নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান, অধ্যায় -২, জীব সংগঠনের স্তর ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান ৫
অধ্যায় ২: জীবন সংগঠনের স্তর — ৩৯টি রচনাধর্মী প্রশ্ন
1. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা কাকে বলে? রাসায়নিক গঠন অনুসারে কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণিবিন্যাস করো। (২+৩)
উত্তর দেখুন
সংজ্ঞা: কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত যে জৈব যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত জলের মতো ২:১ হয় এবং যা শক্তি উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা নেয়, তাকে কার্বোহাইড্রেট বলে
[Image of Carbohydrate structure]
。
শ্রেণিবিন্যাস: শর্করার অণুর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- মনোস্যাকারাইড (একশর্করা): একটিমাত্র শর্করা অণু দিয়ে গঠিত। যেমন— গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ[Image of Glucose molecule]
। - ডাইস্যাকারাইড (দ্বিশর্করা): দুটি মনোস্যাকারাইড অণু যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। যেমন— সুক্রোজ (চিনি), ল্যাকটোজ[Image of Sucrose molecule]
। - পলিস্যাকারাইড (বহুশর্করা): অসংখ্য মনোস্যাকারাইড অণু দিয়ে গঠিত। যেমন— স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন[Image of Starch molecule]
।
2. প্রোটিন কী? জীবদেহে প্রোটিনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করো। (২+৩)
উত্তর দেখুন
প্রোটিন: কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন (কখনও সালফার ও ফসফরাস) দিয়ে গঠিত এবং অ্যামাইনো অ্যাসিডের পলিমার-জাতীয় জটিল জৈব যৌগকে প্রোটিন বলে
[Image of Protein structure]
।
জীবদেহে ভূমিকা:
- দেহ গঠন ও বৃদ্ধি: প্রোটিন কোশের প্রোটোপ্লাজম ও কলার প্রধান গঠনগত উপাদান। পেশি, অস্থি, তরুণাস্থি গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- উৎসেচক ও হরমোন গঠন: জীবদেহের সমস্ত উৎসেচক এবং অধিকাংশ হরমোন (যেমন—ইনসুলিন) প্রোটিন দিয়ে তৈরি, যা বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে[Image of Enzyme action]
। - শ্বসন রঞ্জক গঠন: রক্তের হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহণে সাহায্য করে[Image of Hemoglobin molecule]
।
3. DNA-এর ভৌত গঠন (ওয়াটসন ও ক্রিক মডেল) সংক্ষেপে বর্ণনা করো। DNA-এর কাজ কী? (৩+২)
উত্তর দেখুন
DNA-এর গঠন:
- DNA অণু দুটি পলি-নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল দিয়ে গঠিত, যা একে অপরের সঙ্গে পেঁচিয়ে একটি দ্বিতন্ত্রী হ্যালিক্স বা সিঁড়ির মতো গঠন তৈরি করে[Image of DNA double helix structure]
। - প্রতিটি নিউক্লিওটাইড ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা, ফসফেট এবং নাইট্রোজেন বেস (অ্যাডিনিন-A, গুয়ানিন-G, থাইমিন-T, সাইটোসিন-C) দিয়ে তৈরি।
- দুটি তন্তুর বেসগুলি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত থাকে (A-এর সাথে T দুটি বন্ডে এবং G-এর সাথে C তিনটি বন্ডে যুক্ত হয়)[Image of DNA base pairing]
।
কাজ: DNA জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং কোশের সমস্ত জৈবনিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে
[Image of DNA replication]
।
4. DNA ও RNA-এর মধ্যে পাঁচটি প্রধান পার্থক্য লেখো। (৫)
উত্তর দেখুন
| বিষয় | DNA | RNA |
|---|---|---|
| অবস্থান | প্রধানত নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে থাকে। | প্রধানত সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসে থাকে। |
| গঠন | দ্বিতন্ত্রী ও প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো। | একতন্ত্রী ও রেখাকার। |
| শর্করা | ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে। | রাইবোজ শর্করা থাকে। |
| নাইট্রোজেন বেস | থাইমিন (T) থাকে, ইউরাসিল থাকে না। | ইউরাসিল (U) থাকে, থাইমিন থাকে না। |
| কাজ | বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন ও কোশের কাজ নিয়ন্ত্রণ। | প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করা। |
5. ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি কী কী? এদের রাসায়নিক নাম ও একটি করে অভাবজনিত রোগের নাম লেখো। (১+৪)
উত্তর দেখুন
ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি হলো: A, D, E, K।
| ভিটামিন | রাসায়নিক নাম | অভাবজনিত রোগ |
|---|---|---|
| ভিটামিন A | রেটিনল | রাতকানা, জেরপধ্যালমিয়া। |
| ভিটামিন D | ক্যালসিফেরল | রিকেট (শিশুদের), অস্টিওম্যালেসিয়া (বড়দের)। |
| ভিটামিন E | টোকোফেরল | বন্ধ্যাত্ব, পেশির দুর্বলতা। |
| ভিটামিন K | ফাইলোকুইনোন বা ন্যাপথোকুইনোন | রক্তক্ষরণ বা হ্যামারেজ (রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হওয়া)। |
6. ভিটামিন B-কমপ্লেক্স ও ভিটামিন C-এর উৎস ও কাজ সংক্ষেপে লেখো। (২.৫+২.৫)
উত্তর দেখুন
ভিটামিন B-কমপ্লেক্স:
- উৎস: ঢেঁকিছাঁটা চাল, লাল আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, ইস্ট, দুধ, ডিম।
- কাজ: শক্তিমুক্তিতে, রক্তকণিকা গঠনে, স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা রক্ষায় এবং ক্ষুধামান্দ্য দূর করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড):
- উৎস: আমলকী, পেয়ারা, লেবুজাতীয় ফল, টম্যাটো, কাঁচালঙ্কা[Image of Vitamin C sources]
। - কাজ: মাড়ি সুস্থ রাখতে, ক্ষত নিরাময়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তাল্পতা রোধে সাহায্য করে।
7. মানবদেহে ক্যালশিয়াম (Ca), ফসফরাস (P) ও আয়োডিন (I)-এর গুরুত্ব আলোচনা করো। (২+১.৫+১.৫)
উত্তর দেখুন
- ক্যালশিয়াম (Ca): হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে, রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে এবং পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে[Image of Calcium rich foods]
। - ফসফরাস (P): হাড় ও দাঁত গঠনে ক্যালশিয়ামের সাথে কাজ করে এবং এটিপি (ATP) ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরিতে সাহায্য করে।
- আয়োডিন (I): থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে। এর অভাবে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়।
8. প্রোক্যারিওটিক কোশ ও ইউক্যারিওটিক কোশের মধ্যে পাঁচটি পার্থক্য লেখো। (৫)
উত্তর দেখুন
| বিষয় | প্রোক্যারিওটিক কোশ | ইউক্যারিওটিক কোশ |
|---|---|---|
| নিউক্লিয়াস | সুগঠিত নয় (নিউক্লিয়ড), নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস থাকে না। | সুগঠিত, নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস যুক্ত। |
| পর্দাবৃত অঙ্গাণু | থাকে না (যেমন- মাইটোকনড্রিয়া, প্লাস্টিড নেই)। | উপস্থিত (মাইটোকনড্রিয়া, গলগি বডি ইত্যাদি থাকে)। |
| রাইবোজোম | 70S প্রকৃতির। | 80S প্রকৃতির (কিছু ক্ষেত্রে 70S)। |
| কোশ বিভাজন | অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে হয়। | মাইটোসিস ও মিয়োসিস পদ্ধতিতে হয়। |
| উদাহরণ | ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ-সবুজ শৈবাল
[Image of Bacterial cell] |
উদ্ভিদ ও প্রাণী কোশ
[Image of Animal cell] |
9. উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের মধ্যে গঠনগত পার্থক্যগুলি আলোচনা করো। (৫)
উত্তর দেখুন
| বিষয় | উদ্ভিদকোশ | প্রাণীকোশ |
|---|---|---|
| কোশপ্রাচীর | উপস্থিত, সেলুলোজ নির্মিত জড় প্রাচীর থাকে। | অনুপস্থিত। |
| প্লাস্টিড | উপস্থিত (ক্লোরোপ্লাস্ট থাকার জন্য সবুজ হয়)। | সাধারণত অনুপস্থিত। |
| ভ্যাকুওল | সংখ্যায় কম কিন্তু আকারে খুব বড় হয়। | সংখ্যায় বেশি কিন্তু আকারে খুব ছোট হয়। |
| সেন্ট্রোজোম | সাধারণত থাকে না (নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে থাকতে পারে)। | উপস্থিত, যা কোশ বিভাজনে সাহায্য করে। |
| নিউক্লিয়াসের অবস্থান | ভ্যাকুওলের জন্য পরিধির দিকে সরে যায়। | সাধারণত কোশের কেন্দ্রের দিকে থাকে। |
10. মাইটোকনড্রিয়ার গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করো। একে কোশের ‘শক্তিঘর’ বলা হয় কেন? (৩+২)
উত্তর দেখুন
গঠন: মাইটোকনড্রিয়া দ্বি-একক পর্দাবৃত দণ্ডাকার বা গোলাকার অঙ্গাণু। এর বাইরের পর্দাটি মসৃণ, কিন্তু ভিতরের পর্দাটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, যাকে কৃষ্টি (Cristae) বলে। কৃষ্টির গায়ে অক্সিজোম বা F1 বস্তু থাকে। ভিতরের গহ্বরে জেলির মতো ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স থাকে
[Image of Mitochondria structure]
。
শক্তিঘর বলার কারণ: মাইটোকনড্রিয়ার মধ্যে সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু জারিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে শক্তি বা ATP উৎপন্ন হয়, যা কোশের বিভিন্ন কাজে লাগে। তাই একে কোশের শক্তিঘর (Powerhouse) বলা হয়。
11. প্লাস্টিড কাকে বলে? প্লাস্টিড কত প্রকার ও কী কী? ক্লোরোপ্লাস্টের কাজ লেখো। (১+২+২)
উত্তর দেখুন
সংজ্ঞা: উদ্ভিদকোশের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত, দ্বি-একক পর্দাবৃত, রঞ্জকযুক্ত বা রঞ্জকবিহীন যেসব অঙ্গাণু খাদ্য সংশ্লেষ, বর্ণ গঠন ও খাদ্য সঞ্চয়ে সাহায্য করে, তাদের প্লাস্টিড বলে
[Image of Chloroplast structure]
。
প্রকারভেদ: প্লাস্টিড প্রধানত তিন প্রকার— ১) ক্লোরোপ্লাস্ট (সবুজ), ২) ক্রোমোপ্লাস্ট (রঙিন), এবং ৩) লিউকোপ্লাস্ট (বর্ণহীন)。
ক্লোরোপ্লাস্টের কাজ: এর প্রধান কাজ হলো সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা। এছাড়া এটি পরিবেশের কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে
[Image of Photosynthesis process]
。
12. নিউক্লিয়াসের গঠন বর্ণনা করো। নিউক্লিয়াসের প্রধান কাজ কী? (৪+১)
উত্তর দেখুন
গঠন: একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস চারটি অংশ নিয়ে গঠিত:
- নিউক্লীয় পর্দা: দ্বি-স্তরী আবরণ যা নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে।
- নিউক্লিয়ওপ্লাজম: নিউক্লিয়াসের ভিতরের স্বচ্ছ, দানাদার ও অর্ধতরল ধাত্র।
- নিউক্লিওলাস: নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থিত সবথেকে ঘন, গোলাকার অংশ।
- নিউক্লীয় জালক: ধাত্রে ভাসমান সুতোর মতো অংশ, যা কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম গঠন করে[Image of Nucleus structure]
।
কাজ: নিউক্লিয়াস কোশের সমস্ত বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। একে ‘কোশের মস্তিষ্ক’ বলা হয়。
13. গলগি বডি (Golgi Body) ও লাইসোজোমের গঠন ও কাজ সংক্ষেপে লেখো। (৩+২)
উত্তর দেখুন
গলগি বডি: চ্যাপ্টা থলি (সিস্টারনি), ছোট গহ্বর (ভ্যাকুওল) ও ভেসিকল নিয়ে গঠিত। এর কাজ হলো হরমোন ও উৎসেচক ক্ষরণ করা এবং লাইসোজোম তৈরি করা। একে কোশের ‘ট্রাফিক পুলিশ’ বলা হয়
[Image of Golgi apparatus]
。
লাইসোজোম: এটি উৎসেচক পূর্ণ থলি বিশেষ। এর কাজ হলো কোশমধ্যস্থ পরিপাকে সাহায্য করা এবং জীর্ণ কোশ অঙ্গাণু বা জীবাণুকে ধ্বংস করা। একে কোশের ‘আত্মঘাতী থলি’ বলা হয়
[Image of Lysosome function]
。
14. এন্ডোপ্লাজমীয় জালক (ER)-এর গঠন ও কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (৩+২)
উত্তর দেখুন
গঠন: এন্ডোপ্লাজমীয় জালক বা ER হলো কোশপর্দা থেকে নিউক্লীয় পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত নলাকার ও চ্যাপ্টা থলির মতো জালিকাকার অঙ্গাণু। এটি তিন প্রকার গঠন নিয়ে গঠিত: ১) সিস্টারনি (চ্যাপ্টা থলি), ২) ভেসিকল (গোলাকার থলি), এবং ৩) টিবিউলস (নলাকার অংশ)। এর গাত্রে রাইবোজোম থাকলে তাকে অমসৃণ ER (RER) এবং না থাকলে মসৃণ ER (SER) বলে
[Image of Endoplasmic Reticulum structure]
。
কাজ:
- কোশের সাইটোপ্লাজমীয় কাঠামো গঠন করে কোশকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।
- RER প্রোটিন সংশ্লেষে এবং SER লিপিড বা ফ্যাট সংশ্লেষে সাহায্য করে।
15. রাইবোজোম ও সেন্ট্রোজোমের গঠন ও কাজ লেখো। (২.৫+২.৫)
উত্তর দেখুন
রাইবোজোম: এটি পর্দাবিহীন দানাদার অঙ্গাণু। দুটি অধঃএকক (Subunit) নিয়ে গঠিত। এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষ করা, তাই একে ‘প্রোটিন ফ্যাক্টরি’ বলে。
সেন্ট্রোজোম: এটি প্রধানত প্রাণীকোশে নিউক্লিয়াসের কাছে থাকে। এতে দুটি নলাকার সেন্ট্রিওল থাকে। এর কাজ হলো প্রাণীকোশ বিভাজনের সময় বেমতন্তু (Spindle fibre) গঠন করা এবং সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা সৃষ্টিতে সাহায্য করা
[Image of Centrosome structure]
。
16. ভাজক কলার তিনটি বৈশিষ্ট্য ও দুটি কাজ লেখো। (৩+২)
উত্তর দেখুন
বৈশিষ্ট্য:
- কোশগুলি আকারে ছোট, সজীব এবং সর্বদা বিভাজনে সক্ষম।
- কোশপ্রাচীর খুব পাতলা এবং কোশগুলির মাঝে কোনো ফাঁকা স্থান (আন্তঃকোশীয় রন্ধ্র) থাকে না।
- কোশে বড় কোনো ভ্যাকুওল থাকে না এবং সাইটোপ্লাজম খুব ঘন হয়[Image of Meristematic tissue]
。
কাজ: ১) ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটানো। ২) নতুন পাতা, মূল, কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি করা।
17. প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা কলার তুলনামূলক আলোচনা করো (কোশপ্রাচীর ও কাজ)। (৫)
উত্তর দেখুন
| বিষয় | প্যারেনকাইমা | কোলেনকাইমা | স্ক্লেরেনকাইমা |
|---|---|---|---|
| কোশপ্রাচীর | খুব পাতলা ও সেলুলোজ নির্মিত। | অসমানভাবে পুরু (কোণগুলোতে পেকটিন জমে)। | খুব পুরু ও লিগনিন যুক্ত (মৃত)। |
| কাজ | খাদ্য তৈরি ও সঞ্চয় করা, দেহ গঠন করা। | উদ্ভিদকে নমনীয়তা ও যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করা। | উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা ও সুরক্ষা প্রদান করা। |
18. জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার গঠনগত উপাদান ও কাজের পার্থক্য লেখো। (৫)
উত্তর দেখুন
| বিষয় | জাইলেম (Xylem) | ফ্লোয়েম (Phloem) |
|---|---|---|
| উপাদান | ট্রাকিড, ট্রাকিয়া, জাইলেম প্যারেনকাইমা, জাইলেম তন্তু। | সিভনল, সঙ্গীকোশ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা, ফ্লোয়েম তন্তু। |
| সজীবতা | বেশিরভাগ উপাদান মৃত (শুধুমাত্র প্যারেনকাইমা সজীব)। | বেশিরভাগ উপাদান সজীব (শুধুমাত্র তন্তু মৃত)। |
| কাজ | জল ও খনিজ লবণের ঊর্ধ্বমুখী সংবহন এবং দৃঢ়তা প্রদান। | তৈরি খাদ্যের উভয়মুখী (মূলত নিম্নমুখী) সংবহন। |
19. আবরণী কলা বা এপিথেলিয়াল টিস্যুর বৈশিষ্ট্য ও কাজ লেখো। অবস্থান অনুযায়ী এটি কত প্রকার? (২+২+১)
উত্তর দেখুন
বৈশিষ্ট্য: এই কলার কোশগুলি ভিত্তিপর্দার ওপর ঘনসন্নিবিষ্টভাবে সাজানো থাকে এবং কোশগুলির মাঝে কোনো ফাঁকা স্থান থাকে না। এতে রক্তজালক থাকে না。
কাজ: অঙ্গকে রক্ষা করা, শোষণ (যেমন অন্ত্রে), ক্ষরণ (যেমন গ্রন্থিতে) এবং বর্জন করা।
প্রকারভেদ: কোশের আকৃতি অনুযায়ী এটি আয়শাকার (Squamous), ঘনকাকার (Cuboidal), স্তম্ভাকার (Columnar) এবং রোমশ (Ciliated) হতে পারে。
20. রক্তের উপাদানগুলি কী কী? লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার কাজ লেখো। (১+২+২)
উত্তর দেখুন
উপাদান: রক্তরস বা প্লাজমা (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। রক্তকণিকা তিন প্রকার—লোহিত রক্তকণিকা (RBC), শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) ও অণুচক্রিকা (Platelets)
[Image of Blood components]
।
কাজ:
- লোহিত রক্তকণিকা: ফুসফুস থেকে কোশে অক্সিজেন (O₂) এবং কোশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) পরিবহণ করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা: জীবাণু ধ্বংস করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
21. ঐচ্ছিক, অনৈচ্ছিক এবং হৃদপেশির গঠন ও কাজের তুলনা করো। (৫)
উত্তর দেখুন
| পেশি | গঠন | কাজ/নিয়ন্ত্রণ |
|---|---|---|
| ঐচ্ছিক (Skeletal) | কোশগুলি দীর্ঘ, চোঙাকার, বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং আড়াআড়ি দাগ থাকে (সরেখ)। | ইচ্ছামতো সংকুচিত হয়ে অঙ্গ সঞ্চালন করে (যেমন—হাত, পা)। |
| অনৈচ্ছিক (Smooth) | কোশগুলি মাকু আকৃতির, একটি নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং দাগবিহীন (অরেখ)। | ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না (যেমন—পাকস্থলী, অন্ত্র)। |
| হৃদপেশি (Cardiac) | কোশগুলি শাখাযুক্ত, একটি নিউক্লিয়াসযুক্ত, সরেখ এবং ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে। | সারা জীবন ছন্দবদ্ধভাবে সংকুচিত হয়ে রক্ত সঞ্চালন করে (হৃৎপিণ্ড)। |
22. স্নায়ুকোশ বা নিউরনের চিত্রসহ গঠন বর্ণনা করো। (৫)
উত্তর দেখুন
নিউরন দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: ১) কোশদেহ এবং ২) প্রবর্ধক
[Image of Neuron structure]
。
- কোশদেহ (Cell Body): গোলাকার বা তারকাকার অংশ, যাতে নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ও নিসল দানা থাকে।
- প্রবর্ধক:
- ডেনড্রন: ছোট, শাখান্বিত অংশ যা উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোশদেহে পাঠায়।
- অ্যাক্সন: দীর্ঘ, শাখাবিহীন অংশ যা উদ্দীপনা কোশদেহ থেকে পরবর্তী নিউরনে বা পেশিতে পাঠায়। এটি মায়েলিন সিদ দ্বারা আবৃত থাকতে পারে এবং এর শেষ প্রান্তে প্রান্তবুরুশ থাকে।
23. ত্বক বা চর্মের কাজগুলি উল্লেখ করো। (৫)
উত্তর দেখুন
ত্বকের প্রধান কাজগুলি হলো:
- রক্ষণাবেক্ষণ: বাইরের আঘাত, জীবাণু সংক্রমণ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থেকে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে রক্ষা করা।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘাম নিঃসরণ এবং রক্তজালকের প্রসারণ-সংকোচনের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা।
- রেচন: ঘামের মাধ্যমে জল, লবণ ও কিছু বর্জ্য পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) বের করে দেওয়া।
- সংবেদ গ্রহণ: স্পর্শ, চাপ, তাপ, ঠান্ডা ইত্যাদি অনুভূতি গ্রহণ করা।
- ভিটামিন সংশ্লেষ: সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ভিটামিন-D সংশ্লেষ করা।
24. পাকস্থলীর অবস্থান ও কাজ লেখো। পাকস্থলী থেকে ক্ষরিত অ্যাসিডের ভূমিকা কী? (২+২+১)
উত্তর দেখুন
অবস্থান: উদরগহ্বরের উপরের দিকে বামপাশে, ডায়াফ্রামের ঠিক নীচে অবস্থিত। এটি ইংরেজি ‘J’ অক্ষরের মতো দেখতে
[Image of Stomach anatomy]
。
কাজ: খাদ্য সাময়িকভাবে জমা রাখা এবং প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের আংশিক পরিপাক করা।
অ্যাসিডের ভূমিকা: পাকস্থলী থেকে ক্ষরিত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) খাদ্যের জীবাণু ধ্বংস করে এবং পেপসিন উৎসেচককে সক্রিয় করে প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে。
25. অগ্ন্যাশয় (Pancreas)-এর অবস্থান ও কাজ লেখো। একে মিশ্র গ্রন্থি বলে কেন? (২+২+১)
উত্তর দেখুন
অবস্থান: পাকস্থলীর নীচে এবং ডিওডিনামের ভাঁজের মধ্যে অবস্থিত একটি পাতার মতো গ্রন্থি
[Image of Pancreas location]
。
কাজ: ১) পরিপাককারী উৎসেচক (অগ্ন্যাশয় রস) ক্ষরণ করে খাদ্য হজমে সাহায্য করা। ২) ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা。
মিশ্র গ্রন্থি: কারণ এটি একইসাথে বহিঃক্ষরা (উৎসেচক ক্ষরণ) এবং অন্তঃক্ষরা (হরমোন ক্ষরণ) গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে。
26. মানুষের হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ সংক্ষেপে লেখো। (৩+২)
উত্তর দেখুন
গঠন: মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠযুক্ত—দুটি অলিন্দ (ডান ও বাম) এবং দুটি নিলয় (ডান ও বাম)। অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝে কপাটিকা থাকে যা রক্তের একমুখী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। পুরো হৃৎপিণ্ডটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে
[Image of Human Heart Structure]
。
কাজ: হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে। এটি ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ছড়িয়ে দেয় এবং সারা দেহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসে পাঠায়。
27. ফুসফুসের গঠন ও কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (৩+২)
উত্তর দেখুন
গঠন: মানুষের বক্ষগহ্বরে হৃৎপিণ্ডের দুপাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। ডান ফুসফুসটি তিনটি খণ্ড এবং বাম ফুসফুসটি দুটি খণ্ড নিয়ে গঠিত। ফুসফুস দুটি ‘প্লুরা’ নামক দ্বিস্তরী পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে। ফুসফুসের ভিতরে অসংখ্য বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই (Alveoli) থাকে, যা রক্তজালক দিয়ে পরিবেষ্টিত
[Image of Lungs structure]
。
কাজ: ১) পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে রক্তে মেশানো। ২) রক্ত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে দেহের বাইরে বের করে দেওয়া (গ্যাসীয় আদান-প্রদান)।
28. যকৃতের অবস্থান ও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ উল্লেখ করো। (২+৩)
উত্তর দেখুন
অবস্থান: উদরগহ্বরের উপরের দিকে ডানপাশে ডায়াফ্রামের ঠিক নীচে অবস্থিত। এটি মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি。
কাজ:
- পিত্ত নিঃসরণ: যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়ে ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে।
- বিপাক ক্রিয়া: গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে সঞ্চয় করে এবং ইউরিয়া সংশ্লেষ করে।
- নির্বিষকরণ (Detoxification): খাদ্যের সাথে আগত বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থকে নষ্ট করে দেহকে রক্ষা করে।
29. বৃক্ক বা কিডনির গঠন ও কাজ আলোচনা করো। (৩+২)
উত্তর দেখুন
গঠন: মানুষের উদরগহ্বরে মেরুদণ্ডের দুপাশে দুটি সিম বীজের মতো দেখতে বৃক্ক অবস্থিত। প্রতিটি বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল এবং ভিতরের দিক অবতল (হাইলাম)। বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো নেফ্রন। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে
[Image of Kidney structure]
。
কাজ: ১) রক্ত থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ (যেমন- ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড) ছেঁকে নিয়ে মূত্র উৎপাদন করা। ২) দেহের জল ও লবণের ভারসাম্য এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা。
30. প্লীহা (Spleen)-এর অবস্থান ও কাজ কী? একে ‘RBC-এর কবরখানা’ বলে কেন? (১+২+২)
উত্তর দেখুন
অবস্থান: উদরগহ্বরের বামদিকে পাকস্থলীর পিছনে অবস্থিত। এটি মানবদেহের বৃহত্তম লসিকাগ্রন্থি。
কাজ: ১) রোগজীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রতিরক্ষা বা অনাক্রম্যতা প্রদান করে। ২) ভ্রূণাবস্থায় রক্তকণিকা গঠন করে。
RBC-এর কবরখানা: জীর্ণ ও বয়স্ক লোহিত রক্তকণিকাগুলি (RBC) প্লীহাতে এসে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় বা ভেঙে যায়, তাই একে লোহিত কণিকার কবরখানা বলা হয়。
31. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ লেখো। (২.৫+২.৫)
উত্তর দেখুন
মস্তিষ্ক:
- অবস্থান: করোটির (Skull) মধ্যে সুরক্ষিত থাকে।
- কাজ: বুদ্ধি, চিন্তা, স্মৃতি, দর্শন, শ্রবণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেহের ভারসাম্য বজায় রাখে।
সুষুম্নাকাণ্ড:
- অবস্থান: মেরুদণ্ডের নিউরাল ক্যানেলের মধ্যে অবস্থিত।
- কাজ: প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action) নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অংশের মধ্যে স্নায়বিক যোগাযোগ রক্ষা করে।
32. লিপিড বা ফ্যাটের রাসায়নিক গঠন ও জীবদেহে এর গুরুত্ব আলোচনা করো। (২+৩)
উত্তর দেখুন
গঠন: লিপিড হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগ। এটি মূলত ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের এস্টার। সাধারণ ফ্যাট বা ট্রাইগ্লিসারাইড তিন অণু ফ্যাটি অ্যাসিড ও এক অণু গ্লিসারল দিয়ে তৈরি。
গুরুত্ব:
- শক্তির উৎস: ফ্যাট জারণে সর্বাধিক শক্তি উৎপন্ন হয় (৯.৩ ক্যালোরি/গ্রাম)।
- তাপ নিয়ন্ত্রণ: ত্বকের নিচে চর্বির স্তর দেহের তাপ সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- ভিটামিন দ্রাবক: ভিটামিন A, D, E, K পরিবহণে সাহায্য করে।
33. রক্ত ও লসিকার মধ্যে পার্থক্য লেখো। (৫)
উত্তর দেখুন
| বিষয় | রক্ত (Blood) | লসিকা (Lymph) |
|---|---|---|
| বর্ণ | লাল (হিমোগ্লোবিন থাকে)। | বর্ণহীন বা ঈষৎ হলুদ (হিমোগ্লোবিন থাকে না)। |
| উপাদান | RBC, WBC, অনুচক্রিকা ও প্লাজমা থাকে। | প্রধানত লিম্ফোসাইট (WBC) থাকে, RBC ও অনুচক্রিকা থাকে না। |
| প্রবাহ | হৃৎপিণ্ড থেকে ধমনী দিয়ে দেহাংশে এবং শিরা দিয়ে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে (বদ্ধ সংবহন)। | কলাকোশ থেকে লসিকাবাহ দিয়ে শিরায় ফিরে আসে (একমুখী প্রবাহ)। |
| কাজ | শ্বসন গ্যাস (O₂, CO₂) ও পুষ্টিদ্রব্য পরিবহণ। | কলাকোশ ও রক্তের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা এবং ফ্যাট শোষণ করা। |
34. কোশপ্রাচীরের পরাণু গঠন (Ultra-structure) বর্ণনা করো। এর কাজ কী? (৩+২)
উত্তর দেখুন
গঠন: উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীর প্রধানত তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত:
- মধ্যচ্ছদা (Middle Lamella): দুটি কোশের সংযোগস্থলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট দিয়ে তৈরি সিমেন্টের মতো স্তর।
- প্রাথমিক প্রাচীর: মধ্যচ্ছদার দুপাশে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ দিয়ে তৈরি পাতলা স্তর।
- গৌণ প্রাচীর: প্রাথমিক প্রাচীরের ভিতরে লিগনিন, সুবেরিন জমে তৈরি হওয়া পুরু ও শক্ত স্তর। প্রাচীরের গায়ে সরু ছিদ্র বা ‘প্লাজমোডেসমাটা’ থাকে
[Image of Cell wall structure]
。
কাজ: কোশকে নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়া, যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করা এবং বাইরের আঘাত থেকে প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করা。
35. মানবদেহে ত্বক বা চর্মের বিভিন্ন স্তরগুলির নাম ও তাদের বৈশিষ্ট্য লেখো। (৫)
উত্তর দেখুন
মানবদেহের ত্বক প্রধানত দুটি স্তর নিয়ে গঠিত:
- এপিডার্মিস বা বহিস্ত্বক: এটি ত্বকের বাইরের স্তর। এতে কোনো রক্তজালক থাকে না। এর কোশগুলি কেরাটিন যুক্ত এবং মৃত হতে পারে (যেমন- নখ, চুল)। এটি দেহকে বাইরের আঘাত ও জীবাণু থেকে রক্ষা করে।
- ডার্মিস বা অন্তস্ত্বক: এটি এপিডার্মিসের নিচে থাকে। এতে রক্তজালক, স্নায়ুপ্রান্ত, ঘর্মগ্রন্থি, সিবেসিয়াস গ্রন্থি এবং রোমকূপ থাকে। এই স্তরটি ত্বককে পুষ্টি যোগায় এবং অনুভূতি গ্রহণে সাহায্য করে।
36. নিউরন কত প্রকার ও কী কী? একটি অ্যাক্সনের গঠন বর্ণনা করো। (২+৩)
উত্তর দেখুন
প্রকারভেদ: কাজ অনুসারে নিউরন তিন প্রকার— ১) সংজ্ঞাবহ (Sensory), ২) আজ্ঞাবহ (Motor), এবং ৩) সহযোগী (Interneuron)।
অ্যাক্সনের গঠন: অ্যাক্সন হলো নিউরনের দীর্ঘ প্রবর্ধক। এর আবরণীকে অ্যাক্সোলেমা এবং ভিতরের সাইটোপ্লাজমকে অ্যাক্সোপ্লাজম বলে। অ্যাক্সনের ওপর ফ্যাট জাতীয় মায়োলিন সিদ বা আবরণী থাকতে পারে। মায়োলিন সিদের মাঝে মাঝে যে ফাঁকা স্থান থাকে, তাকে র্যানভিয়ারের পর্ব বলে। অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তটি শাখান্বিত হয়ে প্রান্তবুরুশ গঠন করে。
37. উৎসেচক (Enzyme) কী? এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (২+৩)
উত্তর দেখুন
সংজ্ঞা: সজীব কোশ থেকে উৎপন্ন, প্রোটিনধর্মী জৈব অনুঘটক, যা জীবদেহের বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে এবং বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে উৎসেচক বলে。
বৈশিষ্ট্য:
- উৎসেচক মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- প্রতিটি উৎসেচক একটি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেট বা বস্তুর ওপর কাজ করে (নির্দিষ্টতা)।
- উৎসেচক তাপ ও pH দ্বারা প্রভাবিত হয়; অতিরিক্ত তাপে এটি নষ্ট হয়ে যায়।
38. শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের অবস্থান ও কাজ লেখো। (২.৫+২.৫)
উত্তর দেখুন
শুক্রাশয়:
- অবস্থান: পুরুষদের দেহগহ্বরের বাইরে স্ক্রোটাম থলির মধ্যে দুটি শুক্রাশয় থাকে।
- কাজ: শুক্রাণু উৎপাদন করা এবং টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণ করা।
ডিম্বাশয়:
- অবস্থান: মহিলাদের শ্রোণি গহ্বরে জরায়ুর দুপাশে দুটি ডিম্বাশয় থাকে।
- কাজ: ডিম্বাণু উৎপাদন করা এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন নিঃসরণ করা।
39. ‘জীবদেহ গঠনের ধাপ’ (Hierarchy of Life) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
উত্তর দেখুন
বহুকোষী জীবের দেহ গঠনের ধাপগুলি নিচ থেকে ওপরের দিকে নিম্নরূপ:
- জৈব অণু: প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ইত্যাদি মিলে কোশীয় উপাদান তৈরি করে।
- কোশ (Cell): জীবদেহের গঠনগত ও কার্যগত একক।
- কলা (Tissue): একই উৎস থেকে সৃষ্ট ও একই কাজ সম্পন্নকারী কোশগুচ্ছ।
- অঙ্গ (Organ): একাধিক কলা মিলিত হয়ে নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য যে দেহাংশ গঠন করে (যেমন—পাকস্থলী, হৃৎপিণ্ড)।
- তন্ত্র (System): কয়েকটি অঙ্গ মিলে যখন একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করে (যেমন—পৌষ্টিকতন্ত্র)।
- জীবদেহ (Organism): সমস্ত তন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ জীব
[Image of Biological organization]
।