা নির্দেশ করে:
- গ্লুকোজ (Glucosuria): মূত্রে গ্লুকোজের উপস্থিতি সাধারণত নির্দেশ করে যে রক্তে শর্করার পরিমাণ রেনাল থ্রেশহোল্ডের চেয়ে বেশি। এটি **ডায়াবেটিস মেলিটাস** রোগের লক্ষণ।
- অ্যালবুমিন (Proteinuria): মূত্রে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে বৃক্কের পরিস্রাবণ যন্ত্রে (গ্লোমেরুলাস) কোনো সমস্যা বা প্রদাহ হয়েছে, যার ফলে **প্রোটিন** রক্ত থেকে মূত্রে বেরিয়ে আসছে।
💡 পুষ্টি, সংবহন ও রেচন (মান: ৩) – গুরুত্বপূর্ণ FAQ
১. সবাত শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষের মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ এই দুটি প্রক্রিয়া একে অপরের **পরিপূরক**।
- সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন **গ্লুকোজ ও অক্সিজেন**, শ্বসনে শক্তি উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- শ্বসনে উৎপন্ন **কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) ও জল**, সালোকসংশ্লেষের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. ক্ষুদ্রান্ত্রে ফ্যাট পরিপাকে অগ্ন্যাশয় রসের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
✅ অগ্ন্যাশয় রসে থাকা **লাইপেজ** উৎসেচক ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তরসের মাধ্যমে চর্বি প্রথমে **ইমালসিফিকেশন** দ্বারা ক্ষুদ্র কণিকায় পরিণত হয়।
- এরপর লাইপেজ উৎসেচক ফ্যাট কণাগুলির উপর কাজ করে সেগুলিকে **ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে** পরিণত করে, যা সহজেই শোষিত হতে পারে।
৩. হৃৎপিণ্ডের কপাটিকার দুটি কাজ উল্লেখ করো।
✅ হৃৎপিণ্ডের কপাটিকার দুটি প্রধান কাজ:
- একমুখী প্রবাহ: কপাটিকা রক্তকে শুধুমাত্র একটি দিকে (যেমন অলিন্দ থেকে নিলয়ে) যেতে সাহায্য করে।
- বিপরীতমুখী প্রবাহ রোধ: সংকোচনের (সিস্টোল) সময় কপাটিকাগুলি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রক্ত কখনোই পিছনের প্রকোষ্ঠে ফিরে যেতে পারে না।
৪. রসের উৎস্রোত বা বাষ্পমোচন টানের গুরুত্ব কী?
✅ বাষ্পমোচন টানের দুটি প্রধান গুরুত্ব হলো:
- জল ও খনিজ পরিবহন: বাষ্পমোচনের ফলে সৃষ্ট টানের মাধ্যমেই জল ও খনিজ লবণ **জাইলেম কলা** দ্বারা মূল থেকে পাতা পর্যন্ত উপরে ওঠে।
- তাপ নিয়ন্ত্রণ: বাষ্পীভবনের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল বের করে উদ্ভিদ তার দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারে।
৫. রেচন পদার্থরূপে ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগের সুবিধা কী?
✅ ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগের সুবিধা হলো:
- এটি সবচেয়ে কম **বিষাক্ত** নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য।
- এটি ত্যাগ করার জন্য **খুব কম জলের** প্রয়োজন হয়, যা পাখি ও সরীসৃপদের মতো প্রাণীদের জন্য জল সাশ্রয়ী।
৬. বৃক্কের কাজ তিনটি পয়েন্টে লেখো।
✅ বৃক্কের তিনটি প্রধান কাজ:
- মূত্র উৎপাদন: রক্ত থেকে **ইউরিয়া** সহ নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য অপসারণ করা।
- জলসাম্য: দেহের জল ও খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা।
- pH নিয়ন্ত্রণ: রক্তে $H^+$ ও $HCO_3^-$ এর ভারসাম্য রক্ষা করে pH-এর সাম্যতা বজায় রাখা।