নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 7 ভারতের সম্পদ রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 5

অধ্যায় ৭: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ৫)

১. সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

বিস্তারিত উত্তর

অধ্যাপক জিমারম্যানের মতে, সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  1. উপযোগিতা (Utility): সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের অভাব মোচন করার ক্ষমতা। কোনো বস্তুর যদি মানুষের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা না থাকে, তবে তা সম্পদ নয়।
  2. কার্যকারিতা (Functionality): সম্পদ কোনো বস্তু নয়, বস্তুর মধ্যে নিহিত কাজ করার ক্ষমতাই হলো সম্পদ। যেমন—কয়লা একটি বস্তু, কিন্তু তার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা হলো সম্পদ।
  3. দুষ্প্রাপ্যতা বা সীমাবদ্ধতা (Scarcity): সম্পদের জোগান চাহিদার তুলনায় সীমিত হতে হবে। যেমন—বাতাস অফুরন্ত তাই এটি অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, কিন্তু বিশুদ্ধ জল সীমিত তাই এটি সম্পদ।
  4. গ্রহণযোগ্যতা (Acceptability): সম্পদকে সমাজ ও আইন দ্বারা গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
  5. গতিশীলতা (Dynamic Nature): সম্পদ সর্বদা পরিবর্তনশীল। আজ যা নিরপেক্ষ সামগ্রী, জ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কাল তা সম্পদে পরিণত হতে পারে।

২. সম্পদ সংরক্ষণের উপায়গুলি কী কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদের ভাণ্ডার অক্ষুণ্ণ রাখতে নিম্নলিখিত উপায়ে সম্পদ সংরক্ষণ করা যায়:

  • অপচয় রোধ ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার: সম্পদের অযথা অপচয় বন্ধ করতে হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কম কাঁচামাল ব্যবহার করে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
  • পুনর্ভব সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি: কয়লা বা তেলের মতো গচ্ছিত সম্পদের ওপর চাপ কমিয়ে সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ বা বায়ুশক্তির মতো পুনর্ভব সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
  • পুনরাবর্তন (Recycling): ব্যবহৃত বর্জ্য পদার্থ (যেমন- লোহা, প্লাস্টিক) ফেলে না দিয়ে তা গলিয়ে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুললে মূল সম্পদের সাশ্রয় হয়।
  • উপজাত দ্রব্যের ব্যবহার: প্রধান শিল্পের বর্জ্য বা উপজাত দ্রব্যকে অন্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। যেমন—তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই দিয়ে ইট তৈরি।
  • জনসচেতনতা: সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

৩. কয়লার ব্যবহার উল্লেখ করো।

বিস্তারিত উত্তর

আধুনিক শিল্পসভ্যতায় কয়লার ব্যবহার অপরিসীম, তাই একে ‘কালো হিরে’ বলা হয়। এর প্রধান ব্যবহারগুলি হলো:

  1. তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন: ভারতে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ৭০ ভাগই আসে কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। নিম্নমানের বিটুমিনাস ও লিগনাইট কয়লা এতে ব্যবহৃত হয়।
  2. লৌহ-ইস্পাত শিল্প: আকরিক লোহা গলিয়ে ইস্পাত তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে ‘কোক কয়লা’ (Coking Coal) প্রয়োজন হয়। এটি বিটুমিনাস কয়লা থেকে তৈরি হয়।
  3. গৃহস্থালির কাজ: গ্রামাঞ্চলে রান্নার কাজে এবং শীতপ্রধান দেশে ঘর গরম রাখতে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহৃত হয়।
  4. রাসায়নিক শিল্প: কয়লার উপজাত দ্রব্য (আলকাতরা, স্যাকারিন, ন্যাপথলিন, অ্যামোনিয়া, বেঞ্জল) থেকে সার, প্লাস্টিক, কৃত্রিম রবার, রং, সুগন্ধি ও ওষুধ তৈরি হয়।
  5. অন্যান্য শিল্প: সিমেন্ট, ইট ভাটা, কাগজ ও বস্ত্র শিল্পে জ্বালানি হিসেবে কয়লা অপরিহার্য।

৪. পূর্ব ভারতে অধিক সংখ্যায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করো।

বিস্তারিত উত্তর

পূর্ব ভারত (পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়) হলো ভারতের ‘তাপবিদ্যুতের প্রাণকেন্দ্র’। এর কারণগুলি হলো:

  • কয়লার সহজলভ্যতা: ভারতের প্রধান কয়লাখনিগুলি (ঝরিয়া, রানিগঞ্জ, তালচের, বোকারো) এই অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে তাপবিদ্যুতের প্রধান কাঁচামাল কয়লা খুব সহজেই পাওয়া যায়।
  • জলের জোগান: দামোদর, সুবর্ণরেখা, মহানদী ও গঙ্গার মতো নিত্যবহ নদীগুলি থেকে প্ল্যান্ট ঠান্ডা রাখার জন্য প্রচুর জল পাওয়া যায়।
  • পরিবহন ব্যবস্থা: পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ এবং উন্নত সড়কপথের মাধ্যমে কয়লা আনা-নেওয়া সহজ।
  • চাহিদা: এই অঞ্চলটি ভারতের ‘খনিজ ভাণ্ডার’ এবং শিল্পোন্নত (দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল), তাই বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
  • উদাহরণ: কোলাঘাট, বক্রেশ্বর, মেজিয়া, তালচের, বোকারো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

(দ্রষ্টব্য: পূর্ব ভারতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও, কয়লার প্রাচুর্যের কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রই বেশি গড়ে উঠেছে।)


৫. জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থার ব্যাখ্যা দাও।

বিস্তারিত উত্তর

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নলিখিত অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থার প্রয়োজন:

  1. বন্ধুর ভূপ্রকৃতি ও খাড়া ঢাল: জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জলের তীব্র গতিবেগ প্রয়োজন। তাই পার্বত্য অঞ্চল বা মালভূমির খাড়া ঢাল বা জলপ্রপাত থাকা আবশ্যিক।
  2. প্রচুর ও নিয়মিত জলপ্রবাহ: নদীতে সারা বছর পর্যাপ্ত জল থাকা দরকার। তাই বরফগলা বা বৃষ্টিপৃষ্ট নিত্যবহ নদী আদর্শ।
  3. পলিমুক্ত জল: জল পলিযুক্ত হলে টারবাইনের ব্লেড বা যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই জল পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
  4. কঠিন শিলাস্তর: বাঁধ বা জলাধার নির্মাণের জন্য নদীর তলদেশে কঠিন ও অপ্রবেশ্য শিলা থাকা দরকার, যাতে জল চুঁইয়ে না যায় এবং বাঁধের ভার সহ্য করতে পারে।
  5. উন্নত প্রযুক্তি ও মূলধন: বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও বন্টনের জন্য প্রচুর মূলধন এবং আধুনিক কারিগরি বিদ্যার প্রয়োজন।

৬. দক্ষিণ ভারত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে উন্নত কেন?

বিস্তারিত উত্তর

দক্ষিণ ভারতে তাপবিদ্যুতের চেয়ে জলবিদ্যুতের প্রসার বেশি ঘটেছে। এর কারণগুলি হলো:

  • বন্ধুর ভূপ্রকৃতি: দাক্ষিণাত্য মালভূমি অত্যন্ত বন্ধুর এবং সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত। ফলে নদীগুলি খরস্রোতা এবং অসংখ্য জলপ্রপাত (যেমন- শিবসমুদ্রম, জোক) সৃষ্টি করেছে যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সহায়ক।
  • কঠিন শিলা: এখানকার মাটি কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হওয়ায় মজবুত বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ করা সহজ এবং সস্তা।
  • জলাধার সুবিধা: নদীগুলি অনিত্যবহ (বৃষ্টির জলে পুষ্ট) হলেও গভীর উপত্যকার কারণে বর্ষাকালে জলাধারে প্রচুর জল ধরে রাখা যায়।
  • কয়লার অভাব: দক্ষিণ ভারতে (নেভেলি ও সিঙ্গারেনি ছাড়া) কয়লা খনি বিশেষ নেই। তাই তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কম থাকায় তারা জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।
  • চাহিদা: দক্ষিণ ভারতের শিল্পাঞ্চল ও শহরগুলির বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জলবিদ্যুৎ প্রধান ভরসা।

৭. ভারতে আকরিক লোহার বণ্টন বা বন্টন সম্পর্কে আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভারত আকরিক লোহা উৎপাদনে বিশ্বে অন্যতম। ভারতের প্রধান লৌহখনি অঞ্চলগুলি হলো:

  1. ওড়িশা: আকরিক লোহা উৎপাদনে ভারত প্রথম। এখানকার প্রধান খনিগুলি হলো— ময়ূরভঞ্জ (গুরুমহিষাণী, সুলেপাত), কেওনঝড় (বাশপাণি) এবং সুন্দরগড়।
  2. ছত্তিশগড়: এখানকার ‘বাইলাডিলা’ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ যান্ত্রিক খনি। এছাড়া দাল্লিরাজহারা ও বিলাসপুরে প্রচুর লোহা পাওয়া যায়।
  3. ঝাড়খণ্ড: এখানকার ‘চিড়িয়া’ ভারতের বৃহত্তম লৌহখনি। এছাড়া নোয়ামুণ্ডি, গুয়া, বুদাবুরু উল্লেখযোগ্য খনি।
  4. কর্ণাটক: এখানকার বাবা বুদান পাহাড়, কেমানগুন্ডি এবং কুদ্রেমুখ খনি থেকে উন্নত মানের ম্যাগনেটাইট লোহা পাওয়া যায়।
  5. গোয়া ও মহারাষ্ট্র: গোয়ার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে এবং মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি ও চন্দ্রপুর জেলায় লোহা পাওয়া যায়।

৮. ভারতের খনিজ তেল উত্তোলক অঞ্চলগুলির বিবরণ দাও।

বিস্তারিত উত্তর

ভারতের খনিজ তেল উত্তোলক অঞ্চলগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

ক) পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল:

  • বোম্বে হাই (মহারাষ্ট্র): আরব সাগরে অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম তৈলক্ষেত্র (৬৩% উৎপাদন)। এখানে ‘সাগর সম্রাট’ জাহাজের সাহায্যে তেল তোলা হয়।
  • গুজরাট অঞ্চল: এখানকার প্রধান তৈলক্ষেত্রগুলি হলো— আঙ্কেলেশ্বর (বৃহত্তম), কাম্বে, এবং আমেদাবাদ-কালোল অঞ্চল।

খ) পূর্ব উপকূল ও উত্তর-পূর্ব ভারত:

  • অসম: এটি ভারতের প্রাচীনতম তৈলখনি অঞ্চল। ডিগবয়, নাহারকাটিয়া, মোরান-হুগ রিজান এখানকার প্রধান কেন্দ্র।
  • অন্যান্য: অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা-গোদাভরী অববাহিকা (রাভা তৈলক্ষেত্র), রাজস্থানের বারমেঢ় এবং অরুণাচল প্রদেশেও খনিজ তেল পাওয়া যায়।

৯. ভারতে অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারের সুবিধা বা সম্ভাবনাগুলি লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভারতে অপ্রচলিত শক্তি (সৌর, বায়ু, জোয়ারভাটা) ব্যবহারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে:

  • পরিবেশবান্ধব: কয়লা বা তেলের মতো এটি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না, তাই বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে সহায়ক।
  • অফুরন্ত ভাণ্ডার: ভারত ক্রান্তীয় দেশ হওয়ায় এখানে সূর্যালোক অফুরন্ত। এছাড়াও দীর্ঘ উপকূলরেখায় বায়ু ও জোয়ারভাটা শক্তি উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
  • স্বল্প ব্যয়: প্রাথমিক বসানোর খরচ বেশি হলেও উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে এবং এটি নবীকরণযোগ্য।
  • গ্রামীণ উন্নয়ন: দুর্গম পাহাড়ি বা গ্রাম্য এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তি সহজেই ব্যবহার করা যায়।
  • শক্তি নিরাপত্তা: জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার শেষ হয়ে আসছে, তাই ভবিষ্যতের শক্তি সংকট মোকাবিলায় এটিই একমাত্র পথ।

১০. ভারতে কয়লার বণ্টন বা বন্টন সম্পর্কে আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভারতে প্রাপ্ত কয়লার ৯৮% হলো গন্ডোয়ানা যুগের এবং বাকি ২% টারশিয়ারি যুগের।

১. গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র (প্রধান অঞ্চল):

  • ঝাড়খণ্ড: কয়লা সঞ্চয়ে ভারত সেরা। প্রধান খনি— ঝরিয়া (বৃহত্তম), বোকারো, গিরিডি, করণপুরা।
  • ওড়িশা: তালচের, রামপুর, ইব নদী উপত্যকা।
  • ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ: কোরবা, বিশ্রামপুর, সোহাগপুর, সিংরৌলি।
  • পশ্চিমবঙ্গ: রানিগঞ্জ (প্রাচীনতম), আসানসোল, মেজিয়া।
  • অন্যান্য: তেলেঙ্গানার সিঙ্গারেনি এবং মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা উপত্যকা।

২. টারশিয়ারি কয়লাক্ষেত্র:

  • তামিলনাড়ুর নেভেলি (লিগনাইট), অসমের মাকুম, মেঘালয় এবং রাজস্থানে নিম্নমানের কয়লা পাওয়া যায়।

অধ্যায় ৭: গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য (মান – ৩)

১. পুনর্ভব (Renewable) ও অপুনর্ভব (Non-renewable) সম্পদের পার্থক্য

পার্থক্যের বিষয় পুনর্ভব সম্পদ অপুনর্ভব সম্পদ
১. স্থায়িত্ব ও ভাণ্ডার এই সম্পদ অফুরন্ত। বারবার ব্যবহার করলেও নিঃশেষ হয় না। এই সম্পদের ভাণ্ডার সীমিত। ক্রমাগত ব্যবহারে তা নিঃশেষ হয়ে যায়।
২. পূরণ ক্ষমতা প্রাকৃতিক উপায়ে খুব অল্প সময়েই এই সম্পদ পুনরায় সৃষ্টি বা পূরণ হয়ে যায়। একবার শেষ হলে তা পুনরায় সৃষ্টি হতে কোটি কোটি বছর সময় লাগে (বা আদৌ হয় না)।
৩. পরিবেশ প্রভাব এরা সাধারণত পরিবেশবান্ধব এবং দূষণমুক্ত। এরা ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ে (যেমন- কার্বন নির্গমন)।
৪. উদাহরণ সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, অরণ্য। কয়লা, খনিজ তেল, লোহা।

[Image of renewable vs non renewable energy sources chart]

২. প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural) ও মানবিক সম্পদের (Human) পার্থক্য

পার্থক্যের বিষয় প্রাকৃতিক সম্পদ মানবিক সম্পদ
১. সংজ্ঞা প্রকৃতি থেকে সরাসরি প্রাপ্ত যে সকল বস্তু মানুষের অভাব মোচন করে। মানুষের নিজস্ব গুণাবলি, জ্ঞান, বুদ্ধি ও দক্ষতা, যা সম্পদ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
২. রূপ বা প্রকৃতি এগুলি সাধারণত বস্তুগত এবং দৃশ্যমান (Tangible)। এগুলি অবস্তুগত এবং অদৃশ্যমান (Intangible), কেবল অনুভব করা যায়।
৩. ভূমিকা এরা সম্পদের ‘ভাণ্ডার’ বা কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে। এরা সম্পদের ‘স্রষ্টা’ এবং ‘ভোক্তা’ হিসেবে কাজ করে।
৪. উদাহরণ জল, মাটি, খনিজ, সূর্যালোক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কারিগরি দক্ষতা, জনসংখ্য।

৩. জৈব সম্পদ (Biotic) ও অজৈব সম্পদের (Abiotic) পার্থক্য

পার্থক্যের বিষয় জৈব সম্পদ অজৈব সম্পদ
১. উৎস ও প্রাণ জীবমণ্ডল থেকে প্রাপ্ত এবং এদের জীবন বা প্রাণ আছে। জড় পরিবেশ বা অজীব উপাদান থেকে প্রাপ্ত এবং এদের প্রাণ নেই।
২. গঠন এরা সজীব কোষ দ্বারা গঠিত। এরা নির্জীব অণু-পরমাণু বা খনিজ দ্বারা গঠিত।
৩. পুনর্নবীকরণ অধিকাংশ জৈব সম্পদ পুনর্ভব বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। অধিকাংশ অজৈব সম্পদ (যেমন খনিজ) অপুনর্ভব।
৪. উদাহরণ উদ্ভিদ, প্রাণী, মৎস্য, বনজ সম্পদ। শিলা, খনিজ, জল, বায়ু, জমি।

📚 অধ্যায় ৭: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ)

১. ভারতের প্রধান খনিজ সম্পদগুলো কী কী?

ভারতের প্রধান খনিজ সম্পদগুলো হলো কয়লা (Coal), যা শক্তির প্রধান উৎস; আকরিক লোহা (Iron Ore), যা শিল্পের মেরুদণ্ড; এবং খনিজ তেল (Petroleum)। এছাড়া ম্যাঙ্গানিজ, বক্সাইট, অভ্র এবং প্রাকৃতিক গ্যাসও ভারতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

২. সম্পদ সংরক্ষণের ৩টি উপায় (3R Strategy) কী?

সম্পদ সংরক্ষণের প্রধান ৩টি উপায় বা ‘3R’ হলো:

  • Reduce (ব্যবহার কমানো): অপচয় কমিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা।
  • Reuse (পুনর্ব্যবহার): একই জিনিস ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহার করা।
  • Recycle (পুনর্নবীকরণ): বর্জ্য পদার্থকে পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ করে নতুন সম্পদ তৈরি করা।

৩. ভারতের বৃহত্তম সৌরশক্তি কেন্দ্র ও বায়ুশক্তি কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?

ভারতের বৃহত্তম সৌরশক্তি কেন্দ্র (Solar Park) রাজস্থানের ভাদলা (Bhadla)-তে অবস্থিত। এবং বৃহত্তম বায়ুশক্তি কেন্দ্র (Wind Farm) তামিলনাড়ুর মুপ্পান্ডাল (Muppandal)-এ অবস্থিত।

৪. জিমারম্যানের মতে সম্পদের সংজ্ঞা কী?

অধ্যাপক জিমারম্যানের মতে, “সম্পদ কোনো বস্তু বা পদার্থ নয়; বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা যে কার্যকারিতা বা গুণ মানুষের অভাব মোচন করে, তাকেই সম্পদ বলে।” অর্থাৎ, বস্তুর উপযোগিতা ও কার্যকারিতাই হলো সম্পদ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার