নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 1 গ্রহরূপে পৃথিবী সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় ১: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ২)

1. ‘জিওয়ড’ (Geoid) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, আবার কমলালেবুর মতোও চ্যাপ্টা নয়। পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীরই মতো। সুউচ্চ পর্বত ও গভীর সমুদ্রখাতের কারণে পৃথিবী পৃষ্ঠ অমসৃণ। তাই পৃথিবীর আকৃতিকে অন্য কোনো জ্যামিতিক আকারের সাথে তুলনা না করে বলা হয় ‘জিওয়ড’ (Geoid)। এর অর্থ হলো ‘পৃথিবী সদৃশ’ বা ‘Earth Shaped’।


2. পৃথিবীকে ‘অভিগত গোলক’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে দ্রুতগতিতে আবর্তন করছে। এই আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বলের (Centrifugal Force) প্রভাবে পৃথিবীর মাঝের অংশ (নিরক্ষীয় অঞ্চল) বাইরের দিকে ফুলে গেছে এবং ওপর-নিচের অংশ (মেরু অঞ্চল) কিছুটা চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। এই বিশেষ আকৃতির জন্য পৃথিবীকে ‘অভিগত গোলক’ বলা হয়।


3. জিপিএস (GPS) কী? এর দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: GPS-এর পুরো কথাটি হলো Global Positioning System। এটি কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক এমন এক আধুনিক ব্যবস্থা যার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা ও সময় নিখুঁতভাবে জানা যায়।

ব্যবহার: ১) বিমান ও জাহাজের দিক নির্ণয়ে। ২) মোবাইলের ম্যাপের সাহায্যে রাস্তা খুঁজতে।


4. বেডফোর্ড লেভেলের পরীক্ষাটি কী?

উত্তর দেখো

১৮৭০ সালে বিজ্ঞানী এ. আর. ওয়ালেস ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড খালের ওপর একটি পরীক্ষা করেন। তিনি খালের জলে একই সরলরেখায় তিনটি লাঠি এক মাইল অন্তর পুঁতে দূরবীন দিয়ে দেখেন যে, মাঝের লাঠিটি অন্য দুটির চেয়ে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত। এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবী সমতল নয়, বরং গোলাকার। একেই বেডফোর্ড লেভেলের পরীক্ষা বলে।


5. নিরক্ষীয় অঞ্চল অপেক্ষা মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি হয় কেন?

উত্তর দেখো

পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মেরু অঞ্চলের দূরত্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় কম (প্রায় ২১ কিমি কম)। বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, বস্তুর দূরত্ব কেন্দ্রের যত কাছে হয়, তার অভিকর্ষজ টান তত বাড়ে। তাই মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ টান বেশি হওয়ার কারণে সেখানে কোনো বস্তুর ওজন নিরক্ষীয় অঞ্চলের চেয়ে বেশি হয়।


6. ‘বামন গ্রহ’ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যেসব জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং নির্দিষ্ট ভরের অধিকারী হলেও নিজের কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না, তাদের বামন গ্রহ বলা হয়।
উদাহরণ: প্লুটো (Pluto), এরিস (Eris)।


7. পৃথিবীকে ‘নীল গ্রহ’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭১ ভাগই জলভাগ (সমুদ্র ও মহাসাগর)। মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে এই বিশাল জলরাশি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে নীল রঙের দেখায়। তাই পৃথিবীকে ‘নীল গ্রহ’ (Blue Planet) বলা হয়।


8. দ্বিগন্তরেখা (Horizon) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

কোনো ফাঁকা জায়গায় বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ যেন দূরে মাটির সাথে বা জলের সাথে মিশে গেছে। এই কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাকে দ্বিগন্তরেখা বলে। যত উঁচুতে ওঠা যায়, পৃথিবীর বক্রতার কারণে এই রেখার বিস্তৃতি তত বাড়ে।


9. জিপিএস রিসিভার (GPS Receiver) কী?

উত্তর দেখো

মহাকাশে থাকা জিপিএস উপগ্রহগুলি থেকে সংকেত বা সিগন্যাল গ্রহণ করার জন্য পৃথিবীতে যে গ্রাহক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে জিপিএস রিসিভার বলে। আমাদের স্মার্টফোন, গাড়ির নেভিগেশন সিস্টেম হলো জিপিএস রিসিভারের উদাহরণ।


10. কোন কোন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ প্রাচীনকালে পৃথিবীর গোলকাকৃতির ধারণা দিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদদের মধ্যে আর্যভট্ট এবং বরাহমিহির প্রথমদিকে ধারণা দিয়েছিলেন যে পৃথিবী গোলাকার এবং তা নিজের অক্ষের চারদিকে আবর্তন করছে। তাদের গ্রন্থে (‘আর্যভট্টীয়’ ও ‘সিদ্ধান্ত’) এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার