নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান অধ্যায় -১ জীবন ও তার বৈচিত্র্য ৫ নম্বরের প্রশ্নত্তোর

অধ্যায় ১: জীবন ও তার বৈচিত্র্য — ৩৪টি রচনাধর্মী প্রশ্ন

1. জীবনের প্রধান পাঁচটি বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর দেখুন

জীবনের প্রধান পাঁচটি বৈশিষ্ট্য হলো:

  1. প্রজনন (Reproduction): জীব তার নিজের মতো অপত্য জীব সৃষ্টি করে বংশবিস্তার করে, যাতে তার প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকে।
  2. বিপাক (Metabolism): জীবদেহে অনবরত যে গঠনমূলক (উপচিতি) ও ভাঙনমূলক (অপচিতি) রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাকে বিপাক বলে। এর ফলে জীবের বৃদ্ধি ও শক্তি উৎপাদন সম্ভব হয়।
  3. বৃদ্ধি (Growth): খাদ্যগ্রহণ ও বিপাকের ফলে জীবদেহের প্রোটোপ্লাজমের পরিমাণ বাড়ে এবং জীবের আকার ও আয়তনের স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটে।
  4. উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া (Response to stimuli): পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন বা উদ্দীপক (যেমন—আলো, তাপ, স্পর্শ) অনুভব করে জীব তার প্রতিক্রিয়া দেখায়।
  5. অভিযোজন (Adaptation): পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য জীব তার গঠনগত বা আচরণগত পরিবর্তন ঘটায়।

2. জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কিত ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদটি (রাসায়নিক বিবর্তনবাদ) সংক্ষেপে লেখো। (৫)

উত্তর দেখুন

রুশ বিজ্ঞানী ওপারিন এবং ইংরেজ বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে, আদিম পৃথিবীতে অজৈব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমে জীবনের সৃষ্টি হয়েছিল। এই মতবাদের মূল ধাপগুলি হলো:

  1. সরল জৈব যৌগের উৎপত্তি: আদিম পৃথিবীতে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন ও জলীয় বাষ্পের বিক্রিয়ায় শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয়। শক্তির উৎস ছিল বজ্রপাত ও অতিবেগুনি রশ্মি।
  2. জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি: সরল যৌগগুলি যুক্ত হয়ে প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড ও পলিস্যাকারাইড গঠন করে।
  3. হট ডাইলুট সুপ: হ্যালডেনের মতে, সমুদ্রের উত্তপ্ত জলে এই জৈব যৌগগুলি মিশে যে মিশ্রণ তৈরি করেছিল, তাকে ‘হট ডাইলুট সুপ’ বলে।
  4. কোয়াসারভেট ও প্রোটোসেল: জৈব অণুগুলি একত্রিত হয়ে কোয়াসারভেট কণা গঠন করে, যা পরে নিউক্লিক অ্যাসিডের সাথে মিশে আদি কোশ বা প্রোটোসেল সৃষ্টি করে।

3. মিলার ও উরের পরীক্ষার সাহায্যে কীভাবে প্রমানিত হয় যে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে? (৫)

উত্তর দেখুন

পরীক্ষা: বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড উরে আদিম পৃথিবীর পরিবেশ পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করেন। তাঁরা একটি ফ্লাস্কে মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃) ও হাইড্রোজেন (H₂) গ্যাস ২:২:১ অনুপাতে নেন এবং জলীয় বাষ্প চালনা করেন। এরপর টাংস্টেন ইলেকট্রোডের মাধ্যমে প্রায় ৭৫,০০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ চালনা করে কৃত্রিম বজ্রপাত সৃষ্টি করেন।

পর্যবেক্ষণ: এক সপ্তাহ পর ফ্লাস্কের জমা তরল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাতে গ্লাইসিন, অ্যালানিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিডের মতো অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং অন্যান্য জৈব অ্যাসিড তৈরি হয়েছে।

সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে, আদিম বিজারিত পরিবেশে অজৈব পদার্থ থেকেই রাসায়নিক সংশ্লেষের মাধ্যমে জীবনের ভিত্তি বা জৈব অণু সৃষ্টি হয়েছিল।


4. কোয়াসারভেট ও মাইক্রোস্ফিয়ার কী? এদের জীব সৃষ্টির পূর্বসূরী বলা হয় কেন? (২+২+১)

উত্তর দেখুন

কোয়াসারভেট: বিজ্ঞানী ওপারিনের মতে, প্রোটিন, লিপিড ও কার্বোহাইড্রেট অণুগুলি আন্তঃআণবিক বলের প্রভাবে একত্রিত হয়ে যে দ্বি-স্তরী আবরণযুক্ত কলয়েড কণা গঠন করে, তাকে কোয়াসারভেট বলে।

মাইক্রোস্ফিয়ার: বিজ্ঞানী সিডনি ফক্সের মতে, আদিম পৃথিবীতে অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলি যুক্ত হয়ে প্রোটিনয়েড গঠন করে এবং তা গরম জলে যে অর্ধভেদ্য পর্দাবেষ্টিত গোলকাকার গঠন তৈরি করে, তাকে মাইক্রোস্ফিয়ার বলে।

গুরুত্ব: কোয়াসারভেট বা মাইক্রোস্ফিয়ারের সাথে নিউক্লিক অ্যাসিড (RNA/DNA) যুক্ত হয়েই স্ব-প্রজননশীল আদি কোশ বা প্রোটোসেল তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হয়, তাই এদের জীব সৃষ্টির পূর্বসূরী বলা হয়।


5. জীববিদ্যার প্রধান শাখাগুলির নাম লেখো। আধুনিক জীববিদ্যায় ‘জীবপ্রযুক্তি’ ও ‘বায়োইনফরমেটিক্স’-এর প্রয়োগ লেখো। (২+৩)

উত্তর দেখুন

প্রধান শাখা: জীববিদ্যার প্রধান দুটি শাখা হলো— ১) উদ্ভিদবিদ্যা (Botany) এবং ২) প্রাণীবিদ্যা (Zoology)। এছাড়াও শারীরবিদ্যা, জিনতত্ত্ব, বাস্তুবিদ্যা প্রভৃতি শাখা রয়েছে।

প্রয়োগ:

  • জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology): ইনসুলিন ও বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতিতে, উন্নত মানের ফসল (ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ) ও গবাদি পশু উৎপাদনে, এবং জিন থেরাপিতে এর ব্যবহার হয়।
  • বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics): কম্পিউটার ও রাশিবিজ্ঞানের সাহায্যে জিনের গঠন বিশ্লেষণ, প্রোটিনের গঠন নির্ণয় এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কারে এটি ব্যবহৃত হয়।

6. ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি কাকে বলে? এর গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো। (২+৩)

উত্তর দেখুন

সংজ্ঞা: জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের শনাক্তকরণ, নামকরণ এবং শ্রেণিবিন্যাস করার রীতিনীতি আলোচনা করা হয়, তাকে ট্যাক্সোনমি (Taxonomy) বলে। ক্যারোলাস লিনিয়াসকে এর জনক বলা হয়।

গুরুত্ব:

  1. অসংখ্য জীবের মধ্য থেকে কোনো বিশেষ জীবকে সহজে শনাক্ত করা যায়।
  2. নতুন আবিষ্কৃত জীবের বৈশিষ্ট্য ও সম্পর্ক জানা যায়।
  3. জীবজগতের বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ধারা বোঝা যায়।
  4. কম পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে বিশাল জীবজগৎ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা সম্ভব হয়।

7. দ্বিপদ নামকরণ কাকে বলে? দ্বিপদ নামকরণের প্রধান নিয়মগুলি লেখো। (২+৩)

উত্তর দেখুন

সংজ্ঞা: গণ ও প্রজাতি—এই দুটি পদের সমন্বয়ে ল্যাটিন ভাষায় জীবের বিজ্ঞানসম্মত নাম দেওয়ার পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।

নিয়মাবলী:

  1. নামটি ল্যাটিন বা ল্যাটিনিকৃত হতে হবে।
  2. নামের প্রথম অংশটি গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি (Species)।
  3. গণের নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতে এবং প্রজাতির নাম ছোট হাতের অক্ষরে লিখতে হবে।
  4. ছাপার সময় নাম ইটালিক হরফে (যেমন- Homo sapiens) লিখতে হবে এবং হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতির নিচে আলাদাভাবে দাগ দিতে হবে।

8. লিনিয়াস প্রবর্তিত হায়ারার্কির সাতটি ধাপ পর্যায়ক্রমে লেখো। মানুষের বিজ্ঞানসম্মত নাম ও হায়ারার্কিগত অবস্থান লেখো। (৩+২)

উত্তর দেখুন

সাতটি ধাপ: রাজ্য (Kingdom) → পর্ব (Phylum) → শ্রেণি (Class) → বর্গ (Order) → গোত্র (Family) → গণ (Genus) → প্রজাতি (Species)।

মানুষের হায়ারার্কি:

  • বিজ্ঞানসম্মত নাম: Homo sapiens
  • রাজ্য: অ্যানিমালিয়া (Animalia)
  • পর্ব: কর্ডাটা (Chordata)
  • শ্রেণি: ম্যামেলিয়া (Mammalia)
  • গণ: হোমো (Homo)
  • প্রজাতি: স্যাপিয়েন্স (sapiens)

9. হুইটেকারের পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি কী কী? মনেরা রাজ্যের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ও দুটি উদাহরণ দাও। (২+৩)

উত্তর দেখুন

ভিত্তি: কোশের গঠন (প্রোক্যারিওটিক/ইউক্যারিওটিক), দেহ গঠন (এককোষী/বহুকোষী) এবং পুষ্টি পদ্ধতি (স্বভোজী/পরভোজী) এর ওপর ভিত্তি করে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য:

  1. এরা এককোষী এবং প্রোক্যারিওটিক (সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও পর্দাবৃত কোশ-অঙ্গাণু থাকে না)।
  2. কোশপ্রাচীর পেপটাইডোগ্লাইকান দিয়ে তৈরি।
  3. এদের পুষ্টি প্রক্রিয়া মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হতে পারে।

উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া (নীলাভ-সবুজ শৈবাল)।


10. প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। মনেরা ও প্রোটিস্টার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩+২)

উত্তর দেখুন

প্রোটিস্টা বৈশিষ্ট্য: ১) এরা প্রধানত এককোষী কিন্তু ইউক্যারিওটিক (সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত)। ২) এদের গমন অঙ্গ হিসেবে সিলিয়া, ফ্ল্যাজেলা বা ক্ষণপদ থাকে। ৩) উদাহরণ: অ্যামিবা, ইউগ্লিনা।

পার্থক্য:

বিষয় মনেরা প্রোটিস্টা
কোশ প্রকৃতি প্রোক্যারিওটিক ইউক্যারিওটিক
কোশ-অঙ্গাণু পর্দাবৃত অঙ্গাণু নেই মাইটোকনড্রিয়া, গলগি বস্তু উপস্থিত
উদাহরণ ব্যাকটেরিয়া অ্যামিবা

11. ছত্রাক বা ফাঙ্গি রাজ্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো। এদের পুষ্টি পদ্ধতি উদ্ভিদের থেকে ভিন্ন কেন? (৩+২)

উত্তর দেখুন

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য:

  1. এরা এককোষী (ইস্ট) বা বহুকোষী ইউক্যারিওট।
  2. দেহ সরু সুতোর মতো হাইফা দিয়ে তৈরি, যা জট পাকিয়ে মাইসেলিয়াম গঠন করে।
  3. কোশপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত।
  4. এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে না।

পুষ্টি পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ার কারণ: উদ্ভিদের ক্লোরোফিল থাকায় তারা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করে (স্বভোজী)। কিন্তু ছত্রাকের ক্লোরোফিল না থাকায় তারা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না; পচা-গলা জৈব বস্তু থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে (মৃতজীবী) বা অন্যের দেহে বাস করে (পরজীবী)।


12. শৈবাল বা অ্যালগি এবং মস বা ব্রায়োফাইটার মধ্যে পার্থক্যগুলি লেখো। ব্রায়োফাইটকে ‘উভচর উদ্ভিদ’ বলা হয় কেন? (৩+২)

উত্তর দেখুন

পার্থক্য:

  • দেহ গঠন: শৈবালের দেহ সমাঙ্গদেহী বা থ্যালাস প্রকৃতির (মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভেদিত নয়)। কিন্তু মসের দেহ কাণ্ড ও পাতার মতো অংশে বিভক্ত, তবে প্রকৃত মূল থাকে না (রাইজয়েড থাকে)।
  • বাসস্থান: শৈবাল প্রধানত জলজ। মস প্রধানত স্থলজ বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জন্মে।

উভচর উদ্ভিদ বলার কারণ: ব্রায়োফাইটা বা মস মূলত স্থলজ উদ্ভিদ হলেও এদের যৌন জনন বা নিষেকের জন্য জলের প্রয়োজন অপরিহার্য। জীবনের একটি পর্যায় স্থলে এবং অন্য পর্যায় (জনন) জলে সম্পন্ন হয় বলে এদের উভচর উদ্ভিদ বলে।


13. ফার্ন বা টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। একে ‘প্রথম সংবহন কলাযুক্ত উদ্ভিদ’ বলা হয় কেন? (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. উদ্ভিদদেহ প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।
  2. এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয় কারণ ফুল ও ফল হয় না, রেণুর সাহায্যে বংশবিস্তার করে।
  3. এদের কচি পাতা কুণ্ডলীকৃত থাকে, একে সারসিনেট ভার্নেশন বলে।

প্রথম সংবহন কলাযুক্ত উদ্ভিদ: উদ্ভিদজগতের বিবর্তনের ধারায় শৈবাল বা মসের দেহে কোনো সংবহন কলা (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) ছিল না। টেরিডোফাইটাতেই সর্বপ্রথম জল ও খাদ্য পরিবহনের জন্য জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা গঠিত হয়েছে, তাই এদের এই নাম দেওয়া হয়।


14. ব্যক্তবীজী (Gymnosperm) ও গুপ্তবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো। (৫)

উত্তর দেখুন

প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:

বৈশিষ্ট্য ব্যক্তবীজী গুপ্তবীজী
ফল গঠন ফল গঠিত হয় না। ফল গঠিত হয়।
বীজের প্রকৃতি বীজ নগ্ন বা অনাবৃত থাকে। বীজ ফলের মধ্যে আবৃত থাকে।
শস্য (Endosperm) শস্য হ্যাপ্লয়েড (n) এবং নিষেকের আগে গঠিত হয়। শস্য ট্রিপ্লয়েড (3n) এবং নিষেকের পরে গঠিত হয়।
ফুল প্রকৃত ফুল হয় না, রেণুপত্র বা কোন্ (Cone) তৈরি হয়। প্রকৃত ফুল হয় (বৃতি, দলমণ্ডল থাকে)।

15. একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে মূল, পাতা ও বীজের ভিত্তিতে পার্থক্য করো। (৫)

উত্তর দেখুন

পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:

  1. বীজ: একবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে (যেমন- ধান)। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে (যেমন- আম)।
  2. মূল: একবীজপত্রীতে অস্থানিক গুচ্ছমূল (Fibrous root) দেখা যায়। দ্বিবীজপত্রীতে প্রধান মূলতন্ত্র (Tap root system) দেখা যায়।
  3. পাতা: একবীজপত্রী পাতার শিরাবিন্যাস সমান্তরাল (Parallel)। দ্বিবীজপত্রী পাতার শিরাবিন্যাস জালিকাকার (Reticulate)।
  4. ফুল: একবীজপত্রী ফুল ট্রাইমেরাস (পাপড়ি ৩ বা ৩-এর গুণিতক)। দ্বিবীজপত্রী ফুল পেন্টামেরাস বা টেট্রামেরাস (পাপড়ি ৪ বা ৫-এর গুণিতক)।

16. পরিফেরা বা ছিদ্রাল প্রাণীদের পর্বের তিনটি প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ও দুটি উদাহরণ দাও। (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. এদের সারা দেহে অসংখ্য ছোট ছিদ্র থাকে যাকে অস্টিয়া (Ostia) বলে এবং অগ্রভাগে একটি বড় ছিদ্র থাকে যাকে অস্কিউলাম (Osculum) বলে।
  2. দেহে নালিতন্ত্র (Canal system) বর্তমান, যার মাধ্যমে জল প্রবাহিত হয়।
  3. দেহগহ্বরকে স্পঞ্জোসিল বলে এবং দেহে কোয়ানোসাইট (Choanocyte) নামক বিশেষ কোশ থাকে।

উদাহরণ: Sycon gelatinosum (সাইকন), Spongilla (মিঠা জলের স্পঞ্জ)।


17. নিডারিয়া ও টিনোফোরা পর্বের প্রাণীদের মধ্যে তিনটি সাদৃশ্য ও দুটি বৈসাদৃশ্য (পার্থক্য) লেখো। (৩+২)

উত্তর দেখুন

সাদৃশ্য: ১) উভয়ই জলজ প্রাণী। ২) উভয়ের দেহ অরীয়ভাবে প্রতিসম (Radially symmetrical)। ৩) উভয়ই কলা স্তরীয় (Tissue grade) গঠনের প্রাণী।

বৈসাদৃশ্য:

  • নিডোব্লাস্ট: নিডারিয়া পর্বে নিডোব্লাস্ট কোশ থাকে, কিন্তু টিনোফোরার থাকে না (পরিবর্তে কোলোব্লাস্ট থাকে)।
  • গমন অঙ্গ: নিডারিয়ার গমন অঙ্গ কর্ষিকা, কিন্তু টিনোফোরার গমন অঙ্গ হলো ৮টি কোম্ব প্লেট বা চিরুনি পাত।

18. চ্যাপ্টা কৃমি (Platyhelminthes) ও গোল কৃমি (Nematoda/Aschelminthes)-র মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। প্যারাসাইটিক অভিযোজন কী? (৩+২)

উত্তর দেখুন

পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্য চ্যাপ্টা কৃমি গোল কৃমি
দেহ আকৃতি চ্যাপ্টা বা ফিতার মতো (ডর্সোভেন্ট্রালি চ্যাপ্টা)। নলাকার বা বেলনাকার, দুপ্রান্ত সরু।
সিলোম সিলোম অনুপস্থিত (অ্যাসিলোমেট)। ছদ্ম-সিলোম বা সিউডোসিলোম বর্তমান।
রেচন অঙ্গ ফ্লেম কোশ বা শিখা কোশ। রেনেট গ্রন্থি বা নেফ্রিডিয়া থাকে না।

প্যারাসাইটিক অভিযোজন: পরজীবী কৃমিরা পোষক দেহে বেঁচে থাকার জন্য চোষক (Sucker) বা হুক (Hook) তৈরি করে এবং তাদের ত্বকে কিউটিকল থাকে যাতে পোষকের পাচক রস তাদের ক্ষতি করতে না পারে।


19. অ্যানিলিডা বা অঙ্গুরীমাল পর্বের প্রাণীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের গমন অঙ্গ ও রেচন অঙ্গের নাম কী? (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. দেহ লম্বা, নলাকার এবং অসংখ্য আংটির মতো খণ্ডক নিয়ে গঠিত (মেটামেরিজম)।
  2. দেহত্বক সিক্ত এবং কিউটিকল যুক্ত।
  3. রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং রক্তরস বা প্লাজমায় হিমোগ্লোবিন থাকে (তাই রক্ত লাল, কিন্তু লোহিত কণিকা নেই)।

অঙ্গসমূহ:

  • গমন অঙ্গ: সিটা (কেঁচো), প্যারাপোডিয়া (নেরিস) বা চোষক (জোক)।
  • রেচন অঙ্গ: নেফ্রিডিয়া (Nephridia)।

20. আর্থ্রোপোডা বা সন্ধিপদ পর্বের প্রাণীদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। প্রাণীজগতে এই পর্বের গুরুত্ব কী? (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. দেহ খণ্ডকযুক্ত এবং প্রতি খণ্ডে একজোড়া করে সন্ধিল উপাঙ্গ (Jointed legs) থাকে।
  2. দেহ শক্ত কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত।
  3. রক্ত সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির এবং দেহগহ্বর রক্তপূর্ণ (হিমোসিল)।
  4. মাথায় পুঞ্জাক্ষি (Compound eye) ও অ্যান্টেনা থাকে।

গুরুত্ব: এটি প্রাণীজগতের বৃহত্তম পর্ব। এরা পরাগযোগে সাহায্য করে (মৌমাছি, প্রজাপতি), মধু ও রেশম প্রদান করে, আবার অনেকে রোগের বাহক (মশা, মাছি) হিসেবে কাজ করে।


21. মোলাস্কা বা কম্বোজ পর্বের প্রাণীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের রক্ত সংবহনতন্ত্রের বিশেষত্ব কী? (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. দেহ নরম, অখণ্ডক এবং মাংসল ‘ম্যানট্ল’ (Mantle) পর্দা দ্বারা আবৃত।
  2. অধিকাংশ প্রাণীর দেহের বাইরে বা ভেতরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্মিত খোলক থাকে।
  3. গমন অঙ্গ হিসেবে মাংসল পদ (Muscular foot) ব্যবহৃত হয়।

রক্ত সংবহনতন্ত্রের বিশেষত্ব: এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র সাধারণত মুক্ত প্রকৃতির। রক্তে হিমোসায়ানিন (Haemocyanin) নামক তাম্রঘটিত রঞ্জক থাকায় রক্তের রঙ নীলচে হয়।


22. একাইনোডার্মাটা বা কন্টকত্বকী প্রাণীদের জলসংবহন তন্ত্রের গঠন ও কাজ সংক্ষেপে লেখো। (৫)

উত্তর দেখুন

একাইনোডার্মাটা (যেমন—তারা মাছ) পর্বের প্রাণীদের দেহে এক বিশেষ ধরণের সংবহন ব্যবস্থা থাকে যা সমুদ্রের জল দ্বারা পরিচালিত হয়। একে জলসংবহন তন্ত্র (Water vascular system) বলে।

গঠন: এর প্রধান অংশগুলি হলো ম্যাড্রিপোরাইট (ছিদ্রযুক্ত ফলক), স্টোন ক্যানাল, রিং ক্যানাল, রেডিয়াল ক্যানাল এবং টিউব ফিট বা নালিপদ।

কাজ:

  • গমন: নালিপদগুলি জলচাপের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণীটিকে চলতে সাহায্য করে।
  • খাদ্য গ্রহণ: শিকার ধরা ও খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে।
  • শ্বসন: গ্যাসীয় আদান-প্রদানে সহায়তা করে।

23. কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা (অমেরুদণ্ডী) প্রাণীদের মধ্যে পাঁচটি প্রধান পার্থক্য লেখো। (৫)

উত্তর দেখুন
বৈশিষ্ট্য কর্ডাটা নন-কর্ডাটা
নোটোকর্ড জীবনের কোনো না কোনো দশায় উপস্থিত। সর্বদা অনুপস্থিত।
নার্ভকর্ড দেহের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত, ফাঁপা ও একক। দেহের অঙ্কদেশে অবস্থিত, নিরেট ও জোড়া।
গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র উপস্থিত (অন্তত ভ্রূণ দশায়)। অনুপস্থিত।
হৃৎপিণ্ড দেহের অঙ্কদেশে (Ventral) থাকে। থাকলে পৃষ্ঠদেশে (Dorsal) থাকে।
লেজ পায়ুর পশ্চাতে লেজ থাকে। লেজ থাকে না।

24. ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটা উপপর্বের দুটি করে বৈশিষ্ট্য ও একটি করে উদাহরণ দাও। (২.৫+২.৫)

উত্তর দেখুন

ইউরোকর্ডাটা:

  • শুধুমাত্র লার্ভা দশায় লেজে নোটোকর্ড থাকে। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে নোটোকর্ড থাকে না।
  • পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ টিউনিক বা টেস্ট নামক আবরণ দ্বারা আবৃত।
  • উদাহরণ: Ascidia (অ্যাসিন্ডিয়া)।

সেফালোকর্ডাটা:

  • নোটোকর্ড ও নার্ভকর্ড আজীবন দেহের মস্তক থেকে পুচ্ছ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
  • দেহে মায়োটোম পেশি থাকে যা গমনে সাহায্য করে।
  • উদাহরণ: Branchiostoma বা অ্যাম্ফিয়ক্সাস।

25. তরুণাস্থিযুক্ত মাছ (Chondrichthyes) ও অস্থিযুক্ত মাছ (Osteichthyes)-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো। (৫)

উত্তর দেখুন
বৈশিষ্ট্য তরুণাস্থিযুক্ত মাছ (হাঙ্গর) অস্থিযুক্ত মাছ (রুই)
অন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ নির্মিত। অস্থি বা হাড় নির্মিত।
আঁশ প্ল্যাকয়েড আঁশ (অণুবীক্ষণীয়)। সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁশ।
কানকো কানকো থাকে না, ফুলকা ছিদ্র উন্মুক্ত। কানকো থাকে, ফুলকা ঢাকা থাকে।
পটকা পটকা থাকে না। পটকা থাকে।
মুখছিদ্র মস্তকের অঙ্কদেশে অবস্থিত। মস্তকের অগ্রভাগে অবস্থিত।

26. উভচর বা অ্যাম্পিবিয়া শ্রেণীর প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের ‘শীতল রক্তবিশিষ্ট’ প্রাণী বলা হয় কেন? (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. ত্বক নগ্ন, সিক্ত, গ্রন্থিযুক্ত এবং আঁশবিহীন।
  2. হৃৎপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠযুক্ত (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)।
  3. এরা ডিম পাড়ে এবং লার্ভা দশায় (ব্যাঙাচি) ফুলকা ও পূর্ণাঙ্গ দশায় ফুসফুস/ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
  4. অগ্রপদে ৪টি এবং পশ্চাৎপদে ৫টি আঙুল থাকে (নখরবিহীন)।

শীতল রক্তবিশিষ্ট: কারণ এরা পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে সাথে নিজেদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন করে। শীতকালে ও গ্রীষ্মকালে এদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য এরা শীতঘুম ও গ্রীষ্মঘুমে যায়।


27. সরীসৃপ বা রেপটিলিয়া শ্রেণীর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। একটি বিষধর ও একটি বিষহীন সাপের নাম লেখো। (৩+২)

উত্তর দেখুন

বৈশিষ্ট্য:

  1. ত্বক শুষ্ক ও এপিডার্মাল আঁশ বা আইশ দ্বারা আবৃত।
  2. বুকে ভর দিয়ে চলে (টিকটিকি, সাপ, কুমির)।
  3. হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠযুক্ত (ব্যতিক্রম: কুমির, যার সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠ)।
  4. ডিম পাড়ে এবং ডিমের খোলক শক্ত।

উদাহরণ: বিষধর সাপ – কেউটে (Naja naja); বিষহীন সাপ – জলঢোঁড়া (Xenochrophis piscator)।


28. পক্ষী বা Aves শ্রেণীর প্রাণীদের ওড়ার জন্য তিনটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। (৫)

উত্তর দেখুন

পাখিদের ওড়ার জন্য অভিযোজনগুলি হলো:

  1. ডানা: এদের অগ্রপদ ডানা বা পাখায় রূপান্তরিত হয়েছে, যা বাতাসে ভর দিয়ে উড়তে সাহায্য করে।
  2. পালক: সারা দেহ পালক দ্বারা আবৃত থাকে যা দেহের তাপ সংরক্ষণ করে এবং প্লবতা কমিয়ে বায়ুর বাধা কাটাতে সাহায্য করে।
  3. নিউম্যাটিক অস্থি ও বায়ুথলি: এদের হাড়গুলি ফাঁপা ও বাতাসপূর্ণ (নিউম্যাটিক), যা দেহকে হালকা করে। এছাড়া ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি (Air sacs) যুক্ত থাকে যা ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে।
  4. দন্তহীন চঞ্চু: চোয়াল দন্তহীন চঞ্চুতে রূপান্তরিত হওয়ায় মাথার ওজন কমে।

29. স্তন্যপায়ী বা ম্যামেলিয়া শ্রেণীর প্রাণীদের পাঁচটি অনন্য বৈশিষ্ট্য লেখো। (৫)

উত্তর দেখুন

স্তনপায়ী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  1. লোম: সারা দেহ লোম বা চুল দ্বারা আবৃত থাকে।
  2. স্তনগ্রন্থি: স্ত্রী প্রাণীদের কার্যকরী স্তনগ্রন্থি থাকে, যা থেকে ক্ষরিত দুগ্ধ পান করে শাবক বড় হয়।
  3. কর্ণছত্র: বহিকর্ণে পিনা বা কর্ণছত্র উপস্থিত থাকে।
  4. ডায়াফ্রাম: বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝখানে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা নামক পেশল পর্দা থাকে।
  5. লোহিত কণিকা: পরিণত লোহিত রক্তকণিকা (RBC) নিউক্লিয়াসবিহীন এবং গোলাকার হয় (ব্যতিক্রম: উট)।

30. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (মাছ থেকে স্তন্যপায়ী) হৃৎপিণ্ডের বিবর্তন সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর দেখুন

মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের গঠন সরল থেকে জটিলে বিবর্তিত হয়েছে:

  • মাছ: হৃৎপিণ্ড ২ প্রকোষ্ঠযুক্ত (১টি অলিন্দ ও ১টি নিলয়)। কেবল দূষিত রক্ত বহন করে (ভেনাস হার্ট)। একক সংবহন দেখা যায়।
  • উভচর: হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠযুক্ত (২টি অলিন্দ ও ১টি নিলয়)। নিলয়ে বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্তের মিশ্রণ ঘটে।
  • সরীসৃপ: হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণভাবে ৪ প্রকোষ্ঠযুক্ত (২টি অলিন্দ ও ১টি অর্ধ-বিভক্ত নিলয়)। রক্তের মিশ্রণ সামান্য কমে। (ব্যতিক্রম: কুমির – ৪ প্রকোষ্ঠ)।
  • পক্ষী ও স্তন্যপায়ী: হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠযুক্ত (২টি অলিন্দ ও ২টি নিলয়)। বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। দ্বি-সংবহন দেখা যায়।

31. জীববৈচিত্র্যের উৎসগুলি কী কী? মিউটেশন ও প্রকরণ কীভাবে জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি করে? (৩+২)

উত্তর দেখুন

জীববৈচিত্র্যের উৎস: জনন, মিউটেশন বা পরিব্যক্তি, এবং অভিযোজন হলো জীববৈচিত্র্যের প্রধান উৎস।

ভূমিকা:

  • মিউটেশন: জিনের গঠনে হঠাৎ করে যে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে তাকে মিউটেশন বলে। এর ফলে জীবের বৈশিষ্ট্যে নতুনত্ব আসে যা বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
  • প্রকরণ (Variation): যৌন জননের সময় বা পরিবেশগত কারণে একই প্রজাতির জীবের মধ্যে যে ছোটখাটো পার্থক্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ বলে। এই প্রকরণগুলো জমতে জমতে নতুন প্রজাতি ও বৈচিত্র্যের জন্ম দেয়।

32. উদ্ভিদজগতের প্রধান পাঁচটি গোষ্ঠীর (শৈবাল, মস, ফার্ন, ব্যক্তবীজী, গুপ্তবীজী) ক্রমবিকাশের ধারা একটি ছকের সাহায্যে দেখাও। (৫)

উত্তর দেখুন

উদ্ভিদজগতের বিবর্তনের ধারাটি নিম্নরূপ:

  • ১. থ্যালোফাইটা (শৈবাল): জলজ, সমাঙ্গদেহী, সংবহন কলা নেই। (সবচেয়ে সরল)
  • ২. ব্রায়োফাইটা (মস): উভচর উদ্ভিদ, কাণ্ড ও পাতার মতো অংশ আছে, সংবহন কলা নেই।
  • ৩. টেরিডোফাইটা (ফার্ন): প্রথম সংবহন কলাযুক্ত উদ্ভিদ, মূল-কাণ্ড-পাতায় বিভক্ত, বীজ হয় না।
  • ৪. জিমনোস্পার্ম (ব্যক্তবীজী): সংবহন কলা উন্নত, বীজ হয় কিন্তু ফল হয় না (নগ্নবীজী)।
  • ৫. অ্যাঞ্জিওস্পার্ম (গুপ্তবীজী): সর্বাধিক উন্নত, ফুল, ফল ও বীজ হয়। বীজ ফলের ভেতরে থাকে।

33. সিস্টেমেটিক্স (Systematics) কী? ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স-এর সম্পর্ক লেখো। (২+৩)

উত্তর দেখুন

সিস্টেমেটিক্স: জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের প্রকারভেদ, তাদের বিবর্তনগত সম্পর্ক এবং শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সিস্টেমেটিক্স বলে। সিম্পসন (Simpson) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন।

সম্পর্ক: ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স একে অপরের পরিপূরক। ট্যাক্সোনমি মূলত জীবের নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসের নিয়মকানুন নিয়ে কাজ করে। আর সিস্টেমেটিক্স ট্যাক্সোনমির সাথে জীবের বিবর্তন বা জাতিজনি (Phylogeny) যুক্ত করে জীবজগৎকে আরও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করে। অর্থাৎ, ট্যাক্সোনমি হলো সিস্টেমেটিক্স-এর একটি অংশ।


34. নিচের বৈশিষ্ট্যগুলি দেখে প্রাণীর পর্ব শনাক্ত করো: (৫)

(ক) দেহ অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।

(খ) দেহে নিডোব্লাস্ট কোশ বর্তমান।

(গ) দেহ আংটির মতো খণ্ডকযুক্ত।

(ঘ) সন্ধিল উপাঙ্গ উপস্থিত।

(ঙ) দেহে জলসংবহন তন্ত্র ও কন্টকময় ত্বক উপস্থিত।

উত্তর দেখুন
  • (ক) পরিফেরা (Porifera)
  • (খ) নিডারিয়া (Cnidaria)
  • (গ) অ্যানিলিডা (Annelida)
  • (ঘ) আর্থ্রোপোডা (Arthropoda)
  • (ঙ) একাইনোডার্মাটা (Echinodermata)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার