নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 4 ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’ বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নোত্তর মান ৩
অধ্যায় ৪: ৩ নম্বরের বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়ন বলতে কী বোঝায়?
বিস্তারিত উত্তর
মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic Movement): পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে যে আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে (ওপর-নিচে) কাজ করে, তাকে মহীভাবক আলোড়ন বলে। এর ফলে বিশাল মহাদেশীয় ভূখণ্ডের উত্থান বা পতন ঘটে এবং স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয়।
গিরিজনি আলোড়ন (Orogenic Movement): যে ভূ-আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে অণুভূমিকভাবে বা স্পর্শক বরাবর (পাশাপাশি) কাজ করে, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে। এর প্রভাবে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়।
২. ‘মহীভাবক ও গিরিজনি উভয়প্রকার আলোড়ন আলাদা হলেও একই সাথে কাজ করে’—এই বিষয়টির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
এই দুটি আলোড়ন কার্যপদ্ধতিতে আলাদা (একটি উল্লম্ব, অন্যটি অণুভূমিক) হলেও এরা মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ পরিচলন স্রোত এবং পাত সঞ্চালনেরই দুটি ভিন্ন রূপ।
- গিরিজনি আলোড়নের ফলে যখন ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হয়ে ওপরে ওঠে, তখন তার সাথে যুক্ত হয়ে মহীভাবক আলোড়ন বিশাল ভূখণ্ডকে ওপরে তুলে দেয়।
- পাতগুলির চলনের সময় অণুভূমিক চাপ (গিরিজনি) যেমন থাকে, তেমনি পাতের প্রান্তভাগে উত্থান বা পতনও (মহীভাবক) ঘটে। তাই ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এরা একে অপরের পরিপূরক এবং একই সাথে ক্রিয়াশীল।
৩. অবরোহণ ও আরোহণ প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝো?
বিস্তারিত উত্তর
অবরোহণ (Degradation): যে প্রক্রিয়ায় নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কাজের ফলে ভূপৃষ্ঠের উঁচু স্থানগুলি ক্রমশ ক্ষয় পেয়ে নিচু বা সমতল হয়, তাকে অবরোহণ বলে। এতে ভূমির উচ্চতা হ্রাস পায়।
আরোহণ (Aggradation): যে প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক শক্তিগুলির দ্বারা বাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি নিচু স্থানে বা অবনমিত অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে সেই স্থানকে ভরাট করে উঁচু করে তোলে, তাকে আরোহণ বলে। এতে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
৪. পর্বতের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
বিস্তারিত উত্তর
পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- উচ্চতা: পর্বতগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৯০০ বা ১০০০ মিটারের বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট হয়।
- ঢাল ও চূড়া: পর্বতের পার্শ্বদেশ অত্যন্ত খাড়া ঢালযুক্ত হয় এবং উপরিভাগ তীক্ষ্ণ বা সুঁচালো চূড়া (শৃঙ্গ) বিশিষ্ট হয়।
- বিস্তৃতি: পর্বতগুলি কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থান করে।
৫. উদাহরণসহ পর্বতের শ্রেণিবিভাগ করো।
বিস্তারিত উত্তর
উৎপত্তি ও গঠনের ভিন্নতা অনুযায়ী পর্বতকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- ভঙ্গিল পর্বত: শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে সৃষ্টি হয়। (উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস)।
- স্তূপ পর্বত: ভূত্বকে ফাটল বা চ্যুতির ফলে ভূমি ওপরে উঠে বা নিচে বসে সৃষ্টি হয়। (উদাহরণ: ভারতের বিন্ধ্য, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট)।
- আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত: অগ্ন্যুৎপাতের লাভা সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। (উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস)।
- ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত: প্রাচীন উচ্চভূমি ক্ষয় পেয়ে গঠিত হয়। (উদাহরণ: ভারতের আরাবল্লী, পরেশনাথ পাহাড়)।
৬. জিওসিনক্লাইন বা মহীখাত কী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
বিস্তারিত উত্তর
সংজ্ঞা: দুটি প্রাচীন কঠিন ভূখণ্ডের মাঝখানে অবস্থিত সুদীর্ঘ, সংকীর্ণ ও অগভীর জলভাগ বা সমুদ্রখাতকে জিওসিনক্লাইন (Geosyncline) বা মহীখাত বলে। (যেমন—প্রাচীন টেথিস মহীখাত)।
বৈশিষ্ট্য:
- পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ড থেকে নদীর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পলি এসে এই খাতে সঞ্চিত হয়।
- পল্লীর বিপুল চাপে মহীখাতের তলদেশ ক্রমশ নিচের দিকে বসে যায় এবং আরও পলি সঞ্চয়ের জায়গা তৈরি করে। এই মহীখাতের পলি থেকেই পরবর্তীকালে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
৭. ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখো。
বিস্তারিত উত্তর
ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- শিলাপ্রকৃতি: এই পর্বত প্রধানত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হয়, তাই এর মধ্যে সামুদ্রিক জীবাশ্ম (Fossils) দেখতে পাওয়া যায়।
- গঠন: প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে শিলাস্তরে অসংখ্য ভাঁজ (Fold) এবং চ্যুতি (Fault) দেখা যায়। এর চূড়াগুলো অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বা সুঁচালো হয়।
- বিস্তৃতি ও উচ্চতা: ভঙ্গিল পর্বতগুলি পৃথিবীর দীর্ঘতম ও উচ্চতম পর্বত। এগুলি বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত পর্বতমালা হিসেবে অবস্থান করে।
৮. প্রশান্ত মহাসাগরের উভয় পাশে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি অবস্থানের কারণ কী?
বিস্তারিত উত্তর
প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশ জুড়ে (প্রায় ৪০,০০০ কিমি এলাকায়) পৃথিবীর প্রায় ৭০% জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলয়াকারে অবস্থান করছে, যাকে ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ বা ‘Ring of Fire’ বলে। এর কারণ:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতটি একটি অত্যন্ত ভারী মহাসাগরীয় পাত। এটি তার চারপাশের হালকা মহাদেশীয় পাতগুলির (ইউরেশীয়, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকান পাত) দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের নিচে প্রবেশ করছে (অভিসারী পাত সীমানা)।
- পাতের এই নিমজ্জনের ফলে ঘর্ষণে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়ে শিলা গলে ম্যাগমা তৈরি হয়, যা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এসে অসংখ্য আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি করেছে।
৯. দ্য গ্রেট রিফট ভ্যালির (The Great Rift Valley) বৈশিষ্ট্য ও উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
উৎপত্তি: আফ্রিকার পূর্বভাগে প্রবল মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূত্বকে বিশাল ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝখানের বিশাল ভূখণ্ড নিচে বসে গিয়ে পৃথিবীর এই দীর্ঘতম গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি করেছে।
বৈশিষ্ট্য:
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম গ্রস্ত উপত্যকা (প্রায় ৬,৪০০ কিমি দীর্ঘ)।
- এটি অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ। এই উপত্যকার নিচু অংশে জল জমে ভিক্টোরিয়া, টাঙ্গানিকা, ন্যাসা প্রভৃতি গভীর হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে।
১০. স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো。
বিস্তারিত উত্তর
স্তূপ পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- আকৃতি: এই পর্বতের উপরিভাগ তীক্ষ্ণ না হয়ে চ্যাপ্টা বা টেবিলের মতো প্রায় সমতল হয়। তাই একে অনেক সময় টেবিল ল্যান্ডের মতো দেখতে লাগে।
- ঢাল: চ্যুতি বা ফাটল বরাবর সৃষ্টি হওয়ার কারণে এই পর্বতের দু-দিকের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হয়।
- সহাবস্থান: স্তূপ পর্বত এবং গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) সাধারণত পাশাপাশি সহাবস্থান করে (যেমন—সাতপুরা স্তূপ পর্বত এবং নর্মদা গ্রস্ত উপত্যকা)।
১১. ক্ষয়জাত পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
কোটি কোটি বছর আগে গঠিত প্রাচীন কোনো ভঙ্গিল পর্বত বা আগ্নেয় পর্বত দীর্ঘকাল ধরে রোদ, বৃষ্টি, বায়ু, নদী প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে।
- এই ক্ষয় প্রক্রিয়ায় পর্বতের নরম শিলাস্তরগুলো দ্রুত ক্ষয় পেয়ে নিচু সমতলভূমিতে পরিণত হয়।
- কিন্তু পর্বতের যে অংশগুলি কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত, সেগুলি ক্ষয় প্রতিরোধ করে অবশিষ্ট অংশ হিসেবে অনুচ্চ টিলা বা পাহাড়ের আকারে দাঁড়িয়ে থাকে। একেই ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত বলে (যেমন—আরাবল্লী)।
১২. পর্বত কীভাবে জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে, ভারতের হিমালয়ের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
সুউচ্চ পর্বতমালা যেকোনো দেশের জলবায়ুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ভারতের হিমালয় পর্বতের ক্ষেত্রে তা নিম্নরূপ:
- শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতে বাধা পেয়ে সারা ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। হিমালয় না থাকলে ভারত একটি শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হতো।
- শীতল বায়ু প্রতিরোধ: শীতকালে সাইবেরিয়া বা মধ্য এশিয়া থেকে আসা কনকনে তীব্র শীতল হাওয়াকে হিমালয় পর্বত প্রাচীরের মতো বাধা দেয়। ফলে ভারত তীব্র শীতের হাত থেকে রক্ষা পায়।
১৩. মালভূমির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো。
বিস্তারিত উত্তর
মালভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- উচ্চতা: মালভূমি সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের বেশি উঁচুতে অবস্থান করে।
- আকৃতি: এর উপরিভাগ সমতল বা সামান্য ঢেউখেলানো (তরঙ্গায়িত) হয়, কিন্তু এর প্রান্তভাগ টেবিলের পায়ার মতো অত্যন্ত খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে সমভূমিতে মেশে। এই কারণে একে ‘টেবিল ল্যান্ড’ বলে।
- বিস্তৃতি: মালভূমি সাধারণত বহু দূর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থান করে।
১৪. পর্বতবেষ্টিত মালভূমির উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
বিস্তারিত উত্তর
উৎপত্তি: মহীখাতে পলি জমে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময়, প্রবল পার্শ্বচাপে দুই দিকের পর্বতশ্রেণি উঁচু হয়ে যায়। কিন্তু মাঝখানের অংশ তুলনামূলক কম চাপে টেবিলের মতো সমতলভাবে ওপরে উঠে গিয়ে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি তৈরি করে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই মালভূমিগুলি চারদিক দিয়ে সুউচ্চ পর্বত দ্বারা ঘেরা থাকে (যেমন—তিব্বত মালভূমির চারপাশে হিমালয়, কুনলুন)।
- পাহাড় ঘেরা হওয়ার কারণে এখানে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবেশ করতে পারে না, তাই বৃষ্টিপাত কম হয় এবং শুষ্ক চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়।
১৫. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির উৎপত্তি লেখো ও উদাহরণ দাও।
বিস্তারিত উত্তর
উৎপত্তি: কোনো সুউচ্চ ও সুবিস্তীর্ণ মালভূমির ওপর দিয়ে যুগ যুগ ধরে অসংখ্য নদী, উপনদী ও শাখা নদী জালের মতো প্রবাহিত হয়। এই নদীগুলি প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে দীর্ঘকাল ধরে মালভূমিটিকে গভীরভাবে কেটে ও ক্ষয় করে ছোট ছোট অংশে বিচ্ছিন্ন বা খণ্ডিত করে দেয়। এভাবেই ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির উৎপত্তি হয়।
উদাহরণ: ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি (যা দামোদর, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি নদী দ্বারা খণ্ডিত)।
১৬. লাভা মালভূমির উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
বিস্তারিত উত্তর
উৎপত্তি: বিদার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভের অত্যন্ত পাতলা ও ক্ষারীয় লাভা ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে শান্তভাবে বাইরে বেরিয়ে আসে। এই লাভা বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং কালে কালে ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে লাভা মালভূমি গঠন করে।
বৈশিষ্ট্য:
- এটি মূলত গাঢ় কালো রঙের ব্যাসাল্ট শিলা দ্বারা গঠিত হয়।
- লাভা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে মালভূমির প্রান্তভাগগুলি সিঁড়ি বা ধাপের মতো হয় (যেমন—ভারতের ডেকান ট্র্যাপ বা দাক্ষিণাত্য মালভূমি)।
১৭. সমভূমির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো。
বিস্তারিত উত্তর
সমভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- উচ্চতা ও ঢাল: সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় সমতলে বা খুব সামান্য উঁচুতে (সাধারণত ৩০০ মিটারের কম) অবস্থান করে। এর ভূমির ঢাল খুবই মৃদু হয়।
- আকৃতি: সমভূমি সাধারণত বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, উপরিভাগ সমতল বা সামান্য ঢেউখেলানো প্রকৃতির হয়।
- উর্বরতা: নদী গঠিত সমভূমি প্রচুর পলিযুক্ত হওয়ায় কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর হয়, ফলে এখানে জনবসতি সবচেয়ে ঘন হয়।
১৮. বদ্বীপ সমভূমি কীভাবে গঠিত হয় উদাহরণসহ লেখো।
বিস্তারিত উত্তর
গঠন প্রক্রিয়া: নদীর নিম্নগতিতে বা মোহানায় ভূমির ঢাল একেবারে কমে যাওয়ায় নদীর স্রোত বা বহন ক্ষমতা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে নদীর জলে বাহিত পলি, বালি, কাদা সমুদ্রে পড়ার আগেই মোহানায় জমা হতে শুরু করে। বছরের পর বছর এই পলি জমতে জমতে সমুদ্রের জলতলের ওপরে উঠে আসে এবং মাত্রাহীন ‘ব’ বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) আকৃতির সমভূমি তৈরি করে।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় সৃষ্ট বদ্বীপ সমভূমি (পৃথিবীর বৃহত্তম)।
১৯. বদ্বীপ সমভূমির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো。
বিস্তারিত উত্তর
বদ্বীপ সমভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- আকৃতি: এই সমভূমি দেখতে সাধারণত ত্রিভুজের মতো বা মাত্রাহীন ‘ব’ অক্ষরের মতো হয়।
- নদীর অবস্থা: এই সমভূমির ওপর দিয়ে মূল নদী অসংখ্য শাখা নদীতে বিভক্ত হয়ে সমুদ্রে মেশে। এখানকার নদীখাতগুলি খুব অগভীর হয়।
- ভূমিরূপ: এই সমভূমিতে অসংখ্য বালিচর, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ এবং জলাভূমি দেখতে পাওয়া যায়। মাটি প্রচুর পলিযুক্ত ও উর্বর হয়।
২০. উপকূলীয় সমভূমির উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো。
বিস্তারিত উত্তর
উৎপত্তি: উপকূলীয় সমভূমি প্রধানত দুটি উপায়ে সৃষ্টি হয়: ১) সমুদ্র তরঙ্গের দ্বারা বাহিত বালি ও পলি মহীসোপান অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে সঞ্চিত হয়ে, অথবা ২) ভূ-আন্দোলনের ফলে সমুদ্রের অগভীর তলদেশ ওপরে উত্থিত হয়ে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই সমভূমি মহাদেশের প্রান্তে এবং সমুদ্রের তীর বরাবর সংকীর্ণ ফালির মতো অবস্থান করে (যেমন—ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি)।
- এর মাটি সাধারণত বালুকাময় হয় এবং সমুদ্রের কাছাকাছি থাকায় মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি থাকে।