নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া পুষ্টি, সংবহন এবং রেচন সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
🌿 পুষ্টি বিভাগ (Nutrition)
১. সালোকসংশ্লেষকে অঙ্গার আত্তীকরণ বলা হয় কেন?
✅ কারণ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পরিবেশে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) কে গ্রহণ করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ায় বায়ু থেকে নেওয়া অজৈব কার্বনকে সবুজ উদ্ভিদ জৈব খাদ্য উপাদানে আত্তীকরণ (Assimilation) করে। তাই একে অঙ্গার আত্তীকরণ বলে।
২. কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস রোগের পার্থক্য লেখো।
✅ এই দুটি রোগের প্রধান পার্থক্য হলো: কোয়াশিওরকর হয় মূলত প্রোটিনের অভাবে, যেখানে ম্যারাসমাস প্রোটিন ও ক্যালোরি (শক্তির) উভয়ের অভাবে হয়। কোয়াশিওরের ক্ষেত্রে হাত-পা ফোলা বা জল জমে থাকার প্রবণতা (ইডিমা) দেখা যায়, যা ম্যারাসমাসে অনুপস্থিত।
৩. মানব পরিপাকতন্ত্রে HCl-এর দুটি ভূমিকা লেখো।
✅ হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ($HCl$) এর দুটি ভূমিকা:
- জীবাণুনাশ: খাদ্যের সাথে আসা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলিকে ধ্বংস করে।
- পেপসিন সক্রিয়করণ: নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে, যা প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে।
৪. ভিটামিনকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বলা হয় কেন?
✅ ভিটামিন থেকে সরাসরি শক্তি পাওয়া যায় না, কিন্তু দেহের বৃদ্ধি, বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত অল্প পরিমাণে প্রয়োজন। তাই একে সহায়ক খাদ্য উপাদান বলা হয়।
৫. হল পুষ্টি (Holozoic Nutrition) বলতে কী বোঝো?
✅ যে পুষ্টি পদ্ধতিতে জীব কঠিন বা তরল খাদ্যবস্তু গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ ও আত্তীকরণের মাধ্যমে পুষ্টি সম্পন্ন করে, তাকে হলজোয়িক বা প্রাণীসুলভ পুষ্টি বলে। যেমন: মানুষ, অ্যামিবা।
৬. উদ্ভিদের দুটি ম্যাক্রো ও দুটি মাইক্রো উপাদানের নাম লেখো।
✅ ম্যাক্রো উপাদান (বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয়): নাইট্রোজেন (N) ও পটাশিয়াম (K)। মাইক্রো উপাদান (কম পরিমাণে প্রয়োজনীয়): ম্যাঙ্গানিজ (Mn) ও জিঙ্ক (Zn)।
৭. ফ্যাটের ইমালসিফিকেশন বলতে কী বোঝো?
✅ পিত্তরসের লবণের সহায়তায় বৃহদাকার স্নেহপদার্থের কণাগুলিকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণিকায় পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফ্যাটের ইমালসিফিকেশন বলে। এই প্রক্রিয়া ফ্যাট পরিপাকের জন্য ক্ষেত্রফল বাড়িয়ে দেয়।
৮. মানুষের অগ্ন্যাশয় রসে উপস্থিত দুটি প্রোটিওলাইটিক উৎসেচকের নাম ও তাদের কাজ লেখো।
✅ অগ্ন্যাশয় রসে উপস্থিত দুটি প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক হলো: ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন। এদের কাজ হলো প্রোটিন এবং পেপটনগুলিকে ভেঙে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করা।
৯. লালাগ্রন্থির কাজ দুটি কী কী?
✅ লালাগ্রন্থির দুটি কাজ:
- পরিপাক: লালারসের টায়ালিন উৎসেচক শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে শর্করা পরিপাক শুরু করে।
- খাদ্য ভেজান ও পিচ্ছিল করা: মিউসিনের উপস্থিতির কারণে খাদ্য পিচ্ছিল হয় এবং গলাধঃকরণে সাহায্য করে।
১০. অভিস্রবণের (Osmosis) দুটি গুরুত্ব লেখো।
✅ অভিস্রবণের দুটি গুরুত্ব:
- উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা মাটি থেকে জল শোষণ করা।
- কোষের রসস্ফীতি বজায় রেখে উদ্ভিদকে সতেজ রাখতে সাহায্য করা।
১১. ফ্যাগোসাইটোসিস কী?
✅ ফ্যাগোসাইটোসিস হলো এক প্রকার এন্ডোসাইটোসিস প্রক্রিয়া, যেখানে কোষ (যেমন অ্যামিবা বা শ্বেত রক্তকণিকা) তার ক্ষণপদ বা কোষপর্দার প্রসারণের মাধ্যমে কঠিন বা বড় আকারের খাদ্যবস্তুকে গিলে ফেলে বা ভক্ষণ করে।
১২. ক্রেবস চক্র কোথায় সম্পন্ন হয়? এর প্রধান উদ্দেশ্য কী?
✅ ক্রেবস চক্র কোষের **মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে** সম্পন্ন হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো—গ্লাইকোলাইসিসের মাধ্যমে সৃষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে শক্তি উৎপাদন (ATP) করা এবং এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন ও হাইড্রোজেন বাহক ($NADH_2$, $FADH_2$) তৈরি করা।
১৩. পরজীবী পুষ্টি ও মৃতজীবী পুষ্টির মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ পরজীবী পুষ্টি ও মৃতজীবী পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | পরজীবী পুষ্টি | মৃতজীবী পুষ্টি |
|---|---|---|
| আশ্রয় | সজীব পোষক দেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। | মৃত ও পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। |
| পোষকের ক্ষতি | পোষকের ক্ষতি করে বা রোগ সৃষ্টি করে। | পোষকের কোনো ক্ষতি হয় না। |
১৪. অ্যাপেন্ডিক্সের গুরুত্ব কী?
✅ মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স একটি লুপ্তপ্রায় অঙ্গ (Vestigial Organ), তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এটি দেহের অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সামান্য ভূমিকা রাখে এবং কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সংরক্ষণ করে।
১৫. উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি কাঁচামালের নাম ও তাদের উৎস লেখো।
✅ প্রয়োজনীয় দুটি কাঁচামাল:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$): এর উৎস হলো বায়ুমণ্ডল (পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গ্রহণ করে)।
- জল ($H_2O$): এর উৎস হলো মাটি (মূলরোমের মাধ্যমে শোষণ করে)।
১৬. ইনসুলিনের অভাবজনিত ফল কী?
✅ ইনসুলিন হরমোনের অভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। কারণ ইনসুলিন রক্ত থেকে শর্করাকে কোষে প্রবেশ করতে ও যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসাবে সঞ্চিত হতে সাহায্য করে। এর অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ দেখা দেয়।
১৭. ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই-এর দুটি কাজ লেখো।
✅ ভিলাই (Villi) ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
- শোষণ ক্ষেত্র বৃদ্ধি: ভিলাই ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণ ক্ষেত্রফল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে পাচিত খাদ্যের শোষণ দ্রুত ও বেশি পরিমাণে হয়।
- শোষণ: এগুলি পাচিত খাদ্য (গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ইত্যাদি) রক্তবাহিকার মাধ্যমে এবং ফ্যাট জাতীয় খাদ্য ল্যাকটিয়ালের মাধ্যমে শোষণ করে।
১৮. শ্বেতসার কী? এর কাজ কী?
✅ শ্বেতসার হলো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য, যা অসংখ্য গ্লুকোজ অণু দিয়ে গঠিত। এর প্রধান কাজ হলো জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করা এবং অতিরিক্ত শক্তিকে গ্লাইকোজেন (প্রাণী) বা স্টার্চ (উদ্ভিদ) রূপে সঞ্চয় করে রাখা।
১৯. আত্তীকরণ (Assimilation) বলতে কী বোঝো?
✅ আত্তীকরণ হলো পুষ্টি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। এই ধাপে শোষিত সরল খাদ্য উপাদানগুলি (যেমন গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড) কোষের প্রোটোপ্লাজমে মিশে যায় এবং দেহের শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
২০. ডায়রিয়া রোগের দুটি কারণ ও দুটি লক্ষণ লেখো।
✅ কারণ: ১. ব্যাকটেরিয়া (যেমন ভিব্রিও কলেরি) বা ভাইরাসের সংক্রমণ। ২. অপরিষ্কার জল বা খাদ্য গ্রহণ। লক্ষণ: ১. ঘন ঘন জলযুক্ত মলত্যাগ। ২. বমি হওয়া এবং শরীরে জলের ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন)।
২১. পতঙ্গভুক উদ্ভিদ কেন পতঙ্গ শিকার করে?
✅ পতঙ্গভুক উদ্ভিদরা সাধারণত এমন মাটিতে জন্মায় যেখানে নাইট্রোজেনের অভাব থাকে। তারা পতঙ্গদের দেহ থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত উপাদান (প্রোটিন) শোষণের মাধ্যমে তাদের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে।
২২. বিএমআর (BMR) বলতে কী বোঝো?
✅ বিএমআর বা বেসাল মেটাবলিক রেট হলো—পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায়, স্বাভাবিক পরিবেশে, খাদ্য গ্রহণের ১২-১৮ ঘণ্টা পর একজন ব্যক্তির দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলি চালানোর জন্য প্রতি ঘণ্টায় যে ন্যূনতম শক্তির প্রয়োজন হয়।
২৩. মুখ গহ্বরে পরিপাক শুরু হয় কেন?
✅ মুখ গহ্বরে লালারসে উপস্থিত টায়ালিন (স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ) নামক উৎসেচকের উপস্থিতির কারণে শর্করার আংশিক পরিপাক শুরু হয়। এই উৎসেচক সেদ্ধ শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে।
২৪. পিত্তরসের প্রধান কাজ কী? পিত্তরসে কি কোনো উৎসেচক থাকে?
✅ পিত্তরসের প্রধান কাজ হলো চর্বির ইমালসিফিকেশন করা এবং খাদ্যের অম্লত্বকে প্রশমিত করে মাধ্যমকে ক্ষারীয় করা। না, পিত্তরসে কোনো পাচক উৎসেচক থাকে না।
২৫. সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসনের স্থানগত পার্থক্য লেখো।
✅ সবাত শ্বসন দুটি পর্যায়ে ঘটে: প্রথম পর্যায় গ্লাইকোলাইসিস **সাইটোপ্লাজমে** এবং দ্বিতীয় পর্যায় ক্রেবস চক্র **মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে** ঘটে। অন্যদিকে, অবাত শ্বসন সম্পূর্ণরূপে **সাইটোপ্লাজমে** সম্পন্ন হয়।
—
### **বিভাগ ২: সংবহন (Circulation) – ২৫টি প্রশ্ন**
“`html
🩸 সংবহন বিভাগ (Circulation)
১. রক্তকে দেহের পরিবহন মাধ্যম বলা হয় কেন?
✅ রক্ত ফুসফুস থেকে অক্সিজেন, পৌষ্টিকনালী থেকে পুষ্টি উপাদান এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমোন দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। একই সাথে কোষ থেকে বর্জ্য পদার্থ (যেমন $CO_2$) সংগ্রহ করে রেচন অঙ্গে পরিবহন করে। এই বহুমুখী পরিবহনের জন্য রক্তকে দেহের পরিবহন মাধ্যম বলা হয়।
২. লোহিত রক্তকণিকার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ লোহিত রক্তকণিকার দুটি বৈশিষ্ট্য:
- এরা দ্বি-অবতল ও নিউক্লিয়াসবিহীন (স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে)।
- এদের কোষে **হিমোগ্লোবিন** নামক লৌহঘটিত রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা অক্সিজেন বহন করে।
৩. মানবদেহে দ্বি-সংবহনের গুরুত্ব কী?
✅ দ্বি-সংবহনের গুরুত্ব হলো: এটি বিশুদ্ধ রক্তকে (অক্সিজেনযুক্ত) দূষিত রক্ত (কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত) থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখতে সাহায্য করে। ফলে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত উচ্চচাপে দেহের কোষে পৌঁছায়, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো উচ্চ বিপাকীয় হার বজায় রাখতে অপরিহার্য।
৪. হৃদপিণ্ডের কাজ কী?
✅ হৃদপিণ্ডের প্রধান কাজ হলো রক্তকে দেহের বিভিন্ন অংশে পাম্প করা। এটি অলিন্দে রক্ত গ্রহণ করে এবং নিলয়ের শক্তিশালী সংকোচনের মাধ্যমে ফুসফুস (অক্সিজেনের জন্য) ও দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে পাঠায়।
৫. অনুচক্রিকার দুটি ভূমিকা উল্লেখ করো।
✅ অনুচক্রিকার দুটি ভূমিকা:
- রক্ত তঞ্চন: রক্তক্ষরণের সময় রক্ততঞ্চনে সাহায্য করে রক্তপাত বন্ধ করা।
- ক্ষত নিরাময়: এদের ভাঙনের ফলে নিঃসৃত পদার্থ ক্ষতস্থানে তন্তু গঠনে সহায়তা করে।
৬. উদ্ভিদের ফ্লোয়েম কলার কাজ কী?
✅ ফ্লোয়েম কলার প্রধান কাজ হলো—পাতায় তৈরি হওয়া খাদ্য (শর্করা) দ্রবণ আকারে উদ্ভিদের দেহের সঞ্চয়ী অঙ্গ এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলিতে পরিবহন করা।
৭. রসের উৎস্রোত বলতে কী বোঝো?
✅ যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত জল এবং খনিজ লবণ জাইলেম কলার মধ্য দিয়ে অভিকর্ষের বিপরীতে কাণ্ড অতিক্রম করে পাতা পর্যন্ত পৌঁছায়, তাকে রসের উৎস্রোত বলা হয়। বাষ্পমোচন টান ও মূলজ চাপ এই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
৮. সিস্টোল ও ডায়াস্টোল বলতে কী বোঝো?
✅ সিস্টোল: হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলির (অলিন্দ বা নিলয়) সংকোচনকে সিস্টোল বলে। এর মাধ্যমে রক্ত প্রকোষ্ঠ থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়। ডায়াস্টোল: হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলির প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। এই সময় প্রকোষ্ঠগুলি রক্ত দ্বারা পূর্ণ হয়।
৯. মুক্ত সংবহনতন্ত্র ও বদ্ধ সংবহনতন্ত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
✅ বদ্ধ সংবহনতন্ত্রে রক্ত সব সময় ধমনী, শিরা ও জালকের মতো রক্তবাহিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। মুক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে বেরিয়ে সরাসরি দেহ গহ্বরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোষগুলি রক্তে স্নান করে। (যেমন: আরশোলা)।
১০. লসিকা (Lymph) কাকে বলে? এর উৎস কী?
✅ লসিকা হলো একটি বর্ণহীন তরল, যা মূলত রক্তজালক থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা রক্তরস এবং শ্বেত রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত। এর উৎস হলো কলাকোষের মাঝে থাকা কলা-রস, যা লসিকাবাহ দ্বারা সংগৃহীত হয়।
১১. স্বাভাবিক রক্তচাপ বলতে কী বোঝো?
✅ হৃদপিণ্ডের সংকোচনের ফলে ধমনীর গায়ে রক্ত যে চাপ সৃষ্টি করে, তাকে রক্তচাপ বলে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো ১২০/৮০ mm Hg। (সিস্টোলিক চাপ ১২০ ও ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০)।
১২. থ্যালাসেমিয়া কী ধরনের রোগ? এর প্রধান লক্ষণ কী?
✅ থ্যালাসেমিয়া হলো একটি বংশগত রক্তাল্পতা জনিত রোগ, যেখানে হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতা বা উৎপাদন কম হওয়ার ফলে লোহিত রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র রক্তাল্পতা (Anaemia), ক্লান্তি এবং যকৃৎ ও প্লীহার বৃদ্ধি।
১৩. প্লাজমা এবং সিরামের মধ্যে পার্থক্য কী?
✅ রক্তরসকে (Plasma) জমাট বাঁধতে দিলে ফাইব্রিনোজেন সহ অন্যান্য তঞ্চক পদার্থগুলি জমাট বেঁধে যায়। জমাট বাঁধা রক্ত থেকে যে পরিষ্কার হলুদ বর্ণের তরল অংশটি পাওয়া যায়, সেটাই হলো **সিরাম**। অর্থাৎ, প্লাজমা = সিরাম + রক্ত তঞ্চক পদার্থ (যেমন ফাইব্রিনোজেন)।
১৪. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ অ্যান্টিজেন হলো সেই বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ পদার্থ যা দেহে প্রবেশ করলে দেহ প্রতিরক্ষা হিসেবে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অ্যান্টিবডি হলো প্রোটিন যা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তাকে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করে।
১৫. হৃৎপেশীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ হৃৎপেশীর দুটি বৈশিষ্ট্য:
- এরা অনৈচ্ছিক পেশী (ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করা যায় না)।
- এরা আজীবন ছান্দিক সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে স্পন্দিত হয় এবং কখনোই ক্লান্ত হয় না।
১৬. রক্তজালকের গঠন ও কাজ কী?
✅ রক্তজালক ধমনী ও শিরার সংযোগস্থলে অবস্থিত, এদের প্রাচীর শুধুমাত্র একটি স্তর দিয়ে তৈরি, যা অর্ধভেদ্য। এদের প্রধান কাজ হলো—রক্ত ও কলাকোষের মধ্যে গ্যাস ($O_2$ ও $CO_2$), পুষ্টি উপাদান এবং বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদান ঘটানো।
১৭. প্লাজমা প্রোটিনের দুটি কাজ লেখো।
✅ প্লাজমা প্রোটিনের দুটি কাজ:
- অসমোটিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: অ্যালবুমিন রক্তরসে জলের ভারসাম্য এবং রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- রক্ত তঞ্চন ও প্রতিরক্ষা: ফাইব্রিনোজেন রক্ত তঞ্চনে এবং গ্লোবিউলিন অ্যান্টিবডি (প্রতিরক্ষা) গঠনে অংশ নেয়।
১৮. হৃদস্পন্দন কাকে বলে?
✅ হৃদপিণ্ডের অলিন্দ এবং নিলয়ের ছান্দিক সংকোচন (সিস্টোল) ও প্রসারণ (ডায়াস্টোল) পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। এই ছান্দিক প্রক্রিয়াকেই একত্রে হৃদস্পন্দন বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় মিনিটে ৭২ বার এই স্পন্দন ঘটে।
১৯. শ্বেত রক্তকণিকার দুটি ভূমিকা লেখো।
✅ শ্বেত রক্তকণিকার দুটি ভূমিকা:
- প্রতিরক্ষা: এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহের ক্ষতিকারক জীবাণুদের ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।
- অ্যান্টিবডি তৈরি: লিম্ফোসাইট জাতীয় শ্বেত রক্তকণিকা দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
২০. কেন শিরায় কপাটিকা থাকে?
✅ শিরা দেহের দূরবর্তী অংশ থেকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে হৃদপিণ্ডের দিকে রক্ত বহন করে। এই সময় রক্ত যাতে উল্টো দিকে ফিরে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য শিরার অভ্যন্তরে কপাটিকা (Valves) উপস্থিত থাকে।
২১. ব্লাড গ্রুপিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
✅ ব্লাড গ্রুপিং (রক্তের শ্রেণীবিভাগ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি রক্তদান বা রক্ত গ্রহণের সময় রক্তগ্রহীতা এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে সাহায্য করে। সঠিক গ্রুপ ম্যাচ না হলে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।
২২. হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction) কেন হয়?
✅ হৃদপিণ্ডের পেশী (মায়োকার্ডিয়াম)-এ রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনীতে চর্বি বা কোলেস্টেরল জমার ফলে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হৃদপেশী অক্সিজেনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন ঘটায়।
২৩. উদ্ভিদদেহে সংবহন বলতে কী বোঝো?
✅ উদ্ভিদদেহে সংবহন হলো জাইলেম কলার মাধ্যমে মূল থেকে পাতায় জল ও খনিজ লবণ এবং ফ্লোয়েম কলার মাধ্যমে পাতা থেকে অন্যান্য অংশে তৈরি খাদ্য পরিবহনের প্রক্রিয়া।
২৪. বাষ্পমোচনকে কেন প্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক প্রক্রিয়া বলা হয়?
✅ বাষ্পমোচন উদ্ভিদদেহ থেকে অতিরিক্ত জল বের করে দেয়, যা জল অপচয়ের মাধ্যমে উদ্ভিদের ক্ষতি করে। কিন্তু এর ফলেই রসের উৎস্রোত ঘটে এবং উদ্ভিদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই এটি ‘প্রয়োজনীয়’ এবং ‘ক্ষতিকারক’ উভয়ই।
২৫. লসিকার দুটি কাজ উল্লেখ করো।
✅ লসিকার দুটি কাজ:
- সংবহন: ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে চর্বি (ফ্যাট) শোষণ করে রক্তে পরিবহন করে।
- প্রতিরক্ষা: লসিকাতে থাকা লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুদের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে দেহকে রক্ষা করে।
—
### **বিভাগ ৩: রেচন (Excretion) – ২৫টি প্রশ্ন**
“`html
🗑️ রেচন বিভাগ (Excretion)
১. রেচন কাকে বলে?
✅ যে জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহে বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থগুলি (যেমন ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড) শরীর থেকে বাইরে নির্গত হয়, তাকে রেচন বলে।
২. মানুষের বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত এককের নাম কী? এর অবস্থান কোথায়?
✅ বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত এককের নাম **নেফ্রন**। এটি মানুষের উদর গহ্বরে মেরুদণ্ডের দুপাশে, কোমরের উপরে অবস্থিত।
৩. ম্যালপিজিয়ান কর্পাসল কী কী অংশ নিয়ে গঠিত? এর কাজ কী?
✅ ম্যালপিজিয়ান কর্পাসল হলো **গ্লোমেরুলাস** এবং **বোম্যান্স ক্যাপসুল**-এর সমন্বয়। এর প্রধান কাজ হলো—রক্তকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিস্রাবণ (আল্ট্রা ফিল্ট্রেশন) করে প্রাথমিক মূত্র তৈরি করা।
৪. পুনঃশোষণ (Reabsorption) বলতে কী বোঝো?
✅ আল্ট্রা ফিল্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রাথমিক মূত্রে প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন—গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, অতিরিক্ত জল, খনিজ লবণও বের হয়ে যায়। নেফ্রনের বৃক্কীয় নালিকা এই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলিকে পুনরায় রক্তে ফিরিয়ে নেয়, এই প্রক্রিয়াকে পুনঃশোষণ বলে।
৫. ইউরিওটেলিক প্রাণী কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
✅ যে সমস্ত প্রাণী বিপাকের ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যকে ইউরিয়া হিসেবে দেহ থেকে ত্যাগ করে, তাদের ইউরিওটেলিক প্রাণী বলে। উদাহরণ: মানুষ, ব্যাঙ, স্তন্যপায়ী প্রাণী।
৬. ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস কেন হয়?
✅ অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন (ADH) বা ভেসোপ্রেসিন-এর অভাবের কারণে এই রোগ হয়। এই হরমোন বৃক্কীয় নালিকা থেকে জলের পুনঃশোষণে সাহায্য করে। এর অভাবে বেশি পরিমাণে পাতলা মূত্র তৈরি হয় এবং ঘন ঘন পিপাসা পায়।
৭. উদ্ভিদের রেচনে পত্রমোচনের গুরুত্ব কী?
✅ পত্রমোচন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেচন পদ্ধতি। নির্দিষ্ট ঋতুতে পাতা ঝরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পাতাগুলিতে সঞ্চিত অতিরিক্ত খনিজ লবণ এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থগুলিকে উদ্ভিদ দেহ থেকে অপসারণ করা হয়।
৮. রেচনে ফুসফুস ও ত্বকের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।
✅ ফুসফুস: প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) এবং কিছু জলীয় বাষ্প রেচন পদার্থ হিসেবে দেহ থেকে ত্যাগ করে। ত্বক: ঘামের মাধ্যমে জল, লবণ এবং সামান্য পরিমাণে ইউরিয়া শরীর থেকে বের করে দেয়।
৯. রজন ও গঁদের ব্যবহার কী?
✅ রজন (Resin) পাইন গাছের রেচন পদার্থ, যা বার্নিশ, পেইন্ট এবং পালিশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গঁদ (Gum) বাবলা, শিরিষ গাছের রেচন পদার্থ, যা আঠা বা ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১০. রেনাল থ্রেশহোল্ড (Renal Threshold) বলতে কী বোঝো?
✅ রক্তে কোনো পদার্থের (যেমন গ্লুকোজ) যে নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত বৃক্কীয় নালিকাগুলি সেটিকে সম্পূর্ণরূপে পুনঃশোষণ করতে পারে, তাকে রেনাল থ্রেশহোল্ড বলে। এই মাত্রা অতিক্রম করলে সেই পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত হয়। (গ্লুকোজের ক্ষেত্রে এই মাত্রা প্রায় ১৮০ mg/dL)।
১১. ট্যানিন উদ্ভিদের কোথায় সঞ্চিত থাকে? এর ব্যবহার কী?
✅ ট্যানিন মূলত গাছের ছালে, ফল ও পাতায় সঞ্চিত থাকে। এর ব্যবহার হলো—চামড়া ট্যান করতে (Leather Tanning) এবং কালি তৈরিতে।
১২. ডায়ালিসিস বা কৃত্রিম বৃক্কের কাজ সংক্ষেপে লেখো।
✅ বৃক্ক বিকল হলে বা সঠিকভাবে কাজ না করলে ডায়ালিসিস যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন-এর মতো ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থগুলি পরিস্রাবণ করে রক্তকে বিশুদ্ধ করা হয়। এটি অস্থায়ীভাবে বৃক্কের কাজ সম্পন্ন করে।
১৩. বৃক্কীয় নালিকার ক্ষরণ (Tubular Secretion)-এর দুটি গুরুত্ব কী?
✅ বৃক্কীয় নালিকার ক্ষরণের দুটি গুরুত্ব:
- রক্তে অতিরিক্ত পটাশিয়াম ($K^+$) ও হাইড্রোজেন ($H^+$) আয়ন ক্ষরণের মাধ্যমে রক্তে pH-এর ভারসাম্য (অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য) বজায় রাখা।
- দেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু পদার্থ (যেমন ওষুধ) রক্ত থেকে সরাসরি নেফ্রনের নালিকায় প্রবেশ করিয়ে মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেওয়া।
১৪. নেফ্রনের প্রধান অংশগুলি কী কী?
✅ নেফ্রনের প্রধান অংশগুলি হলো: ১. ম্যালপিজিয়ান কর্পাসল (গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুল) ২. বৃক্কীয় নালিকা (নিকটবর্তী সংবর্ত নালিকা, হেনলির লুপ, দূরবর্তী সংবর্ত নালিকা) এবং ৩. সংগ্রহক নালী।
১৫. মানুষের মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও ক্রিয়েটিনিনের উৎস কী?
✅ ইউরিয়া অ্যামিনো অ্যাসিডের বিপাক থেকে, ইউরিক অ্যাসিড নিউক্লিক অ্যাসিডের বিপাক থেকে এবং ক্রিয়েটিনিন পেশীর ক্রিয়েটিন থেকে উৎপন্ন হয়। এগুলিই মূত্রের প্রধান নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য।
১৬. রেচন ও ক্ষরণের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
✅ রেচন হলো বিপাকজাত ক্ষতিকারক বর্জ্যকে দেহ থেকে বের করে দেওয়া। ক্ষরণ হলো জীবদেহে উৎপন্ন প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় পদার্থকে (যেমন হরমোন, উৎসেচক) কোষ বা গ্রন্থি থেকে নির্গত করা, যার মধ্যে কিছু দেহেই কাজে লাগে।
১৭. উদ্ভিদদেহে রেচন পদার্থ সঞ্চয়ের দুটি উপায় উল্লেখ করো।
✅ উদ্ভিদদেহে রেচন পদার্থ সঞ্চয়ের দুটি উপায়:
- ক্যালসিয়াম অক্সালেট কেলাস (স্ফটিক) রূপে বিভিন্ন অংশে সঞ্চিত করা (যেমন কচু গাছে র্যাফাইন্ড)।
- গঁদ ও রজন রূপে কাণ্ডের বাকলে বা পুরোনো জাইলেমে সঞ্চিত রাখা।
১৮. ইউরিকোটেলিক প্রাণী বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।
✅ যে সমস্ত প্রাণী বিপাকের ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যকে ইউরিক অ্যাসিড রূপে দেহ থেকে ত্যাগ করে, তাদের ইউরিকোটেলিক প্রাণী বলে। ইউরিক অ্যাসিড জল সাশ্রয়ে সাহায্য করে। উদাহরণ: পাখি, টিকটিকি (সরীসৃপ)।
১৯. মূত্রের দুটি অস্বাভাবিক উপাদান লেখো।
✅ মূত্রের দুটি অস্বাভাবিক উপাদান:
- গ্লুকোজ: ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগে মূত্রে গ্লুকোজ দেখা যায়।
- অ্যালবুমিন: বৃক্কের প্রদাহ বা কোনো রোগে অ্যালবুমিন মূত্রে নির্গত হয় (প্রোটিনিউরিয়া)।
২০. বৃক্ক পাথর (Kidney Stone) কীভাবে তৈরি হয়?
✅ বৃক্ক পাথর প্রধানত ক্যালসিয়াম অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিডের মতো খনিজ ও লবণগুলির কেলাস জমা হয়ে তৈরি হয়। জলের পরিমাণ কম হলে বা মূত্রের উপাদানগুলিতে ভারসাম্য নষ্ট হলে এই কেলাসগুলি কঠিন আকার ধারণ করে।
২১. ইউরিয়া চক্র বলতে কী বোঝো?
✅ ইউরিয়া চক্র (Ornithine Cycle) হলো যকৃতে সংঘটিত একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে উৎপন্ন অত্যন্ত ক্ষতিকারক অ্যামোনিয়া কম ক্ষতিকারক ইউরিয়াতে রূপান্তরিত হয়। এই ইউরিয়া রক্ত দ্বারা বৃক্কে পরিবাহিত হয়।
২২. অ্যামোনোটেলিক প্রাণী কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
✅ যে সমস্ত প্রাণী নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যকে অ্যামোনিয়া হিসেবে দেহ থেকে ত্যাগ করে, তাদের অ্যামোনোটেলিক প্রাণী বলে। অ্যামোনিয়া অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়ায় প্রচুর জল প্রয়োজন। উদাহরণ: মাছ, অ্যামিবা (বেশিরভাগ জলজ প্রাণী)।
২৩. বৃক্কের ক্যাপসুল ও কর্টেক্সের মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ বৃক্কের ক্যাপসুল হলো বৃক্ককে আবৃত করে থাকা বাইরের তন্তুযুক্ত একটি স্তর। কর্টেক্স হলো বৃক্কের বাইরের দিকের অংশ, যা ক্যাপসুলের ঠিক নিচে অবস্থিত। নেফ্রনের ম্যালপিজিয়ান কর্পাসল এবং সংবর্ত নালিকাগুলি এই কর্টেক্স অংশে থাকে।
২৪. ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, এবং ইউরিক অ্যাসিড এই তিনটি বর্জ্য পদার্থের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে কম বিষাক্ত?
✅ এই তিনটি বর্জ্য পদার্থের মধ্যে **ইউরিক অ্যাসিড** হলো সবচেয়ে কম বিষাক্ত। এটিকে অপসারণ করতে জলের প্রয়োজনও সবচেয়ে কম, তাই এটি পাখি এবং সরীসৃপদের প্রধান রেচন পদার্থ।
২৫. ল্যাটেক্স কী? এর কাজ কী?
✅ ল্যাটেক্স হলো এক ধরনের ঘন দুধের মতো তরল রেচন পদার্থ, যা রাবার বা পেঁপে গাছের মতো কিছু উদ্ভিদে পাওয়া যায়। এর প্রধান কাজ হলো—উদ্ভিদের ক্ষতস্থান পূরণ করা এবং কিছু ক্ষেত্রে বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় করা।
🔎 গুরুত্বপূর্ণ FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী)
১. পুষ্টির দুটি প্রধান গুরুত্ব কী কী?
✅ পুষ্টির দুটি প্রধান গুরুত্ব হলো:
- শক্তি উৎপাদন: জীবদেহের সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করা।
- দেহ গঠন ও বৃদ্ধি: প্রোটিন সরবরাহের মাধ্যমে দেহের ক্ষয়পূরণ এবং বৃদ্ধি ঘটানো।
২. শিরা ও ধমনীর মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য কী?
✅ প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
- রক্তপ্রবাহের দিক: ধমনী হৃদপিণ্ড থেকে দেহের দিকে রক্ত বহন করে, অন্যদিকে শিরা দেহ থেকে হৃদপিণ্ডের দিকে রক্ত নিয়ে আসে।
- কপাটিকা: শিরায় কপাটিকা থাকে যা রক্তকে উল্টো দিকে প্রবাহ থেকে আটকায়, ধমনীতে তা থাকে না (ফুসফুসীয় ধমনী ব্যতীত)।
৩. মানব পরিপাকতন্ত্রে HCl-এর দুটি ভূমিকা কী কী?
✅ হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ($HCl$) এর দুটি ভূমিকা:
- জীবাণুনাশ: খাদ্যের সাথে আসা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
- পেপসিন সক্রিয়করণ: নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় **পেপসিনে** পরিণত করে প্রোটিন পরিপাক শুরু করা।
৪. বৃক্কের দুটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।
✅ বৃক্কের দুটি প্রধান কাজ হলো:
- বর্জ্য অপসারণ: রক্ত থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য (যেমন ইউরিয়া) পরিস্রাবণের মাধ্যমে **মূত্র উৎপাদন**।
- ভারসাম্য রক্ষা: দেহের জল ও খনিজ লবণের ভারসাম্য এবং রক্তের pH-এর সাম্যতা বজায় রাখা।
৫. উদ্ভিদের রেচনে পত্রমোচনের গুরুত্ব কী?
✅ পত্রমোচন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার পুরোনো পাতাগুলি ঝরিয়ে দেয়। এই পাতাগুলিতে অতিরিক্ত খনিজ লবণ এবং অন্যান্য রেচন পদার্থ সঞ্চিত থাকে, যা এর মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহ থেকে অপসারিত হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ **রেচন পদ্ধতি**।