নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 8 পশ্চিমবঙ্গ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

বিভাগ-১: অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ

১. ভারতের রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কবে স্থাপিত হয় এবং কোন সালে রাজ্যগুলিকে ভাগ করা হয়?

উত্তর দেখো
১৯৫৩ সালে ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ (State Reorganization Commission) স্থাপিত হয়। এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর ‘ভাষার ভিত্তিতে’ ভারতের রাজ্যগুলিকে পুনর্গঠন বা ভাগ করা হয়।

২. রাজ্যগুলিকে ভাগ করার সময় কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়?

উত্তর দেখো
রাজ্য পুনর্গঠনের সময় প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল:

  • ভাষা: একই ভাষাভাষী মানুষদের একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা।
  • সংস্কৃতি: কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাদৃশ্য বজায় রাখা।
  • প্রশাসনিক সুবিধা: শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধা।

৩. আলিপুরদুয়ার জেলার গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো
২০১৪ সালের ২৫ জুন জলপাইগুড়ি জেলা ভেঙে আলিপুরদুয়ার গঠিত হয়। এর গুরুত্ব:

  • পর্যটন: ডুয়ার্স অঞ্চলের বিখ্যাত অভয়ারণ্যগুলি (জলদাপাড়া, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প) এখানে অবস্থিত।
  • বাণিজ্য: ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

৪. পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন জেলার ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বিস্তৃত?

উত্তর দেখো
কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩½° উত্তর) পশ্চিমবঙ্গের ৫টি জেলার ওপর দিয়ে গেছে:
১) পুরুলিয়া, ২) বাঁকুড়া, ৩) পশ্চিম বর্ধমান, ৪) পূর্ব বর্ধমান এবং ৫) নদীয়া।

৫. DGHC ও GTA-র পুরো কথা কী?

উত্তর দেখো
  • DGHC: Darjeeling Gorkha Hill Council (১৯৮৮ সালে গঠিত)।
  • GTA: Gorkhaland Territorial Administration (২০১১ সালে গঠিত, যা বর্তমানে পাহাড়ের উন্নয়নের দায়িত্বে আছে)।

৬. পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ‘আসমুদ্র হিমাচল’ কথাটি ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর দেখো
ভারতের একমাত্র রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ যার উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর (সমুদ্র) অবস্থিত। রাজ্যের বিস্তার উত্তরের পাহাড় থেকে দক্ষিণের সমুদ্র পর্যন্ত হওয়ায় একে ‘আসমুদ্র হিমাচল’ রাজ্য বলা হয়।

৭. পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক গুরুত্ব বা অবস্থানগত তাৎপর্য লেখো। (Bonus)

উত্তর দেখো
১) প্রবেশদ্বার: পশ্চিমবঙ্গ হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে যাওয়ার একমাত্র প্রবেশপথ (চিকেনস নেক)।
২) আন্তর্জাতিক সীমানা: নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সাথে সীমানা থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অসীম।
৩) বন্দর সুবিধা: কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের বাণিজ্য চলে।


বিভাগ-২: পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি

৮. পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অংশের শৈলশিরাগুলির নাম লেখো।

উত্তর দেখো
তিস্তা নদী পার্বত্য অঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করেছে।

  • পশ্চিম দিক: সিঙ্গলিলা শৈলশিরা ও দার্জিলিং শৈলশিরা।
  • পূর্ব দিক: দুরবিনদারা শৈলশিরা ও চোল শৈলশিরা।

৯. সান্দাকফুর গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো
১) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: এটি পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (৩৬৩৬ মি)।
২) পর্যটন: এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও মাউন্ট এভারেস্টের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়।
৩) ট্রেকিং: এটি ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় রুট।

১০. পশ্চিমবঙ্গের মালভূমির উৎপত্তি কীভাবে ঘটেছে?

উত্তর দেখো
পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলটি মূলত ‘ছোটনাগপুর মালভূমি’র একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। প্রাচীন গন্ডোয়ানা যুগের গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিনের ক্ষয়কার্যের ফলে বর্তমানে ক্ষয়জাত মালভূমি বা সমপ্রায় ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

১১. ‘তরাই’ ও ‘ডুয়ার্স’ নামকরণের সার্থকতা কী?

উত্তর দেখো
  • তরাই: তিস্তার পশ্চিম দিকের অংশটি অত্যন্ত আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে, তাই একে ‘তরাই’ (স্যাঁতসেঁতে ভূমি) বলা হয়।
  • ডুয়ার্স: তিস্তার পূর্ব দিকের অংশটি ভুটানে যাওয়ার প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই একে ‘ডুয়ার্স’ (দরজা) বলা হয়।

১২. বরেন্দ্রভূমি ও দিয়ারা কী?

উত্তর দেখো
  • বরেন্দ্রভূমি: মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাচীন পলিমাটি গঠিত লালচে রঙের ঢেউখেলানো ভূমি। এটি কৃষিকাজে কম উর্বর।
  • দিয়ারা: মালদা জেলার কালিন্দি নদীর দক্ষিণ দিকের নবীন পলিমাটি গঠিত অত্যন্ত উর্বর অঞ্চল। এখানে জনবসতি খুব ঘন।

১৩. মৃত বদ্বীপ ও সক্রিয় বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য বা বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর দেখো
  • মৃত বদ্বীপ (Moribund): নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা। এখানে নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে গেছে এবং নতুন করে ভূমি গঠন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এটি মৃত।
  • সক্রিয় বদ্বীপ (Active): সুন্দরবন অঞ্চল (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)। এখানে নদীগুলো এখনও পলি সঞ্চয় করে চলেছে এবং নতুন নতুন দ্বীপ বা চড়া গঠিত হচ্ছে। তাই এটি সক্রিয়।

১৪. ‘রাঢ় সমভূমি’র মাটির রং লাল কেন? (Bonus)

উত্তর দেখো
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমি সংলগ্ন অঞ্চল বা রাঢ় অঞ্চলে ল্যাটেরাইট জাতীয় মৃত্তিকা দেখা যায়। এই মাটিতে লৌহ অক্সাইডের (Iron Oxide) পরিমাণ বেশি থাকায় মাটির রং লাল হয়।

১৫. পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় বালিয়াড়ি বা ‘থিই’ কী? (Bonus)

উত্তর দেখো
পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় সমভূমিতে সমুদ্রের সমান্তরালে বায়ুবাহিত বালুকণা সঞ্চিত হয়ে যে বালিয়াড়িগুলি গঠিত হয়েছে, তাদের স্থানীয় ভাষায় ‘থিই’ বা ‘থিস’ বলা হয়। যেমন—দিঘার বালিয়াড়ি।


বিভাগ-৩: পশ্চিমবঙ্গের নদনদী

১৬. উত্তরবঙ্গের ‘ত্রাসের নদী’ কোন নদীকে বলা হয় এবং কেন?

উত্তর দেখো
তিস্তা নদীকে উত্তরবঙ্গের ‘ত্রাসের নদী’ বলা হয়।

কারণ: বর্ষাকালে পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা জলরাশি তিস্তার অগভীর খাতে ধরে না। ফলে দুকূল ছাপিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে এবং নদী প্রায়ই গতিপথ পরিবর্তন করে প্রচুর ক্ষতি করে।

১৭. ‘পশ্চিমবঙ্গের দুঃখ’ বা ‘বাংলার দুঃখ’ কোন নদীকে বলা হতো এবং কেন?

উত্তর দেখো
দামোদর নদকে ‘বাংলার দুঃখ’ বলা হতো।

কারণ: ডিভিসি (DVC) তৈরির আগে প্রতি বছর বর্ষাকালে এই নদীর বন্যায় বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হতো এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতো।

১৮. রূপনারায়ণ এবং হলদি নদী কোন কোন নদীর মিলিত প্রবাহ?

উত্তর দেখো
  • রূপনারায়ণ: দ্বারকেশ্বর এবং শিলাবতী নদীর মিলিত প্রবাহ।
  • হলদি: কেলেঘাই এবং কংসাবতী নদীর মিলিত প্রবাহ।

১৯. সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির জল লবণাক্ত কেন? ‘খাঁড়ি’ কী?

উত্তর দেখো
  • লবণাক্ত জল: সুন্দরবনের নদীগুলো সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত এবং জোয়ারের জলে পুষ্ট। তাই জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল নদীতে প্রবেশ করে জল লবণাক্ত করে তোলে।
  • খাঁড়ি (Creek): সুন্দরবন অঞ্চলে জোয়ারের প্রভাবে নদীর মোহনাগুলি খুব চওড়া ও ফানেল আকৃতির হয়। এই ফানেল আকৃতির চওড়া মোহনাকে ‘খাঁড়ি’ বলে। এতে প্রচুর পলি জমে।

২০. সুন্দরবন অঞ্চলে প্রায়শই বন্যা দেখা যায় কেন?

উত্তর দেখো
১) ভরা কোটাল: পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় প্রবল জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে জল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
২) নদীগর্ভ ভরাট: পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় নদী অতিরিক্ত জল ধারণ করতে পারে না।
৩) ঘূর্ণিঝড়: আইলা, আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস ঘটে।

২১. দামোদর পরিকল্পনার (DVC) অন্তর্গত প্রধান জলাধারগুলির নাম লেখো।

উত্তর দেখো
দামোদর ও তার উপনদীগুলির ওপর মোট ৪টি প্রধান বাঁধ দেওয়া হয়েছে:
১) মাইথন (বরাকর নদী), ২) পাঞ্চেত (দামোদর নদী), ৩) তিলাইয়া (বরাকর নদী) এবং ৪) কোনার (কোনার নদী)। এছাড়া দুর্গাপুরে একটি ব্যারেজ আছে।

২২. গঙ্গা বা ভাগীরথী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণ কী? (Bonus)

উত্তর দেখো
ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের আগে গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ বাংলাদেশে (পদ্মা নামে) চলে যেত। কিন্তু কলকাতা বন্দরকে বাঁচানোর জন্য এবং হুগলি নদীতে জলের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে গঙ্গার গতিপথ আংশিকভাবে পরিবর্তন করে ভাগীরথী খাতে আনা হয়েছে।

২৩. উত্তরবঙ্গের নদী এবং দক্ষিণবঙ্গের নদীর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। (Bonus)

উত্তর দেখো
  • জলের উৎস: উত্তরবঙ্গের নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট (নিত্যবহ)। দক্ষিণবঙ্গের (মালভূমি) নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট (অনিত্যবহ)।
  • বন্যাপ্রবণতা: উত্তরবঙ্গের নদীগুলি বর্ষাকালে প্রায়ই বন্যা ঘটায়। দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলি (সুন্দরবন বাদে) গ্রীষ্মকালে শুকিয়ে যায়।


বিভাগ-৪: জলবায়ু, মৃত্তিকা ও উদ্ভিদ

২৪. লু (Loo) কী?

উত্তর দেখো
গ্রীষ্মকালে (মে-জুন মাসে) পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চল (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া) এবং সংলগ্ন এলাকায় দুপুরের দিকে যে অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাস প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে। এর প্রভাবে উষ্ণতা ৪৫°C পর্যন্ত উঠে যায় এবং মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে (হিট স্ট্রোক)।

২৫. আশ্বিনের ঝড় (Cyclones of Autumn) কেন হয়?

উত্তর দেখো
শরৎকালে মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নিতে শুরু করে (প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু)। এই সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং স্থলভাগের উচ্চচাপের সাথে সংঘর্ষে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, যা আশ্বিন মাসে হয় বলে একে ‘আশ্বিনের ঝড়’ বলে।

২৬. খরা ও বন্যা পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কেন?

উত্তর দেখো
পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টিপাত মূলত মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত অনিয়মিত ও অনিশ্চিত।

  • কখনও অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা হয় (যেমন- উত্তরবঙ্গ ও উপকূল)।
  • কখনও অনাবৃষ্টির ফলে খরা দেখা দেয় (যেমন- পুরুলিয়া, বাঁকুড়া)।

২৭. তরাই অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর দেখো
তরাই অঞ্চলের মাটি সাধারণত বালি, নুড়ি ও কাঁকর মিশ্রিত এবং জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হয়। এখানকার মাটি আর্দ্র ও অম্লধর্মী। চা এবং আনারস চাষের জন্য এই মাটি উপযুক্ত।

২৮. ম্যানগ্রোভ বা লবলাম্বু উদ্ভিদের অভিযোজনগত দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর দেখো
১) জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম: লবণাক্ত জলে বীজ নষ্ট হওয়া বাঁচাতে ফলের মধ্যেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে (যেমন- রাইজোফোরা)।
২) শ্বাসমূল ও ঠেস মূল: কর্দমাক্ত মাটিতে শ্বাস নেওয়া এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ মূল থাকে।

২৯. সামাজিক বনসৃজন (Social Forestry) কী?

উত্তর দেখো
সমাজের মঙ্গলের জন্য অব্যবহৃত জমি, রাস্তার ধার, রেললাইনের পাশ বা বাঁধের ওপর সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ও অংশগ্রহণে যে বৃক্ষরোপণ করা হয়, তাকে সামাজিক বনসৃজন বলে। এর উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি, পশুখাদ্য ও পরিবেশ রক্ষা।


বিভাগ-৫: কৃষি ও শিল্প

৩০. আমন ধান, আউশ ধান ও বোরো ধান কখন চাষ করা হয়?

উত্তর দেখো
  • আমন: বর্ষাকালে চাষ হয় (জুন-জুলাই) এবং শীতে কাটা হয় (নভেম্বর-ডিসেম্বর)। এটিই প্রধান।
  • আউশ: প্রাক-বর্ষায় বা গ্রীষ্মে চাষ হয় এবং ভাদ্র মাসে কাটা হয়।
  • বোরো: শীতকালে চাষ হয় এবং গ্রীষ্মের শুরুতে কাটা হয় (সেচ নির্ভর)।

৩১. পাট পচানোর জন্য কী ধরনের জল প্রয়োজন?

উত্তর দেখো
পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর জন্য পরিষ্কার ও প্রবাহমান অথবা বদ্ধ মিঠে জল প্রয়োজন। পচা বা নোংরা জলে পাট পচালে পাটের রং কালচে হয়ে যায়, যাকে ‘শ্যামলা পাট’ বলে এবং এর দাম কমে যায়।

৩২. দার্জিলিংয়ের চা ও অসমের চায়ের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো
  • দার্জিলিং চা: এটি তার অতুলনীয় স্বাদ ও সুগন্ধের (Flavour) জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এর উৎপাদন কম কিন্তু দাম বেশি।
  • অসম চা: এটি তার কড়া লিকার ও রঙের জন্য বিখ্যাত। এর উৎপাদন অনেক বেশি।

৩৩. পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্পের দুটি সমস্যা লেখো।

উত্তর দেখো
১) কৃত্রিম তন্তুর প্রতিযোগিতা: প্লাস্টিক ও নাইলনের বস্তা সস্তা ও টেকসই হওয়ায় পাটের চাহিদা কমে গেছে।
২) পুরানো যন্ত্রপাতি: অধিকাংশ পাটকলের যন্ত্রপাতি মান্ধাতা আমলের, ফলে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে।

৩৪. হুগলী নদীর উভয় তীরে পাট শিল্প গড়ে ওঠার কারণ কী?

উত্তর দেখো
১) কাঁচামাল: নিকটবর্তী জেলাগুলো থেকে প্রচুর কাঁচাপাট পাওয়া যায়।
২) পরিবহন: গঙ্গা বা হুগলি নদী এবং রেলপথের মাধ্যমে সস্তায় পরিবহন সুবিধা।
৩) জল: পাট ধোয়া ও শিল্পের জন্য নদীর প্রচুর জল পাওয়া যায়।
৪) কলকাতা বন্দর: রপ্তানির সুবিধা।

৩৫. দুর্গাপুরে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার দুটি কারণ লেখো।

উত্তর দেখো
১) কয়লা: নিকটবর্তী রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া খনি থেকে কয়লা পাওয়া যায়।
২) জল ও বিদ্যুৎ: দামোদর নদ থেকে জল এবং DVC থেকে জলবিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৩) যোগাযোগ: রেলপথ ও সড়কপথের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

৩৬. ‘পেট্রোরসায়ন শিল্প’ (Petrochemical Industry) কী?

উত্তর দেখো
খনিজ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপজাত দ্রব্য (যেমন- ন্যাপথা, ইথিলিন, বেনজিন) ব্যবহার করে যে শিল্পে প্লাস্টিক, কৃত্রিম রবার, সার, রং, ওষুধ ইত্যাদি তৈরি করা হয়, তাকে পেট্রোরসায়ন শিল্প বলে। হলদিয়া এর প্রধান কেন্দ্র।

৩৭. তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের গুরুত্ব বা ভবিষ্যৎ কী?

উত্তর দেখো
পশ্চিমবঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
১) কর্মসংস্থান: এটি প্রচুর শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান করছে।
২) রপ্তানি আয়: সফটওয়্যার রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।
৩) কম দূষণ: এটি একটি দূষণহীন শিল্প।

৩৮. পশ্চিমবঙ্গের প্রধান কুটির শিল্পগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত কুটির শিল্পগুলি হলো:
১) তাঁত শিল্প (শান্তিপুর, ফুলিয়া), ২) রেশম শিল্প (মুর্শিদাবাদ, মালদা), ৩) পোড়ামাটির শিল্প (বাঁকুড়া), ৪) মাদুর শিল্প (মেদিনীপুর), ৫) শাঁখা শিল্প (বাঁকুড়া), ৬) কাঁসা ও পিতল শিল্প।


বিভাগ-৬: জনসংখ্যা ও বিবিধ

৩৯. পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব খুব বেশি কেন?

উত্তর দেখো
১) উর্বর মাটি: গঙ্গা অববাহিকার উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য আদর্শ, তাই প্রাচীনকাল থেকেই এখানে জনবসতি ঘন।
২) অনুকূল জলবায়ু: মৌসুমী জলবায়ু এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত।
৩) শিল্প ও বাণিজ্য: কলকাতা ও শিল্পাঞ্চলগুলিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি।
৪) উদ্বাস্তু সমস্যা: দেশভাগের পর প্রচুর মানুষ এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছে।

৪০. পার্বত্য অঞ্চলে জনবসতি বিরল কেন?

উত্তর দেখো
১) বন্ধুর ভূপ্রকৃতি: খাড়া পাহাড়ি ঢাল বাড়িঘর নির্মাণ ও চাষাবাদের অনুপযুক্ত।
২) যোগাযোগ ব্যবস্থা: দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা।
৩) প্রতিকূল জলবায়ু: তীব্র শীত এবং ধসপ্রবণ এলাকা।

৪১. হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণ কী?

উত্তর দেখো
কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমে যাওয়া এবং বড় জাহাজ ঢুকতে না পারার কারণে কলকাতার পরিপূরক বন্দর হিসেবে এবং গভীর সমুদ্রের সুবিধা নিতে হলদিয়া বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে।

৪২. খড়গপুর আইআইটি (IIT) বিখ্যাত কেন?

উত্তর দেখো
১৯৫১ সালে স্থাপিত খড়গপুর আইআইটি হলো ভারতের প্রথম এবং বৃহত্তম প্রযুক্তিবিদ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (Indian Institute of Technology)। বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার জন্য এটি বিখ্যাত।

৪৩. অতিরিক্ত জলসেচে মাটির লবণতা বাড়ে কেন? (আপনার দেওয়া প্রশ্ন)

উত্তর দেখো
অতিরিক্ত জলসেচ করলে মাটির নিচের জলস্তর ওপরে উঠে আসে। সূর্যের তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়, কিন্তু জলে দ্রবীভূত লবণ মাটির ওপরের স্তরে পড়ে থাকে। দিনের পর দিন এমন হতে থাকলে মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে জমি চাষের অযোগ্য বা লবণাক্ত হয়ে পড়ে। একে ‘কৈশিক প্রক্রিয়া’ বলে।

৪৪. কলকাতা বন্দরের পশ্চাৎভূমি (Hinterland) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো
একটি বন্দর যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে বা পরিষেবা দেয়, তাকে সেই বন্দরের পশ্চাৎভূমি বলে। কলকাতা বন্দরের পশ্চাৎভূমি বিশাল—সমগ্র পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত, এমনকি নেপাল ও ভুটানও এর অন্তর্ভুক্ত।

৪৫. পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের দুটি সমস্যা লেখো।

উত্তর দেখো
১) পরিকাঠামোর অভাব: অনেক পর্যটন কেন্দ্রে ভালো রাস্তাঘাট, হোটেল বা পানীয় জলের অভাব রয়েছে।
২) রাজনৈতিক অস্থিরতা: বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে পর্যটন ব্যাহত হয়।

৪৬. ‘গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান’ (GAP) কী?

উত্তর দেখো
গঙ্গা নদীর দূষণ রোধ এবং জল শোধনের জন্য ভারত সরকার ১৯৮৬ সালে যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, তাকে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান বা ‘গঙ্গা দূষণ প্রতিরোধ প্রকল্প’ বলে। পশ্চিমবঙ্গেও এর আওতায় অনেক কাজ হয়েছে।

৪৭. ‘ডাউনস্ট্রিম শিল্প’ বা অনুসারী শিল্প কী?

উত্তর দেখো
পেট্রোরসায়ন শিল্পের মূল দ্রব্যগুলিকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে যে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠে (যেমন- প্লাস্টিক, রবার, খেলনা), তাদের অনুসারী বা ডাউনস্ট্রিম শিল্প বলে। হলদিয়ায় এটি দেখা যায়।

৪৮. সুন্দরবনে বাঁধ দেওয়ার সমস্যা কী?

উত্তর দেখো
সুন্দরবনের মাটি খুব নরম ও পলিযুক্ত। তাই এখানে মাটির বাঁধ খুব একটা টেকসই হয় না। প্রবল জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ সহজেই ভেঙে যায়, ফলে নোনা জল ঢুকে চাষের জমি নষ্ট করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার