নবম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য’
📘 প্রথম অধ্যায়: জীবন ও তার বৈচিত্র্য (৩ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর)
📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
৩ নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব এবং পার্থক্য—এই চারটি বিষয়ের কমপক্ষে তিনটি পয়েন্ট যুক্ত করা প্রয়োজন। এই অংশে শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপদ নামকরণের সুবিধা, ৫ রাজ্যের পার্থক্য এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণির বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব বহন করে।
৩. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন: ২৮টি প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩)
নির্দেশিকা: প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সম্পন্ন করো।
১. জীবনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উদাহরণ সহ লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **বিপাক:** জীবদেহে প্রতিনিয়ত উপচিতি (সালোকসংশ্লেষ) ও অপচিতি (শ্বসন) নামক জৈবনিক প্রক্রিয়া চলে।
খ) **উত্তেজিতা:** পরিবেশের উদ্দীপকের প্রভাবে জীবের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। যেমন—সূর্যমুখী ফুলের সূর্যের দিকে মুখ ঘোরানো।
গ) **জনন:** নিজেদের অনুরূপ অপত্য জীব সৃষ্টির ক্ষমতা। যেমন—অ্যামিবার দ্বিবিভাজন।
২. উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **প্রকৃতি:** উপচিতি একটি গঠনমূলক প্রক্রিয়া, যেখানে সরল থেকে জটিল পদার্থ সৃষ্টি হয়। অপচিতি একটি ভাঙ্গনমূলক প্রক্রিয়া, যেখানে জটিল থেকে সরল পদার্থ সৃষ্টি হয়।
খ) **শুষ্ক ওজন:** উপচিতিতে শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়। অপচিতিতে শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়।
গ) **উদাহরণ:** উপচিতির উদাহরণ সালোকসংশ্লেষ। অপচিতির উদাহরণ শ্বসন।
৩. শ্রেণিবিন্যাসের তিনটি প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
ক) **সহজে জ্ঞানার্জন:** পৃথিবীর কোটি কোটি জীবকে অল্প সময়ে সহজে জানতে সাহায্য করে।
খ) **বিবর্তনের ধারণা:** বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর মধ্যে বিবর্তনগত বা জাতিজনী সম্পর্ক নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
গ) **শনাক্তকরণ:** একটি নতুন জীব আবিষ্কৃত হলে তা কোন্ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, তা শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।
৪. দ্বিপদ নামকরণ কাকে বলে? দ্বিপদ নামকরণের তিনটি সুবিধা বা গুরুত্ব লেখো।
✅ উত্তর: আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে গণ ও প্রজাতি—এই দুটি পদের সমন্বয়ে জীবের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।
→ সুবিধা:
ক) **সার্বজনীনতা:** সারা পৃথিবীতে একটি জীবের একটি মাত্র বিজ্ঞানসম্মত নাম নিশ্চিত হয়।
খ) **ভ্রান্তি দূর:** স্থানীয় নামের ভিন্নতার কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়।
গ) **সহজ সম্পর্ক:** নাম দেখেই গণ ও প্রজাতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
৫. ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **সংজ্ঞা:** ট্যাক্সোনমি শুধু নামকরণ ও শ্রেণিবদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনা করে। সিস্টেমেটিক্স শ্রেণিবিন্যাসের পাশাপাশি জীবের জাতিজনী (বিবর্তনগত) সম্পর্কও আলোচনা করে।
খ) **উদ্দেশ্য:** ট্যাক্সোনমির মূল উদ্দেশ্য শ্রেণিকরণ। সিস্টেমেটিক্সের মূল উদ্দেশ্য জীবের বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
গ) **ক্ষেত্র:** সিস্টেমেটিক্সের ক্ষেত্র ট্যাক্সোনমির চেয়ে ব্যাপক ও বিস্তৃত।
৬. প্রজাতি, গণ ও গোত্রের সংজ্ঞা দাও।
✅ উত্তর:
ক) **প্রজাতি:** শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক। যে জীবগোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম।
খ) **গণ:** পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত একাধিক প্রজাতি নিয়ে গঠিত শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ।
গ) **গোত্র:** পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত একাধিক গণ নিয়ে গঠিত শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ।
৭. মনেরা রাজ্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **কোশ প্রকৃতি:** এরা এককোষী ও **প্রোক্যারিওটিক** প্রকৃতির জীব (সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই)।
খ) **কোশ প্রাচীর:** এদের কোশপ্রাচীর প্রধানত **পেপটিডোগ্লাইকান** দ্বারা গঠিত।
গ) **পুষ্টি:** এদের পুষ্টি পদ্ধতি স্বভোজী (যেমন—সায়ানোব্যাকটেরিয়া) বা পরভোজী হতে পারে।
৮. প্রোটিস্টা রাজ্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **কোশ প্রকৃতি:** এরা এককোষী ও **ইউক্যারিওটিক** প্রকৃতির জীব (সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে)।
খ) **গমনাঙ্গ:** এদের গমনাঙ্গ হিসাবে ক্ষণপদ, সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেলা থাকতে পারে।
গ) **পুষ্টি:** পুষ্টি পদ্ধতি স্বভোজী, পরভোজী বা মিশ্র প্রকৃতির হতে পারে (যেমন—ইউগ্লেনার মিশ্র পুষ্টি)।
৯. ছত্রাক রাজ্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **কোশ প্রকৃতি:** এরা সাধারণত বহুকোষী ও ইউক্যারিওটিক প্রকৃতির জীব (ইস্ট এককোষী ব্যতিক্রম)।
খ) **কোশ প্রাচীর:** এদের কোশপ্রাচীর **কাইটিন** নামক শর্করা দ্বারা গঠিত।
গ) **পুষ্টি:** এদের পুষ্টি পদ্ধতি প্রধানত **শোষণধর্মী** (মৃতজীবী বা পরজীবী)।
১০. ইউক্যারিওটিক ও প্রোক্যারিওটিক কোশের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নিউক্লিয়াস:** ইউক্যারিওটিকে সুগঠিত নিউক্লিয়াস উপস্থিত। প্রোক্যারিওটিকে নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত (নিউক্লিওয়েড থাকে)।
খ) **DNA:** ইউক্যারিওটিকে DNA প্রোটিনের (হিস্টোন) সাথে যুক্ত থাকে। প্রোক্যারিওটিকে DNA প্রোটিনবিহীন অবস্থায় থাকে।
গ) **কোশ অঙ্গাণু:** ইউক্যারিওটিকে মাইটোকন্ড্রিয়া, ER ইত্যাদি পর্দাঘেরা অঙ্গাণু থাকে। প্রোক্যারিওটিকে পর্দাঘেরা অঙ্গাণু অনুপস্থিত।
১১. গুপ্তবীজী ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **ডিম্বাশয়:** গুপ্তবীজীর বীজ ডিম্বাশয় দ্বারা আবৃত থাকে (ফল উৎপন্ন হয়)। ব্যক্তবীজীর বীজ অনাবৃত থাকে (ফল উৎপন্ন হয় না)।
খ) **ফ্লোয়েম কলা:** গুপ্তবীজীর ফ্লোয়েম কলায় সহকোশ উপস্থিত। ব্যক্তবীজীর ফ্লোয়েম কলায় সহকোশ অনুপস্থিত।
গ) **নিষেকের সংখ্যা:** গুপ্তবীজীতে দ্বি-নিষেধ ঘটে। ব্যক্তবীজীতে দ্বি-নিষেধ ঘটে না।
১২. একবীজপত্রী ও দ্বি-বীজপত্রী উদ্ভিদের তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **বীজপত্র:** একবীজপত্রী বীজে একটি বীজপত্র থাকে। দ্বি-বীজপত্রী বীজে দুটি বীজপত্র থাকে।
খ) **শিরাবিন্যাস:** একবীজপত্রীর পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। দ্বি-বীজপত্রীর পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
গ) **মূলতন্ত্র:** একবীজপত্রীতে গুচ্ছ মূল দেখা যায়। দ্বি-বীজপত্রীতে প্রধান মূলতন্ত্র দেখা যায়।
১৩. ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **পরিবহন কলা:** ব্রায়োফাইটায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার মতো পরিবহন কলা অনুপস্থিত। টেরিডোফাইটায় পরিবহন কলা উপস্থিত।
খ) **দেহ গঠন:** ব্রায়োফাইটায় দেহ সাধারণত থ্যালাস প্রকৃতির। টেরিডোফাইটায় দেহ কাণ্ড, মূল ও পাতায় বিভক্ত।
গ) **উদাহরণ:** ব্রায়োফাইটায় উদাহরণ **মস**। টেরিডোফাইটায় উদাহরণ **ফার্ন**।
১৪. পরিফেরা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ অসংখ্য ছিদ্র বা **অস্টিয়া** দ্বারা আবৃত।
খ) এদের দেহে কোষীয় মাত্রার সংগঠন দেখা যায় (কলা বা অঙ্গ গঠিত হয়নি)।
গ) এদের দেহে **জলসংবহনতন্ত্র** দেখা যায়।
→ উদাহরণ: **স্পঞ্জিলা**, **সাইকন**।
১৫. নিডারিয়া ও প্লাটিহেলমিন্থেস পর্বের প্রাণীদের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **কোশ:** নিডারিয়াতে দংশক কোশ বা নিডোব্লাস্ট থাকে, কিন্তু প্লাটিহেলমিন্থেসে নিডোব্লাস্ট থাকে না।
খ) **দেহ গহ্বর:** নিডারিয়া সিলোমবিহীন, প্লাটিহেলমিন্থেসও সিলোমবিহীন (কিন্তু নিডারিয়ার সিলোম একেবারেই প্রাথমিক)।
গ) **দেহ প্রতিসাম্য:** নিডারিয়া অরীয় প্রতিসম, প্লাটিহেলমিন্থেস দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।
১৬. অ্যানিলিডা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **দেহখণ্ডক:** এদের দেহ প্রকৃতভাবে বহু খণ্ডক বা মেটামিয়ার দ্বারা গঠিত।
খ) **সংবহনতন্ত্র:** এদের দেহে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।
গ) **গমনাঙ্গ:** এদের গমনাঙ্গ হল **সিটা** বা **প্যারা পোডিয়া** (কেঁচো, নেরিস)।
১৭. আর্থ্রোপোডা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **উপাঙ্গ:** এদের দেহে যুগ্ম **সন্ধিল উপাঙ্গ** (Jointed Appendages) দেখা যায়।
খ) **দেহ:** এদের দেহ মাথা, বক্ষ ও উদর—এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
গ) **দেহগহ্বর:** এদের রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে **হিমোসিল** বলা হয়।
১৮. মোলাস্কা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **দেহ:** এদের দেহ নরম, সাধারণত খণ্ডকবিহীন এবং ম্যান্টল দ্বারা আবৃত থাকে।
খ) **রক্ত:** এদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিবর্তে **হিমোসায়ানিন** নামক তাম্রঘটিত রঞ্জক পদার্থ থাকে।
গ) **গমনাঙ্গ:** এদের গমনাঙ্গ হল মাংসল **পদ**।
১৯. একাইনোডার্মাটা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নালীতন্ত্র:** এদের দেহে **নালীতন্ত্র** (Water Vascular System) উপস্থিত, যা চলন ও শ্বসনে সাহায্য করে।
খ) **প্রতিসাম্য:** প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এদের দেহ **অরীয় প্রতিসাম্য** দেখায়।
গ) **গমনাঙ্গ:** নালীতন্ত্রের সাহায্যে সৃষ্ট **নালীপদ** (Tube feet) এদের গমনাঙ্গ।
২০. কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা প্রাণীর তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নোটোকর্ড:** কর্ডাটা প্রাণীর নোটোকর্ড উপস্থিত। নন-কর্ডাটা প্রাণীর নোটোকর্ড অনুপস্থিত।
খ) **স্নায়ুরজ্জু:** কর্ডাটা প্রাণীর পৃষ্ঠদেশে একটি ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। নন-কর্ডাটা প্রাণীর অঙ্কীয়দেশে নিরেট স্নায়ুরজ্জু থাকে।
গ) **ফুলকা ছিদ্র:** কর্ডাটার গলবিলে ফুলকা ছিদ্র থাকে। নন-কর্ডাটার গলবিলে ফুলকা ছিদ্র থাকে না।
২১. মৎস্য শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **আঁশ ও পাখনা:** এদের দেহ আঁশ দ্বারা আবৃত এবং চলনের জন্য জোড় ও বিজোড় পাখনা থাকে।
খ) **শ্বাস অঙ্গ:** এরা ফুলকার সাহায্যে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে।
গ) **হৃৎপিণ্ড:** এদের হৃৎপিণ্ড **দ্বি-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট** এবং এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
২২. উভচর শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **বাসস্থান:** জীবনের প্রথম অংশে জলজ (ফুলকাযুক্ত) এবং পরবর্তীকালে স্থলজ (ফুসফুসযুক্ত) হয়।
খ) **ত্বক:** এদের ত্বক নরম, গ্রন্থিময় ও আর্দ্র এবং শ্বাসকার্যে সাহায্য করে।
গ) **হৃৎপিণ্ড:** এদের হৃৎপিণ্ড **তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট** এবং এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
২৩. সরীসৃপ শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **দেহাবরণ:** এদের ত্বক শুষ্ক, গ্রন্থিবিহীন এবং আঁশ বা প্লেট দ্বারা আবৃত থাকে।
খ) **গমনাঙ্গ:** এরা সাধারণত বুকে ভর করে হাঁটে বা হামাগুড়ি দিয়ে চলে।
গ) **হৃৎপিণ্ড:** এদের হৃৎপিণ্ড **অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট** (কুমির ছাড়া)।
২৪. পক্ষী শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **দেহাবরণ:** এদের দেহ **পালক** দ্বারা আবৃত এবং এদের সামনের পা দু’টি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।
খ) **অস্থি:** এদের অস্থিগুলি হালকা ও বায়ুপূর্ণ (নিউম্যাটিক অস্থি), যা উড়তে সাহায্য করে।
গ) **রক্ত:** এরা **উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট** এবং এদের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
২৫. স্তন্যপায়ী শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **গ্রন্থি:** এদের দেহে **স্তন্যগ্রন্থি** (Mammary Gland) এবং ঘর্মগ্রন্থি উপস্থিত।
খ) **দেহাবরণ:** এদের দেহ লোম বা চুল দ্বারা আবৃত থাকে।
গ) **রক্ত:** এরা **উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট** এবং এদের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
২৬. উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী ও শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **দেহের তাপমাত্রা:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা প্রায় সব সময় স্থির থাকে। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।
খ) **নিয়ন্ত্রণ:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা নিজেদের দেহের তাপমাত্রা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা পারে না।
গ) **উদাহরণ:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: পাখি, মানুষ। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: মাছ, ব্যাঙ।
২৭. দ্বিপদ নামকরণে কেন লাতিন ভাষা ব্যবহার করা হয়? তিনটি কারণ লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **স্থায়িত্ব:** লাতিন একটি মৃত বা অপ্রচলিত ভাষা। তাই সময়ের সাথে সাথে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ) **ভুল বোঝাবুঝি দূর:** এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের স্থানীয় ভাষা নয়। ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে নাম নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয় না।
গ) **ঐতিহ্য:** বহু প্রাচীনকাল থেকেই উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যায় এই ভাষা ব্যবহার হয়ে আসছে।
২৮. একটি আদর্শ জীবের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **সুসংগঠিত কোষীয় কাঠামো:** জীবদেহ কোষ দিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি কোষে সুসংগঠিত অঙ্গাণু থাকে।
খ) **হোমিওস্ট্যাসিস বা সমস্থিতি:** জীবদেহ এমন একটি অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বজায় রাখে যা বাহ্যিক পরিবেশের পরিবর্তন সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
গ) **অভিযোজন:** জীব পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে এবং বিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে পারে।
❓ জীবন ও তার বৈচিত্র্য: সাধারণ জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. দ্বিপদ নামকরণে কেন লাতিন ভাষা ব্যবহার করা হয়? (গুরুত্ব)
✅ উত্তর: দ্বিপদ নামকরণে লাতিন ভাষা ব্যবহারের তিনটি প্রধান কারণ:
ক) **স্থায়িত্ব:** লাতিন একটি অপ্রচলিত বা মৃত ভাষা, তাই সময়ের সাথে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ) **সার্বজনীনতা:** এটি কোনো দেশের স্থানীয় ভাষা নয়, ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে নামের বিভ্রান্তি দূর হয়।
গ) **ঐতিহ্য:** এটি বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২. উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের মধ্যে তিনটি মূল পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
ক) **প্রকৃতি:** উপচিতি একটি **গঠনমূলক** প্রক্রিয়া (সরল $\rightarrow$ জটিল), কিন্তু অপচিতি একটি **ভাঙ্গনমূলক** প্রক্রিয়া (জটিল $\rightarrow$ সরল)।
খ) **শুষ্ক ওজন:** উপচিতিতে শুষ্ক ওজন **বৃদ্ধি** পায়, অপচিতিতে শুষ্ক ওজন **হ্রাস** পায়।
গ) **উদাহরণ:** উপচিতির উদাহরণ **সালোকসংশ্লেষ**। অপচিতির উদাহরণ **শ্বসন**।
৩. কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা প্রাণীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নোটোকর্ড:** কর্ডাটা প্রাণীর নোটোকর্ড উপস্থিত, নন-কর্ডাটা প্রাণীর নোটোকর্ড অনুপস্থিত।
খ) **স্নায়ুরজ্জু:** কর্ডাটা প্রাণীর পৃষ্ঠদেশে একটি **ফাঁপা** স্নায়ুরজ্জু থাকে, নন-কর্ডাটা প্রাণীর অঙ্কীয়দেশে **নিরেট** স্নায়ুরজ্জু থাকে।
গ) **ফুলকা ছিদ্র:** কর্ডাটার গলবিলে ফুলকা ছিদ্র থাকে, নন-কর্ডাটার গলবিলে তা অনুপস্থিত।
৪. উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট ও শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
ক) **তাপমাত্রা:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা **স্থির** থাকে। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের সঙ্গে **পরিবর্তিত** হয়।
খ) **নিয়ন্ত্রণ:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা দেহের তাপমাত্রা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা তা পারে না।
গ) **উদাহরণ:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: **পক্ষী, স্তন্যপায়ী**। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: **মৎস্য, সরীসৃপ, উভচর**।
৫. শ্রেণিবিন্যাসের তিনটি প্রধান প্রয়োজনীয়তা কী?
✅ উত্তর:
ক) **সহজে জ্ঞানার্জন:** লক্ষ লক্ষ জীবকে অল্প সংখ্যক গোষ্ঠীতে ভাগ করে সহজেই তাদের সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়।
খ) **বিবর্তনের ধারণা:** জীবগোষ্ঠীর মধ্যে বিবর্তনগত বা জাতিজনী সম্পর্ক নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
গ) **নতুন জীব শনাক্তকরণ:** নতুন আবিষ্কৃত জীবকে সঠিকভাবে চিনতে ও তার পূর্বসূরিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে।
৬. প্রোটিস্টা ও ছত্রাক রাজ্যের কোশ প্রকৃতি ও পুষ্টি পদ্ধতির পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **কোশ প্রকৃতি:** উভয়ই ইউক্যারিওটিক হলেও প্রোটিস্টা এককোষী, কিন্তু ছত্রাক সাধারণত বহুকোষী (ইস্ট ব্যতীত)।
খ) **কোশ প্রাচীর:** প্রোটিস্টার কোশ প্রাচীর ভিন্ন প্রকৃতির (যদি থাকে), কিন্তু ছত্রাকের কোশ প্রাচীর **কাইটিন** দ্বারা গঠিত।
গ) **পুষ্টি:** প্রোটিস্টার পুষ্টি পদ্ধতি স্বভোজী/পরভোজী/মিশ্র। ছত্রাকের পুষ্টি পদ্ধতি প্রধানত **শোষণধর্মী** (মৃতজীবী বা পরজীবী)।
৭. মোলাস্কা ও আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **উপাঙ্গ:** মোলাস্কা প্রাণীর উপাঙ্গ **মাংসল পদ**, কিন্তু আর্থ্রোপোডা প্রাণীর উপাঙ্গ **যুগ্ম সন্ধিল**।
খ) **দেহাবরণ:** মোলাস্কা প্রাণীর দেহ নরম ও **ম্যান্টল** দ্বারা আবৃত থাকে, কিন্তু আর্থ্রোপোডা প্রাণীর দেহ **কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল** দ্বারা আবৃত।
গ) **দেহগহ্বর:** মোলাস্কা প্রাণীর সিলোম ক্ষুদ্র, কিন্তু আর্থ্রোপোডা প্রাণীর প্রধান দেহগহ্বর হল **হিমোসিল**।
৮. উভচর, সরীসৃপ ও পক্ষী শ্রেণির হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা কত?
✅ উত্তর:
ক) **উভচর (ব্যাঙ):** **তিন** প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড।
খ) **সরীসৃপ (টিকটিকি):** **অসম্পূর্ণভাবে চার** প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড।
গ) **পক্ষী (পায়রা):** **চার** প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড।