নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান অধ্যায়- ৫ পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
📝 নবম শ্রেণি: পঞ্চম অধ্যায় – পরিবেশ, সম্পদ ও সংরক্ষণ (SAQ – প্রথম অংশ)
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ২) – (১-২৩ দাগ)
১. পরিবেশ বলতে কী বোঝো? এর দুটি প্রধান উপাদানের নাম লেখো।
✅ উত্তর:
- পরিবেশ হলো কোনো জীবের চারপাশের সেই সকল সজীব ও নির্জীব উপাদানের সমষ্টি, যা জীবকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।
- পরিবেশের উপাদানগুলির মধ্যে সর্বদা মিথস্ক্রিয়া চলে। এর দুটি প্রধান উপাদান হলো **১. জৈব উপাদান (উৎপাদক, খাদক)** এবং **২. অজৈব উপাদান (জল, মাটি, বায়ু, আলো)**।
২. প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
- প্রকৃতি থেকে সরাসরি প্রাপ্ত যে সকল উপাদান বা বস্তু জীবের দৈনন্দিন জীবনধারণ ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে সাহায্য করে, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।
- এই সম্পদগুলি মানবজাতির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। উদাহরণস্বরূপ, **সূর্যের আলো**, **জল**, **কয়লা** বা **বনজ সম্পদ** হলো প্রাকৃতিক সম্পদের উদাহরণ।
৩. পুনর্নবীকরণযোগ্য (Renewable) ও অনবীকরণযোগ্য (Non-renewable) সম্পদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
- **পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ:** যে সম্পদ ব্যবহারের পরেও দ্রুত প্রাকৃতিক উপায়ে পুনরায় সৃষ্টি হয় এবং যার ভান্ডার অফুরন্ত বা সহজেই পূরণ করা যায়। যেমন: **সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি**।
- **অনবীকরণযোগ্য সম্পদ:** যে সম্পদ একবার ব্যবহার করলে দ্রুত পুনরায় তৈরি হয় না এবং যার ভান্ডার সীমিত। যেমন: **কয়লা, পেট্রোলিয়াম**।
৪. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর:
- জীববৈচিত্র্য হলো পৃথিবীতে বা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে উপস্থিত **জিনগত, প্রজাতিগত এবং বাস্তুতান্ত্রিক** সমস্ত ধরনের জীবের সামগ্রিক বিভিন্নতা।
- এই বৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মানবজাতিকে বিভিন্ন সম্পদ সরবরাহ করতে সাহায্য করে। জীববৈচিত্র্যের একক হলো **জিন**।
৫. জীববৈচিত্র্যের তিনটি প্রধান স্তর কী কী?
✅ উত্তর:
- **১. জিনগত বৈচিত্র্য:** একই প্রজাতির জীবের মধ্যে জিনের যে বিভিন্নতা দেখা যায় (যেমন: মানুষের চুলের রং)।
- **২. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:** কোনো একটি অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির জীবের সংখ্যা ও প্রকারভেদ।
- **৩. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:** কোনো অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকারের বাস্তুতন্ত্রের (যেমন: বনভূমি, জলাভূমি, মরুভূমি) উপস্থিতি।
৬. ইন সিটু (In-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
- ইন সিটু সংরক্ষণ হলো এমন পদ্ধতি, যেখানে জীবদের তাদের **প্রাকৃতিক আবাস্থলের** মধ্যেই রেখে সংরক্ষণ করা হয়।
- এই পদ্ধতি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর দুটি উদাহরণ হলো **জাতীয় উদ্যান (National Park)** এবং **অভয়ারণ্য (Sanctuary)**।
৭. এক্স সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
- এক্স সিটু সংরক্ষণ হলো সেই পদ্ধতি, যেখানে জীবদের তাদের **প্রাকৃতিক আবাস্থলের বাইরে** এনে কৃত্রিম উপায়ে সংরক্ষণ করা হয়।
- এই পদ্ধতি বিশেষ করে চরম বিপন্ন জীবদের জন্য কার্যকর। এর দুটি উদাহরণ হলো **চিড়িয়াখানা (Zoo)** এবং **বীজ ব্যাংক (Seed Bank)** বা **ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation)**।
৮. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের কোর জোন এবং বাফার জোনের মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
- **কোর জোন:** বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের কেন্দ্রীয় অঞ্চল, যেখানে মানুষের প্রবেশ ও কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এটি কঠোরভাবে সংরক্ষিত এলাকা।
- **বাফার জোন:** কোর জোনের ঠিক বাইরে অবস্থিত অঞ্চল, যেখানে গবেষণা, শিক্ষা ও পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন সীমিতভাবে অনুমোদিত। এই অঞ্চলে স্থানীয় মানুষদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
৯. রেড ডেটা বুক (Red Data Book) কী? এটি কোন্ সংস্থা প্রকাশ করে?
✅ উত্তর:
- রেড ডেটা বুক হলো একটি প্রকাশনা, যেখানে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণীদের নাম, তথ্য, এবং তাদের বিপন্নতার কারণের তালিকা থাকে।
- সংকটাপন্ন জীবদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই বইটি সাহায্য করে। বইটি **IUCN (International Union for Conservation of Nature)** দ্বারা প্রকাশিত হয়।
১০. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
- **আবাস্থল ধ্বংস:** বনভূমি ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট করা বা কৃষিকাজের ফলে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থানের ক্ষতি হওয়া। এটি জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ।
- **অতিরিক্ত শোষণ:** মানুষ তার প্রয়োজন মেটাতে বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণীদের অতিরিক্ত শিকার করলে বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
১১. পরিবেশ দূষণ কাকে বলে? এর দুটি ভাগ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
- মানুষের কার্যকলাপের ফলে বা প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের (জল, মাটি, বায়ু) ভৌত, রাসায়নিক বা জৈব বৈশিষ্ট্যের অবাঞ্ছিত পরিবর্তন ঘটলে তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।
- এই পরিবর্তনের ফলে জীবজগতের ক্ষতি হয়। এর দুটি ভাগ হলো **১. বায়ু দূষণ** এবং **২. জল দূষণ**।
১২. গ্রিনহাউস গ্যাস কী? দুটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।
✅ উত্তর:
- যে সকল গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত থেকে পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ বা অবলোহিত রশ্মিকে শোষণ করে এবং ধরে রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
- এই গ্যাসগুলি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। দুটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস হলো **কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$)** এবং **মিথেন ($CH_4$)**।
১৩. বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কী? এর দুটি কুফল লেখো।
✅ উত্তর:
- বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
- এর দুটি কুফল হলো **১. মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া** এবং **২. সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া**, যার ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চল ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
১৪. ওজোন স্তর ধ্বংসে CFC-এর ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর:
- CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) গ্যাস বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে গিয়ে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভেঙে যায় এবং **সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু** মুক্ত করে।
- এই ক্লোরিন পরমাণুগুলি শৃঙ্খল বিক্রিয়ার মাধ্যমে ওজোন অণুকে ($O_3$) অক্সিজেনে ($O_2$) রূপান্তরিত করে, যা ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটায়।
১৫. অ্যাসিড বৃষ্টি কী? এর দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
✅ উত্তর:
- শিল্পাঞ্চল ও যানবাহন থেকে নির্গত $SO_2$ এবং $NO_2$ গ্যাস বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা বৃষ্টির জলের সঙ্গে পৃথিবীতে নেমে আসে।
- এর দুটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো **১. সৌধ বা ইমারতের ক্ষতিসাধন** (যেমন- তাজমহল) এবং **২. মাটির উর্বরতা হ্রাস**।
১৬. জল দূষণের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
- **শিল্পজাত বর্জ্য:** শিল্প কারখানা থেকে নির্গত ক্যাডমিয়াম, পারদ, সীসা ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ জলকে দূষিত করে।
- **কৃষিজাত সার ও কীটনাশক:** জমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত নাইট্রেট ও ফসফেট সমৃদ্ধ সার এবং কীটনাশক বৃষ্টির জলের সাথে পুকুর বা নদীতে মিশে জলকে দূষিত করে।
১৭. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication)-এর দুটি কুফল লেখো।
✅ উত্তর:
- ইউট্রোফিকেশনের ফলে শৈবালের ব্লুম (Algal Bloom) সৃষ্টি হয়, যা জলাশয়ের জলকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলে এবং এর দৃশ্যমানতা হ্রাস করে।
- শৈবালগুলি মারা গেলে তাদের পচনের জন্য জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।
১৮. মিনামাটা ও ইটাই-ইটাই রোগের কারণ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
- **মিনামাটা রোগ:** এটি পারদ (Mercury) দূষণের ফলে সৃষ্ট হয়। পারদ মিশ্রিত মাছ বা খাবার গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে এই রোগ দেখা যায়।
- **ইটাই-ইটাই রোগ:** এটি ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দূষণের ফলে সৃষ্ট হয়। ক্যাডমিয়াম দূষিত জল ও খাদ্য গ্রহণ করলে অস্থি দুর্বল হয়ে এই রোগ হয়।
১৯. শব্দ দূষণ কাকে বলে? শব্দ দূষণের দুটি উৎস লেখো।
✅ উত্তর:
- যখন শব্দের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব মানবস্বাস্থ্য এবং পরিবেশে অবাঞ্ছিত ও ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে, তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে।
- শব্দ দূষণের দুটি প্রধান উৎস হলো **১. কলকারখানা ও শিল্পের যন্ত্রপাতি** থেকে সৃষ্ট তীব্র শব্দ এবং **২. যানবাহন** (যেমন- মোটরগাড়ি, বিমান) ও মাইকের শব্দ।
২০. শব্দ দূষণের ফলে মানবদেহে সৃষ্ট দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
✅ উত্তর:
- অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বা সাময়িকভাবে হ্রাস পেতে পারে।
- এছাড়াও এটি মানসিক চাপের সৃষ্টি করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা দেয়, যার ফলে **উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure)** ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
২১. জৈব বিয়োজ্য ও জৈব অনিয়োজ্য দূষকের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
- **জৈব বিয়োজ্য দূষক:** এই দূষকগুলি ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা সহজেই বিয়োজিত হয়ে যায়। উদাহরণ: শাক-সবজির খোসা।
- **জৈব অনিয়োজ্য দূষক:** এই দূষকগুলি প্রকৃতিতে সহজে বিয়োজিত হয় না এবং দীর্ঘকাল পরিবেশে থেকে যায়। উদাহরণ: প্লাস্টিক, DDT, এবং কিছু ভারী ধাতু।
২২. চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্যানের মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
- **চিড়িয়াখানা (Zoo):** এটি এক্স সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ, যেখানে জীবকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
- **জাতীয় উদ্যান (National Park):** এটি ইন সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ, যেখানে জীবকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশেই সংরক্ষণ করা হয়। এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়কেই সংরক্ষণ করা হয়।
২৩. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কী? এর উদ্দেশ্য কী?
✅ উত্তর:
- বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত বিশাল এলাকা, যেখানে উদ্ভিদ, প্রাণী এবং স্থানীয় মানুষদের জীবনযাত্রা সংরক্ষণ করা হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো বাস্তুতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
২৪. হটস্পট (Hotspot) বলতে কী বোঝো? ভারতে হটস্পটের সংখ্যা ক’টি?
✅ উত্তর:
- হটস্পট হলো পৃথিবীর সেই সকল অঞ্চল, যেখানে স্থানীয় প্রজাতির প্রাচুর্য (Endemism) খুব বেশি, কিন্তু বর্তমানে সেই জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে বিপন্ন।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য এই অঞ্চলগুলিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ভারতে বর্তমানে মোট ৪টি বায়োডাইভারসিটি হটস্পট রয়েছে।
২৫. ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation) কী?
✅ উত্তর:
- ক্রায়োসংরক্ষণ হলো এক্স সিটু সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি, যেখানে জীবের শুক্রাণু, ডিম্বাণু, বীজ বা ভ্রূণকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রায় $-১৯৬^\circ C$) সংরক্ষণ করা হয়।
- এই কাজে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয় এবং এর মাধ্যমে বিপন্ন প্রজাতির জিনগত উপাদানগুলিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অক্ষত রাখা সম্ভব।
২৬. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব কেন অপরিহার্য? দুটি কারণ লেখো।
✅ উত্তর:
- **বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা:** জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। খাদ্যশৃঙ্খল বা শক্তিপ্রবাহের স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতি জরুরি।
- **সম্পদ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:** জীববৈচিত্র্য থেকে মানবজাতি বিভিন্ন খাদ্য, ওষুধ, বস্ত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ সংগ্রহ করে।
২৭. ওজোন স্তর ধ্বংসের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
✅ উত্তর:
- ওজোন স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হলে সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক **অতিবেগুনি (UV) রশ্মি** পৃথিবীতে পৌঁছায়। এই রশ্মির প্রভাবে মানুষের **ত্বকের ক্যানসার** এবং চোখে ছানি পড়তে পারে।
- UV রশ্মির প্রভাবে জলজ প্ল্যাঙ্কটনের জীবনচক্র এবং স্থলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
২৮. বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের দুটি সহজ উপায় লেখো।
✅ উত্তর:
- যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া কমাতে উন্নতমানের এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (যেমন: CNG) ব্যবহার করা এবং গাড়িতে ক্যাটালিটিক কনভার্টার ব্যবহার করা।
- শিল্প কারখানা বা চুল্লিগুলিতে গ্যাস পরিস্রাবক যন্ত্র (যেমন: স্ক্রাবার) ব্যবহার করে দূষণ সৃষ্টিকারী কণাগুলিকে বায়ুতে মেশার আগে ছেঁকে নেওয়া।
২৯. ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ কী? এটি মানবদেহে কী প্রভাব ফেলে?
✅ উত্তর:
- ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ হলো আর্সেনিক দূষণের ফলে সৃষ্ট একটি রোগ, যা প্রধানত আর্সেনিক মিশ্রিত জল পান করলে হয়।
- এই রোগে প্রথমে হাত ও পায়ের ত্বকে কালো দাগ দেখা যায়, পরে গ্যাংগ্রিন সৃষ্টি হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৩০. পরিবেশ সুরক্ষায় $3R$ নীতির ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর:
- $3R$ নীতি হলো **Reduce (কম ব্যবহার), Reuse (পুনর্ব্যবহার), এবং Recycle (পুনর্নবীকরণ)**।
- এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় কমানো, বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করা এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমানো। এটি পরিবেশের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে সাহায্য করে।
৩১. জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের দুটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম) হলো অনবীকরণযোগ্য সম্পদ, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর ভান্ডার অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন।
- এর ব্যবহারে $CO_2$ ও $SO_2$ নির্গত হয়, যা পরিবেশ দূষণ ও অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়; তাই এর ব্যবহার কমালে দূষণও কমবে।
৩২. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে দুটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা লেখো।
✅ উত্তর:
- হাসপাতাল, স্কুল বা আদালত ভবনের কাছাকাছি অঞ্চলগুলিকে **সাইলেন্স জোন (Silence Zone)** হিসেবে ঘোষণা করে শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা।
- কলকারখানা ও যানবাহনের জন্য শব্দ নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করে দেওয়া এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
৩৩. জাতীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্য ঘোষণার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
✅ উত্তর:
- জাতীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্য ঘোষণার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বন্যপ্রাণী ও নির্দিষ্ট অঞ্চলের উদ্ভিদকুলকে তাদের **প্রাকৃতিক পরিবেশে** সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষা প্রদান করা।
- এর ফলে বিপন্ন প্রজাতির জীবদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
৩৪. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ফলে সৃষ্ট দুটি প্রভাব লেখো।
✅ উত্তর:
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেলে **বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খল** দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, যা সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যতা নষ্ট করে।
- বহু উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হলে মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয় **ওষুধ, খাদ্য এবং অন্যান্য জিনগত সম্পদের** উৎস কমে যায়।
৩৫. ওজোন গহ্বর বা ওজোন হোল কী?
✅ উত্তর:
- ওজোন গহ্বর বলতে বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তরের **ঘনত্ব মারাত্মকভাবে কমে যাওয়াকে** বোঝানো হয়।
- প্রধানত CFC-এর মতো রাসায়নিক পদার্থগুলির কারণে আন্টার্কটিকা মহাদেশের ওপর এই গহ্বরটি প্রথম চিহ্নিত হয়।
৩৬. সাইলেন্স জোন (Silence Zone) কী?
✅ উত্তর:
- সাইলেন্স জোন হলো হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা আদালত ভবনের চারপাশের এমন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল।
- এই অঞ্চলে শব্দের তীব্রতা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং দিনের বেলায় ৪৫ ডেসিবেল ও রাতে ৪০ ডেসিবেল-এর বেশি শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়।
৩৭. জৈব বিবর্ধন বা বায়ো ম্যাগনিফিকেশন কী?
✅ উত্তর:
- জৈব অনিয়োজ্য দূষকগুলি (যেমন- DDT, পারদ) যখন খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরে সঞ্চারিত হতে থাকে, তখন প্রতিটি স্তরে এদের ঘনত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে।
- দূষকের এই ঘনত্ব বৃদ্ধির ঘটনাকে জৈব বিবর্ধন বা বায়ো ম্যাগনিফিকেশন বলে। এর ফলে খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষস্তরের জীবের ক্ষতি হয়।
৩৮. পরিবেশ দূষণে যানবাহনের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর:
- যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইড (CO), কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$) মিশ্রিত করে।
- CO একটি বিষাক্ত গ্যাস, এবং $NO_x$ অ্যাসিড বৃষ্টি ও ধোঁয়াশার জন্য দায়ী। এছাড়াও যানবাহনের শব্দ শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে।
৩৯. জরায়ু (In Utero) বা টেস্টটিউব সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর:
- জরায়ু বা টেস্টটিউব সংরক্ষণ হলো এক্স সিটু সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি।
- এই পদ্ধতিতে বিপন্ন প্রাণীর শুক্রাণু বা ডিম্বাণু সংগ্রহ করে তা টেস্টটিউবে নিষিক্ত করা হয় এবং এই ভ্রূণকে অন্য কোনো প্রাণীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
৪০. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের ট্রানজিশন জোন-এর দুটি কাজ লেখো।
✅ উত্তর:
- ট্রানজিশন জোন হলো বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের সবচেয়ে বাইরের অঞ্চল, যেখানে স্থানীয় মানুষজন সীমিতভাবে বসতি স্থাপন করতে পারে।
- এই অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব কার্যকলাপ (যেমন- সীমিত কৃষি, বনজ সম্পদের সংগ্রহ) এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
৪১. গ্রিনহাউস প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ উত্তর:
- গ্রিনহাউস প্রভাব হলো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি তাপ ধরে রেখে পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখে।
- কিন্তু মানুষের কার্যকলাপের ফলে এই গ্যাসগুলির মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটলে তাপধারণ ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যার ফলস্বরূপ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, একেই **বিশ্ব উষ্ণায়ন** বলে।
৪২. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বৃক্ষরোপণের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর:
- বৃক্ষ বা গাছপালা শব্দ তরঙ্গ শোষণ করে এবং শব্দের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে, যা শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- রাস্তার ধারে বা শিল্পাঞ্চলের আশেপাশে ঘন জঙ্গল বা সবুজ বেষ্টনী তৈরি করলে শব্দদূষণ অনেকটা কম হয় এবং পরিবেশ শান্ত থাকে।
৪৩. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য হ্রাসের একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য হ্রাস বলতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে উপস্থিত বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যা কমে যাওয়াকে বোঝায়।
- যেমন, মানুষের অতিরিক্ত শিকার ও আবাস্থল ধ্বংসের কারণে বর্তমানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা অত্যন্ত কমে যাওয়া।
৪৪. বায়ু দূষণের ফলে উদ্ভিদের কী ক্ষতি হয়? দুটি প্রভাব লেখো।
✅ উত্তর:
- বায়ু দূষণের ফলে উদ্ভিদের পাতায় থাকা পত্ররন্ধ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে উদ্ভিদের গ্যাসীয় আদান-প্রদান এবং সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
- অ্যাসিড বৃষ্টির কারণে উদ্ভিদের পাতা ও কান্ড সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাটির $pH$ পরিবর্তন হওয়ায় উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ বাধা পায়।
৪৫. অনবীকরণযোগ্য শক্তি সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।
✅ উত্তর:
- অনবীকরণযোগ্য শক্তি (যেমন- কয়লা, পেট্রোলিয়াম) সংরক্ষণের জন্য এর অপচয় রোধ করতে হবে এবং এর ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে।
- পাশাপাশি, এই ধরনের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে এবং সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির মতো **পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির** ব্যবহার বাড়াতে হবে।