নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান, অধ্যায় ৫: পরিবেশ ও তার সম্পদ, পর্ব – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের স্থিতিশীল ব্যবহার, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান ৫

প্রাকৃতিক সম্পদ: রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) – ১০০% প্রস্তুতি

1. অপ্রচলিত শক্তি (Non-conventional Energy) কাকে বলে? সৌরশক্তি ও বায়োগ্যাসের দুটি করে সুবিধা বা ব্যবহার লেখো। (১+২+২)

উত্তর দেখো

অপ্রচলিত শক্তি: যে সব শক্তির উৎস বর্তমানে খুব বেশি প্রচলিত নয়, কিন্তু ভবিষ্যতে শক্তির চাহিদা মেটাতে পারে এবং যা পরিবেশবান্ধব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য, তাদের অপ্রচলিত শক্তি বলে। যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।

সৌরশক্তির সুবিধা/ব্যবহার:
১. সৌর কোশ বা সোলার প্যানেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
২. সোলার কুকার ও সোলার হিটারের সাহায্যে রান্না ও জল গরম করা যায়।

বায়োগ্যাসের সুবিধা/ব্যবহার:
১. এটি একটি দূষণহীন জ্বালানি যা রান্নার কাজে ও আলো জ্বালাতে ব্যবহৃত হয়।
২. বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে যে বর্জ্য পাওয়া যায়, তা উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহৃত হয়।


2. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM) এবং সামাজিক বনসৃজন (Social Forestry)-এর উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো। (২.৫ + ২.৫)

উত্তর দেখো

যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM):
উদ্দেশ্য: স্থানীয় মানুষ ও বন দপ্তরের সহযোগিতায় ক্ষয়প্রাপ্ত বনাঞ্চলের পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ।
গুরুত্ব: এর ফলে বনের কাঠ ও অন্যান্য সম্পদ চুরি বন্ধ হয় এবং স্থানীয় মানুষ বনজ সম্পদ (মধু, মোম, শুকনো কাঠ) সংগ্রহের অধিকার পায়, যা তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়।

সামাজিক বনসৃজন (Social Forestry):
উদ্দেশ্য: সমাজের অব্যবহৃত জমিতে (রাস্তা, বাঁধের ধার) সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গাছ লাগানো।
গুরুত্ব: এটি জ্বালানি কাঠ ও পশুখাদ্যের চাহিদা মেটায়, ভূমিক্ষয় রোধ করে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে সাহায্য করে।


3. বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) কেন অপরিহার্য? এর দুটি আধুনিক পদ্ধতি উল্লেখ করো। (৩+২)

উত্তর দেখো

প্রয়োজনীয়তা:
১. ভৌমজলস্তর (Groundwater level) দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, তাই তা পূরণ করার জন্য।
২. খরা বা শুষ্ক মৌসুমে পানীয় জল ও সেচের জলের চাহিদা মেটানোর জন্য।
৩. শহরের রাস্তায় জল জমা বা জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য।

পদ্ধতি:
১. রুফ-টপ হারভেস্টিং (Roof-top Harvesting): বাড়ির ছাদের জল পাইপের মাধ্যমে নিচে ট্যাঙ্কে জমা করা।
২. রিচার্জ পিট (Recharge Pit): জলকে গর্ত বা কুয়ার মাধ্যমে মাটির গভীরে পাঠিয়ে ভৌমজলের স্তর বাড়ানো।


4. ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ আন্দোলন (চিপকো, সাইলেন্ট ভ্যালি, বিষ্ণোই) সম্পর্কে সংক্ষেপে টীকা লেখো। (৫)

উত্তর দেখো

১. চিপকো আন্দোলন (১৯৭৩): উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়ালে সুন্দরলাল বহুগুণার নেতৃত্বে গাছ কাটার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন হয়। মহিলারা গাছ জড়িয়ে ধরে (চিপকো) ঠিকাদারদের হাত থেকে গাছ বাঁচান।

২. সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন (১৯৭৮): কেরালার পালাক্কড়ে কুন্তিপুঝা নদীতে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন হয়। এর ফলে সাইলেন্ট ভ্যালির চিরহরিৎ অরণ্য এবং বিপন্ন ‘সিংহ-লেজ বানর’ রক্ষা পায়।

৩. বিষ্ণোই বা খেজারলি আন্দোলন (১৭৩১): রাজস্থানের খেজারলি গ্রামে অমৃতা দেবী বিষ্ণোই-এর নেতৃত্বে ৩৬৩ জন মানুষ পবিত্র খেজরি গাছ বাঁচাতে প্রাণ দেন। এটি ভারতের প্রাচীনতম পরিবেশ আন্দোলন।


5. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) কী? এর প্রধান লক্ষ্যগুলি কী কী? (২+৩)

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করার উন্নয়নমূলক পদ্ধতিকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।

লক্ষ্য:
১. প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা।
২. পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানো।


6. শক্তির সংকট (Energy Crisis) কী? এর সমাধানের উপায়গুলি আলোচনা করো। (২+৩)

উত্তর দেখো

শক্তির সংকট: জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শিল্পায়নের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ভান্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যে তীব্র শক্তির অভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে শক্তির সংকট বলে।

সমাধান:
১. বিকল্প শক্তির ব্যবহার: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, ভূতাপীয় শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
২. অপচয় রোধ: অকারণে আলো-পাখা না জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে।
৩. উন্নত প্রযুক্তি: কম জ্বালানিতে বেশি মাইলেজ দেয় এমন গাড়ি বা যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।


7. প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তির উৎসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। ভারতের শক্তিসমস্যা সমাধানে অপ্রচলিত শক্তির ভূমিকা কী? (৩+২)

উত্তর দেখো
বিষয় প্রচলিত শক্তি অপ্রচলিত শক্তি
উদাহরণ কয়লা, পেট্রোলিয়াম। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।
ভান্ডার সীমিত ও অনবীকরণযোগ্য। অফুরন্ত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য।
দূষণ পরিবেশ দূষণ ঘটায়। পরিবেশবান্ধব।

ভূমিকা: ভারত একটি ক্রান্তীয় দেশ হওয়ায় এখানে প্রচুর সূর্যালোক ও বায়ুপ্রবাহ পাওয়া যায়। তাই অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ালে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।


8. বন ধ্বংসের কারণ ও ফলাফলগুলি আলোচনা করো। (২+৩)

উত্তর দেখো

কারণ:
১. জনবসতি ও শিল্প স্থাপন।
২. আসবাবপত্র ও জ্বালানির জন্য কাঠ সংগ্রহ।
৩. ঝুম চাষ বা অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ।

ফলাফল:
১. বিশ্ব উষ্ণায়ন: বাতাসে $CO_2$ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে।
২. ভূমিক্ষয় ও বন্যা: মাটির বাঁধন আলগা হয়ে যাওয়ায় ভূমিক্ষয় বাড়ছে এবং নদীর নাব্যতা কমে বন্যা দেখা দিচ্ছে।
৩. জীববৈচিত্র্য হ্রাস: বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে।


Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার